এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • অধ্যায় ৪: নৃত্যের হল

    albert banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ৬০ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • 0 | 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | 7
    রাত নামা। শহরের নিওন আলো জ্বলা। বিজ্ঞাপনের প্যানেল ঘুরতে থাকা। দেয়ালের উপর চলচ্চিত্রের পোস্টারে মানুষের মুখ কেটে ফেলা। মুখের জায়গায় ফাঁকা। স্লোগান লেখা: "আপনার জীবনের পরবর্তী অধ্যায়।" কী অধ্যায়? কেন কিনব?

    বেশ্যালয়ের দিকে যাওয়া। পুরানো বাণিজ্যিক পাড়া। সময়ের সাথে পিছিয়ে পড়া এলাকা। উচ্চভবনের ছায়ায় ঠেসে দাঁড়িয়ে থাকা দুই তলা বাড়ি। সংকীর্ণ গলি। দেয়ালে স্টিকার, পুরনো পোস্টার ঝুলে থাকা। কোনোটাতে ভোটের প্রতীক, কোনোটাতে সস্তা মোবাইলের বিজ্ঞাপন। নর্দমার গন্ধ। গলির মোড়ে চায়ের দোকানে টিভি জ্বলা। খবর পড়ছে: "দেশ উন্নতির পথে... যুবসমাজকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে..."

    লাল বাতির আলো জানালা থেকে পড়া। কখনো একটানা, কখনো টিমটিম করে। একটি আলোর রেখা কালো দেয়ালের উপর দিয়ে হেঁচড়ে যাওয়া। যেন রক্তের ফালি।

    ভিতরে ঢোকা। গন্ধ আঘাত করা: সিগারেটের ধোঁয়া, মদের গন্ধ, ঘাম, সস্তা পারফিউমের মিষ্টি গন্ধ। আরো গভীরে ঢুকে আরেকটি গন্ধ পাওয়া: হতাশার গন্ধ। ভাঙা স্বপ্নের গন্ধ। শব্দ: বেস-বাড়ানো গান, ড্রামের খচখচানি। স্পিকার থেকে তীক্ষ্ণ শব্দ বের হওয়া। কানে একটা অস্বস্তি তৈরি করা। আলো: ঘূর্ণায়মান ডিস্কো বল, লেজার বিম। আলো-আঁধারের খেলা। মুখগুলোকে এক সেকেন্ডে উজ্জ্বল করে তোলা, পরের সেকেন্ডে অদৃশ্য করে দেওয়া।

    মঞ্চের দিকে তাকানো। তিনজন মেয়ে নাচছে। তাদের দেহ উলঙ্গ, শুধু জ্বলজ্বলে স্তরবিহীন পোশাক। চামড়ার উপর আলোর খেলা। তাদের মুখ। একজন হাসছে, একটি খোলা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হাসি। চোখে হাসি নেই। একজন দূরে তাকিয়ে আছে, দেয়ালের ওপারে, জানালার বাইরে। তৃতীয়জন দর্শকের দিকে তাকায়, কিন্তু দেখে না। তাদের চোখে একই ফাঁকা ভাব। পেশাদারি ফাঁকা ভাব। ক্লান্তি। স্বপ্নহীনতা। একরকমের বিচ্ছিন্নতা, যেন দেহ এখানে, মন অন্য কোথাও। হয়তো গ্রামের বাড়ির উঠোনে। হয়তো স্কুলের মাঠে।

    একটা গান বাজে। লোকগীতি। কিন্তু ইলেকট্রনিক বেস দিয়ে ঘুরিয়ে ফেরানো। পুরান গানের কথা: "প্রাণ ভেড়াইয়া যাইও রে, ওই বন্ধুর দরশনে..." কিন্তু এখানে প্রাণ কই? বন্ধু কই? শুধু দেহ। শুধু নড়ন।

    একটি কোণের টেবিলে বসা। টেবিলের উপর আঠালো । ওয়েটারকে এক বোতল পানি অর্ডার করা। শুধু দেখতে আসা। নাচ দেখতে। দেহের গতিবিধি, এই নির্দিষ্ট বন্দীদশার মধ্যে শিল্পের একটি রূপ দেখতে। প্রকাশের একটি বিকৃত, বিকলাঙ্গ রূপ। কিন্তু তার মধ্যেও কি সৌন্দর্য থাকে? থাকে। একটা বেদনার সৌন্দর্য। একটা আত্মসমর্পণের সৌন্দর্য।

    ওয়েটার পানি নিয়ে আসা। তার মুখেও এক ধরনের ফাঁকা ভাব। সে কি জানে? সে কি বোঝে? সে শুধু কাজ করে। মাস্ক পরে। "আর কিছু লাগবে, স্যার?" একটা রোবটের মতো কথা বলা।

    আমি মাথা নাড়া। সে চলে যাওয়া।

    একজন মেয়ে কাছে আসা। তার বয়স অনুমান করা কঠিন। হয়তো কুড়ি, হয়তো ত্রিশ। মুখে টানটান চামড়া। তার চোখে মেকআপের পুরু স্তর, পালক লাগানো কৃত্রিম রোম। ঠোঁট লাল। জিবন্ত লাল। তার গায়ের রং ময়লা সাদা। সাপের খোলসের মতো দেখতে। "আপনার সঙ্গে কিছু সময় কাটাবো? প্রাইভেট রুমে?" তার কণ্ঠে একটি অনুশীলনকৃত মিষ্টি স্বর, কিন্তু ভঙ্গিতে কোনো কামনা নেই। একটি প্রস্তাব। একটি লেনদেন। বাজারের ভাষায় বলা।

    মাথা নাড়া। "না, ধন্যবাদ। শুধু দেখছি।"
    তার মুখে এক সেকেন্ডের অবিশ্বাস। তারপর ঔদাসীন্য। একটি ছোট স্নিকার। "দেখাই তো ব্যবসা। দেখতে চাও, দেখ। টাকা দিয়ে।" সে চলে যাওয়া। অন্য একটি টেবিলের দিকে, যেখানে একজন মধ্যবয়স্ক মানুষ একা বসে আছে। তার কপালে ঘাম।

    আমার চারপাশে মানুষরা। তাদের মুখ দেখতে থাকা। কেউ হাসছে। কেউ গম্ভীর। কেউ লালচে। মদের নেশায়। তাদের চোখে একই জিনিস খোঁজা: ভুলে থাকা। এই জায়গাটা ভুলে থাকার জায়গা। নিজেকে ভুলে থাকার জায়গা।

    হঠাৎ চেনা একটি ভাষা কানে আসা। আঞ্চলিক ভাষা। গায়ের ভাষা। মঞ্চের পেছনে থেকে কেউ কথা বলছে। "...হারে, আইজকা রোজগার কেমন থাকলো?"
    অন্য একটি কণ্ঠ: "কি আর হইবো... ওই যায়গার লগে। এক্কেরে দেহ খালি। মাইয়া মানুষরে কি আর..."
    প্রথম কণ্ঠ: "চুপ চুপ... কেউ শুনতে পাইবো।"

    আমি কান খাড়া করা। ওরা কর্মচারী। ওদের ভাষা আমার গ্রামের ভাষার কাছাকাছি। ওদের উচ্চারণে মাটি লেগে আছে। শহরের পলিশ লাগেনি।

    নাচ দেখতে থাকা। তাদের নড়াচড়ায় একটি গল্প খোঁজার চেষ্টা করা। এই দেহগুলোর ইতিহাস। ওরা কোথা থেকে আসছে? ছিটমহল থেকে? রংপুরের গ্রাম থেকে?  চা বাগান থেকে? মতুয়া? বারাসত বস্তি?  ওদের মুখে কি হাসি ছিল একসময়? ওরা কি স্কুলে যেত? কবিতা লিখত?

    হঠাৎ মনে পড়ে যায় এক পিসির কথা। সে বলত, "ছাগলা আইলায় নিয়া যাইবো না। ওই যায়গালা..." সে বলত ভূতের গল্প। কিন্তু এই জায়গা কি ভূতের গল্পের চেয়ে ভয়ানক না? এখানে ভূত থাকে মানুষের দেহে। জীবন্ত দেহে।

    একটা মেয়ে মঞ্চে এলোমেলো নাচছে। তার চোখে পানি? নাকি শুধু আলো? ওর পায়ে একটা দাগ। পুরানো পোড়া দাগ। কি দাগ? চুলার দাগ? না... সিগারেটের দাগ? কার সিগারেট?

    ওয়েটার আবার আসে। "স্যার, একলা বসিয়া আছেন? কাউকে ডাকি?"
    আমি হাত নাড়া। "না।"
    সে যেতে যেতে বলে, "একা একা ভালো লাগে না। মানুষজন আসে এখানে আনন্দ করতে।"
    আমি তাকিয়ে থাকি। সে কি বোঝে আমার আনন্দ? আমার আনন্দ তো এইখানে। দেখার আনন্দ। পর্যবেক্ষণের আনন্দ। মুখের ভাবের সংগ্রহ বাড়ানোর আনন্দ।

    হঠাৎ একটি পরিচিত মুখ দেখা। কলেজের একজন সহপাঠী। সামনের সারির ছেলে। ভালো পোশাক। ভালো ঘড়ি। সে একটি গ্রুপের সাথে, উচ্চস্বরে হাসছে। ওদের টেবিলে বোতল। দামি ব্র্যান্ড। ওদের মুখে হাসি। কিন্তু হাসিটা জোর করে টানা। ওরা চেষ্টা করছে "মজা" করতে। "লাইফ এনজয়" করতে। কিন্তু ওদের চোখে কি একটা ফাঁকা জায়গা? একটা জায়গা যেখানে ভয় লুকিয়ে?

    আমাদের দৃষ্টি হঠাৎ মিলছে। তার মুখে প্রথমে চমক। চেনা। তারপর লজ্জা। চোখ নামানো। তারপর দ্রুত ঔদাসীন্য। সে তার দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়া। সে তার বন্ধুদের দিকে ফিরে যাওয়া। জোরে হাসা। আরো জোরে।

    সে এখানে কেন? সে কি দেখতে এসেছে, আমার মতো? নাকি সে অংশ নিচ্ছে? সে কি মুখের ভাব বদলাচ্ছে? কলেজে যে ছেলেটা লেকচারে নোট নেয়, সে এখানে বোতল নিয়ে হাসে? কোনটা আসল? নাকি দুটোই আসল? দুটোই মুখোশ?
    মঞ্চে মেয়েটা ঘুরছে। তার হাত উড়ছে। তার চুল ছিটকিনি খাওয়া। তার মুখে একটা যন্ত্রণা দেখা যায়। না, যন্ত্রণা না... একটা আত্মসমর্পণ। সে জানে এই নাচের শেষ নেই। রাতের পর রাত। শরীরের পর শরীর। টাকার পর টাকা।

    আমি আমার ফোন বের করি। সাইলেন্ট মোডে। ক্যামেরা খোলা। জুম করা। ছবি তোলা। মেয়েটার মুখের ক্লান্তি ধরার চেষ্টা করা। কিন্তু আলো কম। ছবি ঝাপসা হয়। আবার চেষ্টা করা। তবু না। এখানের আলো আসলে ছবি তোলার জন্য না। এখানের আলো আসলে কিছু লুকানোর জন্য। আলো-আঁধারের খেলায় সত্যি লুকিয়ে রাখার জন্য।

    হঠাৎ গান বদলানো। আধুনিক গান। হিন্দি গান। "চিকনি চামেলি..." মেয়েরা নাচ বদলায়। নাচটা আরো "সেক্সি" হয়। দর্শকদের মধ্যে সাড়া পড়ে। কেউ হুইসেল দেয়। কেউ টাকা নাড়ে। মেয়েরা টাকার দিকে তাকায়। কিন্তু চোখে কোনো লোভ নেই। শুধু স্বীকৃতি। টাকাটা স্বীকৃতি যে তারা ভালো পারফর্ম করছে।

    সেই সহপাঠী তার বন্ধুদের সাথে মঞ্চের দিকে তাকিয়ে। হাসছে। তার হাতে টাকা। সে টাকা নাড়ায়। একটা মেয়ে কাছে আসে। সে টাকা দেয়। মেয়েটা হাসে। একটা কৃত্রিম হাসি।

    আমার গা গুলিয়ে উঠে। উঠে দাঁড়াই। বাথরুমের দিকে যাই।

    বাথরুমে ঢুকি। দেয়ালে লেখা। নাম্বার। প্রেমের কথা। বিদ্বেষের কথা। "মোনা আমি তোর জন্য পাগল..." "সব পুরুষ কুত্তার বাচ্চা।" একটা দর্পণ। দর্পণে আমার মুখ দেখি। আমারই মুখ। ক্লান্ত। ফ্যাকাশে। আমার চোখেও কি ফাঁকা ভাব? আমার চোখেও কি মাস্ক?

    পানির কল ছাড়ি। মুখে জল দেই। ঠাণ্ডা জল। কিন্তু ভিতরটা গরম থাকে।

    বাইরে বেরিয়ে আসি। গলির ঠাণ্ডা, আর্দ্র বাতাস লাগে। কানে এখনও গানের বীট বাজতে থাকে। মাথার ভিতর ঘুরপাক খায়। শহরের সব শব্দ যেন মিলে এক হয়ে গেছে। হর্ন, গান, মানুষের কণ্ঠ, টিভির শব্দ... সব।

    ফোন চেক করা। একটি পুশ বিজ্ঞপ্তি: "আপনি 'নাইট লাইফ জোন'-এ ছিলেন। কি অভিজ্ঞতা ছিল? রিভিউ লিখুন, পয়েন্ট পান।" তারা জানে। সবসময় জানে। আমি কি জিপিএস বন্ধ রেখেছিলাম? মনে পড়ে না।

    ফোনটা পকেটে পুরে ফেলা। মুখ তুলে আকাশ দেখার চেষ্টা করা। কোনো তারা নেই। শুধু নিওনের আভা, কমলা রঙের মেঘ। বাতাসে ভাসে ময়লা, ধুলো।

    গলি দিয়ে হাঁটা। একপাশে একটা দোকান। সেখানে বুড়ো মানুষ বসে রেডিও শুনছে। রেডিওতে গান বাজছে। পুরানো গান। "আমার প্রাণের পিয়াসী, তুমি কি আসিবে ফিরে..." বুড়ো মানুষের চোখ বন্ধ। সে গান শুনছে। তার মুখে শান্তি। সে কি এই নিওন আলো দেখে না? সে কি এই গলির অন্ধকার জানেনা?

    আমি দাঁড়িয়ে থাকি। তারপর আবার হাঁটা।

    মনে পড়ে যায় মিলার কথা। সে বলেছিল, "আমরা সবাই বন্দী। কিন্তু কেউ কেউ বন্দীত্বকেই স্বাধীনতা ভাবে।" সেই সহপাঠী... সে কি বন্দী? সে কি ভাবে সে স্বাধীন? টাকা খরচ করে, মজা করে, ছবি তোলে?

    আবার নৃত্যের হলের দিকে তাকানো। লাল বাতি। যেন একটা দানবের চোখ। দানবটা আমাদের সবাইকে গিলে খাচ্ছে। আমাদের সময়। আমাদের স্বপ্ন। আমাদের মুখ।

    আমি বাসার দিকে হাঁটা শুরু করি। পিছনে থেকে গানের শব্দ আসতে থাকে। ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়।

    রাস্তায় একটা বেড়াল ছানার মৃতদেহ দেখি। গাড়িতে চাপা পড়েছে। কেউ দেখছে না। সবাই হাঁটছে। স্ক্রলে মগ্ন।

    আমি থমকে দাঁড়াই। বেড়ালটার দিকে তাকাই। তার মুখে যন্ত্রণা নেই। শান্তি আছে। সে কি এখন স্বাধীন? নাকি শুধু... শেষ?

    আমি আবার হাঁটা শুরু করি।

    বাসায় ফেরার পথে একটা দোকান থেকে এক কাপ চা কিনি। দোকানি জিজ্ঞাসা করে, "কেমন আছেন, ভাই?"
    আমি বলি, "ঠিক আছে।"
    সে বলে, "মুখখান হ্যাপা হ্যাপা লাগছে। কাজের চাপ?"
    আমি হাসি। একটা মুখোশ পড়ি। "হ্যাঁ, কাজের চাপ।"
    সে আর কিছু না বলে চা দেয়।

    চা খেতে খেতে ভাবি। দোকানি কি সত্যি দেখতে পায়? নাকি শুধু বলার কথা বলে?

    বাসায় ফেরা। দরজা বন্ধ করা। নিঃশব্দতা। শুধু ফ্রিজের গুঞ্জন।

    কম্পিউটারের সামনে বসা। কিন্তু আজ লিখতে ইচ্ছে করে না। শুধু বসে থাকি।

    মনে পড়ে নৃত্যের হলের মেয়েটার কথা। যে হাত নাড়ছিল। যে ঘুরছিল। তার নড়নের মধ্যে কি একটা ভাষা ছিল? একটা প্রার্থনা ছিল? "মুক্ত করো। এই দেহ থেকে মুক্ত করো।"

    কিন্তু দেহ ছাড়া আমরা কি? আমরা কি শুধু চিন্তা? শুধু আত্মা? নাকি দেহই আমাদের আসল পরিচয়? দেহই আমাদের মুখ দেখায়?

    আমি আয়নার দিকে তাকাই। আমার দেহ। আমার মুখ। আমি কি আমার মুখ চিনি? নাকি এই মুখও একটা মাস্ক? যে মাস্ক আমি জন্মের সময় পেয়েছি?

    শুয়ে পড়ি। ছাদের ফ্যান ঘুরতে থাকে। ক্লিক ক্লিক শব্দ। আজকের সব মুখ মনে পড়ে। নাচের মেয়েদের ফাঁকা দৃষ্টি। সহপাঠীর লজ্জা। বুড়ো মানুষের শান্ত মুখ। দোকানির উদ্বেগ। বেড়ালের মৃত মুখ।

    এই সব মুখ। এই সব গল্প। এই সব জীবন, যে জীবন আমি শুধু দেখি। কিন্তু স্পর্শ করি না।

    কেন স্পর্শ করি না? ভয়? নাকি জানি যে স্পর্শ করলে নিজেকেই স্পর্শ করতে হবে? নিজের মুখোশ খুলতে হবে?

    চোখ বন্ধ করি। স্বপ্ন দেখি।

    স্বপ্নে আমি নৃত্যের হলে আছি। কিন্তু এবার মঞ্চে আমি। আমি নাচছি। আমার দেহ উলঙ্গ। আলো আমার গায়ে পড়ছে। দর্শকদের মুখ দেখতে পাচ্ছি। সবাই চেনা। অধ্যাপক। সহপাঠী। বাবা-মা। গণমাধ্যমের মুখ। তারা সবাই হাসছে। কিন্তু তাদের হাসি ভয়ানক।

    আমি নাচতে থাকি। আমার দেহ বলে, "দেখ, এই আমি। এই আমার মুখ। এই আমার মুখোশহীন মুখ।"

    কিন্তু দর্শকরা শুনতে পায় না। তারা শুধু হাসে। আর টাকা নাড়ায়।

    আমি জেগে উঠি। ঘামে ভেজা।

    সকাল। ফোনের স্ক্রিন জ্বলে ওঠা।

    আবার শুরু।
     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    0 | 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | 7
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Falguni Banerjee | ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৪৩737882
  • সমসাময়িক বাংলা পরীক্ষামূলক লেখায় (এমনকি তীব্র কণ্ঠস্বরও) গদ্যশৈলীর কোনও প্রকৃত সহোদর নেই । সাধারণত কিছু আবেগগত উষ্ণতা, সামাজিক ব্যঙ্গ, কাব্যিক প্রবাহ, অথবা রাজনৈতিক ধার ধরে থাকে — নবারুণ ভট্টাচার্য (অদ্ভুত নগর ব্যঙ্গ), সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ, অথবা নতুন প্রবাসী কণ্ঠস্বর মনে করুন। অ্যালবার্টের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন: ঠান্ডাভাবে ভয়ঙ্কর, অতি-খণ্ডিত (শব্দহীন, স্ট্রোবের মতো বাক্য), নগর হতাশা/মুখোশ/বস্তুবিহীন দেহের প্রায় ক্লিনিকাল পর্যবেক্ষণ, সৌন্দর্য কেবল আত্মসমর্পণ/শূন্যতায় পাওয়া যায় — এবং প্রবাহিত আখ্যানের পরিবর্তে ফটোগ্রাফিক স্ন্যাপশটের মতো ফ্রেমবন্দী। এটি ঠান্ডা আন্তর্জাতিক সংবেদনশীলতা যা  খুব ব্যক্তিগত আর্ট লেন্স দিয়ে বাংলায় লিখিত।  অনুরূপ খণ্ডিত/ভয়ঙ্কর বাংলা গদ্যের জন্য অনুসন্ধান করলেও কোনও মিল খুঁজে পাওয়া যায় না।
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খেলতে খেলতে প্রতিক্রিয়া দিন