এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  স্মৃতিচারণ  স্মৃতিকথা

  • কিছুক্ষণ ৫ চুনী  গোস্বামী : কিছু কথা,  কিছু স্মৃতি 

    হীরেন সিংহরায় লেখকের গ্রাহক হোন
    স্মৃতিচারণ | স্মৃতিকথা | ২০ জুলাই ২০২৩ | ২২৬১ বার পঠিত | রেটিং ৫ (৩ জন)
  • চুনী গোস্বামী : কিছু কথা, কিছু স্মৃতি

    বঙ্গোপসাগর থেকে ছুটে এলো ক্ষিপ্র দ্রুত শ্বাস
    চুনী গোস্বামীর মত সাবলীল সহজ বাতাস *



    প্রাক কথন

    ছয়ের দশকের শুরু। নরেন্দ্রনাথ বিদ্যামন্দিরের সপ্তম শ্রেণিতে যখন যোগ দিলাম, সেখানে ছত্রিশটি বালক : প্রায় সকলেই ইস্ট বেঙ্গলের ঘোষিত বা অঘোষিত সমর্থক। এই গোনা গুনতি কজন মোহন বাগান : মানস দে, মিহির ব্যানারজি, তপন গুহ এবং আমি (পিতৃদত্ত নামগুলো পণ্ডিত সার এবং হেড সার বদলে দিয়েছেন -ফলে আমরা যথাক্রমে মানস মোহন, মিহির লাল, গুহ এবং সিংহী )। লাল হলুদের সামনে সংখ্যায় আমরা নগণ্য হলেও স্কুলের শেষ চার বছর ( ১৯৬২ থেকে ১৯৬৫ ) মোহনবাগান লিগ জিতেছে। ক্লাস নাইন থেকে ইলেভেন অবধি আমরা শার্টের কলার উঁচু করে চলেছি। আমাদের বিজয় রথের সারথির নাম - চুনী গোস্বামী, তাঁর পাশে জারনেল সিংহ।জানি, এগারোর অমর একাদশের সঙ্গে তুলনা ধৃষ্টতা মাত্র তবু এই আটান্ন বছর বাদেও মনে আছে আমাদের ১৯৬৫র ফরওয়ার্ড লাইন – কাজল, দুলাল, চুনী, অশোক, অরুময়।

    এক

    কিংবদন্তির মুখোমুখি

    দাদার ফোন।

    “ কাল ছুটির পরে আলিপুরে চলে আয়। রাতে বলরাম ড্রাইভার তোকে পাইকপাড়া পৌঁছে দেবে “।

    কারণটা কি জানা নেই, তাই মাকেও কিছু বলা গেল না। অফিস যাওয়ার সময়ে শুধু জানালাম, তুমি খেয়ে নিও। আলিপুরে দাদার বাড়ি যাবো। দেরী হতে পারে, বলরাম আমাকে নিয়ে আসবে।

    দাদা তখন শ ওয়ালেসে। কোম্পানির ফ্ল্যাটের ঠিকানা ছিল ১৪/১ জাজেস কোর্ট রোড, আলিপুর।

    দোতলায় উঠতেই বুঝলাম বসার ঘরে মজলিস বসেছে। সিঁড়ির ল্যান্ডিং থেকে দরোজা দিয়ে ঢুকতেই দাদা বললেন, “ আয়। কাকে ধরে এনেছি দ্যাখ ! তোদের হিরো! পেন্নাম কর ! ”

    নিতান্ত বিব্রত হয়ে সোফা থেকে উঠে দাঁড়ালেন চুনী গোস্বামী ! লাল সবুজ জার্সিতে মোহন বাগানের মাঠ যিনি কাঁপিয়েছেন সেই চুনী গোস্বামী সাহেবি সাজে সজ্জিত। চুনী গোস্বামী ! যিনি কোনদিন দল বদলান নি ! চিরকালের মোহনবাগান ! এখন ষ্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়াতে আমাদের সিনিয়র।

    “গনেশদা, কি যে করেন!”

    “চুনী, এই আমার ভাই, মোহনবাগান অন্ত প্রাণ। তোমাদেরই ব্যাঙ্কে ঢুকেছে “।

    দাদার জন্ম সেকালের বিহারে (অধুনা ঝাড়খণ্ড )। শিক্ষা - ঝরিয়ার নিকটবর্তী কাতরাস গড়ের স্কুল, বাঁকুড়া ক্রিস্টিয়ান কলেজ এবং ধানবাদ স্কুল অফ মাইনস। ১৯৭১ সালের আগে কখনও কলকাতায় বাস বা কর্ম করেন নি। মোহনবাগান ইস্ট বেঙ্গলের লড়াই তাঁর কাছে এক অজ্ঞাত অধ্যায় । কোন দলকে তিনি সমর্থন করেন জানতে চাইলে একটি দেশাত্মবোধক উত্তর দিতেন- যে দলে বেশি বাঙালি খেলোয়াড় আমি তাদের সাপোর্ট করি !

    বিশ বছর বাদে স্লোভাকিয়ার মারেক পতোমা বলেছিল ‘ চেকোস্লোভাক আইস হকি দলে স্লোভাকরা চান্স পায় না -আমাদের অন্য দেশ চাই! ‘

    Star struck কথাটার বাংলা কি? তারকাহত ? বিখ্যাত মানুষের সামনে বসে আমি কেবল তাঁদের বিড়ম্বনা বাড়িয়েছি! আমি হয়তো বলব, আপনি সেদিন কি দারুণ গোলটা করলেন ! চুনীদা কি বলবেন ? “কাজল যে পাসটা দিল সেটা বলো!” আর যাই হোক দ্বিপাক্ষিক সংলাপ চালানো শক্ত। চুনীদা আশ্চর্য মানুষ ছিলেন। এতো সহজে গল্প করতেন মনে হয়েছে বাড়িতে রোববারের রকে আড্ডা হচ্ছে। দেশ ছাড়া অবধি পরের বছর তিনেক মাঝে মধ্যে চুনীদার সঙ্গে যেটুকু সময় কাটিয়েছি একবারও তিনি নিজের ফুটবল খেলার কথা তোলেন নি, ক্রিকেটের সামান্য কথা হয়েছে।

    আর ওই ভুবন ভোলানো হাসি লেগে আছে মুখে !



    দুই

    ঘোড়া রোগ

    রবিবার। জানুয়ারি মাসের মিষ্টি রোদ। বারুইপুরে দাদার বন্ধু ভূপাল বোসের বাগান বাড়িতে জনসমাবেশ– চড়ুইভাতিটা সেই বাগানেই হবে। আহা কি সুন্দর দিন, এই রকম দিন কেন রোজ হয় না।

    দাদা অফিসের কাজে কোথাও গেছেন, বৌদি আর আমি এসেছি। বাগানের মধ্যমণি চুনীদা। তাঁকে ঘিরে নানা রকমের গল্প গুজব চলছে। এক সময়ে চুনীদা আমাকে ডাকলেন “ শোনো, তোমার ঘোড়া রোগ নেই তো ?”

    আমার অন্য রকমের রোগ নিয়ে মা দাদা বৌদি সর্বদা চিন্তিত জানি, কিন্তু ঘোড়ার ব্যাধি নিয়ে নয়।

    কাঁটাকলে ইকনমিকস পড়ার সময়ে বরানগরে পেন্সিলারদের ( বুঝ গুণী যে জানো সন্ধান) আখড়ায় কোন শনিবারে দু চার পয়সা যে ঘোড়ার পেছনে যে লাগাই নি তা নয়। গোপাল লাল ঠাকুর রোডের পাশের গলিতে প্রভাসদা মাটিতে তালাই পেতে, হাতে ক্যাশ মেমো সুলভ একটি খাতা হাতে নিয়ে সেখানে বসতেন। যদিও কঙ্গো, জয়েস, কুইন অফ বেঙ্গল ইত্যাদি ঘোড়ার নাম জানতাম, কিন্তু শনিবারের দিন বাংলা চটি বই দেখে বাজি লাগিয়েছি, ঘোড়ার নাম, জকির পোশাকের রঙ নিয়ে মাথা ঘামাই নি। নাম নয়, একের তিন, চারের সাত ( প্রথম রেসের তিন নম্বর ঘোড়া, চারের সাত নম্বর ) ! উইন, প্লেস, কুইনেলা এই সব শিখেছি আমার বাবার বয়েসি মহা পক্ষীদের পাশে বসে। নিতান্ত বয়ঃকনিষ্ঠ দেখে অত্যন্ত স্নেহভরে কেউ বলতেন, ‘ বাবা পাঁচের ওপরে লাগিও না, ওর ব্যায়রাম হয়েছে, খবরটা চেপে যাচ্ছে ‘। কি গুলতানি যে চলতো ! মানি ব্যাগ ছিল না - প্রভাসদার লেখা সেই সিলিপ পকেটে পুরে কাশীনাথ দত্ত রোডের দিকে রওনা। দাঁও লাগলে সোমবার ক্লাস ছুটির পরে টাকা আদায় করতে গেছি -সেটা অবশ্য পকেটে বেশিক্ষণ থাকে নি, চার নম্বর বাস স্ট্যান্ড পার হবার আগেই বা সতুর সাক্ষাৎ পাওয়া মাত্র ভোগে লেগে গেছে।

    সে আমার অবিস্মরণীয় বরানগর!

    সে সময়ে ময়দানে শুধু নয়, টালিগঞ্জেও ঘোড়া দৌড়ুতো। টলি ক্লাবে আজ যেখানে মেম্বারদের থাকার জন্যে বাংলো বানানো হয়েছে, সেটি ছিল রেস কোর্স- দৈর্ঘ্যে এবং প্রস্থে ক্ষীণ। টার্ফ ক্লাবে ঘোড়ার ওপরে ওজন চাপিয়ে চড়িয়ে তেজি ও নাদান ঘোড়ার মধ্যে সমতা আনা হতো- যার নাম হ্যান্ডিক্যাপ। টালিগঞ্জে ওজন নয়, দূরত্ব দিয়ে সেই হ্যান্ডিক্যাপ নির্ধারণের ব্যবস্থা ছিল – সব ঘোড়া এক লাইন থেকে দৌড় শুরু করতো না। বাগি ঘোড়া অনেকটা পেছন থেকে, নভিস খানিক এগিয়ে - সেটাই হ্যান্ডিক্যাপ। সতুর ভাষায় “ বুঝলি, রেস শুরু হয়ে গেছে, এমন সময় ঝোপের আড়াল থেকে বেরিয়ে একটা ঘোড়া হঠাৎ ছুটতে শুরু করে দিলো “!

    বরানগরে বুকিদের মাদুরে বসে ঘোড়ায় পঞ্চাশ পয়সা লাগানোর ইতিহাস চুনীদার জানার কথা নয় -আর সেটা তো বছর চারেক আগের কথা। এখন ও পথ ত্যাগ করেছি। হালে অবশ্য আমার কাঁটাকলের সতীর্থ এবং ষ্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার অধুনা সহকর্মী ঠনঠনের দেব বাড়ির হাঁদুর ( প্রয়াত ইন্দ্রজিৎ দেব) সঙ্গে রয়্যাল ক্যালকাটা টার্ফ ক্লাবে গেছি।

    আমার জবাব না পেয়ে না পেয়ে তিনি বললেন “ মিসেলটোতে পয়সা লাগাও ?”

    খেয়েছে। মিসেলটো নামের একটি অসম্ভব কুঁড়ে এবং ধীর গতি ঘোড়া রয়্যাল ক্যালকাটা টার্ফ ক্লাবের অঙ্গনে মাঝে মধ্যে দৌড়নোর ব্যর্থ চেষ্টা করতো। ভুপালদার সিংহভাগ থাকলেও মিসেলটোর মালিকানা আরও কয়েকজনের মধ্যে বন্টিত ছিল। যেমন আমার বৌদির নামে পাঁচ শতাংশ। কোনো একবার কিভাবে যেন মিসেলটো একটা রেস জেতে। ভুপালদা তার ছবি দেওয়ালে টাঙ্গিয়ে রেখেছেন, তলায় আংশিক মালিকদের নাম লেখা। সেটি দেখেই চুনীদার কৌতূহল জাগ্রত । এই অকেজো অপদার্থ প্রাণীর প্রতি আমার কোন আর্থিক নিবেশ নেই জেনে খানিকটা আশ্বস্ত হলেন।

    “ ঘোড়ার পেছনে কখনও নিজের টাকা নিয়ে ছুটো না। ব্যাঙ্কারদের সেটা কখনও করা উচিত নয়। কিন্তু মনে রেখো - ঘোড়া হলো ব্যাঙ্কারদের বিজনেস পার্টনার। লোকে আমাদের কাছ থেকে ধার নিয়ে ঘোড়ার পেছনে পয়সা লাগাবে। সে ঘোড়া জিতলে লাভের টাকা আবার আমাদেরই সেভিংস ব্যাঙ্কে জমা দেবে “

    আমি বললাম, “ আর যদি হারে ?”

    মুখে সেই অনবদ্য হাসি “ তখন তারা আমাদের পায়ে পড়বে আরও টাকা ধার নেওয়ার জন্যে ! ঘোড়া জিতলে আমাদের ব্যাঙ্কে পয়সা জমা করবে, হারলে ধার নেবে! “




    তিন

    ঘটনা কি রটনা?

    স্কটিশ চার্চ কলেজে পেয়েছিলাম অধ্যাপক চন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়কে। দীর্ঘ সৌম্য চেহারা, অসম্ভব পরিশীলিত বাচন। তাঁকে দেখে নিজেকে ঘটি সম্প্রদায়ের সদস্য হিসেবে গর্ব বোধ করতে শিখি। বাড়ি ছিল ৯/১ মনোহর পুকুর রোডে আর প্রানে মনে ছিল ভ্রাতৃ সঙ্ঘ নামের ফুটবল ক্লাব যাকে তিনি পুত্র স্নেহে লালন পালন করেন। ছয়ের দশকে চন্দ্রনাথদা কলকাতার মাঠে ওয়ান টাচ ফুটবল খেলিয়েছিলেন- পঞ্চাশ বছর বাদে স্পেন টিকি টাকা ফুটবল বলে যা নিয়ে বড়াই করে! কখনও মাঠে নিয়ে গেছেন। প্রয়াত অমল দত্ত ভারতের শ্রেষ্ঠ ফুটবল কোচ মানি কিন্তু চন্দ্রনাথদাকে আমরা তাঁর প্রাপ্য সম্মান দিই নি। অন্তত একটা আবক্ষ মূর্তি যেন কোনদিন দেখি ময়দানে।

    ইকনমিকসের বাইরে তিনি অন্য জগত খুলে দিয়েছিলেন। একদিন আমাকে ডেকে বললেন, ‘ লেখা পড়া তো আছেই , এবার কলেজের কুইজ টিমে এসো দিকি, ক্লাসরুমের বাইরে যে দুনিয়াটা আছে সেটা দেখো ‘। রোহতকের ভিরেন্দর সিং ছিল কলেজ কুইজ টিমের দলনেতা। কলেজ স্ট্রিট বাটার ওপরে আমেরিকান কনসুলেটের অফিস ছিল- ইউ এস আই এস ( ইউনাইটেড ষ্টেটস ইনফরমেশন সার্ভিস)। সেখানে অনেকবার লড়াই করেছি –একবার জিতে আসতেই দশ টাকার নোট বাড়িয়ে দিলেন “ যাও পুরোটা খরচা করে ফেলো“। একদিন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড পড়াচ্ছেন, হঠাৎ ফুটবলের কথা উঠলো। দিল্লীতে তখন ডুরানড কাপের খেলা চলছে। চুনী গোস্বামীর সঙ্গে ইন্টারভিউর পরে এক রিপোর্টার নাকি তাঁর প্রতিবেদনে লিখেছেন , “ চুনী গোস্বামী এক ধর্মনিষ্ঠ ফুটবলার। তিনি প্রত্যহ গীতা পাঠ করেন“। চন্দ্রনাথদা শেষ করে বললেন, “চুনী নাটক করতে পারে বটে ‘।

    কৌতূহল থেকে গিয়েছিল। দশ বছর বাদে সুযোগ পেয়ে চুনীদাকে জিজ্ঞেস করি, “ আপনি কি রোজ গীতা পড়েন ?” স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বললেন ‘আরে দূর, কখনো খুলে দেখেছি বলে মনে হয় না। এটা আবার কে ছেড়েছে ?”

    চন্দ্রনাথদার কাছে শোনা ডুরানড কাপের গল্পটা বললাম। চুনীদা হাসলেন, “ ও দিল্লীর ব্যাপারটা ? আরে এক নাছোড়বান্দা রিপোর্টার ইন্টারভিউ চাইছিলো। আমার সময় কম। বললাম, আমার হোটেলের ঘরে এসে দু মিনিট না হয় কথা বলে যাও। সেদিন সকালে আমার দুটো জরুরি কাগজ সাবধানে রাখব বলে বেড সাইড টেবিলের ড্রয়ার খুলেছিলাম। দেখি একটা গীতা রাখা আছে, যেমন অন্য হোটেলে বাইবেল দেয়। ডকুমেন্ট রাখতে বেশি জায়গা লাগবে। তাই গীতা বের করে টেবিলের ওপরে রেখেছি কিছুই না ভেবে। রিপোর্টার হাজির হলো। সে ব্যাটা তার গল্প বানাবার অ্যাংগল খুঁজছে - চোখ চলে গেছে সেদিকে। জানতে চাইলে- ‘ আচ্ছা মিস্টার গোস্বামী আপনি রোজ গীতা পাঠ করেন? ‘ পাতা অবধি যে কখনো ওলটাই নি বলে কোন লাভ নেই। তাকে কাটানো দরকার তাড়াতাড়ি। বললাম, ’ হ্যাঁ, এই আত্মবল বাড়ানোর জন্য! “

    চুনীদার আরেক উপদেশ :

    চুনীদা তখন ষ্টেট ব্যাঙ্কের ফোরট উইলিয়াম ব্রাঞ্চ ম্যানেজার। সামনে বাংলার রঞ্জি ট্রফি ম্যাচ আছে ইডেনে। মোহনবাগান মাঠের বাইরে ময়দানে স্টাম্প পেতে ছোটো খাটো অনুশীলনের পালা। যথারীতি অফিস পালিয়ে চুনীদা ব্যাটিং প্র্যাকটিস করছেন। এমন সময়ে ভগ্নদূতের মতো সেখানে ফোরট উইলিয়াম ব্রাঞ্চের বড়ো বাবু উপস্থিত। ব্যাট তুলে চুনীদা তাঁকে অপেক্ষা করতে বললেন। ওভার শেষে বড়ো বাবু জানালেন “সার, অডিট এসেছে, আপনার অফিস ঘরে বসবেন, চাবি চাইছেন “। চুনীদা পকেট থেকে চাবি বের করে দিলেন- “ আমার অফিসে বসে কাজ কর্ম শুরু করতে বলুন, আমি আউট হলেই চলে আসছি।“

    আধ ঘণ্টা কাটে নি। ব্রাঞ্চের হেড ক্যাশিয়ার হন্ত দন্ত হয়ে বাউনডারি লাইনের বাইরে দাঁড়িয়ে হাত পা নাড়ছেন। চুনীদা তখন নন স্ট্রাইকার প্রান্তে। ইঙ্গিতে কাছে আসতে বললেন।

    “ আবার কি হলো ?”
    “ সার ওঁরা এখুনি ভল্টে যেতে চান। চাবিটা দেবেন?”

    জানতে চাইলাম “ চাবি দিলেন?”

    চুনীদা বললেন, “ আরে হাত জমে গেছে, ভালো ফর্মে আছি। পকেটে হাত ঢুকিয়ে চাবি প্রায় বের করে দিতে যাচ্ছিলাম, তখন কি খেয়াল হলো ! নিজেকেই বললাম, দিস নে ভল্টের চাবি। অন্যের হাতে দিলে তোর চাকরি চলে যাবে চুনী। হেড ক্যাশিয়ারকে দাঁড়াতে বলে নিজেকে রিটায়ারড হার্ট করে নন স্ট্রাইকার থেকে সোজা ব্রাঞ্চে ফিরলাম। “
    শেষ করে বললেন, “ কে জানে তুমি হয়তো একদিন কোনো ব্রাঞ্চের হাল ধরবে – তখন সে ব্রাঞ্চের কি হাল হবে জানি না ! মনে রেখো ব্যাঙ্কের চাবি থার্ড পার্টির হাতে দিলে ষ্টেট ব্যাঙ্ক তোমার হাতে বিল্ব পত্র ধরিয়ে দেবে “।

    প্রসঙ্গত : ব্যাটিং করার সময় নিজের সঙ্গে কথা বলার অভ্যাস ছিল চুনীদার ! এর সাক্ষ্য দিয়েছেন মতি নন্দী তাঁর ম্যাচ রিপোর্টে (আনন্দবাজার, ১০ জানুয়ারি ১৯৭২) : বিহারের বিরুদ্ধে জামাডোবার ডিগওয়াডি স্টেডিয়ামে ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে চুনীদার একমাত্র সেঞ্চুরি ( ১০৩)। তিনি শত রানের দিকে এগুচ্ছেন আর নিজের সঙ্গে বিড়বিড় করে কথা বলছেন - চুনী তুই বাঘের বাচ্চা, লড়ে যা শা-, ছাড়িস নে চুনী“।

    স্টাম্প মাইক সেকালে ছিল না। প্রয়াত মতি নন্দীর সূত্র চুনীদার বিশেষ বন্ধু, বিহারের উইকেট কিপার দলজিত সিংহ, যিনি বাংলা জানতেন!



    একটি বিরল ছবি

    অনুজ প্রতিম ঋত্বিক মিত্রের বিয়েতে চুনীদা ও দীনবন্ধু মিত্রের পৌত্র মোহন বাগানের গ্রাউনড সেকরেটারি গনাই মিত্র মহাশয়
    ২০ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৬

    চার

    ডে স্লিপ

    নিজের খেলার পাট চুকে গেছে কিন্তু খেলা তাঁকে ছাড়ে নি। চুনীদা জাতীয় ফুটবল নির্বাচক। যেখানে সেখানে খেলা দেখে বেড়ান, ভবিষ্যতের পি কে, মান্না, বলরাম, সনৎ শেঠ খোঁজেন। অবসর সময়ে ষ্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার চৌরঙ্গি শাখার হাল ধরেন। আমি তখন স্ট্র্যানড রোডের কলকাতা মেন ব্রাঞ্চে কাজের বাহানায় প্রত্যহ হাজরে দিই । মোহন বাগানের খেলা থাকলে মাঝে মধ্যে চৌরঙ্গি অফিসে যাই চুনীদার কাছে ডে স্লিপ চাইতে। আজকের স্টিক ইট সাইজের ছোটো এক টুকরো কাগজে লিখে দিতেন

    Admit One

    C. Goswami

    সেটা দেখিয়ে মোহনবাগান সদস্যদের গেট দিয়ে বীরদর্পে মাঠে ঢুকেছি।


    সদা হাস্যময় এই নিপাত বাঙালি ভদ্রলোক আমাকে কোনদিন ফেরান নি। একবার শুধু বলেছিলেন, “ আমার ডে স্লিপে কি আর মোহনবাগান মাঠে ঢুকতে দেবে ? “ আমার উত্তর ছিল –“ চুনীদা, আপনার সই করা ডে স্লিপে যদি মাঠে ঢুকতে না দেয়, ক্লাব উঠে যাবে!”

    ১৯৭৪/৭৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ টিম কলকাতা এসেছে। টেস্ট ম্যাচের আগে ইডেনে পাবলিকের জন্যে গেট বন্ধ করে অনুশীলন করবে একদিন। তাদের প্র্যাকটিস দেখা যায় না ? ততদিনে চুনীদা সি এ বিতেও অধিষ্ঠিত। তাঁর ওই অ্যাডমিট ওয়ান নিয়ে মাঠে প্র্যাকটিস দেখি।

    নিমাই বাবু আমাদের অ্যাডভান্সেস ডিপার্টমেন্টে কাজ করতেন, হাওড়ায় বাড়ি। হাওড়া মানেই মোহন বাগানের ঘরের লোক। জর্জ টেলিগ্রাফের সঙ্গে সেদিন খেলা - শত্রু পক্ষকে লিগ টেবিলে দূরে রাখতে জেতা খুব দরকার। সকালবেলা অফিসে আসতেই নিমাই বাবু বললেন, ‘ আপনি তো চুনী গোস্বামীকে চেনেন। দুটো ডে স্লিপ নিয়ে আসুন না। আজ জর্জের সঙ্গে খেলা। আপনি আমি মাঠে গিয়ে মোহনবাগানকে জিতিয়ে আসি।“

    সেই প্রথম চুনীদাকে একসঙ্গে দুটো ডে স্লিপ লেখার অনুরোধ জানাই ! লিখে দেবার সময়ে বললেন, “ পয়েন্ট দুটো নিয়ে এসো মনে করে!”

    সেদিন আমি নিজেই সে পথের কণ্টক হয়ে পড়েছিলাম প্রায় !

    ডে স্লিপ নিয়ে স্ট্র্যানড অফিসে ফিরে এসেছি। নিমাই বাবু খুব খুশি হয়ে বললেন, চলুন মাঠে যাই।

    অফিসে আনা গোনার ব্যাপারে খুব কড়া কড়ি ছিল না। তার মানে এই নয় যে আমরা সব সময় কাজে ফাঁকি দিয়ে কেটে পড়েছি তবে এই কখনও সখনও!

    স্ট্র্যানড রোডের অফিস থেকে বেরিয়ে বাঁয়ে হাঁটছি। হাই কোর্ট পেরিয়ে আকাশবাণী ভবন হয়ে মোহনবাগান মাঠে যাবো। আকাশ মেঘলা। বিধান সভা ভবনের পাশে এসে মনে হলো বৃষ্টি হতে পারে। অফিসে দু একটা ছাতা থাকতো, তার একটা নিয়ে যদি যাওয়া যায়; খেলা শুরু হতে দেরী আছে। আমি বললাম, “ নিমাই বাবু একবার অফিস গিয়ে ছাতা নিয়ে আসি ? বৃষ্টি নামতে পারে”।

    কোন কথা না বলে নিমাই বাবু অকস্মাৎ অ্যাবাউট টার্ন করলেন। যে পথে এসেছিলাম সে দিকেই হাঁটা শুরু করেছেন। আমি অবোধ ছাগ শিশুর মতন তাঁর পেছনে পেছনে। কিছু বুঝি না, নিমাই বাবু কোন কথা বলেন না। আমার পার্থিব অস্তিত্বকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে হন হন করে এগিয়ে চলেছেন অফিসের দিকে। এক নম্বর স্ট্র্যানড রোডে ফিরে লিফট ধরেছি। সেখানেও নিমাই বাবু নির্বাক। চার তলায় নেমে দরোজা ঠেলে আবার আমাদের অফিসে ঢুকলাম। এবার আমার কি করা উচিত বুঝতে না পেরে আমার সিটে গিয়ে বসেছি। নিমাই বাবুও তাঁর আপন আসন গ্রহণ করেছেন। চিরঞ্জীবদা ( চৌধুরী) অফিসের কাজের ব্যাপারে আমার অভিভাবক- তিনি এই আসা যাওয়ার ব্যপারটা লক্ষ করেছেন। পেছন থেকে বললেন, ‘ কোন গণ্ডগোল করে এলে বুঝি ? মাঠ থেকে বের করে দিলো নাকি তোমাকে ? ‘

    জবাব দিচ্ছি না, কারণ আমার সাইট স্ক্রিনে তখন নিমাই বাবু। তাঁর সিট থেকে উঠে আমার দিকে আসছেন।

    “ চলুন এবার মাঠে যাই। মনে রাখবেন ছাতা অযাত্রা। ছাতা নিয়ে মাঠে গেলে মোহনবাগান হারে বা খেলা ড্র করে, মাঠে যাবার সময়ে ছাতার নাম করলেও। আর কোনদিন করবেন না “

    পেছন থেকে ডাকলে মোহন বাগানের আরেক বিপদ আসতে পারে ভেবে বকুলবাগানের চৌধুরী পরিবারের বংশ তিলক আদি ঘটি চিরঞ্জীবদা নীরবতা পালন করলেন।

    খেলার ফল : মোহনবাগান ২- জর্জ টেলিগ্রাফ ০

    সেই দিন এই মাঠ স্তব্ধ হবে নাকো জানি
    নক্ষত্রের তলে সেদিনও দেখিবে স্বপ্ন !

    পুঃ

    শুধু রেকর্ডের খাতিরে !

    গত শতাব্দীর প্রথম অর্ধে ক্রিকেট এবং ফুটবল মিলিয়ে ডজন খানেক ডাবল ইন্টারন্যাশনাল দেখা গেছে ইংল্যান্ডে। অনেক ক্ষেত্রে সেটা টেকনিকাল পয়েন্ট মাত্র : তাঁরা মূলত ক্রিকেটার (যেমন জনি আর্নল্ড বা উইলি ওয়াটসন বার দুয়েক ইংল্যান্ডের ফুটবল জার্সি গায়ে দিয়েছেন), মাঝে মধ্যে ফুটবলে লাথি মেরেছেন। দেশের হয়ে টেস্ট ম্যাচ, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট এবং টপ ডিভিশনে ফুটবল খেলা অথবা দেশের জার্সি পড়ে ফুটবলে নেতৃত্ব দেওয়া এবং প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন ইতিহাসে মাত্র দুজন।

    ডেনিস কম্পটন : ইংল্যান্ডের পক্ষে ৭৮ টেস্ট ম্যাচ ( ১৭টি শত রান ; গড় ৫০.০৭) মিডলসেক্সের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ( ১৯৪৭
    সিজনে ৩৮১৬, গড় ৯১ এখনও অপরাজিত রান সংখ্যা ) এবং আর্সেনালের হয়ে ফুটবল খেলে(৫৯ ম্যাচ /১৮
    গোল ) প্রথম ডিভিশন লিগ এবং এফ এ কাপ জিতেছেন

    চুনী গোস্বামী : ভারত এবং মোহন বাগানের জার্সি পরে ফুটবল ( ৯+ ২৬৪ গোল – লিগ শিল্ড ডুরানড রোভারস বিজয় )
    এবং বাংলার হয়ে ক্রিকেট খেলেন ( ৪৬ ম্যাচ ; ১৫৯২ রান; ৪৭ উইকেট) – সর্বত্র ক্যাপ্টেন হয়েছিলেন।

    বিশেষ উল্লেখ- ক্রিকেটার চুনী গোস্বামী

    ব্যাটিং : ১৯৬৮/৬৯ রঞ্জি ফাইনালে বোম্বাইয়ের বিরুদ্ধে ৮৪ ও ৯৬ চুনী গোস্বামীর শ্রেষ্ঠ দুই ইনিংস।
    বোলিং : সবচেয়ে স্মরণীয় ম্যাচ হয়তো ইস্ট এবং সেন্ট্রাল জোনের হয়ে ইন্দোরে ১৯৬৬-৬৭ সালে সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। সিরিজে সেটাই ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের একমাত্র পরাজয়। সোবারস বাদে ফুল টিম খেলে। চুনী গোস্বামীর প্রথম উইকেট রোহান কানহাই! ম্যাচে বোলিং ফিগার ৮/৯৭ ( ৫/৪৭ ও ৩/৫০) দ্বিতীয় ইনিংসে একটানা বল করেন।

    স্কোর :

    ইস্ট অ্যান্ড সেন্ট্রাল জোন ২৮৩/৯
    ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৩৬ এবং ১০৩

     
    • কোথায় যাচ্ছেন তারাপদ বাবু – তারাপদ রায়

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • স্মৃতিচারণ | ২০ জুলাই ২০২৩ | ২২৬১ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    নো  - albert banerjee
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • r2h | 192.*.*.* | ২০ জুলাই ২০২৩ ১৮:০৮521471
  • হীরেনবাবুর অভিজ্ঞতার সিন্দুক জাদুকরী!
    ঘোড়ারোগ নিয়ে একটা আলাদা লেখার দাবি জানিয়ে গেলাম।
  • Amit | 163.*.*.* | ২১ জুলাই ২০২৩ ০৫:৫৭521484
  • যথারীতি অসাধারণ হিরেন দা।
     
    ছোটবেলা মনে আছে আনন্দমেলায় চুনী গোস্বামী র আত্মকথা বেরোতো - আমার প্রিয় সিরিজ ছিল ওটা। পরে ওখানেই আবার পিকে বানার্জীর র আত্মকথা বেরোয়। দুটো লেখাই এখনো মনে রয়ে গেছে।
     
    ৯০ এর শুরুতে একবার ইস্টার্ন রেলওয়ে র কোনো একটা অনুষ্ঠানে দুজনকে একসাথে দেখার সুযোগ পেয়েছিলাম। ওই একবারই। চুনী গোস্বামীর চেহারা কথাবার্তা - সব মিলিয়ে প্রেসেন্স টাই খুব এলিগ্যান্ট লেগেছিলো। উনার কাছে যাওয়ার সাহসই হয়নি :) পিকে ব্যানার্জির অটোগ্রাফ নিয়েছিলাম শেষে গিয়ে।
  • aranya | 2601:*:*:*:*:*:*:* | ২১ জুলাই ২০২৩ ০৭:১০521485
  • আমি ইস্টবেঙ্গল সাপোর্টার। কিন্তু কি ভাল যে লাগল। অসাধারণ স্বাদু কলম, হীরেন বাবুর
    আর চুনী অবশ্য ক্লাব নির্বিশেষে আপামর বাঙালীর হিরো
  • Tapan Kumar SenGupta | ২২ জুলাই ২০২৩ ১১:২০521527
  • অনবদ্য হীরেন।
  • সুদীপ্ত | ২২ জুলাই ২০২৩ ১৩:৩৮521531
  • আপনার কলম অক্ষয় হোক! মোহনবাগান, অমল দত্ত এবং চুনী গোস্বামী (টেন্টে মানুষটাকে দেখেছি শুধু, খেলা দেখিনি যদিও) ❤️
     
    আরও এমন স্মৃতিচারণার আশায় রইলাম!
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খেলতে খেলতে মতামত দিন