এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  স্মৃতিকথা  শনিবারবেলা

  • সেই দিন সেই মন - পর্ব এক

    অমলেন্দু বিশ্বাস
    ধারাবাহিক | স্মৃতিকথা | ১৫ মার্চ ২০২৫ | ২৪৩৩ বার পঠিত | রেটিং ৪.৫ (৪ জন)

  • ছবি: রমিত

    শুরুর কথা


    যে তৈলাক্ত পদার্থ প্রদীপকে জ্বালিয়ে রাখে সে পদার্থের যোগানি ক্রমশ কমে আসছে ; প্রদীপের আলো আস্তে আস্তে নিভে আসছে। মনে হচ্ছে একদিন হঠাৎই প্রদীপ আর আলো দিতে পারবে না। সে দিন কবে জানি না। ছিয়াশী বছর পার করে মনে হলো এক সাধারণ জীবনের টুকরো টুকরো কিছু ঘটনা, কিছু অবিশ্বাস্য কাহিনী, কিছু কাকতালিয় যোগাযোগ, কিছু চিন্তা ভাবনা লিখে রেখে যাই। স্বাচ্ছল্য থেকে দারিদ্র্য, ব্যর্থতা থেকে সাফল্য, আনন্দ দুঃখ বেদনা বিচ্ছেদ, প্রেম ভালোবাসা, উত্থান পতন, মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা, সব মিলে এ এক বর্ণময় জীবন। কেউ হয়ত দেখবে না এ লেখা, কেউ হয়ত শুনবে না এ কাহিনী। তবু আমার উত্তরসূরীদের জন্য রেখে গেলাম এই অভিজ্ঞান। যদি কোনো অলৌকিক ঘটনাচক্রে কোনো উত্তরসূরী বা উৎসাহী কোনো মানুষ এ-লেখা আবিস্কার করে তা হলে সে আমার জীবনের শরিক হবে; আমাকে নতুন কোন আসরে পৌঁছে দেবে।
    এ লেখা যখন শুরু করেছিলাম তখন শুধু নিজের জন্যই লিখছিলাম। আমিই এর একমাত্র পাঠক। সময়ে সময়ে পাতা উল্টে পুরানো দিনের চিন্তা ভাবনা ও ঘটনার রাজ্যে বিচরণ করার সুযোগ পাব বলে। কোনদিন যে এ লেখা অন্য কেউ দেখবে তা ভাবিনি। অনেক কাল পরে যখন মাঝে মাঝে জীবনের কিছু কিছু ঘটনা পৌত্র পৌত্রীকে গল্পচ্ছলে শোনাচ্ছিলাম তথন পুত্র বুবাই (অংশুমান) বলল আমি এ সব কথা লিখে রাখছি না কেন, যাতে বড় হয়ে ওরা পড়তে পারে। তারপর ওরই পুনঃপুনঃ তাগিদে নতুন উদ্যোগে লিখতে শুরু করলাম। ভাবলাম কত কিছুই তো হয়েছে আমার জীবনে, লিখে রেখে যাই ওদের জন্য। লেখার গুরুত্ব পরিবর্তিত হল।
    নিজের জন্য লেখা, যা বাক্সবন্দী থাকবে, তাতে যা মনে হয় তাই লেখা যায়। পাঠক যখন পুত্র ও উত্তরসূরিরা হতে পারে তখন লেখায় সেই লাগাম-ছাড়া ভাব থাকে না আর। তারপর প্রস্তাব এলো এটাকে ছাপার অক্ষরে প্রকাশ করার। তার অর্থ আমার সকল কর্মকান্ড উন্মোচিত হয়ে যাবে পৃথিবীর আপামর জনতার কাছে। আমার জীবনের কথা আর ‘রবে না গোপনে’। আমার জীবনের খঁটিনাটি কেউ জানে না। আমার সমগ্র ‘আমি’কে একাধারে কেউ দেখেনি। জীবনের সব ঘটনা, সকল আলো অন্ধকারের দিনগুলো জনসম্মুখে তুলে ধরা সহজ নয়। এটি কঠিন কর্ম --- প্রচুর সাহসের প্রয়োজন। আমার সে সাহস আছে কি ?



    ছিয়াশী বছর বয়সে লেখক


    এক এক জনের কাছে আমি এক এক রকমের মানুষ ; এক একরকম পরিবেশে আমার প্রকৃতি এক এক রকম। জীবনে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আমার বিভিন্ন পরিচয়, ভিন্ন ভিন্ন সময়ে আমার ভিন্ন ভিন্ন রূপ। কোন এক সমেয়ের ছবি আমার সমগ্র জীবনের প্রতিচ্ছবি নয়।

    স্মৃতিচারণ আর আত্মজীবনী এক নয়। স্মৃতিচারণে জীবনের এ্যালবাম থেকে ছবি বেছে নেওয়া যায় – পছন্দের মত ছবি জনসমক্ষে তুলে ধরা যায় নির্দ্বিধায়। কিন্তু আত্মজীবনীতে স্মৃতিচারণ ছাড়া আরও কিছু আছে: জীবনের সব ঘটনার সৎ বিবরণ। এর অর্থ আমার অন্দরমহলে অজানা অচেনাসহ অন্য সকল পরিচিত মানুষের প্রবেশাধিকার দেওয়া। বুদ্ধদেব বসুর কথায় বলি ‘যাহা ব্যাক্তিগত, তাহাই পবিত্র' এই পবিত্রতা রক্ষার দায়িত্ব আমারই। আজ আমি স্বেচ্ছায় নিজেকে সেই দায়িত্ব থেকে মুক্তি দিলাম।

    এ লেখা এক চিত্র প্রদর্শনী। টুকরো টুকরো জীবনের খন্ড খন্ড ছবি পর পর সাজানো। কোন ধারাবাহিক ইতিহাস নয়। তবু দিনলিপির মত একটা ক্রমবর্ধমান ধারা আছে; তবে ঘটনাগুলো সর্বদাই তাদের পারস্পারিক সম্পর্ক অনুযায়ী বর্ণিত, সময়ের অগ্রপশ্চাৎ বিবেচনা করে নয়। এক সুতোয় ছোট বড় নানা ঘটনার মালা গাঁথা। এ শুধু ঘটনার বিবরণ নয়, এ লিপি হৃদয়ের কলতান; যে গান মনের মধ্যে বেজেছে তার অনুরণন।

    আমার আগে যাঁরা


    যতদূর জানা যায় তাতে মনে হয় ত্রৈলোক্য মোহন বিশ্বাস আধুনিক বিশ্বাস বংশের প্রথম পুরুষ। ইনিই গোকুলপুর গ্রামে বিশ্বাস পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা। ছোটবেলায় দেখলাম পুরান বড় বাড়ির সঙ্গে আরো একটা অংশ তৈরী হল বা সংস্কার করে বৃহত্তর করা হল। এটা হল নতুন বৈঠকখানা। শেষ জীবনে দাদু সুরেন্দ্র মোহন এই অংশেই থাকতেন ও শেষ নিশ্বাস নিয়েছিলেন। মনে পড়ে এই নতুন বাড়ির এক স্থম্ভে শ্বেত পাথরের উপর কালো অক্ষরে লেখা ছিল আনন্দ ভবন। আনন্দ মোহন আমার পূর্ব পুরুষের নাম। তাঁর নামেই এই অংশটির নামকরণ। এই পাথরের ফলকটি আমি ছোট কাল থেকে দেখে এসেছি অন্তত আমারচল্লিশ বছর পর্যন্ত। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ সেটি আর দেখতে পাই না। কোথাও হারিয়ে গেছে, যেমন অন্তহৃত হয়েছ বই পত্র ও অন্যান্য দুর্লভ সামগ্রী। বাড়ির সামনেই ছিল বিরাট ঠাকুর বাড়ি, প্রায় দু-তিনতলা উঁচু। আমি যখন দেখেছি এ বাড়ি তখন ভগ্নপ্রায়, ছাদ ফেটে বৃস্টির জলে নস্ট হয়েছে ঘরের দেওয়াল, এখানে ওখানে ছোট ছোট গাছ জন্ম নিচ্ছে। বিশাল প্রশস্ত ঠাকুর দালান ছাড়াও অনেক গুলো ঘর ছিল পূজার বিভিন্ন বিভাগে ব্যবহারের জন্য। আর ছিল দোতলায় মহিলাদের বিশ্রাম ও পর্যবেক্ষনের জন্য যথেস্ট পরিসর। এটি মূলত: তৈরী হয়েছিল দুর্গাপূজার জন্য। কিন্তু এখানে কখনো পূজা হয় নি। শুনেছি প্রতিমা গড়ে পূজার দিনে এ পরিবারের কোনো একজনের মৃত্যু হয়। তারপর থেকে এখানে আর কোনো দিন পূজা হয় নি। এক অভিশপ্ত অট্টালিকার কঙ্কাল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি বহুকাল। বাদুড়, পাখি, সরীসৃপদের বাসস্থান হয়ে পড়ে ছিল। রাত্রে প্রহরে প্রহরে তক্ষক সাপের ডাক শোনা যেত।

    দুর্গা পূজা বন্ধ হয়ে গিয়ে ছিল কিন্তু খুব ঘটা করে মনসা পূজা হত। মনসা তলায় মনসা গাছের নীচে বাধানো চত্বর ছিল। সেখানে প্রতি বছর পূজা হত। গ্রামের অনেক লোকেরা আসত পূজা দেখতে, দেবীর পায়ে অর্ঘ্য দিতে, দেবীর প্রসাদ নিতে। শ্বেতশুভ্র ছাগ বলি হত। ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি আমাদের বাড়ীর দালানের দেওয়ালে একটি চকচকে সাদা ইস্পাতের খড়্গ ঝোলানো থাকত। এটা প্রচণ্ড ভারি, মাথাটা অর্ধ চন্দ্রাকার। চলতি ভাষায় আমরা বলতাম ‘খাঁড়া’। এই অস্ত্রই দেখা যায় কালী মূর্তির হাতে। মনসা পূজার দিনে এই খড়্গ দিয়েই ছাগ বলি হত। ঢাক ঢোল কাঁসর বাদ্যের কর্ণবিদারক শব্দেরর মধ্যে বলি হত। মুচি পাড়া থেকে অধর আসত বলি দিতে। খড়্গ সিঁদুর চন্দন মাখিয়ে পুরহিত মশাই পূজা করে শুদ্ধ করে দিতেন। অধর সেই খাঁড়া দিয়ে বলির বেদিতে রাখা পশুবলি করত। এ প্রথা আমার যৌবন পর্যন্ত আমি দেখেছি। একদিন পশুবলি উঠে গেল। ইদানীং লাউ কুমড়ো ইত্যাদি বলি দেওয়া হয়। মনে হয় আমি ইংল্যান্ডে আসার আগে পর্যন্ত আমি এই খড়্গটি দেখেছি। তারপর এটি উধাও হয়ে যায়। খোঁজ করে জানতে পারিনি কোথায় গেল।

    আমার দাদুকে বেশ ভাল মনে আছে। দাদু দীর্ঘায়ু ছিলেন, এক শত বছর এ ধরাধামে জীবন কাটিয়ে দেহ রেখেছিলেন। দাদু ছিলেন সুপুরুষ এবং সৌখীন। আমি যখন দেখেছি বার্ধক্য তখন দাদুকে ছুঁয়েছে। ধবধবে ফর্সা পক্ককেশ কালোপাড় শান্তিপুরী ধুতি পাঞ্জাবীতে ভূষিত সেই মানুষটিকে দেখলে আপনিই শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসে।
    মায়ের কাছে দাদুর গল্প শুনেছি। দাদুর যখন বয়স পনেরো-ষোল তখন পিতা আনন্দ মোহন পরলোকগমন করেন। দাদু বংশের জ্যেষ্ঠ সন্তান ও উত্তরাধিকারী। ভায়েরা সব অল্পবয়সী নাবালক। একান্নবর্তী পরিবারের দায় দায়িত্ত্ব ও রক্ষণাবেক্ষণের গুরুভার দাদুর উপরেই। সেই সঙ্গে জমিদারি ও তার তত্বাবধান। বিত্তবান অল্পবয়সী জমিদারের তথাকথিত শুভাকাঙ্ক্ষী ও উপদেস্টার অভাব হয় নি। আমাদের সে সময় কলকাতার ট্যাংরা অঞ্চলে একটি বড় বাগানবাড়ি ছিল। বাড়িটি প্রধানত: জমিদারের বিনোদনের জন্যই বব্যহৃত হত। মোসাহেবের অভাব ছিল না --- তাদের নিয়ে নাচ গান বাজনার আসর বসতো। সেই বাড়ি দেখাশুনাআর জন্য এক দম্পতি ছিল। বাবা তাদের বাগানের খুড়িমা বাগানের খুড়ো বলতেন। দাদুর সঙ্গে বেশী নগদ টাকা থাকত না। নাচ গানের আসরে বখশিস বা মুজরো দেওয়ার দরকার হলে বাগানের খুড়োর কাছ থেকে তৎক্ষণাৎ টাকা নিতেন। টাকা দিয়ে খুড়ো এক টুকরো কাগজ দিত এগিয়ে দাদুর দিকে। দাদু তখন আসরে মশগুল, সরল মনিবের মত সেই কাগজে সই করতেন। কিছুকাল পরে সেই বাগানের খুড়ো খুড়িমা বাগান বাড়িটা দখল করে নিল। অজুহাত দিয়েছিল দাদু নাকি অনেক টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। প্রমান স্বরূপ তদের কাছে দাদুর সই করা কাগজগু্লো আছে।
    অথচ আশ্চর্য কথা যে বাবা যখন কলকাতায় পড়াশুনা করতে আসেন তখন বাবা এই বাড়িতেই থাকতেন। দুষ্কর্মের জন্য বুঝি একটু অনুতাপ হয়ে ছিল বা অন্য কোনো দুরভিসন্ধি ছিল। পড়াশুনা শেষ হলে যথা সময়ে বাবা বিবাহ সূত্রে আবদ্ধ হলেন। শ্বশুরালয় হাওড়ায়। বিয়ের পর গোকুলপুর যাওয়ার পথে খুড়ো মশায়ের আমন্ত্রণে এক রাত্রি যাপন করলেন সেই বাড়িতে। রাত্রে খুড়িমা বলল, “বৌমা, গয়নার বাক্সটা দাও। আলমারীতে তুলে রাখি। “ মায়ের কত বয়সে বিয়ে হয়েছিল জানিনা। তবে সেকালের রীতি অনুযায়ী মনে হয় অল্প বয়সী কিশোরী বধু। মা গয়নার বাক্স তুলে দিলেন খুড়িমার হাতে, সরলা বাধ্য মেয়ের মত। তাছাড়া সেই সময় স্বামীর খুড়িমার মুখের উপর ‘না’ বলার সাহস ছিল না সদ্য বিবাহিতা কিশোরী বধুর। বলা বাহুল্য, মা সে বাক্স আর ফিরে পায় নি – খুড়িমা অস্বীকার করেছিল।

    সেজদাদু ছোড়দাদুকে দেখেছিলাম, এখনো আবছা আবছা মনে পড়ে। শুনেছি ছোড়দাদু আমাকে খুব ভালবাসতেন। একবার কোলে তুলে নিলে আর ছাড়তেন না । মেজদাদুকে আমি দেখিনি। মেজদাদু অন্য ভাইদের থেকে একেবারে আলাদা ছিলেন, দেখতে শুনতে আচারে ব্যবহারে সব বিষয়েই। ঋজু দীর্যকায় সুস্বাস্থ্য মানুষটি ছিলেন দৃঢ চরিত্রের। কঠোর ও শক্ত হাতে জমিদারি শাসন করতেন। আমার দাদু নরম প্রকৃতির, শান্তি প্রিয় মানুষ ছিলেন, জমিদারি চালাবার মত কুশলতা ও কঠোরতা ছিল না। মেজদাদু স্বইচ্ছায় এই গুরু দায়িত্ব তুলে নিয়েছিলেন। তিনি ডাক্তার ছিলেন, কিন্তু কোথায় পড়াশুনা করেছিলেন বা কি ধরনের ডাক্তার ছিলেন, অনেক খোঁজ খবর করেও তার কোনো সূত্র পাইনি। তিনি ঘোড়ায় চলে যাতায়াত করতেন আর প্রায় সর্বক্ষণই তাঁর সঙ্গে থাকত একজন রক্ষী। সঙ্গে থাকত একটি গুপ্তি – এক ধরনের ছড়ি যার ভিতরে লুকানো থাকত সরু তরবারির মত অস্ত্র। ঘোড়া আমি দেখিনি। তবে মনে পড়ছে আস্তাবলের ধ্বংসাবশেষ দেখেছিলাম।

    মেজদাদুর দেহবসান খুবই দুঃখজনক। আমাদের তিনটে পুকুর ছিল ( এখনো আছে )। বাড়ীর পিছনের দরজা দিয়ে নেমে এক পা এগিয়েই পুকুকের ঘাট। এটা বাড়ীর পুকুর, একান্তিক পারিবারিক। অন্তপুরবাসিনীদের জন্য – চারিদিক গাছ গাছাড়ী দিয়ে ঘেরা – বাইরে থেকে পুকুর দেখা যায় না। কিছুদূরে আর একটা ছোট পুকুর ছিল। এ পুকুরের সর্বত্র বালি, এমন কি নীচেও। এর গভীরতা কম, স্বচ্ছ জল, পুকুরের নীচের সমতল পরিস্কার দেখা যায়। এর জল মিস্টি – গ্রামবাসীরা কলসি ভরে নিয়ে যেত পানীয়র জন্য। তৃতীয় পুকুরটা হল বড় পুকুর। এটা প্রায় এক মাইল দূরে, পনের কুড়ি মিনিটের পথ। আমরা বলতাম বড়বাগান – একটা বিশাল বটগাছ ছিল, আর অনেক আম গাছ, আর ছিল জাম-জাম্রুল-কাঠাল-লিচু-আমলকি-বেল ইত্যাদি ফলের গাছ। এর মাঝখানে এক বিরাট পুকুর, ইঁট-সুরকি দিয়ে গাথা সান বাধানো ঘাট। পুকুরে অনেক মাছ – রুই-মৃগেল-কাতলা। বিশ্বাসদের বড়বাগান এ অঞ্চলের দিক নির্নয়ের নিশানা। এই বড়বাগান দাদুদের গর্ব ও বড় প্রিয়।

    এক গভীর রাত্রে একজন হন্তদন্ত হয়ে এসে মেজদাদুকে বলল – “মেজবাবু, একদল লোক এসে পুকুরের সব মাছ চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। আপনি তাড়াতড়ি চলুন।“ শুনে দাদু রক্ষী ও বাড়ীর লোকজনকে ডাকতে লাগলেন। লোকটা দাদুকে তোসামুদি ভঙ্গিতে বলল, “অত লোকজন লাগবে না। আপনি একাই চলুন। ওরা আপনাকে দেখলেই ভয়ে পালাবে। “
    কথাগুলো নিশ্চয়ই মেজদাদুর ইগোকে উদ্দীপিত করেছিল। উনি লোকটার কথা বিশ্বাস করেছিলেন অথবা বলা যায় ওঁর ইগো লোকটার কথা বিশ্বাস করতে চেয়েছিল। মেজদাদু একাই শুধু গুপ্তিটা হাতে নিয়ে অশ্বারোহে বাগানের পথে এগিয়ে গেলেন। বাগানের ভিতরে যখন এসেছেন তখন আমগাছের উপর থেকে ঝপ ঝপ করে মেজদাদুর উপর ঝাপিয়ে পড়ল আততায়ীরা, হাতে ছোরা-ছুরি। পরের ঘটনা অবর্নণীয়। ভূতলে রক্তাক্ত দেহ।


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • ধারাবাহিক | ১৫ মার্চ ২০২৫ | ২৪৩৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Naresh Jana | ১৫ মার্চ ২০২৫ ১৮:৫১541712
  • আহা! লিখে যান। আমি যেন আমার ছোট বেলা দেখছি। অবশ্য সেটা আমার মামাবাড়ি। বড় পুকুর, বাগান পুকুর আর খিড়কি পুকুর। ঠিক এমনি আমার বড় দাদা মশাই ছিলেন নির্লিপ্ত আর মেজদাদুই সামলাতেন ক্ষয়িষ্ণু সাম্রাজ্য। বহুৎ খুব। আপনাকে প্রণাম।
  • Diptimoy Roy | ১৬ মার্চ ২০২৫ ১৪:৩০541730
  • পরের গুলোর অপেক্ষা করছি .
  • তপতী বিশ্বাস। | 27.*.*.* | ১৭ মার্চ ২০২৫ ০৮:৩৩541744
  • অসাধারণ! কি ভালো যে লাগলো বলে বোঝাতে পারব ন। চোখের সামনে যেন সব কিছু দেখছি।.. কবি অমলেন্দুদাকে চিনি অনেক অনেক দিন ...কিন্তু এত চমৎকার গদ্য লেখেন জানা ছিল না।.. কি সাবলীল গতি।... পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম অধীর ভাবে..
  • Arijit Biswas (Rana) | 27.*.*.* | ১৭ মার্চ ২০২৫ ১৭:২২541751
  • কি চমৎকার লেখা অমলেন্দু দা ! অনেকদিন বাদে এত সুন্দর লেখা পড়লাম। যেন ছবি পড়ছি। সবটাই দেখতে পেলাম। পরের পরিচ্ছেদের জন্য অত্যন্ত উৎসুক হয়ে অপেক্ষায় রইলাম !
  • বুলু | 2401:*:*:*:*:*:*:* | ১৭ মার্চ ২০২৫ ১৭:২৪541752
  • বড়দা দ্বিতীয় পুকুর টার নাম বালি পুকুর। খুব ভালো লাগছে। পুরো টা জানা ও পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।
  • Amalendu Biswas | 2a02:*:*:*:*:*:*:* | ১৭ মার্চ ২০২৫ ২৩:৪৬541759
  • লেখক
    বলতে ভুলে গেছি . আমরা বোলতাম গোলপুকুর . এই পুকুরে মাছ ধরতাম আর স্নান করতে যেতাম . খুব ভাল লাগলো তোরা সকলে পড়ছিস . ভবিষ্যতে আরো কিছু ভুলে গেলে দেখিয়ে দিস .
  • Soumi BiswasMukherjee | ২৫ মার্চ ২০২৫ ০৯:২৬541903
  • অনেক অজানা গল্প জানতে পারছি জ্যেঠু, ভীষণভাবে সব গল্প টা জানতে ইচ্ছা করছে।
    ছোটবেলায় বড়ঠাম্মি যখন গোকুলপুর আসতো, তখন শুনেছি অনেক গল্প। কিন্তু তখন আমি অনেক ছোটো হওয়ায় সেসব এখন আর মনে নেই বিশেষ।
    তবে তোমার লেখা থেকে অনেক নতুন কিছু জানতে পারছি, আমার পরিবারের বিষয়ে।
    খুবই রোমাঞ্চকর।
    পরের অধ্যায়ের অপেক্ষায় থাকলাম।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। বুদ্ধি করে প্রতিক্রিয়া দিন