এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • মর্ত্যের ঊর্বশী, মুহাম্মদ ফজলুল হক 

    Fazlul Huque লেখকের গ্রাহক হোন
    ১০ এপ্রিল ২০২৬ | ৩৪ বার পঠিত
  • মর্ত্যের ঊর্বশী
    মুহাম্মদ ফজলুল হক 

    বিভাগের অনতিদূরে সবুজ-শ্যামল মাঠে মগ্ন হয়ে বসে কেমিস্ট্রির জটিল সমীকরণ আত্মস্থ করছে ঊর্বশী। জটিল হলেও এসব সমীকরণে নিজকে খুঁজে পায় সে। যতক্ষণ না আত্মস্থ হবে ততক্ষণ পড়তেই থাকবে। এই লেগে থাকার কারণে জীবনে প্রেমের অনুভূতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পড়াশোনায় সফল ঊর্বশী। বিভাগে ভালো ফলাফলে সবার উপরে। প্রথম দিকে বন্ধুদের নিয়েই বসেছিল ঊর্বশী। যার যার মত চলে গেলেও উঠছে না সে। উঠার আগে আত্মস্থ করা চাই। সন্ধ্যা বাতি জ্বলে উঠে। চারপাশে তাকিয়ে আবার সে পড়াশোনায় মগ্ন হয়ে যায়। সোডিয়ামের আলোতে পড়তে পড়তে বিরক্ত হয়ে সামনে তাকিয়ে দেখে পুরু আসছে দুইহাতে কফির কাপ নিয়ে।  

    হেসে উঠে ঊর্বশী। ওরে পুরু তোকে নিয়ে আর পারলাম না। এই সময় আমি কফি খাব তুই জানলি কিভাবে?

    পুরু কিছু বলে না। ঊর্বশীর মুখোমুখী বসে ডান হাত বাড়িয়ে কফি কাপ ধরে।
    কুর্ণিশ করার ভান করে কফির কাপ তুলে নেয় ঊর্বশী। 

    পুরুর মন ভালো হয়ে যায়। এতটা সে আশা করেনি। অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে ঊর্বশীর দিকে।
    কোন ক্লান্তি নেই, অবসাদ নেই। এই সন্ধায়ও সে ভোরের মত সতেজ। কারুকার্যময় মুখ। খোলা চুল দুইদিকে ছড়িয়ে আছে এলোমেলোভাবে। যখন ঊর্বশী হাত দিয়ে চুল সরায় তা দেখতে দেখতে পুরুর হৃদয় চুরমার হয়ে যায়।

    পুরুর স্তব্ধতায় জেগে উঠে ঊর্বশী। অবাক হয় সে। সারাক্ষণ তার পিছনে লেগে থাকা পুরু আজ চুপচাপ। 
    ওহে মানব। কথা বলছিস না কেন?
    দেখছি তোকে, তোর তুলনাহীন অপ্সরীয় সৌন্দর্য পর্যবেক্ষণ করছি।
    লাভ নেই। আমার হাত-পা বাধা। 
    এ আবার কেমন কথা। 
    এখানেই কবি নিরব। 

    অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে পুরু। অপূর্ব লাগছে ঊর্বশীকে। কিছু বুঝতে পারে না। তবে কি ঊর্বশী তার প্রেমে সদয় হয়েছে। 
    পড়াশোনা ছাড়া আমার মাথায় কিছু আসে না বন্ধু। আমাকে পরীক্ষায় প্রথম হতেই হবে।
    অবাক করলি ঊর্ব! আর কেউ না জানুক তুইতো জানিস ডাবল স্ট্যান্ড করা ছাত্র আমি। পরীক্ষা ভালো দিলে তুই কেন সমগ্র রসায়ন বিভাগে আমার চেয়ে ভালো নাম্বার কেউ পাবে না।
    অপলক পুরুর দিকে তাকিয়ে ঊর্বশী বলে, ভাব নিস না, আমিও ডাবল স্ট্যান্ড।
    জানি প্রিয়, তোর অবস্থান আমার পরে।
    এই প্রিয় শব্দটি আমার কাছে সবচেয়ে অপ্রিয়। আমি কারো প্রিয় হতে চাই না। আমার নিকট সবার আগে স্বার্থ। আমি জানি পড়াশোনা না করলে ভালো করা যায় না। 
    ঠিক বলেছিস। তবে আমার কাছে ভালোবাসা আগে। ভালোবাসার জন্যই পৃথিবী এত সুন্দর। স্বার্থপরতা যুদ্ধ ডেকে আনে। কখনো শান্তি আনে না।
    রাখ তোর ভালোবাসা। এত মেধা তাহলে পরীক্ষায় 

    প্রথম হোস না কেন?
    হাসালে প্রিয়! ঐ যে বললাম, ভালোবাসা আগে।
    আমি ভালোবাসার কাছে হারতে পছন্দ করি।তাইতো তোর নিকট হেরেও জয়ী হই।
    ঢং। তুই কখনো প্রথম হতে পারবি না।
    তোর কথায় আমি আমার ভালোবাসাকে হারাতে চাই না।
    থেমে যায় ঊর্বশী। পুরুকে আর না চটিয়ে বলে, দোস্ত তুইতো জানিস আমার অবস্থা। প্রথম হওয়া ছাড়া কোন বিকল্প নেই। 
    এতকিছু বুঝতে চাই না। আমি শুধু তোর নিকট হারতে চাই। আমি হেরে সুখী। তুই প্রথম হয়ে সুখী হ। তাহলেই আমরা ভালো থাকব।
    হেরে গিয়ে সুখীর হওয়ার মহানুভবতা বাদ দে। পরীক্ষায় ভালো কর। এটাও চাই আমি।
    তুই চাইলে আলেকজেন্ডার মত সমগ্র পৃথিবী জয় করব আমি।
    তা পরে হবে। এখন চল, খেতে হবে। 
    এ কথা বলে উঠে দাঁড়ায় ঊর্বশী।
    পুরু বসেই থাকে। বসে বসে ঊর্বশীকে দেখে দেখে মুগ্ধ হয়। 

    আরে উঠ না বাবা, বলে ঊর্বশী পুরুর দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়। 
    পুরু অবাক হয়। হাত ধরে না।
    ওরে আমার ভালোবাসা। হাত ধরতে যার এত  দ্বিধা সে আমাকে ধরবে কিভাবে?
    অবিশ্বাসের ভঙ্গি করে পুরু ধীরে ধীরে হাত বাড়ায়। 
    ঊর্বশী পুরুর হাত ধরে জোড়ে টান দেয়। সেই টানে দাড়াতে গিয়ে পুরু ঊর্বশীর গায়ের উপর পড়ে।
    নিজকে সামলানোর আগেই পৃথিবীর সমস্ত সুখ পুরুর উপর ভর করে। ঊর্বশীর শরীরের স্পর্শ ও গন্ধে আনমনা হয়ে যায় সে।
    হতভম্ব হয়ে যায় ঊর্বশী। পুরুর শরীরের ছোঁয়ায় এত ভালোলাগা কেন!
    দ্রুত সামলে নেয় নিজেদের। যেন কিছুই হয়নি। নীরবে পাশাপাশি হাটতে শুরু করে। কিছুদূর যাওয়ার পর হাতের ইশারায় রিক্সা থামায় পুরু।
    মামা, নিলক্ষেত।
    ঊর্বশী এখনো নিজকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। হেমন্তের হিমেল হাওয়ায় ঘেমে ঊঠছে সে। ছিছি।
    কি ভাববে পুরু!
    রিক্সায় বসে নিরবতা ভেঙ্গে ঊর্বশী বলে,

    তুই কি মহাভারতের ঊর্বশী-পুরুর কথা শোনিসনি?
    না। 
    বুদ্ধু আমার! এই জন্যই আমার পিছনে লেগে আছিস।

    শোন তাহলে, ঊর্বশী, অতিশয় সুন্দরী স্বর্গের অপ্সরা। সে চিরযৌবনা, স্বাধীন ও প্রেমের প্রতীক হলেও প্রেমে সচেতন। মর্ত্যের রাজা পুরুরবা আবেগপ্রবণ ও গভীর প্রেমিক। প্রেমের জন্য সব করতে প্রস্তুত। একদিন ঊর্বশী স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে আসে। রাজা পুরুরবা তাঁকে দেখেই তাঁর প্রেমে পড়ে। ঊর্বশীও পুরুরবার প্রেমে সাড়া দেয়। সে জানত এই প্রেম স্বর্গের নিয়ম বহির্ভূত। তবু তিন শর্তে পুরুরবার সঙ্গে থাকতে রাজি হয়। পুরুরবা কখনো নগ্ন অবস্থায় ঊর্বশীর সামনে আসবে না। ঊর্বশীর প্রিয় ভেড়ার কোনো ক্ষতি হলে পুরুরবা তাদের রক্ষা করবে। সে প্রতিদিন ঘি-ভাত ছাড়া অন্য কিছু খাবে না। এই শর্তে তাঁরা সুখে থাকে। তাঁদের মধ্যে প্রেম ছিল। ছিল ভয় ও অনিশ্চয়তা।
    দেবতাগণ তাদের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি। এক রাতে তাঁরা কৌশলে ভেড়া চুরি করে। ভেড়ার ডাক 

    শুনে পুরুরবা তড়িঘড়ি করে বেরিয়ে পড়ে নগ্ন অবস্থায়। ঠিক সেই মুহূর্তে দেবতা বজ্রপাত ঘটায়। আলোয় ঊর্বশী পুরুরবার নগ্ন দেহ দেখে। শর্ত ভেঙে যায়। ঊর্বশী সঙ্গে সঙ্গে স্বর্গে ফিরে যায়।
    পুরুরবা পাগলের মতো ঊর্বশীকে খুঁজে ফিরে।
    কোন এক জলাশয়ে ঊর্বশী তাঁকে দেখা দিয়ে বলে, আমি স্বর্গের। মর্ত্যের মানুষের সঙ্গে আমার স্থায়ী বন্ধন হয় না। তাঁদের মিলন অসম্পূর্ণই থেকে যায়।"

    এক নিঃশ্বাসে বলা শেষ করে পুরুর দিকে তাকায় ঊর্বশী। পুরুর চোখে-মুখে বিষাদ। সে মামাকে রিক্সা থামাতে বলে। রিক্সা থামলে ঊর্বশীকে কিছু না বলেই নেমে দ্রুত উল্টো দিকে হাটতে শুরু করে। কি করবে বুঝতে পারে না ঊর্বশী। চোখের আড়ালে চলে যাচ্ছে পুরু। তাড়াতাড়ি রিক্সা থেকে নেমে পুরুর পিছনে দৌড়াতে শুরু করে। পুরু, পুরু বলে ডাকে। কোন সাড়া না দিয়ে চলে যায় সে।

    ঊর্বশী জানত, সে অন্যরকম। এই জানাটাই ছিল তার অপরাধ। সে খুব বেশি স্বপ্ন দেখত না। 

    সংসার, বিয়ে, একসঙ্গে বুড়ো হওয়া। এই জাতীয়  শব্দ তার ভেতরে আলো জ্বালাত না। সে বরং মুহূর্তে বাঁচতে চাইত। সকালে জানালার ধারে দাঁড়িয়ে আলো দেখত। বিকেলে কফির কাপে ধোঁয়া, রাতে একা হাঁটা। তার কাছে ভালোবাসা মানে ছিল সুখ তবে সুখে আটকে থাকা নয়।

    পুরুর সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল খুব সাধারণভাবে।
    ভর্তির প্রথম দিনে ডিপার্টমেন্টের করিডোরে। পুরু তখন হাসছিল। ঊর্বশীর মনে হয়েছিল এই ছেলে হাসলে নিজের ভেতরের সবটা খুলে দেয়। সেই খোলা ভাবটাই তাকে টেনেছিল। প্রথম দিকে ঊর্বশী খুব সাবধান ছিল। সে স্পষ্ট করে বলেছিল, আমি চিরদিনের প্রতিশ্রুতি দিতে পারি না। পুরু হেসে বলেছিল, ভবিষ্যৎ তখন দেখা যাবে।
    ঊর্বশী বুঝেছিল, এই কথার মধ্যে আশ্বাস আছে। আছে অস্বীকারও। তবু সে থামেনি। কারণ সে পুরুকে মনে মনে ভালোবেসে ফেলেছিল। সত্যি ভালোবেসেছিল। তা কখনো বুঝতে দেয়নি পুরুকে। সারাক্ষণ বন্ধুর মত আচরণ করত। পুরু যে তাকে ভালোবাসে একথা সে বহুবার জানিয়েছে 

    ঊর্বশীকে। সে অস্বীকার করত। অস্বীকার করলেও পুরুর সব পাগলামি উপভোগ করত। তাতে পুরু নির্ভর করত তার উপর।

    তারা একসঙ্গে চলত। পড়াশোনা করত। সিনেমা দেখত। শেষ বিকালে হাঁটত। সন্ধা-রাতে চা খেত। পুরু তাকে নিয়ে ভবিষ্যৎতের পরিকল্পনা করত। ঊর্বশী সব শুনত। মাথা নেড়ে সায় দিত। নিজের ভেতরে কিছু জমতে দিত না। সে জানত, কোনো একদিন তাকে চলে যেতে হবে। ঊর্বশীর বড় ভয় ছিল কারো জীবনের কেন্দ্র হয়ে যাওয়া। সে ভালোবাসতে পারত। আশ্রয় দিতে পারত না। নিজেও কারো আশ্রয় হতে চাইত না।

    পুরু খুব সাধারণ ছেলে। তার স্বপ্ন পরিষ্কার। ভালোবাসা মানে একসঙ্গে থাকা। একসঙ্গে ভবিষ্যৎ গড়া। সুখেদুখে পাশে থাকা। পরস্পরকে ভাগ করে নেওয়া। সম্মান, শ্রদ্ধা, ভক্তি অটুট রেখে সম্পর্ক আকড়ে ধরে পথচলা। সে বিশ্বাস করত যত্ন নিলে সব ঠিক হয়ে যায়। ঊর্বশীকে প্রথম দিন থেকেই নিজের মতো করে ভাবতে শুরু করেছিল। 

    সে শুনেছিল ঊর্বশীর কথা। বিশ্বাস করেনি। মনে হয়েছিল সবাই প্রথমে এমনই বলে। পুরু ধীরে ধীরে ঊর্বশীকে নিজের জীবনের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছিল। সে খেয়াল করেনি ঊর্বশী কখনোই তাকে আটকে রাখেনি। কখনো বলেনি এখনই আসো। কখনো অভিযোগ করেনি। এমন স্বাধীনতা পুরুর ভেতরে অস্বস্তি তৈরি করেছিল। সে একদিন বলেছিল, তুমি আমাকে ঠিকমতো চাইছ না।
    ঊর্বশী উত্তরে বলেছিল, আমি যেভাবে পারি, সেভাবেই চাই। ঊর্বশীর এমন স্বাধীনতা পুরু বুঝতে পারেনি।

    পৌরণক গল্প বলে ঊর্বশী তাকে সব স্পষ্ট করে দিয়েছে। এমন আচরণে স্তব্ধ হয়ে যায় পুরু।নিজকে নিয়ে ভাবতে বসে সে। মনে হয় তার কোন ত্যাগই স্পর্শ করছে না ঊর্বশীকে। সে সিদ্ধান্ত নেয় পড়াশোনায় মন দিবে। সামনের সেমিস্টারে প্রথম হতেই হবে। সে যে পারে এটা সে উপলব্ধি করুক। ঊর্বশীকে নিয়ে তার কত পরিকল্পনা। সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু ঊর্বশী। পুরু ঠিক করে রেখেছিল অনার্সে সে দ্বিতীয় আর ঊর্বসী প্রথম হবে। 

    মাস্টার্সে ঊর্বশীকে চমকে দিয়ে সে প্রথম হবে। তার মনে পরিবর্তন আসে। এখন কাউকে ছাড় দিবে না। এত ভালোবেসে কি হবে যদি ভালোবাসার মূল্য কেউ উপলব্ধি না করে। 

    ঊর্বশী উপলব্ধি করতে পারে না গল্প শুনে পুরু কেন তাকে ভুল বুঝল। গল্পের কথা সত্যি মনে করে নিশ্চয়ই কষ্ট পাচ্ছে। সেওতো মনেপ্রাণে ভালোবাসে পুরুকে। তা কি বুঝতে পারে না সে। সব বুঝেও কেন আজ পুরু এমন করল! তার ডাকে সাড়া না দিয়ে চলে গেল। আসলে দোষ তারই। নিজের দ্বিচারিতা গল্পের মাধ্যমে সে হয়ত বুঝাতে চেয়েছিল। কষ্টে হৃদয় ভারী হয়ে উঠে। সে সিদ্ধান্ত নেয় আর কষ্ট দিবে না পুরুকে। পুরুকে কষ্ট দিলে সেই কষ্ট তার নিজের মধ্যে ফিরে আসে। এটাই কি তবে ভালোবাসা?

    অনার্সের ফলাফল পাওয়ার উন্মাদনা মুহূর্তেই এক শান্ত আবেশে রূপ নিল। প্রথম হয়ে পুরুকে জড়িয়ে ধরে ঊর্বশী। পুরু আমার জীবনের প্রথম স্বপ্ন সফল হয়েছে। আমি জানি এক্ষেত্রে তোর 

    অবদান অনেক। আমার দ্বিতীয় স্বপ্ন তুই মাস্টার্সে প্রথম হবি। মুচকি হেসে পুরু বলে, তৃতীয় স্বপ্ন?
    পুরুর হাসি দেখে ঊর্বশীও হেসে উঠে বলল, নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করতে যাব একসাথে। 
    না-গো, অপ্সরা। তার আগে আমার প্রথম স্বপ্ন পূরণ করতে হবে। 
    কিছু না ভেবেই ঊর্বশী বলে, বল, তোর স্বপ্ন কি?  আজই আমি তা পূরণ করব।
    চল, আমরা বিয়ে করে ফেলি।
    আজ! এখনই!
    ইয়েস, অতিশয় সুন্দরী, স্বর্গের অপ্সরা ঊর্বশী।
    চিরযৌবনা, স্বাধীন, প্রেমময় হয়ে মর্ত্যের ঊর্বশী হও।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিচেনা ভবনের নীচে দাঁড়িয়ে পুরু যখন হুট করেই বিয়ের প্রস্তাব দিল, ঊর্বশীর চোখে তখন প্রথম হওয়া আনন্দের চেয়েও বড় এক প্রাপ্তির ঝিলিক। সকল দ্বিধা পিছনে ফেলে সমর্পিত হওয়ার আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে শরীর ও মনে। লাল বেনারসি নেই। নেই কোনো 

    জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন। ঊর্বশীর পরনে ছিল নীল পাড়ের সাদা শাড়ি। পুরুর চোখে অদম্য বিশ্বাস। ভালোবাসার অকৃত্রিম আকুলতা। 

    ​কাজী অফিসে কলম ধরার সময় ঊর্বশীর হাত কাঁপছিল। সে কি তবে পৌরাণিক ঊর্বশীর মতো কোনো শর্তে আটকা পড়ছে? 
    পুরু তার হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে কানে কানে বলল, এখানে কোন শর্ত নেই প্রিয়। আছে শুধু ভালোবাসা, প্রেমের স্বাধীনতা। স্বাক্ষর শেষে ঊর্বশী বুক ভরে শ্বাস নিল। তার ভয় নিমিষেই মিলিয়ে গেল। বিবাহের কার্যক্রম সম্পন্ন করে আসার সময় গোধূলির আলোয় ঊর্বশীকে অপার্থিব সুন্দর লাগছিল। পুরু পকেট থেকে এক গুচ্ছ বকুল ফুল বের করে ঊর্বশীর এলোমেলো চুলে গুঁজে দিয়ে বলল, আজ থেকে তুমি আমার প্রথম হওয়া শ্রেষ্ঠ পুরস্কার।

    ​ঊর্বশী হাসল। সে বুঝল, কারো জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া মানে হারিয়ে যাওয়া নয়। বরং নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাওয়া। জনাকীর্ণ 

    রাজপথে হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে দুজনে অনুভব করল, আজ থেকে তাদের পড়াশোনা, পিএইচডির স্বপ্ন এবং জীবনের পথচলা সবই এক সুতোয় বাঁধা। রঙিন বাসর শয্যার মাধ্যমে শর্তহীন ভালোবাসার নতুন কেমিস্ট্রি শুরু হলো সেদিন থেকে। 

     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল মতামত দিন