এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  স্মৃতিচারণ  স্মৃতিকথা

  • কিছুক্ষণ ৪

    হীরেন সিংহরায় লেখকের গ্রাহক হোন
    স্মৃতিচারণ | স্মৃতিকথা | ০৯ জুন ২০২৩ | ২২০৫ বার পঠিত | রেটিং ৪.৮ (৪ জন)
  • সার গারফিল্ড সোবার্স


    সোবার্স - কেনসিংটন ওভাল ব্রিজটাউন বারবাডোজ

    সে এক সময় ছিল

    শিরস্ত্রাণ এবং বর্ম পরিধান করে যুদ্ধসাজ নয়, সাদা শার্ট প্যান্ট পরে এগারো জন মানুষ সবুজ গালচেয় মোড়া মাঠে নামতেন। লম্বা সাদা কোট, কালো প্যান্ট পরিহিত দুজন বয়স্ক মানুষ ইতিমধ্যে উপস্থিত -তাঁরা দু প্রান্তের দুটি উইকেট পর্যবেক্ষণ করে তার ওপরে স্থাপন করতেন দুটি করে বেল। পিছনে ব্যাট হাতে দুজন– মাথায় সাদা টুপি। ধীর গতিতে হেঁটে হাইকোর্ট অথবা ময়দান প্রান্তে পৌঁছে সাদা কোট ধারি আম্পায়ারকে ইঙ্গিত করতেন লেগ, মিডল না অফ গার্ড নেবেন – তাঁদের আত্মরক্ষা ও আক্রমণের একমাত্র অস্ত্র- উইলো কাঠের ব্যাট। পকেট থেকে দুরন্ত ঝাঁ চকচকে লাল বলটি বের করে আম্পায়ার তুলে দিতেন বোলারের হাতে। কেউ আঠারো পা, কেউ বাইশ পা দৌড়ে এসে বল ছুড়তেন – খেলা শুরু – এর নাম ক্রিকেট !

    বল পড়ে ব্যাট নড়ে।

    সে এক সময় ছিল

    কেউ পঞ্চাশ বা একশো রান করলে মাঠে করতালির ধুম পড়ে যেতো - ব্যাটসম্যান সসম্ভ্রমে টুপি খুলে অবনত মস্তকে সেই সার্বজনীন সম্বর্ধনা স্বীকার করতেন। খেলা থামিয়ে অধিনায়ক সহ বিপক্ষের অন্যান্য খেলোয়াড় এগিয়ে এসে তাঁকে অভিনন্দন জানাতেন। মাঠের সকলকে উপেক্ষা করে কেবলমাত্র আপন দলের বা প্যাভিলিয়নের দিকে বর্শা, বল্লমের মতো ব্যাট উঁচিয়ে দাঁড়াতেন না ব্যাটসম্যান। কোন বোলার পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নিলে তাঁর দলের অধিনায়ক আপন অধিকার ভুলে সেই বোলারকে অনুরোধ করতেন নেতৃত্ব দিয়ে দলকে প্যাভিলিয়নে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। সৌজন্য ছিল, সৌহার্দ্য ছিল। ক্রিকেট ভদ্রলোকের খেলা, জেনটলমেন্স গেম।

    সে এক সময় ছিল

    কলকাতা এসেছি ১৯৬০ সালে। তার আগে অবধি ঝরিয়া শহরের বাড়িতে ব্যাটারি চালিত রেডিওয় অজয় বসু, কমলদার ( ভট্টাচার্য ) কণ্ঠে ধারা বিবরণী শুনে শুনে ইডেন উদ্যান যেন চেনা হয়ে গেছে। দু বছর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল এসেছিল – রোহান ভোলালাল কানহাইএর ২৫৬ এ মাঠের সেরা স্কোর, পরের বছর অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ম্যাচ ড্র – জয়সিমা ব্যাট করেছেন পাঁচদিনের কোন না কোন সময়ে, পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচ ড্র। খবরের কাগজে ছবির তলায় লেখা বিষণ্ণ বেগ, ১৯৬০ সালের শেষ দিনের শেষ বলে আউট হয়েছেন আব্বাস আলি বেগ।।

    এবার সশরীরে, স্বচক্ষে ইডেন ?

    ডিসেম্বর/ জানুয়ারির মাঝে কলকাতা টেস্ট। শীতের শিরশিরে ঠাণ্ডায় পাইকপাড়ার বাড়ি থেকে হেঁটে বেলগাছিয়া ট্রাম ডিপোতে ভোরবেলার ট্রাম ধরে পৌঁছেছি আকাশবাণী ভবনের সামনে। পাশে টিকিটের লাইন। ধোঁয়ায় বা কুয়াশায় ঢাকা গড়ের মাঠ। চার টাকার দৈনিক টিকিট কেটে মাঠে ঢোকা – ৩১শে ডিসেম্বর ১৯৬১।

    ইডেন গার্ডেন !

    রঞ্জি স্টেডিয়ামের কংক্রিট বাঁধানো সিঁড়িতে বসে প্রথম টেস্ট ম্যাচ দেখা। আমার প্রিয় সেলিম দুরানির খেলা দেখে মন ভরে গিয়েছিল- ৪৩ রানে আটটা চার! ইডেনে আমাদের প্রথম জয়।

    সে এক সময় ছিল

    দুই বা তিনদিন খেলার পর এক দিনের বিরতি। ইংল্যান্ডে সব টেস্ট ম্যাচ শুরু হতো বৃহস্পতিবার, দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচ লর্ডসে। সেখানে খেলার দ্বিতীয় দিন, শুক্রবার, লাঞ্চের সময় রানি আসতেন মাঠে। দুই পক্ষের সঙ্গে তাঁর পরিচয় করিয়ে দেওয়া হতো। রবিবার প্রভুর দিন, সেদিন কোন কাজ নয়, কোন খেলা নয়, বিরতি। পাড়ার মাঠেও নয়। রবিবার ভিলেজ গ্রিনে ক্রিকেট খেলার জন্য টম গ্রেভনি টেস্ট থেকে বাদ পড়েন।

    সে এক সময় ছিল

    ইডেন চিনিয়েছিলেন অজয় বসু, কমল ভট্টাচার্য। বৈষ্ণব সাহিত্যের মাধুরী মিশিয়ে শঙ্করী প্রসাদ বসু আমাকে ক্রিকেট চেনালেন। ইডেনে শীতের দুপুর, লাল বল লারউড, নট আউট, সারা দিনের খেলা পড়ে জানলাম মাঠে না গিয়েও দেশ বিদেশের ক্রিকেট খেলা দেখা যায়, ক্রিকেটের মধ্যে হারিয়ে যাওয়ার মানা থাকে না। জীবন্ত হয়ে উঠেছেন ব্র্যাডম্যান, লারউড, জারডিন। বডি লাইন বোলিঙের প্রতিবাদে এডিলেডের মাঠ থেকে দলকে তুলে নিয়ে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপ্টেন উডফুল বলছেন ‘ বাইরে ওভালে দুটো দল, তাদের মধ্যে একটা দল ক্রিকেট খেলছে ‘।

    তিন বছর বাদে ইডেনে টেস্ট ম্যাচ, আবার ইংল্যান্ড। ক্রিকেট খেলা থেকে সকল আনন্দ উত্তেজনা বিসর্জন দেবার কঠোর প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে দুটি দল খেলেছে পাঁচটি টেস্ট ম্যাচ – কোন ম্যাচে কোন মীমাংসা হয় নি। ইডেনে খেলা দেখে তিক্ত শঙ্করী প্রসাদ লিখলেন –

    পাঁচ দিন লম্ফ ঝম্ফ
    সহ্য করি হিম্ব
    প্রডুস হৈল এক মহা অশ্ব ডিম্ব

    তারই মধ্যে ফ্রেড টিটমাসের বলে বোরদের অনবদ্য কভার ড্রাইভ দেখে তিনি অভিভূত-

    রাজার প্রতাপে বলে দূর লোকারণ্যে
    পাঠাইলে টিটমাসে, নষ্ট নারী সম।

    সে এক সময় ছিল

    কলেজে পড়ি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ আবার ভারত সফরে এসেছে। তত দিনে জেনেছি ওয়েস্ট ইন্ডিজ নামের কোন দেশ নেই –জামাইকা, বারবাডোজ, গায়ানা, ত্রিনিদাদ- টোবেগো, অ্যানটিগুয়া, সেন্ট কিটস, ডমিনিকা, সেন্ট লুসিয়া, উইনডওয়ার্ড লিওয়ার্ড দ্বীপের খেলোয়াড় নিয়ে তৈরি হয় এ দল- বহু রাজ্য থেকে ভারতীয় ক্রিকেট দলের মতন।

    দলে আছেন রোহান কানহাই, কনরাড হান্ট, টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে বড়ো রান করা সোবার্স , সঙ্গে বোলার ওয়েসলি হল, চার্লি গ্রিফিথ যাদের বল নাকি চোখে দেখা যায় না। আমি আর প্রদীপ্ত লটারিতে সিজন টিকিট পেয়েছিলাম, মনে আছে মোহন বাগান মাঠের কাউনটার থেকে সংগ্রহ করতে হয়েছিল।

    ৩১শে ডিসেম্বর ১৯৬৬

    দৈনিক টিকেট নয়, সিজন টিকেট পকেটে রেখে ইলেকট্রনিক স্কোরবোর্ডের নিচে বসেছি। দুই ওপেনার - হান্ট ও রবিন বায়নো ( ওয়েস্ট ইন্ডিজ জার্সিতে শেষ সাদা মানুষ ) রান আউট হলে রব উঠে গেলো – রান আউটের বল দে ! ঘন ঘন ‘ জয় বাবা ভোলানাথের চরণে সেবা লাগে, মহাদেব ‘ আওয়াজ তুলে কোন কাজ হচ্ছে না। বিষণ সিংহ বেদি নামে এক স্পিনার প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেললেন : পরের দিন বেরি সর্বাধিকারী লিখলেন, বেদির কায়ায় ভিনুর ছায়া। প্রায় সাড়ে ছ ফুট লম্বা চশমা পরা এক বাঁ হাতি ব্যাটসম্যান মাঠে এলেন, মাত্র পাঁচ রান করে বেদির বলে আউট। মনে হয়েছিলো এ এক আশ্চর্য আবির্ভাব – তিনি বলকে ব্লক করলে সেটি সন্ত্রস্ত হয়ে দূরে পলায়ন করে ! ক্লাইভ লয়েড পরে যে এক অসামান্য ব্যাটসম্যান হবেন তার ইঙ্গিত সেদিন ইডেনে তিনি দিয়ে গিয়েছিলেন। কানহাই, আমাদের কানহাইয়া, নব্বুই রানে আউট, যেন স্কোরবোর্ড লক্ষ্য করে একটা ছক্কাও মারলেন। দিনের শেষে চার উইকেটে ২১২। মহারথীরা পরাস্ত। এবার তাহলে আর কতো রান হবে। আমাদের সুদিন আগত।

    ১ জানুয়ারী ১৯৬৭: ইডেন উদ্যানে ঢুকে পড়া অতিরিক্ত মানুষের ভিড় নিয়ন্ত্রনে হিমসিম পুলিশের বলপ্রয়োগের প্রতিবাদ করতে গেলে সীতেশ রায় নামের এক দর্শক নিজেই প্রহারিত হন। তা দেখে সমবেত জনতা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিসের টুপি খোলার জন্য সম্মুখ সমরে নেমে পড়ে - অস্থায়ী স্ট্যান্ডে তেরপলে লাগল আগুন। খেলা বন্ধ - আনন্দবাজার লিখল - আগুন, ব্যাটে নয়, বাঁশে। বিরতি দিবস যোগ করে দু দিন বাদে আবার খেলা শুরু হল।

    ৩ জানুয়ারি।

    লাঞ্চ নাগাদ ২৯৫/৫, সেমুর নার্স আউট। সাত নম্বরে ব্যাট করতে এলেন গারফিল্ড সেন্ট অবারন সোবার্স। জীবনে সেই একদিনই তাঁর ব্যাটিং চাক্ষুষ করেছি। একি লাবণ্য প্রাণে ! অফের বল টেনে স্বচ্ছন্দে লেগে ঘোরালেন, ব্যাটিং নয় এ যেন একটা উচ্চকিত হাসি, দূরে গঙ্গায় জাহাজের ভেঁপু বাজলো তিনি খেলে গেলেন এই ছায়া আলোকের আকুল কল্পনে, এই শীত মধ্যাহ্নের মর্মরিত ইডেনে ! এগারোটি বাউনডারি সহ সোয়া ঘণ্টায় ৭০ রান ! পরের দিন নতুন কায়ায় আবির্ভূত - কখনো স্পিন কখনো মিডিয়াম পেস। একটা শিখতে জীবন কেটে যায় আর ইনি পারেন না এমন কিছু নেই! আর ফিল্ডিং ? অনুজ প্রতিম কাঁটাকলের ঋত্বিক মিত্র ( দীনবন্ধু মিত্রের সুযোগ্য প্রপৌত্র ) এখনও মনে রেখেছে সেকেন্ড স্লিপ থেকে ডিপ থার্ড ম্যান অবধি দৌড়ে সোবারসের ক্যাচ ধরার চেষ্টা!

    “ওনলি সোবার্স কুড মেক ইট লুক লাইক এ চান্স!” বলেছিলেন ভাষ্যকার দেবরাজ পুরী।

    একই অঙ্গে এতো রূপ ?

    যখন অকালপক্ব এক অস্ট্রিয়ান যুবক তার সুরের আগুন লাগিয়ে দিয়েছে ভিয়েনা থেকে প্রাগে, সম্রাটের দরবারি সঙ্গীতকার আনতোনিও সালিয়েরি তার প্রতিবাদ করেছিলেন – ‘ তুমি এই একজনকে, এই একমাত্র মোৎসারতকে এতো প্রতিভা কেন দিলে প্রভু ? ‘

     
    গিবসের বলে শর্ট লেগে ক্যাচ
     

    সে এক সময় ছিল

    ততদিনে ইংরেজি খানিকটা বুঝি। ক্রিকেটের সরাসরি ধারা বিবরণী শুনি শর্ট ওয়েভে ২৫ মিটার ব্যান্ডে। ইংল্যান্ডে খেলা শুরু আমাদের বিকেল সাড়ে তিনটেয়, শেষ হতে রাত সাড়ে এগারোটা : বি বি সি, অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন, পাকিস্তান রেডিও। জন আরলট, ব্রায়ান জনস্টন, অ্যালান ম্যাকগিলিভ্রে, ওমর কুরেশি ! আর আমাদের আনন্দ শীতলভাদ, বেরি সর্বাধিকারী, আনন্দ রাও, ভি এম চক্রপাণি, নরোত্তম ও দেবরাজ পুরী। বিশ্ব ক্রিকেটের খবর রাখার উপায় বি বি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস – পনেরো মিনিটের স্পোর্টস রাউনডআপ - আমাদের বিকেল পাঁচটা পঁয়তাল্লিশে। ইংল্যান্ডে তখন দুপুর - সব খেলার লাঞ্চ স্কোর জানা যেতো। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে রেডিও যোগাযোগ নেই – ১৯৬২ সালের সফরের স্কোর পরের দিন সকালের খবরে ঘোষিত হতো – কলকাতা ক তে বাঙলা খবরে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান প্লেয়ারদের নাম শোনা যেত বিচিত্র উচ্চারণে, ১৯৭১ সালেও সেই একই ব্যাপার।

    লাইভ টেলিকাস্ট আসার আগে দেশ ছেড়েছি।

    তারপর একদিন
    মে ২০০৭

    লন্ডনের লয়েডস ও অন্যান্য ইনস্যুরেন্স বাজারের সঙ্গে আমার পরিচয় অনেকদিনের। ব্যাঙ্কিং ও বিমার একটা যোগসূত্র আছে – এ দুটি আসলে ঝুঁকি সামলানোর ব্যবসা। লন্ডন সিটির মিনোরিস এলাকা হলো ইনস্যুরেন্স কোম্পানির প্রাণকেন্দ্র - সকলের সেখানে অফিস থাকা আবশ্যিক। কান টানলে মাথা আসে আর বাণিজ্য করতে গেলে খদ্দেরের আপ্যায়ন! সেখান থেকে একদিন লাঞ্চের আমন্ত্রণ এলো – বিশেষ অতিথি সার গারফিল্ড সোবারস।

    এও কি সম্ভব এই এক জীবনে ? প্রবাদের মুখোমুখি ?

    শুনে ডেভিড বললে আমি যেতে পারি?

    ডেভিড কেম্পটন দীর্ঘদিন কাজ করেছে আমার দপ্তরে। লীডস, ইয়র্কশায়ারের ছেলে। ক্রিকেট পাগল বললে কম বলা হয়, ক্রিকেট তার রক্তে। স্কুল পালিয়ে হেডিংলি মাঠে খেলা দেখেছে, কখনো বিনে পয়সায় ! তার দিদিমা তখন ইয়র্কশায়ার কাউনটি ক্রিকেট ক্লাবের টিকিট কাউনটারে বসেন। বর্তমান ইংল্যান্ড ক্রিকেটার হ্যারি ব্রুকসের বাবা ও কাকার সঙ্গে স্কুল ক্রিকেট খেলেছে ডেভিড। তাকে সঙ্গে নিয়ে গেলাম।

    আমাদের হোতা সকলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন, মানে আমাদের নাম গুলো বললেন। অবাক হয়ে চেয়ে আছি – ইনি গারফিল্ড সোবারস! ইডেনের মাঠে দেখা সেই মানুষটি বয়েস এখন একাত্তর, দেখে কে বলবে ? দীর্ঘ ঋজু চেহারা, হাসিমুখ। কত কথা বলতে ইচ্ছে করছে - ইডেনে আপনার এগারোটা চার দেখেছি, ৯৮ রানে সাত উইকেট ! কেবল আমি কেন, ডেভিড কেম্পটনও উদগ্রীব – সে হেডিংলিতে ১৯৬৩ সালে সোবার্স ১০২ এবং ১৯৬৬ সালে চব্বিশটি বাউনডারি সহ ১৭৪ রান ও আট উইকেট নিতে দেখেছে । কিন্তু এ সব বলা যায় না, তিনি বড়জোর মৃদু হাস্য করবেন, মনোলগ হবে মাত্র।

    গোল টেবিলে আমরা ন জন বসেছি তাঁকে ঘিরে। পরের আড়াই ঘণ্টা যা চলল তাকে ইংরেজিতে বলে ব্যানটার বাঙলায় আড্ডা! তাঁর কথাই বেশি শুনতে চাই, তিনি আমাদের গল্পদাদু ! আমাদের কাজ হলো তাঁকে খেইটা ধরিয়ে দেওয়া !

    সবাই জানি নটিংহামশায়ারের হয়ে গ্ল্যামোরগানের বিরুদ্ধে শনিবার, ৩১শে আগস্ট ১৯৬৮ সালে ম্যালকম ন্যাশের এক ওভারে ছটি ছয় মারা তাঁর অন্যতম প্রিয় সাবজেকট। কীথ জানতে চাইল সেই ওভারে তাঁর শ্রেষ্ঠ স্মৃতি কি ?

    ওভারের পঞ্চম বলটি উড়ন্ত অবস্থায় বাউনডারি পার না হয়ে ডিপ মিড অফে রজার ডেভিসের হস্তগত হয়েছে দেখে সোবার্স প্যাভিলিয়নের দিকে হাঁটা শুরু করেছেন। রজার ডেভিস ভারসাম্য হারিয়ে বাউনডারি লাইনের অন্য দিকে পড়ে গেছেন সেটি তিনি লক্ষ্য করেন নি। আম্পায়ার ওভার বাউনডারির নির্দেশ দিয়ে সোবার্সকে তাঁর ধ্বংসকর্ম অব্যাহত রাখতে অনুরোধ জানান । রেকর্ডের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছেন – ষষ্ঠ বলটি বাউনডারি পার করার জন্য তিনি তখন বদ্ধ পরিকর - ন্যাশ ততক্ষণে প্রায় বিধ্বস্ত। বলটি ছিল লোপ্পা ( ইনভাইটিং )। সে বল মাঠ ছাড়িয়ে পাশের কিং এডওয়ার্ডস রোডে পার্ক করা একটি অস্টিন মিনি গাড়িকে আঘাত করে। সতেরো বছরের রিচারড লুইস নামের এক বালক বলটি কুড়িয়ে পায় এবং পরের দিন সোবারসের হাতে তুলে দেয়। খুশি হয়ে সোবার্স তখন আরেকটি বলে সই করে ছেলেটিকে দেন – পরের চল্লিশ বছর রিচারড সে বল সযত্নে রক্ষা করে চলেছেন। ছক্কা প্রহারিত বলটি নটিংহাম ক্রিকেট ক্লাবে ছিল- সম্প্রতি সে বল ও সোবার্সের ব্যাট নিলামে বিক্রি হয়েছে।

    কিং এডওয়ার্ডস রোডে পার্ক করা মিনি অস্টিন
    ৩১শে আগস্ট ১৯৬৮

    তাঁর মতে ম্যালকম ন্যাশ তাঁর সেই প্রচণ্ড পিটুনিতে দুঃখ পেয়েছিলেন কিন্তু তিনি এমন কিছু খারাপ বোলারও ছিলেন না। সান্ত্বনা দিতে গিয়ে তিনি ম্যালকমকে বলেন, মনে রেখো যখনই এক ওভারে ছটা ছয়ের প্রসঙ্গ উঠবে, আমার আর তোমার নাম একই সুরে উচ্চারিত হবে। ম্যালকম এখন ক্যালিফোর্নিয়াতে থাকেন, তাঁদের বন্ধুত্ব অটুট। প্রতি বছর নিয়ম করে আগস্ট মাসে সোবারসের সঙ্গে এক রাউনড গলফ খেলেন ! অষ্টিন মিনি গাড়ির সেই মালিক নাকি বলের চোট কখনো সারান নি, গাড়ি বিক্রিও করেন নি। গ্যারাজে রেখে দিয়েছেন। লোককে সগর্বে গাড়িটি দেখিয়ে বলেন এই ক্ষত সোবার্সের ছ নম্বর ছয়ের আঘাতজনিত !


    স্কোর শীট

    জেফ্রি বয়কটের সঙ্গে তাঁর অম্ল মধুর সম্পর্কের কাহিনি মোটামুটি জানা। সোবারসের ক্যাভালিয়ার স্টাইলের ব্যাটিঙের সামনে বয়কট নিতান্ত বোরিং ! নটিংহামশায়ারের সঙ্গে ইয়র্কশায়ারের খেলা। প্রথম ইনিংসে বয়কট প্লাম্ব এল বি ডব্লিউ। সোবারসকে বললেন “ তুমি দেখি বার বার আমাকে এল বি ডব্লিউ আউট করো, আমি কোন ভুলটা করি “ ? সোবারস বললেন “ টেকনিক, জেফ্রি টেকনিক। তুমি ফ্রন্ট ফুট বাড়িয়ে রাখো - তুমি জানো আমি ইনসুইঙ্গার ছাড়ি সময়মত পা সরাতে পারো না, তাই । “ দ্বিতীয় ইনিংসের প্রথম বল, আউট সুইঙ্গার, অপ্রস্তুত বয়কট খোঁচা দিলেন।। উইকেট কিপারের হাতে ক্যাচ। জেফ্রি যখন তাঁর পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন, সোবারস বললেন, “ তোমাকে আমি অবশ্য অন্য বলটার কথা বলি নি !”

    নীল নামের একজন ব্যাংকার ছিলেন টেবিলে। বললেন “ আচ্ছা ঐ এক বনাম এগারো জনের গল্পটা কি ? “ উচ্চারণেই স্পষ্ট তিনি অস্ট্রেলিয়ান। সোবারস জানতে চাইলেন, বাড়ি কোথায় ? মেলবোর্ন জেনে সোবার্স বললেন “ তাহলে এটা আপনার পছন্দ হবে না ! “ সোবার্স তখন সাউথ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলেন – দীর্ঘদিন বাদে সে দল শেফিল্ড শিল্ড জিতেছে ১৯৬৪ সালে। শেষ ম্যাচে সোবার্স করেছেন ১২৪ এবং নিয়েছেন নটি উইকেট । বিল লরি ভিক্টোরিয়ার ক্যাপ্টেন। প্রতিপক্ষের শিল্ড জয়ের সম্মানে অনুষ্ঠিত এক সান্ধ্যভোজে বিল বলেন “ সাউথ অস্ট্রেলিয়া জিতেছে বটে তবে ( সোবারস কে দেখিয়ে) তারা আসলে ওয়ান ম্যান টিম”। লরিকে থামিয়ে ভিক্টোরিয়ার এক খেলোয়াড়ের স্ত্রী রোজমেরি উঠে দাঁড়িয়ে বলেন, “ আপনার মতে একজন মিস্টার সোবারস এগারজন ভিক্টোরিয়ান খেলোয়াড়ের সমান ?“ সোবারস বললেন, ‘ বিল বেচারা আমার প্রশংসা করতে গিয়ে নিজেই বিপদে পড়েছিল ‘!

    আমার একটা জিজ্ঞাস্য ছিল : “গল্প শুনেছি ক্লাইভ লয়েড ব্রিজটাউন মাঠের সাইট স্ক্রিনের পাশে একটা গাছে চড়ে আপনার দু দুটো সেঞ্চুরি দেখেছেন “। সোবারস হেসে ফেললেন, “ টিকিটের পয়সা বাঁচাতে চাইছিল সেটা বুঝি কিন্তু বাকিটা বিশ্বাস করার কোন কারণ নেই। আপনি সুপার ক্যাটের ( ক্লাইভ লয়েডের মুখ চলতি নাম ) চেহারা দেখেছেন ? ঐ সাড়ে ছ ফুট লম্বা বিশাল মানুষ ( বিগ ম্যান ) একটা গাছে চড়তে পারে ? যদিও সে চড়ে, গাছ ভেঙ্গে পড়বে না? তাও দুবার ? ”

    ফিল্ডিং ? নিজের নয়, বললেন আরেকজনের কথা।
    অস্ট্রেলিয়ার রান ২৩২, আর এক রান করলেই তারা জিতে যায়। ওয়েসলি হলের বল; ওয়ালি গ্রাউট সেটি পাঠিয়েছেন বাউনডারির ঠিকানায়। সেই বল তুলে নিয়ে ফিল্ডার সোজা স্টাম্প ভাঙলেন- ‘ ফ্রম দেয়ার হি
    কুড সি ওনলি ওয়ান স্টাম্প। অ্যান্ড হি হিট ইট। দ্যাট ওয়াজ জো, জো সলোমন, দি গ্রেটেস্ট এভার “।
    ম্যাচ ড্র : ইতিহাসের প্রথম টাই টেস্ট।
    (ব্রিসবেন, ১৪ ডিসেম্বর ১৯৬০ )

    ট্রুম্যানের প্রসঙ্গ উঠলো। দুজনের বন্ধুত্ব দীর্ঘ দিনের। ট্রুম্যান লিখেছেন সোবার্স সর্বকালের শ্রেষ্ঠ অল রাউনডার। ঠোঁটকাটা ট্রুম্যান কাউকে খাতির করে কখনো কথা বলেন না। সোবার্স তাঁর সঙ্গে একবার ট্যাক্সিতে উঠেছেন – একই ট্রেনে যাবেন দুজনে – সোবারস নটিংহাম, ট্রুম্যান লীডস। ট্রুম্যান চালককে আদেশ করলেন, ওয়াটারলু চলো। ড্রাইভার জানতে চাইল, “ওয়াটারলু ট্রেন স্টেশন ‘ ? ট্রুম্যান খেঁকিয়ে বললেন, “ তোমাকে লড়াইয়ের মাঠে যেতে বলছি বলে মনে হচ্ছে না কি?”

    কেম্পটন বললে “ মেলবোর্নে আপনার বাউনসারে আউট হয়ে ফেরার সময়ে ডেনিস লিলি বলেন নি বল করার সময় আপনাকে দেখে নেবেন?”
    সোবারস হাসলেন “ উলটো। আমি লিলিকে দেখে নিয়েছিলাম “ ( বিখ্যাত ইনিংস -২৫৪, তাঁর বয়েস তখন ৩৫)

    অস্ট্রেলিয়ান নীল আবার সরব – “ ইয়ান চ্যাপেল লিখেছেন তাঁকে আপনি তিনটে উপদেশ দিয়েছিলেন – এক, মিডল না নিয়ে লেগ স্টামপ গার্ড নিতে এবং দুই, ক্রিজের একটু বাইরে স্টানস নিতে। সে দুটোই চ্যাপেলের খুব কাজে লেগেছে সারা জীবন কিন্তু আপনার তৃতীয় উপদেশটা তিনি মনে করতে পারেন নি “ সোবারস বললেন, “ ভুলে যাবারই কথা, বিয়ারের এফেক্ট। আমার তৃতীয় উপদেশ ছিল- বিয়ারের নেশা নেমে গেলে প্রথম দুটো উপদেশ মনে রেখো “।

    কতো নষ্টামি দুষ্টুমির কাহিনি। টেস্ট ম্যাচ চলছে। ব্রিজটাউনে রাত তিনটের সময় পাব বন্ধ হয়ে গেলে একজন বললে নতুন একটা জয়েন্ট খুলেছে, সারা রাত খোলা থাকে। ছটার সময় শুতে গেছেন। নটায় মাঠে হাজির !


    সঙ্গে ডেভিড কেম্পটন

    একান্তে কথা বলার সুযোগ নেই। তবু কফি পানের জন্য টেবিল ছেড়ে যখন আমরা লাঞ্চ রুমের কিনারায় ঘোরা ঘুরি করছি সোবার্স কি ভাগ্যে জিজ্ঞেস করলেন বাড়ি কোথায়। ভারত এবং কলকাতা শুনে বললেন এ দেশকে তিনি মনে রাখেন- তাঁর প্রথম ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ ১৯৫২ সালে ভারতীয় দলের বিরুদ্ধে, প্রথম যার বলের মুখোমুখি হন তিনি পলি উমরিগর- তাঁর বয়েস ১৬। ইডেনে অগ্নিকাণ্ডের কথা আবছা মনে আছে ( অঞ্জু মহেন্দ্রুর নাম উল্লেখ করার দুর্মতি আমার হয় নি )। আমার কাছে তাঁর সবচেয়ে স্মরণীয় ইনিংসটি জানাবার এই সুযোগ -
    ১৯৬৬ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্ট, পঞ্চম দিন। দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং বিপর্যয় - ৯৫/৫, মাত্র নয় রানে এগিয়ে, পরাজয় আসন্ন ! সোবার্স সারাদিন ব্যাট করে সেই ম্যাচ বাঁচালেন –ডেভিড হলফোরডের (১০৫) সঙ্গে ২৭৪ রানের অপরাজিত জুটি ( সোবার্স ১৬৩ নট আউট)। সোবার্স হেসে বললেন, ‘ মোস্ট প্লিজিং ! ইউ নো ডেভ ইজ মাই কাজিন ? হি ওয়াজ প্লেয়িং ওনলি ইন হিজ সেকেন্ড টেস্ট ! ‘

    তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি ঘরটাকে আলোকিত করে রেখেছিল – তিনি যে সারা পৃথিবীর ক্রিকেট মাঠে আলো জ্বালাতেই এসেছেন।

    পু:

    মঙ্গলবার, তিরিশে মার্চ, ১৯৫৪। সাবিনা পার্ক, কিংস্টন, জামাইকা। সকাল নটা।

    প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলবেন সোবারস।

    পরপর পাঁচ টেস্ট ইনিংসে সেঞ্চুরি করা ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটের আরেক প্রবাদ পুরুষ এভারটন উইকস জিজ্ঞেস করলেন, ‘আর ইউ নার্ভাস, সন ‘ ? সতেরো বছরের গারফিল্ড সোবারস মাঠের দিকে চেয়ে বললেন, ‘ইয়েস, সার। বাট ওনলি হোয়েন আই সিট হিয়ার ইন দি প্যাভিলিয়ন। নট হোয়েন আই অ্যাম আউট দেয়ার ‘।
    (স্মৃতিচারণা – এভারটন উইকস)

    গারফিল্ড সেন্ট অবার্ন সোবারস
    জন্ম ২৮ জুলাই ১৯৩৬ ওয়ালকট এভিনিউ, বে ল্যান্ড, ব্রিজটাউন, বারবাডোজ ( পঞ্চম সন্তান,পাঁচ বছরে পিতৃহীন)

    প্রথম ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ বনাম ভারতীয় দল ৩১শে জানুয়ারি, ১৯৫২ ব্রিজটাউন ( সাত রান, সাতটি উইকেট )
    প্রথম টেস্ট ম্যাচ বনাম ইংল্যান্ড ৩০ মার্চ ১৯৫৪, সাবিনা পার্ক, কিংস্টন, জামাইকা
    ব্যাটিং ক্রম : ৯ নম্বর – ১৪ নট আউট, ২৬
    টেস্ট ম্যাচের প্রথম ওভারে প্রথম উইকেট : ট্রেভর বেইলি

    মোট ৭৫ রানে ৪ উইকেট ( বেইলি, ওয়ারডল, লক, লেকার)
    প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি বনাম পাকিস্তান ৩৬৫ অপরাজিত, সাবিনা পার্ক, কিংস্টন, জামাইকা ২৬ ফেব্রুয়ারী, ১৯৫৮
    শেষ টেস্ট সেঞ্চুরি বনাম ইংল্যান্ড ১৫০ নট আউট লর্ডস, ইংল্যান্ড ২৩শে আগস্ট, ১৯৭৩

    টেস্ট ম্যাচ ৯৩
    ব্যাটিং
    রান ৮০৩২
    সেঞ্চুরি/অর্ধ শতক ২৬/৩০
    গড় ৫৭.৭৮ (সর্ব কালের টেবিলে একাদশ )
    বোলিং
    উইকেট ২৩৫
    ইকনমি রেট ২ .২ প্রতি ওভার
    ফিল্ডিং
    ক্যাচ ১০৯


    রানি এলিজাবেথ ব্রিজটাউন এসে ক্রিকেটের প্রতি সোবার্সের আজীবন সেবার সম্মান জানিয়ে বললেন

    রাইজ সার গারফিল্ড !

    ফেব্রুয়ারী ১৯৭৫

     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • স্মৃতিচারণ | ০৯ জুন ২০২৩ | ২২০৫ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • সুকি | 117.*.*.* | ১০ জুন ২০২৩ ১৩:৩৪520354
  • খুব ভালো লাগলো। কিছু ঘটনা অবশ্য শোনা, কিন্তু সে অন্য মোড়কে। তবে কিনা এই সব উপকথার পর্যায়ের ব্যাপার স্যাপার বার বার শোনা যায়।
  • সোমনাথ সেন। | 2409:*:*:*:*:*:*:* | ১২ জুন ২০২৩ ১৬:১০520385
  • সবটুকু এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেললাম। রূপকথার গল্প মনে হলো।সঙ্গে হীরেণ দার ছবি। আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। আমার সৌভাগ্য আমি সেই স্কুলের ছাত্র মে স্কুলে হীরেণদাও ছাত্র ছিলেন।
  • শান্তা সান্যাল ( ভাদুড়ী) | 2409:*:*:*:*:*:*:* | ১২ জুন ২০২৩ ১৬:২৭520386
  • খুব ভালো লাগলো।বেশ ভিন্ন স্বাদের লেখা! এর আগে রূপালী পর্দার নায়ক দেবানন্দের সঙ্গে ( খুব সম্ভবত লন্ডনে) আপনার সাক্ষাৎ, সান্নিধ্যে আসার কাহিনী পড়েছিলাম। এবার ক্রিকেট মাঠের নায়ক, সোবার্সের সঙ্গ,সান্নিধ্যের কথা! এরকম আরও কিছু মণি মুক্তোর অপেক্ষায় রইলাম!
  • Aranya | 2601:*:*:*:*:*:*:* | ১৩ জুন ২০২৩ ০৯:৫৮520401
  • অসাধারণ
  • Bratin Das | ১৩ জুন ২০২৩ ১৭:৫৪520404
  • আমি একজন ক্রিকেট পাগল। আপনার এই লেখা টা চেটেপুটে পড়লাম।
     
    আমি ইডেনে যাচ্ছি ১৯৯৩ এর ভারত ইংল্যান্ড সফর থেকে। ওয়ান ডে,টি টোয়েন্টি, আইপিএল হয়তো কিছু কিছু মিস হয়েছে।
    কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে অন্তত একদিন করে গেছি মাঠে। এ স্বাদের ভাগ হবে না।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লাজুক না হয়ে প্রতিক্রিয়া দিন