
. সালোমে আলেক্সান্ড্রিয়ার সময়ে জুডিয়ার মানচিত্র (আনুমানিক ৭৬ - ৬৭ BCE) (সূত্র : চ্যাটজিপিটি ). জেরুসালেম, ৭৬ BCE জেরুসালেমে ফিরে এসেছেন মহারাণী সালোমে l তার ভাই সাইমন ও নগরবধূরাও সঙ্গে এসেছেন l যুদ্ধক্ষেত্রে ভূতপূর্ব সম্রাট সাইমনের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই শত্রুপক্ষের মধ্যে জুডিয়ার সঙ্গে একটা সন্ধি করবার ইচ্ছা প্রকট হয় l সেই সন্ধি করতে দেরী করেননি মহারাণী সালোমে l তাছাড়া তার তখনই জেরুসালেমে ফিরে আসবার প্রয়োজন ছিলো l সিংহাসনকে বেশীদিন ফেলে রাখা ঠিক নয় কোনোভাবেই l জেরুসালেমের পথে ফিরতে ফিরতেই সালোমের খুব বেশী করে মনে পড়ছিলো ইয়ানাইয়ের কথা, বিশেষ করে ইয়ানাইয়ের শেষ কিছুক্ষনএর কথাগুলোও l "আমার মৃতদেহ জেরুসালেমে কবর দিতে হবে তোমাকেই সালোমে l ফারিসীদের সঙ্গে সারাজীবনই লড়েছি আমি যেহেতু ওরা সবসময়েই আমার আর আমার হাসমোনিয়ান ম্যাকাবি বংশের সম্রাট হবার বিরুদ্ধে ছিলো l ওরা মনে করে যেহেতু আমরা নবী দাউদের বংশের কেউ নই সেহেতু সম্রাট হবারও আমাদের অধিকার নেই l আমি ছোটবেলা থেকেই ভয় পেয়েছি ওদের l আমার পিতাকেও ওরা চাপ দিয়েছিলো যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর হাতে বেশ কিছুদিন বন্দী থাকা আমার মাতাকে ও তার গর্ভের সন্তান আমাকে পরিত্যাগ করতে l ওরা আমাকে আমার পিতার বৈধ সন্তান হিসাবেও স্বীকার করতে চায়নি কখনোই l তারপর যৌবনেই আমার ভাইয়ের কারাগারে বন্দী হবার পর থেকেই সারাজীবনই আমাকে একটা ভয় ঘিরে রেখেছিলো, ক্ষমতা হারাবার ভয়, দুর্বলতা আসা মানেই ক্ষমতা হারানো আর ক্ষমতা হারালেই আমাদের মত ম্যাকাবিদের অস্তিত্ত্বও হারাতে হয় পুরোপুরি l তাই ওই ফারিসীদের আমি সবশক্তি দিয়ে দমিয়ে রাখতে চেয়েছি l কিন্তু কিন্তু আমি বুঝেছি যে আমি ভুল করেছি সালোমে l ফারিসীদের কথাই এখনো প্রভাবিত করে জুডিয়ার মানুষকে l ওদের কথাই এখনো জুডিয়ার বেশীর ভাগ মানুষের কাছেই তোরার আইন l জুডিয়ার মানুষ আমার কথা মানে যেহেতু তারা সম্রাটের তলোয়ারকে ভয় পায় কিন্তু ফারিসীদের জুডিয়ার মানুষ ভালোবাসে যেহেতু ওরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে মানুষের মধ্যে গ্রামের মানুষের কথা শোনে l তাই ওদের সঙ্গে তুমি বন্ধুত্ত্ব গড়ে তোলো l " এবার জেরুসালেমে এসেই প্রথম কাজ করলেন সালোমে যে তিনি একটা বৈঠক করলেন ফারিসী নেতাদের সঙ্গে l ফারিসী নেতাদের সমগ্র জুডিয়া থেকে নিয়ে আসা হয়েছিলো l সালোমের ভাই সাইমন সাহায্য করেছিলেন এই কাজে তাকে l এই বৈঠকে এসেই সালোমে প্রথম বললেন যে "মাননীয় ফারিসিরা, আমাদের হাসমোনিয়ান বংশের সঙ্গে আপনাদের যে বিবাদ ও শত্রুতার সম্বন্ধ ছিলো তা এখন শেষ করবার সময় এসেছে l আমার স্বামী ইয়ানাই মৃত্যুশয্যাতে তার ভুল বুঝতে পেরেছিলেন, তিনি নিজেই তার ভুল নীতিসমূহের সংশোধন করতে প্রস্তুত ছিলেন কিন্তু ততদিনে অনেকই দেরী হয়ে গেছিলো l আমার কাছে এই ভুল স্বীকারোক্তির কিছু পরেই তার মৃত্যু হয় l তিনি চেয়েছিলেন সানহেদ্রিন ও যিহোবার মন্দিরের সমস্ত দায়িত্ত্ব আপনাদের ফারিসীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে l আপনারাই ইচ্ছামত তোরার দ্বারা আইন প্রণয়ন করতে পারবেন l তোরার ব্যাখ্যার ব্যাপারেও আপনাদের কথাই শেষ কথা হবে l " সালোমের কথা শেষ হতে না হতেই প্রবল আলোড়ন হলো সভাতে l গত কয়েক বছরে ফারিসীদের ইয়ানাইয়ের যে দমননীতির মুখে পড়তে হয়েছিলো তারপরে এধরণের প্রস্তাব তাও স্বয়ং মহারানীর পক্ষ থেকে আসবে এটা কেউই ভাবতে পারেনি l "জিহোবাকে ধন্যবাদ l সাধু, সাধু " একথায় ভরে গেলো চারদিকে l
(আনুমানিক ৭৬ BCE, সালোমে আলেক্সান্ড্রিয়ার জেরুসালেমে সিংহাসনে অভিষেক করছেন ফারিসি নেতারা ) কিছুক্ষন পরেই অবশ্য সমগ্র সভাকক্ষ ভরে উঠল সালোমের শান্ত গম্ভীর কণ্ঠস্বর l "তবে মাননীয় ফারিসীগণ আমারো কিছু শর্ত আছে এখন l ইয়ানাইয়ের কিছু নগরবধূ ছিলো যে মেয়েগুলি নিরীহ নিরপরাধ ওদের নগরবধূ হতে হয় ইয়ানাইয়ের লালসার ফলে l ওরা আমার বোন এর মতো এখন l আমি চাই আপনারা সম্মানের সঙ্গে এদের জেরুসালেমে ভদ্রঘরে বিবাহের ব্যবস্থা করুন l দুই, ইয়ানাইয়ের মরদেহ রাষ্ট্রীয় সম্মানের সঙ্গেই সমাধিস্ত করতে হবে এবং তার মরদেহের বা তার সমাধিগৃহের সঙ্গে কোনোরকম অপমান করা হবেনা l তিন, ইয়ানাই ও আমার দুই পুত্র হিরকানুস(দ্বিতীয়) ও আরিস্টোবুলুস (দ্বিতীয়) ভবিষ্যতে জেরুসালেমের প্রধান পুরোহিত হবে তবে, তাদের এখন বয়স ও অভিজ্ঞতা কম কাজেই তারা পরিণত না হওয়া পর্যন্ত আমি সালোমে তাদের অভিভাবক ও সম্রাজ্ঞী হিসেবে জুডিয়া শাসন করবো l হয়তো এক নারীকে সম্রাজ্ঞী হিসাবে মেনে নিতে আপনাদের আপত্তি আছে কিন্তু ভেবে দেখুন সম্রাজ্ঞী না মানলে আপনাদের আমাকে জেরুসালেমের প্রধান পুরোহিত হিসাবে মানতে হবে আপনাদের ! যেহেতু জুডিয়ার শাসককে যিহোবার প্রধান পুরোহিত হতেই হয় l সে কি আপনাদের পক্ষে আরোই অবমাননাকর নয় !!! একজন নারীকে যিহোবার মন্দিরের প্রধান পুরোহিত মানবার থেকে কি সম্রাজ্ঞী হিসাবে মান্য করা আপনাদের পক্ষে অনেক সুবিধাজনক নয় ! "
হীরেন সিংহরায় | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৩৩742600