এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ইস্পেশাল  উৎসব  ইস্পেশাল

  • উৎসব আমাদের

    শ্রীমতী রীনা
    ইস্পেশাল | উৎসব | ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১১৮ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • অলংকরণ: রমিত




    ১


    উৎসব আমার থেকে বয়সে কিছুটা বড়, খুব বেশি নয়—কয়েকশো বছরের। বয়সে এত বড় কাউকে দেখে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, উৎসবকে দেখলে বরং মনে হয় সদ্য কলেজে ঢুকেছে—পকেটে পয়সা কম, উৎসাহের র‍্যাম বেশি, আর খিদের অসীম স্টোরেজ। উৎসব মানে যে বিরাট ব্যাপার, সেটা ছোটবেলায় বুঝিনি। তখন আমি ছিলাম কাঁচা আম, আর উৎসব পাকাপাকা কাঁঠাল। কাঁঠালটা অবশ্য খাওয়া যেত। ডিজিটাল ফলের চেয়ে বেশি সুস্বাদু। তবে উৎসব এলেই খাওয়ার বিশাল এক ক্লাউড-সার্ভার খুলে যেত—এ কথা সত্যি। একটা ই-মেইল দিয়ে খানিকটা জায়গা পাওয়া যায় বটে, আমাদের পাড়ার জায়গা ছিল তার চেয়ে অনেক অনেক বেশি। সস্তা আলোয় সূর্যনেটডটকম। উরিব্বাস কি ঝকমকে, ঝিকঝাক ঝাক্কাস বলে আলোর রিমোট কমিয়ে ডিমড করে দেওয়া হল।

    এই উৎসবকে নিয়েই আমাদের জীবনের ব্যান্ডউইথ আর বৃত্তটা কত যে বৃহৎ হয়ে যায়! পুজো যেখানে শেষ হয়, সেখান থেকেই তো শুরু হয় উৎসবের প্রসেসর।

    উৎসব একা আসে না। সে আসে ঢাকের সাউন্ড স্পিকার, ধূপের হাই-অ্যারোমা, আলোর রঙিন নোটিফিকেশন, ফুল, মিষ্টি, আত্মীয়স্বজন, পিসিমা-মাসিমা, পাড়ার রক-বাজ ছেলেদের ব্যাচ, চাঁদার খাতার বারকোড স্ক্যানার, আর রান্নাঘরের ওপর এক ভয়াবহ সাইবার-আক্রমণ নিয়ে। আমাদের বাড়িতে উৎসব আসবে শুনলেই ঠাকুমা বলতেন, “চাল কত র‍্যাশনিং আছে?” মা বলতেন, “মিষ্টির অর্ডার ডেলিভারি নিতে হবে।” বাবা বলতেন, “চাঁদার ট্যাক্স আবার কত লাগাল?” পাড়ার কাকুরা বলতেন, “এবার স্পন্সরশিপ এনে একদম মেগা-স্কেলে করতে হবে।” আর আমি ভাবতাম—উৎসব আসছে!

    উৎসবের সঙ্গে তখনও আমার সামনাসামনি ডেট হয়নি, তবু আমি তাকে চিঠি লিখতাম—পুরো অ্যানালগ সিস্টেমে! কারণ, উৎসব এলেই তো আমার কাচের চুড়ি, ফিতে, রঙিন জামার লেস, নাটক, কবিতা, আর কেরোসিন তেলের ঝকঝকে হ্যারিকেন। আমাদের উৎসব পছন্দ করত একদম স্মাইলি-ওভারলোডেড হাসি হাসি মুখ, তাই উৎসবকে বড় ভালো লাগত। উৎসব মানে আকাশে ঘুড়ি, নানা রঙের ঘুড়ির জিগজ্যাগ অ্যালগরিদম, বাজি আর হারজিতের লাইভ ম্যাচ। আর সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের পাড়ার মেঠো পথটায় তখন শরতের কাশের জমি একেবারে ধবধবে সাদা রিয়েল-টাইম থিয়েটার হয়ে উঠত!

    সেই কাশের জমিভরা পথটাই ছিল উৎসবের আসল হেডকোয়ার্টার। একদিকে কাশের ডাঁটি ধরে পাড়ার উদীয়মান ভাইদের গম্ভীর মুখে ‘ন্যাচারাল পোজ’ দেওয়ার ক্যামেরা-স্টান্ট, অন্যদিকে কাশের বন থেকে উড়ে আসা সাদা তুলো ফুচকার চাটনিতে ডাইরেক্ট ল্যান্ড করে একাকার! এসব না হলে উৎসবের ডিসপ্লেটাই হ্যাং করে যেত। আর ঠিক তখনই পিঠের ওপর অটো-পপআপের মতো ভেসে উঠত মায়ের সেই আশঙ্কাবাণী— “আর তো বেশি বাকি নেই, স্কুল খুললেই কিন্তু পরীক্ষা!” ঘাড়ের ওপর পরীক্ষার অ্যালার্ম বাজছে জেনেও খালি চিঠি পাঠাতাম— “প্রিয় উৎসব, কাশের জমিভরা পথটা তো অলরেডি সেজুগুজে রেডি, আর কতদিন বাকি তোমার আসার? এদিকে তো তোমার অপেক্ষায় কাউন্টডাউন চালাচ্ছে বুড়ো ঘড়িটা। আমাদের ঘড়িটা তুমি দেখেছ?” এই পর্যন্ত লিখেই একদিন পজ মেরে গিয়েছিলাম। কারণ ঘড়ির কথা মনে পড়তেই মনে হল, ওটা ঠাকুরদার আমলের অ্যানালগ ঘড়ি, বহু বছর ধরে অফলাইনে আছে। ঘড়ি চলে না, অথচ দিন গুনতে তার ইন্টারনেটেরও দরকার নেই! বুড়ো ঘড়ির এই রাজকীয় কনফিডেন্স আমার বেশ পছন্দ ছিল।

    শেষে লিখেছিলাম— “তুমি আসবে বলে আমাদের বাড়িতে ব্যাকএন্ডে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। শুধু কি বাড়িতে? পাড়াতেও।” আমার পাড়ার বাইরে তখন মেটাভার্স দূরের কথা, পৃথিবী সম্পর্কেই বিশেষ ধারণা ছিল না—আমাদের পাড়াই ছিল মূল সার্ভার। সেই চিঠিটা আজও আছে। কাগজটা হলদে হয়ে এমন এক ফিল্টার নিয়েছে, যাকে এখনকার ভাষায় হেরিটেজ ক্লাসিক বলা যায়। তখন বলতাম পুরনো। বয়স বাড়লে ব্র্যান্ডিং বদলে যায়—পুরনো নয়, ঐতিহ্য। চিঠিটা তাই আজও সেভ করে রেখেছি, কারণ উৎসবের কাছে লেখা প্রথম লেটার বলে কথা।

    ২


    উৎসব আসত বছরে একবার, পুজোর সময়। ও এলেই আমাদের পাড়ার ইউজার-ইন্টারফেসটাই বদলে যেত। উঠোনে আলপনা, বাড়ির সামনে আলো, রান্নাঘরে হাঁড়ি-পাতিলের গ্র্যান্ড-ফিনালে, পাড়ার মোড়ে বাঁশ, মাইক, চাঁদা—সব মিলিয়ে একটা উৎসব।

    এক বছর উৎসব আসার আগের দিন হুট করে ব্যাড নিউজ এল—উৎসব নাকি আসছে না! আমি একদম ডিপ্রেসড। মা বললেন, “ওর জ্বর।” আমি বললাম, “জ্বর হলে কি উৎসবের সিস্টেম ডাউন হয়ে যায়? কাশের বন তো অলরেডি ফুললি লোডেড!” মা আমার দিকে হা করে তাকিয়ে রইলেন। আমি বুঝলাম, কোয়েশ্চেনটা বোধহয় একটু হাই-লেভেলের হয়ে গেছে।

    পরদিন পুজোমণ্ডপে গিয়ে দেখি, সব ডেটা প্রেজেন্ট! ঢাক আছে, ধূপ আছে, আলো আছে, ফুল আছে, মিষ্টি আছে, ফুচকা আছে, চপ আছে—সবই আছে; শুধু উৎসব অনুপস্থিত। আমি মণ্ডপের এক কোণে দাঁড়িয়ে মন খারাপ করে আছি। ঠিক তখনই ঢাকের বিটের ফাঁক দিয়ে পেছন থেকে ঘোষকাকু হাতে প্রসাদ নিয়ে বললেন, “নে, উৎসবের প্রসাদ।” আমি প্রসাদটা নিলাম, তারপর বুঝলাম—এই তো ... উৎসব এসে গেছে! সে নিজে ডাইরেক্ট আসেনি, কিন্তু তার পাঠানো সব আপডেট চলে এসেছে। এই প্রথম আমার একটু ডাউট হল, উৎসব কি তবে কোনো হিউম্যান বিয়িং নয়?

    তারপর বড় হতে হতে বুঝলাম, উৎসব শুধু পুজোতেই রেস্ট্রিক্টেড নয়। পুজো তো নির্দিষ্ট কয়েকটা দিনের লিমিটেড অফার, কিন্তু উৎসব তো লাইফটাইম ভ্যালিডিটি! একদিন পরীক্ষায় পাশ করলে উৎসব। প্রথম চাকরি হলে উৎসব। বিয়েতে উৎসব। সন্তানের জন্মে মহাউৎসব। একদিন কেউ বিদেশ থেকে ফ্লাই করে বাড়ি ফিরলে উৎসব। কেউ অনেকদিন পর রি-কানেক্ট করতে এলে উৎসব। বৃষ্টির দিনে গরম খিচুড়ি লোড হলে উৎসব। বাড়িতে নতুন রেডিয়ো এলে উৎসব। কারেন্ট গিয়ে আবার ব্যাক করলে উৎসব! এমনকি একবার আমাদের বাড়ির নিখোঁজ বিড়ালটা সাত দিন পর ট্র্যাকিং এড়িয়ে ফিরে এসেছিল, সেটাও উৎসব হয়ে গিয়েছিল।

    উৎসবের সবচেয়ে ওয়াইল্ড ব্যাপার হল—সে আসার আগে মানুষ ব্যাকগ্রাউন্ডে বিশাল প্রিপারেশন নেয়। কেউ কাউন্টডাউন করে, কেউ ফান্ড জোগাড় করে, কেউ নতুন আউটফিট কেনে, কেউ কাশের জমিভরা পথে ভ্লগিং করতে যায়, আবার কেউ চাঁদার খাতা হাতে পাড়ার মানুষের ফেস-রিকগনিশন করে বোঝার চেষ্টা করে কে কত টাকা খসাতে পারে! তারপর উৎসব চলে গেলে এক সেকেন্ডে সবাই আফসোস করে— “ইস! এত তাড়াতাড়ি লগ-আউট হয়ে গেল!” উৎসবের এই দ্রুত এক্সিট মারার স্বভাবটা আমার মোটেও পছন্দ নয়, এত কষ্ট করে ইনস্টল হয়ে এত তাড়াতাড়ি আনইনস্টল হওয়ার কী দরকার?

    ঠিক উৎসবের মতো, সময়ও স্ক্রল করে চলে যায়। আমাদের উঠোনের কৃষ্ণচূড়া গাছটা কেটে গেল সময়ে। যে জায়গায় দাঁড়িয়ে একসময় উৎসবের চিঠি পড়তাম, সেখানে পরে মোটরবাইক পার্ক হতে লাগল। তার পাশে এখন আরেকটা গাড়ি। শহরের আনাচে-কানাচে কাশের গোছাগুলো এখন বাস্তব থেকে কমে গিয়ে ফুটে ওঠে ডিজিটাল স্ক্রিনের হাই-ডেফিনিশন ডিসপ্লেতে।

    উৎসব অবশ্য সময়ের সঙ্গে নিজের অ্যালগরিদম পাল্টে নিয়েছে—পোশাকে, বাহারে, বহরে সে এখন পুরোপুরি ‘আপডেটেড’। ডিজিটাল আলোয় সে একদম সপ্রতিভ আধুনিক যুবক। আর আমি? সেকেলে একটা মেমোরি-বক্স বুকে ধরে রেখেছি। সেই কাগজ-কলমের চিঠি লেখা বন্ধ হয়েছে ঠিকই। রেডিয়ো বদলে টেলিভিশন এসেছে, তারপর মোবাইল—সবই তো অটোমেটেড। আমার চিঠিগুলোও এখন ডিজিটাল টেক্সট। নতুন নতুন অ্যাপের চ্যাটবক্সে এখন উৎসব আসার খবর পেতে আলাদা করে কাউকে চিঠি লিখতে হয় না। মোবাইলে নোটিফিকেশন ঝরে পড়ে— “এইবারের ভেন্যু কোথায়?”, “কয়টায় বেরোব?” আমি কিন্তু তবুও মনের চ্যাটবক্সে একই টেক্সট টাইপ করি— “হ্যালো, উৎসব, আসছ তো?”

    ৩


    একদিন আলমারি পরিষ্কার করতে গিয়ে হঠাৎ সেই পুরনো হলদে হয়ে যাওয়া হার্ডকপি চিঠিটা হাতে এল। এত বছর পর চিঠিটার ওপর আঙুল বুলিয়ে জানলার বাইরে তাকালাম। বাইরে তখন শরতের রোদে কাশের জমির সাদা চাদর দুলছে, আর পাড়ার ছেলেরা মণ্ডপ বাঁধছে—কেউ বাঁশ টানছে, কেউ লাইটিং চেক করছে, কেউ ফুচকার স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে চিৎকার করছে! ঠিক তখনই হৃদপিণ্ডের ভেতর একটা চেনা ঢাকের বিট বেজে উঠল।

    আমি একলহমায় টাইম-ট্রাভেল করে বহু বছর পেছনে চলে গেলাম। এতদিনে আমি সেই চিঠিটার আসল রিপ্লাই খুঁজে পেলাম। উৎসবও তো চিঠি পাঠায়! সে উত্তর দেয় কাশের বনের রিফ্রেশিং হাওয়ায়, চেনা পাড়াটার লজিস্টিক্সে, জানলার ওপারে আলো জ্বলে ওঠায়, আর রান্নাঘরের গন্ধে।

    উৎসব মানে শুধু একটা নির্দিষ্ট ডেট বা ধার্মিক ক্যালেন্ডার নয়। উৎসব মানে যে মানুষটা পাশে বসে রিয়েল-টাইমে হাসে, উৎসব মানে যে মা বারবার ইনফিনিট লুপে বলে, “আর একটু খাবি?”, উৎসব মানে পাড়ার সেই লোকটা, যে চাঁদা দিতে কেপটিমি করে, কিন্তু প্যান্ডেলের সামনে দাঁড়িয়ে সবচেয়ে বেশি নাচানাচি করে! উৎসব মানে কাশের বনে ধুলো মেখে কোনো ফিল্টার ছাড়া আনন্দ করা, উৎসব মানে দূর শহর থেকে হোম-বাউন্ড মানুষ, উৎসব মানে ব্যাকলগ বা অভিমান ভুলে একই টেবিলে বসা, আর সবচেয়ে বেশি—উৎসব মানে ওয়েটিং টাইমের আনন্দ। যার জন্য অপেক্ষা করি, সে এলেই উৎসব হয় না; অপেক্ষা করতে করতেই সিস্টেমটা হঠাৎ উৎসব হয়ে যায়।

    আমি আমার ঘরের বন্ধ থাকা অ্যানালগ ঘড়িটার দিকে তাকালাম, কাঁটাগুলো এখনও স্টাক হয়ে আছে। কিন্তু ও আমাকে প্রতিদিন একটা কনস্ট্যান্ট ট্রুথ মনে করিয়ে দেয়—টাইম ওভার হয়ে যায়, কিন্তু উৎসবের মেমোরি থেকে যায়।

    বাইরে তখন ঢাকের সাউন্ড সিস্টেম চড়ে উঠেছে। কেউ দরজায় বেল বাজিয়ে ডেকে উঠল, “এই যে! সবাই বেরোবে না?” দরজার কাছে এসে দেখি পাড়ার পুরো গ্যাং দাঁড়িয়ে আছে—কেউ নিউ কালেকশনের ড্রেসে, কেউ পুরনো মেমোরির পোশাকে, কেউ কাশের ফুল চুলে গুঁজে, কেউ সুপার-হ্যাপি, কেউ বা একটু ডাউন।

    আমি তখন স্পষ্ট বুঝলাম—উৎসব কোনও দিন আমার বাড়িতে বাইরে থেকে থার্ড-পার্টি অতিথি হয়ে আসেনি, আমি-ই এতদিন ধরে উৎসবের নিজের সার্ভারে গিয়ে দাঁড়িয়েছি। আর সেই সার্ভারের লোকেশন? মানুষের মন। পোর্টটা অবশ্য সবসময় ওপেন থাকে না, তাই উৎসব এলে তাকে সেভ করে ধরে রাখতে হয়—হাসি দিয়ে, খিদের তৃপ্তি দিয়ে, আড্ডা দিয়ে, কাশের বনের আনন্দ দিয়ে, একটু ক্ষমা করে, একটু কাছে এসে।

    ৪


    তারপরও যদি সে এক্সিট নেয়, মন খারাপের কোনও রিজন নেই। সে আবার রিলোড হবে, কয়েকশো বছর ধরে হয়ে আসছে, আমার চেয়ে বয়সে বড় প্রসেসর বলে কথা! আর আমি? আমি এখনও ঘরের কোণে দাঁড়িয়ে তার অপেক্ষায় সেই চিঠিটাই মনে মনে আবৃত্তি করি। এখন টাইপ করি— “প্রিয় উৎসব, আর কতদিন বাকি তোমার আসার?”

    তারপরই লাইভ স্ট্রিমের মতো শুরু হয়ে যায় আসল ধামাকা—ধুনুচি নাচের ধোঁয়ায় চারপাশ পুরো ব্লার, নারকেলের ছোবড়া আর ধুনোর গন্ধে বাতাস হেভি লোডেড! ঢাকের কাঠি আর সাউন্ড বক্সের বাসে ধুকপুক করে ওঠে বুকের ভেতরটা, সবাই তখন একসঙ্গে একই ফ্রিকোয়েন্সিতে নাচছে! আর নবমী ডিঙিয়ে বিজয়া-দশমীর রাতের পর থেকেই শুরু হয় আফটার-পার্টির অফলাইন মোড—পরের দুদিনের টানা গান, শ্রুতিনাটক, পাড়ার মঞ্চে রক্ত গরম করা থিয়েটার, কবিতা আবৃত্তি, আর পাড়ার মোড়ে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে বেঁচে থাকা পুরনো স্মৃতিগুলোর নস্টালজিক কোডিং। মিষ্টিমুখের মিষ্টি আর কোলাকুলির মাঝে মেটে ওঠে সব পুরনো ঝগড়া, রিসেট হয়ে যায় সব অভিমান। প্যান্ডেল খুলুক, বাঁশ খোলা হোক, কিন্তু মনের ব্যাকএন্ড থেকে তো আর উৎসবের মেমোরি আনইনস্টল হয় না!

    ওদিকে কেউ কেউ বলছে, পুজো আসছে। আমি একটু এডিট করে, মন থেকে রি-টাইপ করে বলি—উৎসব। এই উৎসবকে নিয়েই আমাদের নেটওয়ার্কটা কত যে বৃহৎ হয়ে যায়! পুজো যেখানে শেষ হয়, সেখান থেকেই তো শুরু হয় আমাদের জীবনের আসল উৎসব।

    আসলে, এই সবটাই একটা ড্রাফট। এরপর ফাইনাল হয়ে ডিজিটালে ছড়িয়ে গেলেই পৌঁছে যাবে উৎসব-এর কাছে।


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • ইস্পেশাল | ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১১৮ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • শ্রীমতী | ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:২৪743116
  • আসলে, এই সবটাই একটা ড্রাফট। এরপর ফাইনাল হয়ে ডিজিটালে ছড়িয়ে গেলেই পৌঁছে যাবে উৎসব-এর কাছে। পৌঁছে যাক,সেই অপেক্ষার সরণি গুরুর উৎসব। দারুণ ব্যাপার যাহোক...।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে প্রতিক্রিয়া দিন।