এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • চান্দ্রেয়ী 

    Srimallar লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ৩১ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • নীলাক্ষী | চান্দ্রেয়ী
    শীতকালে পাড়ার অন্যবাড়িগুলোয় যখন রং করা হ’তো, চান্দ্রেয়ীর বুকে তখন পাথর চেপে ব’সতো। চান্দ্রেয়ী জানতো, রং আসলে পোশাক। পোশাক না প’রে যেমন রাস্তায় বেরোনো যায় না, তেমনই বাড়ির গায়ে রং না চাপালে সেই বাড়িও দিনে দিনে কোণঠাসা হ’তে থাকে। একসময় দেখা যায়, মাথা উঁচু ক’রে সেই বাড়ি আর দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে হাঁটু মুড়ে মাটিতে ব’সে পড়েছে। দু’চোখে জল বাড়ির। তাদের বাড়িও তেমন পোশাক ছাড়া, মানে গায়ে রং ছাড়া থাকতে থাকতে কবে যে হার স্বীকার ক’রে নিয়েছে, চান্দ্রেয়ী নিজেও তা জানে না। মায়ের মুখে বাবার গল্প শুনেছে চান্দ্রেয়ী। শুনেছে, কেননা চান্দ্রেয়ীর বাবা আগুন নিয়ে খেলতে খুব ভালবাসতো। এমনই একদিন আগুন নিয়ে খেলতে খেলতে এতটাই মেতে উঠেছিল যে, মানুষটাকে চোখের পলকে টেনে নিয়েছিল আগুন। চান্দ্রেয়ীর তখন একবছর তিনমাস বয়েস। কথিত আছে, কোনও মানুষ যদি আগুনকে খুব পছন্দ করে, আর সেই মানুষটাকেও যদি আগুনের ভাল লেগে যায়, তাহলে দু’জনের এক হওয়া কেউ আটকাতে পারে না। পারেওনি, পারবেও না।

    মায়ের মুখে গল্প শুনেছে চান্দ্রেয়ী, একদিন ওর বাবা সকাল এগারোটা নাগাদ খালি পায়ে ‘এক্ষুণি আসছি’ ব’লে বেরিয়ে সন্ধে সাতটায় বাড়ি ফিরেছিল। চান্দ্রেয়ী মা’কে বলেছিল, ‘তুমি খুঁজতে বেরোওনি?’ মা উত্তর দিয়েছিল, ‘জানতাম ও ফিরে আসবে...’ চান্দ্রেয়ী বুঝেছিল, বিশ্বাসকে যে অন্ধের মতো ভালবাসে, তার সামনে বিশ্বাসের নিন্দে করা পাপ। ‘ফিরে এসে বাবা বলেনি কোথায় গিয়েছিল?’ শান্তস্থির হ’য়ে মায়ের কাছে প্রশ্নটা রেখেছিল চান্দ্রেয়ী। ‘তুই কি বিশ্বাস করবি? আমি নিজেও আজ পর্যন্ত বিশ্বাস ক’রে উঠতে পারিনি...!’ বলেছিল মা। চান্দ্রেয়ী বলেছিল, ‘বলোই না!’ মা বলতে শুরু করেছিল— ‘এক মাছি কাঁদতে কাঁদতে নাকি উড়ে যাচ্ছিল। তোর বাবাও নাকি সেই উড়ে চলা মাছিটার পেছনে ছুটতে লাগল। মাছিটা যেখানে এসে থামলো, সেখানে অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটছে! তোর বাবার বর্ণনায়: “এক কিশোরী মেয়েকে বিবস্ত্র ক’রে তার গায়ে একশো খানা বিষধর সাপ ছেড়ে দেওয়া হল। মেয়েটা নিস্তেজ হ’য়ে পড়ল। একটা বাচ্চা ছেলে, সাত বছর মতো বয়েস। তার জিভ ছিঁড়ে ফেলা হল। ছেলেটা কেমন করতে করতে দূরে হারিয়ে গেল। কয়েকটা লোক মুখে কালো কাপড় বেঁধে এগুলো করছে। লোকগুলো কেন করছে এসব জানি না। ক’রে কী আনন্দ পাচ্ছে তাও জানি না। আর জায়গাটাও এমন যে, এর খোঁজ কেউই জানে না। আরও এমন ঘটছে... একসময় কোত্থেকে ওই মাছিটা উড়ে এসে আমার নাকের ওপরে বসলো, তখন সে হাসছে আকাশ কাঁপিয়ে! সে উড়তে লাগল আমার সামনে সামনে। সে হাসছে, হাসছে। তার পেছনে ছুটতে ছুটতে আমি আবারও বাড়ি ফিরে এলাম। তখন সন্ধে হ’য়ে গেছে। মাছিটাও কোথায় হারিয়ে গেল! কোথায় যেন...” তোর বিশ্বাস হল?’ চান্দ্রেয়ী বলেছিল, ‘বাবার জগতটা বাবার কাছে বাবার মতো ক’রে সত্যি ছিল। তেমনই থেকে যেতে দাও।’ মা আর কোনও উত্তর করেনি। চুপ ছিল, এই।

    চান্দ্রেয়ী একদিন মা’কে জড়িয়ে ধ’রে প্রশ্ন ক’রেছিল, ‘বাবাকে খুব ভালবাসতে তুমি, তাই না?’ মা খুব শান্তস্বরে উত্তর দিয়েছিল, ‘ভালবাসতাম কিনা জানি না। কিন্তু ওর ভেতরে যে আগুন ছিল, তার থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেছি। ওর খুব কাছাকাছি থাকলে, ওর ভেতরে থাকা সমস্ত আগুন— আমাকেও টেনে নিতো...!’ মা আর মেয়ে দু’জনেই গ’লে জল হ’তে হ’তে মিলিয়ে যাচ্ছে বাতাসে। শুধু একটা পাথর প’ড়ে আছে। বরফের বুকে আটকে ছিল অনেকদিন। আজ তার ছুটি।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    নীলাক্ষী | চান্দ্রেয়ী
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে মতামত দিন