হীরেনবাবু,
আপনার প্রশংসাসূচক মন্তব্য - “অসাধারণ। এমনি করেই কি একদিন ফা হিয়ান হুয়েন সাঙ বেরিয়ে পড়েছিলেন?” - পড়ে অবশ্যই ভালো লাগলো - কিন্তু একটু ভাবনাতেও পড়ে গেলাম। তা নিয়ে কিছু ভাবনা ব্যক্ত করছে - অনুগ্ৰহ করে অন্যভাবে নেবেন না।
ভাবনায় পড়ে যাওয়ার কারণ - মনে হোলো আমি কি এমন প্রশংসার উপযুক্ত? মনে পড়লো আমেরিকান প্রেসিডেন্ট থিয়োডর রুসভেল্টের একটা কোট - যেটা আমার খুব প্রিয় - “Keep your eyes on the stars but feet on the ground.” উনি কি প্রসঙ্গে এটা বলেছিলেন জানি না কিন্তু এটা আমায় সর্বদা মনে করায় - উচ্চাশা থাকা বা বড় কিছুর স্বপ্ন দেখা ভালো কিন্তু সেই সঙ্গে বাস্তববাদী হওয়াও উচিত।
ধিরুভাই বলতেন - “Think big, think fast, think ahead. Ideas are no one's monopoly.” দু দফায় প্রায় একযুগ রিলায়েন্সে তিনটি মেগা প্রোজেক্টে কাজ করে কাছ থেকে দেখেছি - তিনি এবং তাঁর সুযোগ্য জ্যেষ্ঠ্যপুত্র তা করে দেখিয়েছেন। তাঁদের সম্পর্কে ক্রোনি ক্যাপিট্যালিজমের সম্পর্ক - অন্য প্রসঙ্গ। আমি বলছি ম্যাসিভ স্কেলে প্রোজেক্ট এক্সিকিউশন ক্যাপাবিলিটি - এটা কেবল ভাত ছড়িয়ে কাক ডেকে হয় না। সে অন্য প্রসঙ্গ।
আপনার কথায় মনে হোলো - ফা হিয়েন, হিউয়েন সাঙ বা ইবন বতুতা, মার্কো পোলো, বিমল মুখার্জী, বিমল দে, উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় - এরা তো কেবল ভূ পর্যটক ছিলেন না - এঁদের কেউ কেউ পণ্ডিত মানুষ ছিলেন, কেউ বিশেষ ধরণের আগ্ৰহ নিয়ে পর্যটন, পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং তা ভবিষ্যতের জন্য গুছিয়ে লিপিবদ্ধ করে গেছেন।
কিন্তু আমার একাকী ভ্রমণের তাগিদ সম্পর্কে এই সিরিজের ৬নং পর্বে ২য় অধ্যায়ে অলক মাস্টারের বাঙালী গুরু শ্রী শিবহরি দাস যা বলেছিলেন সেটা আমার অব্যর্থ মনে হয়েছে - “আপনি সাংসারিক কর্তব্যপালন করে, উদ্দেশ্যহীন ভ্রমণে, লক্ষ্যহীন জীবনযাপনেও আনন্দে আছেন।” অর্থাৎ আমার একাকী ভ্রমণ আত্মসঙ্গে আত্মমগ্নতায় নিছক টাইমপাস। সাথে বোনাস পথে কিছু আকর্ষণীয় মানুষের সাথে আলাপের অভিজ্ঞতা।
এই সিরিজের ২নং পর্বে কেকে ১৬.১০ মন্তব্য করেছিলেন - “বিদিশা নিয়ে গতকাল দীপাঞ্জনের লেখা পড়েছিলাম। আজকের এই লেখাটা পুরোপুরি অন্য স্বাদের। এটাও ভালো লাগলো। এই একাই বেরিয়ে পড়া, চিরাচরিত অভ্যেসগুলোকে ট্যাঁকে করে না বয়ে নিয়ে যাওয়া, নতুন জায়গার মানুষগুলোকে কাছ থেকে দেখার চেষ্টা করা, এইগুলো আমার খুব ভালো লাগে।”
তার ওপর ১৭.১০ দীপাঞ্জন লিখলেন - “কেকের সঙ্গে একমত। এই লেখাটা পড়লে বোঝা যায় একটা জায়গাকেই কতরকম ভাবে দেখা যেতে পারে। আপনি এনথ্রোপোলজির দিক থেকে দেখেন। কোনো জায়গার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কিছুদিন মিশে তাদের জীবনযাত্রা, খাবার ইত্যাদির সঙ্গে সেই জায়গার স্থানীয় ইতিহাসের সম্পর্ক নিয়ে লেখেন। আর আমি মিউজিয়ামে ঢুকতে পেলে খাওয়া ভুলে যাই।”
দীমুর মন্তব্যেরও প্রথমাংশটা ঠিক - অর্থাৎ বেড়ানোর ক্ষেত্রে আমায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন, স্থানমাহাত্ম্য এসবের সাথে সাধারণ মানুষের সাথে মিথস্ক্রিয়া বা interactionও খুব টানে। বহু জায়গায় বেড়াতে গেলেও আমি এই সিরিজে এমন সব জায়গার কথাই লিখছি। বাকি অনেক জায়গা নিয়ে লিখবোই না। কারণ কেবল স্থানিক, ঐতিহাসিক বর্ণনা আমার ক্ষেত্রে ভ্রমণকাহিনী লেখার driving factor নয়। ওসব নিয়ে অনেকে লিখেছেন। আমার লেখায় কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা প্রাধান্য পায় - যা ইউনিক।
কিন্তু দীমুর মন্তব্যের দ্বিতীয় অংশটা ঠিক নয় - ওভাবে ঘু্রতেন ভবঘুরে শাস্ত্র রচয়িতা পণ্ডিত কেদারনাথ পাণ্ডে যিনি রাহুল সাংকৃত্যায়ন নামে সমধিক পরিচিত। আমি অতদিন কোথাও থাকি না।