@kk - অমলবাবুর এক বন্ধুর মন্দিরে টেরাকোটার কাজ সম্পর্কে ধারণা আছে। তিনি বলেছেন, ঐ প্রাণীটি শিল্পীর নিজস্ব ভঙ্গিতে করা - সিংহ। শক্তির প্রতীক। শিং-এর মতো যা লাগছে তা কান।
রমিত বললেন ওটা হয়তো “হয়বদন সিংহ” - অমলবাবুকে রমিতের দেওয়া সূত্রটি বলেছিলাম। তাঁর বন্ধুও বললেন, টেরাকোটার কাজে কোথাও সিংহের মুখ “হয়” বা ঘোড়া সদৃশও হয়ে থাকে।
এখানেও প্রাণীটির বিকশিত দাঁতের সারি, বিস্ফারিত নাসা ঘোড়ার মতো লাগছে কিন্তু কেশরের ভাবে, নখরযুক্ত থাবায়, ক্ষীণ কটিতে সিংহের ইংগিত। অতখানি প্রসারিত জিহ্বা কার মতো কে জানে। সিংহ তার ল্যাজ ঘোড়ার মতো শরীরের লেভেলের অতো বেশী ওপরে ওঠাতে পারে বলে মনে হয় না। সুতরাং ল্যাজের ভঙ্গিমা ঘোড়ার মতো। অর্থাৎ সব মিলিয়ে, শিল্পীর খেয়ালে হয়তো এটি একটি বকচ্ছপ বা হাঁসজারু গোছের ব্যাপার।
প্রণব রায় লিখিত - “বাংলার মন্দির - স্থাপত্য ও ভাস্কর্য” গ্ৰন্থে অনন্ত বাসুদেব মন্দিরে টেরাকোটার কাজ সম্পর্কে নিম্নোক্ত তথ্য পেলাম। তাতে একটি বর্ণনা রয়েছে - “শ্রীরামচন্দ্রের জন্ম ও অযোধ্যায় আনন্দ উৎসব”।
ঐ মন্দিরে তোলা আর একটি প্যানেলের ছবি নীচে দিলাম। তাতে করতাল বাজিয়ে সম্মিলিত নৃত্যভঙ্গিমা দেখা যাচ্ছে। হয়তো তা উপরোক্ত সূত্রটির প্রতিফলন। সঠিক জানি না।
মন্দিরের আরো দুটি ছবি রাখলাম।


এখানে দরজার ওপরে উপবৃত্তাকার অংশটিই লেখায় বড় করে দিয়েছিলাম।
@ অমিতাভ - আপনি বললেন - “এ লেখা পড়ে ভালো লাগল বলা যথেষ্ট হবেনা। বরং বলি শান্তি লাগল।” - ঘরের কাছে মামূলী এক “অন্য ভ্রমণ” বৃত্তান্তর প্রেক্ষিতে এটা বেশ অন্য ধরণের পাঠ প্রতিক্রিয়া। দাগ কাটলো।
“চললুম ঈর্ষাহীন দেবীর গৃহে - ২” পর্বে কেকে মন্তব্য করেছিলেন - “আপনার ভ্রমণ কাহিনীগুলোতে যেমন একটা নরম রোদ্দুর আর ঝিরঝিরে হাওয়ার মধ্যে দিয়ে একা একা নির্জন বনপথে হেঁটে যাবার মত অনুভূতি থাকে, এতেও তাই পাচ্ছি। সেইসাথে মানুষের গল্প।”
আসলে কিছু ব্যতিক্রম বাদে (যেমন ভাদিয়াকুণ্ড, নরোয়র) সচরাচর আমার ভ্রমণ বৃত্তান্তে স্থানমাহাত্ম্য, স্থাপত্য, শিল্পকলা, ইতিহাস, পূরাণ, ভূগোল ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য, বিবরণ খুব একটা থাকে না কারণ ওসবে আমার বিশেষ দখল নেই। তাছাড়া এও মনে হয় এসব তো আজকাল নেটে খুঁজেও পাওয়া যায়। আমার লেখায় প্রাধান্য পায় পথচলতি নানা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা।
“সেই নেশায় বিদিশায়” পড়ে দীপাঞ্জন মুখোপাধ্যায়ও বলেছিলেন - আপনার দেখাটা অন্যরকম। পাঠকের এহেন আন্তরিক, অনুভূতিপ্রবণ পাঠ প্রতিক্রিয়া মনে থেকে যায়।
সবাইকে পুনরায় ধন্যবাদ।