এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • দীপালি

    Srimallar লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২৮ বার পঠিত
  • আলুর তরকারি আর রুটি করার কৌশল মায়ের কাছ থেকে সেই কোন ছোটবেলায় শিখে নিয়েছিল দীপালি... তাই তো আজ কোনওরকমে চ’লে যাচ্ছে দীপালির এই রুটি তরকারির দোকান। দোকানের চলা মানে পেটেরও চলা। দোকানের বসা না মানে হাত-পা গুটিয়ে পেটেরও শুয়ে পড়া। তবে মুশকিল হচ্ছে, পেট এসব বোঝে না। খাবার ছাড়া পেট তো আজ পর্যন্ত কিছু বোঝেনি। মা বলেছিল, ‘আলুর তরকারির স্বাদ হবে ফুটপাথে সারারাত শুয়ে থাকা ওই ভবঘুরের মতো— যার কোনও অহংকার নেই, কিন্তু সাহস দেখানোর জাদু জানা আছে। আর রুটির চেহারা হবে সকালবেলার কচি রোদের মতো— যার কোনও প্রত্যাশা নেই, কিন্তু লাবণ্য আছে...’ দীপালির মা জলের মতো সহজ ছিল ব’লেই, এক পৃথিবীর সমস্ত সমস্যাকে একটা উপায়েই সমাধান ক’রে দিতে জানতো। সেই কারণেই, দীপালি আজ রুটি আর আলুর তরকারির দোকান দিয়ে একার সংসারে একার জীবনটা বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছে শেষমেশ। মা নেই, কিন্তু মায়ের শেখানো রুটি-আলুর তরকারির স্বাদ আর প্রশংসা সকলের মুখে মুখে লেগে আছে। সকলেই দীপালির রান্নার হাতের প্রশংসা করে। কিন্তু যে-হাত, হাতে ধ’রে শিখিয়েছিল এই রান্না, তার কথা কেউ জানে না। দীপালিও গোপন রাখে।

    দীপালির গায়ের দিকে যারা তাকিয়েছে, তারাই জানে— ওর গায়ের রং হলুদ। খুব, খুব হলুদ বিকেলের মতো। দীপালির মুখের দিকে তাকালেই বোঝা যায়, পাখিদের অনুভূতিগুলো চুরি গেছে আজ প্রায় সতেরো দিন! দীপালির চোখ, ওর চোখের দিকে যারা তাকিয়েছে, তাদের অনেকেই জানে— সেখানে কোনওদিন, কোনও বাঘ আর গর্জন ক’রে উঠবে না। দীপালির কানগুলো ইঁদুরে কেটে ফেলা পুরনো কাগজের মতো। যেগুলো বাতিল হ’য়ে এসেছে এবং বাড়ির মালিক জলের দামে সেগুলো বিক্রি ক’রে দিতে চাইছে– যে লোকটা দুপুরবেলায় পুরনো কাগজ নিতে আসে, তার কাছে। বাতিল, পুরনো কাগজ। দীপালির গলার কাছটায় কিছু লোক ছাতা মাথায় দাঁড়িয়ে আছে। প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে। দীপালির বুকের কাছটায় এতটাই জল জমেছে যে, স্কুলের বাচ্চারা স্কুল ছুটির পরে মনের পছন্দে, মুহূর্তের বিস্ময়ে খেলতে শুরু করেছে। দীপালির কপালের দিকে এখনও পর্যন্ত যে কয়েকজন মানুষ তাকিয়েছে— তারা দেখেছে, দেখতে পেয়েছে, ভাগ্য সেখানে জন্ম নেওয়ার পরে, মা-বাবা ছেড়ে চ’লে গিয়েছে। দীপালির দাঁতগুলো গাড়ির হেডলাইট। বেশি তাকালেই চোখ ঝলসে যেতে পারে। কখনও কখনও যায়ও। তাই খুব একটা দীপালির দাঁতের দিকে তাকানোর সাহস বা ইচ্ছে, কেউই দেখায় না। 

    মা’কে রুটি আর আলুর তরকারি খাওয়াতে চাইছে দীপালি। মৃত্যুর পরে মা এখন কোথায় আছে, দীপালি লোককে ধ’রে ধ’রে জিগ্যেস করছে। লোকে বুঝতে পারছে— দীপালি হয় পাগল হয়েছে, আর নয়তো মাথায় ভূত চেপেছে। পাগল তো নয়, পাগলী। দীপালি হারিয়ে যাচ্ছে– অনেক, অনেকদূরে... দীপালির একার সংসার, দীপালির একার জীবন, দীপালির একার বেঁচে থাকা— হাসতে হাসতে চেটেপুটে খেয়ে নিচ্ছে এই শহরের সমস্ত লোকজন, রুটি আর আলুর তরকারি ভেবে...
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • kk | 2607:fb91:4c8e:d999:cdcd:fbc5:bafe:***:*** | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:১৯738613
  • আমার একটু রাশড লাগলো লেখাটা। তিনটে প্যারাগ্রাফ। প্রথম প্যারা আমার মনে দানা বাঁধছে না, একটু হাল্কা করে প্রিটেনশাস লাগছে ... সে হোক, প্রথম প্যারা বলে সেটুকু ছাড় দেওয়া যায়। দ্বিতীয় প্যারায় বুনট বেশ সুন্দর লাগছে। একটা প্রত্যাশা তৈরী হচ্ছে। তৃতীয় প্যারায় এসে সেটা ভেঙে পড়লো। মনে হলো তাড়াহুড়ো করে একটা কনক্লুশনে দৌড়ে পৌঁছে যাওয়া।আরেকটু সময় দিলে হয়তো সেটা হতোনা। রোজই লিখতে হবে এমন তো কোনো কথা নেই!
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই মতামত দিন