এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  স্মৃতিচারণ  আত্মজৈবনিক

  • কিছুক্ষণ ৮ 

    হীরেন সিংহরায় লেখকের গ্রাহক হোন
    স্মৃতিচারণ | আত্মজৈবনিক | ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১৬২২ বার পঠিত | রেটিং ৪.৫ (৪ জন)
  • ক্রিস্টিনার কথা


    ক্রিস্টিনা লাউবরেখট

    ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কিঙ্গের বাজারে খুনোখুনি লেগেই থাকে, আক্ষরিক অর্থে নয় অর্থের নিরিখে। কোন ব্যাঙ্ক একটি আন্তর্জাতিক ঋণ সংগ্রহের ডিল পাকড়ে বাজারে নাম জাহির করেছে : ইন্টারন্যাশনাল ফাইনান্সিং রিভিউ বা ইউরোউইক পত্রিকায় তার নাম ছাপা হলো। সেটা পড়ে আমাদের বসেরা বললেন কি করেন আপনারা ? ওই দেখুন রয়্যাল ব্যাঙ্ক কি রকম ডিল এনেছে বাজারে, জয়গান হচ্ছে চতুর্দিকে ? জানতেন এরা লোন চাইছিল ?

    এর উত্তর বহুবিধ হতে পারে - আমরা সুদের হার বেশি চেয়েছিলাম বলে বা আমাদের ব্যাঙ্কের ক্রেডিট গুরুরা ঋণ সীমা নিচুতে বেঁধে দিয়েছিলেন ইত্যাদি কারণে খদ্দের অন্য ব্যাঙ্কের কাছে গেছে। যে জবাব দিলে চাকরি যাবার বিপুল সম্ভাবনা সেটা হলো- আমরা জানতাম না এই খদ্দের বাজারে ঋণের সন্ধান করছিল। দক্ষিণ আফ্রিকায় এক বড়ো সাহেব একবার বলেছিলেন জানেন, স্টেলেনবশের বেকার পরিবার এক বিলিয়ন ডলার খুঁজছে ? নির্লিপ্তভাবে বলেছিলাম, না জানি না। তবে আমাদের লোকজন মার্কেট চেনে, এমন ডিলের অস্তিত্ব থাকলে সেটা আমাদের কানে নিশ্চয় আসতো, আমাদের প্রস্তাব পাঠাতাম আর আমরা যদি না পাঠিয়ে থাকি তার অর্থ এই যে এতে হাত না দেওয়াই ভালো। ' আঙ্গুর ফল টক বলছি না, তবে সব ফলই আঙ্গুর নয়। কোন ব্যাঙ্ক যখন একটা ভেড়াকে সিংহের পোশাক পরিয়ে দিয়ে তাদের রঙচঙে পুস্তিকায় পেশ করে তাতে আমরা সব সময় ভুলি না। তার উদাহরণ অজস্র – আলেক্সান্দ্রিয়ার স্কুল শিক্ষকের পুত্র আল ফায়েদকে জাহাজি পরিবারের উত্তরসূরি বলে ধ্বজা তুলে ক্লাইনওয়রট বেনসন হ্যারডসের দোকান বিক্রির ঋণ যোগাড় করেছে। তবে এ চালাকি সর্বদা সফল হয় না, উদাহরণ অজস্র।

    ডিল যে ব্যাঙ্ক পেয়েছে সে পুরো লোন নিজের খাতায় রাখবে না, বাকিটা তাকে এই বাজারেই বেচতে হবে। বাজার কে ? আমাদের মতো বিশটা ব্যাঙ্ক বা ফাণ্ড নিয়েই বাজার, তাদের ডিলে কাঠি দিতে হলে আমাদেরই দু চারজন যদি ঋণ গ্রহীতার নামে নিন্দে মন্দ হাওয়ায় উড়িয়ে দেয় তাহলেই চিত্তির। তবে চোরে চোরে মাসতুতো ভাই। আমরা জানি এ বাজারে আমাদের সকলকে মিলজুলকে থাকতে হবে। আজ ওই ব্যাঙ্ক শার্টের কলার তুলে ফুটুনি করছে, আমাদেরও দিন আসবে। কার জুতো যে কখন কার পায়ে, কোনদিন জুতো হাতে হেঁটে বাড়ি যেতে না হয়।

    ইউনাইটেড উই স্ট্যান্ড, ডিভাইডেড উই আর ডেড !


    ২৭শে এপ্রিল, ১৯৯৪ : এক মানুষ এক ভোট
    ডারবানে ওলাঙ্গের স্কুল বাড়িতে নেলসন ম্যানডেলা প্রথম ভোট দিলেন


    নেলসন ম্যানডেলার মুক্তির পরে দক্ষিণ আফ্রিকার হাওয়া বদল – সাদা কালো সব মানুষের এক ভোট, ক্রিকেট রাগবি একত্রে খেলা হয়। বর্ণবৈষম্যের প্রতিবাদে যে সব দেশের ব্যাঙ্ক দক্ষিণ আফ্রিকা পরিত্যাগ করেছিল তারা এবার লগ্নির খোঁজে টাকার থলি নিয়ে ফিরছে একে একে ( নিতান্ত ট্রিভিয়ার খাতিরে জানাই কিছু দেশ আপারথাইদের তুমুল উত্তেজনার মধ্যেও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক বন্ধন ছিন্ন করে নি – যেমন তাইওয়ান, ইসরায়েল, জাপান এবং বিশেষ কিছু ব্যাঙ্ক যেমন জার্মানির কমেরতসবাঙ্ক ) – দুর্বার বেগে তারা পুরনো খদ্দেরের সঙ্গে নতুন গাঁটছড়ায় আবদ্ধ হবার প্রয়াসী।

    এবার সম্মুখ সমর।

    সিটি ব্যাঙ্ক আপাতত কোন কর্পোরেট নয়, সে দেশের অন্যান্য ব্যাঙ্কের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে নামতে প্রস্তুত, খদ্দেরের দুয়োরে দুয়োরে কড়া নাড়া শুরু। নব উন্মুক্ত দক্ষিণ আফ্রিকায় র‍্যানড মার্চেন্ট ব্যাঙ্কের জন্য সাফল্যের সঙ্গে দুনিয়ার বাজারে পাঁচ কোটি ডলার তুলেছি। এবার নজর পড়লো একশ বছরের পুরনো ডারবানের নাটাল বিল্ডিং সোসাইটির ওপরে ( প্রসঙ্গত নাটাল কথাটা পর্তুগিজ, অর্থ ক্রিসমাস: ভারতের যাত্রা পথে ভাসকো দা গামা এক বড়দিনে এখানে পা দিয়েছিলেন, তা থেকে এই নাম )। ডারবান শহর সীমায় বাস করেন তেরো লক্ষ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষ, বলা হয় ভারতের বাইরে ডারবান বৃহত্তম ভারতীয় নগর - যেমন মেলবোর্ন আথেন্সের পরে দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রিক শহর ! ভারতীয় জনতা দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথম পা রাখেন দেড়শ বছর আগে এই নাটালে। গান্ধীজী এখানে সপরিবারে বাস করেছেন বিশ বছর। তেলুগু থেকে গুজরাতি, এই মিতবাক মিতভাষী এবং সঞ্চয়ী মানুষেরা দু পয়সা রোজগার করলে দেড় পয়সা ব্যাঙ্কে রাখেন। বিল্ডিং সোসাইটির কাজ সদস্যদের টাকা জমা নিয়ে তাদেরই ধার দেওয়া, কোন ফ্লাই বাই নাইট ঘোড় সওয়ারকে নয়। অতএব নাটাল বিল্ডিং সোসাইটির ধান্দা বরোবর ছে !

    মুশকিল হলো খদ্দের খোঁজার চোখ বা চশমার কোন কপি রাইট সিটি ব্যাঙ্কের নেই। পশ্চিমের তাবৎ ব্যাঙ্কার তাদের জোহানেসবুরগ অফিস থেকে প্রত্যহ পূবে কেপ প্রদেশ, পশ্চিমে নাটাল অবধি খেপ মেরে বেড়াচ্ছে। এখানে আমাদের প্রধান প্রতিপক্ষ সেই সব ব্যাঙ্ক যারা দক্ষিণ আফ্রিকায় তাদের তাঁবুর খুঁটি কখনো তোলে নি, সুখে দুঃখে সাদায় কালোয় ‘ আমি তোমাদেরই লোক’ বলে এ দেশে দোকান চালিয়েছে। এদের মধ্যে কঠিনতম প্রতিদ্বন্দ্বী জার্মানির কমেরতসব্যাঙ্ক। জোহানেসবুরগের রোজব্যাঙ্ক অঞ্চলে প্রথমবার তাদের অফিসে গিয়ে চমক লেগেছিল – সদর দরজা দিয়ে ঢুকতেই বিশাল এত্রিয়াম, মাঝে ফোয়ারা, যতদূর চোখ যায় সবুজে সবুজ বাগান, ডানদিকে ঘোরানো লোহার সিঁড়ি উঠে গেছে দোতলায়। ব্রাঞ্চ ম্যানেজার ক্লাইভকে বলেছিলাম এ কি, এই তোমার অফিস ? এ তো কান্ট্রি ক্লাব? ক্লাইভ আমাকে বলে, মনে রেখো এককালে ব্যাঙ্কিং চলতো জমিদারি স্টাইলে। শক্ত পোক্ত অট্টালিকা, মাঝে ফোয়ারা, পরির হাতে ছাতা, কিউরিও অ্যান্টিকে ভরা, বোন চায়নার কাপে চা, বিকেল চারটের পরে ঘোড়া ছোটানো বা গলফ ক্লাব ঘোরানো! সে কালের জার্মান বাণিজ্য প্রতিনিধিরা তেমনি ব্যাঙ্ক খুলেছিলেন। তোমাদের মতো আমেরিকান কোম্পানিরা তাকে বানিয়েছে একটা খাতা লেখার আখডা।


    লোগো - নাটাল বিল্ডিং সোসাইটি

    নাটাল বিল্ডিং সোসাইটি ( এন বি এস ) জানালেন নতুন পরিস্থিতিতে তাঁদের ব্যবসা বাড়ছে, ঋণ দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। তাঁরা দশ কোটি ডলার চান এক বছরের মেয়াদে। অবশ্যই এই একই কাহিনি তাঁরা অন্য সাক্ষাতকারী ব্যাঙ্ককেও শোনালেন। শিগগির বোঝা গেলো এটা দু ঘোড়ার দৌড় হতে যাচ্ছে – টু হর্স রেস ! অন্য ঘোড়ার নাম কমেরতসবাঙ্ক।

    ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে জোহানেসবুরগ নিয়মিত আসা যাওয়া করেন তাদের শিকার সন্ধানী দলের নেত্রী ক্রিস্টিনা লাউবরেখট। আলাপ হয়েছিল ড্রেসনার ব্যাঙ্কের এক রিসেপশনে। ফ্রাঙ্কফুর্টের কাছের স্পা শহর বাদ ফিলবেলে বাড়ি, হেসেনের আঞ্চলিক উচ্চারণ খুব স্পষ্ট, আজীবন কমেরতসব্যাঙ্কে কাজ করেছেন, বর্তমানে আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলে ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কিঙ্গের দায়িত্বে আছেন। সামান্যতম গেরেম্ভারি চাল দেখিনি, যেটা তাঁর বস মারটিনের মধ্যে লক্ষণীয় ছিল- যিনি শুধু তাঁর অধীনস্থ লোকেদের দাবিয়ে রাখেন না, পারলে প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যাঙ্কগুলিকেও তাঁবে রাখতে চান !

    এতত সত্ত্বেও সিটির ভাগ্যে শিকা ছিঁড়িল।

    তাহা কি আমাদের নিউ ইয়র্ক অফিসের কলকাঠি নাড়া বা আগ্রাসী সেলস পিচ অথবা নিচু সুদের হার এবং কমিশনের কারণে ঘটিল তাহার আলোচনা অনাবশ্যক। শিকাও অকারণে ছেঁড়ে না !

    আমাদের প্রথম কাজ তিন মহাদেশের সম্ভাব্য ঋণদাতা নির্ণয় করে তাদের আমন্ত্রণ পত্র পাঠানো; ইমেল নয়, তখনও ফ্যাক্স পাঠানোর যুগ চলছে। এন বি এস ব্যাঙ্কের কর্মকর্তাদের ডায়েরির পাতা থেকে সময় নিয়ে ডিল বিক্রির পথসভা ( রোড শো ) আয়োজন করতে হবে লন্ডন ও ফ্রাঙ্কফুর্টের হোটেলে। শুক্রবারের ইউরোউইক এবং পরের সোমবারের ইন্টারন্যাশনাল ফাইনান্সিং রিভিউতে আমাদের টিজার ছাপা হয়ে গেছে - আসিতেছে! আসিতেছে! আরেকটি লোভনীয় ডিল লইয়া সিটিব্যাঙ্ক আসিতেছে !

    পরের সপ্তাহ থেকে আবার ইউরো নাইনটি সিক্স ফুটবল ফাইনাল শুরু, ইংল্যান্ডে তার আসর বসছে এই প্রথম বার প্রধান ইউরোপীয় ব্যাঙ্ককে আমন্ত্রণ জানিয়ে অগ্রিম টিকিট পাঠানোর কাজ শুরু। একটা গান সর্বত্র বাজে- কামিং হোম, ফুটবল ইজ কামিং হোম।

    সোমবার, জুন মাসের তিন তারিখ, ১৯৯৬

    একা থাকি, সকালে উঠে টি ভি দেখি না। ইন্টারনেট তখনও একেবারে শোবার ঘরে ঢুকে পড়ে নি। আমাদের দফতরে দু কপি ফাইনান্সিয়াল টাইমস আসে। কফি খাবার সময়ে তার হেডলাইন গুলো আর শেষের অংশে মারকেটস অ্যান্ড কম্পানিস পাতা চারটেতে চোখ বোলাই। আমার প্রথম আধিকারিক জো ম্যাকেভিতসের কথা মনে আছে- কোন দারুণ ঘটনা যদি সকাল সকাল ঘটে থাকে সেটা কেউ না কেউ ঠিক শোনাবে, ’ আরে জানেন না কি ধুন্দুমার কাণ্ড ঘটে গেলো অস্ট্রিয়ান বর্ডারে’

    কফি মেশিনের সামনে আমাদের ক্রেডিট বিভাগের তরুণ ট্রেনি এডওয়ার্ড - ঋণদানের সিদ্ধান্ত নয়, প্রভুদের তথ্য সরবরাহ করার কাজটা তার। সিটি ব্যাঙ্কের ট্যাগ লাইন ছিল ইনফরমেশন অ্যাবাউট ইওর মানি ইজ মোর ইম্পরট্যান্ট দ্যান মানি ইটসেলফ।

    নাটাল বিল্ডিং সোসাইটির ম্যানডেট নিয়ে সবাই উৎসাহিত। সেই প্রসঙ্গে এডওয়ার্ড বললে আজকের খবর দেখেছেন ? দক্ষিণ আফ্রিকার গভর্নমেন্ট অফ ন্যাশনাল ইউনিটি থেকে আফ্রিকানার ন্যাশনাল পার্টি বেরিয়ে এসেছে ? আশা করি এতে মুদ্রা বাজারে কোন টালমাটাল হবে না (আপহিভাল )।

    ১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম উন্মুক্ত নির্বাচনে নেলসন ম্যানডেলার অধিনায়কত্বে আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস সংখ্যা গরিষ্ঠতা পায় কিন্তু সংবিধান সংশোধনের জন্য জরুরি দুই তৃতীয়াংশ নয়। তাই গঠিত হয়েছিল গভর্নমেন্ট অফ ন্যাশনাল ইউনিটি, যার আফ্রিকানার নেতা দে ক্লেরক এবার সেখান থেকে বেরিয়ে গিয়ে বিরোধী দলে বসার সিদ্ধান্ত নিলেন ইচ্ছের বিরুদ্ধে রাজপাট কালো মানুষদের হাতে তুলে দিয়েছেন কিন্তু বাইরে থেকে কাঠি দেবার সুযোগ ছাড়বেন কেন ?

    খারাপ খবর একা আসে না, জানা গেলো প্রিটোরিয়াতে সাউথ আফ্রিকান রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কিছু আফ্রিকানার অফিসার পদত্যাগ করেছেন।

    গ্রীষ্মকাল, লন্ডনের ঘড়ি জোহানেসবুরগের এক ঘণ্টা পিছনে। আমাদের লাঞ্চের সময় নাগাদ দক্ষিণ আফ্রিকান র‍্যানডের সঙ্গে ডলারের বিনিময় মূল্য দশ শতাংশ কমে গেল – এডওয়ার্ড কি একেবারে ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা !

    আমাদের লগ্নিকারক ব্যাঙ্কগুলির সামনে পশ্চিম ইউরোপে পোল্যান্ড চেক হাঙ্গেরির হাজারটা ডিল পড়ে আছে। নাটাল বিল্ডিং সোসাইটিতে টাকা লাগানোর কথা তাঁরা কি আর এখন ভাববেন ? সাতদিন আগের ফানুসটা কি ফুটলো ?

    এই মহা অনিশ্চয়তার ভেতরেই আমাদের কাজ - তবে সব সময় আশা করেছি খদ্দেরের কাছ থেকে তার আদেশপত্র পাওয়া আর সেই প্রতিশ্রুত টাকা তাঁকে পৌঁছে দেওয়া অবধি বাজারটা, দুনিয়াটা যেন ঠিকঠাক চলে প্রভু ! আচানক কোথাও যেন লঙ্কাকাণ্ড না হয়, লগ্নিকারক যেন সেই বাহানায় হাত গুটিয়ে না ফেলে ! আমাদের ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্ন হলো ডিল চলাকালীন ওই বাজারি টালমাটাল ( মারকেট আপহিভাল )- যেটা ব্যাঙ্কের বিদেশি মুদ্রার কারবারিদের ( ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রেডার ) কাছে একান্ত কাম্য। তাঁদের দৈনন্দিন প্রার্থনা হলো -এলোমেলো করে দে মা লুটে পুটে খাই। বাজারের স্থিতাবস্থায় নাফা কম, অনিশ্চয়তায় লোকসানের আশঙ্কা থাকে গণ্ডার মারার প্রলোভন বিশাল।

    আমাদের কি হবে ? পালাবার পথ আছে ? আমাকে একদা এক শুভানুধ্যায়ী বলেছিলেন যদি কখনো দেখো একজন গুলিভরা বন্দুক তার মাথায় ঠেকিয়ে বসে আছে, তাকে সাহায্য করার কোন প্রয়োজন নেই ট্রিগারটা সে টিপতে পারবে।

    এই যে তিনটে ঘটনা যুগপৎ ঘটল – সরকার এবং অর্থ নিয়ন্ত্রক সংস্থায় উথাল পাথাল, র‍্যানডের অধোগতি -এমতাবস্থায় কি করে আন্তর্জাতিক বাজারে নামি ? এতো লোডেড গান ! যদি লগ্নিকারক না জোটে তাতে আমাদের বদনাম তো হবেই কিন্তু ঋণগ্রহীতার মুখও কিছু উজ্জ্বল হবে না। বরং হার স্বীকার করে নাটাল বিল্ডিং সোসাইটিকে বলা যাক আমাদের কাজ অন্তত কিছুকালের জন্য স্থগিত রাখি ? পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে দেখা যাবে ?

    বড়ো সাহেবদের সঙ্গে ওয়ার ক্যাবিনেট মিটিং – তাঁদের বক্তব্য পরিষ্কার : লগে রহো, ইজ্জত কা সওয়াল। আমরা কোনমতেই রনে ভঙ্গ দিতে পারি না। সিটি ব্যাঙ্ক উন্নয়নশীল বাজারে অর্থায়নের ব্যবসায় অগ্রণীর ভূমিকায় ( কাগজে নিয়মিত ছাপা হয় আমাদের বিজ্ঞাপন - লিডিং দি ওয়ে ইন এমারজিং মার্কেট সিনডিকেশানস ) আমাদের ব্রান্ড ভ্যালু বজায় রাখতে হবে, সে দুনিয়া ওলট পালট হয়ে গেলেও!

    দক্ষিণ আফ্রিকা অফিসের প্রধান টেরি ডেভিডসনের আরও উঁচু গলা – বাজার বোঝা তোমাদের কাজ সে জন্যেই বেতন দেওয়া হয়ে থাকে।

    আচ্ছা এভাবেই কি গরম ঘরে বসে জেনারেলরা যুদ্ধ পরিচালনা করেন ? কি করতে হবে সেই হুকুমটা দিয়ে থাকেন ? স্তালিনগ্রাদে শূন্যের বিশ ডিগ্রি নিচে কেমন ভাবে লড়তে হবে তার নির্দেশ এসেছে ফুয়েরারের ওলফসানজের গরম অফিস থেকে।

    এই ঋণে টাকা ঢালবার জন্য যাদের আমন্ত্রণ পত্র পাঠানো হয়েছে তাঁরা না বলতে শুরু করেছেন, সবাই অবশ্য নয়। সুযোগ্যা সহকর্মী অ্যানজেলা রোজ আমার মরাল বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়ে গেলো – আমরা আরও কাউকে না হয় ফ্যাক্স পাঠাই ?

    তিন দিন বাদে লন্ডনের একটি ব্যাঙ্কে সান্ধ্য রিসেপশানে নেমন্তন্ন, সেখানে ইউরোপীয় সিনডিকেশান দুনিয়ার আপামর জনতা আমন্ত্রিত। প্রথমে ভাবলাম গিয়ে কি বিড়ম্বিত হবো ? ডিল আটকে আছে, আমাদের সর্বনাশে কারো পৌষ মাস! মুখে হয়তো কিছু বলবে না, কেউ বা একটু আহা ছেদ্দা করবে। তবু গেলাম।

    আজ এতদিন বাদেও আমার সেই ঘরের একটি কোন মনে আছে যেখানে ক্রিস্টিনা লাউব্রেখট পানীয় হাতে দাঁড়িয়ে কারো সঙ্গে কথা বলছিলেন। কি ভেবে সেখানে গিয়ে দাঁড়ালাম। অন্যজন চলে যেতেই ক্রিস্টিনা বললেন, কি খবর? কেমন আছেন ?

    আমি বললাম, নাটাল বিল্ডিং সোসাইটির একশ মিলিয়ন ডলার ডিলে আপনারা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন, ম্যানডেট আমরা পেয়েছি কিন্তু আটকে গেছি । বেজায় বিপদে পড়েছি।

    ক্রিস্টিনা স্বভাবসিদ্ধ মৃদু হেসে বললেন হ্যাঁ, এই যে কতগুলো অবাঞ্ছিত ঘটনা ঘটল, আমরাও আপাতত দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যবসার সন্ধানে ঢিমে তাল ধরেছি।

    জীবনে অনেক কিছু ঘটেছে, কোন অবস্থায় কোন আচরণ কেন করেছি তার কোন ব্যাখ্যা খুঁজে পাই নি তার কিছু সঠিক অনেক ভুল।।


    বললাম, ক্রিস্টিনা আপনার কাছে অনুরোধ, সাহায্য করুন। আপনারা যোগ দিন, আমাদের সঙ্গে সমানে সমানে। নাটাল বিল্ডিং সোসাইটিকে বলব আরেকটা চিঠি করতে - আমাদের দুই ব্যাঙ্ক হোক জয়েন্ট অ্যারেঞ্জার, পঞ্চাশ মিলিয়ন আপনারা যোগাড় করবেন, বাকি পঞ্চাশ আমরা – দুই ব্যাঙ্ক মিলে অন্তত বিশ মিলিয়ন নিজেদের খাতায় রাখলে বাজার থেকে টুটে হবে আশি। সিটি এবং কমেরতস এই দুর্দিনেও বাজারে নামলে লগ্নিকারক মনে জোর পাবে, দক্ষিণ আফ্রিকার অর্থনীতিক তোলপাড়ের মধ্যে সেটা হবে এক আস্থার ইঙ্গিত।

    হার মানালে গো, ভাঙ্গিলে অভিমান ?

    ক্রিস্টিনা তৎক্ষণাৎ বলতে পারতেন এখন কেন ? এতদিন তো খুব বাহাদুরি দেখিয়ে বেড়াচ্ছিলেন !

    বললেন “ দু দিন সময় দিন “।

    সোমবার দুপুর নাগাদ বেশ কিছু সম্ভাব্য লগ্নিকারকের প্রত্যাখ্যান পত্র এসেছে।

    বিকেল বেলায় ক্রিস্টিনার ফোন এলো। ক্রিস্টিনা ও আমার মধ্যে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে কমেরতসবাঙ্ক ফ্রাঙ্কফুর্টের উচ্চ অধিকারীগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন- তাঁরা সিটির সঙ্গে যুগ্ম আয়োজক ( জয়েন্ট অ্যারেঞ্জার ) হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে নাটাল বিল্ডিং সোসাইটির অনুমতি সাপেক্ষে একশ মিলিয়ন ডলার তোলবার ম্যানডেট ভাগ করে নেবেন। সিটি ব্যাঙ্কের কাছে তাঁদের একটি স্বতন্ত্র অনুরোধ – বিল্ডিং সোসাইটি এই টাকার ব্যবহার যখন করবেন দক্ষিণ আফ্রিকান র‍্যানডে, অতএব এক একশ মিলিয়ন ডলারকে র‍্যানডে পরিবর্তিত করার ব্যবসাটি কমেরতসবাঙ্ক করতে চান (ফরেন এক্সচেঞ্জ )।

    সর্বনাশে সমুৎপন্নে অরধং ত্যাজতি পণ্ডিতঃ

    লন্ডন সিটি ব্যাঙ্ক হাউসের বড়ো সায়েবদের সামনে গিয়ে জানালাম। প্রথমেই স্বীকার করেছি আমি কমেরতসবাঙ্ককে লিখিত ভাবে কোন অফার দিই নি, আপনাদের আগাম অনুমতি ব্যতিরেকে সেটি আমি করতে পারি না। আমার মৌখিক প্রস্তাবের উত্তরে ক্রিস্টিনা লাউবরেখট কমেরতসবাঙ্কের পক্ষ থেকে একান্ত ভাবে একটি মৌখিক উত্তর দিয়েছেন, এটি নন বাইন্ডিং - মেনে নেওয়ার কোন বাধ্যবাধকতা নেই। আমরা ধরে নিতে পারি এই আলোচনা কখনোই হয় নি ( দি কনভারসেশান নেভার টুক প্লেস )। তবে আমি বলতে পারি মৌখিক হলেও এ প্রস্তাবের পিছনে কমেরতসব্যাঙ্কের কর্তাব্যক্তিদের পূর্ণ সমর্থন আছে - ইট ক্যারিস দি ফুল ফেথ অফ দি ম্যানেজমেন্ট। এখন এটা মেনে নেওয়া না নেওয়া আমাদের হাতে। আপনারা যদি অনুমতি করেন নাটাল বিল্ডিং সোসাইটিকে আমরা তাঁদের ম্যানডেট বা আদেশপত্র নতুন করে লিখে দুই ব্যাঙ্ককে পাঠাতে। ফি বা কমিশন ভাগাভাগি হবে আর একটি অতিরিক্ত অনুরোধ আছে- র‍্যানড/ডলার ফরেন এক্সচেঞ্জ তাঁরা করবেন।

    প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া- অবিশ্বাস মিশ্রিত বিস্ময়।

    একজন প্রশ্ন করলেন, তারা তো আমাদের সুদের বা ফি’ র হার জানে না। আমরা যাতে রাজি হয়েছি সেটাই মেনে নেবে ? আমরা যা পাই তাই ভাগ করে নেবো, তারা যে কোন বাড়তি মুনাফা চায় না জেনে তিনি আশ্বস্ত হলেন। আরেকজন চশমার ফাঁকে চোখ তুললেন, ’ কীসের ভিত্তিতে কমেরতসবাঙ্ক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে? কেবল আপনার কথায় ? আমরা তো কোন লিখিত প্রস্তাব পাঠাই নি ?

    - আমাদের দু জনের কথার ভিত্তিতে। লন্ডনে আমরা বলি, মাই ওয়ার্ড ইজ মাই বন্ড ! ফ্রাঙ্কফুর্টও তার সম্মান করে।

    আধিকারিক ও পারিষদ বর্গ বললেন, আচ্ছা তাই করুন। তবে তার আগে একটা ইমেলে গোটা ব্যাপারটা জানিয়ে আমাদের সম্মতি চাইবেন।

    এক্ষেত্রে মাই ওয়ার্ড ইজ নট মাই বন্ড!

    তাদের লাভের গুড় জার্মানরা খেয়ে গেলো বলে সিটি ব্যাঙ্ক হাউসের দোতলার বিদেশি মুদ্রা বিনিময় বিভাগ অবিশ্যি একটু গুঞ্জন তোলে।

    দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তাল পরিস্থিতির মাঝে দুটি দেশের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান একদিন একত্র হলে নব উৎসাহে আবার মাঠে নামা- অল গানস ব্লেজিং! ছ সপ্তাহের ভেতরেই নাটাল বিল্ডিং সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ দশ কোটি ডলার পেলেন। জার্মান মার্কিন যৌথ সংগ্রাম সফল।

    ছ মাসে ডলারের বিনিময়ে র‍্যানডের দাম কমলো আরও বিশ শতাংশ : রাজনৈতিক গোলযোগ কাটিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার নতুন সংবিধান গৃহীত হলো পাঁচ মাসের মধ্যে – ৪ ডিসেম্বর ১৯৯৬।

    আড়াই দশকের অভিজ্ঞতায় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কিঙ্গের বাজারে পারস্পরিক ঈর্ষা, ডগ ইট ডগ, ম্যান ইট ম্যান, ব্যবসার জন্যে সর্ব প্রকার নীচতা যেমন দেখেছি তেমনি ক্রিস্টিনার মতো মানুষের দেখাও পেয়েছি যিনি আপন অভিমান ভুলে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন আমার দিকে।

    সতেরোই সেপ্টেম্বর ক্রিস্টিনার জন্মদিন। বহু বছর যাবত সেই দিনে ফুলের তোড়া পাঠিয়েছি তাঁর ফ্রাঙ্কফুর্ট অফিসে। ক্রিস্টিনার সহকর্মীবৃন্দ বলতেন ওই দিনে কমেরতসবাঙ্কের হেনডলার হাউসে নাকি শোরগোল পড়ে যেতো!


    ইনভেষ্টেক ব্যাঙ্কের সর্বেসর্বা বার্নার্ড কান্টর
    হোটেল কাপ এস্তেল, প্রভাঁস ফ্রান্স

    ব্যাঙ্ক বদলেছি। সিটি থেকে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড। আমাদের যোগাযোগ থেকেছে অবিচ্ছিন্ন। একদিন দেখা হলো ফ্রান্সে। প্রভাঁসের কাপ এস্তেলে - জোহানেসবুরগের আরেকটি ব্যাঙ্ক, ইনভেসটেক, আমন্ত্রণ জানিয়েছিল সেই সব ব্যাঙ্ককে যারা তাদের অর্থায়নে সর্বদা পাশে থেকেছেন তাদের বেশির ভাগ জার্মান। সঙ্গদোষে বা গুণে ফ্রান্সের দক্ষিণ উপকূলে বন্ধুজনের সান্নিধ্যে কাটল কি অসামান্য দুটি দিন।


    ক্রিস্টিনা ও ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কিং প্রধান মিখায়েল লেগেলানড
    বিদায়ী ডিনার - কমেরতসবাঙ্ক ফ্রাঙ্কফুর্ট

    একদিন ফোন করে ক্রিস্টিনা জানালেন ষাট বছর পূর্তির আগেই অবসর নেবেন, তাঁর নিতান্ত আমন্ত্রিত মানুষদের সীমিত তালিকায় আমার নাম আছে! ডিনার টেবিলে আমার গল্পটি শোনানোর সুযোগ ছাড়ি নি। সমবেত মুগ্ধ জনতার প্রশংসিত করতালিতে ক্রিস্টিনা সাতিশয় বিব্রত বোধ করলেন।


    ফ্রাঙ্কফুর্ট, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩

    পাদটীকা

    আন্তর্জাতিক বাজারে একটি সম্পূর্ণ অচেনা আঞ্চলিক ব্যাঙ্ক নাটাল বিল্ডিং সোসাইটির এই অর্থায়নের সাফল্য এবং তাদের দ্রুত বাণিজ্যিক উন্নতি অচিরে অন্যান্য ব্যাঙ্কের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বোলানড ব্যাঙ্কের সঙ্গে সেটি সম্মিলিত হয় এবং বছর চারেক বাদে দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাঙ্কিং প্রতিষ্ঠান, নেডব্যাঙ্ক তার অধিগ্রহণ করে।

    নাটাল বিল্ডিং সোসাইটির সাইন বোর্ড আজ অদৃশ্য। স্মৃতিটুকু থেকে গেছে কারো কারো মনে।
     
    পু:
     
    কিছুদিন যোগাযোগ ছিল না। এইমাত্র ক্রিস্টিনার স্বামী সেরগের ই মেল পেলাম- স্ট্রোক হয়ে বাঁ দিকটা অবশ, ক্রিস্টিনা কথাও বলতে পারছেন না। পরের বার ফ্রাঙ্কফুর্ট গিয়ে দেখা করব।

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • স্মৃতিচারণ | ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১৬২২ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    নো  - albert banerjee
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • সমরেশ মুখার্জী | ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩ ২৩:৩৫526940
  • দারুণ রোমাঞ্চকর স্মৃতি এবং হয়তো টুকুন রোমান্সকর‌ও heart
  • Amit | 163.*.*.* | ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩ ০৩:৫৭526941
  • অসাধারন যথারীতি। এই লেখাগুলোর আশায় চাতকের মতো বসে থাকি কবে আসবে কবে আসবে করে। আমার প্রতিবেশী কালার্ড ​​​​​​​সাউথ ​​​​​​​আফ্রিকান- ডারবান ​​​​​​​থেকে ​​​​​​​মাইগ্রেট ​​​​​​​করেছে। ​​​​​​​মাঝে ​​​​​​​মাঝেই ​​​​​​​গল্প ​​​​​​​হয় সবকিছু নিয়ে। ​​​​​​​তাই ​​​​​​​আরো ​​​​​​​ভালো ​​​​​​​লাগলো ​​​​​​​লেখাটা। 
     
    "ইনফরমেশন অ্যাবাউট ইওর মানি ইজ মোর ইম্পরট্যান্ট দ্যান মানি ইটসেলফ।"- এই ​​​​​​​লাইন ​​​​​​​টা ​​​​​​​প্রায় ইলেভেন্থ ​​​​​​​কমান্ডমেন্ট ​​​​​​​হতে ​​​​​​​পারতো। ​​​​​​​নির্ঘাত ​​​​​​​কোনো ​​​​​​​ইহুদি ​​​​​​​র ​​​​​​​মাথা ​​​​​​​থেকে ​​​​​​​এসেছিলো ​​​​​​​এমন ট্যাগ ​​​​​​​লাইন ​​​​​​​। :) :)
  • সমরেশ মুখার্জী | ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩ ০৯:৪৩526943
  • "সব ফল‌ই আঙ্গুর নয়" - এটাও একটা মারাতমোক কতা।
     
    ইনভেস্টমেন্ট ব‍্যাংকিয়ের কিছুই না জেনেও বুঝি - কাউকে ধার না দিলে ব‍্যাংকের টু পাইস সুদের আয় হবে না।এন্তার টাকা কোলে করে বসে থেকে লাভ নেই। অথচ যাকে ধার দেবো সে যদি শোধ করতে না পারে তাহলে সুদ তো ছাড়, আসল‌ও গেল। তো এই আঙুর চিনতে পারা এবং কুল বাদ দেওয়া মানে identifying rewarding investment option and avoiding possible defaulter or risk assessment - এটা‌ই investment banking এর সাফল‍্যের একটা বড় চাবিকাঠি বলে আম দৃষ্টিতে মনে হয়।
     
    HDFC'র ভূতপূর্ব বস আদিত‍্য পুরীর কাছে মাছরাঙা এয়ার‌লাইনসের বিজয়বাবু মোটা অংকের ঋণ চেয়েছিলেন। ঘাঘু ব‍্যাঙ্কার সূর্য‌দা 'ভালো সময়ের মহারাজা' মালিয়াদাকে বললেন, আপনি আমার ভালো এবং পুরোনো বন্ধু, আসুন না একদিন সাথে বসে কফি টফি খাওয়া যাক। তো খানাপিনা‌র পর টিস‍্যু‌তে ঠোঁট মুছে ঠোঁট‌কাটা পুরীবাবু বললেন, দেখুন বিজয়বাবু, আপনার ব‍্যবসা এতোটাই over leveraged যে আমার ব‍্যাংকের নিয়মকানুন মেনে আপনাকে ঋণ মঞ্জুর করা সম্ভব হচ্ছে না। কিছু মনে করবেন না পিলিজ।
     
    তাই HDFC বেঁচে গেল। HDFC প্রাইভেট ব‍্যাংক - ঝাড় খেলে সরকার করদাতাদের পয়সায় recapitalizeও করতো না। কিছু সরকারি ব‍্যাংক ফেঁসে গেল।
     
    চারদশক ঐ দুনিয়ায় কাটিয়ে এখন হীরেনদা, হালকাভাবে লিখে Investment Banking এর মিথ ভাঙা‌র চেষ্টা করছেন কিন্তু FINDING OPPORTUNITY AND AVOIDING RISK এ ব‍্যাপার‌টা অতো সোজা নয়। এ ব‍্যাপারে Oracle of Omaha ওয়ারেন বাফে মহাশয়ের কিছু গল্পের মতো সত‍্যকাহিনী জেনে অতিশয় আশ্চর্য হয়েছি।
     
    'কিছুক্ষণ' - সিরিজের জন‍্য আমি‌ও অপেক্ষায় থাকি।
  • পলিটিশিয়ান | 2603:*:*:*:*:*:*:* | ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ ০৯:৫৫526967
  • আপনার লেখায় একটা আমি কেউ না এরকম একটা ব্যাপার থাকে। ক্রিশ্চিনা আপনার মুখের কথায় এরকম একটা ঝুঁকির ডিলে রাজি হয়ে গেলেন, সেটা আপনার প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতার জন্যই। কিন্তু আপনি সে তাসটি আস্তিনে লুকিয়ে রাখলেন খুব দক্ষভাবে।
  • Ranjan Roy | ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৫:৪৩526971
  • পলিটিশিয়ানের সঙ্গে সহমত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। না ঘাবড়ে মতামত দিন