ক) কিছু লোক এসেছিল, রাস্তা তৈরি ক’রে পারিশ্রমিক নিয়ে আবার কোনও নতুন কাজের খোঁজে অন্যশহরে, অন্যজীবনে পৌঁছে যাবে ব’লে। খ) কয়েকজন মিলে নতুন একটা পত্রিকা করবে ভেবেছিল। ভেবেছিল। কিন্তু আর করা হয়নি। উদ্যোগ, উদ্যম, বয়েস, আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যাশা, স্বপ্ন— জীবনের সময়ে মিলিয়ে গিয়েছে। তবুও জীবন থেমে থাকেনি, এমনকী সময়ও। গ) দাঁতের ফাঁকে ইলিশ মাছের কাঁটা আটকে ছিল অনেকদিন। ইলিশ আবারও উঠল মাছ বাজারে। কিন্তু দাঁতের ফাঁক থেকে হজম হ’য়ে যাওয়া ইলিশের কাঁটা আর বেরিয়ে এলো না।ঘ) এগারো বছরের একটা ছেলে উনিশ বছরের একটা মেয়েকে পুকুরে চান করতে দেখেছিল। এগারো বছরের সেই ছেলে আজ বাইশের খুব কাছাকাছি দাঁড়িয়ে রয়েছে। উনিশ বছরের সেই মেয়ের বুক ... ...
স্বর: ‘লেখাকে কখনও জোর করবে না। ও এমনিই আসে।’লিপি: ‘আসে তো জানি। কিন্তু ধরো এমন সময়ে এলো, যখন মনের দরজা বন্ধ! তখন কী করব?’স্বর: ‘মনের দরজা মন বন্ধ করার কে? তুমি ছাড়া তো তোমার মনের দরজা আর দ্বিতীয় কেউ খুলতে পারে না। এমনকী মন নিজেও নয়।’ লিপি: ‘বাহ্ গো! ফুল ফোটার মতো আর মাছ ভাজার মতোই এত সহজেই তুমি কথা বলতে পারো! তোমার মতো কথা বলতে জানলে, খুশি হতাম নিজে।’স্বর: ‘আমার মতো নয়, তোমার মতো কথা বলো। তোমার মতো ক’রেই ভাবো। তোমার মতোই ঘুমোতে যাও। ঘুম ভেঙে ওঠো তোমার মতোই। তোমার মতোই চেয়ারে বোসো। তোমার মতোই দাঁত মাজো। সবই করো তোমার ... ...
সে এক বন্ধু। যাকে সব বলা যেতো, যার সঙ্গে সেইসকল বিষয়ে কথা বলা যেতো— তার থেকে দূরে স’রে এলাম। কেন এলাম, সেটা বলতে পারলে ভেতর থেকে অনেকটাই হাল্কা হতাম আমি। কিন্তু সেটা গোপন রাখব সম্পূর্ণ এই লেখায়। আজ স্বীকার করছি, এমনকী লেখাতেও সমস্ত সত্যি প্রকাশ করা যায় না। এই যে এই লেখাটা এখন লিখছি, আমার দু’চোখ জলে ভরা। বন্ধুর মুখটা আমার চোখের সামনে থেকে থেকেই ভেসে উঠছে। বন্ধু ভাল থাকুক, বন্ধু আরও বড় হোক, বন্ধু জীবনে প্রতিষ্ঠিত হোক— এটাই তো চাই। নিজেকে আর ঠেকিয়ে রাখতে পারছি না, মোবাইলের স্ক্রিনে জল জ’মতে শুরু করেছে। এই বসন্তে কোত্থেকে গভীর বর্ষা আসতে শুরু করেছে ... ...
সেই যে মা হাতে ধ’রে শিখিয়ে দিয়েছিল, “যেখানেই দু’শালিখ দেখবে, মনের চোখ দিয়ে তক্ষুণি প্রণাম ক’রে ফেলবে! দেখবে, তোমার প্রেম কখনও হারিয়ে যাবে না।” আজও তাই দু’শালিখ যেখানেই দেখি, সেখানেই মনের চোখ দিয়ে তক্ষুণি প্রণাম ক’রে নিই। প্রেম হারানোর ভয়ে? নাহ্! অভ্যেস। বদলাতে পারিনি আর কোনওদিন। বাবা শিখিয়েছিল, “খারাপ স্বপ্ন দেখলে, যদি সঙ্গে তেমন টাকা থাকে, কিছু ভাল মানের সন্দেশ কিনে কালী মন্দিরে পুজো দিয়ে আসবে। তোমার আর স্বপ্ন নিয়ে দুঃস্বপ্ন থাকবে না।” মন্দিরে যাওয়া ছেড়ে দিয়ে এখন কেবল উৎসবে পা মেলাই। উৎসবেই আনন্দ খুঁজে নিই। কখনও কখনও সন্দেশের বদলে শিঙাড়া কিনে খাই। ছোটকা সবসময় বলত, এখনও বলে, “সময়ের কাজ সময়ে করো। ... ...
অচেনা নম্বর থেকে কেউ ফোন করলে, আমি সেই ফোন ধরি না। ধরিই না। অনেক আগে কৌতূহলের কারণে ধ’রে ফেলতাম। কিন্তু এখন সেদিন আর নেই। তেমনই চেনা নম্বর থেকে কেউ ফোন করলে, যদি সে খুব কাছের মানুষও হ’য়ে থাকে আমার— তবুও প্রায়ই ধরি না বললেই চলে। কখনও বাইরে থাকলে মা যখন ফোন করে, বেশিরভাগ সময়ই আমাকে ফোনে পায় না। বাড়ি ফিরলে মা যথেষ্ট আমাকে বকাঝকা ক’রে থাকে। আমি শুনতে থাকি মায়ের কথা৷ কোনও উত্তর করি না। এই প্রসঙ্গে কথা এই কারণেই বলছি, এই যে আমি ফোন ধরি না চেনা অথবা অচেনা নম্বর থেকে ফোন এলেও প্রায়ই, এটা বিশেষ কোনও গর্বের কথা ... ...
সাঁকো: “তোর মা কোথায়? কোথায়?” তারকা: “নেই তো মা, মায়ের তো এখন ছুটি। ওয়টস্যাপে লিখেছি তোমাকে। দ্যাখো দ্যাখো... দ্যাখোনি?” সাঁকো: “আচ্ছা বলছি, গরম ভাতের সঙ্গে উচ্ছে নাকি পটল ভাজা? কোনটা যাচ্ছে?” তারকা: “জেঠিমা তোমাকে খুঁজছিলেন। পনেরো লক্ষ মতো টাকা দরকার। তুমি দিতে পারবে কিনা সে বিষয়ে যদি...” সাঁকো: “সুনীলদাকে বলেছিলাম জানিস, তোমার নীরা না থাকলে আমার সম্ভবত বেঁচে থাকা হতো না” তারকা: “তোমাকে কিছু একটা বলছিলাম...” সাঁকো: “সমরেশদার সঙ্গে কত আড্ডা দিয়েছি! সমরেশ বসুর কথা বলছি। তুই বড্ড ভাল কবিতা লিখছিস আজকাল... শক্তিদা বেঁচে থাকলে ওঁর কাছে নিয়ে যেতাম তোকে।” তারকা: “বলছি বাবা, তুমি ভাল আছো তো?” সাঁকো: “নইলে তোর সঙ্গে কথা বলতে পারি?” তারকা: “তুমি কী যে বলছ...” সাঁকো: ... ...
“Since the very inception, artists have been engrossed in celebrating art. Yet no artist has sought the innermost chambers of art’s mind. It is there that art keeps the mirror through which life reveals itself.”মুরগির শরীরে যত রক্ত আছে, সবটুকু দিয়ে পৃথিবীর ইতিহাস লিখে ফেলা যাবে। হত্যা যে করে, তার অনুভূতি দিয়ে অভিনয়ের জগতে নাম লেখানো বড্ডসহজ। বাংলাদেশে একসময়ে কাপড়ের ব্যবসা ছিল ঠাকুর্দার, আর বাবা সারাজীবন ধ’রে পাখিদের খাবার খাইয়েই গেল। জানলা বাবার প্রিয়। যে কোনও জানলা দিয়েই বাবা বাংলাদেশে পৌঁছে যেতে পারে, চ’লে যায়ও। সেইদেশে যত গাছপালা, যত খাবার অভাব, যত স্কুল না পালিয়ে মন দিয়ে লেখাপড়া— এসব আমাকে ... ...
চোখের পদবি চৌধুরী আর কথার পদবি মুখোপাধ্যায়। ভাবনার পদবি সেনগুপ্ত আর চিন্তার পদবি চট্টোপাধ্যায়। অনুভবের পদবি দত্ত আর জীবনের পদবি শর্তপাধ্যায়। এ কি কথার মতো কথা? নির্ভেজাল গন্ধেরা যখন অদৃশ্য সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে হঠাৎ ক’রেই বাতাসে ঝাঁপ দেয়; সেই মুহূর্তেই রক্তের স্বাদ মায়ের হাতের গরম রুটিতে দুপুরবেলার বিছানা গোছানোয় মন দেয়। এসব বললেও কমই বলা হ’য়ে থাকে। দূরপাড়ায় যে গান বাজতে শোনা যায়, সেখানে আদর্শ বলতে সাময়িক আনন্দ। এও তো তেমনবেশি হল না, সেকারণে পুরনো বালিশেই কাঁচ ভাঙার শব্দ আর রোদ্দুর নিভিয়ে দিয়ে অন্ধকার টাঙিয়ে দেওয়া।পরীক্ষার সঙ্গে আয়নার ঠোঁটের দারুণমিল! সময়কে অনেকে শয়তান বলেছে, যদিও সরাসরি আঙুল তোলার ঝুঁকি ... ...
“Sunlight touches the scent,And the scent touches the sunlight.I tell my tiredness to the dust,For I don’t know the language of birds.”O: “আর নেই? এই শেষ?”n: “শেষ হবে ব’লে কি শুরু করেছি? প’ড়ে দ্যাখো— আমি শুধু শুরুটা করেছি, যার কোনও শেষ নেই।” O: “নেশা পেয়েছ? নেশা? না, নেশা নয়– তুমি ফুরিয়ে যেতে যেতে কখনও আরামের নাগাল পাওনি? পাওনি? পেলে বলো তো, এক্ষুনি বলো!”n: “হ্যাঁ, পেয়েছি। পেয়েছি ব’লেই এই চারলাইন লিখে তোমার কাছে নিয়ে চ’লে এলাম, তোমাকে দেখিয়ে নেব ব’লে...”O: “সে তো বেশ বেশ! করেছ বেশ... কথাদের ভাবনার যে নিজস্ব জগৎ আছে, সেসব থেকে স’রে এসে আমাকে একটা কথা বলো— তুমি কি ... ...
আমার আবার রাতে সূর্য ওঠে। রাতই ভাল। ... ...