

আবার মাঠাবুরুতে ফিরে এলাম। সকালে পাহাড়ে ওঠার ঐ কঠোর পরিশ্রমের ফলে দুপুরে ভাত খাওয়ার পর অনেকেই ঘুমিয়ে পড়েছিল। আমিও ব্যতিক্রম নই। কিন্তু বিকেলে অপেক্ষা করছিল অন্য চমক - যার পোষাকী নাম - সেলফ কুকিং। মোদ্দা কথাটা হল, যেখানে কোন পরিকাঠামোই নেই, সেখানে পাথর-কাঠ-কুটো সাজিয়ে উনুন বানিয়ে পাতার জ্বালন দিয়ে ম্যাগি রান্না করতে হবে, নইলে উঁহু বিকেলের খাবার পাবেনা, কারণ আলাদা কিছু তৈরিই হয়নি। যে দল বানাতে পারবে সে খাবে, যারা পারবেনা তাদের না খেয়ে থাকতে হবে। এই উনুন বানাতে পারা একধরণের স্কিল, যা আমাদের পূর্ব পুরুষ এবং পূর্ব নারীরা প্রত্যেকেই জানতেন, কিন্তু আশ্চর্য হল আমরা জানিনা - খুব স্বাভাবিক, আমাদের দরকার হয়না। কিন্তু ক্ষেত্র বিশেষে এটি যে কত দরকারি, বনে বাদাড়ে পেটে খিদের আগুন জ্বললে বোঝা যায়। অনার্স ক্লাসের শুরুতে যখনই থিয়োরিতে জিওটেকটনিক্স আর জিওমরফোলজি পড়ানো শুরু হয়, তখন প্র্যাকটিকালে থাকে পাথর আর খনিজ চেনার পাঠ। কিন্তু বইয়ের পাতায় শিলা আর খনিজ নিয়ে পড়া আর বাস্তবে উনুন তৈরির জন্য পাথর নির্বাচন করার মধ্যে আকাশ পাতাল ফারাক।
উনুন তৈরির জন্য এমন পাথর বেছে নিতে হয় যা তাপে ফেটে যাবে না এবং যা তাপ ধরে রাখতে পারবে। আবার একটা খোলা জায়গায় উনুন বসানোর জন্য সঠিক জায়গা কোনটা হবে সেটা নির্ণয় করাও সমান জরুরি। আমাদের ট্রেনাররা বললেন যে, উনুন এমন জায়গায় করতে হয় যেখানে হাওয়া সরাসরি আগুন নিভিয়ে দেবে না, আবার ধোঁয়া উঠে রান্নায় বাধাও হবে না। এর জন্য মাইক্রো-ক্লাইমেট বা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জলবায়ুর আচরণ বুঝতে হবে। মাইক্রো ক্লাইমেট বলতে এখানে খুব বড় কিছু নয়, বাতাসের গতির দিকটা বুঝলেই চলবে। ঝোড়ো বাতাস না থাকলেও বায়ুর অভিমুখ বোঝা যায়। একমুঠো শুকনো পাতা হাতে ডলে গুঁড়ো করে নিয়ে একটু ওপর থেকে ছেড়ে দিলে ঐ হালকা পাতার টুকরোগুলো কোন দিকে ভেসে গিয়ে তারপরে মাটিতে পড়ছে তা স্পষ্ট বোঝা যায়। তখন দিক বুঝে কোন বড় পাথর, বা ঝোপ আড়াল করে সেখানে উনুন করতে হয়। আর একান্ত যদি কোন উপযুক্ত আড়াল না পাওয়া যায়, তখন বাতাস যেদিক থেকে আসছে তার থেকে ৪৫ ডিগ্রি কোণে উনুনের মুখটা রাখতে হবে। খুব ঘন ক্যানোপিওলা গাছের নিচে আবার উনুন করা যাবেনা। এতে প্রথমত, ওপরের ডালপালায় আগুন লাগার ঝুঁকি থাকে; দ্বিতীয়ত, ধোঁয়া গাছের পাতার ছাদের নিচে আটকে গিয়ে চারপাশ ধোঁয়ায় ধোঁয়া হবে। আর একটা ব্যাপার হল, জঙ্গলের মাটি সচরাচর স্যাঁতসেঁতে আর ভেজা থাকে। সেখানে উনুন করলে মাটি নিজেই তাপ শোষণ করে নেবে, উনুনে ভালো আগুন হবেনা। তাই উনুন বসাতে গেলে একটু শুকনো জায়গা দরকার।
মনে রাখতে হবে আমরা এই সেলফ কুকিং এর ক্লাসটা করছি বিকেল সন্ধের মুখে। এই সময়ে বনে পাহাড়ে একটা ঘটনা ঘটে। এইসময়ে পাহাড়ের ওপর দিক থেকে বাতাস নিচের দিকে বয়। ভূগোলে আমরা বলি - ক্যাটাবেটিক উইন্ড। সকালে আবার উলটো - তখন নিচ থেকে বাতাস ওপর দিকে যায়। আমরা বলি অ্যানাবেটিক উইন্ড। এবারে সকাল বা বিকেল যখনই রান্না করি না কেন আমাকে কায়দা করে এমন দিকে মুখ করে বসতে হবে, যেন ধোঁয়াটা সরাসরি মুখে না আসে, পাশ কাটিয়ে চলে যায়। বাতাসের শক্ত শক্ত নাম শুনলে বিরক্তি আসতে পারে বটে, তবে ব্যাপারটা খুব সোজা। সূর্য উঠলে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওপরের দিকের ঢাল আর তার সঙ্গে লেগে থাকা বাতাস দুটোই রোদ পেয়ে খুব গরম হয়ে যায়। আর ব্যাস - গরম মানেই প্রসারণ, ওজনএর কমতি, ঊর্ধ্বদেশে গমন। ঢালের গা থেকে বাতাস যেই ওপর দিকে সরতে শুরু করল, অমনি সেই ফাঁকা জায়গা ভরাট করতে নিচের উপত্যকা থেকে জমে থাকা শীতল বাতাস ওপরে উঠে আসে। সকালে ঢালের মাথায় উঠে যখন খুব দমের কষ্ট হচ্ছিল, তখন ঐ বাতাস আমি অনুভব করেছি। একটা বেশ ঠান্ডা আমেজের বাতাস গায়ে লাগছিল, ওতেই জিরিয়ে নেবার সময়ে বুকের চাপটাও কমল, নামার জন্য দম ফিরে পেলাম। ওইটাই অ্যানাবেটিক উইন্ড। সূর্য পাটে বসলে আবার উলটো হচ্ছে। ঢাল আর পাহাড় চুড়ো যত তাড়াতাড়ি আগুনের মত গরম হয়েছিল, এখন ঠিক ততটাই দ্রুত তাপ বিকিরণ করে ঠান্ডা হয়ে যায়। সঙ্গে তার গায়ে লাগা বাতাসও তাই। আর ঠান্ডা মানেই ঘন হয়ে ভারি হয়ে যাওয়া, তখন আর ওপরে থাকবে কীকরে? মাটির টান আছে না। বাতাসী বাছারা ভোর ভোর রওনা দিয়েছিল পাহাড় চুড়োর উদ্দেশে, এখন সন্ধে হতে তারা কি আবার ধরিত্রী মায়ের কোলে ফিরবেনা! অবশ্যই ফিরবে - এটাই ক্যাটাবেটিক উইন্ড - যেটা এখন আমাদের গায়ে লাগছে।
মাইক্রো ক্লাইমেট তো শিখলাম। শেখার মধ্যে নতুন বিশেষ কিছু নেই, সবই আমরা ক্লাসে পড়েছি বা পড়াই। কিন্তু বুকিশ নলেজ এক জিনিস আর সেটা প্রয়োগ করতে শেখা, অনুভব করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় - দুটোর মধ্যে আকাশ পাতাল ফারাক। ট্রেনারেরা বলে না দিলে ন্যাকা বোকা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া কীই বা উপায় ছিল আমার? মাঠাবুরুর পদতলে কুড়ি একুশ বছরের নবীনা ছাত্রী আর বই পড়া সেকেলে বুড়ির মধ্যে তফাৎ কোথায়? সরকারি ‘জল ধরো, জল ভরো’ স্লোগানের মত আমাদের অবস্থা এখন ‘খাবার চাও? উনুন গড়ো, কুটো পুড়িয়ে রান্না করো, না পারলে খিদেয় মরো।’ পুরো দলটাকেই ছোট ছোট উপদলে ভাগ করে দিয়েছেন স্যারেরা। তারা যে যার মত উনুন বসানোর জায়গা খুঁজে নিল। এবারে উনুন গড়ার পালা।
আমরা যেমন কোন সার্ভে ইন্সট্রুমেন্ট ট্রাইপড বা তেপায়া স্ট্যান্ডের ওপরে বসাই, ঠিক তেমনে ভাবে রান্নার পাত্রটা তিনটে মোটামুটি সম উচ্চতার ভারি পাথর ত্রিভুজের মত সাজিয়ে তার মাথায় বসাতে হবে। তবে খুব সাবধান, শুকনো পাথর হওয়া চাই। পাথর ভেজা থাকলে অন্য বিপত্তি হবে। আগুন জ্বলার সময়ে ঐ বাষ্পের চাপে পাথর বোমের মত ফেটে যেতে পারে। এই তিনটে পাথরের মাঝের ফাঁকা অংশগুলোর একটাকে প্রধান মুখ হিসেবে ব্যবহার করতে হবে, যেখান থেকে কাঠকুটো, শুকনো পাতা ঠেলে ঢোকানো হবে। এই মুখটা কোন দিকে বসবে, আর রাঁধুনিকে কোন দিকে মুখ করে বসতে হবে সেটা বোঝার জন্যই আগে অত মাইক্রো ক্লাইমেট বুঝতে হল। তবে শুধু কাঠ ঢোকালে তিনদিক থেকেই ঢোকানো যেতে পারে, সাজাতে সুবিধে হয়। বিভিন্ন গ্রুপের হয়ে যখন আমরা উপযুক্ত পাথর খোঁজায় ব্যাস্ত ছিলাম, তখন কলেজের ক্লাসের কথা মনে করে হাসি পেল আমার। ক্লাসে পাথর চিনতে চুম্বক, ছুরি, স্ট্রিক প্লেট, অ্যাসিড কত কিছুই না দিই আমরা। চুম্বকে আকর্ষণ করলে ম্যাগনেটাইট, লালচে বাদামি স্ট্রিক পড়লে হেমাটাইট, আবার কালচে সবুজ হলে পাইরাইট, নখে আঁচড় দেওয়া গেলে ট্যাল্ক, ছুরি দিয়ে কিচ্ছু হচ্ছেনা, উলটে ছুরির ওপরে পাথরের আঁচড় পড়ছে দেখলে হয়তো কোয়ার্টজ হতে পারে। কার্বোনেট যৌগ আছে কিনা, মানে চুনাপাথর বা মার্বেল রয়েছে কিনা তার জন্য মাইল্ড অ্যাসিড - ড্রপারে করে দিলে বুদবুদ উঠবে। যেগুলো বললাম সেগুলো ছাড়াও আরও অনেক ভৌত বিষয় বিচার করতে হয়। পরীক্ষার সময়ে দেখা যায় সমস্ত শেখানোটা জলে গেছে। ছেলেমেয়েরা অন্তত বুদবুদ উঠছে কিনা দেখার জন্য সব রক মিনারেল স্পেসিমেনকে অ্যাসিডে চান করিয়েছে। আর প্রতিটা টেবিল অ্যাসিডে ভেসে যাচ্ছে। কিন্তু এখন এই উনুন পাথর খুঁজতে গিয়ে ঐ সব জ্ঞান একটাও কাজে লাগানো যাচ্ছেনা। তারপর যখন সত্যি সত্যি মাপ মত তিনটে পাথর যোগাড় হল, দেখে মনে হল এগুলো গ্রানাইট নিস - কারণ গায়ে হালকা ও গাঢ় রঙের স্পষ্ট ব্যান্ড বা ডোরাকাটা দাগ রয়েছে। এগুলো খুবই শক্ত আর তাপ সহনশীল তো বটেই। কারণ আগ্নেয় গ্রানাইট শিলা যখন পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রচণ্ড তাপ এবং চাপের মুখে পড়ে, তখন তার অভ্যন্তরীণ গঠন ও খনিজের সজ্জা বদলে গিয়ে নিস-এ পরিণত হয়।
উনুন তো হল যেমন তেমন, এদিকে আগুন জ্বালানো আর এক ঝক্কি। মানে আসলে ঝামেলা কিছু নেই, কিন্তু, ‘অ্যাই এদিক দিয়ে কাঠ দে, ওদিক দিয়ে পাতা ঠেলে দে। সর, সর আমি একটু দিই’ - এই করতে করতে দু মিনিটের ম্যাগি যেন কাদা কাদা,হলদে পাঁক। তবে তাতে কী? খিদের মুখে খোলা আকাশের নিচে, বন পাহাড়ের ধারে, শীতের আমেজ মেখে, নিজের হাতে পাথর খুঁজে, উনুন বানিয়ে, জ্বালন দিয়ে সসপ্যানে বানানো কাদা ম্যাগি। এ হল অমৃতের চেয়েও বেশি। কেষ্টর প্রাণটাতো রক্ষা হল, তাও এত আনন্দ করে। পেট ঠান্ডা হলে আমার মনে একটা সন্দেহের উদয় হল। অনেকগুলো দল একসঙ্গে হুড়োহুড়ি করে কে আগে উনুন করতে পারবে এই রেষারেষি করে পাথর খুঁজছিল। তখন খোঁজার তাড়ায় কিছু মনে হয়নি। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে সবাই বেশ মাপ মত তিনটে করে পাথর পেয়ে গেল - ব্যাপারটা কি এতটাই সোজা! অন্য সময়ে আমাদের চেয়েও বড় দল আসতে পারে। তারাও একটু খুঁজে উনুনের পাথর পেয়ে যাবে তার মানে। সেলফ কুকিং এর ক্লাসের জন্য হবিট হাউস ক্যাম্পাসের আশেপাশে এরকম অনেক পাথর যোগাড় করে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা আছে।
সে যাই হোক, সুষ্ঠু ভাবে সবকিছু পরিচালনা করতে হলে মাউন্টেনিয়ারিং ক্লাবগুলোকে এইটুকু হোম ওয়ার্ক করে রাখতেই হয়। তবে এখানকার এইসব কাজ, ছোট ছোট দায়িত্ব, আর অনেক অনেক আনন্দ, সবাই মিলে ছোট তাঁবুতে থেকে কষ্ট করার মধ্যেও আনন্দ - এসব কিছু মন ভরিয়ে দেয়। আমি যে এইসব কাজ করতে পারি, এটাই তো ভাবিনি কখনও। স্টুডেন্টদের কাছে - এখানে যা যা ওরা করছে - এসব কল্পনারও অতীত। "আমি আমার আরামের পরিধির বাইরে গিয়েও মানিয়ে নিতে পারি"—এই উপলব্ধিটাই ওদের মনটাকে নমনীয় আর দৃঢ় করে তোলে, যা ভবিষ্যতের কর্মজীবনে বড় কোনো সমস্যা এলেও ভয় না পেতে শেখায়। এককথায় এইধরণের ক্যাম্প একজন পড়ুয়াকে ঘরে বসে থাকা "প্যাসিভ লার্নার থেকে "অ্যাক্টিভ সারভাইভার" করে তোলে। কারণ পাহাড়তলির বনের মধ্যে কাপড়ের তাঁবুতে থাকা - সকালে কোমরে দড়ি বেঁধে পাহাড়ের মাথায় চড়া, রাতে নিশ্ছিদ্র অন্ধকারে কীটপতঙ্গ, বন্য পশুর ডাক শোনা - বিপদ আছে আশেপাশে, কিন্তু সবাই জড়ামড়ি করে প্রকৃতির কোলে একসঙ্গে আছি - এই সবই আমাদের মস্তিষ্কে একধরণের পজিটিভ স্ট্রেস দেয়। আমাদের শহুরে মস্তিষ্কের কাছে এই পরিস্থিতি একটা যেন "Pseudo-Emergency" বা ছদ্ম-জরুরি অবস্থা তৈরি করে। এখানে মানিয়ে নিয়ে এই যে প্রতি বেলায় এক একটা নতুন নতুন সাফল্য - এতেই আত্মবিশ্বাস আসে। মনস্তত্ত্ববিদ আলবার্ট ব্যান্ডুরার (Albert Bandura) Self-Efficacy Theory অনুযায়ী বিষয়টা ব্যাখ্যা করা যায়। ঐ থিয়োরিতে ব্যান্ডুরা দেখিয়েছেন, মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়ার সবচেয়ে কার্যকর পথ হলো 'মাস্টারি এক্সপেরিয়েন্স' বা কোনো কাজে প্রত্যক্ষ সাফল্য অর্জন। এইজন্যই আমরা যখন চাকরির প্রয়োজনে উচ্চ শিক্ষা দপ্তরে বা এই ধরণের কোন মিটিং কনফারেন্সে যাই দেখি চেনা মানুষ। বিভিন্ন কলেজের ভৌগোলিকেরাই ঘর ভরিয়ে রেখেছেন। আমার কলেজ হাওড়া জেলায়। ঐ জেলারই অন্য কলেজে গিয়ে দেখি ভূগোল বিভাগের লোকেরা সবাই সবাইকে চেনে। কিন্তু অন্য ডিপার্টমেন্টে বিশেষ করে হিউম্যানিটিস বিভাগ গুলোয় অন্য কলেজের সহকর্মীদের তাঁরা চেনেননা। একথা শুনলে অন্য সাবজেক্টের লোকের রাগ হতেই পারে। কিন্তু এ আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, এতে কোন জল মেশানো নেই।
সেদিন মাঠাবুরুতে রাত বাড়লে মাঝখানে আগুন জ্বালিয়ে চারিদিকে গোল হয়ে বসলো মেয়ের দল, সঙ্গে আমরা। বৈশাখীর আচারের শিশি নিয়ে পাসিং দ্য পিকল খেলা জমে উঠল খুব। যখন যে আউট হচ্ছে, তাকে কিছু না কিছু পারফর্ম করে দেখাতে হল। সব শেষে ডিনার। সেদিন রাতে আকাশে কালপুরুষের দিকে তাকিয়ে মনে হল, মোবাইলটা হাতে থাকলে মন চলে যেত কেবল ছবি পোস্ট আর তার রিঅ্যাকশন কী আসছে তা দেখার জন্য। মাঝখানে চলে আসতো গাদা গুচ্ছের নতুন ধরণের জিনিসের বিজ্ঞাপন। ডিজিটাল ইন্ডিয়া হয়ে বিপদ হয়েছে, নতুন কিছু দেখলেই অ্যামাজন - ফ্লিপকার্টে হাত চলে যায়। কিন্তু এখানে আমরা মোবাইল থেকে দূরে, আসলে কনজিউমারিজম থেকে দূরে আছি। শহুরে 'ইউজ অ্যান্ড থ্রো' সংস্কৃতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে কত অল্প উপকরণে কত বেশি আনন্দ পেলাম। আজকাল আমাদের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে শুধু ডিপ্রেশন আর অ্যাংজাইটিতে ভোগার ধুম পড়েছে। কিছু দিন আগে পরীক্ষা চলতে চলতে একটি ছাত্রী আত্মহত্যা করল। আমরা শুনে হতবাক, তার ক্লাসের বন্ধুরা শোকস্তব্ধ। পরে শুনলাম প্রেম ঘটিত কোন রাগারাগিতে ইন্সট্যান্ট রেললাইনে ঝাঁপ দিয়েছে। অথচ ক্লাসে শান্ত মেয়ে ছিল। ভেতরে ভেতরে এত অধৈর্য সে কবে হয়েছিল? কয়েক বছর আগে পাশ করে বেরোবার পরে একটি মেয়ে ব্রেন স্ট্রোক হয়ে মারা গেল। খবর পেলাম, তার বাবার কোন কারণে অনেক ধার হয়ে গিয়েছিল। সেই চিন্তায় নাকি সে মন মরা হয়ে গিয়েছিল। আরে জীবন পড়ে আছে - লড়ে নেব - এইটুকু মনের জোর থাকবেনা! আহা এদের সবাইকে যদি বছরে অন্তত দুদিন পাহাড়ে চড়ার ট্রেনিং ক্যাম্পে রাখা যেত! ভাবতে ভাবতে মন ভারি হয়ে আসে।
আমাদের পাহাড়ে চড়ার পর্ব আপাতত শেষ হল। তবে শেষ দিনে একেবারে নতুন অভিযান। পুরুলিয়ার গালা বা লাক্ষা শিল্পের হাল হকিকত জানা - তাও দস্তুরমতো হাতে কলমে।
Soma Das | ২৩ আগস্ট ২০২৬ ০০:০৭742353
হীরেন সিংহরায় | ২৩ আগস্ট ২০২৬ ০১:৪৪742356
MANISHA DEB SARKAR | ২৩ আগস্ট ২০২৬ ১৭:০৪742363
kk | ২৪ আগস্ট ২০২৬ ০০:২১742367