এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  স্মৃতিচারণ  স্মৃতিকথা

  • কিছুক্ষণ ৯ 

    হীরেন সিংহরায় লেখকের গ্রাহক হোন
    স্মৃতিচারণ | স্মৃতিকথা | ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১৬৫৮ বার পঠিত | রেটিং ৫ (৬ জন)


  • ইন্দ্রজিৎ দেব

    দশটা বেজে গ্যাচে ছেলেরা বই হাতে করে রাস্তায় হো হো কততে কততে স্কুলে চলেচে বুড়োরা তেল মেখে গামছা কাঁদে করে গুলির আড্ডায় জমচেন*

    ঠনঠনে কালী বাড়ির স্টপে ইন্দ্রজিৎ মিনিবাসে উঠলো।

    ইন্দ্রজিৎ দেব, ডাক নাম হাঁদু। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে আমার সহপাঠী, ইতিমধ্যে আমরা দুজনেই স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়াতে কর্মরত। এই মিনিবাসে যাবো বি বা দী বাগ, সেখানে নেমে ৪১এ বাস ধরে এক নম্বর স্ট্র্যানড
    রোডের অফিসে, হাঁদু নামবে লালবাজারে।

    পাশে বসে হাঁদু বললে “ শুনলুম ব্যাঙ্ক তোকে বিলেত পাঠাচ্ছে ? কবে যাবি ? “

    টালা পার্কের মিনিবাসে এহেন বুলেটিন সচরাচর প্রচারিত হয় না। কিছু উৎসুক দৃষ্টি আমাদের দুজনের ওপরে নিবদ্ধ হলো, তাতে হাঁদুর কোন ভ্রূক্ষেপ নেই।

    জানাতে হলো বিলেত নয়, জার্মানি যাচ্ছি, ফ্রাঙ্কফুর্ট।

    “আরে ওই হলো। তা, তোর পাসপোর্ট হয়েছে? ব্যাঙ্ক তোর জন্যে বানিয়ে দেবে না বাবা, এই বলে রাখলুম”।

    সাল ১৯৭৭। পাসপোর্ট পাওয়া লটারিতে জেতার মত শক্ত। তখন অবধি কিছুই করা হয়ে ওঠে নি। হাঁদু বললে ‘আমি অরূপদাকে বলে দেবো। নম্বর দিচ্ছি একটু বাদে, কাল ফোন করিস। ওর কাছে রেফারেন্স নিয়ে নিবি। কাজ হয়ে যাবে চট করে “।

    অকাতরে অযাচিতভাবে মানুষকে সাহায্য করার আশ্চর্য প্রবণতা ছিল হাঁদুর। দ্রুত গতিতে পাসপোর্ট হয়ে গেলো।

    ঠনঠনের প্রখ্যাত দেব বাড়ির ছেলে ইন্দ্রজিৎ দেব। বাবা রণেন দেব, পিতৃব্যরা রথীন দেব ও রমেন দেব। নোবেল বিজেতা অমর্ত্য সেন সে বাড়ির জামাই।

    খুব স্পষ্ট না হলেও কাঁটাকলের অর্থনীতি বিভাগে আমরা ছিলাম দুটো দলে বিভক্ত – একদিকে আমার মতন পাতি বাংলা স্কুল, অনামধন্য কলেজ থেকে আসা বৃহৎ ছাত্র সমষ্টি, অন্যদিকে ইন্দ্রজিৎ দেবের মতন কয়েকজন ক্যালকাটা বয়েজ স্কুল, সেন্ট জেভিয়ারস, প্রেসিডেন্সি কলেজের, আলাদা পেডিগ্রির কিছু উজ্জ্বল তারকা; তারা নিজেদের মধ্যে ইংরেজিতে কথা বলে, জুতো পরে ক্লাসে আসে। সিঁথি বরানগরের বিদ্যেয় ইংরেজি বাক্য আমার মুখ থেকে বেরোয় না। কুণ্ঠিত ভীত সন্ত্রস্ত মনে তাদের দূর থেকে দেখি।

    আমাদের সাধারণ বা কমন ক্লাসে অর্থবিদ্যা ( মানিটারি ইকনমিকস ) পাঠ করাতে এক অধ্যাপক এলেন, কেরালার মানুষ। ঠিক কি কারণে তিনি অচিরেই সকলের অপ্রিয় হয়ে উঠলেন সেটা আজ মনে নেই। তাঁর ক্লাসে নিয়মিত তুমুল গণ্ডগোল হতে থাকলো। হঠাৎ একদিন হাঁদু আমার পাশে এসে বললে – “সরে বোস, একটু জায়গা দে তো, আজ এখানে খেলা আছে “।

    আমার নিয়মিত আসন ছিল অধ্যাপকের ডান দিকের সারির তৃতীয় বেঞ্চের কোণায় – মনোযোগী ছাত্র সেজে উন্মুখ হয়ে অধ্যাপকের মুখনিঃসৃত সকল শব্দ খাতায় নোট করি। আজ সেখানে হাঁদু এসে বললে খেলা আছে ? এই প্রথম সরাসরি তার সঙ্গে বাক্যালাপ ! অধ্যাপক ক্লাসে আসতেই যথারীতি গোলমাল শুরু – তিনি বলে চলেছেন, কেউ কান দিচ্ছে না, এমন সময়ে হাঁদু পকেট থেকে গুলতির স্টাইলে অভ্রান্ত লক্ষ্যে ব্ল্যাক বোর্ডে কয়েকটি চক নিক্ষেপ করেছে। ফটাস করে শব্দ হলো, তার সঙ্গে সাদা ধুলো। উনিশশ একাত্তরের কলকাতা, রেতে বিরেতে পেটো পড়ে। অধ্যাপক বিশেষ ভীত হয়েছিলেন, কাঁটাকল ছেড়ে চলে যান অন্য কোন শান্তির বিদ্যা নিকেতনের খোঁজে।

    ক্যালকাটা বয়েজে পড়া ইন্দ্রজিৎ দেবের মুখের বাংলা শুনে চমক লেগেছিল সেদিন – টাইম ট্র্যাভেলারের মতন হাঁদু যেন সরাসরি হুতোমের পাতা থেকে একশো বছর বাদে কলকাতায় হাজির হয়েছে।

    কাঁটাকলের পাঠ শেষে স্টেট ব্যাঙ্কের শিক্ষা নিচ্ছি, আমার প্রথম ব্রাঞ্চ জলপাইগুড়ি, হাঁদুর তৃতীয় ব্রাঞ্চ দার্জিলিং। সপ্তাহান্তে সেখানে গেছি। সকাল বেলায় কেভেনটারসে বসে হাঁদু বললে, ‘ সাবধানে থাকিস। বেজায় শীত পড়েছে, বুঝলি, কালকে দুটো নেপ গায়ে দিয়েও কাঁপুনি থামে না রে ‘। শুধু নুচি নঙ্কা নেবু নয়, তার শব্দ চয়নে, সুরে, ইনটোনেশনে হুতোম দেখা দেন ! স্কুল কলেজে যতোই ইংরেজি শিখে থাকুক, হাঁদুর মুখের ভাষা সেই কানে শোনা মা ঠাকুমার কথা। সে ভাষার ব্যাকরণ, কারক, সমাস, বিভক্তি হাঁদু শেখেনি- প্রয়োজন ছিল না। হুতোমের কলকেতা শহর তার মুখে বাঙময়।

    আবার দেখা হলো স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার শ্যামবাজার ব্রাঞ্চে, যার একতলায় বাগবাজার বাটা ! হাঁদু আমার চেয়ে এক ব্যাচের সিনিয়র, আমি তখনও শিক্ষার্থী। হাঁদুর কাজ পাকা হয়ে গেছে, তার নিজের ক্লায়েন্ট আছে। আমাদের স্থান হয়েছিল মূল নয়, পাশের একটা ছোটো বাড়ির দোতলায় , সেখানে কেবল স্মল স্কেল ইন্ডাস্ট্রির সেবা হয়।আমাদের মক্কেলরা সবাই ক্ষুদ্র ব্যবসা করেন, বৃহত্তম খরিদ্দারের নাম গুপতুস পেন্সিল, তিন লক্ষ টাকা ছিল তাদের ধারের ঊর্ধ্বসীমা ( ১৯৭৩ সাল !)। সব মিলিয়ে আমরা জনা দশেক। আমাদের বস এস পি সেনের অফিস রাস্তার দিকের কেবিনে, ইউরোপ আমেরিকায় যাকে কর্নার অফিস বলা হয়। সেন সায়েবের চোখে চশমা, ফর্সা মানুষ, খুব তাড়াতাড়ি কথা বলেন, সব সময়ে উত্তেজিত, ব্যস্ত সমস্ত ভাব। কেমন করে যেন তিনি খবর পেয়ে গেলেন যে হাঁদু আর আমি সহপাঠী ছিলাম, একই গোয়ালের গোরু। সেটাই কাল হলো।

    স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার প্রবেশনারি অফিসার ট্রেনিং পিরিয়ডে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, নিজের জান কয়লা করে খেটেছে এমন কারো সঙ্গে আমার দেখা হয় নি। কাজকর্ম পরে হবে, অভি তো জী লে এমন মনোভাব নিয়েই আমরা এই কাল কাটাবার চেষ্টা করেছি। বাদ সাধলেন সেন সায়েব। একদিন আমাদের দুজনকে ডেকে বললেন “ আপনারা দুজনে বসে সারাদিন শুধু গল্প গুজব করেন, মাঝে মাঝে উধাও হয়ে যান ! এমন করে কি কাজ শেখা হবে কখনো (আমার দিকে তাকিয়ে) না নতুন নতুন খদ্দের জুটবে ( হাঁদুর দিকে চেয়ে) )? মন দিয়ে কাজ করুন, কাজ শিখুন। এমন সুযোগ কজন পায় বলুন দিকি?”

    আমরা দুজনেই বুঝলাম সুখের দিন গিয়াছে। সারাদিন আড্ডা দেওয়া বন্ধ। স্বেচ্ছায় সীট অদল বদল করা গেলো, আমি হাঁদুর চেয়ে খানিকটা দূরে বসি। তাতে যে আমার কাজের বহর যে খুব বাড়ল তা নয় তবে সেন সায়েব আসতে যেতে সেটা লক্ষ্য করে খুশি হলেন হয়তো। আমাদের আর ঘাঁটালেন না।

    হরিপালের কাছের এক গ্রাম থেকে আসতেন আমাদের বড়ো বাবু, শ্যাম মিত্র। তাঁর সঙ্গে গল্প করার আনন্দ ছিল অনাবিল। আমাদের আদি বাড়ি গ্রামেই কিন্তু সে গ্রাম চিনেছি কেবল গরমের, পুজোর ছুটিতে। শ্যাম বাবুর গ্রাম নিত্যি দিনের, তাঁর কথার সুর মেঠো। একদিন বললেন, তালের রস থেকে তাড়ি হয় জানেন ? আরে আপনারা শহুরে মানুষ, কখনো খেয়েছেন ?’ তাড়ির নাম শুনেছি, কিন্তু তার সঙ্গে পরিচয় হয় নি। আমাদের পদুমা গ্রামে সিদ্ধি খেয়েছি। শ্যাম বাবু বললেন ‘ সিদ্ধি ভুলে যান, তাড়ি খাবেন। সবচেয়ে ভালো তাড়ি হলো সকালবেলার যে রস নামে আসে তার থেকে। এই পরশু দিন আপনারা একটু সকাল সকাল চলে আসুন, মাটির ভাঁড়ে তাড়ি নিয়ে আসব, অফিসে কেউ থাকবে না তখন। আমরা তিনজন একটু সেবা করবো ‘।

    সাধারণত অফিসে আসি নটার পরে, সেদিন সাড়ে সাতটায় পৌঁছে গেছি। অফিস সুনসান, শ্যামবাজারের মোড়ে ফল ওলা সব্জিওলা সবে বসেছে -ভাবা যায় না কয়েক ঘণ্টার ভেতরে কি রকম গমগম করতে থাকবে সারা অঞ্চল।

    জানি আমাদের সদা জাগ্রত চৈতন্যকে বিরাম দেবার জন্য এল এস ডি, একসটাসি ইত্যাদি নানান উপকরণ আবিষ্কৃত হয়েছে কিন্তু সেদিন সেই সকালে শ্যাম বাবুর গ্রামের গল্প শুনতে শুনতে তালের রসের যে স্বাদ পেয়েছিলাম তা অনন্য। তার এফেক্ট কি হতে পারে সেটা তিনি আগাম বলে দেন নি। মনে আছে শ্যাম বাবু আমাদের সেবা করালেন, নিজে হয়তো এক ফোঁটা পান করেছেন। আমাদের পুরনো সঙ্কল্প ভুলে আমি হাঁদুর সিটের সামনে একটা চেয়ার টেনে গল্প গুজব আরম্ভ করেছি এমন সময়ে সেন সায়েবের আবির্ভাব। এতো সকালে তিনিও কদাচ আসেন, তবে কি তাড়ির গন্ধে? আমাদের দেখলেন, কিছু না বলে অফিসে ঢুকলেন। খানিক পরে খাস পেয়াদা রমেনদা এসে জানালেন আমাদের ডাক পড়েছে, একত্রে।

    কোন ভূমিকা না সেন সায়েব বললেন, ‘ দেব, সিংহরায়, শুনুন কাল থেকে আমার অফিসের ভেতরে বসবেন, যা কিছু কাজ কর্ম সেটা সেখানেই করবেন। আমার সামনে। যদি কোন কাস্টমার আসে তাহলে খানিকক্ষনের জন্যে না হয় বাইরে যাবেন ‘।

    লঘু পাপে গুরু দণ্ড। সেন সায়েবের অফিস ঘর খুব বড়ো নয়, ঢুকতেই বাঁ দিকে তাঁর ডেস্ক, পিছনে আলমারি, সামনে দুটো চেয়ার আর তার পরে একটা ছোটো টেবিল। টেলিফোনে খদ্দেরের সঙ্গে তাঁর বাণিজ্যিক আলোচনা শুনি; দিন দুয়েকের মধ্যেই জানলাম তাঁর অর্ধেক টেলিফোন কল আসে স্ত্রীর কাছ থেকে। তার প্রসঙ্গ বহুবিধ - ছেলের লেখাপড়া, মেয়ের গানের ক্লাসে পৌঁছে দেবার ঝামেলা, সামনে তাঁর পিসিমার নাতনির বিয়ে। কখনো সেন সায়েবের ফর্সা মুখ লাল হয়ে যায়, উচ্চস্বরে তাঁর মতামত ব্যক্ত করতে থাকেন। দুজন নির্বাক শ্রোতা সামনে বসে আছে এতে তাঁর কোন ভ্রুক্ষেপ নেই- হাঁদুর চোখে মুখে একটা দুষ্টুমির হাসি। মাঝে সাঝে ব্যাঙ্কের ফাইল ধরিয়ে দেন – ‘ এই কেসটা পড়ুন কিছু শিখবেন‘। আমরা না পারি গল্প করতে, না পারি বেরিয়ে পড়তে। হাঁদু বললে ‘ সময় কাটাবো কি করে ? আয় কাটাকুটি খেলি ! ‘

    হাঁদুর জন্যে ঠনঠনের বাড়ি থেকে টিফিন ক্যারিয়ারে খাবার আসতো প্রতিদিন সাড়ে বারোটা একটার মধ্যে। ব্রাঞ্চে যোগ দেওয়ার প্রথম দিনেই হাঁদু জিজ্ঞেস করেছিল ‘ হ্যাঁরে দুপুরে কি খাবি ? ‘ আমার মায়ের পক্ষে সে রকম কোন ব্যবস্থা করা কঠিন ছিল। জানালাম রাস্তায় কিছু একটা খেয়ে নেবো। পরের দিন হাঁদু বললে ‘ আয় আমার সঙ্গে বসে খাবি। মা বলে দিয়েছে আজ থেকে তোর জন্যেও খাবার আসবে রোজ ‘।

    হাঁদুর কাছে এটা দুপুরের খাবার, ‘লাঞ্চ ‘ নয় !

    হাঁদু আর তনুশ্রী পুরী যাবে দু সপ্তাহের ছুটিতে। শুক্রবার অফিসে এসেই বললে ‘ যাক বাবা, দু সপ্তাহ এস পি সেনের মুখ দেখতে হবে না ‘। তার পরেই চিন্তায় পড়ে গেল “ আরে, তোর খাওয়ার কি হবে ?’ অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে বললাম ‘হাঁদু, ওটা আমি ঠিক ম্যানেজ করে নেব ‘।

    বিকেল বেলা হাঁদু বললে, ‘ শোন, মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে, সোমবার থেকে তোর জন্যে খাবার আসবে, বুঝলি ? ‘ যে টিফিন ক্যারিয়ার নিয়ে আসে সে বসে থাকবে তোর খাওয়া হয়ে গেলে বাড়ি নিয়ে যাবে।

    কোন ভণিতা, গৌর চন্দ্রিকা নয়, কোন ধন্যবাদের, তারিফের আশা নয়।

    এমনি যেন হবে এই স্বাভাবিক, এমনই তো হবার কথা।

    এমন মানুষও হয় ?

    হাঁদু মাঝে মধ্যে খদ্দেরের সন্ধানে যায়, তখন সেন সায়েবের মুখোমুখি আমি একা ফাইল পড়ার ভণ্ড প্রচেষ্টা চালাই। সেখানেও গোলমাল করে ফেলেছি। হাঁদু বললে ‘তোর হাতের লেখা একটা চিরকুট সেন সায়েবের হাতে পড়েছে জানিস ? তুই ছিলিস না। আমাকে ডেকে দেখালেন, বললেন এই দেখুন সিংহরায়ের সেদিন কি কি কাজ আছে -থিংগস টু ডু-লিস্ট ! এখানেও একটাও ব্যাঙ্কের কাজের কথা লেখা আছে ? পড়ুন তো ? ‘

    সব্বনাশ ! মা কয়েকটা কাজের ভার দিয়েছিল সেদিন, যেমন কলেজ স্ট্রিট থেকে দিলিপের জর্দা কেনা, বিবেকানন্দ রোডে মাসির বাড়ি থেকে একটা কৌটো নিয়ে আসা - এমনি সব ফিরিস্তি লেখা আমার মূল্যবান দলিলটি সেন সায়েব পড়েছেন!

    একদিন হাঁদু তার খরচা মানে ট্রাভেল এক্সপেন্স জমা দিয়েছে, সেটা খুঁটিয়ে দেখে সেন সায়েব খানিক ক্ষিপ্ত – ‘ এই খালপারে, চিতপুরে গেছেন, তা ট্যাক্সিতে কেন ? জানেন এক সময় বারাসাত মধ্যমগ্রামে ইন্সপেকশনে গেছি ট্রামে বাসে চড়ে?’ হাঁদু খুব নিচু সুরে বললে, ‘ তখন কি বারাসাত অবধি ট্রাম চলতো সার?’ সেন সায়েব এই তির্যক মন্তব্য অবজ্ঞা করে রমেনদাকে চা আনার হুকুম দিলেন।

    ব্যাঙ্কের বাইরে হাঁদুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরেক কাহিনি।

    প্রভাসদা ছিলেন বরানগর বাজারের মানী পেন্সিলার। কাঁটাকলে এম এ পড়ার সময়ে তাঁর ঘরের মেঝেতে পাতা চ্যাটাইয়ে বসে প্রথম পয়সা ঘোড়ার ওপর পয়সা লাগাই। বাংলায় রেসের গাইড পাওয়া যেতো তখন, ঘোড়ার সাজের কি রঙ তার বর্ণনা সমেত। তবে অত জানার প্রয়োজন ছিলোনা - আমাদের দৌড় ওই রেস আর নম্বর অবধি - দুয়ের পাঁচ, চারের তিন ! দু নম্বর রেসের পাঁচ নম্বর, চার নম্বর রেসের তিন নম্বর ঘোড়া ! প্রথম ঘোড়া দৌড়ুতে দেখি রয়্যাল ক্যালকাটা টার্ফ ক্লাবের টেরাসে বসে, হাঁদুর সৌজন্যে। সেখানের কায়দা কেতা কিছুই জানি না, কেবল তার সঙ্গে ঘোরাঘুরি করেই কি আনন্দ। হাঁদু এক সময় ঘোষণা করলে, ‘ শোন, দিনের শেষে আমাদের পজিশন কিন্তু প্লাস !’

    এখনও কানে বাজে, হাঁদু বলেছিল, রিটায়ার করার পরে এখানে বেশ আড্ডা দেওয়া যাবে বুঝলি ? আমরা গল্প করবো, ওই কঙ্গো আর জয়েস দুটো ঘোড়ার জকি কি সাঁট কষছিল আর তাদের মাঝখান দিয়ে কুইন অফ বেঙ্গল বাজি জিতে গেল। কি কেলো! কি কেলো !

    দু রকমের ছুটি পাওয়া যেতো তখন। বছরে বারো দিন ক্যাজুয়াল লিভ -সি এল, মানে কর্তার অনুমতি মাফিক সেটা যখন খুশি নেওয়া যায় আর তিরিশ দিনের অ্যানুয়াল লিভ ( সেই ছুটির ভেতরের রবিবারগুলো ধরে নিয়ে )। বছরে বারোটা মাস, আর মাত্তর বারো দিনের সি এল ! খরচা করতে গায়ে লাগে ! আমরা দু জনে মিলে ক্যাজুয়াল লিভ সংরক্ষণের একটা প্রকল্প ফেঁদেছিলাম- এই মৌলিক চিন্তার জনক ছিল হাঁদু।

    ছুটি নিতে হলে সেন সায়েবের কাছে আর্জি জানাতে হবে। সে চিঠি শুরু আই শ্যাল বি গ্রেটফুল দিয়ে, শেষ হয় আই রিমেন সার ইয়োর মোস্ট ওবিডিয়েনট সারভেনট।

    সেন সায়েব ছুটির অ্যাপ্লিকেশন মঞ্জুর করলে রমেন সে চিঠি এ বাড়ি থেকে ও বাড়িতে মানে শ্যামবাজার ব্রাঞ্চের পারসোনেল দফতরে পৌঁছে দেবে। তাদের খাতায় লেখা হবে আমার বারো দিনের সি এল থেকে আরও একটা দিন কাটা গেল। এই চিঠিটা পাশের বাড়ি পৌঁছুল কি না সে ব্যাপারে সেন সায়েবের কোন কৌতূহল থাকার কথা নয়- তিনি তাতে সই দিয়েই আমাদের ধন্য করেছেন। আমরা রোজ অফিসে আসি কিনা সে ব্যাপারে তাঁর আগ্রহ আছে, শ্যামবাজার ব্রাঞ্চের পারসোনেল দফতরের কোন মাথা ব্যথা নেই। সেন সায়েবের সই করা চিঠি পেলে তারা জানবে অমুক দিন আমি কাজে আসবো না। এই চিঠির সাপ্লাই লাইন যদি বানচাল করা যায়? তাহলে পারসোনেল অফিস জানবে না আমরা এলাম কি গেলাম। রমেনদাকে অনুরোধ করা হলো সেন সায়েবের সই করা ছুটির অ্যাপ্লিকেশান যেন ওই বাড়িতে না পৌঁছয়, সেটা ছিঁড়ে ফেললেও সেন সায়েব কখনো জানবেন না । আজ বলতে পারি রমেনদা আমাদের কথা রেখেছিলেন - আমার সাত মাসের কর্ম কালে বড়জোর দুটো ক্যাজুয়াল লিভের আবেদন পারসোনাল দফতর অবধি গিয়েছিল বাকি পত্রাবলী পরমগতি প্রাপ্ত হয়।

    হাঁদু একদিন বললে ‘ চল দিকি আমার সঙ্গে, গ্যালিফ স্ট্রিট যাবো ‘। কেন, কি কারণে জানতে চাইলাম না। অনুরোধ আর আদেশের মাঝমাঝি একটা হয়তো অনির্দিষ্ট কিছু আছে – হাঁদুর কণ্ঠে তেমনি একটা সুর। সে বললে আমি যাবো, কোন প্রশ্ন ওঠে না, হাঁদুর ব্যক্তিত্ব এমনই ছিল। রাস্তায় নেমে হাঁদু বললে ‘ ওখানে একটা সাইকেলের দোকান আছে, লোন চাইছে। দেখি দোকানটা কোথায়, লোক জন কেমন আসে যায়, তাদের ব্যবসা কি রকমের। তুই যাবি খদ্দের সেজে বুঝলি, তুই যেন কিনতে এসেছিস। মন দিয়ে সাইকেল গুলো দেখবি, দু চারটে ভুজুং ভাজুং গপ্প চালাবি তারপরে এই একটু ভেবে দেখি বলে বেরিয়ে পড়বি । আমি তোর পাশেই থাকবো ‘।

    অনেক পরে সিটি, গোল্ডম্যান, সলোমনে কতো জ্ঞান শুনলাম - ডিউ ডিলিজেন্স, সাইট ভিজিট, নো ইয়োর কাস্টমার – কার সঙ্গে কারবার করবে তাকে দেখো শোনো জানো ! এম বি এর ক্লাসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এই নিয়ে লেকচার চলে – সে সব দেখা শোনা জানা কেতাবি।

    বার্লিনের প্রবাদ প্রতিম ব্যাঙ্কার ফুরস্টেনবেরগ বলেছিলেন শেয়ার যারা কেনেন তাঁরা একাধারে মূর্খ এবং লোভী – তাঁরা অর্থ সমর্পণ করেন এমন প্রতিষ্ঠানকে যার দরোজাটা অবধি কখনো দেখেন নি আবার বছরের শেষে ডিভিডেন্ড দাবি করেন। মনে আছে ১৯৯৩ সালে তুরস্কের বাঙ্কা টুরিসটিকা ডুবে গেলে ফ্রাঙ্কফুর্টের ডয়েচ-উঙ্গারিশে ব্যাঙ্কের প্রধান লন্ডনে একটা মিটিঙে আমাকে বলেছিলেন, জানেন আমরা সেকেন্ডারি মার্কেটে ওদের বিল কিনেছিলাম ? সেটা অনাদায়ী হয়ে গেছে। এখন খোঁজ খবর নিতে ইস্তানবুল গিয়ে দেখলাম সে ব্যাঙ্কের মেন অফিস একটা কার্পেট বাজারের মাঝে ! আগে সরজমিন দেখলে এই ফাইনান্স কখনো করতাম না। ‘

    হাঁদু এম বি এ কোর্সে কোনো ডিউ ডিলিজেন্সের ক্লাস করে নি। তার মেধা আর কমন সেন্স দুটোই তীক্ষ্ণ।

    দেড় দশক বাদে হাঁদুর টেলিফোন।

    আমি সিটি ব্যাঙ্ক লন্ডনে, এমারজিং মার্কেটের জন্য দুনিয়ার বাজারে অর্থভিক্ষা করি, হাঁদু ম্যাকনিলে। টাকা তোলার জন্যে সিটি ব্যাঙ্ক কলকাতার সঙ্গে আলোচনা চলাকালীন হাঁদু জেনেছে এ ব্যাপারে আমি জড়িত আছি তৎক্ষণাৎ আমাদের ফোন যোগাযোগ স্থাপিত হলো। সে লোন সম্পূর্ণ না হওয়া অবধি কাজের বাহানায় ব্যাঙ্কের খরচায় টেলিফোনে প্রভূত গল্প গুজব করেছি। সেই স্বচ্ছ ভাবনা, কোনো মাকড়সার জাল নেই, আমার বা কোম্পানির কিসে লাভ তার প্যাঁচালো তর্ক নেই সেই পুরনো সুরে, ’ দ্যাখ না বাবা কি দরে দিতে যোগাড় করতে পারিস, তোদেরও তো দু পয়সা রাখতে হবে ট্যাঁকে। ‘

    বড়ো অকালে চলে গেলো হাঁদু। আর কখনো দেখা হয় নি। রেখে গেছে স্মৃতি ; আজ কর্মহীন অবসরে, ঠনঠনে, পাঁচ মাথার মোড়, রেস কোর্সের পাশ দিয়ে গেলে, খুব বেশি করে মনে হয় - এই তো ছিল আমাদের বসার সময়, নির্ভেজাল আড্ডার সময়, মাঝের বছর গুলোর কতো গালগল্প করা বাকি !

    একদিন গুপুস তোপ পড়বে। সাঙ্গ হবে এই নকশার পালা।

    তখন কোথাও, হয়তো কোথাও একদিন, কোন দিন দেখা হবে এই আকাশ ছাড়িয়ে আরেক আকাশের ওপারে।

    ইন্দ্রজিৎ দেব

    আসা ২৮শে সেপ্টেম্বর ১৯৪৮ ১ রাজেন্দ্রলাল দেব রোড কলকাতা ৭০০ ০০৭
    যাওয়া ২৬শে ডিসেম্বর ২০০৫

    *কলিকাতার বারোইয়ারি পুজা - হুতোম প্যাঁচার নকশা

     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • স্মৃতিচারণ | ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১৬৫৮ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    নো  - albert banerjee
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩ ২৩:০৬527187
  • জুতো পরে ক্লাসে আসত মানে? বাকীরা খালিপায়ে?
  • | ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩ ২৩:১৬527190
  • ওহ চটি ঠিক আছে। তখনো অত ফর্ম্যাল ড্রেসের বাড়বাড়ন্ত হয় নি নিশ্চয়। আমাদের সময়েও যাবতীয় মাস্টার্সে জনতা চটি পরেই কাটিয়েছে।
    শুধু এমবিএদের নিয়ে আমরা এখনো হাসাহাসি করি 'ওই যারা ২৪ ঘন্টা টাই পরে ঘোরে' বলে।
  • সমরেশ মুখার্জী | ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩ ১০:৫৮527197
  • হীরেনদা‌র কিছুক্ষণ সিরিজ আমার প্রিয়। এটা পড়ে আমার পরবর্তী সিক‍্যুয়েল "অবাক রামধনু" লেখা‌র একটি অংশ এই লেখা‌র অনুরণন হিসেবে তুলে দিচ্ছি:

    "পিতাশ্রী মেসের বোর্ডার হিসেবে মোটামুটি সতেরো থেকে পঁচিশ - এই সময়কালটি জীবনের একটি সুবর্ণ অধ‍্যায়। এই সময়ে গড়ে ওঠা অন্তরঙ্গ বন্ধুত্ব জীবনের অমূল‍্য সম্পদ। তেমন বন্ধুত্ব হয় মুষ্টিমেয় কয়েক জনের সাথেই। তেমন বন্ধুত্বে সেভাবে উপলব্ধি হয় না কোনো শর্ত, চাহিদা, আদানপ্রদাণের টানাপোড়েন। পীড়িত করে না সামাজিক অবস্থান, শিক্ষা, উপার্জন ইত‍্যাদি নিয়ে তুলনামূলক হীনমন্যতা‌বোধ। প্রতিষ্ঠার ঝলমলে আলখাল্লা সত্তায় চাপতেও ঢের দেরী। নিছক একে অন‍্যের সাহচর্য উপভোগ করতে চাওয়ার আনন্দ - সেই কালে সেটা‌ই তখন অন্তরঙ্গ সম্পর্কে‌র আঠা। সেই সমীকরণ কিছু ক্ষেত্রে ক্রমশ বিবর্তিত হতে শুরু করে জীবিকার সোপান বেয়ে কে, কোথায়, কত তাড়াতাড়ি উঠে যায় তার ভিত্তিতে। কখনো তা ভবিষ্যতে বদলে যায় অসমীকরণে বা চলে যায় কোমায়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া‌র পরেও যাদের জীবনে তেমন কিছু অতীত বন্ধুত্বের টান রয়ে যায় - তারা ভাগ‍্যবান। তেমন বন্ধু‌ত্ব‌ও মহার্ঘ্য।

    পঁচিশ থেকে তিরিশ - একটা ট্রানজিশন পিরিয়ড। কর্মব‍্যস্ততা, দায়িত্ব, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ক্রমশ থাবা বসায় দায়হীন কালের বন্ধুত্বে। তারপর আর ঠিক বন্ধুত্ব বলতে যা বোঝা‌য়, তা হয়তো হয়না। জীবনের নানা ঘাত প্রতিঘাতে মনে নানা মানবিক আবেগের অভিঘাত কমে যায়। পলি পড়ে সরলতায়। অনেক কিছু চোখে পড়ে যা আগে পড়তো না। সংশয়ী, সাবধানী হয়ে যায় মন। অজান্তেই মনে আসে নানা অগ্ৰপশ্চাৎ ভাবনা, হিসেব, বিবেচনাবোধ। এমন মন নিয়ে আর স্বচ্ছতোয়া বন্ধুত্ব হয় না। অতঃপর সচরাচর যা হয় তা নিছক পরিচিতি, সামুদায়িক জীবনযাত্রার শর্ত বা কোনো বাস্তব প্রয়োজনীয়‌তায় সম্পর্ক‌স্থাপন (networking) ও তা বজায় রাখার জন‍্য অনুশীলিত প্রচেষ্টা। মুষ্টিমেয় পছন্দের মানুষের সাথে মাঝেমধ্যে দেখা করে একঘেয়েমি কাটাতে ইচ্ছা হয়। অধিকাংশ সম্পর্কে অন্তঃসারশূন্য‌তা উপলব্ধি করে অন্তর্মুখী মানুষ (introvert) প্রৌঢ়ত্বে, বার্ধক‍্যে অধিকাংশ সময় একলা কাটাতে‌ও পছন্দ করে।"

    হীরেনদা‌র লেখা‌ পড়ে মনে হয়েছে, তিনি‌ ভাগ‍্যবান, জীবনে অনেক আকর্ষণীয় মানুষের সাহচর্যে তিনি সমৃদ্ধ হয়েছে‌ন। নিজস্ব স্বভাব‌বৈশিষ্ট্যর গুণে তেমন সব সম্পর্কের উষ্ণতা বহুদিন বজায় রাখতে পেরেছেন। অনেকেই পারে না। আগুনের 'পরে জমে ওঠা ছাইয়ের মতো সময়ের সাথে বন্ধুত্বের উষ্ণতা‌ ক্রমশ স্তিমিত হয়ে আসে, বাড়ে শীতলতা‌।

    হীরেনদা‌র সব লেখাতেই ছড়িয়ে থাকে টুকরো টাকরা এক্সপ্রেশনের মনিমাণিক‍্য, এখানে‌ও পেলাম কয়েকটি, যেমন :

    "হাঁদু একদিন বললে ‘ চল দিকি আমার সঙ্গে, গ্যালিফ স্ট্রিট যাবো‘। কেন, কি কারণে জানতে চাইলাম না। অনুরোধ আর আদেশের মাঝমাঝি একটা হয়তো অনির্দিষ্ট কিছু আছে – হাঁদুর কণ্ঠে তেমনি একটা সুর।"
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল মতামত দিন