অরিনবাবু,
১. ম্যানেজার শৈলেশের স্ত্রীর জ্বলজ্বলে দৃষ্টি, রুক্ষ কথাবার্তার ধরণ দেখেও প্রথম দর্শনে আমার তাকে মানসিক বিকারগ্ৰস্ত মনে হয়নি। কারণ মুখের ওপর দড়াম করে দরজা বন্ধ করে দিলেও সে আমার প্রশ্নের ঠিকঠাক জবাব দিয়েছিল। তবে মনে হয়েছিল মহিলাটির স্বাভাবিক সহবৎবোধ নেই। সে ঘোর উন্মাদ নয় বলেই শৈলেশও তার সাথে বিয়ের পর তখন অবধি বিশ বছর ঘর করছে - ডিভোর্স করেনি বা পাগলাগারদে পাঠিয়ে দেয়নি।
তবে বাৎসল্যবোধ একটা প্রবল প্রাকৃতিক প্রবৃত্তি (Natural Instinct)। তাই কোনো মা যখন দুবার তার শিশুসন্তানকে মাটিতে আছড়ে ফেলতে যায় - সেটাকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক আচরণ বলা যায় না। তাই সে মানসিক বিকারগ্ৰস্ত না হলেও তার আচরণ ক্ষেত্রবিশেষে একটু বা বেশ অস্বাভাবিক। তার অস্বাভাবিকতা কেবল পুরুষদের বা বাড়ির লোকের মনে হয়নি। শৈলেশ ওকে একবার সাইক্রিয়াটিস্টের কাছে নিয়েও গেছিল। সব শুনে তাঁরও মনে হয়েছিল মহিলাটি একটু অস্বাভাবিক কিন্তু সেই অস্বাভাবিকতা সবসময় প্রকাশ হয় না বা তার মাত্রাও সর্বদা প্রবল হয় না বলে তিনি কিছু করতে পারেন নি। শৈলেশের আর্থিক সামর্থ্য, পরিস্থিতি এবং তেমন মানসিকতাও ছিল না যে তাকে দীর্ঘমেয়াদী সাইক্রিয়াটিস্টের পর্যবেক্ষণে রাখবে।
শৈলেশের কথা শুনে এও মনে হয়নি যে মহিলাটি তার স্বামীর ওপর বিরক্ত। বরং উল্টোটাই মনে হয়েছে। কারণ তার বাড়ির লোক তো তাকে বেড়াল পার করার মতো বিয়ে দিয়ে হাত ঝেড়ে ফেলেছে। তাই কিছু অস্বাভাবিকতা সত্ত্বেও মহিলাটি বোঝে শৈলেশই তার একমাত্র আশ্রয়। তার অস্বাভাবিকতার লেয়ার অনুধাবন করতে এই লেখাটির তৃতীয়/অন্তিম পর্বের শেষটা দেখতে অনুরোধ রইলো।
২) জৈন ধর্মে অহিংসা জীবনের বিভিন্ন আচরণে একটি Guiding Factor. তাই জৈন সাধু / সাধবীরা রাতে রাস্তায় সফর করতে চান না যাতে অন্ধকারে কোনো কীট পতঙ্গ মাড়িয়ে না ফেলেন। অনেক জৈন মন্দিরে রাতে খুব মৃদু আলো জ্বলে যাতে উজ্জ্বল আলোর আকর্ষণে পোকামাকড় এসে আহুতি না দেয়। সূর্যাস্তের পর আহার না করাও ঐ কারণে। আহারের চয়েসের ক্ষেত্রেও যথাসম্ভব কম অহিংসা মান্য বিষয় - তাই মাটির তলার জিনিস - আলু, মূলো, গাজর, পিঁয়াজ ওরা খেতে চান না। এক তো ওগুলো তুলতে গেলে খুরপির আঘাতে মাটির তলায় কেঁচো বা অন্য কীট মারা যেতে পারে। তাছাড়া শেকড়সুদ্ধ উপড়ে নিলে ঐ গাছগুলিও মারা যায়।
তবে অধিকাংশ জৈনদের কাছে দুধে আপত্তি নেই। তারও কারণ আছে। এখনকার মতো ইঞ্জেকশন দিয়ে বা কমার্শিয়াল ডেয়ারি ফার্মে যেভাবে গরুগুলিকে কেবলমাত্র দুধ দোয়ার জন্য পালন করা হয় সে তুলনায় একদা গৃহপালিত গরু, ছাগলকে যত্ন করে পালন করে যথাসম্ভব কম কষ্ট দিয়ে দুগ্ধ দোহন করা হোতো। তাই দুধ জৈন ডায়েটে বর্জনীয় নয়। তবে পশুপ্রেমী, নিরামিষাশী মানেকা গান্ধী দুধ বর্জন করতে বলে একবার হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিলেন।
নিরামিষাশী মহাত্মা গান্ধীও আজীবন ছাগদুগ্ধ পান করেছেন বলে শুনেছি। আমি এযাবৎ বেশ কয়েকটি জৈনতীর্থে গেছি। এক জৈনতীর্থে জৈন ভোজনশালায় দুপুরে খেতে গিয়ে দেখলাম, স্যালাডে শশার সাথে মূলোও রয়েছে। ম্যানেজারকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম - জৈনরা তো মাটির তলার সবজি খান না বলে শুনেছি - তাহলে স্যালাডে মূলো কীভাবে এলো? উনি বলেছিলেন, সময়ের সাথে অনেক কিছুই আর মানা সম্ভব হয় না।
এই প্রসঙ্গে একটা WiKi link রাখলাম - সেখানে “
lacto-vegetarian” অংশটি দেখলে হয়তো আপনার জিজ্ঞাসার জবাব পাবেন।