এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • ছায়া ও মুখশ্রী 

    albert banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ৭৪ বার পঠিত
  • 0 | 1
     চরিত্রদের নিয়ে একটি সতর্কবাণী

    এখানে যেসব চরিত্র আসবে—বেশ্যালয়ের নর্তকী মিলা, গ্রামের জেলে, শহরের রিকশাওয়ালা, ট্যাক্স অডিটে জর্জরিত একাউন্টেন্ট, সুপারশপের আলোয় নিশ্চুপ এক গৃহিণী—তাদের কাউকেই ‘পিটিশ’ ভেবে পড়ো না। তারা কোনো আদর্শের মূর্তি নয়। তাদের দুর্বলতা আছে, দ্বিধা আছে, স্ববিরোধ আছে। তারা ভালো-মন্দের ঊর্ধ্বে—তারা শুধু আছে। আর তাদের এই ‘থাকা’টাই সমাজের জন্য অস্বস্তিকর।

     শেষে...

    ‘ছায়া ও মুখশ্রী’ পড়তে গিয়ে হয়তো তুমি বারবার বিরক্ত হবে, থেমে যাবে, বা বইটি দূরে ছুড়ে ফেলতে চাইবে। তেমন করো। থেমে যাও। বিরক্ত হও। কারণ এই বিরক্তিই বইটির প্রাণ। আর যখন আবার ফিরে এসে পড়বে, তখন হয়তো খুঁজে পাবে—কোনো এক পৃষ্ঠায়, কোনো এক উদ্ধৃতিতে—তোমার নিজের মুখের একটি অস্পষ্ট প্রতিবিম্ব। যে মুখ তুমি প্রতিদিন আঁকো মোবাইলের ফিল্টারে, সমাজের প্রত্যাশায়, বা শুধু বেঁচে থাকার নামে।

    এটাই হয়তো এই বইয়ের একমাত্র ‘লুট’—নিজের মুখটাকে চিনতে পারা।

    যে মুখ হয়তো কখনোই সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হবে না। 
    তবু তাকেই হয়তো বলা যায় মুখশ্রী। 

    বইটি উৎসর্গিত: 
    সব Faceless-দের—যারা নামহীন, পরিচয়হীন, কিন্তু যাদের কণ্ঠ আজও ধ্বনিত হয় নীরবতার আড়াল থেকে।

    ছায়া ও মুখশ্রী 
    লেখক:
    অ্যা লবার্ট সিরাজ ব্যানারর্জি

     অধ্যায় ১: নোটিফিকেশনের জগৎ
     ছায়া ও মুখশ্রী 
    জেগে ওঠা। চোখের পাতা জুড়ালো লাগা। মাথার ভিতর ভারী কিছু। বিছানার ডানপাশে হাতড়ানো। ঠাণ্ডা, মসৃণ গ্লাসের স্পর্শ পাওয়া। আঙুলের শিয়রে এক ঝাঁকুনি। সেলফোনের স্ক্রিন জ্বলে উঠা। অন্ধকার ঘরে কটা দাগ কাটা।

    একের পর এক নোটিফিকেশন ভেসে আসা। লাল ফোঁটা ফোঁটা। তিনটা... পাঁচটা... আটটা। সকাল ছ’টা এখনো। কে এত সকালে? কে জানে? অ্যাপগুলো জানে। সার্ভারগুলো জানে। দূরের কোনো ডাটা সেন্টারে বসে কেউ জানে।

    স্ক্রলে আঙুল দেওয়া। নিচে নামা। নামতেই থাকা। হাতের মুঠোয় ধরা বিশ্বটা ছোট হতে হতে শুধু ছ’ইঞ্চির স্ক্রিন হয়ে যাওয়া। উজ্জ্বল ছবি। ঝলমলে ভিডিও। থাম্বনেইলগুলো কারো নিখুঁত জীবনের টুকরো। "তোমার জন্য রেকমেন্ডেড।" "তুমি যা মিস করছো।" "তোমার বন্ধুরা যা কিনছে।"

    একটা ডেনিমের শার্ট দেখতে পাওয়া। ফ্যাডেড, পুরোনো দেখাতে, যদিও নতুন। দাম দেখে চোখ কপালে ওঠা। গায়ের চামড়ায় ঘাম ঠাণ্ডা হয়ে আসা। তবু আঙুল স্লাইড করানো। "কার্টে যোগ করুন" বাটনে ক্লিক করা। খালি ঝুড়িতে এক টুকরো তৃপ্তি যোগ করা। মনের ভিতর কোনো জায়গা ভরছে না, তবু করা।

    আরেকটা ভিডিও। সমুদ্রের জল। এত নীল যে চোখে ব্যথা করে। প্রকৃতির চেয়েও বেশি নীল। মনকে নীল করে দেওয়া। আত্মাকে নীল করে দেওয়া। কমেন্টস পড়া: "ওহো কত সুন্দর!" "লাইফ গোল!" "ওয়ান ডে মুস্ট গো!" সবাই একই কথা। সবাই একই শব্দ। সবাই একই ইমোজি।

    বুঝতে পারা গভীরে। পেটের নিচে গর্তটায়। এই জিনিসগুলোর কোনো দরকার নেই। তবু আঙুল আটকে থাকা স্ক্রিনে। সকালবেলা থেকে ব্রেনওয়াশ শুরু করা। মগজ ধোলাই। সাবান-পানির মতো সহজ।

    উঠে দাঁড়ানো। পায়ের তলায় মার্বেল ফ্লোর ঠাণ্ডা লাগা। জানালার পাশে যাওয়া। নাইলনের কাঁচের বাইরে শহর। ধোঁয়াশা লাগানো আকাশ। নিচে রাস্তায় মানুষ। তাদের হাতেও একই উজ্জ্বল পর্দা। তাদের মুখ। মুহূর্তে মুহূর্তে বদলানো ভাব। ফোনে কিছু পড়ে হাসি। ঠোঁটের কোণ টান হওয়া। তারপর মুখ গম্ভীর করা। ভ্রু কুঁচকানো। কারো মেসেজ? কারো খবর? নাকি আরেকটা অফার?

    তাদের চোখের নিচে কালি পড়া। স্ক্রিনের আলোয় পোড়া রাতের ছাপ। নজরদারির ক্লান্তি। নিজেকে সব সময় দেখানোর ক্লান্তি। "লুক কী সুন্দর লাগছে!" "আজকের আউটফিট।" "ব্রাঞ্চ করলাম।" কিন্তু চোখে কী আছে? একটা ফাঁকা ভাব। একটু সাদা চাউনি। যেন প্রশ্ন করছে: "আমি কি আসলে এখানে আছি? এই প্লেটের সামনে? এই কফির কাপে চুমুক দিতে?"

    মুখের ভাব পড়ার চেষ্টা করা। এই শহরে আমার একমাত্র কাজ। প্রকৃত পেশা নয়। একটা বাধ্যতামূলক অভ্যাস। একরকম নেশা। একরকম শাস্তি।

    সামাজিক যোগাযোগের অ্যাপে স্ক্রল করা। বন্ধু-বান্ধব, পরিচিত, অচেনা- ফটো। মুখের পোজ। কৃত্রিম হাসি। দাঁত বের করা। ক্যাপশনে লুকানো কান্না: "জীবন সুন্দর।" "কষ্টে আছি, তবু হাসছি।" রেস্টুরেন্টের প্লেটে খাবারের ছবি। কফির ফোমে আঁকা হার্ট। কিন্তু চোখে, চোখের গভীরে সেই সাদা চাউনি। সেই একই প্রশ্ন।
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    0 | 1
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Ripon | 43.23.***.*** | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:০৬737599
  • 'ছায়া ও মুখশ্রী’ পড়তে গিয়ে হয়তো তুমি বারবার বিরক্ত হবে'
    --------একদম না, পড়তে যাবোই না 
     
    ফ্যাডেড -> ফেডেড 
     
    'কফির ফোমে আঁকা হার্ট। কিন্তু চোখে, চোখের গভীরে সেই সাদা চাউনি। সেই একই প্রশ্ন।'
    ---এটা ভাল হয়েছে 
  • albert banerjee | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:৫৯737632
  • ভাই Ripon না ভালো লাগলে একদম পড়বেন না। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই মতামত দিন