এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • মধ্যবিত্তের নিরাপত্তার স্বপ্ন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আক্রমণ

    Ranjan Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৭ নভেম্বর ২০২৬ | ২৫ বার পঠিত
  • মধ্যবিত্তের নিরাপত্তার স্বপ্ন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আক্রমণ

    পৃষ্ঠভূমি

    আজ থেকে প্রায় ৭৬ বছর আগে সাধারণ মানুষের দৃষ্টির অগোচরে একটি যুগান্তকারী ঘটনা ঘটেছিল।

    মনস্তত্ব ও দার্শনিক গবেষণার জন্যে প্রখ্যাত ত্রৈমাসিক পত্রিকা “মাইন্ড” এর অক্টোবর, ১৯৫০ সংখ্যায় একজন গণিতজ্ঞের প্রবন্ধ প্রকাশিত হল। প্রবন্ধটির নাম “Computing Machinery and Intelligence”, লেখক A M Turing.

    সেই প্রবন্ধে গণিতের পণ্ডিত ট্যুরিং একটি অবাক করা প্রশ্ন করলেন — “Can machines think”? মেশিন কি চিন্তা করতে পারে? ওই গবেষণা পত্রেই উনি উত্তর খুঁজতে গিয়ে পেশ করলেন Imitation Game যা আজকের কম্পিউটার এবং তার ভাষা নির্মাণে প্রায় ভগীরথের গঙ্গা আনার কাজ করেছে। এটা এখন সবাই জানেন।

    একই সঙ্গে বলা দরকার যে ওই প্রবন্ধের শিরোনামেই স্পষ্ট যে উনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বা আজকের AI এর জনকও বটেন।

    কিন্তু বর্তমান প্রবন্ধে আমাদের টুরিং সঙ্গে যোগসূত্র কী?

    সেটা হল কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নত মডেল এবং প্রয়োগ ব্যাপকহারে তরুণ ছেলেমেয়েদের কর্মহীন করে তুলবে সেটার অনুমান উনি ৭৬ বছর আগেই করেছিলেন।

    আবার ইউ এন হারারি নামের তরুণ ইতিহাসবিদ (এবছর উনি পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন) তাঁর বিখ্যাত “21 Lessons for the 21st Century” বইয়ে দাবি করেছেন যে বর্তমান শতাব্দীতে সমাজের মূল দ্বন্দ্ব পুঁজি বনাম শ্রম না হয়ে তথ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দখল নিয়ে হবে।

    উনি সতর্ক করছেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিছক কোন যন্ত্র বা খেলনা নয়, “it is not a tool, but an agent”। কারণ, হাতুড়ি হোক বা নিউক্লিয়ার বোমা – তার পেছনে নিয়ন্ত্রক হল মানব মস্তিষ্ক। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আছে শেখা, বদলে যাওয়া এবং নিজের থেকে স্বতন্ত্র নির্ণয় নেবার ক্ষমতা।

    তাহলে দেখা যাচ্ছে যে ৭৬ বছর আগে টুরিং এর করা ভবিষ্যদ্বাণী আর দূরগামী কল্পনা নয়, বরং আজকের বাস্তবতা।

    আমরা এই লেখায় হাতড়ে দেখব কীভাবে শিল্প ও ব্যবসা বাণিজ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অনুপ্রবেশ মধ্যবিত্তের সন্তানকে নিয়ে সুখী ভবিষ্যতের দেখা স্বপ্ন ভেঙে দিচ্ছে।

    দেখব কী ধরণের কাজ ছিনিয়ে নিচ্ছে এ আই।

    ডক্টর মনমোহন সিং এর হাত ধরে নতুন আর্থিক নীতির বা ‘সংস্কারে’র মাধ্যমে ১৯৯১ সাল থেকে ভারতের বাজার বিদেশি পুঁজি ও টেকনোলজির জন্যে উন্মুক্ত হল। তাতে ভারতের শ্রমের বাজারে কী রকম পরিবর্তন এল?

    ড্যানিয়েল সাসকিন্ড তাঁর বিখ্যাত বইয়ে [1] A World Without Wor দেখিয়েছেন ১৯৮০ থেকেই নতুন প্রযুক্তি গোটা বিশ্বের শ্রমের বাজারে একটা মেরুকরণ ঘটিয়েছে।এই প্রযুক্তি লাভান্বিত করেছে ‘হাই স্কিল’ ও ‘লো স্কিল’ কর্মীদের। কয়েক দশকের ‘এম্পিরিক্যাল ডেটা’ বলছে ওদের মাইনে এবং শ্রমের বাজারে শেয়ার (পড়ুন রোজগার বা নিযুক্তি) বেড়েছে, কিন্তু ‘মিডলিং স্কিল’ এর কর্মীদের বিশেষ লাভ হয় নি বলা চলে। এটা রোজগার এবং পে-প্যাকেজ দুটো ক্ষেত্রেই সত্যি।

    ভারতের ক্ষেত্রে একই জিনিস লক্ষ্য করেছেন অধ্যাপক সুদীপা সরকার।

    উনি ১৯৮৩-৮৪ থেকে ২০১১-১২ সালের ডেটা নিয়েছেন NSSO (National Sample Survey Organisation) থেকে। ১৯৯১ থেকে করণিকের কাজ, হিসেবপত্তর রাখার কাজ, বিক্রি এবং রেকর্ড রাখার কাজে ক্রমাগত কম্পিউটার মানব শক্তিকে হঠিয়ে দিচ্ছে। যারা কোনক্রমে টিকে আছে তাদের মাইনে এবং নিযুক্তিতে বিশেষ বৃদ্ধি হচ্ছে না।

    মধ্যবিত্তের স্বপ্নঃ সুখী গৃহকোণ শোভে গ্রামোফোন

    মধ্যবিত্ত কে? বলা মুশকিল। গোদা বাংলায় বললে “মধ্যবিত্ত হল সমাজের উচ্চবিত্ত ও নিম্নবিত্তের মাঝের অংশটুকু। এদের চেনার উপায় একটি নির্দিষ্ট আয়বর্গ, শিক্ষার স্তর ও জীবনযাপনের বৈশিষ্ট্য দিয়ে ” [2]। এটা সমস্ত অর্থনীতিবিদই মানেন যে দেশের বিকাশ, উন্নয়ন, বাজারে সক্রিয় চাহিদা সৃজন ও কর্মসংস্থানের জন্যে এই শ্রেণীর ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

    কিন্তু এঁদের চিনব কীভাবে? অনেক অর্থনীতিবিদ এবং গবেষক সংস্থা এ’নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে এবং নানান সংজ্ঞা তৈরি করেছেন। যেমন, National Council of Applied Economic Research (NCAER) বলছে — মধ্যবিত্ত পরিবার মানে যাদের বার্ষিক আয় ৫ লাখ থেকে ৩০ লাখের মধ্যে। [3]

    কিন্তু আমরা এখানে আলোচনার সুবিধের জন্য মধ্যবিত্ত বলতে ধরে নিয়েছি সেই ৪ কোটি লোককে যাঁরা নিয়মিত ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন জমা করেন এবং যাঁদের গড়পড়তা বার্ষিক আয় ৫ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকার মধ্যে। (এই সংজ্ঞাটি লন্ডন স্কুল অফ ইকনমিক্সের স্নাতক এবং মার্সেলাস ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজার্স এর প্রতিষ্ঠাতা সৌরভ মুখার্জির)। প ১৯ *

    কীসের ভিত্তিতে এই সংজ্ঞা নির্ধারিত হল?

    দুটো লক্ষণকে চিহ্নিত করে।

    এক, মধ্যবিত্ত শ্রেণী বললে মানতে হবে যে এঁদের আয় দেশের নাগরিকদের আয়ের চার্ট বানালে তার মোটামুটি মাঝখানে (মধ্যে) অবস্থিত হবে।

    দুই, এই শ্রেণীর সামগ্রিক আয় দেশের মোট আয়ের অন্ততঃ ৫০% হতে হবে। তাই এরা শ্রেণী হিসেবে দেশের অর্থনীতির চালকের আসনে বসে আছেন।

    নিচের তালিকাটি দেখুনঃ

    Income, Expenditure and Surplus Income Share of Each Group (2021-22) [4]
    % Share of All Indian Households
    World Bank Defined Global Income Class

    RichUpper MiddleMiddleLower
    Income Share36311717
    Expenditure Share27301923
    Surplus Income Share683288
    Million Households316262154

    *এখানে ভারতের নমিনাল জিডিপি ৩.৩৮ ট্রিলিয়ন ডলার ধরা হয়েছে; এবং প্রতিটি আয় বর্গে তার হিস্যা দেখানো হয়েছে।

    স্পষ্টতঃ উচ্চ মধ্যবিত্ত এবং সাধারণ মধ্যবিত্ত মিলিয়ে গোটা দেশের আয় এবং ব্যয়ের প্রায় ৫০% দাঁড়াচ্ছে। এই জনসংখ্যাটি প্রায় ৪ কোটি।

    ১৯৯১ সালে ডঃ মনমোহন সিং প্রবর্তিত অর্থনীতির ‘উদারীকরণ’ থেকে ভারতে যে উপভোগ পরিচালিত জিডিপি’র জোয়ার এল ওই ৪ কোটি মধ্যবিত্ত তার শিরদাঁড়া। সেই শিরদাঁড়া আজ বেঁকে যাচ্ছে, সংকটের মুখে। এই ছোট লেখাটি তার একটি কারক তত্ত্ব — কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অনুপ্রবেশে নতুন প্রজন্মের কর্মসংস্থানে ভাঁটা — নিয়ে বোঝার প্রচেষ্টা মাত্র।

    শিক্ষাঃ মধ্যবিত্তের উপরে ওঠার মাধ্যম আজ কতটা কাজের?

    APAC Media তার ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ সংখ্যায় দেখাচ্ছেঃ সেই বছরে বোম্বাই আইআইটি’র ৭৫% ছাত্র চাকরি পেয়েছে এবং তাদের ন্যূনতম বেতন ৬ লাখ থেকে ৮ লাখ। গোটা দেশের ছবি? ২১৫০০ আইআইটি গ্র্যাজুয়েটের মধ্যে ৮০০০ বেকার।

    কিন্তু আমরা তো এই মন্ত্র জপে বড় হয়েছিলামঃ “লেখাপড়া করে যে, গাড়িঘোড়া চড়ে সে”।

    মধ্যবিত্ত বংশপরম্পরায় বিশ্বাস করে এসেছে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি হল আর্থিক সমৃদ্ধি ও সমাজের উপরের ধাপে ওঠার চাবিকাঠি। ছিরু পাল হতে পারবে শ্রীহরি ঘোষ।
    কথাটা খুব ভুল ছিল না। কিন্তু আজকের ভারতের শ্রমের বাজারে এই বিশ্বাসে ফাটল ধরছে।

    ভারতে প্রতি বছর প্রায় ৮০ লাখ স্নাতক হয়। আগের চেয়ে অনেক বেশি। কিন্তু শিক্ষিতদের চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা দ্রুত কমছে। যারা নিরক্ষর তাদের চেয়ে স্নাতকদের বেকারত্বের হার (২৯.১%) অন্ততঃ ৯ গুণ বেশি। ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতকদের ৯০% আজকাল বেকার। [5]

    চাকরি তৈরি হচ্ছে না?

    কর্মসংস্থান নিয়ে এনএসএস-এর ২০১৯ তথ্য বলছে আমাদের দেশে শিক্ষিত বেকারের ভীড় এখন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। [6]

    আজ প্রায় সবাই জানেন যে কোভিড-১৯ এর পরবর্তী ভারতে স্নাতকদের এবং বিশেষ করে আইআইটি পাস করা ছেলেমেয়েদের জন্য চাকরির বাজার সংকুচিত হচ্ছে।
    ভারতে ২৩টি আইআইটি ক্যাম্পাস। তার মধ্যে ভর্তি হওয়ার জন্যে গড়পড়তা ১৩ লাখ ছেলেমেয়ে প্রতি বছর পরীক্ষায় বসে। মাত্র ২০ হাজার সুযোগ পায়।
    তারা স্নাতক হয়ে বেরোলে অনুমানিত ৮ হাজার (প্রায় ৪০%) উপযুক্ত চাকরি না পেয়ে বেকার হয়। [7]

    তিনটি মারক শক্তির তাণ্ডব

    প্রযুক্তিবিদ, উদ্যোগী এবং লেখক সৌরভ মুখার্জি তাঁর গবেষণায় মধ্যবিত্তের সাম্প্রতিক সংকটের জন্যে তিনটি শক্তিকে চিহ্নিত করেছেনঃ

    হোয়াইট কলার জবের দ্রুত হ্রাস, শ্রমমূল্য বা মাইনের স্থির হয়ে যাওয়া এবং ঋণ বৃদ্ধি

    (১) হোয়াইট কলার জব

    এই ধরণের চাকরি বৃদ্ধির হার ২০২০ সালেও বার্ষিক ১১% ছিল, এখন সেটা দাঁড়িয়েছে ১% এ। ভারতের আইটি সেক্টর হল এই ধরণের চাকরি পাওয়ার সবচেয়ে বড় জায়গা, প্রতি বছর ৮ মিলিয়ন স্নাতকের নিযুক্তি হত। কিন্তু সেখানে এখন ছাঁটাইয়ের ঢেউ। কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এ আই কোডার এবং কল সেন্টারের কাজগুলো নিয়ে নিচ্ছে। দেশের অগ্রণী আই টি ফার্মগুলো ২০২৪ এবং ২০২৫ সালের মধ্যে ১,০০,০০০ পেশাদার কর্মীদের ছাঁটাই করেছে।

    এছাড়া ব্যাংকিং সেক্টর নতুন ব্যবসায়ী ফার্মকে ঋণ দিতে উৎসাহী নয়। প্রতি বছর বিত্তমন্ত্রী এ’নিয়ে ব্যাংকিং সেক্টরকে মৃদু তিরস্কার করে থাকেন। এর ফলে প্রাইভেট সেক্টরে নতুন নতুন চাকরি সৃজনের সম্ভাবনা সংকুচিত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি মার খাচ্ছে ছোট এবং মাঝারি মাপের সংস্থাগুলো SME(Small & Medium Enterprises), এরা বড় মাপের পুঁজি-নিবিড়(capital intensive) সংস্থার সংগে প্রতিযোগিতায় পেরে উঠছে না। অথচ, এরা শ্রম-নিবিড় (labour intensive), তাই দেশের ৯০% শ্রমশক্তির চাকরিদেনেওলা[8]।

    (২) মাইনে না বেড়ে প্রায় স্থির থাকা

    Nifty 50 কোম্পানিতে চাকুরিরতদের বাস্তবিক মাইনে (মূল্যবৃদ্ধির দর সাপেক্ষে) গত নয় আর্থিক বছরে (২০১৬ থেকে ২০২৫) [9] বাড়ে নি, বরং কমেছে।
    যে মধ্যবিত্তের (৫ লাখ থেকে ১ কোটি আয় বর্গ) গড় আয় এক দশক আগেও বছরে ১০.২৩ লাখ ছিল, তা এখন ১০.৬৯ লাখ হয়েছে।
    অথচ একটি সাধারণ ভেজ থালির দাম বাড়ছে বছরে ১১% দরে, চিকিৎসার খরচ বাড়ছে ১৪% হারে।
    প্রতি আট বছরে মধ্যবিত্তের খরচ দ্বিগুণ হচ্ছে। [10]

    (৩) মধ্যবিত্তের ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা

    ভারতের প্রতি পরিবারের ঋণ (গৃহনির্মাণ ঋণ বাদ দিয়ে) – আয়ের প্রতিশতের হিসেবে — এখন আমেরিকা ও চিনকে ছাড়িয়ে গেছে।

    প্রায় ৫০% প্রতিশত পরিবার নিয়েছে ‘পার্সোনাল লোন’ যা ব্যাংকের অন্য সব ঋণের চেয়ে চড়া সুদ নির্ভর। এছাড়া এই ঋণগুলো মূলতঃ নেওয়া হয় উপভোগ এবং পুরনো দেনা মেটাতে। যেমন, স্মার্ট ফোনের নতুন মডেল কেনা, ছুটিতে বেড়াতে যাওয়া, বা পড়াশোনার খরচা এবং চিকিৎসা ব্যয় মেটানো।

    ফলে এতে আয় বৃদ্ধি হয় না। জনসংখ্যার ৬৭% তিরিশ বছর বয়স হওয়ার আগেই এই ঋণ নেয়। আর ব্যাংক কেবল এই ঋণের বেলায় অনেক উদার নীতি নেয়।

    ঋণীদের আয়ের ৪০% খরচ হয় এই ব্যক্তিগত ঋণের কিস্তি ও সুদ দিতে। এভাবে প্রায় ৫ থেকে ১০% ঋণী ক্রমশঃ ডেট ট্র্যাপ বা বেরোতে পারা কঠিন এমন ঋণের ফাঁদে জড়িয়ে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচের জন্য একাধিক ঋণ নিতে বাধ্য হয়। [11]

    এই তিনটে জিনিস মধ্যবিত্তের আয়কে নিংড়ে নিচ্ছে বটে, কিন্তু গল্প এখানেই শেষ হচ্ছে না।

    সোশ্যাল মিডিয়ার চাপ

    ২০১৬ সালে ‘জিও’ টেলিকম প্রায় বিনি পয়সার মোবাইল ডেটা স্কীম শুরু করল। সারাভারতের যুব সমাজ ভীড় করে ওদের নিজস্ব সিমকার্ড কিনতে লাগল। রেকর্ড সংখ্যক বিক্রির পর স্কীম বদলে গেল। কিন্তু ততদিনে সবার নেশা ধরে গেছে। শুধু ছবি পোস্ট করে লাইক পাওয়ার লোভ নয়, কৃত্রিম ইমেজ দিয়ে বিভিন্ন কোম্পানি ফেরি করতে লাগল শস্তায় বড়লোক হওয়ার নানান কিসিমের স্বপ্ন।

    ইদানীং একটি নতুন শব্দ শোনা যাচ্ছে — ‘ইনফ্লুয়েন্সার’; এই প্রজাতিটি রাজনৈতিক প্রচার ছাড়াও বিভিন্ন আর্থিক স্কীম লক গছাতে লোকজনকে প্রভাবিত করে। ফল হয়েছে মারাত্মক।
    ক্ষতিকর মনস্তাত্ত্বিক চাপ এবং আর্থিক লাভের টোপ।

    প্রথমটার একটা পরিণাম আই আই টিতে আত্মহত্যার হার ২০১৫ থেকে দ্বিগুণ হওয়া। [12]

    দ্বিতীয়টি, তিরিশ-চল্লিশ বছর বয়েসি মধ্যবিত্ত ছেলেদের F & O Trading [13] করতে ঝাঁপিয়ে পড়া। এই মরীচিকার হাতছানিতে মধ্যবিত্ত ঘরের প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার বা তিন লক্ষ কোটি টাকা গত আর্থিক তিন বছরে (২০২২-২৪) বিভিন্ন আর্থিক সংস্থা ও দালালদের হাতে চলে গেছে। এটা ভারত সরকারের সামাজিক উন্নয়ন খাতে ব্যয়ের চেয়ে বেশি। [14]

    বিভিন্ন সেক্টরের কর্মসংস্থানে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’র অনুপ্রবেশ

    গত ২০২৫ সালে Vogue ম্যাগাজিনের অগাস্ট সংখ্যার কভারে দেখা গেল এক নিখুঁত সুন্দরী মডেলের ছবি। তাঁর সোনালী চুল এবং নীল চোখ অনেকের বুকে ঢেউ তুলল। কিন্তু অচিরেই সেই ছবির রহস্য ফাঁস হয়ে বিজ্ঞাপনের দুনিয়ায় মডেল ও অন্য অনেকের হৃৎস্পন্দন প্রায় থামিয়ে দিল। কারণ, অমন কোন নারীর বাস্তব অস্তিত্ব নেই, উনি ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’র সৃষ্টি।

    তার জন্যে কোন মেক আপ আর্টিস্ট, হেয়ার স্টাইলিস্ট, ক্যামেরা ক্রু ও আলোকশিল্পীর প্রয়োজন হয়নি। কোন মডেলের তারিখ নিতে হয় নি। কোন স্টুডিও বা মনোরম স্থানের ভাড়া গুণতে হয় নি। প্রায় বিনাখরচে এবং খুব অল্প সময়ে কাজটি সম্পন্ন হল। ভাবুন, এটাই বিজ্ঞাপনের জগতে প্রথা হয়ে দাঁড়ালে কতগুলো পেশার লোক পথে বসবে!

    মুম্বাইয়ের বিজ্ঞাপনের দুনিয়ায় মধ্যবিত্ত ঘর থেকে স্বপ্ন সফল করতে আসা অনেকের মনে ভয় ঢুকছে।

    আইটি সেক্টর

    নীতি আয়োগ জানিয়েছেন ভারতে সবচেয়ে বেশি গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থানের উৎস হল টেক সেক্টর — প্রায় ৮০ লাখ কর্মচারী! [15]

    হ্যাঁ, এই শতকের প্রথম দুই দশকে ভারতের টেক সেক্টর বার্ষিক ১৫% হারে বেড়েছে আর প্রতি বছর ১০ লাখ গ্র্যাজুয়েটকে রিক্রুট করেছে। সব উঠতি প্রতিভার স্বপ্ন ছিল আইটি কোম্পানিতে চাকরি পাওয়া। এই সময়ে বেশির ভাগ চাকরি পেয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং এর সমস্ত শাখার স্নাতকেরা।

    এই বাস্তবতা এবং কয়েক দশকের সাফল্য — ধরুন, ভাল চাকরি, ভাল মাইনে এবং সময়ে সময়ে বিদেশের প্রজেক্টে কাজ করার সুযোগ — ভারতের তরুণদের ভুলিয়ে দিল কোর ইঞ্জিনিয়ারিং। অর্থাৎ একটা কারখানা বা ব্রীজ অথবা বাঁধ নির্মাণের দক্ষতা।

    মধ্যবিত্ত সমাজের সফল বাপমায়েরা গর্বের সঙ্গে পরিচয় দিতেন — ‘আমার সন্তানকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার বানিয়েছি। ও এখন সিলিকন ভ্যালিতে কাজ করে’। কাজেই গত প্রজন্মের ইঞ্জিনিয়ার ক্যারিয়ার তার জৌলুষ হারিয়ে ফেলল। নতুন প্রজন্ম বেছে নিলে বেসিক ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার বদলে আইটি কর্মচারি হওয়া। বিয়ের মার্কেটেও ভালই দাম।

    ইন্ডিয়ান গ্র্যাজুয়েট ‘স্কিল ইন্ডেক্স ২০২৫’ অনুযায়ী ৭০% ছাত্র চায় আইটি কোম্পানিতে যোগ দিতে।

    বড় বড় আইটি কোম্পানিগুলো ব্যাপক হারে ছাঁটাই করছে। কেন?

    আরে, এ আই দিয়ে আজকাল কোডিং, কোয়ালিটি কন্ট্রোল, কাস্টমার সার্ভিস – সব হয়ে যাচ্ছে এবং বিশাল পরিমাণের কাজ খুব অল্পসময়ে বিনা খরচে হয়ে যাচ্ছে।
    আগে তো আমাদের ছেলেমেয়েরা এই কাজগুলো করার জন্যেই ভাল মাইনে পেত, বিদেশে যেত।

    ভারতে আইটি সেক্টরে প্রচুর লোককে চাকরি দেয়ার জন্যে খ্যাত TCS, HCL Tech, Tech Mahindra এখন থেকেই নিয়মিত লোক কমানোর ঘোষণা করে দিয়েছে। একটি স্টাডি অনুসারে ২০৩১ সাল নাগাদ প্রায় ২ মিলিয়ন লোক আইটি সেক্টরে কাজ হারাবে। [16]

    বেশ। এবার অন্যধরণের কম আয়ের পেশাগুলোর দিকে তাকানো যাক। মনে রাখতে হবে ভারতের শ্রমনিবিড় কাজের জগতে ৯০% শ্রমিক (নারী-পুরুষ নির্বিশেষে) ইনফর্ম্যাল সেক্টরে নিযুক্ত।
    উন্নত প্রযুক্তি সেখানেও মানব শ্রমশক্তিকে হঠিয়ে দিচ্ছে।

    এই ধরণের কাজে সবচেয়ে বেশি লোক নিযুক্ত হচ্ছে কনস্ট্রাকশনের কাজে। তারপরেই কাজ পাচ্ছে সিকিউরিটি গার্ড। যতবেশি আবাসন, কন্ডো, গেটেড কমিউনিটি—ততবেশি সুরক্ষার জন্যে উর্দি পরা পাহারাদার দেখা যায়। কত? ১.২০ কোটি।
    এদের নিয়োগ দ্রুত কমছে।

    একদিকে যেমন মধ্যবিত্ত এ আই নির্মিত মায়াবী গল্পের নেশায় তার কষ্টে অর্জিত সঞ্চয় নিয়ে শেয়ার বাজারে জুয়ো খেলছে, অন্যদিকে সেই একই এ আই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিক্ষিত মধ্যবিত্তের চাকরি উধাও করে দিচ্ছে।

    নীতি আয়োগের হিসেব অনুযায়ী আগামী ২০৩১ সাল নাগাদ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) আই টি সেক্টরে নিযুক্তি ৮ মিলিয়ন থেকে কমিয়ে ৬ মিলিয়ন করে দেবে এবং গ্রাহকের অনুভব-সম্পর্কিত কাজ ২.৫ মিলিয়ন থেকে ১.৮ মিলিয়নে নামিয়ে আনবে। অর্থাৎ, মধ্যবিত্তের ২.৭ মিলিয়ন কাজ হারিয়ে যাবে। [17]

    কেন?

    ভারতের সবচেয়ে মুনাফা অর্জন করা কোম্পানির সিইও’রা বলছেন — ওদের লক্ষ্য এআই ব্যবহার করে কর্মচারিদের বেতন খাতে খরচা অন্ততঃ এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনা। মানব শক্তি থেকে কল সেন্টার —সবকিছু এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা করবে, অনেক কম সময়ে এবং অনেক কম খরচায়।

    যে দেশে প্রতি বছর ৮ মিলিয়ন নতুন স্নাতক শ্রমশক্তির বাজারে কাজ পাবার আশায় ভীড় জমায় সেখানে এভাবে কাজ উধাও হয়ে যাওয়া বিরাট বিপর্যয়।

    উপভোগ সংকট

    ক্রমাগত কাজ কমে যাওয়া, বাস্তবিক আয় কমতে থাকা এবং বাড়তে থাকা ঋণের বোঝা মধ্যবিত্তের কোমর ভেঙে দিচ্ছে যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে ভারতের অর্থনীতিতে উপভোগ ব্যয় প্রায় স্থির হয়ে যাওয়ায়। আজ থেকে ১৪ বছর আগে FMCG (fast moving consumer goods) পণ্যের পরিমাণের বৃদ্ধি দর ছিল বার্ষিক ১১% যা বর্তমানে মুখ থুবড়ে ১ থেকে ২ % হয়ে গেছে। [18]

    মনে রাখা দরকার, ভারতের জিডিপির (গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট) ৬০% আসে উপভোগ ব্যয় থেকে। সিঙ্গাপুর আদি পূর্ব এশিয়ার দেশের অর্থনীতি হল রপ্তানিভিত্তিক।

    কিন্তু ভারতে ১৯৯১ সাল থেকে মনমোহন সিং প্রবর্তিত বিকাশের মডেলটি মূলতঃ মধ্যবিত্তের উপভোগভিত্তিক।

    অর্থাৎ মধ্যবিত্ত উপভোগের জন্য বাজারে কেনাকাটা করায় উপভোগ পণ্যের চাহিদা বাড়বে, তাহলে অনেক নতুন নতুন কাজ ও চাকরি তৈরি হবে। এর ফলে মধ্যবিত্তের আয় বাড়বে, কেনাকাটা বাড়বে, চাহিদা বাড়বে এবং চাকরি তৈরি হবে -- এক নিরন্তর ঘুরতে থাকা বিকাশের চাকা!

    কিন্তু এখন চাকা ঘুরছে উলটো দিকে।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগে করপোরেটের খরচা কমছে, মুনাফা বাড়ছে। কিন্তু সেটা ঘটছে কাজ ও চাকরি কমিয়ে দিয়ে। তাতে মধ্যবিত্ত হারাচ্ছে কাজ, বাড়ছে শিক্ষিত বেকারির দর, কমছে পারিবারিক আয়। কমছে উপভোগ ব্যয়, কমছে চাহিদা।
    সংকটে ছোট ও মাঝারি শিল্প ও ব্যবসায়ী সংস্থা।

    সমস্যাটি আর্থিক কাঠামোগত (Structural)

    একটা কথা ইদানীং খুব শোনা যাচ্ছে। ভারতের স্নাতকেরা নাকি আজকের প্রয়োজনের হিসেবে অনুপযুক্ত, বেমানান, চাকরিতে নিয়োগ করার মত নয়! কারা বলছেন?
    বিদেশি নয়, আমাদের দেশি কর্পোরেট হাউসের মালিককুল। হঠাৎ কী হল?

    গত কয়েক দশক ধরে পড়াশোনার যে বাঁধাগতের ব্যবস্থা বা ইকোসিস্টেম চলে আসছে তাতে বিশ্লেষণের ক্ষমতার (analytical capability) থেকে মুখস্থবিদ্যার উপর (rote learning) জোর দেয়া হয়েছে। আই আই টি’র প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নও এখন বর্ণনাত্মক (descriptive) থেকে বদলে গিয়ে হয়েছে multiple choice ! খালি ঠিক/ভুল দেখে চিহ্ন দেয়া।
    তাই বলা হচ্ছে ভারতের স্নাতকদের মেরেকেটে ৪০% হল চাকরিতে নেয়ার যোগ্য। কারণ, এদের অধিকাংশ সমস্যার সমাধান খোঁজা বা বাঁধাগতের বাইরে উত্তর খোঁজার জন্যে সক্ষম নয়। [19]

    কিন্তু এই সংকট আজ হঠাৎ করে শুরু হয় নি। গবেষণা করে পাওয়া গেছে যে কিছু রুটিন তবু সামান্য মাথা খাটিয়ে ভেবে করার মত কাজগুলো – করণিক, হিসেব রাখা এবং প্রচার ও পণ্য বিক্রি — সেই ২০০০ সাল থেকেই কমছে। অর্থাৎ AI তার চেহারা দেখানোর দু’দশক আগে থেকেই মধ্যবিত্তের নাগালের সহজ দক্ষতার কাজগুলো শ্রমের বাজারে তার অংশীদারি হারাচ্ছে।
    মধ্যবিত্তের সংকট নিয়ে এতদিন রাজনৈতিক দলগুলো মুখর হয় নি। কারণ, ৯৭০ মিলিয়ন ভোটারের মধ্যে আয়করদাতা (আমাদের মধ্যবিত্ত) মাত্র ৪০ মিলিয়ন।
    তাই মধ্যবিত্তের রাজনৈতিক গুরুত্ব (অর্থনৈতিক নয়) সীমিত।

    তবে বর্তমান সরকার গত আর্থিক বর্ষ থেকে আয়করের বোঝা উল্লেখজনক ভাবে কমিয়ে (গড়পড়তা ১২ লাখের থেকে কম বার্ষিক আয়ের নাগরিককে আয়কর দিতে হবে না) কিঞ্চিৎ স্বস্তি দিয়েছে। কিন্তু সেটা সাময়িক এবং কোন দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়।

    সমাধান (!)

    সমস্যাটি বহুমাত্রিক, তাই কোন এক দাগ মিক্সচার খাইয়ে সারিয়ে তোলা সম্ভব নয়।

    কেউ কেউ দিচ্ছেন এক হাতুড়ে দাওয়াই — মধ্যবিত্ত ছেলেমেয়েরা চাকরির লোভ, বিশেষ করে সরকারি চাকরির মোহ ছেড়ে ব্যবসায়ে নামুক। উদাহরণ দেয়া হয় সুরাত বন্দরের NJ কোম্পানির।

    ১৯৯৪ সালে দুই কলেজ গ্র্যাজুয়েট জীবন শুরু করেছিল মিউচুয়াল ফান্ড বিক্রেতা হিসেবে। আজ ওরা ভারতের সবচেয়ে বড় মিউচুয়াল ফান্ড ডিস্ট্রিবিউটর — সম্পত্তি ভারতীয় টাকায় ২.৭ ট্রিলিয়ন।

    সবাই ক্লাসে কেন ফার্স্ট হয় না?

    দ্বিতীয় সমাধান -- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন হাতিয়ার শিখে ফেলা, কোর্স করে সার্টিফিকেট নেয়া — চ্যাট জিপিটি, জেমিনি, ক্লদ ইত্যাদি হাজারো নাম এবং অনলাইন শেখার প্রলোভন। এটা শিখলেই তুমি শ্রমের বাজারে ক্রয়যোগ্য মানবশক্তি হবে। বড় বড় কোম্পানি লুফে নেবে। যদি ইতিমধ্যে কর্মরত হয়েছ, তাহলে এই দক্ষতার সার্টিফিকেট তোমার বর্তমান চাকরি বাঁচানোর গ্যারান্টি হবে!

    এ যেন চার দশক আগের দেশ জুড়ে কম্পিউটার শেখার প্রচার। যে শেখেনি তার জীবন বৃথা।

    তখন ছত্তিশগড়ে দেখেছি কৃষক জমি বিক্রি করে ছেলেকে জেলা শহরে কম্পিউটার শেখাচ্ছে — তাহলে সে জয়েন্ট পাশ না করেও ইঞ্জিনিয়ার হতে পারবে।
    চাকরি পাওয়া আটকায় কে!

    মানছি, উন্নত প্রযুক্তি আমাদের জীবনে অনেক সকারাত্মক পরিবর্তন এনেছে।
    সাধারণ মধ্যবিত্ত আজ ঘরে বসে ট্রেনের টিকিট রিজার্ভ করাতে পারেন, প্লেনের টিকিট কাটতে পারেন।
    ব্যাংক থেকে টাকা কাউকে পাঠাতে হলে ঘরে বসে করতে পারেন। বিজলি বিল দিতে লাইনে দাঁড়াতে হয় না। বই কিনতে দোকানে যেতে হয় না।
    ঘরে বসেই তরি তরকারি মাছ মাংস এমনকি ওষুধ কিনতে পারেন।

    ইমেল ও অনলাইন চ্যাট এবং ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঘরে বসে ডাক্তারের সংগে ‘কনসাল্টেশন’ সারতে পারেন; দূর শহরে কর্মরত সন্তান, আত্মীয়, বন্ধুবান্ধবের সংগে মুখোমুখি বসে কথা বলার আনন্দ আস্বাদ করতে পারেন। উন্নত প্রযুক্তিকে দূরছাই করা নির্বুদ্ধিতা।

    কিন্তু এগুলির কোনটাই শিক্ষিত মধ্যবিত্তের সংকটের স্থায়ী এবং মূলভূত সমাধান নয়। কারণ, রোগের চিকিৎসা না করে বাইরের লক্ষণ দেখে ওষুধ দেয়া হচ্ছে।
    জ্বর কেন হয়েছে, রোগটা কী, সে না বুঝে শুধু প্যারাসিটামল দিলে যা হয় আর কি!

    অর্থনৈতিক মডেল

    ‘হাসছে যে ভীষণ খবরটা সে পায় নি এখনও’ -- বের্টল্ট ব্রেখট।

    সমস্যা রয়েছে আমাদের ১৯৯১ সাল থেকে চলতে থাকা অর্থনৈতিক বিকাশের মডেলে। সমস্যা আমাদের নিজের নিজের কমফোর্ট জোনে চোখ বুঁজে থাকার অভ্যাসে।

    দেখুন, ভারত এখনো AI সম্পর্কিত কাজ হারানোর বিপর্যয়ের প্রাথমিক স্তরে আছে। একদিকে Gogle, Microsoft, Accenture এর মত প্রযুক্তিজগতের মাস্তানরা খোলাখুলি বলছেন- AI ব্যবহারের ফলে ওদের সংস্থায় ব্যাপক হারে ছাঁটাই হবে [20]। কিন্তু ভারতের দেশি সংস্থাগুলো লজ্জা লজ্জা ভাব করে চুপ করে আছে।

    মধ্যবিত্তের চাকরিতে ওই মহাপ্রলয় কবে আসবে? আমরা জ্যোতিষ নই। পাঁজিপুঁথি দেখে গুণে বলতে পারব না।

    তবে আগেই বলেছি যে নীতি আয়োগের এস্টিমেট অনুসারে ২০৩১ নাগাদ ‘tech and customer experience jobs’ ২০% কমে যাবে। এছাড়া রকমসকম দেখে মনে হচ্ছে সেই দুর্দিন তাদের জন্যে সবচেয়ে আগে আসবে যারা তুলনামূলক ভাবে ‘repetitive tasks’ করনেওলা চাকরিতে যুক্ত। [21]

    এই পাড়ভাঙা বন্যায় কি বাঁধ দেয়া যায় না?

    বাধা তিনটে।

    এক, ভারত সরকার সফটওয়ার কোম্পানিগুলোর ব্যাপক হারে ছাঁটাই আটকাতে পারবেন না। ওদের শেয়ারে বিনিয়োগকারীরা প্রশ্ন করবেন — যদি গুগল, মাইক্রোসফটের মত কোম্পানিগুলো বলছে যে ওদের ‘কোডিং’ এর এক তৃতীয়াংশ AI করে দিচ্ছে, তাহলে তোমরা কোন হরিদাস পাল? ঝেড়ে কাশো।

    দুই, মধ্যবিত্তের দেশের পলিসি নির্ধারণে দরাদরির ক্ষমতা নেই বললেই চলে।

    রাজনীতির চশমায় দেখলে ৯৭০ মিলিয়ন ভোটদাতাদের ভীড়ে আয়কর দাতা মধ্যবিত্ত মাত্র ৪০ মিলিয়ন। উপরে বর্ণিত মহাসংকট প্রত্যক্ষভাবে শুধু তাদের প্রভাবিত করছে।
    মানছি, ভারত সরকারের আয়কর সংগ্রহ থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের ৫৩% এবং জিএসটি থেকে পাওয়া রাজস্বের ৩০% আসে মধ্যবিত্তের পকেট থেকে। এটাও অস্বীকার করা যায় না যে মধ্যবিত্ত বর্গ অন্ততঃ ২০০ মিলিয়ন চাকরির উৎস, অবশ্যই অনিয়মিত শ্রমের ক্যাটেগরিতে — রান্নার মাসি, কাজের দাদা, ড্রাইভার, মালি, ছুতোর, বিজলি মিস্ত্রি, কলের মিস্ত্রি ইত্যাদি।
    কিন্তু কোন ভোটপ্রার্থী কেবল মধ্যবিত্তের কাঁধে চড়ে ভোট বৈতরণী পার হবার স্বপ্ন দেখেন না।

    তিন, আসল সমস্যা হোল প্রযুক্তি ও প্রকৌশলে পিছিয়ে থাকা — যেখানে চিন এগিয়ে গেছে। আমাদের গড়পড়তা আয়কর দাতাদের বেতন ২৫ হাজার ডলার। চিলি (১৭), পর্তুগাল (২৯)। দক্ষিণ কোরিয়া (৩৩)। অর্থাৎ আমরা এখন দ্বিতীয় বিশ্বের দেশ। আমাদের কোন বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের প্রথম ৫০ এর মধ্যে নয়। [22]
    কারণ, আমরা শিক্ষা ও গবেষণাকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছি না। প্রতিবছর বাজেট বরাদ্দ কমে যাচ্ছে।

    ২০২২ সালে শিক্ষা খাতে ব্যয় ছিল জিডিপি’র ৪.০১%, বাজেটের ১৪.১৬% যা তার আগের বছরের তুলনায় ০.৭৭% কম। ২০২১ সালে ছিল ১৪.৯২% যা ২০২০ সালের তুলনায় ১.০৭% কম।

    বর্তমানে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষা ব্যয় ১২ বিলিয়ন ডলার এবং জিডিপি ৪ ট্রিলিয়ন ডলার। যেখানে চিনের ব্যয় ৮০০ বিলিয়ন ডলার এবং জিডিপি ২০ ট্রিলিয়ন ডলার।

    অর্থাৎ ভারতের ও চিনের জনসংখ্যা প্রায় সমান সমান। ভারতের জিডিপি চিনের ২০%, কিন্তু শিক্ষা খাতে ব্যয় চিনের ০.৫% মাত্র।

    ভারতে গবেষণার জন্য বাজেট বরাদ্দ জিডিপি’র ০.৬৬%। চিনের বাজেট প্রায় ৫৫১ বিলিয়ন ডলার, ওদের জিডিপি’র ২.৮%।

    এর ফল কী হয়েছে?

    আমাদের অর্থনীতি আজও আমদানি নির্ভর। রপ্তানির চেয়ে আমদানি অনেক বেশি। এবছরের বাণিজ্যিক ঘাটতি ৩০.৪৩ বিলিয়ন ডলার, গত বছর ছিল ১৯.১২ বিলিয়ন ডলার। শুধু চিনের সঙ্গেই ঘাটতি (২০২৫-২৬ আর্থিক বর্ষে) ১১২.১৬ ডলার।

    কেন?

    বর্তমান শতাব্দীর উন্নত প্রযুক্তি বলতে বোঝায় AI, বিদ্যুৎ পরিচালিত গাড়ি, বায়ো-টেকনোলজি এবং renewable energy — অর্থাৎ সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি ও জলবিদ্যুৎ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে পুনর্নবীকরণ যোগ্য পর্যায়ে নিয়ে আসা। এই বিষয়ে আমাদের কোম্পানিগুলো বিদেশ থেকে প্রযুক্তিকৌশল আমদানি করে। আমরা নিজে তৈরি করতে সক্ষম নই। আমাদের ইকনমিক মডেল চিনের মত ম্যানুফ্যাকচার কেন্দ্রিত নয়, বরং সার্ভিস প্রোভাইডার।

    বর্তমান ভারত সরকার ঘোষণা করেছেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে তাঁরা বিশেষ বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অল্পদিন আগে দিল্লিতে শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্যে বিশ্ব শিল্পমেলার আয়োজন করা হয়েছিল। তবে একটি স্টলে গলগোটিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বঘোষিত এ আই মডেলের নৃত্যরতা কুকুর দেখা গেল আসলে চিনের থেকে কেনা!
    এ’ধরণের ফ্রডকে তৎক্ষণাৎ প্যাভিলিয়ন থেকে বের করে দেয়া হয়।

    কিন্তু ভরসার কথা, দেশে সত্যিকারের এ আই তৈরি শুরু হয়েছে যাদের মাধ্যমে আবহাওয়ার আগাম খবর পেয়ে সে হিসেবে উপযোগী ফসল চক্র নির্মাণ ও মানুষের শারীরিক অসুস্থতার তথ্য সহজে পাওয়া সম্ভব।

    শেষপাতে

    কোন দেশ দীর্ঘ সময়, দশকের পর দশক, একই আর্থিক মডেল নিয়ে চলতে থাকলে উন্নয়ন ও বিকাশের গতি একসময় মন্থর হতে বাধ্য।

    ১৯৯১ সালের উপভোগ -আধারিত আর্থিক মডেল, যা স্বল্প-আয় দেশের অর্থনীতির জন্যে উপযোগী, তা আজ মুখ থুবড়ে পড়েছে। মাঝখানে ফেঁসে গেছে মধ্যবিত্ত।

    এখন এতদিনের অভ্যস্ত চাকরি নির্ভর আর্থিক উন্নতির মডেল (যাতে আমরা নির্মাতা নই, কেবল দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার ও বৈজ্ঞানিক রপ্তানিকর্তা) থেকে বেরিয়ে এসে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করা সময় সাপেক্ষ। এছাড়া এই প্রক্রিয়ায় মানবিক অবক্ষয় ও ধ্বংসের মূল্য অসীম।

    মার্ক্স দেখিয়েছেন আমেরিকার তুলো উৎপাদন বিশ্বে সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা ভেঙে পুঁজিবাদের আবির্ভাবে বিশেষ পূর্বশর্ত ছিল। সেটা ইতিহাসে বিচারে প্রগতিশীল পদক্ষেপ। কিন্তু তার ভিত্তি ছিল আফ্রিকা থেকে জোর করে তুলে আনা দাসেদের শ্রম, রক্ত ও ঘাম এবং চাবুকের শব্দ।

    তখন পরিবর্তন ছিল অন্ধ পদক্ষেপ। আজ যখন আগে থেকে পরিবর্তনের সুনামি ও ধ্বংসের আঁচ পাওয়া সম্ভব, নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব তখন মানবমূল্য হ্রাসকে কি পরিকল্পিত ভাবে ঠেকানো যায় না?

    আধুনিক কল্যাণরাষ্ট্রের কি এ’বিষয়ে কিছুই করার নেই?


    [1] Daniel Suskind, “A World Without Work: Technology, Automation and How We Should Respond” 2020. ইয়ে
    [2] Shivani Giri and S Subramanian, “The Middle Class in India”, Economic & Political Weekly, 7 June, 2025.
    [3] Business Today, 24 March, 2025.
    [4] Rama Bijapurkar “Lilliput Land: How Small Is Driving India’s Mega Consumption Story, Penguin, 2024.
    [5] Business World, 4 Nov. 2025 এবং Business Today, 3 Sept. 2024,
    [6] ‘Understanding the Burgeoning Indian Middle Class through Its Expenditure and Asset-Ownership pattern’ in The Middle Class in World Society, 2020, Routledge.
    [7] Rahul Kumar, ‘Job Crisis in IITs’, quoted in Break Point: The Crisis of The Middle Class and the Future of Work by Saurabh Mukherjea, p.66. Juggernaut, 2026.
    [8] Naukri Jobspeak Index.
    [9] সৌরভ মুখার্জি, “Break Point”, Juggernaut books, 2026 p. xii.
    [10] ঐ
    [11] ঐ
    [12] টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫; লক্ষিমা সারিনের রিপোর্ট।
    [13] F & O Trading বা ফিউচার এন্ড অপশন ট্রেডিং হল এক ধরণের ডেরিভেটিভ ট্রেডিং যেখানে শেয়ার বা অন্য কোন সম্পত্তির আসল মালিক না হয়েও ভবিষ্যতের দামের উপর ‘চুক্তি’ কেনাবেচা করা হয়।
    [14] ইকুইটি ডেরিভেটিভের বৃদ্ধি নিয়ে SEBI রিপোর্ট, ৭ জুলাই, ২০২৫।
    [15] Niti Aayog, Roadmap for Job Creation in the AI Economy, October, 2025, https://tinyurl.com/4n7ddpzy.
    [16] Monika Yadav, “A I Impact May Affect 2 Million Jobs in India’s Tech Sector: NITI Aayog”, Business Insider, 11 October, 2025.
    [17] Business Insider, 11 October, 2025.
    [18] Saurabh Mukherjea “Break Point”, Juggernaut, 2026.
    [19] Niyati Swami and Vinita Rakheja, ‘India’s Graduate Skills Index 2025’ –সৌরভ মুখার্জির বইয়ে উল্লেখ রয়েছে।
    [20] Lily Jamali, “Microsoft to Cut up to 9000 more Jobs as it invests in AI”, BBC, 3 July, 2025. And India Today, 28 September, 2025.
    [21] Nitin Seth, Human Edge in the AI Age: Eight Timeless Mantras for Success, Penguin Business, 2025.
    [22] হিন্দুস্থান টাইমস্‌, ৩ নভেম্বর, ২০২৫।

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। হাত মক্সো করতে মতামত দিন।