এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  প্রবন্ধ  ইদবোশেখি

  • ওরে বিহঙ্গ, ওরে বিহঙ্গ মোর…..।

    সোমনাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রবন্ধ | ০১ এপ্রিল ২০২৬ | ২৬২ বার পঠিত | রেটিং ৪.৫ (২ জন)
  • অলংকরণ: রমিত



    সকালের শুরুর দিকের এই সময়টা আমার গান শোনার সময়। নানান ধরনের গান। গায়করাও নানান বিচিত্র সব চরিত্রের। রাতের আঁধার তখন‌ও কালো আলোয়ানটা শরীর থেকে সরিয়ে রাখেনি, ভোরের এই সময়টাতে, যাকে বলা হয় ব্রাহ্ম মুহূর্ত, গলায় শিস্ চড়িয়ে গেয়ে ওঠেন ম্যাগপাই। জলসায় স্যাক্সাফোন বাজিয়েরা যেভাবে বিচিত্র করতবে যন্ত্রে সুর খেলান, অনেকটাই সেই কায়দায় সুরের চড়াই উৎরাই পেরিয়ে চলতে থাকে তার গলা সাধা। মাঝে মাঝে আমিও ওর শিস্ নকল করে ঠোঁট দুটো মুরিয়ে শিস্ দিয়ে উঠি। ক্ষণিকের জন্য বিভ্রান্ত হয়ে মাথা ঘুরিয়ে এদিক ওদিক দেখে। তারপর এক সময় আরও তীব্রতর স্বরে শিস্ দিয়ে ওঠে। মনে হয় যেন দুয়ো দিচ্ছে আমাকে – হয়নি হয়নি।

    দোহারীদের মতো দলবেঁধে আসা অতিথিরাও আছে। বেলা একটু গড়াতেই ঝুপঝাপ বাগানে নেমে আসে। গায়ের মেটে রঙের সঙ্গে কখনো কখনো মাটির রঙ এমনভাবে মিশে থাকে যে সহজে তাদের খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। মাটিতে পড়ে থাকা শুকনো পাতার ঝোঁপ নাড়িয়ে খুঁটে খুঁটে খুঁজে ফেরে টাটকা সতেজ প্রোটিন, আর মুখে চলতে থাকে প্যাঁক প্যাঁক আওয়াজ। মাটির ওপর দিয়েই চলে থপথপিয়ে ,আর অপ্রত্যাশিত কোনো আগন্তুক নজরে এলেই দ্রুত গতিতে ছুটে পালায়। ওড়ার ব্যাপারে আগ্রহ বেশ কম। হেঁটে চলে বেড়িয়ে বেড়াতেই এদের যতেক ফূর্তি। হিন্দিতে এদের বলে হুমরি বা চিলচিল্ ।আর আমরা ডাকি ছাতারে বলে।



    ছাতারে



    বসন্ত এসেছে টের পেতেই কোকিলের পাশাপাশি হাজির হয়ে যায় সবুজ রঙের শামলা গায়ে মাথায় লাল টুপি চড়ানো বসন্ত বৌরি। কামারভাইয়ের ওয়ার্কশপ যেমন সদা মুখরিত থাকে নেহাইয়ের ওপর হাতুড়ি ঠোকার টুং টাং শব্দে বসন্ত বৌরির ডাকটিও যে তেমন‍‌ই। এই সময়টাতেই এদের আনাগোনা বেড়ে যায়।



    বসন্ত বৌরি



    বাগানে নিয়মিত বেড়াতে আসা অতিথিদের নিয়ে লিখতে বসলে সমস্ত শব্দ বোধহয় ফুরিয়ে যাবে। তবে আর কয়েকজনের কথা বলি। হারিয়ে যাচ্ছে হারিয়ে গেছে বলে আমাদের হাহাকার ধ্বনির মাঝেই ছোট্ট চড়াইরা আবার ফিরে এসেছে আমার পাড়ায়। সারাদিন টুনটুনিদের চঞ্চলতা দেখতে মোটেও ক্লান্ত হয়না আমার চোখ আর মন। শীতকালে মাথায় পাগড়ি পরা প্রবাসী সিপাহী বুলবুলকে দেখলেই মন পরবাসের খবর নিতে উন্মুখ হয়ে ওঠে। শরীরে হলদে পালকের ঝড় তুলে আর মাথা কালো টুপিতে ঢেকে বেড়াতে আসা বেনে ব‌উ বাড়িতে কুটুম আসার আগাম সন্দেশ দিয়ে যায়। ভারী ঠোঁট আর ছয় ছোট্ট উজ্জ্বল ফিরোজা রঙের মাছরাঙা শুকনো চৌবাচ্চায় গোত্তা খেয়ে নেমে পড়ে মাছ অথবা পোকার খোঁজে। শরীরে কুচকুচে কালো কোট পরা কোতোয়াল ফিঙে পাখিরা অন্য সহচরদের বাসার ওপর নজরদারি করতে মাঝে মাঝেই চলে আসে আমাদের তালুকে, ভাবখানা এই যে বিহগকুলের মামলা সামলানোর দায়িত্ব সব তার একার‌ই । লেজ ঝোলানো হাঁড়ি চাচা পাখিরা গান গাইতে পারে সম্পূর্ণ আলাদা দুই স্বরলিপি মেনে। দুপুরের শান্ত পরিবেশে ঘুঘু পাখিদের ডাক শুনে মন উদাস হয়ে যায়। হুমদো চেহারার কুবো পাখি নজরে এলেই আমিও কুব কুব করে ডেকে উঠি ওর বিরক্তির সামান্য তোয়াক্কা না করে। বিকেলে ছাদে উঠলেই দেখা হয়ে যায় রকমারি শালিখ পাখিদের সঙ্গে, দেখা পাই সুপুরি গাছের লম্বা খাড়া ডাল বেয়ে তরতরিয়ে হেঁটে ওপরে ওঠা কাঠঠোকরার। শক্ত ঠোঁট দিয়ে গাছের গায়ে ঠকঠকিয়ে শব্দ তুলে যেন জিজ্ঞেস করে – মুখুজ্যে মশাই কেমন আছেন? এরা সবাই আমার বাড়ির বাগানের নিয়মিত অতিথি। সাতসকালের মৃদু আলোতে আর দিনান্তের আকাশ রাঙানো মোহময়ী গোধূলি লগনে তাদের হৈচৈ, ব্যস্ততা, সবকিছু গুছিয়ে নেবার তাগিদ নজরবন্দি করতে করতেই দিন কেটে যায় অন্য রকম ভালোলাগায়।



    হাঁড়ি চাচা





    কুবো





    বেনে ব‌উ



    এই ভালোলাগায় কি এবার ইতি ঘটতে চলেছে? সাম্প্রতিক সময়ের কিছু খোঁজখবর এবং প্রতিবেদন কিন্তু এমনটা ঘটায় খুব স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে। আমার এক চিলতে বাগানে নিত্যদিন বেড়াতে আসা এমন অমানুষী সঙ্গীরা যদি সত্যি সত্যিই হারিয়ে যায় তাহলে খুব অসহায় সঙ্গী বিহীন হয়ে পড়তে হবে। আমার প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা থেকে বলতেই পারি যে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। অবশ্য আকাশঝাড়ু বাক্স বাড়ির বাসিন্দা হলে এসব নিয়ে ভাবনা চিন্তা কম‌ করাটাই স্বাভাবিক। আমি তো তেমন ন‌ই। তাহলে এমন বাউন্ডুলে বিষয় নিয়ে ভাবতে বাধা কোথায়? আসা যাক্ সমীক্ষার কথায়।

    ২০২৩ সালের আগস্ট মাসের ২৫ তারিখে The State of India's Birds শীর্ষক রিপোর্টটি প্রকাশ করা হয়। বলাবাহুল্য যে এই রিপোর্টটি প্রকাশ করার পেছনে মোট ১৩টি সরকারি ও অসরকারি পক্ষিপ্রেমী সংস্থার যৌথ কনসোর্টিয়াম এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা পরিচিত পাখিরালয়গুলোর পাশাপাশি অন্যান্য এলাকাতেও প্রায় ৩০ মিলিয়ন পাখির ওপর নজরদারি করে এই চূড়ান্ত রিপোর্টটি প্রকাশ করা হয়। সুতরাং এই গবেষণা রিপোর্টটির সত্যতা বা গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে খুব বেশি প্রশ্ন তোলার অবকাশ যে নেই তা সব স্তরের মানুষের কাছেই মান্যতা পেয়েছে। এই রিপোর্ট অনুযায়ী দেশের ১৭৮ ধরনের পাখিকে বিশেষ সংরক্ষণ ব্যবস্থার আওতায় আনার ওপর জোর দিয়েছেন। এই পাখিগুলো দ্রুত বিলীয়মান ফলে এদের বিশেষ করে সুরক্ষা দেবার কথা বলেছেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা। ঠিক কোন্ কারণে এই বিশেষ প্রজাতির পাখিরা সংখ্যায় এভাবে কমে যাচ্ছে তার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করার জন্য নিবিড় গবেষণায় জোর দিয়েছেন। এইসব পাখিদের মধ্যে খুব গুরুত্বপূর্ণরা হলো সারস ক্রেন, ভারতীয় কাউরজার, আন্দামানের সার্পেন্ট ঈগল এবং নীলগিরি লাফিংথ্রাশ।



    সারস ক্রেন





    ভারতীয় কাউরজার





    আন্দামানের সার্পেন্ট ঈগল





    নীলগিরি লাফিংথ্রাশ



    অর্নিথোলজিস্ট বা পক্ষিবিশেষজ্ঞদের মতে পাখিদের সর্বত্র দেখা গেলেও বাসস্থান হিসেবে তাদের‌ও পছন্দ - অপছন্দ রয়েছে। যেসব পাখি বিশেষ পরিবেশে থাকতে ভালোবাসে সেই সব ধরনের পাখিরাই দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। তুলনায় যেসব পাখি ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশেও দিব্যি মানিয়ে নিতে পারে তাদের অবস্থা তুলনামূলকভাবে খানিকটা হলেও স্থিতিশীল। কিছু পাখির সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে। এদের মধ্যে আছে এ্যাশি প্রিনিয়া, রক পিজিয়ন বা গোলা পায়রা, এশিয়ান কোয়েল এবং ভারতীয় পিফাউল।



    এ্যাশি প্রিনিয়া



    বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, যে সমস্ত পাখিদের সাধারণত খোলা পরিসরে দেখা যায় সেই সমস্ত পাখিরা অপেক্ষাকৃত খোলামেলা পরিসরে থাকতে পছন্দ করে, সেই সব পাখিদের টিকিয়ে রাখা বেশ চ্যালেঞ্জের হয়ে উঠেছে। খোলা ঘাস জমি এবং শুষ্ক প্রায় মরু এলাকায় থাকতে পছন্দ করা পাখিদের সংকট সবথেকে বেশি। বাস্তু পরিবেশের যথেচ্ছ পরিবর্তন পাখিদের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। বছর কয়েক আগেও আমার বাড়ির চারপাশে অনেক ফাঁকা জমি ছিল।বর্ষার জল পেয়ে সেখানে গজিয়ে উঠতো রকমারি গুল্মের ঝোপঝাড়। ন্যাড়া হয়ে যাওয়া ধূসর জমি ভরে উঠতো সবুজ ঘাসে। ঘোষ পাড়ার বৈদ্যনাথ দা তাঁর গরু দুটিকে ঐ মাঠে চরবার জন্য বেঁধে যেতেই কোন্ আশ্চর্য ম্যাজিকের মতো সেখানে এসে হাজির হয়ে যেতো খান কয়েক গাই বগলা। গরুদের সঙ্গে তাদের আত্মিক সম্পর্ক। গোরুর নড়ে চড়ে বেরানোর ফলে প্রচুর পোকা উঠে আসে ঝোপঝাড় থেকে। দুধ সাদা বকের দল সেগুলোকে টপাটপ ঠোঁট দিয়ে ধরে পেটে পুরতো। আমি জানালার গরাদ ধরে দাঁড়িয়ে, তারিয়ে তারিয়ে সেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের দৃশ্য উপভোগ করতাম। এখন সেই ফাঁকা মাঠ জুড়ে কংক্রিটের জঙ্গল মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। ফলে সেই পাখিরাও এলাকা ছেড়ে কোন্ নিরুদ্দেশের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছে কে জানে?

    বাস্তু পরিবেশের এমন নির্বিচারে পরিবর্তন ঘটলে তা অনিবার্য প্রভাব ফেলে ঐ এলাকার আবাসিক প্রাণিদের ওপর। বাসস্থান হারিয়ে দিশেহারা প্রাণি তথা পাখিরা দিশেহারা হয়ে পড়ে। এর প্রভাব পড়ে তাদের সংখ্যায়। এই ঘটনার সবথেকে জোরালোতম উদাহরণ হলো বিলীয়মান গ্রেট ইন্ডিয়ান বাস্টার্ড। হ্যাবিটাট বা বাসভূমির সংকোচন এই পাখিটিকে অস্তিত্বের প্রান্তসীমায় এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।



    গ্রেট ইন্ডিয়ান বাস্টার্ড



    সমীক্ষায় দেখা গেছে যে স্বাভাবিক বনভূমির পরিবর্তে মানুষের তৈরি কৃত্রিম বনভূমি সৃষ্টি করার ফলেও অনেক পাখির জীবন আজ বিপন্ন। প্রাকৃতিক বনভূমিতে বিভিন্ন ধরনের বৃক্ষ,তরু,লতা, গুল্মের যে আশ্চর্য সহবাস লক্ষ করা যায় মানুষের তৈরি প্ল্যান্টেশনে তা থাকেনা। এই পরিবর্তনের জন্য পাখি সহ অন্যান্য কীটপতঙ্গের আবাসিক জীবনে ছন্দপতন ঘটে এবং পাখির সংখ্যায় ঘাটতি দেখা দেয়। এলাকার তালগাছের সংখ্যা কমে গেলে বাবুইয়ের মতো কুশলী পাখি বাসা বাঁধবে কোথায়? উঁচু ফ্ল্যাট বাড়িতে চড়াই পাখিরা বাসা বাঁধার সুযোগ পায়না বলেই এলাকা ছাড়তে থাকে। একসময় তাদের উপস্থিতি বিরল হয়ে যায়।

    বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে দেশের আভ্যন্তরীণ জলাভূমিগুলো আজ গভীর সংকটের শিকার হয়েছে। দেশে জলাভূমি ভরাট না করার জন্য আইনকানুন আছে, তবে তার তোয়াক্কা না করেই জলাভূমি ভরাট করে চলছে অবৈধ নির্মাণ। ফলে জলচর পাখিদের সংখ্যা দ্রুত গতিতে কমছে। পরিচিত জলাভূমির চারপাশে পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নয়নের নামে চলছে যথেচ্ছ কংক্রিটের জঙ্গল নির্মাণ। পাখিদের কাছে তা অপরিচিত ঠেকছে। সাঁতরাগাছির ঝিলে আজ এই কারণেই পরিযায়ী পাখিদের ভিড় নজরে পড়েনা।

    পাখিদের খাবারের বৈচিত্র্যের কথা বলে শেষ করার নয়। মৃত পশুদের পচাগলা মাংস থেকে শুরু করে, কীটপতঙ্গ, জ্যান্ত মেরুদন্ডী প্রাণি, শস্যদানা,ফল, মানুষের তৈরি খাবার – পেট ভরাতে সবেতেই বেশ অভ্যস্ত পাখিরা। তবে এখানেও শুরু হয়েছে প্রবল টানাটানি। বেশ কিছুদিন আগের একটা অভিজ্ঞতার কথা বলি। আমার বাড়ির খুব কাছে যশোর রোডের পাশে বহু পুরনো এক পাকুড় গাছের মাথায় একটি শকুন পরিবার বাস করতো। স্কুলে যাতায়াতের পথে ঘাড় তুলে দুবেলাই ওদের দেখতাম। খবর নিয়ে জেনেছিলাম খানিক তফাতে মিউনিসিপ্যালটির ভাগাড় আছে। ফলে ওদের খাদ্যের তেমন সমস্যা হয়তো হতো না।পরে একদিন ভাগাড়টাকে সরিয়ে ফেলা হলো। তারপর রাস্তা চ‌ওড়া করার জন্য গাছটাকেই বেমালুম কেটে ফেলা হলো। এরপরের পরিণতির কথা বোধহয় বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন নেই।

    বছর কয়েক আগে পড়েছিলাম মৃত পশুর দেহে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক পদার্থ থাকায় সেই মাংস খেয়ে বড়ো সংখ্যক স্ক্যাভেঞ্জার শ্রেণির পাখির মৃত্যু হয়।

    কৃষিজমিতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার পাখিদের জীবনকে নিরন্তর বিপন্ন করে চলেছে। কীটনাশকের ব্যবহারের ফলে পোকামাকড়ের সংখ্যা কমে গেছে। টান পড়ছে পাখিদের খাবারের ভাণ্ডারে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে পৃথিবীর পোকামাকড় কমে গেছে – এমন পরিসংখ্যান আমাদের দেশে না থাকলেও ইউরোপীয় বিজ্ঞানীরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে পৃথিবীর পোকামাকড়ের প্রায় ৪০% কমে যাওয়ায় ইনসেক্টিভোরাস বা কীটপতঙ্গভোজী পাখিদের সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে। তুলনায় ফল এবং মকরন্দ বা পরাগভোজী পাখিদের অবস্থা অনেকটাই ভালো। সম্ভবত এই ধরনের খাবারের ঘাটতি এখনও পর্যন্ত সেভাবে নেই। ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত শহুরে জনপদগুলোতেও এই ধরনের খাবার দুর্লভ হয়ে যায়নি। অবশ্য সব পাখিকে তাদের পছন্দের খাবার ছেড়ে এই খাবার খেতে কখনোই বাধ্য করা যায়না।

    পাখিদের সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমছে এ নিয়ে কোনো মতপার্থক্য নেই। তবে সবক্ষেত্রেই এক কারণ সক্রিয় তেমন‌ও মনে করেননা বিজ্ঞানীরা। অবশ্য বিশ্ব উষ্ণায়ন, জলবায়ুর পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পাখিদের বিচরণক্ষেত্রের চরিত্রের ব্যাপক রূপান্তর বিহঙ্গদের ভবিষ্যতের সামনে বড়ো প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিয়েছে। সারা দুনিয়া জুড়েই চলছে এক যুদ্ধের আবহ। যুদ্ধ কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারে না। একথা মাথায় রেখেই একঝাঁক সফেদ পারাবত উড়ে যাক্ সব আশঙ্কার মেঘকে উড়িয়ে দিয়ে। আমরা এসব নিয়েও একটু ভাবলে ক্ষতি কি!

    আমার বাগানের রাতচরা পাখিটাও যেন তেমন আশায় বুক বেঁধে নাগাড়ে ডেকে চলেছে – ঠিক …ঠিক…ঠিক।


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • প্রবন্ধ | ০১ এপ্রিল ২০২৬ | ২৬২ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • সৌমেন রায় | 2409:40e1:110e:e006:8000::***:*** | ০১ এপ্রিল ২০২৬ ১০:২৫739613
  • মন আনন্দে ভরে গেল পাখিদের গল্প শুনে। এই সময়টি পাখিদের হইচই এ ভরে থাকে চারিদিক। সর্বার্থে বর্ণময় বিহগরা বেঁচে থাক,সুখে থাক।
  • Somnath mukhopadhyay | ০১ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৪০739614
  • টাটকা লেখায় প্রথম মতামত পেলে মন বিলকুল খুশিতে ভরে ওঠে। এ যেন আলো আঁধারির আবছায়া ভোরে দোয়েলের ঘুম জাগানিয়া শিস্। ধন্যবাদ জানাই আপনাকে।
  • Anindya Rakshit | ০১ এপ্রিল ২০২৬ ১২:২৫739618
  • ভালো লেখা। প্রাসঙ্গিকও বটে। তবে, এই সঙ্কটটার ব্যাপারে শিক্ষিত নাগরিকদের বৃহত্তর অংশকেই উদাসীন থাকতে দেখা যায়। গাছপালাপাখির প্রয়োজন তাদের জীবনে হয়তো আর নেই। দুঃখ এই, যে এই সঙ্কটের ভয়ঙ্কর গভীরতা তারা উপলব্ধি করতে পারেন না, অথবা চান না। মনোজ্ঞ এই প্রবন্ধটি লেখার জন্য আপনাকে অভিনন্দন জানাই।  
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:280a:be54:ee92:***:*** | ০১ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৪৭739619
  • পাখিদের এমনিতে সবই ঠিক আছে, কিন্তু ভয়ানক ঝগড়ুটে। কাঠবেড়ালিদের সাথে ঝগড়া করে, নিজেদের মধ্যেও ঝগড়া করে। 
  • Somnath mukhopadhyay | ০১ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:০৭739620
  • একটাই ঢিল -- তিন পাখির উদ্দেশ্যে।
    প্রথমেই নমস্কার জানাই আপনাদের পাখিদের নিয়ে মতামত জানানোর জন্য। 
    @অমিতাভ চক্রবর্তী 
    ধন্যবাদ জানাই আপনাকে। ঈদ বোশেখির আয়োজনের সুর পাছে কেটে যায় ভেবে লেখাটিকে আটকে রেখেছিলাম পরবর্তী কোনো সময়ে পাঠাবো বলে। সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে আশ্বাস পেয়েই পাঠিয়েছি। এটাকে প্রাসঙ্গিক করে তোলার দায়িত্ব এখন অগ্রণী পাঠকদের।
     
    @ অনিন্দ্য রক্ষিত 
    শিক্ষিত নাগরিক বলে আমরা যাঁদের সচেতন ভাবে চিহ্নিত করছি তাঁরা কোনোদিন এইসব বিষয়ে জানতে ভাবতে এবং করতে আগ্রহী বলে মনে হয় না। ব্যতিক্রমী নিশ্চয়ই আছেন তবে তাঁদের কথা আলাদা। শহুরে মানুষের গাছ ,পাখি এসব নিয়ে ভাবতে বয়ে গেছে। সংকট গভীর থেকে গভীরতর হবার আগে আমাদের ভাবতে হবে। ভাবাতে হবে। ভালো থাকবেন সবসময়।
     
    @ ডিসি 
    পাখিদের ঝগড়ুটে বলে মনে হয়? কোন্ পাখিকে ঝগড়া করতে দেখে আপনার এমন সিদ্ধান্ত তা জানালে, ঝগড়া থামাবার চেষ্টা করতে পারি। ভালো থাকবেন।
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:280a:be54:ee92:***:*** | ০১ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:১৫739621
  • কোন পাখি করে না, জিগ্যেস করলে উত্তর দেওয়া সহজ হতো। ছাদে গিয়ে ভাত বা বিস্কুটের গুঁড়ো ছড়ালে প্রথমে এক দল কাক এসে কাঠবেড়ালিদের সাথে ঝগড়া করে, খানিক পর পায়রারা এলে কাক আর পায়রার ঝগড়া শুরু হয়। এছাড়াও ছাতারে আর চড়ুই পাখিরাও পিছিয়ে থাকে না। শুধু খাবার জন্য না, আমাদের ছাদের একধারে একটা বার্ডবাথ আছে, সেখানেও চান করা নিয়ে ঝগড়া হয়। 
  • Somnath mukhopadhyay | ০১ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৩৫739622
  • ওদের স্কুলে ভর্তি করে দিন দাদা, সব ঝগড়া থেমে যাবে।
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:280a:be54:ee92:***:*** | ০১ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৪৩739623
  • ওরা স্কুলে কিছু করতে পারবে না, একদম মনোযোগী না। তার চেয়ে আকাশেই উড়ে বেড়াক নাহয়। 
  • Somnath mukhopadhyay | ০১ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৫৮739624
  • খাঁচায় ভরে বরং আমার কাছে পাঠিয়ে দিন চেন্নাই থেকে। মাস্টারমশাই হিসেবে হিসেবে আমার হাতযশ নেহাৎ কম নয়।
  • সৌম্যদীপ সাহা রায় | 49.37.***.*** | ০১ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৪৮739628
  • খুব ভালো লাগলো লেখাটি পড়ে, খুবই প্রাসঙ্গিক। বিপদগ্রস্ত পাখিদের জন্য বিশেষ যত্ন নেওয়া দরকার। 
  • kk | 2607:fb91:4c8e:c9c3:7cdd:65d5:51ef:***:*** | ০১ এপ্রিল ২০২৬ ২০:১৩739630
  • এই লেখাটা আমার খুব ভালো লাগলো। আমি পাখি দেখতে ও ওদের সম্পর্কে পড়তে খুব ভালোবাসি (Audubon society'র সদস্য)। আমাদের এখানেও অনেক রকম পাখি আসে। ঝগড়ুটে পাখিও আছে আবার খুব বন্ধুবৎসল পাখিও আছে। এদের কাণ্ডকারখানা দেখতে বসলে সারাদিন কোথা দিয়ে কেটে যায়!
  • Somnath mukhopadhyay | ০১ এপ্রিল ২০২৬ ২০:১৭739631
  • সৌম্যদীপ, ধন্যবাদ জানাই মতামত জানানোর জন্য। যাঁরা পাখি দেখতে ও তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসেন তাঁদের পক্ষে এই বিপন্নতার সংবাদ মেনে নেওয়া সত্যিই কষ্টকর। আমাদের এখানেও পাখির সংখ্যা কমছে দ্রুত গতিতে। ওদের বাসস্থান হারিয়ে যাওয়ার ফলে পাখিদের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়ছে। কমছে পাখিদের সংখ্যা। আমরা সচেতনতার প্রসার ঘটাতে পারি, ভালোবাসতে ও অন্যদের ভালোবাসাতে পারি মাত্র। সেই কবে স্কুল জীবনে হেডমাস্টার মশাইয়ের হাতে পরিবেশকে আপন করে নেবার শিক্ষা পেয়েছি, সেই অভ্যাস ছাড়তে পারলাম কই? 
    ভালো থেকো।
  • Somnath mukhopadhyay | ০১ এপ্রিল ২০২৬ ২০:২৫739632
  • অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই kk আপনাকে। এই ভালোবাসার জন্য‌ই আমাদের বয়স এখনও একজায়গায় থমকে দাঁড়িয়ে আছে। ছড়িয়ে পড়ুক লেখাটা আপনার সোসাইটির মানুষজনের মধ্যে। ভালো থাকবেন সবসময়।
  • পৌলমী | 2405:201:8000:b134:71ab:10db:4167:***:*** | ০২ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৩১739642
  • এতো ধরনের বিহঙ্গের সাথে পাঠকদের আলাপনের সুযোগ করে দিয়েছেন বলে সোমনাথ বাবুকে শুভেচ্ছা জানাই। ঈদ বোশেখির পাতায় যত্ন করে এই নিবন্ধটি প্রকাশ করার জন্য গুরুর সম্পাদকমণ্ডলীকেও সমানভাবে পাঠকদের তরফে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। পাখিদের সংখ্যা কমছে জেনে খুব খারাপ লাগছে। সত্যিই তো আমরা এসব কথা নিয়ে একটুও ভাবিনা।এই নিবন্ধটি আমাদের ভাবতে উদ্বুদ্ধ করবে বলে বিশ্বাস করি।
  • Somnath mukhopadhyay | ০২ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:০১739646
  • এই লেখাটা পড়ে যদি কেউ পাখিদের নিয়ে নতুন করে ভাবতে বসে, তাহলে জানবো আমার কলম ধরা সার্থক হয়েছে। লেখাটা ছড়িয়ে পড়ুক।
  • পলি মুখার্জি | 2405:201:8000:b134:71ab:10db:4167:***:*** | ০২ এপ্রিল ২০২৬ ২১:২৭739654
  • উজ্জ্বল একঝাঁক পাখি আর নিটোল গদ্য --দুইয়ে মিলে ঈদ বোশেখীর এক অনুপম উপহার। ধন্যবাদ লেখককে।
    দুঃখ কেবল এদের হারিয়ে যাবার খবরে।
  • Somnath mukhopadhyay | ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৩৬739665
  • ধন্যবাদ জানাই আপনাকে। এরা যাতে হারিয়ে না যায় সেজন্য আমাদের উদ্যোগী হতে হবে। একদম ঘরোয়া পরিবেশ থেকেই এই ভালোবাসা তৈরি হোক।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে মতামত দিন