এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • বাংলাদেশ সমাচার - ২০ 

    bikarna লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২৯৩ বার পঠিত
  • গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশের খবর কী? ইউনুস সাহেবের ৫৫৯ দিনের শাসনামল কেমন ছিল? অন্ধের দেশে আয়না বিক্রির গল্প বলে যে সরকারের যাত্রা শুরু সেই যাত্রার শেষ খবর কী? এগুলাই এখন জন মানুষের কাছে বড় প্রশ্ন। কী পাইলাম আর কী হারাইলাম, এই হচ্ছে বড় জিজ্ঞাস সবার। 

    ইউনুস সরকারের সমালোচনা তো করছি পুরো সময় জুড়েই। সেই দিকে একটু পরে যাই, নতুন সরকারের আলাপ করি বরং। সরকার গঠন করেই বিএনপি প্রথম যে প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছে তা হচ্ছে জুলাই সনদে সাক্ষর না করা। নানা নাটক করে জামাত জোট শপথ নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই নিয়ে তাদের নানা তোরজোড় চলছে। সামনে প্রথম আন্দোলন হয়ত আমরা এই কারণেই দেখতে পাব। বিএনপির যুক্তি এখানে পরিষ্কার - সংবিধান অনুযায়ী শপথ নিয়ে তারপরেই আবার সংবিধান ভাঙার শপথ কীভাবে নেওয়া সম্ভব? আপনে এক মুখে শপথ নিলেন যে এই সংবিধান মেনে চলবেন আর এরপরেই শপথ নিবেন আগের সংবিধানকে ছুঁড়ে ফেলে দিবেন! এইটা কেমনে সম্ভব? 

    জামাত জোটের প্রশ্ন হচ্ছে তোমরা তো জুলাই সনদে সাক্ষর করছ, তাহলে এখন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের শপথ কেন নিবা না? এর উত্তর দিয়েছে বিএনপির একজন এমপি, তিনি পরিষ্কার করে বলে দিছেন তখন এইটা না করলে ইনুস সরকার নির্বাচন দিতে চাচ্ছিল না! ফাইন না? এক্কেরে একের ক! 

    নব নির্বাচিত সরকার ক্ষমতার মসনদে বসার পরেই রোজা শুরু হয়েছে। মানুষ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য নিয়ে চিন্তায় আছে, কারণ দাম চান্দে উঠে বসে আছে। লেবু, যেটা ইফতারিতে মানুষ শরবত বানিয়ে খায়, সেই জিনিসের হালি ঢাকায় দেখলাম ১৫০ টাকাও পার হয়ে গেছে। এদিকে আমাদের মত মফস্বল শহরে ৬০-৮০ টাকা হালি পাওয়া যাচ্ছে! এগুলা মানুষ মানতে নারাজ। কিন্তু মানুষ অবুঝ না, মাত্র তারা বসল, তাই এইটা নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও তা নিয়ে খুব একটা প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না কেউ। আমরা অপেক্ষা করতে রাজিই আছি। দেখা যাক আই হ্যাভ এ প্ল্যানের কোন নমুনা আমরা সামনে দেখতে পাই! 

    এর মধ্যেই চলে আসল ২১ ফেব্রুয়ারি। বিএনপি প্রধান জনাব তারেক জিয়া একুশের প্রথম প্রহরে এক অদ্ভুত কাণ্ড করলেন। তিনি ফুল দিলেন এবং সেখানেই মোনাজাত ধরলেন শহীদদের আত্মার শান্তির জন্য! শহীদ মিনার, যেটা ছিল অসাম্প্রদায়িক একটা জায়গা সেখানে এই দৃশ্য কোনমতেই মেনে নেওয়ার মত না। তার মোনাজাত ধরতে ইচ্ছা করছিল অন্য কোথাও ধরত। শহীদদের কবরের কাছে গিয়ে দোয়া করত! তা না করে তিনি যা করলেন এইটা সামনের বাংলদেশের জন্য একটা সমস্যা তৈরি করল। উগ্রবাদীরা এরপরে শহীদ মিনারে গরু কুরবানি দিয়ে জেফত খাওয়ার ব্যবস্থা করলে খুব একটা আশ্চর্য হব না। এতদিন শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে আমরা ব্যাখ্যা করছি যে এইটাতে কোন দোষ নাই, কারণ এইটা শ্রদ্ধা জানাতে ফুল দেওয়া হচ্ছে। এইটা কোন পূজা না, আমি ফুল দিয়ে কোন কিছু চাচ্ছি না কারো কাছে। আমি মানত করছি না কিছু। যখন কোন বেদিতে ফুল দিয়ে প্রার্থনা করা হয় তখন তাকে পূজা বলা চলে, তখন তাকে শেরক বলা চলে। এতদিন এই দোষ ছিল না, এবার সম্ভবত তা যোগ হল! আমি অন্তত তাই মনে করি। 

    বিরোধীদলের নেতা হিসেবে জামাতের আমির শহীদ মিনারে গিয়েছিল। তার যাওয়া নিয়ে রাত থেকেই নানা জল্পনা কল্পনা শুরু হয়। এক সাংবাদিক তাকে সেখানেই প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করে। কেন আসছেন? আগে কেন আসেন নাই? এখন কি শহীদ মিনারে আসাকে জায়েজ মনে করেন? দায়িত্ব হিসেবে আসছি, এইটা ভালমত বলেছেন এরপরেই রাগ পেয়ে গেলেন! এগুলা কেমন প্রশ্ন, কেন আজকের দিনে এমন প্রশ্ন করছেন বলে রেগে চলে গেলেন! মানুষ জামাতের শহীদ মিনারে যাওয়াকে নানা ভাবে দেখছে। কেউ কেউ দেখছি খুব কষ্ট পেয়েছে, জামাত কেন যাবে! কিন্তু আমি একে ভালোভাবেই দেখছি। বরঞ্চ এইটা আমাকে একটা আলাদা সুখানুভূতি দেয়। এই যে যাকে অস্বীকার করি কিন্তু এই দেশে রাজনীতি করতে হলে এই জিনিস করেই করতে হবে এইটা যে প্রমাণ হয় তা আমাকে সুখ দেয়। এই প্রথম না, জামাতের শীর্ষ রাজাকারেরা স্মৃতিসৌধে গেছে, ফুল দিয়েছে এর আগে। তখনও আমার একই রকম অনুভূতি হয়েছিল। জানি অন্তর থেকে যায় নাই তবুও শান্তি যে তাদের যেতে হচ্ছে। এই দেশে থেকে রাজনীতি করলে আজীবন এইটা করতে হবে, এর চেয়ে বড় প্রশান্তি আর কী? কিন্তু অন্য রকম একটা খোঁচাও তো লাগে, এও তো সত্যই।যেমন মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি এটিএম আজহারুল যখন শহীদ মিনারী যায় তখন তো কেমন লাগেই। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি, তার নামে যে অভিযোগ গুলো ছিল তার মধ্যে একটা হচ্ছি সরাসরি গণহত্যায় সামিল হওয়া। এক হাজারেরও বেশি মানুষ একদিনে হত্যার জন্য তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। সে সব দিন বাসি হয়েছে। গত বছর তিনি বেকসুর খালাস হয়েছেন। নির্বাচনে জিতে এমপিও হয়েছেন। পুরাই সোনার বাংলা ফকফকা! 

    আবার আমাদের আসনে যে জামাত পাশ করল তিনি কিন্তু আমাদের শহীদ মিনারে যান নাই। কেন্দ্রীয় কোন সিদ্ধান্ত আসে নাই না তিনি এই সব নাজায়েজ কাজ পছন্দ করেন না দেখে যান নাই তা জানা গেল না। তবে আমাদের এখানে যে শহীদ দিবসের কোন তাপ উত্তাপ পাওয়া যায় নাই তা সত্য। একুশে ফেব্রুয়ারি বলতে আমরা যে স্মৃতি নিয়ে বসে আছি তার সাথে কোন মিল ছিল না। ডিসি অফিস, পুলিশ সুপার এরা ফুল দিয়ে দায়িত্ব পালন করল। এরপরে নানা সংগঠন, সকালে কিছু স্কুল কলেজ, ব্যস, এই তো! গানে গানে ভরে উঠত যে প্রাঙ্গণ তা আর হল কই? মাইকে কখন কোন স্কুল বা কোন প্রতিষ্ঠান আসছে তা ঘোষণা দেওয়া হত, তেমন কোন ব্যবস্থাও চোখে পড়েনি। ম্যাড়ম্যাড়ে নিয়ম রক্ষার শহীদ দিবস পালন, যাতে এমপি সাহেব যাওয়ার প্রয়োজনও বোধ করে নাই। 

    নির্বাচনের বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের জেতায় অনেকেই খুব খুশি হয়েছেন। তাকে ইনকিলাব মঞ্চের পুলাপান যা ইচ্ছা তাই বলে অপমান করেছে শুধু মাত্র মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলার জন্য। তাকে এমন কি বিএনপি থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছিল সাময়িক ভাবে। তিনি বলেছিলেন তার আসনে যদি তিনি জামাতের সাথে নির্বাচন করে হেরে যান তাহলে তিনি বিষ খাবেন! তাকে বিষ খেতে হয় নাই, ৪০ হাজার ভোটের বিপুল ব্যবধানে জিতেছেন তিনি। তো সবাই একে খুব দারুণ সাধুবাদ জানিয়েছেন। আরও যে মুক্তিযোদ্ধারা নির্বাচনে দাঁড়িয়ে জিতেছে তাদেরকে সবাই অভিনন্দন জানিয়েছে। এবং বলা শুরু করেছে এই দেখ মুক্তিযুদ্ধের জয় হল! মুশকিল হচ্ছে এইটা এক তরফা আলাপ হচ্ছে! আপনি কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা জিতেছে দেখে যদি বলেন মুক্তিযুদ্ধের জয় হয়েছে তাহলে জামাত জোট যে আশিটা সিট পেয়ে গেল, তার বেলা? জামাত ভোট পেয়েছে ত্রিশ শতাংশের উপরে, এই লোক গুলোকে? কারা ভোট দিল জামাতকে এত? আড়াই কোটি ভোট পেয়েছে জামাত! এইটা সোজা কথা? জিতছে কে? চিহ্নিত রাজাকারদের সন্তানেরা সবাই জিতছে। রাজাকার সাইদির পুত্র জিতছে, সাকা চৌধুরীর ছেলে জিতেছে, মীর কাসেমের ছেলে জিতেছে, আজহারুলের কথা তো বললামই, সে নিজেই কুখ্যাত রাজাকার, তিনিও জিতেছেন! তাহলে মুক্তিযুদ্ধের জয় হয়েছে এইটা বলার সুযোগ আছে? বরং মুক্তিযুদ্ধের পরে এই প্রথম এতগুলো মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী প্রার্থী নির্বাচনে জিতল বাংলাদেশে! এইটাই লজ্জার। 

    ইনুস শাহের জমানায় বড় কোন প্রকল্প নেওয়া হয় নাই তবুও ঋণ বেড়েছে ৪ লক্ষ কোটি টাকা! ১৮ মাসে ৪ লক্ষ কোটি টাকা বাড়তি ঋণ কেন নেওয়া হল তার কোন উত্তর অন্তত আমি খুঁজে পাই নাই। কানাঘুষায় শোনা যায় বিখ্যাত বিপ্লবী জুলাই যোদ্ধারা কেউ নাকি হাজার কোটি টাকার নিচে কামাই করে নাই! তথ্য প্রমাণ নাই তাই সেই প্রসঙ্গে আর গেলাম না। এই যে ঋণের বোঝা ঘাড়ে আসল তার থেকেও বড় সর্বনাশ করে গেছে আরেকটা। ১৮ মাসে নানা কিছু হয়েছে কিন্তু শেষ মুহূর্তে যে বাঁশটা আমাদের উপহার দিয়ে গেলেন নোবেল ম্যান তার কোন তুলনা নাই। এই বাঁশ একই সাথে প্রমাণ করেছে যে তিনি ও তার সরকার আসলে কাদের সরকার ছিলেন। বুঝা যাচ্ছে না? বলছি… 

    নির্বাচন হয়েছে ১২ তারিখ, ৯ তারিখ ইউনুস সরকার আমেরিকার সাথে এক চুক্তি করেছেন! একেই বলছি বাঁশ। আপনি আমাকে বুঝান কেন এত বড়, বিতর্কিত একটা চুক্তি করার ঝুঁকি নিবে একটা অন্তর্বর্তী সরকার? দুই দিন পরে ক্ষমতা ছাড়তে হচ্ছে, আমি কেন এই ঝামেলায় যাব? আমি তো কোনমতে দিন পার করে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা দিয়ে চলে যাব। এবার তোমরা বুঝগা কেমনে ট্রাম্প পাগলাকে সামলাবা সামলাও! কিন্তু তারা তা করল না। কেন করল না এইটাই হচ্ছে প্রশ্ন। এখানেই প্রমাণ হয় তারা আসলে কাদের পক্ষের খেলোয়াড় ছিল। কেন এমন বলছি তা চুক্তির কিছু ধারা বললেই বুঝতে পারবেন। এইটা আবার এমনই চুক্তি যা প্রকাশ করা হয়েছে তার বাহিরেও যদি কিছু থেকে থাকে তাহলে তা আমরা জানব না। কারণ আমেরিকা আগেই আমাদেরকে দিয়ে গোপনীয়তা রক্ষার চুক্তি করিয়ে নিয়েছে। এইটাও মহান ইউনুস সরকারর অবদান। আমরা এই বিতর্কিত চুক্তি সম্পর্কে জানতে পারছি কারণ আমেরিকা তা প্রকাশ করেছে। যা প্রকাশ করেছে তাই জানি, এর বাহিরে থাকলে তা জানি না কারণ আমাদের সরকার তা প্রকাশ করতে পারবে না। এবার আসি চুক্তিতে কী কী আছে সেই বিষয়ে। 

    বাণিজ্য সমতা আনার জন্য ১৪টা বিমান কিনতে হবে আমাদেরকে। দরকার আছে কী না তা দেখার প্রয়োজন নাই। কেনার চুক্তি করা শেষ। এখানেই কেনাকাটার হিসাব শেষ না, আগামী ১৫ বছরে ১৫শ কোটি ডলারের জ্বালানি আমদানি করবে এবং প্রতিবছর সাড়ে তিনশো কোটি ডলারের কৃষিপণ্য কিনবে বাংলাদেশ! ঠিক আছে না? চুক্তিতে আরও আছে দুই পক্ষ শুল্ক মুক্তি পাবে পণ্যে আমদানিতে। এখন আমাদের কতগুলো পণ্য আর আমেরিকার কতগুলা পণ্য? বেশি না, আমেরিকার হচ্ছে মাত্র ৬ হাজার ৭১০টি পণ্য এবং বাংলাদেশের ১ হাজার ৬৩৮টি পণ্য! এইটা আরও ফাইন না? আমাদের কৃষি কই গিয়ে দাঁড়াবে বুঝা যাচ্ছে? আজকে ইফতারের আগে মার্কিন দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত একটা দোকানের ছবি দিয়ে পোস্ট করেছেন বাংলাদেশে আমেরিকার পণ্য রোজায় এসে গেছে, এতে বাংলাদেশের ভোক্তা আর আমেরিকার কৃষক সবাই লাভবান হবে! এখন আমাদের মত গরীবের যদি আমেরিকার কৃষকের চিন্তা করতে হয় তাহলে আমরা বাঁচব? ওদেরকে লাভবান করা আমাদের পক্ষে সম্ভব? পরনে কাপড় থাকব তো পরে? 

    চুক্তির মজা শেষ হয় নাই এখনও। চুক্তিতে বলা আছে আমরা অন্য কোন পক্ষ থেকে জ্বালানি কিনতেও পারব না! মানে যদি কোথাও কমে পাই তাহলেও কিনা যাবে না। কিনলে চুক্তি শেষ, শুল্ক বসবে ৩৭%! অন্য কোন দেশ আমাদের এখানে বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে পণ্য বিক্রিও করতে পারবে না। চীন থেকেই অনেকে কম মূল্যে জিনিসপত্র আনে, বিক্রি করে। এখন এইসবে যুক্তরাষ্ট্র নজরদারই করবে। ওদের ব্যবসায় ক্ষতি হয় এমন কোন কিছু ওরা মানেব না!  এমন চুক্তিই করছে ইনুস সাহেব! 

    এবার আসেন মজার শেষ ধাপে। এই চুক্তির পিছনের মূল কারিগরের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন ইনুস সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। বিএনপি এক সময় তার পদত্যাগ চেয়েছে। বলেছে তিনি বিদেশি নাগরিক। তীব্র সমালোচনা করেছে। মজাটা হচ্ছে বিএনপি এই জিনিসকেই পররাষ্ট্র মন্ত্রী বানিয়েছে! খেলাটা বুঝা গেল? অনেকেই বুঝে নাই। অনেকের মাথা আউলায় গেছে। বিবিসি তাদের এক প্রতিবেদনে বলছে বিএনপির অনেকে নেতাই নাকি অবাক হয়েছে এই সিদ্ধান্তে। নানা সময় বিতর্কিত মন্তব্য করা কবি ব্রাত রাইসু এই বিষয়ে একটা দারুণ পোস্ট করেছিলেন ফেসবুকে। তিনি লিখেছেন খলিলকে বিএনপি চেয়ারে বসাল না খলিলই বিএনপিকে ক্ষমতায় বসাল এইটা আগে চিন্তা করেন! বিষয় এইটাই, আর কোন হিসেব মিলে না এখানে। খলিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রানলয় পাওয়া এক কথায় অবিশ্বাস্য ঘটনা। কোন লেবেলের খেলা হয়ে গেছে তা বুঝা আপনার আমার বুঝার অনেক বাহিরের বিষয়। অন্তত আমার জ্ঞানের বাহিরে তা আমি নিশ্চিত। এই হল ইনুসের ১৮ মাস, ৫৫৯ দিনের শাসনের নির্জাস। 

    নির্বাচনের পরে লীগের অফিস খুলেছে বেশ কিছু জায়গায়। এইটা ভালো লক্ষণ লীগের জন্য। বিএনপির আনঅফিসিয়াল সম্মতি আছে হয়ত এর পিছনে। কারণ বিএনপি এইটা নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য কিছুই করে নাই। যা করার করছে এনসিপি আর জামাতের লোকজন। এইটা কিসের লক্ষণ তা সামনে বুঝা যাবে। লীগ যদি এই বছরে দেশের রাজনীতিতে ফিরতে পারে তাহলে সামনে অনেক কিছুই হবে যা ভাবা যায়নি আগে! কী হয় তা দেখার জন্য অপেক্ষাই করতে হচ্ছে আপাতত। 

    নির্বাচনের পরে ঢাবিতে রাজাকার বিরোধী মিছিল হয়েছে, ট্রাকে স্পিকার নিয়ে ঘুরেঘুরে রাজাকারদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়েছে। মানুষ খুব খুশি। কিন্তু এখানেও আমার মাথায় যে প্রশ্নটা প্রথমে আসল তা হচ্ছে তোমরা কারা? কই ছিলা এতদিন? এই যে বস্তায় বস্তায় ভোট দিয়ে পুরো প্যানেলকে ছাত্র সংসদে শিবিরকে পাশ করালা, তখন তোমাদের মনে হয় নাই এরা সব রাজাকাদের শাবক? এখন বাতাস ঘুরে যেতেই মনে পড়ছে রাজাকারদের কৃতির কথা? এদেরকে আমি আর বিশ্বাস করি না। এরাই আমি রাজাকার স্লোগান দিয়ে মাঠে নামছিল! আশ্চর্য প্রজন্ম। 

    শেষ করি। সাবেক জার্মান ফুটবলার মেসুত ওজিল বাংলাদেশে আসছিল। এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টার উদ্বোধন করেছেন! কেন এই আলাপ করছি এখানে? বাকিটুকু পড়লে বুঝবেন। তার সাথে আসছিল তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের ছেলে। আর এদেরকে আনছিল সাদিক কায়েম, শিবিরের নেতা, ডাকসুর প্রেসিডেন্ট! অনেকদিন থেকেই বাতাসে গুঞ্জন যে জামাত শিবির এখন তুরস্ক মুখি। এবং তুরস্কও জামাত মুখি! গত বছর শিবির তুরস্কের ফান্ডে ছাত্রদের মধ্যে রীতিমত টাকা বিলিয়েছে! এইটা সদ্য ক্ষমতায় বসা বিএনপি এবং বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশের জন্যও মাথা ব্যথার অন্যতম কারণ হবে হয়ত। 

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২৯৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • . | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০২:৩০738749
  • জটিল অবস্থা 
  • হীরেন সিংহরায় | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৩:৫১738750
  • দেশটার সঙ্গে বিশ বছরের পরিচয়ে কত কিছু বদলালো  কত বিশ্বাস ভেঙে গেল। একটা সময়ে আমার ব‍্যাংকের সহকর্মীদের Banker to the poor বই কিনে বিলি  করেছি। তাঁর নামটাই ম‍্যাজিক তখন। আর আজ?
    ভালো থাকবেন। 
  • aranya | 2601:84:4600:5410:5482:8e7c:d83:***:*** | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:০৩738768
  • 'চুক্তির মজা শেষ হয় নাই এখনও' - বর্তমান সরকার কি এই চুক্তি খারিজ করে দিতে পারে? ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার তো জনগণের রায়ে নির্বাচিত হয় নি। তাদের করা চুক্তি বিএনপি-কে মানতেই হবে, এমন কোন বাধ্যবাধকতা আছে? 
  • bikarna | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:১৬738770
  • aranya দাদা, না মানার ক্ষমতা তো আছেই কিন্তু সেই সাহস, শক্তি কি আছে? যার মাধ্যমে এই চুক্তি সেই খলিলকেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পত্র পত্রিকায় চুক্তির যে ছবি আসছে তাতে খলিলই বাংলাদেশের পক্ষে হাত মেলাচ্ছে। এখন যুক্তি কী বলে? খলিল নিজের করা চুক্তি বাতিল করে দিবে? বাতিল করেলি ট্রাম্প পাগলা বলেই রাখছে শুল্ক দিয়ে পিষে দিবে! ট্রাম্প ইতোমধ্যেই তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার শুভেচ্ছা জানিয়ে মেইল করেছে এবং তাতে প্রচ্ছন্ন হুমকিও দিয়েছে যে সময় নষ্ট করা যাবে না, দ্রুত যেন চুক্তি বাস্তবায়ন করা হয়। কোন দিকে যাবে এবার? 
     
    ট্রাম্পের পাগলাটে শুল্ক নীতি নিয়ে অনেকেই বিপদে আছে, আমরাও আছি। আমি এইটা নিয়া আপত্তি করছি না যে এমন পশ্চাতদেশ উম্মুক্ত করা চুক্তি কেন করল। অন্য কোন সরকার থাকলেও হয়ত এর কাছাকাছিই কিছু একটা হত। এত উদাম হয়ত হত না কিন্তু খুব ভালো কিছুও হত না হয়ত। আপত্তিটা হচ্ছে কেন একটা আপতকালিন সরকার নির্বাচনের দুইদিন আগে এমন একটা চুক্তি করল তা নিয়ে। এইটা নিয়া তারা মাথা না ঘামাতে পারত। নির্বাচিত সরকারের ঘাড়ে দায়িত্ব দিয়ে সরে যেত। কিন্তু তারা তা করে নাই। আর এখানেই হচ্ছে সব প্যাচগুজ। তারা এইটা করতে বাধ্য হয়েছে। কেন? এইটা হচ্ছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। সম্ভবত গত দেড় বছরের সমস্ত ঘটনার মূল সূত্রও এই প্রশ্নেই লুকিয়ে আছে। 
  • aranya | 2601:84:4600:5410:5482:8e7c:d83:***:*** | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:১৯738771
  • ঠিক বলেছ @বিকর্ণ 
  • bikarna | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:২৯738773
  • হীরেন সিংহরায় দাদা, ডক্টর ইউনুসের অবস্থান সারা দুনিয়াতেই ছিল অনেক উঁচুতে। আমরা আমাদের মফস্বল শহরে আনন্দ মিছিল বের করেছিলাম তার নোবেল পাওয়া উপলক্ষে। ২০০৮ সালে তিনি যখন দল বানাতে চাইলেন তখনও আমি মনে করেছি যে তিনি আসলে ভালো কিছুই হবে। আমার মত এমন লক্ষ লক্ষ মানুষের স্বপ্ন ভঙ্গ করেছেন তিনি। নির্লজ্জের মত গ্রামীণ ব্যাংকের নামে কতগুলো কাজ পাশ করিয়ে নিয়েছেন। মানে মানুষের চক্ষুলজ্জাও তো থাকে, তাই না? তিনি সামান্য চক্ষুলজ্জাও দেখান নাই। গ্রামীণের নামে বিশ্ববিদ্যালয়, গ্রামীণের নামে ডিজিটাল ওয়ালেট, গ্রামীণের নামে ম্যান পাওয়ার লাইসেন্স, গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারের অংশীদার ছিল ২৫% তাকে করেছেন ১০%! ইউনুস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোর্শেদকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় নিয়োগ দিয়েছেন, তার আপন ভাতিজা অপুর্ব জাহাঙ্গীরকে উপ প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ দেন যদিও প্রেসের সাথে তিনি কখনোই সংশ্লিষ্ট ছিলেন না! এগুলা করেছেন একদম নির্লজ্জের মত। মানুষ তো বিন্দুমাত্র চিন্তা করে যে আমি ক্ষমতায় বসে আমার নামে এগুলা কী করছি, তিনি তা করেন নাই। ৬৬৬ কোটি টাকার কর বাতিল তো আছেই এর সাথে! অন্য সব অযোগ্যতার হিসাব না করেও শুধু মাত্র তার এমন আচারনের জন্যই তো তাকে আর মহান কিছু ভাবতে রাজি না আমি। এর বাহিরে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তার মনোভাব তো আছেই। ইতিহাস তো তাকে মনে রাখবে ৩২ নাম্বার ভাঙার সময় তার ভূমিকার জন্য! এগুলা কোনটাই তো হারিয়ে যাবে না। মানুষ এগুলা সবই মনে রাখবে। 
  • মনমাঝি | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:০৫738776
  • শুধু শাইলক চাচ্চু ,হাওয়া-খাম্বা পার্টি আর জুলাইয়ের লাল বদরদের নন্দ ঘোষ বানিয়ে দায় সারবেন না স্যার! দেশের এই অবস্থায় উপনীত হওয়া এবং মীর জাফর পার্টির সদম্ভে প্রত্যাবর্তনের পিছনে আপনাদের ভূমিকাও কারও চেয়ে বেশি বৈ কম নয়। ১৬ বছর ধরে একদিকে যেমন জামাতকে প্রকাশ্যে আপাতদৃষ্টে দৌড়ানির উপরে রেখেছিলেন,অন্যদিকে তাদের ছানাপোনাগুলিকে জেনেশুনেই নিজেদের ছাত্রলীগে বাঘের ঘরে ঘোগের বাসার মত বাসা বাধতে দিয়েছেন (এরাই জুলাইতে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিল),নির্বাচনী টিকিট বিক্রি করেছেন বহু জায়গায়। সবচেয়ে বড় কথা হলো -- ২০১০-এর দশকের শুরুর দিক থেকে ব্লগার হত্যা, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনাল শাপলা চত্বর ইত্যাদি ঘটনার সময় থেকে  জামাতের শিখণ্ডী হিফাজতকে হাজার-হাজার কোটি টাকা ঘুষ জমিজমা ব্যবসা-বানিজ্য দিয়ে,রাষ্ট্রনীতির ব্যাপারে তাদের বহু প্রতিক্রিয়াশীল ও ধ্বংসাত্নক দাবি-দাওয়া মেনে নিয়ে, সারাদেশ জুড়ে ব্যাঙের ছাতার মত হাজার-হাজার মডেল মাদ্রাসা ক্যাডেট মাদ্রাসা ইংলিশ মাদ্রাসা মহিলা মাদ্রাসা ইত্যাদি ইত্যাদি এন্তার সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তাদের পেলেপুষে ফুলেফেঁপে বড় করে তুলতে সাহায্য করেছিল কারা? কারা দেশের দীর্ঘকালের নিরপেক্ষ মেইনিস্ট্রীম বাংলা মিডিয়াম শিক্ষা-ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়ে সারা দেশ জুড়ে দুই এক্সস্ট্রীম (একদিকে উচ্চমধ্য/উচ্চবিত্তদের জন্য লুটপাট-তান্ত্রিক দেশ-বিচ্ছিন্ন বিদেশ-মুখী ইংলিশ-স্ট্রীম আর অন্যদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ গরিব এবং অগরিব বাচ্চাদের জন্য মোল্লা-স্ট্রীম)  শিক্ষা ব্যবস্থার দরজা  এভাবে হাট করে খুলে দিয়ে বাঁকা পথে সমস্ত ইতিহাস-সংস্কৃতি-কন্টেক্সট বিস্মৃত রাজাকার গোষ্ঠীর আদর্শে উজ্জীবিত (অন্তত উজ্জীবিত +_ ফেভারেবল/লিনিয়েন্ট) ছানাপোনাদের অসামান্য সৃষ্টি ও বিস্তারে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল? কারা আজকে যাদের আপনারা লালবদর/রাজাকার-শাবক (তথাকথিত জুলাই-বিপ্লবী) ইত্যাদি বলে বিদ্রুপ করছেন,মুখে-মুখে তাদের পিতৃ-পিতামহদের (অর্থাৎ রাজাকারদের) চৌদ্দ গুষ্ঠী উদ্ধার করে তর্জন-গর্জনমূলক লিপ-সার্ভিস দিতে দিতে (শুরুতে দুয়েকটা ঘাটের মড়াকে দড়িতে ঝুলালেও) তলে তলে তোষন ও পরিপুষ্টির সব রসদ ও অক্সিজেন জুগিয়ে গেছে? কারা মাত্র ১৮ বছর আগেও সর্বশেষ ফেয়ার ইলেকশন (২০০৮) পর্যন্ত যাদের (জামাত) মোট ভোটের (ব্যালট) শেয়ার ছিল মাত্র ৪.৬% (আর আসন এখন যেটা অকল্পনীয়  -- দশমিক.৬৭%) -- সেই নির্বাচনী কন্টেক্সটে অকিঞ্চিৎকর, ফ্রিঞ্জ ও মাইক্রোস্কোপিক একটা দলকে নিজের হীণ ও কূট  স্বার্থে ও ভয়ে ঘুরপথে জিয়ল মাছের মত জিইয়ে রেখে রেখে ও প্রকাশ্যে ডাণ্ডা হাতে তাড়া করে গোপনে দুধকলা দিয়ে পেলেপুষে আজ ৩৩% বিশাল ভোটের শেয়ারের অধিকারী (এবং দশমিক .৬৭% এর জায়গায় তার থেকে ৩৪ গুন বেশি ২৩% আসনের ) একটা শক্তিশালী মেইনস্ট্রীম ২য় বৃহত্তম দলে পরিণত হওয়ার রাস্তা কেটে দিয়েছে ??? অদূর ভবিষ্যতে যারা আরও বড় হয়ে যেতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে ? কারা এদের এবং এদের নতুন প্রজন্মের এই ছানাপোনাগুলির সৃষ্টি পুষ্টি ও বৃদ্ধির পিছনের আসল গ্রাউন্ডওয়ার্ক বা অনুকুল পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরি করে দিয়েছে?  সর্বতো-প্রকার পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েও সেই ৪৭-এর পর থেকে কোনো পাকিস্তানি সরকার, কিম্বা স্বাধীণ বাংলাদেশের জিয়া/এরশাদ/বিএনপি -- কোনো আওয়ামি-বিরোধী ও জামাত-পোষক সরকারই গত ৬১ বছরে (১৯৪৭--২০০৮) যা করতে পারেনি  -- ২০০৮ এর পর মাত্র ১৬ বছরে সেই অসম্ভবকে সম্ভব করা একমাত্র দল কোনটি? জ্বি স্যার , এটাই হচ্ছে সেই দুমুখো চরম অসৎ প্রতারক ভণ্ড বাটপার জোচ্চোর লুটেরা স্বৈরাচারী লিপ-সার্ভিস সর্বস্ব স্বঘোষিত রাজাকার-মৌলবাদ-জঙ্গি বিরোধী ৭১-ভেঙে-খাওয়া মুক্তিযুদ্ধ-ব্যবসায়ী আকাট বেইমান প্রতারক সেকুলার-মীর জাফর দলটি!!! তারাই একমাত্র দায়ী নয় অবশ্যই -- সব রাজনৈতিক দলগুলিই কমবেশি দায়ী -- কিন্তু আমার মতে এই মুক্তিযুদ্ধ-ব্যবসায়ী সেকু-মীর জাফর দলটিই এক্ষেত্রে সর্বাগ্রগণ্য -- তা ১৬ বছর ধরে তারা যতই প্রকাশ্যে গর্জাক না কেন। যেখানে যতটুকু তাদের বর্ষানোর সত্যি দরকার ছিল তার কিছুই আসলে তারা করেনি -- অনীহা , লোভ, ভয়,কূট স্বার্থ , অযোগ্যতা ,অদক্ষতা , অতিচালাকি , আর সীমাহীণ এ্যারোগেন্স সহ নানাবিধ কারনে । সবকিছু তারা কিছু ল্যাঠৌষধং সহ সুপ্রচুর দুধকলার ঘুষ-ঘাষ দিয়ে ম্যানেজ করে ফেলবে ভেবেছিল ,যেন গোপনে দুধকলার ঘুষ-ঘাষ খাওয়ালেই ঐ বিশেষ প্রানীটি আর ফোঁস-ফাস করে ছোবল-টোবল মারবে না। দলটির মাথায় থাকা বিশ্ব-শ্রেষ্ঠ ম্যালিগন্যান্ট নার্সিসিস্ট ব্যক্তিটি হয়তো ভেবেছিলেন অন্তত আরও  অর্ধ-শতাব্দী তার ইশ্বর-বাপের তৈরি ইডেনীয় জমিদারির (প্রায় এরকমই একটি চিত্রকল্প তিনি মাঝেমধ্যেই বাকরূদ্ধ মূর্খ প্রজাদের স্মরণ করিয়ে দিতে খুবই ভালবাসতেন) একচ্ছত্র ক্ষমতায় থাকতে পারবেন তিনি পুত্রকন্যা সহ -- তারপর ব্যবহঋত টিস্যু পেপারের মত দেশটা জাহান্নামে গেলে যাক,তাদের কিচ্ছু আসে যায় না (কারন তারা কেউ তখন এখানে থাকবেন না) -- যেমনটা কিনা ফ্রান্সের রাজা পঞ্চদশ লুই-ও একসময় বলেছিলেন: Après moi, le déluge (“আমার পরে মহাপ্লাবনে ভেসে যাক সব...”) । কিন্তু তিনি/তারা ও তাদের বুদ্ধিগুরু ও বুদ্ধিপোষ্যরা ভুলে গিয়েছিলেন যে স্রেফ তর্জন-গর্জনের লিপ-সার্ভিস , প্রকাশ্য ডাণ্ডার তাড়না্র ভণ্ডামি আর দুধকলার গোপন ঘুষে তাদের মতই  চূড়ান্ত নীতি-আদর্শ-বিবর্জিত স্বার্থান্ধ তস্কর ও লুটেরাদের হয়তো পার্মানেন্টলি বশ মানানো যায় , কিন্তু এসবে যেমন সরীসৃপের চরিত্রে পরিবর্তন হয় না বরং প্রথম সুযোগেই ছোবল মারে, তেমনি আইডিওলজিকালি হাইলি মোটিভেটেড-ফ্যানাটিক ও রেজিমেন্টেড কোনো ফোর্সকেও এভাবে বেশিদিন দমিয়ে রাখা যায় না। যতই বেনামে বা গোপনে তাদের প্রধান রিক্রুটিং পুল বা পাইপলাইনের (হেফাজত ইত্যাদি) আপার এশিলনকে অর্থ-বিত্ত-সম্পদ-মান্যতা- প্রভাব-প্রতিপত্তি ও দৃশ্য-অদৃশ্য আনুফিশিয়াল রাজনৈতিক প্রভাব ও নীতিনির্ধারণী স্পেস দিয়ে নিজেদের মতই আদর্শহীণ দুর্নীতির মাদকাসক্তিতে আচ্ছন্ন করে নির্বিষ ও নিউট্রালাইজ করে ড্রাগনের প্রকাশ্য মাথা থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করা হোক না কেন। যতই আপাত ক্ষমতাবান হোক, এভাবে রাজনৈতিক দল বা সরকার নামক আইডিওলজিহীণ ফ্রিলান্স চোর-ডাকাতদের নেহাৎ ব্যক্তিস্বার্থ ও কনভিনিয়েন্স-ভিত্তিক একটা সুবিধাবাদী কালেক্টিভের পক্ষে কোনোদিনই একটা দেশি-বিদেশি ফাণ্ডেড উচমাত্রার আইডিওলজিকালি মোটিভেটেড ও রেজিমেন্টেড  শক্তিকে দীর্ঘমেয়াদে বশ করা সম্ভব না। যতই কোনঠাসা হোক তারা তাদের বিষ ও আদর্শিক-স্কোপোলামাইন সমাজের রন্ধ্রে-রন্ধ্রে ভাইরাসের মত ছড়িয়ে দিবেই। সেই আদর্শিক স্কোপোলামাইনের বিষবৃক্ষ একদিন ফুলে-ফলে শোভিত হয়ে পূর্ণ বৃক্ষে পরিণত হবেই। এবং সেই বৃক্ষ এতদিনে এসে ২৪শের জুলাইতে তার অস্তিত্ব ঘোষনা করল। সুদুর-প্রসারী জেনারেশনাল স্ট্র্যাটেজিক পেশেন্স , প্ল্যানিং, ও ভিশন সহ এই বিষবৃক্ষের নতুন করে বীজ বপন ৭১-এ তাদের সাময়িক পরাজয়ের  পরবর্তীকালে ৭০-এর দশকের শেষের দিকেই  হয়েছিল মনে হয়।  জম্বি প্যারাসাইট কর্ডিসেপের মতই তারা হোস্ট বডির রাজনৈতিক সুবিধাবাদী দুর্নীতিবাজদের প্রশ্রয়ে চোখের আড়ালে ধীরে ধীরে বেড়ে উঠেছে এবং এবারে ২৪-এ এসে প্রথমবারের মত তাদের স্কোপোলামাইন-গ্রস্ত বিষফল বা জম্বিফলগুলির বাম্পার ফলন প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে নানারূপে । মজার ব্যাপার হল,যে মুক্তিযুদ্ধ আর চেতনা-ব্যবসায়ীদের এই বিষবৃক্ষের সবচেয়ে কার্যকরী প্রতিষেধক হিসেবে মূর্খের মত আশা করেছিল অনেকে, ২০১০-এর দশকে এসে (তার আগেও ছিল) তারাই এই বিষবৃক্ষের সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক হয়ে দাঁড়িয়েছিল পর্দার অন্তরালে। বাংলার ইতিহাসে নজিরবিহীন ,তুলনাহীণ , অকল্পনীয় দুর্নীতি, লুটপাট অত্যাচার অবিচার স্বৈরাচার নিষ্ঠুরতা নৃশংসতার একচ্ছত্র জাঁতাকলে পিষ্ট করতে করতে আমজনতাকে চরম ভাবে এলিনিয়েট করে আবার একইসাথে মুক্তিযুদ্ধ,গণতন্ত্র আর জগাখিচুড়ি অর্ধসিদ্ধ ভুয়া অসাপ্রদায়িকতার চেতনার কপোলকল্পিত মিথ্যা ফেনা তুলতে তুলতে ঐ বিষবৃক্ষেরই অথর্ব বৃদ্ধ মাথাগুলি কেটে (লোকদেখানো যুদ্ধাপরাধের বিচার) কিন্তু গোড়ায় সেঁচ দিয়ে জল-সার ঢেলে (হেফাজত তোষন ইত্যাদি) বিষবৃক্ষটাকে পেলেপুষে বড় করে তুলেছে , চোখের আড়ালে গিয়ে এক্সপোনেনশিয়াল বাড়-বাড়ন্তের অবাধ সুযোগ ও পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছে। আমরা আমাদের চোখের সামনে প্রজন্মগুলিকে ড্রামাটিকালি বদলে যেতে দেখেছি। যার ফসল এখন দেখতে পেয়ে অনেকে চমকে যাচ্ছে আবার অনেক ভণ্ড চমকানোর অভিনয়ও করছে।  এত বিশাল পরিবর্তন গত ১৭ মাসে কোনো ভাবেই সম্ভব ছিল না। এই পরিবর্তন এই ভাইরালি ড্রামাটিক গতি ও বেগ পেতে সফল হয়েছে (যা আগের ৪ দশকে পায়নি) তাদের ১৬ বছরের তুলনাহীন তামসিক অপশাসনের ফলে তাদের বাগাড়াম্বরের ফেনার তলায় চাপা পড়া  গ্রাউন্ড রিয়েলিটিতে সৃষ্ট রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক শুন্যতা ঐ ভিন্ন শক্তি দ্রুতগতিতে পরিপূরণ করে ফেলার সুযোগ পেয়ে যাওয়াতে। ১৬ বছরের বাগাড়াম্বর ও ঢক্কা-নিনাদ-সর্বস্ব বায়বীয় ভুয়া "চেতনার" মিথ্যা ইলিউশনকে তলে তলে আইডিওলজিকাল  স্কোপোলামাইন-চেতনার হার্ড রিয়েলিটি দিয়ে অনেকখানিই প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে এই শেইপ-শিফটিং আইডিওলজিকাল-স্কোপোলামাইন ব্যবসায়ীরা। "মুক্তিযুদ্ধের চেতনা"-র ব্যবসায়ী ও তাদের ভাড়াটে বা নাঈভ বুদ্ধিজীবীরা টেরই পাননি তাদের চেতনার আপাত-দুর্ভেদ্য দুর্গের সারা দেহ বিপক্ষের ঘুনপোকা নিঃশব্দে ভিতর থেকে খেয়ে খেয়ে ফোপরা করে ফেলেছে এবং যে কোনো সময় তা ধ্বসে পড়তে পারে এবং শেষ পর্যন্ত পড়েছেও? শাসক-পক্ষের অনেককেই তখন চাপা উল্লাসে গ্লোট করতে শুনতাম যে তারা বিপক্ষের "মাজা ভেঙে" দিয়েছেন চিরতরে। আর উঠে দাঁড়াতে হবে না! তারা কি এতই অন্ধ ছিলেন সত্যিই? কিন্তু তাদের নেতৃবৃন্দের অনেককে তো আবার এও বলতে শুনেছি যে তাদের পতন হলে দেশে অন্তত ৫-১০ লক্ষ লোকের উপর একটা গণহত্যা হয়ে যাবে। অর্থাৎ ঢাকনির তলে পরিস্থিতির ভয়াবহতা (যার মূল কারন তারা নিজেরাই যদিও) সম্পর্কে তারা ঠিকই সচেতন ছিলেন। এইজন্যই মনে হয় ২৪-এর আগস্টে দেখলাম সত্যিকার ক্রাইসিসের মুহূর্তে পুরো টপ লিডারিশিপ তাদের ঘনিষ্ঠ সাঙ্গপাঙ্গ সহ বিশাল বাহিনি নিয়ে চোখের পলকে বিদ্যুতগতিতে অবিশ্বাস্য ভাবে দেশ থেকে ম্যাজিকের মত হাওয়া হয়ে যাওয়ার মহা-পরিকল্পনা আগে থেকেই রেডি ছিল।  ছিল বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। তো এতই যদি সচেতন ছিলেন,তখন আগে থেকেই গোড়ায় হাত দিয়ে এর প্রতিকারের ব্যবস্থা করেননি কেন? রহস্যের আসল উত্তর ও চাবিকাঠি এখানেই।  মুখে তারা যতই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-ব্যবসার (ধর্মনিরপেক্ষতা,বাঙালী জাতীয়তাবাদ , গণতন্ত্র + প্রগতিশীল মূল্যবোধ ও বাঙালী সংস্কৃতির একটা ভেক) ঝড় তুলেন না কেন,জঙ্গিত্ব ও মৌলবাদ-বিরোধিতার বাগাড়াম্বর করেন না কেন,তারা বা তাদের উচ্ছিষ্টভোগী অতিবুদ্ধিজীবীরা খুব ভাল করেই জানতেন (আমার ধারণা) বিপক্ষের উচ্চ আইডিওলজিকালি মোটিভেটেড-রেজিমেন্টেড-অরগানাইজড-ভায়োলেন্ট-মিলিট্যান্ট কিন্তু শেইপ-শিফটিং শক্তিকে সত্যি সত্যি মোকাবিলা করতে হলে জেনুইন এবং অথেন্টিক সৎ, দুর্নীতিমুক্ত , দেশপ্রেমিক ,আদর্শ-সম্পন্ন আরেকটা শক্তিশালী  কাউন্টার  আইডিওলজিকালি মোটিভেটেড অর্গানাইজড দল (যারা বিশ্বাস করবে যে দেশের ভবিষ্যতে তাদের একটা স্টেক আছে) ও তাদের জেনুইন অপোজিং আইডিওলজি উৎপাদিত কাউন্টার ন্যারেটিভের ব্যপক প্রচার ও প্রসার দরকার গ্রাস-রুটে প্রতিপক্ষকে ওয়াক ওভার নাদিয়ে ফাইট করার জন্য।  কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-ব্যবসায়ী শাসক দল নিজেরা তো এসব কিছুই নন! তারা আসলে মহা-দার্শনিক সক্রেটিসের   Know thyself বাণীটি অনুসরণ করে অনেক আগেই এই মহান আত্নোপলব্ধিতে পৌঁছেছিলেন যে  -- তারা আসলে নেহাতই ভণ্ড চোর-ছ্যাচ্চড় রাস্তার দুই পয়সার কন-আর্টিস্ট ছাড়া কিছুই না,নিজেদের আখের গোছানো ছাড়া তাদের জীবনে আর কোনো "এইম ইন লাইফ"-ই নাই !! সমস্ত সরকার ব্যবস্থা , প্রশাসন , শিক্ষা ব্যবস্থা সবকিছু তাদের হাতে থাকা সত্ত্বেও এইসব জেনুইন আদর্শিক সংগ্রামের শক্তি , সৎ সাহস , যোগ্যতা ,দক্ষতা , মুরোদ , ইচ্ছা ও কমিটমেন্ট -- কোনোকিছুই তাদের নেই। তারা তো ছেড়ে দে মা লুটেপুটে খাই নীতিতে মারি তো গণ্ডার লুটি তো ভাণ্ডার করে নিজেদের আখের গোছাতেই এত কষ্ট করে ক্ষমতায় এসেছেন। আবার এত ঝক্কি পোহানোর আর ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর কি ঠ্যাকা পড়েছে তাদের মত বেচারি বিশুদ্ধ মধুলোভী চোর-বাটপারদের ??? তাই তারা এইসব ঝক্কি ঝামেলা বাদ দিয়ে যদ্দিন পারা যায় কাজ চালানোর মত ঠেকনা দেওয়া যায় সেইরকম স্টিক এণ্ড ক্যারট, আড়ি-ভাব , ঘুষ-ঘাষ-উৎকোচ ,আদর-পিটুনির কম্বিনেশন দিয়েই কাজ চালাতে চালাতে প্রিয় মধু উপভোগ করতে চেয়েছিলেন মনে হয়। মোদ্দা কথায়,একদিকে পিটিয়ে তক্তা বানিয়ে আর অন্যদিকে যাদের পারা যায় টাকা-পয়সা খাইয়ে তাদের আদর্শের বোমা ডিফিউজ করে নিজেদের তাঁবে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন -- কোনোরকম সৎ রাজনীতি ছাড়াই এবং নিজেদের চুরি-বাটপারি বাদ না দিয়েই। এসব কথা তাদেরই অনেককে প্রাইভেট আলাপচারিতায় বলতে শুনেছি অনেক।  এই নীতির কথা প্রথমে শুনি পার্বত্য শান্তিচুক্তির সময় তাদের আগের টার্মে,তারপর এর প্রয়োগ দেখি ২০০৮-এর পরে তাদের শেষ নিরবচ্ছিন্ন ষোড়শ বর্ষের টার্মে। কিন্তু এবার আর এই নীতি সফল হল না,তাদের অতিচালাকির দড়ি তাদের নিজেদের গলাতেই ফাঁস হয়ে বসল ,সেইসাথে দেশটাকেও ডুবিয়ে গেল। তাই আমার মতে ২৪শের অভ্যুত্থান ও সমাজের ভিতর এই বিরাট পরিবর্তনের আসল খলনায়ক -- প্রতারক চূঁড়ামণি চেতনার নামে চরম মিথ্যার ব্যবসায়ী গণশত্রু মাফিয়া-গ্যাং আওয়ামী লীগই। ৭১-এ এদের পূর্বপুরুষরা কি করেছিল বা করে নাই সেটা সুদূর অতীতের বিট্রেইড ইতিহাস, সেই জাবর কেটে বর্তমানের বাটপারগুলি পার পাবে না। দলবল সুদ্ধ লেজ তুলে পালিয়ে যাওয়া দলের সেই একই সুরে গৎবাধা বস্তাপচা প্রোপাগাণ্ডার ভাঙা গ্রামোফোন রেকর্ড এখনও বাজিয়ে গেলে এখন আর শুনতে ভাল লাগে না। এদের শুধু একটাই কৃতিত্ব -- ১৯৪৭-এর পর থেকে কোনো পাকিস্তানি সরকার, কিম্বা স্বাধীণ বাংলাদেশের জিয়া/এরশাদ/বিএনপি -- কোনো আওয়ামি-বিরোধী ও জামাত-পোষক সরকারই গত ৬১ বছরে (১৯৪৭--২০০৮) যা করতে পারেনি  -- ২০০৮ এর পর মাত্র ১৬ বছরে সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে ফেলেছে এই ভণ্ড প্রতারকগুলি। দুঃখ শুধু একটাই -- যাওয়ার আগে দেশটাকে ডুবিয়ে দিয়ে গেছে আর -- প্র্যাক্টিকালি তুলে দিয়ে গেছে যে ৭১ নিয়ে তারা এত ব্যবসা করত ,এত বড়াই করত -- সেই ৭১-এর পরাজিত পক্ষেরই (পাকিস্তান) তৎকালীণ প্রধান ফিফথ কলামিস্ট অক্সিলিয়ারি ফোর্সের হাতেই। এজন্য আমি পাকিস্তান সরকারের প্রতি উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি যেন এইদলের বর্তমানে দিল্লীবাসী প্রধান ব্যক্তিকে তারা অবিলম্বে পাকিস্তানের দু'টি সর্বোচ্চ পদকঃ  নিশান-ই-পাকিস্তান এবং নিশান-ই-হায়দার -- দু'টি দিয়েই অবিলম্বে ভূষিত করেন।  এই দুই পদকের ক্ষেত্রে ইনার চেয়ে বড় ডিজার্ভিং ব্যক্তি এই শতাব্দীতে আর কেউ নাই। এর পাশাপাশি একটা পদ্মভূষণ (?) আর একটা শান্তিতে নোবেল দিয়ে দিলে তো সোনায় সোহাগা। দিল্লীর সেবাও তিনি করেছেন বহুদিন, সেজন্যেই সেখানে আজ আশ্রয় পেয়েছেন। রিয়েল পলিটিক। আবার শোনা যায় নোবেলের জন্যও তার ভয়ংকর ক্ষুধা ছিল। অনেক চেষ্টা-চরিত্রও করেছেন। অনেকটা ট্রাম্পের মতই। অথচ তিনি সেই নোবেল না পেয়ে পেলেন কিনা ইউনুস! সেজন্য মিচকা ইউনুসের উপরও নাকি তার বহুদিন ধরেই প্রচণ্ড আক্রোশ। এটাও ট্রাম্পের মতই। এত চেষ্টা করেও বস ট্রাম্প নোবেল পেলেন না শান্তিতে অথচ সেটা পেলেন তারই চামচা ভেলিজুয়েলান পুতুল মারিয়া কোরিনা মাচাদো। এই রাগে ট্রাম্প এখন মাচাদোর মুখ দেখাই বন্ধ করে দিয়েছেন। আমাদের বঙ্গমাতারও অনেকটা সেই দশা। তাই তাকে একটা নোবেল দিয়েও শান্ত করা হোক। নোবেলটা তাকে একেবারে বাংলাদেশের *** মেরে দেয়ার জন্যও দেয়া যেতে পারে অবশ্য !!!
  • মনমাঝি | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫০738777
  • বাংলাদেশে গত দশকে জঙ্গি/মৌলবাদীদের হাতে নৃশংস সিরিয়াল ব্লগার হত্যাকাণ্ড , সারাদেশে আউল-বাউল-লোকশিল্পীদের উপর নির্মম অত্যাচার করতে করতে তাদের প্রায় বিলুপ্তির পথে ঠেলে দেওয়া সহ বহু ক্ষেত্রে এই আওয়ামী ভণ্ড প্রতারকদের নিষ্ঠুর ক্রিমিনাল উপেক্ষা এমনকি প্রত্যক্ষ সহযোগিতা সম্পর্কে আমার  নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা-অনুভূতি-উপলব্ধি থেকেই অনেক কিছুই বলতে পারি। এই দুইটা ক্ষেত্রেই আমার কিছু ভালবাসা ছিল বিধায় প্রচুর কষ্ট পেতে হয়েছে। এর সবই হয়েছে আওয়ামী আমলেই এবং বহু ক্ষেত্রে তাদের উপেক্ষা কিম্বা আশ্রয়-প্রশ্রয়েই। ব্লগারদের অভিজ্ঞতার কথা সবাই জানে - ইন্টারনেটেই আছে। কিভাবে একদিকে জঙ্গিদের হামলা অন্যদিকে আওয়ামী সরকার,তাদের পুলিশ ও ভাড়াটে বুদ্ধি-ব্যবসায়ীদের পৈশাচিক উপেক্ষা, বিদ্রুপ গালাগালি ধাওয়া ,এমনকি উলটো জেল-জুলুমের শিকার হতে হয়েছে অনেকেই লিখেছেন। অলিখিত রয়ে গেছে অনেক। বাংলাদেশের ইতিহাসে যে সরকারের কাছে তারা সবচেয়ে বেশি প্রোটেকশন আশা করেছিল -- সেই সরকারই তাদের সাথে সবচেয়ে বেশি বেইমানি করেছে। সেই রক্তাক্ত  ইতিহাস আর বেইমানির ইতিহাস ভোলার নয়। সেদিনই আমার সব মোহমুক্তি ঘটেছে এই জুডাস-বাহিনি সম্পর্কে। বিশেষ করে তাদের ড্রাগন কুইন-বী সম্পর্কে। এই ঘটনার পর থেকেই বাংলাদেশের প্রতিবাদী ব্লগ-কালচার কেমন যেন শুকিয়ে গেল। এর পর থেকেই আওয়ামী ঘরানার ন্যাকা** ভণ্ড প্রোপাগান্ডিস্টদের লেখা আর সহ্য হয় না - সত্যিমিথ্যা যাই লিখুক না কেন।
    বাংলাদেশে যে কালচারাল শিফট ঘটেছে তারা আরেকটা লক্ষণ বাউল-লোকশিল্পীদের ক্রমশ অন্তর্ধান। না এরশাদ /বিএনপি আমলে না,এটাও জোরেশোরে শুরু হয়েছে এই আওয়ামী আমলেই। ২০০৬ পর্যন্ত প্রতি শীতে দেখতাম ঢাকার বাইরে থেকে অনেক বাউল শিল্পীদের হায়ার করে এনে বিভিন্ন এলাকায় তাদের আসর বসানো হত। সেটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হোক কিম্বা কোনো এলাকার মার্কেটের দোকান মালিক সমিতিই হোক!! রাস্তা দিয়ে চললেই বিভিন্ন এল্কাকা থেকে গানের সুর / মিজিক ভেসে আসত। অনেক জায়গাতেই চলত সারা রাত। একটা চমৎকার আবহ সৃষ্টি হত। শীতের অনেক রাতে আমিও অনেক সময় আমার বাসার কাছের জলসাটাতে চাদর মুড়ি দিয়ে বসে সারা রাত কাটিয়ে দিতাম। কিম্বা চলতে চলতে দাঁড়িয়ে যেতাম কোন আসরে কিছুক্ষণের জন্য। আর ঢাকার বাইরে তো কথাই নাই -- সারা দেশেই এর বিস্তৃতি ছিল। আসর / জলসা কোথায় হতো না। এরশাদ / বিএনপি কেউ এসব আটকায় নাই। আটকাতে পারে নাই। ২০০৭-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসার পর দেখলাম প্রথম ব্যতিক্রম।  নিরাপত্তার অজুহাতে ৪ জনের বেশি সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হল সারা দেশে। এর মধ্যে এইসব আউল-বাউল-লোকশিল্পীদের আসরও পড়ে গেল। সিলেটের এক প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ছিলাম। সেখানে দেখলাম পাহাড়ের আর জঙ্গলের চিপায় ভয়ে ভয়ে লুকিয়ে আসর বসাচ্ছে। কিন্তু ঐ তত্ত্বাবধায়ক সরকার চলে যাওয়ার পরে আওয়ামী আমলেই লক্ষ্য করলান ঢাকায় পাড়ায় পাড়ায় যেসব ওপেন-এয়ার আসর-জলসা বসত শীতকালে,সেসব আর হচ্ছে না। বিভিন্ন জায়গায় তারা যে আমন্ত্রণ পেত তা আর পাচ্ছে না। ঢাকার শীতকালীণ সঙ্গীত মুখরতা নীরব হয়ে গেছে। তারপর কোন সময় থেকে শুরু হল মনে নেই -- এই জায়গাগুলি দখল করা শুরু করল স্থানীয় মাদ্রাসা বাহিনি আর তাদের মাইক লাগিয়ে গগন-বিদারী ওয়াজ মাহফিল। এখন এরাই সবখানে। সেই যে ঢাকা থেকে শুরু হল লোকগানের পশ্চাদোপসারণ - সারা দেশ জুড়েই চলছে সেই অপসৃয়মান বিলুপ্তির ধারা। কেন হচ্ছে আমরা সবাই জানি। গত ১৭ মাসে না  পুরো দেড় দশক ধরেই এটা চলছে -- চলছিল চেতনা ব্যবসায়ী আওয়ামী সরকারের প্রচ্ছন্ন প্রশ্রয় আর পৃষ্ঠপোষকতাতেই। যাদের উদ্যোগে এই ধারা ক্রমশ বিলীয়মান,তারা আপাতদৃষ্টে অসাম্প্রদায়িক চেতনা-ব্যবসায়ী আওয়ামী সরকারের কঠিন বিপক্ষ হলেও ,বাস্তবে তারা এইসব কাজে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে সরকারের নীরব উপেক্ষা থেকে শুরু করে সস্নেহ এমনকি সক্রিয় সমর্থন পেয়ে এসেছে। বাউলদের উপর কোনো অত্যাচার করলে উলটে আবার বাউলদেরই শাস্তি হত !!! হা হা হা।.. আর যারা অত্যাচার করত তাদের বহু প্রতিষ্ঠানের টাকা যুগিয়েছে তো সরকারই,তাদের জনসংখ্যা বাড়িয়েছে। একদিকে ধর্ম-নিরপেক্ষ মেইনস্ট্রীম শিক্ষা ব্যবস্থার মান ও বিস্তার যেমন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে সরকারি উপেক্ষায়, অন্যদিকে এদেরটা শনৈ শনৈ বেড়ে চলেছে  "ফ্রগ আম্ব্রেলার" মত আপনাদের হুজুরানীর ঘুষ দিয়ে ঠাণ্ডা রাখার কৌশলের বদৌলতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে  একসময় মাদ্রাসা স্ট্রীমের ছাত্ররা ঢুকতে পারত না। তাদের আলাদা স্ট্রীম ছিল। ক্ষমতা রাখতে আপোষ করতে গিয়ে আপনাদের হুজুরানী সেই অনুমতিও দিয়েছিলেন। তার ফল তিনি হাতেনাতেই পেয়েছেন। মুশকিল হল ইউনিভার্সটি আর দেশটারও বারোটা বাজিয়েছেন। সরকারি ক্ষেত্রেও নানারকম শর্ত বা রিকোয়ারমেন্ট ছিল। সেগুলিও কোনো একসময় তুলে নেয়া হয়েছিল (এটা অবশ্য কার সময়ে তাএই মহূর্তে মনে পড়ছে না)। যাইহোক, বাউলদের আর তাদের আসর-জলসার আমাদের এই হাজার বছরের সংস্কৃতি যে এই ক্রমশ হাওয়া হয়ে যাচ্ছে তা এদেশের একটা কালচারাল শিফটের ,মানুষের মানস পরিবর্তনের বা ভিন্ন মানসিকতার একটা নতুন প্রজন্মের উঠে আসারই লক্ষণ। এবং এসব এফেক্টিভ রূপে শুরু হয়েছে ভণ্ড প্রতারক গণশত্রু আওয়ামী লীগের প্রশ্রয়ে ও পৌরাহিত্যেই। 
  • :|: | 2607:fb90:bd58:1f16:4452:6faa:815d:***:*** | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০২:৪২738799
  • মাঝি এবং নৌকা। অন্যরকম দেখা। 
  • aranya | 2601:84:4600:5410:5482:8e7c:d83:***:*** | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৩৯738842
  • 'সারাদেশ জুড়ে ব্যাঙের ছাতার মত হাজার-হাজার মডেল মাদ্রাসা ক্যাডেট মাদ্রাসা ইংলিশ মাদ্রাসা মহিলা মাদ্রাসা ইত্যাদি ইত্যাদি এন্তার সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তাদের পেলেপুষে ফুলেফেঁপে বড় করে তুলতে সাহায্য করেছিল কারা? '
     
    - বর্তমান সরকার কি মাদ্রাসার সংখ্যা কমানোর চেষ্টা করবে? মনে তো হয় না 
     
    মনমাঝির পোস্ট দুটো ভাল লাগল। সঠিক বিশ্লেষণ 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই প্রতিক্রিয়া দিন