

অলংকরণ: রমিত
পুকুর পাড়ের ঘাস আর তিন উঠোন পেরিয়ে একটা মেঠো পথ। হাত বাড়ালেই তোমার বাড়ি। ইটের দেয়াল আর মাটির মেঝেতে একটা তক্তাপোষ পাতা। কাঠির মাদুরে আমরা বসতাম আরামে। তিনজন ছাত্র। কখনো শীত অলস হয়ে লেপ্টে থাকতো সকালের গায়। শিশিরে ভিজে যেত পুরোন হাওয়াই। কখনো ভোর উষ্ণ তাড়াতাড়ি গ্রীষ্মের আভিজাত্যে। ঘামে সপসপ হাফপ্যান্ট। মাদুরের এককোনে থাকে থাকে চাকরি প্রতিযোগিতার বইগুলো। ইংরেজি সব পাতায় সভয়ে হাত বোলাতাম –সপ্তমের না-বোঝা আঙুল। পাশেই তো দেখেছি ‘নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে’। তোমার কাছেই চেনা গোটা গোটা বাংলা অক্ষর –কিভাবে স্বচ্ছ হয়ে যায় সাদা পাতায়। তোমার কাছেই জানা ইংরেজি শব্দ সব –কিভাবে ছবি হয়ে যায় আঙুল তুলিতে। যে ভূমিতে আজ আমার অবাধ বিচরণ, সে মাটি তো পুষ্ট তোমারই বিদ্যা বিনয়ে। যে মেধাতে আজ আমার পরম অস্তিত্ব, সে বৃত্ত তো তোমার ছোঁয়ায় আরো বেশি সুদৃশ। তুমি তো শিখিয়েছিলে কিভাবে সহজ হয় কঠিন জ্যামিতি। তুমি তো দেখিয়েছিলে কিভাবে ডিঙোতে হয় অনূর্বর সব রাজনীতি, সমাজনীতি। তুমি এখনো অন্তরীক্ষে কি বই পড়ো? তুমি কি এখনো অন্তরালে জিতে চলেছো বেরঙিন মেঠো রাজনীতি? এবার তো সময় দাও - এখন আমার হাতে শুধু আ-ভূমি প্রনাম আর না-শুধোতে চাওয়া অসীম ঋণ।
kk | ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:১১743237