এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • পষ্ট কথা

    Anindya Rakshit লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৬৮ বার পঠিত
  • যে ভাষার জন্যে এমন হন্যে,
    এমন আকুল হলাম
    সে ভাষায় আমার অধিকার 
    এ ভাষার বুকের কাছে মগ্ন আছে আমার অঙ্গীকার।" 
     
    ধর্ম দেশ ভাষা জাত বর্ণ সম্প্রদায়, এগুলোর মধ্যে ভাষা আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে আপনার। মায়ের ভাষা আমার কাছে মায়েরই প্রতিচ্ছবি। 
     
    মায়ের ভাষায় ভালোবাসি, রেগে যাই, কাঁদি, হাসি, ঘেন্না পাই, নতুন কিছু শিখি, অভিমান করি, ভুল বুঝি, ভুল শোধরাই। যন্ত্রণার আর্তিও সেই মায়ের ভাষায়। প্রার্থনাও। দাবি-দাওয়া, অভিযোগ, খিস্তি... প্রতিদিন পরিণত হতে হতে নিজের ক্রমশ কমতে থাকা জীবনকাল উদযাপন... সেই ভাষা-মায়ের কোলেই তো... 
     
    তাই, মায়ের ভাষার ওপর আক্রমণ, আমার চোখে, মায়ের ধর্ষণ হওয়ার সমতুল। 
    এই আক্রমণ চলতে দেখেও নীরব থাকা, যেন বিছানার কাছেই একটা স্টুল টেনে নিয়ে বসে মায়ের ধর্ষণ দেখা। 
    আর এই আক্রমণকে উৎসাহ দিয়ে আক্রমণকরীদের মদত দেওয়ার মানে, মায়ের ধর্ষকদের ভায়াগ্রা সরবরাহ করা। 
     
    বর্তমানে, গোবলয়ের নেতাদের পায়ুলেহী কিছু পদ্মফুলী নেতা, বৈদ্যুতিন প্রচার মাধ্যম, আর তথাকথিত বুদ্ধিজীবী ঐ শেষোক্ত কাজটা করে চলেছে। এতে অবশ্য তাদের স্বার্থ আছে। তারা তাদের প্রভুদের থেকে এই ন্যক্কারজনক কাজের বিনিময়ে প্রচুর অর্থলাভ করছে। এক এক জনের আঙুল ফুলে আরাবল্লী হয়ে উঠেছে। এই শ্রেণির মানুষদের 'গ্লোরিফায়েড পিম্প' বললে অত্যুক্তি হবে না। তবে, পিম্পরাও নিজেদের মায়ের সওদা করে বলে মনে হয় না। সেই অর্থে, এরা পিম্পদের চেয়েও নিকৃষ্ট। এই ধরণের মানুষ (?) অবশ্য আগেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। 
     
    আমার বয়স হয়েছে। পেশীগুলোতে আর যৌবনের সেই তেজ, সেই দার্ঢ্য নেই। কিন্তু চোয়ালের হাড় আর দাঁতগুলো এখনও সতেজ আছে। তার ওপরে, এক কামড়ে কেমন করে গলার নলী ছিঁড়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে রটওয়েলারের কাছ থেকে ট্রেনিংপ্রাপ্ত। কাজেই, আমার মায়ের ধর্ষকদের আমি ছেড়ে দেবো না। আমার মতো করে লড়াই চালিয়ে যাবো। 
     
    কথাগুলো শুনে হয়তো মনে হবে আমি ইনসেন অথবা ভাট বকছি। জোর গলায় ঘোষণা করছি, হ্যাঁ, আমি ইনসেন! এক ধরণের গোদা শয়তানি সুপরিকল্পিতভাবে প্রয়োগ করে আমার মায়ের ভাষাকে প্রতিদিন মলেস্ট করা হচ্ছে, রেইপ করা হচ্ছে। এই ভাষায় কথা বলার অপরাধে জঘন্য অত্যাচার প্রতিদিন হয়ে চলেছে দরিদ্র, খেটে খাওয়া, পেটের তাগিদে অন্য রাজ্যে গিয়ে বসবাস করা মানুষগুলোর ওপরে। অথচ আমরা জানি, যে কোনো ভারতীয়, ভারতের যে কোনো রাজ্যে বসবাস করতে পারে। সেই অধিকার ভারতের সংবিধান তাকে দিয়েছে। এই সব দেখার পরেও স্যানিটি দেখানোটা, আমার মতে, হয় ইনস্যানিটি নয়তো কাওয়ার্ডিস। 
     
    হয়তো আমাকে এই কথা বলা হবে, হিংসা কোনো সমাধান নয়। তা সদাই ধ্বংসাত্মক। এর উত্তরে বলবো, এক একটা সময় এমন আসে যখন ধ্বংস প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে নতুন সৃষ্টির জমিন তৈরির জন্য। 
     
    আমি সেই সব মানুষদের দলে থাকি না যারা টি-শার্টের বুকে চে-র ছবি ঝুলিয়ে নিজেদের যুগপৎ 'বীরপুরুষ' আর 'আ্যভো গ্যাঁদ' ভেবে শ্লাঘা বোধ করে। আর জীবনচর্যায়, মাতৃস্তন্য ছেড়েই বান্ধবীর স্তনবৃন্ত, এবং অবশেষে, বৌয়ের স্তনবৃন্ত আশ্রয় করে দিনাতিপাত করে।
     
    চে আমার টি-শার্টের বুকের ওপরে থাকেন না, থাকেন টি-শার্টের ভেতরে, বুকের গভীরে কারণ উনিও তথাকথিত 'সুস্থ' সমাজের নিরিখে 'ইনসেন' ছিলেন। আর এই ইনস্যানিটির মূল্যও চুকিয়েছিলেন নিদারুণ যন্ত্রণার কারেন্সিতে। 
     
    এসব কথা যাদের কাছে 'ভাট বকা' বলে মনে হচ্ছে তারা নিশ্চিতভাবে উইকেন্ডে মাতৃধর্ষণের পিপ শো-এর অগ্রিম টিকেট কেটে রাখে। আর মাসে মাসে ডিশের টাকা পে করে, সোফায় বসে, ছাপ্পান ইঞ্চি টিভির স্ক্রিনে, গোদি মিডিয়ায় দেখানো, মাতৃধর্ষণের স্বপক্ষে উচ্চারিত যুক্তি শুনে সায় দিয়ে শিং আর মাথা নাড়ে। 
     
    যদি মনে হয়, এই গেরিলা মনোভাব আসলে অপরিণামদর্শিতা, গোবলয়ের নেতারা এটাই চাইছে, এই জন্যই ওরা পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া বাধানোর চেষ্টা করছে যাতে এরকম কিছু হলেই এই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে দিতে পারে, তাহলে বলতে হয়, এরকম কিছু না হলেও ওরা আমার মা-কে ছেড়ে কথা বলবে না। ওদের উদ্দেশ্য, আমার ভাষা-মাকে ওদের বাঁদী বানানো, তাই আমার লক্ষ্য, ঐ বনেদি জারজগুলোর কন্ঠনালী। 
     
    যদি মনে হয়, ভোটবাক্সে এর সমুচিত জবাব দেওয়া যাবে তাহলে বলি, আমার মতে, সেই সম্ভাবনাও অতি ক্ষীণ। এই রাজ্যে জবাব দেওয়া গেলেও সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে সেই আশা সুদূরপরাহত। অর্থাৎ , ভাষার নিরিখে আমার মায়ের ভাষাকে হেয় করা, তাকে ব্যাক ফুটে রাখার প্রয়াস চলতেই থাকবে। 
     
    এটাকে উস্কানিমূলক বিবৃতি মনে হলে আমার কিছু করার নেই। তবে, আমার বক্তব্যের স্বপক্ষে বলতে পারি, আমি কাওকে উস্কাচ্ছি না। আমার বক্তব্যের সাথে একমত হতেও বলছি না। আমার মনোভাব ব্যক্ত করছি মাত্র। তবে কেউ যদি আমার বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হন তো তাঁকে নিবৃত্ত করার বিষয়ে আমি অসহায়। আমি, নেতা হিরো বা শহিদ, কোনোটাই হতে চাই না। কিন্তু মাতব্বরি আর গোদা শয়তানি দেখলে মাথা ঠিক রাখতে পারি না। প্রয়োজনে, সচেতনভাবে কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে ফেলি। তখন মগজকে ক্লোজ করে আবেগের কম্যান্ডে কাজ করি, পরিণতির কথা না ভেবেই। 
     
    পরিশেষে জানাই, আজকের সংবাদপত্রে একটা সংবাদ চোখে পড়ল। বনগাঁ পুরসভার অন্তর্ভুক্ত খয়রামারির একটা বাড়িতে ১৬ জন যুবক ভাড়া থাকে যারা উত্তর প্রদেশ থেকে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ওদের চলে যেতে বলেছেন। বাংলার বাইরে বাঙালিদের ওপরে অযথা অত্যাচারের প্রতিবাদ হিসেবেই এটা করা হচ্ছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। ওনাদের আমার সেলাম জানাই। 

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • :|: | 2607:fb90:bd27:cd8c:7da9:957b:cd10:***:*** | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০২:০২737627
  • বেচারা উলুখাগড়া। শেষ প্যারার প্রেক্ষিতে। 
  • Anindya Rakshit | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:২২737631
  • :|: আপনার মন্তব্যে মনে হচ্ছে ঐ ১৬ জন উত্তর প্রদেশের মানুষের কথা বলছেন। ওরা নিঃসন্দেহে উলুখাগড়া। তাহলে পশ্চিমবঙ্গের বাইরে বসবাসকারী অত্যাচারিত বাঙ্গালি শ্রমজীবীরা কী ? 
  • :|: | 2607:fb90:bd27:cd8c:7da9:957b:cd10:***:*** | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:২৭737633
  • কে যেন বলেছিলেন যান আই ফর এন আই মেকস দ্য হোল ওয়ার্ল্ড ...
  • :|: | 2607:fb90:bd27:cd8c:7da9:957b:cd10:***:*** | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:২৯737634
  • যান এন আই  
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:85cc:e974:26ac:***:*** | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪৭737635
  • আমার কাছে ভাষা তেমন গুরুত্বপূর্ণ না। আমি ভাষাকে স্রেফ একটা টুল হিসেবে দেখি, অন্য একজন মানুষের সাথে কমিউনিকেট করার মিডিয়াম হিসেবে দেখি। আমি প্রয়োজনে যেকোন ভাষা শিখে নিতে পারি, কিছুদিন ব্যবহার না করলে যেকোন ভাষা ভুলে যেতে পারি, সে বাংলা, ইংরেজি, তামিল, হিন্দি, জার্মান, চীনে ইত্যাদি যে ভাষাই হোক না কেন। ভাষা আবিষ্কার হওয়ার পর থেকে হাজার হাজার ভাষা এসেছে, হারিয়ে গেছে, ক্রমাগত পাল্টেছে। আমরা এখন যে ইংরেজি বা বাংলা বা তামিল ভাষা ব্যবহার করি, তা একশো বছর আগে খানিকটা অন্যরকম ছিল, একশো বছর পর আবার খানিকটা অন্যরকম হয়ে যাবে। কাজেই ভাষা নিয়ে আমার সেরকম মাথাব্যথা নেই। 
     
    আর হ্যাঁ, উত্তর প্রদেশের যুবকদের খবর জেনে আমারও খারাপ লাগলো। আমার মতে পৃথিবীর যে কোন জায়গায় যে কেউ গিয়ে থাকতে পারে। লোকাল লোকজন বাইরে থেকে আসা লোকজনদের উত্যক্ত করলে তাতে আল্টিমেটলি সবারই ক্ষতি। 
  • Anindya Rakshit | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৫৫737639
  • dc
    বস্তুবাদী এই দুনিয়ায় শুধু ভাষাকে কেন, অন্য মানুষকেও শুধু টুল হিসেবে দেখা হয়। পরস্পরকে স্রেফ ব্যবহারের জন্য কম্যুনিকেট করা হয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। 
     
    "আমি প্রয়োজনে যেকোন ভাষা শিখে নিতে পারি" - অন্য ভাষা শেখার ক্ষেত্রে মাধ্যম হিসেবে কোন্ ভাষার সাহায্য নেন ? 
     
    "উত্তর প্রদেশের যুবকদের খবর জেনে আমারও খারাপ লাগলো" - উড়িষ্যা বা উত্তর প্রদেশের বা মহারাষ্ট্রের বাঙালি নির্যাতনের খবর শুনেও নিশ্চই খারাপ লেগেছিল, আশা করি। কিন্তু সেটা তো প্রকাশ করলেন না ? 
     
    ভাষার রূপ সময়ের সঙ্গে বদলায়, একথা সবারই জানা, কিন্তু সেজন্য তার গুরুত্ব বদলায় বলে আমার অন্তত জানা নেই। কাজেই একশো বছর আগে বাংলা ভাষা কেমন ছিল, একশো বছর পরে কেমন হবে, বা আদৌ থাকবে কি না, সে কথা এখানে অপ্রাসঙ্গিক বলেই আমার মনে হয়। যে ভাষা আমাকে পরিণত করেছে, যে ভাষায় ভর করে অন্য ভাষার সঙ্গে পরিচিত হতে পেরেছি, তার সমকালীন রূপটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ভাষা নিয়ে আপনার মাথাব্যথা না থাকতে পারে, কিন্তু আমার আছে। ধরে নিচ্ছি আপনি আন্তর্জাতিকতাবাদী। আমি আন্তর্জাতিকতাবাদী কি না তা আপনি জানেন না। জানার প্রয়োজন নেই। কবীর সুমনের কথায় বলি, "দরকার হলে আমি খুব প্রাদেশিক"। 
  • নবীন | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:০২737640
  • dc বলেছেন দেখছি : আমার মতে পৃথিবীর যে কোন জায়গায় যে কেউ গিয়ে থাকতে পারে। 

    সত্যি পারে কি ? পৃথিবীর যে কোনো জায়গার কথা বাদ দিলাম , ভারতের অন্যান্য স্টেটে ওয়েস্ট বেঙ্গল থেকে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিক শ্রেণীর ওপর যে আক্রমণের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে দেখেছি সংবাদপত্র গুলিতে সেগুলোর নজিরবিহীন নির্মমতা চোখে পড়ার মত। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই বাঙালি শ্রমিকটি ঘটনাস্থলে বা হাসপাতালে মারা গেছেন । এখনও অব্দি এই আক্রমনগুলির টার্গেট খেটে খাওয়া শ্রেণীর মানুষজন, প্রবাসী বাঙালী বুদ্ধিজীবীরা যারা দামী বহুতলে , কোম্পানির কোয়ার্টারে বা রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বাউন্ডারি ওয়ালের মধ্যে থাকেন । তারা নিরাপদেই আছেন বলা যায়। কিন্তু ভবিষ্যতে তাঁদের ওপরও যে আক্রমণ হবে না একথা কে বলতে পারে ? 
    প্রশ্ন হতে পারে এর পরিপ্রেক্ষিতে বাঙালির রেসপন্স কী হওয়া উচিত ? স্যোশাল মিডিয়া জুড়ে শান্তির ললিত বানী প্রচার করে ইউএসএ কেন ভেনেজুয়েলা আক্রমণ করল সেই চর্চায় ডুবে থাকা ?

    ছোবল না মারতে চাইলেও মাঝে মাঝে ফোঁস করার দরকার আছে বলেই মনে করি । এই উত্তর প্রদেশ থেকে আসা যুবকদের ক্ষেত্রে স্থানীয়রা যা করেছেন সেটা ওই ফোঁস করার পর্যায়েই পড়ে। এটা যদি ন্যাশনাল মিডিয়া কভারেজ পায় তাহলে বাইরের স্টেটের কিছু হিন্দি ভাষী হনুরা  অন্তত জানবে যে ভারতে ওয়েস্ট বেঙ্গল বলে একটা বাংলা ভাষাভাষী স্টেট আছে, বাংলা বললেই বাংলাদেশী বলে দাগিয়ে দেওয়ার প্রশ্নে । 

    নতুন ভাষা প্রয়োজনে শিখতে পারাটা নিঃসন্দেহে খুব ভাল একটা ক্ষমতা । তবে কিছুদিন দরকার না পড়লে যেকোনো ভাষা এমনকি মাতৃভাষা এবং সেই ভাষা সংক্রান্ত জাতিসত্ত্বা বিস্মৃতির অতলে বিসর্জন দিয়ে বসে থাকার বিষয়টা নিয়ে কতটা গর্ব করা যায় সেটা তর্কযোগ্য ।
     
  • নবীন | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:০৫737641
  • জাতিসত্তা*
  • Anindya Rakshit | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:০৭737642
  • :|: "কে যেন বলেছিলেন যান আই ফর এন আই মেকস দ্য হোল ওয়ার্ল্ড ..." তাহলে আর কি... যে আপনার আই উপড়ে নেবে, তাকে ঐ তত্ত্বকথা স্মরণ করে ক্ষমা করে অন্ধের জীবন কাটাবেন, আর সে ব্যটা দিব্যি আর একজনের আই খুঁজে বেড়াবে উপড়ে নেবার জন্যে।  
     
    কতো লোকেই তো কতো কথা বলে গেছেন। কিন্তু সব কথার সবসময়ে সমান গুরুত্ব থাকে কি ? বোধহয় থাকে না। থাকলে, রবি ঠাকুর 'প্রশ্ন' কবিতাটা লিখতেন না। 
  • Anindya Rakshit | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:১২737643
  • নবীন আমি আপনার সঙ্গে সম্পূর্ণ সহমত। আর, আমার বক্তব্যে আমিও শুধু ফোঁস করেছি। ছোবলাই নি। 
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:85cc:e974:26ac:***:*** | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৩২737644
  • "অন্য ভাষা শেখার ক্ষেত্রে মাধ্যম হিসেবে কোন্ ভাষার সাহায্য নেন"
     
    ইংরেজির সাহায্য নি। হায়দ্রাবাদে কয়েকবছর ছিলাম, তখন অফিসের সহকর্মীদের থেকে খুব অল্প কিছু তেলেগু শিখেছিলাম, মানে দু চারটে তেলেগু শব্দ। তারপর চেন্নাইতে এসে সেটল করে গেছি, এখানে তামিল ভাষা শিখতে গিয়ে প্রথমদিকে ইংরেজির সাহায্যে, তারপর তামিলেই শিখেছি। এখন তো নানারকম অ্যাপ বেরিয়েছে। আমার মেয়ে জার্মান শিখছে ডুওলিংগোতে ইংরেজির মাধ্যমে। আর ফ্রেঞ্চ শিখছে তার এক সহপাঠী বন্ধুর থেকে, যে মালয়ালি, কাজেই ওরা মালয়ালিতে কথা বলে। কাজেই, নানা ভাষার মাধ্যমে অন্য ভাষা শেখা যায়। আমাকে যদি কখনো ইংরেজি বা বাংলা ভাষা ভুলে যেতে হয় তো তেমন কোন দুঃখ থাকবে না। 
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:85cc:e974:26ac:***:*** | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৩৫737645
  • "ভাষা নিয়ে আপনার মাথাব্যথা না থাকতে পারে, কিন্তু আমার আছে"
     
    এতে আমার কোন অসুবিধে নেই। আপনি আপনার মত ব্যাক্ত করেছেন, আমি আমার মত ব্যাক্ত করেছি। আন্দাজ আপনা আপনা। 
     
    আমি কি আন্তর্জাতিকতাবাদী? জানিনা, তবে নানা দেশ বা জায়গা ঘুরতে, সেখানকার খাবার খেতে, সেখানকার লোকজনকে দেখতে আমার খুব ভাল্লাগে। কোন দেশ বা কোন জায়গাকেই আমার নিজের বলে মনে হয়না, যেকোন দেশে বা জায়গাতেই গিয়ে থাকতে পারি।  
  • Anindya Rakshit | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৫৫737647
  • dc 'Mother' শব্দটা্র মানে জীবনে প্রথমবার কোন ভাষার সাহায্যে বুঝেছিলেন ? ইংরেজি, তামিল, না তেলগু ? 
    কথাটা 'তেলেগু' নয়, 'তেলগু'। তেলেঙ্গানার মানুষদের ভাষা। 
     
    "কোন দেশ বা কোন জায়গাকেই আমার নিজের বলে মনে হয়না" - আমিও বিভিন্ন কাজে এদেশের বিভিন্ন প্রদেশে থেকেছি। সেখানকার মানুষদের সঙ্গে মিশেছি। কিন্তু শেকড় ঐ বাপের ভিটেতেই ছিল। চাদ্দিকে ডালপালা মেলেছিলাম মাত্র। 
  • নবীন | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:০০737648
  • "আপনি আপনার মত ব্যাক্ত করেছেন, আমি আমার মত ব্যাক্ত করেছি"
     
    'ব্যাক্ত' নাকি 'ব্যক্ত' ? আমি তো 'ব্যক্ত' বলেই জানতাম !
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:85cc:e974:26ac:***:*** | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:০৩737649
  • 'মাদার' শব্দটার মানে কি, সেটা এখনও ঠিক জানিনা। আমার মা আছে, সে হলো গিয়ে আমার মা। আর কাউকে আমি মা ভাবিনা। আপনি কি মাদার ইন্ডিয়া টাইপের কিছু বলছেন? তাহলে বলতে পারবো না, কারন আমি নিজেকে ইন্ডিয়ান বা বাঙালি মনে করিনা। আমি স্রেফ একটা লোক, যে এখন চেন্নাইতে থাকি, তার বেশী কিছু না। 
     
    আমার চেনা দুয়েকজন যারা তেলেগু, তারা তো "তেলেগু"ই বলে, তেলগু বলে না। অবশ্য আমি ভুল হতে পারি, দুয়েকজনের স্যাম্পল সাইজ খুবই কম। 
     
    শেকড় কাকে বলে জানিনা। আমার বাবা-মার বাড়ি ছিল কলকাতায়, সেটা বিক্রি করে দিয়েছি (মা, আমি, আর বৌ তিনজন মিলে ডিসিশান নিয়েছিলাম), সুযোগ পেলে চেন্নাইএর বাড়ি বিক্রি করে অন্য কোথাও চলে যাবো। বা মেয়েকে দিয়ে চলে যাবো, মেয়ে সেটা নিয়ে কি করবে সেটা তার ব্যাপার।  
  • Anindya Rakshit | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৩৩737651
  • dc "'মাদার' শব্দটার মানে কি, সেটা এখনও ঠিক জানিনা। আমার মা আছে, সে হলো গিয়ে আমার মা। আর কাউকে আমি মা ভাবিনা। আপনি কি মাদার ইন্ডিয়া টাইপের কিছু বলছেন?" - আপনি বুঝতে বোধহয় একটু ভুল করছেন। আমি অত জটিল প্রশ্ন করি নি। শুধু জানতে চেয়েছিলাম, জীবনে প্রথমবার যখন 'Mother' বা 'Father' এই ধরণের ইংরেজি শব্দগুলোর সাথে পরিচিত হয়েছিলেন তখন এগুলোর মানে বুঝতে কোন ভাষার সাহায্য নিয়েছিলেন ? 
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:5066:dfd8:cb1c:***:*** | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৪০737652
  • ওহো! সেটা মনে নেই, তবে বাংলা ভাষার সাহায্য মনে হয়। অবশ্য এটা আন্দাজে বললাম, অতো ছোটবেলার কথা মনে নেই। আমার ছোটবেলায় দাদু টিসকোতে কাজ করতো আর আমার মামা বাড়ি ছিল জামশেদপুরে, তাই হিন্দিও হতে পারে। 
  • Anindya Rakshit | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:০০737655
  • dc I see... 
  • Ripon | 43.23.***.*** | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:৩৩737656
  • টপিকটা টক্সিক ।
     Anindya Rakshit  আর নবীনদের রিভেঞ্জ-চাই মেন্টালিটি টক্সিক । 
    নবীন বেচারাকে যেভাবে dc পাত্তা দিল না সেটাও টক্সিক । 
    ব্যক্ত ✔
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভেবেচিন্তে মতামত দিন