আমিঃ ছাত্র ছাত্রীদের উপর এই ধরণের কার্যক্রমের কি ছাপ পড়বে বলে তুমি মনে করছ?চ্যাটজিপিটিঃ আমার মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছাপটা হবে
রাজনীতি শেখানো নয়, বরং রাষ্ট্র ও একজন রাজনৈতিক নেতাকে একই জিনিস হিসেবে দেখতে শেখার ঝুঁকি।
এই কর্মসূচিগুলি নিয়মিত ও ছোট বয়স থেকে হলে কয়েকটি প্রভাব হতে পারে:
- Leader = State-এর association
“সরকারি স্কুল” + সরকারি অনুষ্ঠান + “NaMo Seva Gatha” + “25 years of public service” একসঙ্গে এলে শিশুর মনে একজন নেতার ব্যক্তিগত সাফল্য ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে আলাদা করে দেখা কঠিন হতে পারে। নথিতেই স্কুলের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণের কথা আছে। - রাজনৈতিক আনুগত্যকে স্বাভাবিক বলে মনে হওয়া
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের আয়োজিত কোনও নেতাকে কেন্দ্র করে গান, নাটক, বক্তৃতা, ছবি, প্রদর্শনী—এসব বারবার হলে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রশংসা একটি স্বাভাবিক civic behaviour বলে মনে হতে পারে। - Critical citizenship-এর বদলে celebratory citizenship
গণতান্ত্রিক নাগরিকত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল প্রশ্ন করা—কী কাজ হয়েছে? কতটা হয়েছে? সমালোচনা কী? অন্য মত কী? এখানে কাঠামোটি বরং “public service”-এর celebration-এর দিকে। - দলীয় রাজনীতি নিয়ে নয়, রাজনীতি নিয়েই অস্বস্তি তৈরি হতে পারে
যে ছাত্রটির পরিবার ভিন্ন রাজনৈতিক মত পোষণ করে, তার কাছে স্কুলের সরকারি অবস্থানটি alienating হতে পারে। সে হয়তো প্রকাশ্যে আপত্তি করবে না—বরং চুপ থাকবে। - সবচেয়ে সূক্ষ্ম প্রভাব: dissent-এর ধারণা দুর্বল হওয়া
যদি শিশুর অভিজ্ঞতা হয় যে সরকারি প্রতিষ্ঠান যাকে প্রশংসা করছে, তাকে প্রশ্ন করা যেন অস্বাভাবিক, তাহলে ভবিষ্যতের নাগরিক হিসেবে authority-কে প্রশ্ন করার অভ্যাস ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তবে এগুলো
সম্ভাব্য প্রভাব, এই দুটি নথি দেখে ছাত্রদের ওপর ইতিমধ্যেই এমন প্রভাব পড়েছে—এ কথা বলা যাবে না। সেটার জন্য empirical research দরকার।
আমার কাছে তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হবে:
একটি স্কুল কি শিশুকে রাষ্ট্র ও ক্ষমতাকে শ্রদ্ধা করতে শেখাচ্ছে, নাকি ক্ষমতাসীন ব্যক্তিকে শ্রদ্ধা করতে শেখাচ্ছে? এই দুটো একেবারেই এক জিনিস নয়।
আমিঃ হুম। আরও একটা প্রশ্ন করি। একটা সময় এই দেশে মেয়েদের কাজের জন্য স্কুল শিক্ষকতা কে খুব সম্মানের চোখে দেখা হত। পিতৃতান্ত্রিক দেশে এটা বেশ আইডিয়াল সলিউশন ছিল। শিক্ষকের মাইনে কম, বেশির ভাগ সময় পরিবারের পুরুষের প্রধান উপার্জনকারীর ভূমিকাকে আঘাত করতে পারবে না স্কুল শিক্ষক মেয়েরা। সেই সঙ্গে বস্তুত স্কুল শিক্ষাদান কেয়ার ওয়ার্কের এক্সটেনশন, শিশুদের সঙ্গে থাকা, তাদের পালন করা এটা জেন্ডার্ড কাজের সঙ্গে বেশ খাপ খায়। তাছাড়া মেয়েদের কাজ করা মানে তো ডাবল বার্ডেন, সংসারের কাজ ও চাকরি দুই-ই সামলানো, তাতেও স্কুলের চাকরি বেশ সুবিধাজনক। বেশ ১০টা-৫টার কাজ, বাড়ি ফিরে হেঁশেল সামলানো, সন্তানের, শ্বশুরশাশুড়ির পরিচর্যা করা যায়।
এতে বেশ বাইরের কাজের জগতেও পা রাখা হল, পরিবারের সামাজিক সম্মানও বাড়ল, আবার ভিতরের খাঁচাও মোটের উপর বজায় থাকল।
এই যে ক্রমাগত স্কুল শিক্ষকদের administrative burden বাড়ানো হচ্ছে, শিক্ষিকাদের উপরও এই চাপ আসছে, ভোট করানো, ভোটার তালিকা সংশোধন করা, সেন্সাসের কাজ করা সবেতেই মেয়েদের জোড়া হচ্ছে, এবং ফলে আর কাজটা ১০টা -৫ টার থাকছে না, আর সেই সঙ্গে শিক্ষককে ক্রমাগত রাজনৈতিক প্রচারযন্ত্রে পরিণত করা হচ্ছে, যেটা তুমি উপরের নির্দেশেও দেখলে এর ব্যক্তিগত ও সামাজিক প্রভাব কি ভাবে পড়তে পারে বলে মনে কর? চ্যাটজিপিটিঃ হ্যাঁ। এখানে আমার মনে হয়
gender dimension-টা খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ স্কুলশিক্ষকতার পুরনো সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার একটা কারণই ছিল—এটি মেয়েদের paid work-কে এমনভাবে সংগঠিত করত যাতে unpaid domestic work-এর সঙ্গে মোটামুটি সামঞ্জস্য থাকে।
যদি সেই কাঠামো বদলে যায়, প্রভাব কয়েক স্তরে পড়তে পারে।
১. “Convenient women’s job”-এর সুবিধাটা ক্ষয়ে যাবে।স্কুলের সময়ের বাইরে ভোট, census, data-entry, compliance, campaign activity ইত্যাদি ঢুকলে মেয়েদের unpaid care work-এর সঙ্গে কাজটি আর সহজে মেলে না। অর্থাৎ সংসার থেকে কাজটির জন্য যে hidden subsidy পাওয়া যেত, সেটি কমে যায়।
২. Double burden আরও তীব্র হবে।পুরুষ শিক্ষকও একই administrative burden বহন করবেন, কিন্তু gendered division of domestic labour থাকলে নারী শিক্ষিকার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময়ের মূল্য অনেক বেশি—সন্তান, রান্না, বৃদ্ধ বাবা-মা/শ্বশুর-শাশুড়ির যত্ন থেকে সেই সময়টা কেটে যায়।
৩. “ভাল মা/বউ + সম্মানজনক চাকরি”—পুরনো bargain-টি ভাঙে।ফলে পরিবারে সংঘাত হতে পারে:
চাকরিটা তো এমন হওয়ার কথা ছিল না যে রাত পর্যন্ত কাজ করতে হবে! বিশেষত যেসব পরিবারে মেয়ের চাকরিকে এই শর্তেই গ্রহণ করা হয়েছিল।
৪. সবচেয়ে interesting ব্যাপার—professional identity বদলায়।শিক্ষিকা যদি ক্রমাগত teacher + enumerator + election worker + compliance officer + government campaign organiser হন, তাহলে তাঁর নিজের কাছেও “আমি শিক্ষক” পরিচয়টির জায়গা সংকুচিত হতে পারে।
৫. রাজনৈতিক কাজটির আলাদা gendered effect আছে।কোনও নারী শিক্ষক যদি নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সরকারি প্রচারে অংশ নিতে বাধ্য বোধ করেন, সেটা শুধু workload নয়—
professional autonomy এবং personal conscience-এর conflict তৈরি করতে পারে। বিশেষত যখন কর্মসূচি একজন নির্দিষ্ট নেতাকে কেন্দ্র করে।
অর্থাৎ, পুরনো ব্যবস্থা মেয়েদের
“বাইরে বেরোতে দিয়েও ভিতরের gender order বজায় রাখত”। নতুন ব্যবস্থা যদি বাইরে কাজের সময় ও রাজনৈতিক/প্রশাসনিক দায় বাড়ায় কিন্তু ভিতরের gender order না বদলায়, তাহলে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বে মেয়েদের ওপরই।
আমিঃ আবার সেবা সংকল্প অভিযান ও আশির্বাদ কি দিয়া নির্দেশের কথায় ফিরে আসি। এই দুটি ডকুমেন্ট আগেই আপলোড করেছিলাম। তোমার কি মনে হয় যে এই ডকুমেন্ট দুটি একটি গণতান্ত্রিক দেশে যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত? জানতে চাই। আমার প্রশ্ন শুধু স্কুল শিক্ষার দিক দিয়ে না, যেমন আশীর্বাদ কি দিয়া শুধু স্কুল স্তরে আবদ্ধ নয়। এটা সমগ্র নাগরিক স্তরকে নিয়ে। গোটা দেশের জন্য এই ধরণের কার্যক্রম নিয়ে কি মনে হয়? চ্যাটজিপিটিঃ আমার মূল্যায়ন হবে:
এই দুটি নথির প্রত্যেকটি উপাদান আলাদা করে অযৌক্তিক নয়; কিন্তু দুটিকে একসঙ্গে একটি সরকারি সর্বজনীন কর্মসূচি হিসেবে দেখলে, একটি গণতান্ত্রিক দেশের জন্য তা যথেষ্ট সমস্যাজনক।মূল আপত্তি তিন জায়গায়।
১. রাষ্ট্রীয় সেবা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে এক করে দেওয়া।Ashirwad Ka Diya-তে নাগরিকদের প্রদীপ জ্বালানোকে সরাসরি “Shri Narendra Modi Ji’s 25 years of public service”-এর প্রতি gratitude এবং “Viksit Bharat 2047”-এর collective resolve-এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
এটা সাধারণত
government programme-এর প্রচার নয়; একজন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক নেতার public-service record-এর celebratory commemoration।
২. রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক symbolism-এর বাহক করা।এখানে সরকার শুধু নাগরিককে তথ্য দিচ্ছে না; beneficiary lists, MLAs-এর সঙ্গে coordination, WhatsApp dissemination, ছবি/ভিডিও ও hashtag প্রচারের ব্যবস্থাও করছে।
অর্থাৎ citizen participation-এর সঙ্গে
political communication apparatus যুক্ত হচ্ছে।
৩. “NaMo Seva Gatha” আরও স্পষ্ট।School Education Department-এর কর্মসূচিতে
NaMo Seva Gatha নামে musical-theatrical presentation, speech/drawing competition, exhibition, photography/reels/video compilation এবং পরে public showcasing রয়েছে।
এখানে আমার কাছে মৌলিক গণতান্ত্রিক distinction হল:
রাষ্ট্র তার কাজের কথা নাগরিককে জানাতে পারে; কিন্তু রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে একজন রাজনৈতিক নেতার প্রতি কৃতজ্ঞতা/প্রশংসার collective performance করানো অন্য ধরনের কাজ।এটাকে আমি সরাসরি “অবৈধ” বলছি না—তার জন্য নির্দিষ্ট আইন ও আদালতের অবস্থান পরীক্ষা করতে হবে। কিন্তু
গণতান্ত্রিক institutional norms-এর বিচারে আমি এটাকে যথেষ্ট অস্বস্তিকর এবং অযৌক্তিক মনে করি।বিশেষত কারণ,
রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের আনুগত্য আর কোনও নির্বাচিত নেতার প্রতি কৃতজ্ঞতা—গণতন্ত্রে এই দুটো আলাদা থাকার কথা।আমিঃ ভারতের মতন দেশে যেখানে গণতন্ত্রের ভিত্তি খুব গভীরে প্রোথিত নয়, সেখানে এই ধরণের কার্যকলাপ ভবিষ্যতে দেশকে কোন দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে হয়?চ্যাটজিপিটিঃ হ্যাঁ—এখানে আমি
দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক ঝুঁকি দেখছি। তবে “এতে ভারত অবধারিতভাবে authoritarian হয়ে যাবে”—এমন সরল causal claim করব না। বরং বিপদটা
ক্রমশ institutional norms বদলে যাওয়ায়।
আমার মতে সম্ভাব্য পথটা এমন:
১. রাষ্ট্র ≠ সরকার ≠ শাসক—এই পার্থক্যটা ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়।গণতন্ত্রে সরকার বদলায়, রাষ্ট্র থাকে। কিন্তু সরকারি কর্মসূচি যদি ক্রমাগত একজন নেতার ব্যক্তিগত public-service narrative-এর সঙ্গে যুক্ত হয়, নাগরিকের মনে দুটোকে আলাদা করার অভ্যাস দুর্বল হতে পারে।
Ashirwad Ka Diya-তে এই association একেবারে explicit।
২. নাগরিক থেকে beneficiary → supporter-এর মানসিক রূপান্তর হতে পারে।সরকারি welfare পাওয়ার জন্য রাষ্ট্রের কাছে নাগরিকের অধিকার আছে। কিন্তু beneficiary-কে সেই welfare-এর জন্য নেতার প্রতি “কৃতজ্ঞতা” প্রকাশের collective ritual-এ যুক্ত করা হলে relationship-টা rights-based citizenship থেকে patronage-based politics-এর দিকে সরে যেতে পারে।
৩. Political personality cult স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে।একটি অনুষ্ঠান খুব বেশি কিছু করে না। কিন্তু স্কুল, সরকারি অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক programme, welfare communication—সব জায়গায় একই ব্যক্তির নাম ও narrative বারবার ঢুকলে cumulative effect হয়।
NaMo Seva Gatha-র মতো branding সেই repetition-কে institutional করে।
৪. সবচেয়ে বিপজ্জনক পরিবর্তন হতে পারে dissent-এর সামাজিক মূল্য বৃদ্ধি।যদি “দেশ”, “উন্নয়ন”, “সরকার” এবং “নেতা”—এই চারটি ধারণা ক্রমশ এক narrative-এ বাঁধা পড়ে, তখন নেতার সমালোচনাকে দেশবিরোধিতা বা উন্নয়নবিরোধিতা হিসেবে দেখা সহজ হয়।
৫. শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থাকলেও democracy-এর substantive quality কমতে পারে।গণতন্ত্র শুধু ভোট নয়। Opposition-এর legitimacy, institutional neutrality, independent bureaucracy, critical media, নাগরিকের রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করার অধিকার—এসবও তার infrastructure।
তাই আমার উদ্বেগটা
“আজ একটা প্রদীপ জ্বালানো হল” নিয়ে নয়। উদ্বেগটা হল, যদি রাষ্ট্রীয় apparatus দিয়ে বছরের পর বছর
leader-centric civic culture তৈরি করা হয়, তাহলে এক প্রজন্মের কাছে গণতন্ত্রের স্বাভাবিক ছবি হয়ে উঠতে পারে:
রাষ্ট্র → সরকার → নেতা → জনসেবা → নাগরিকের কৃতজ্ঞতা।যেখানে গণতান্ত্রিক সম্পর্কটি বরং হওয়া উচিত:
নাগরিক → অধিকার → রাষ্ট্র → নির্বাচিত সরকার → জবাবদিহি।এই দুটির মধ্যে পার্থক্যটা ছোট মনে হলেও, গণতন্ত্রের জন্য মৌলিক।
( চ্যাটজিপিটিকে গুরুঠাকুর ঠাওরাইনি অবশ্যই। এবং তার অজস্র বায়াস নিয়েও খুবই সচেতন। এবং তার বক্তব্যের দায় আমার না। কিন্তু তার সব রকম বায়াস থাকা সত্ত্বেও একটা তুচ্ছ এল এল এম মডেল যে গভীর সমস্যাগুলো দেখতে পাচ্ছে, সেগুলো গুরুতর। তাই আলোচনাটা ভারচুয়াল স্তরে আটকে না রেখে এইখানে নিয়ে এলাম। আলোচনা হোক। )