এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  অন্যান্য  নেট-ঠেক-কড়চা

  • বিবিধার্থ সংগ্রহ ওরফে যা ইচ্ছে বিষয়ে হিজিবিজি বকবক 

    স্বাতী রায় লেখকের গ্রাহক হোন
    অন্যান্য | নেট-ঠেক-কড়চা | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২৩ বার পঠিত
  • চ্যাটজিপিটির ক্ষতিকারক দিকগুলো মাথায় রেখেও আজকে কিছু ঘটনার প্রেক্ষিতে তার সঙ্গে অবকাশযাপন করতে বসেছিলাম। সেই আলোচনা নীচে লিপিবদ্ধ করলাম।

    আমিঃ ভারতের মতন একটা দেশে, যেখানে নাগরিক সমাজ বহু আর্থ-সামাজিক স্তরে বিভক্ত, যেখানে মানবিক ও নাগরিক চেতনার স্তরও বহুধা বিভক্ত, যে দেশে বহু নোবেল লরিয়েট জন্মালেও আজও এক দল মানুষ অশিক্ষিত নিরক্ষর রয়ে গেছে, সেই দেশের প্রেক্ষিতে স্কুল শিক্ষার স্তরকে তুমি ঠিক কী চোখে দেখ?

    চ্যাটজিপিটিঃ আমি স্কুল শিক্ষাকে ভারতের ক্ষেত্রে শুধু শিক্ষার মানের প্রশ্ন হিসেবে দেখি না; বরং সামাজিক সমতা ও নাগরিক সক্ষমতা তৈরির প্রধান অবকাঠামো হিসেবে দেখি।
    ভারতের মতো গভীরভাবে স্তরবিন্যস্ত সমাজে স্কুলই এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে ভিন্ন সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পটভূমির মানুষকে অন্তত ন্যূনতম একটি common intellectual foundation দেওয়া সম্ভব। সেই কারণে এখানে স্কুলশিক্ষার লক্ষ্য শুধু literacy বা পরীক্ষায় ভালো ফল হওয়া যথেষ্ট নয়।
    আমার কাছে এর চারটি স্তর আছে:
    1. Foundational literacy ও numeracy — একজন মানুষ যেন লেখা পড়তে, হিসাব করতে এবং তথ্য বুঝতে পারেন।
    2. জ্ঞান — ইতিহাস, বিজ্ঞান, অর্থনীতি, সংবিধান, ভূগোল ইত্যাদি সম্পর্কে এমন ভিত্তি, যাতে পৃথিবীকে ব্যাখ্যা করার ক্ষমতা তৈরি হয়।
    3. Critical thinking — কোনও বক্তব্যকে শুধু বক্তার পরিচয় বা সামাজিক মর্যাদার ভিত্তিতে সত্য না ধরে evidence দিয়ে বিচার করার ক্ষমতা।
    4. Civic competence — অধিকার, কর্তব্য, প্রতিষ্ঠান, আইন, অন্যের স্বাধীনতা ও মতভেদের সঙ্গে সহাবস্থানের ধারণা।
    এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে: একজন নোবেলজয়ী ভারতীয়ের অস্তিত্ব ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার সাফল্যের প্রমাণ নয়, যেমন নিরক্ষর মানুষের অস্তিত্ব তার সম্পূর্ণ ব্যর্থতার প্রমাণও নয়। দুটোই একই সমাজের extreme outcomes।
    বরং আসল প্রশ্ন হল: একটি সাধারণ ভারতীয় শিশু তার জন্মপরিবারের সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থান থেকে বেরিয়ে স্কুলের মাধ্যমে কতটা intellectual এবং civic agency অর্জন করতে পারে?
    ভারতের স্কুলশিক্ষার মূল্যায়ন আমি মূলত সেই মাপকাঠিতেই করব।

    আমিঃ ভাল। খুব ভাল। স্কুল শিক্ষা আমার মতে এমন একটা ক্ষেত্র যেখানে নাবালক ছাত্র ছাত্রী, অভিভাবক আর শিক্ষক প্রত্যক্ষ স্টেকহোল্ডার। তুমি উপরে যে মাপকাঠির কথা বললে, তার প্রেক্ষিতে জানতে চাই যে শিক্ষকের ভূমিকাকে তুমি কীভাবে দেখ।

    চ্যাটজিপিটিঃ আমি শিক্ষকের ভূমিকাকে তিনটি স্তরে দেখি—এবং ভারতের মতো বৈষম্যপূর্ণ সমাজে তিনটিই গুরুত্বপূর্ণ।
    ১. শিক্ষক জ্ঞানের মধ্যস্থতাকারী।
    শিক্ষকের প্রথম কাজ হল শিশুকে নির্ভরযোগ্য জ্ঞান দেওয়া এবং তাকে শেখানো কীভাবে জ্ঞান অর্জন ও যাচাই করতে হয়। মুখস্থ করানো নয়, how to know শেখানো এখানে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত যে শিশুর পরিবারে বই, শিক্ষিত অভিভাবক বা intellectual environment নেই, তার ক্ষেত্রে শিক্ষকের ভূমিকা অপরিসীম।
    ২. শিক্ষক cognitive inequality কমানোর একটি প্রধান মাধ্যম।
    একই ক্লাসে এমন শিশু থাকতে পারে যার বাড়িতে ব্যক্তিগত শিক্ষক, বই, কম্পিউটার সব আছে; আর অন্য শিশুর কাছে স্কুলই একমাত্র শিক্ষার পরিসর। ফলে শিক্ষক যদি কেবল syllabus শেষ করেন, তাহলে বিদ্যমান বৈষম্য অনেকটাই অক্ষুণ্ণ থাকে। ভালো শিক্ষক দুর্বল ছাত্রকে শুধু pass করান না—তার intellectual deficit-টি শনাক্ত করে পূরণ করার চেষ্টা করেন।
    ৩. শিক্ষক নাগরিকতার মডেল।
    এটি আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষক কীভাবে প্রশ্ন গ্রহণ করেন, ভুল মতামতের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করেন, প্রমাণের গুরুত্ব কতটা দেন, দুর্বল বা দরিদ্র ছাত্রকে কীভাবে দেখেন, ধর্ম/জাত/লিঙ্গ/শ্রেণির পার্থক্য কীভাবে সামলান—এসব শিশু textbook-এর বাইরেও শেখে।
    তাই শিক্ষককে আমি রাষ্ট্রের curriculum-এর mere delivery mechanism হিসেবে দেখি না। তিনি একই সঙ্গে knowledge-transmitter, intellectual mentor এবং civic role model
    তবে এর অর্থ এই নয় যে শিক্ষার সমস্ত দায় শিক্ষকের। অভিভাবক, বিদ্যালয়-ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রের কাঠামোগত দায়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

    আমিঃ বড় সুন্দর বললে। ভারতে এর কতটা হয় বা হচ্ছে বলে তোমার ধারণা?

    চ্যাটজিপিটি ঃ আমার ধারণা, ভারতের স্কুলশিক্ষায় শিক্ষক হিসেবে এই ভূমিকা আংশিকভাবে হচ্ছে, কিন্তু system-wide ভাবে এখনও অনেকটাই অপূর্ণ। তবে এটাকে শুধু “শিক্ষকের ব্যর্থতা” বলা ভুল হবে।
    একটা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়েছে: foundational learning-এর দিকে শিক্ষকদের কাজকে অনেক বেশি স্পষ্টভাবে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। ASER 2024-এ 83% গ্রামীণ সরকারি স্কুল জানিয়েছে যে তারা FLN-এর জন্য সরকারি নির্দেশ পেয়েছে, 78%-এ অন্তত একজন শিক্ষক FLN training পেয়েছেন এবং 75% teaching-learning material পেয়েছে। একই সঙ্গে 2024-এ learning outcomes-এ উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। (ASER: Annual Status of Education Report)
    কিন্তু আপনি যে বৃহত্তর শিক্ষক-ভূমিকার কথা বলছেন—জ্ঞান, critical thinking, intellectual independence এবং civic competence—সেখানে ছবিটা অনেক দুর্বল।
    কারণ ভারতের বিপুল সংখ্যক classroom এখনও curriculum completion, textbook, examination এবং rote learning-এর চাপে চলে। ASER নিজেই বলছে, আগে শিক্ষকরা সাধারণত curriculum শেষ করার দিকে মন দিতেন এবং heterogeneous class-এ কার্যত “top of the class”-কে লক্ষ্য করে পড়াতেন। (ASER: Annual Status of Education Report)
    আর এখানেই আমার মূল আপত্তি: একজন শিক্ষককে আমরা যদি একই সঙ্গে educator, mentor, counsellor, social equaliser এবং civic role model হতে বলি, অথচ তাঁকে সেই autonomy, training, time এবং institutional support না দিই, তাহলে প্রত্যাশাটা বাস্তবসম্মত নয়।
    তাই আমি বলব—ভারতে শিক্ষকরা এই পরিবর্তনের সম্ভাবনা বহন করছেন; কিছু জায়গায় তার প্রমাণও আছে। কিন্তু গোটা ব্যবস্থায় শিক্ষককে এখনও সেই মর্যাদা ও স্বাধীনতা দেওয়া হয়নি, যা আপনার বর্ণিত ভূমিকার জন্য প্রয়োজন।

    আমিঃ
    একটু ভুল সংশোধন করিয়ে দিই, আমি এখানে কিছুই বর্ণনা করিনি। আমি তোমার কাছ থেকেই উত্তর চাইছি আর তোমার উত্তর থেকেই আরো আলোচনা এগোচ্ছি। আমার নিজস্ব মতামত দিইনি কোথাও।
    যাই হোক পশ্চিমবঙ্গের কথায় আসি। ভারতের অন্য রাজ্যের কথা থাক। পশ্চিমবঙ্গে একজন শিক্ষক তোমার উপরে বলা "শিক্ষককে আমি রাষ্ট্রের curriculum-এর mere delivery mechanism হিসেবে দেখি না। তিনি একই সঙ্গে knowledge-transmitter, intellectual mentor এবং civic role model।" বক্তব্যের থেকে কতটা দূরে বা কাছে?


    চ্যাটজিপিটি ঃ পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে আমি একটু বেশি সতর্ক হব। উপরের তথ্যের ভিত্তিতে একজন গড় শিক্ষককে ওই তিন ভূমিকায় কতটা সফল বলা যায়—এমন সরাসরি পরিমাপ আমাদের হাতে নেই। তাই শতাংশ বা নির্দিষ্ট রায় দেওয়া ঠিক হবে না।
    তবে যে তথ্য আছে, তা থেকে একটি মিশ্র ছবি পাওয়া যায়।
    • Knowledge-transmitter: এই ভূমিকা যথেষ্ট পরিমাণে আছে। স্কুলে শিক্ষক উপস্থিত, curriculum পড়ানো হচ্ছে, এবং foundational learning নিয়ে কাজও হচ্ছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বহু শিশুর শেখার ফল এখনও এমন নয় যে আমরা system-wide effectiveness-কে খুব উচ্চ বলতে পারি। ASER-এর পদ্ধতিই মূলত দেখায় যে school attendance আর actual learning এক জিনিস নয়। (ASER: Annual Status of Education Report)
    • Intellectual mentor: এখানে প্রমাণ অনেক দুর্বল। শিশু কীভাবে প্রশ্ন করবে, যুক্তি করবে, নিজের মত গড়বে—এই ভূমিকার systematic assessment আমার জানা নেই। তাই “হচ্ছে না” বলা যেমন অন্যায়, “ভালভাবেই হচ্ছে” বলাও প্রমাণহীন।
    • Civic role model: এখানেও একই সমস্যা। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু measurable educational outcome হিসেবে খুব কম ধরা হয়।
    আর একটি পশ্চিমবঙ্গ-নির্দিষ্ট বিষয় উপেক্ষা করা যায় না: শিক্ষক নিয়োগ ও যোগ্যতা নিয়ে গত কয়েক বছরে যে গভীর প্রশাসনিক ও আইনি সংকট তৈরি হয়েছে, তার ফলে শিক্ষক-ব্যবস্থার institutional stability-ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। Supreme Court ও Calcutta High Court-এর নথিতেও এই সংকটের ব্যাপ্তি স্পষ্ট। (Sci API)
    তাই আমার আপাত মূল্যায়ন হবে: পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষক এখনও মূলত “শিক্ষক” হিসেবে কাজ করেন; কিন্তু “intellectual mentor + civic role model” হিসেবে তাঁর সম্ভাব্য ভূমিকাটি system-wide ভাবে কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, তার পক্ষে যথেষ্ট evidence নেই।

    আমিঃ আচ্ছা। আমি তোমাকে আরো একটু অনুরোধ করব যাতে শুধু ASER এর মধ্যেই তোমার উত্তর সীমাবদ্ধ না থাকে। প্রতীচী পশ্চিমবঙ্গের স্কুলশিক্ষা নিয়ে অনেক কাজ করেছে, অন্যান্য কিছু এনজিও করে চলেছেন। সুকান্ত চৌধুরীর মতন বিভিন্ন শিক্ষাবিদরাও লেখা লেখি করেছেন কিছু কিছু। সব কিছু থেকেই তথ্য সংগ্রহ করলে বেশি ভাল ছবি পাওয়া যাবে।
    যাই হোক প্রশ্নে আসি। পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষকদের ভূমিকার লিমিটেশন নিয়ে তুমি বলেছ, "পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষক এখনও মূলত “শিক্ষক” হিসেবে কাজ করেন; কিন্তু “intellectual mentor + civic role model” হিসেবে তাঁর সম্ভাব্য ভূমিকাটি system-wide ভাবে কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, তার পক্ষে যথেষ্ট evidence নেই।" - ঠিক কিসের ভিত্তিতে এই কথা বললে তুমি সেটা যদি বল।


    চ্যাটজিপিটিঃ হ্যাঁ। এবং এখন তোমার প্রশ্নটি করে দেখলে আমার আগের বাক্যটি অতিরিক্ত assertive ছিল। আমি যে evidence দেখলাম, তার ভিত্তিতে “শিক্ষক এখনও মূলত শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন, কিন্তু intellectual mentor + civic role model হিসেবে system-wide ভাবে যথেষ্ট নয়”—এই সিদ্ধান্তটি সরাসরি প্রমাণিত হয় না।
    আমি আসলে তিন ধরনের evidence থেকে ওই কথাটি অনুমান করেছিলাম:
    1. শিক্ষার learning outcome ও teaching quality-এর সমস্যা। Pratichi-র West Bengal-এর প্রাথমিক শিক্ষা সংক্রান্ত গবেষণায় শিক্ষক-অনুপস্থিতি, classroom teaching-এর দুর্বলতা, private tuition-এর উপর নির্ভরতা ইত্যাদি পাওয়া গিয়েছিল। (ResearchGate)
    2. Teacher autonomy ও institutional constraints। Pratichi নিজেই বহু বছর ধরে teacher autonomy, teachers' unions, curriculum overload এবং supplementary tutoring-কে গবেষণার কেন্দ্রে রেখেছে। অর্থাৎ শিক্ষক কী করতে পারেন, সেটি শুধু ব্যক্তিগত দক্ষতার প্রশ্ন নয়। (pratichi.org)
    3. শিক্ষকের teaching-এর বাইরের administrative burden। 2026-এ সুকান্ত চৌধুরী খুব সাম্প্রতিকভাবেই লিখেছেন যে census, election duty, BLO/SIR ইত্যাদিতে শিক্ষককে দীর্ঘ সময় teaching-এর বাইরে থাকতে হচ্ছে। (Telegraph India)
    কিন্তু এই তিনটি থেকে intellectual mentor বা civic role model হিসেবে শিক্ষকের ভূমিকা কতটা হচ্ছে—তা মাপা যায় না।
    বরং Pratichi-র 2018-এর Primary Education in West Bengal: The Scope for Change-এর মতো কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল—শিক্ষকদের মধ্যেই এমন একটি committed group আছে যারা গবেষণা, collective action এবং pedagogic improvement-এ সক্রিয়। (pratichi.org)
    তাই সংশোধিত বক্তব্যটি হবে:
    পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষকদের intellectual mentor ও civic role model হিসেবে ভূমিকা কতটা system-wide, সে বিষয়ে আমার আগের সিদ্ধান্তের পক্ষে যথেষ্ট প্রত্যক্ষ evidence নেই। Evidence বরং দেখায় যে শিক্ষক-ভূমিকাটি institutional constraints, administrative burden, training, autonomy এবং teaching-quality সমস্যায় যথেষ্ট সীমাবদ্ধ—কিন্তু ব্যক্তিগত শিক্ষকরা ওই বৃহত্তর ভূমিকা পালন করেন না, এমন সিদ্ধান্ত সেখান থেকে টানা যায় না।
    এটাই evidence অনুযায়ী বেশি সঠিক বক্তব্য।

    আমিঃ বেশ। তুমি বলছ, পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষকের ভূমিকা institutional constraints, administrative burden, training, autonomy এবং teaching-quality সমস্যায় যথেষ্ট সীমাবদ্ধ।

    তুমি জান আশা করি যে পশ্চিমবঙ্গে বিগত মে মাসে রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছে। এখন কেন্দ্রে রাজ্যে একই সরকার, যাকে ওই রাজনৈতিক নেতৃত্ব বলেন ডাবল ইঞ্জিন সরকার। পালাবদলের পর এই কয়েকমাসে স্কুল গুলিতে যে সকল সরকারি নির্দেশ এসেছে, তার একটি তালিকা দিলাম। এই নির্দেষের তালিকা দেখে তোমার কী মনে হচ্ছে ? এতে শিক্ষকের বার্ডেন বাড়বে না কমবে?
    বিগত চার মাস ধরে স্কুলে স্কুলে অর্ডারের তালিকা
    ( ছবিঃ ফেসবুক থেকে পাওয়া )


    চ্যাটজিপিটিঃ হ্যাঁ—এই তালিকাটি দেখলে আমার আগের বক্তব্যের একটি দিক আরও স্পষ্ট হয়। এখানে সমস্যা শুধু “শিক্ষকের administrative burden আছে” নয়; শিক্ষকের কাজের প্রকৃতির উপরই একটি অতিরিক্ত স্তর চাপানো হচ্ছে।
    ছবিতে দেখা ১৭টি নির্দেশের মধ্যে অনেকগুলিই সরাসরি teaching-learning নয়—যেমন DIKSHA-তে ৫০ ঘণ্টার course, বিভিন্ন app-এ enrolment/upload, UDISE+, APAAR ID, self-enumeration, Eco Club-এর form, ছবি আপলোড, certificate সংগ্রহ, বিভিন্ন দিবস পালন, awareness programme, database তৈরি ইত্যাদি।
    এগুলির প্রত্যেকটি আলাদা করে খুব বড় কাজ নয়। সমস্যা cumulative burden। একজন শিক্ষককে যদি প্রতিটি নতুন programme-এর জন্য—
    নির্দেশ পড়তে ছাত্র বাছতে activity করাতে ছবি তুলতে data entry করতে upload করতে certificate নিতে report দিতে
    হয়, তাহলে তাঁর discretionary teaching time কমে।
    আর এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ distinction আছে। Yoga Day, পরিবেশ, স্বাস্থ্য, ভাষা ইত্যাদি শিক্ষাগতভাবে মূল্যবান হতে পারে। আমি সেগুলিকে অর্থহীন বলছি না। কিন্তু এগুলিকে meaningful educational activity বানানো আর compliance exercise বানানো এক জিনিস নয়।
    কেন্দ্রের SHVR-এর ক্ষেত্রেও যেমন self-assessment, portal/app-এ submission এবং rating-এর ব্যবস্থা রয়েছে।
    তাই এই তালিকা দেখে আমার judgment বেশ পরিষ্কার:
    শিক্ষকের burden কমছে না; বরং administrative/compliance burden বাড়ার সম্ভাবনাই প্রবল।
    আর সেটি যদি সত্যিই ঘটে, তাহলে শিক্ষককে knowledge-transmitter, intellectual mentor, civic role model করার যে লক্ষ্য আমরা আলোচনা করছিলাম, তার সঙ্গে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ structural contradiction তৈরি করে।

    আমিঃ বেশ। আরও দুটি নির্দেশ আপলোড করছি। এগুলো দেখে তোমার কী মনে হচ্ছে?
    ( আপলোড করা নির্দেশ দুটি 1) শিক্ষা দপ্তরের পাঠানো ৮ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে পাঠানো চিঠি (Memo 1265-SC/Apt DSE-11099/335/2026-ADMN SEC-DSE)। বিষয় ঃ Organising 25 Crore Bacho ke Sapno ka Bharat and NaMo Seva Gatha under Seva Sankalp Abhiyan ( এই চিঠিটি সব আটাচমেন্ট শুদ্ধ মোট ২০৫ পাতার।
    2) এটি যদিও প্রথম চিঠিরই অংশ, তাও বিষয়গুণে আলাদা করেও তোলা হয়েছিল। এটি তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের থেকে ৪ ঠা সেপ্টেম্বর পাঠানো চিঠি। বিষয় ঃ Coordination for organizing Ashirwad ka diya under Seva Sankalp Abhiyan- reg


    চ্যাটজিপিটিঃ হ্যাঁ। এই দুটো নির্দেশ দেখার পরে আমার আগের বিশ্লেষণ একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক থেকে বদলাতে হবে
    এখানে ব্যাপারটা আর শুধু “শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত compliance burden” নয়।
    দ্বিতীয় নথিতে ১৭ সেপ্টেম্বর–১০ অক্টোবরের Seva Sankalp Abhiyan-এর মধ্যে স্কুলগুলিকে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে:
    • “NaMo Seva Gatha” নামে ৩০ মিনিটের musical-theatrical presentation;
    • ছাত্রদের speech ও drawing competition;
    • বিষয় হিসেবে “Viksit Bharat Sankalp” এবং “25 years of public service–district/state level”;
    • এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, প্রথম পাতাতেই বলা হয়েছে ২৫ বছরের public service of Shri Narendra Modi Ji-কে কেন্দ্র করে কর্মসূচি এবং স্কুলের ছাত্র-শিক্ষকদের অংশগ্রহণের কথা।
    • calendar-এও NaMo Seva Gatha-কে school-level activity হিসেবে স্পষ্টভাবে রাখা হয়েছে।
    আর Ashirwad Ka Diya-র নির্দেশে সরকারি প্রকল্পের beneficiary families-কে ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় প্রদীপ জ্বালাতে বলা হয়েছে—“Shri Narendra Modi Ji's 25 years of public service”-এর প্রতি gratitude হিসেবে।
    তাই আমার মতে এখানে তিনটি আলাদা জিনিসকে আলাদা করতে হবে:
    ১. Administrative burden — DIKSHA, UDISE, APAAR ইত্যাদি।
    ২. Legitimate educational/civic activities — drawing, environment, health ইত্যাদি।
    ৩. State-sponsored political-personality messaging — এই নথিগুলির ক্ষেত্রে যেটা স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
    তৃতীয় বিষয়টাই সবচেয়ে গুরুতর। স্কুলের শিক্ষককে knowledge-transmitter ও civic role model করার কথা বলার পাশাপাশি যদি তাঁকেই নির্দিষ্ট রাজনৈতিক নেতাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদের সাংস্কৃতিক কর্মসূচি সংগঠিত করতে হয়, তাহলে teacher-এর institutional role-এর সঙ্গে একটা মৌলিক tension তৈরি হয়।
    এটা আমি এখন আর শুধু “teacher workload” বলব না; এটা শিক্ষার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার প্রশ্নও।

    আমিঃ এতে কি ধরণের সমস্যা হতে পারে বলে তোমার ধারণা?

    চ্যাটজিপিটিঃ হ্যাঁ। আমার মতে সবচেয়ে বড় সমস্যাটা “কাজের চাপ” নয়—স্কুলের institutional role বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা
    এই নথিগুলো মিলিয়ে অন্তত পাঁচটি সমস্যা দেখি:
    1. Teacher campaign executor
      শিক্ষক মূলত জ্ঞান, যুক্তি ও নাগরিক বোধ গড়ে তোলার মানুষ। কিন্তু NaMo Seva Gatha, “25 years of public service” ইত্যাদি কর্মসূচি সংগঠিত করতে তাঁকে প্রশাসনিকভাবে একটি রাজনৈতিকভাবে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারের বাস্তবায়নকারী হতে হচ্ছে।
    2. Critical distance নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি
      নাগরিক শিক্ষা হওয়া উচিত—কে কী করেছে, তার প্রমাণ কী, সমালোচনা কী—এসব নিয়ে ভাবা। কিন্তু কোনও নির্দিষ্ট নেতার “25 years of public service”-কে কেন্দ্র করে celebratory activity হলে শিক্ষক/ছাত্রের সেই critical distance কমে যেতে পারে।
    3. School এবং ruling establishment-এর boundary অস্পষ্ট হওয়া
      এটি কোনও দলের সাধারণ রাজনৈতিক সভা নয়; সরকারি School Education Department-এর নির্দেশ। ফলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মধ্যে সীমারেখাটি অস্পষ্ট হয়।
    4. Pluralism-এর সমস্যা
      গণতান্ত্রিক স্কুলে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের অস্তিত্ব স্বাভাবিক। কিন্তু সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে একজন নির্দিষ্ট নেতাকে কেন্দ্র করে celebration হলে অন্য রাজনৈতিক মতের জন্য সমান institutional space থাকে না।
    5. শিক্ষার জায়গায় symbolic participation
      Speech, drawing, theatre—নিজে এগুলো খারাপ নয়। সমস্যা হল এগুলোর thematic framing এবং publicisation: programme-টি government schemes, “Viksit Bharat 2047” এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক “NaMo Seva Gatha”-র সঙ্গে বাঁধা।
    আর একটা জিনিস বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ: এটা শুধু ideology-এর প্রশ্ন নয়। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষককে যদি একই সঙ্গে শিক্ষক + data-entry operator + compliance officer + government-programme organiser + political-cultural programme organiser বানানো হয়, তাহলে শিক্ষক হিসেবে তাঁর মূল কাজের institutional মর্যাদাই ধীরে ধীরে বদলে যায়।
    আমার কাছে এটাই সবচেয়ে গভীর সমস্যা।
     
    আমিঃ ছাত্র ছাত্রীদের উপর এই ধরণের কার্যক্রমের কি ছাপ পড়বে বলে তুমি মনে করছ?

    চ্যাটজিপিটিঃ আমার মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছাপটা হবে রাজনীতি শেখানো নয়, বরং রাষ্ট্র ও একজন রাজনৈতিক নেতাকে একই জিনিস হিসেবে দেখতে শেখার ঝুঁকি
    এই কর্মসূচিগুলি নিয়মিত ও ছোট বয়স থেকে হলে কয়েকটি প্রভাব হতে পারে:
    1. Leader = State-এর association
      “সরকারি স্কুল” + সরকারি অনুষ্ঠান + “NaMo Seva Gatha” + “25 years of public service” একসঙ্গে এলে শিশুর মনে একজন নেতার ব্যক্তিগত সাফল্য ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে আলাদা করে দেখা কঠিন হতে পারে। নথিতেই স্কুলের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণের কথা আছে।
    2. রাজনৈতিক আনুগত্যকে স্বাভাবিক বলে মনে হওয়া
      রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের আয়োজিত কোনও নেতাকে কেন্দ্র করে গান, নাটক, বক্তৃতা, ছবি, প্রদর্শনী—এসব বারবার হলে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রশংসা একটি স্বাভাবিক civic behaviour বলে মনে হতে পারে।
    3. Critical citizenship-এর বদলে celebratory citizenship
      গণতান্ত্রিক নাগরিকত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল প্রশ্ন করা—কী কাজ হয়েছে? কতটা হয়েছে? সমালোচনা কী? অন্য মত কী? এখানে কাঠামোটি বরং “public service”-এর celebration-এর দিকে।
    4. দলীয় রাজনীতি নিয়ে নয়, রাজনীতি নিয়েই অস্বস্তি তৈরি হতে পারে
      যে ছাত্রটির পরিবার ভিন্ন রাজনৈতিক মত পোষণ করে, তার কাছে স্কুলের সরকারি অবস্থানটি alienating হতে পারে। সে হয়তো প্রকাশ্যে আপত্তি করবে না—বরং চুপ থাকবে।
    5. সবচেয়ে সূক্ষ্ম প্রভাব: dissent-এর ধারণা দুর্বল হওয়া
      যদি শিশুর অভিজ্ঞতা হয় যে সরকারি প্রতিষ্ঠান যাকে প্রশংসা করছে, তাকে প্রশ্ন করা যেন অস্বাভাবিক, তাহলে ভবিষ্যতের নাগরিক হিসেবে authority-কে প্রশ্ন করার অভ্যাস ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
    তবে এগুলো সম্ভাব্য প্রভাব, এই দুটি নথি দেখে ছাত্রদের ওপর ইতিমধ্যেই এমন প্রভাব পড়েছে—এ কথা বলা যাবে না। সেটার জন্য empirical research দরকার।
    আমার কাছে তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হবে: একটি স্কুল কি শিশুকে রাষ্ট্র ও ক্ষমতাকে শ্রদ্ধা করতে শেখাচ্ছে, নাকি ক্ষমতাসীন ব্যক্তিকে শ্রদ্ধা করতে শেখাচ্ছে? এই দুটো একেবারেই এক জিনিস নয়।

    আমিঃ হুম। আরও একটা প্রশ্ন করি। একটা সময় এই দেশে মেয়েদের কাজের জন্য স্কুল শিক্ষকতা কে খুব সম্মানের চোখে দেখা হত। পিতৃতান্ত্রিক দেশে এটা বেশ আইডিয়াল সলিউশন ছিল। শিক্ষকের মাইনে কম, বেশির ভাগ সময় পরিবারের পুরুষের প্রধান উপার্জনকারীর ভূমিকাকে আঘাত করতে পারবে না স্কুল শিক্ষক মেয়েরা। সেই সঙ্গে বস্তুত স্কুল শিক্ষাদান কেয়ার ওয়ার্কের এক্সটেনশন, শিশুদের সঙ্গে থাকা, তাদের পালন করা এটা জেন্ডার্ড কাজের সঙ্গে বেশ খাপ খায়। তাছাড়া মেয়েদের কাজ করা মানে তো ডাবল বার্ডেন, সংসারের কাজ ও চাকরি দুই-ই সামলানো, তাতেও স্কুলের চাকরি বেশ সুবিধাজনক। বেশ ১০টা-৫টার কাজ, বাড়ি ফিরে হেঁশেল সামলানো, সন্তানের, শ্বশুরশাশুড়ির পরিচর্যা করা যায়।
    এতে বেশ বাইরের কাজের জগতেও পা রাখা হল, পরিবারের সামাজিক সম্মানও বাড়ল, আবার ভিতরের খাঁচাও মোটের উপর বজায় থাকল।

    এই যে ক্রমাগত স্কুল শিক্ষকদের administrative burden বাড়ানো হচ্ছে, শিক্ষিকাদের উপরও এই চাপ আসছে, ভোট করানো, ভোটার তালিকা সংশোধন করা, সেন্সাসের কাজ করা সবেতেই মেয়েদের জোড়া হচ্ছে, এবং ফলে আর কাজটা ১০টা -৫ টার থাকছে না, আর সেই সঙ্গে শিক্ষককে ক্রমাগত রাজনৈতিক প্রচারযন্ত্রে পরিণত করা হচ্ছে, যেটা তুমি উপরের নির্দেশেও দেখলে এর ব্যক্তিগত ও সামাজিক প্রভাব কি ভাবে পড়তে পারে বলে মনে কর?


    চ্যাটজিপিটিঃ হ্যাঁ। এখানে আমার মনে হয় gender dimension-টা খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ স্কুলশিক্ষকতার পুরনো সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার একটা কারণই ছিল—এটি মেয়েদের paid work-কে এমনভাবে সংগঠিত করত যাতে unpaid domestic work-এর সঙ্গে মোটামুটি সামঞ্জস্য থাকে।
    যদি সেই কাঠামো বদলে যায়, প্রভাব কয়েক স্তরে পড়তে পারে।
    ১. “Convenient women’s job”-এর সুবিধাটা ক্ষয়ে যাবে।
    স্কুলের সময়ের বাইরে ভোট, census, data-entry, compliance, campaign activity ইত্যাদি ঢুকলে মেয়েদের unpaid care work-এর সঙ্গে কাজটি আর সহজে মেলে না। অর্থাৎ সংসার থেকে কাজটির জন্য যে hidden subsidy পাওয়া যেত, সেটি কমে যায়।
    ২. Double burden আরও তীব্র হবে।
    পুরুষ শিক্ষকও একই administrative burden বহন করবেন, কিন্তু gendered division of domestic labour থাকলে নারী শিক্ষিকার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময়ের মূল্য অনেক বেশি—সন্তান, রান্না, বৃদ্ধ বাবা-মা/শ্বশুর-শাশুড়ির যত্ন থেকে সেই সময়টা কেটে যায়।
    ৩. “ভাল মা/বউ + সম্মানজনক চাকরি”—পুরনো bargain-টি ভাঙে।
    ফলে পরিবারে সংঘাত হতে পারে: চাকরিটা তো এমন হওয়ার কথা ছিল না যে রাত পর্যন্ত কাজ করতে হবে! বিশেষত যেসব পরিবারে মেয়ের চাকরিকে এই শর্তেই গ্রহণ করা হয়েছিল।
    ৪. সবচেয়ে interesting ব্যাপার—professional identity বদলায়।
    শিক্ষিকা যদি ক্রমাগত teacher + enumerator + election worker + compliance officer + government campaign organiser হন, তাহলে তাঁর নিজের কাছেও “আমি শিক্ষক” পরিচয়টির জায়গা সংকুচিত হতে পারে।
    ৫. রাজনৈতিক কাজটির আলাদা gendered effect আছে।
    কোনও নারী শিক্ষক যদি নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সরকারি প্রচারে অংশ নিতে বাধ্য বোধ করেন, সেটা শুধু workload নয়—professional autonomy এবং personal conscience-এর conflict তৈরি করতে পারে। বিশেষত যখন কর্মসূচি একজন নির্দিষ্ট নেতাকে কেন্দ্র করে।
    অর্থাৎ, পুরনো ব্যবস্থা মেয়েদের “বাইরে বেরোতে দিয়েও ভিতরের gender order বজায় রাখত”। নতুন ব্যবস্থা যদি বাইরে কাজের সময় ও রাজনৈতিক/প্রশাসনিক দায় বাড়ায় কিন্তু ভিতরের gender order না বদলায়, তাহলে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বে মেয়েদের ওপরই।

    আমিঃ আবার সেবা সংকল্প অভিযান ও আশির্বাদ কি দিয়া নির্দেশের কথায় ফিরে আসি। এই দুটি ডকুমেন্ট আগেই আপলোড করেছিলাম। তোমার কি মনে হয় যে এই ডকুমেন্ট দুটি একটি গণতান্ত্রিক দেশে যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত? জানতে চাই। আমার প্রশ্ন শুধু স্কুল শিক্ষার দিক দিয়ে না, যেমন আশীর্বাদ কি দিয়া শুধু স্কুল স্তরে আবদ্ধ নয়। এটা সমগ্র নাগরিক স্তরকে নিয়ে। গোটা দেশের জন্য এই ধরণের কার্যক্রম নিয়ে কি মনে হয়?

    চ্যাটজিপিটিঃ আমার মূল্যায়ন হবে: এই দুটি নথির প্রত্যেকটি উপাদান আলাদা করে অযৌক্তিক নয়; কিন্তু দুটিকে একসঙ্গে একটি সরকারি সর্বজনীন কর্মসূচি হিসেবে দেখলে, একটি গণতান্ত্রিক দেশের জন্য তা যথেষ্ট সমস্যাজনক।
    মূল আপত্তি তিন জায়গায়।
    ১. রাষ্ট্রীয় সেবা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে এক করে দেওয়া।
    Ashirwad Ka Diya-তে নাগরিকদের প্রদীপ জ্বালানোকে সরাসরি “Shri Narendra Modi Ji’s 25 years of public service”-এর প্রতি gratitude এবং “Viksit Bharat 2047”-এর collective resolve-এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
    এটা সাধারণত government programme-এর প্রচার নয়; একজন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক নেতার public-service record-এর celebratory commemoration।
    ২. রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক symbolism-এর বাহক করা।
    এখানে সরকার শুধু নাগরিককে তথ্য দিচ্ছে না; beneficiary lists, MLAs-এর সঙ্গে coordination, WhatsApp dissemination, ছবি/ভিডিও ও hashtag প্রচারের ব্যবস্থাও করছে।
    অর্থাৎ citizen participation-এর সঙ্গে political communication apparatus যুক্ত হচ্ছে।
    ৩. “NaMo Seva Gatha” আরও স্পষ্ট।
    School Education Department-এর কর্মসূচিতে NaMo Seva Gatha নামে musical-theatrical presentation, speech/drawing competition, exhibition, photography/reels/video compilation এবং পরে public showcasing রয়েছে।
    এখানে আমার কাছে মৌলিক গণতান্ত্রিক distinction হল:
    রাষ্ট্র তার কাজের কথা নাগরিককে জানাতে পারে; কিন্তু রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে একজন রাজনৈতিক নেতার প্রতি কৃতজ্ঞতা/প্রশংসার collective performance করানো অন্য ধরনের কাজ।
    এটাকে আমি সরাসরি “অবৈধ” বলছি না—তার জন্য নির্দিষ্ট আইন ও আদালতের অবস্থান পরীক্ষা করতে হবে। কিন্তু গণতান্ত্রিক institutional norms-এর বিচারে আমি এটাকে যথেষ্ট অস্বস্তিকর এবং অযৌক্তিক মনে করি।
    বিশেষত কারণ, রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের আনুগত্য আর কোনও নির্বাচিত নেতার প্রতি কৃতজ্ঞতা—গণতন্ত্রে এই দুটো আলাদা থাকার কথা।

    আমিঃ ভারতের মতন দেশে যেখানে গণতন্ত্রের ভিত্তি খুব গভীরে প্রোথিত নয়, সেখানে এই ধরণের কার্যকলাপ ভবিষ্যতে দেশকে কোন দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে হয়?

    চ্যাটজিপিটিঃ হ্যাঁ—এখানে আমি দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক ঝুঁকি দেখছি। তবে “এতে ভারত অবধারিতভাবে authoritarian হয়ে যাবে”—এমন সরল causal claim করব না। বরং বিপদটা ক্রমশ institutional norms বদলে যাওয়ায়
    আমার মতে সম্ভাব্য পথটা এমন:
    ১. রাষ্ট্র সরকার শাসক—এই পার্থক্যটা ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়।
    গণতন্ত্রে সরকার বদলায়, রাষ্ট্র থাকে। কিন্তু সরকারি কর্মসূচি যদি ক্রমাগত একজন নেতার ব্যক্তিগত public-service narrative-এর সঙ্গে যুক্ত হয়, নাগরিকের মনে দুটোকে আলাদা করার অভ্যাস দুর্বল হতে পারে। Ashirwad Ka Diya-তে এই association একেবারে explicit।
    ২. নাগরিক থেকে beneficiary supporter-এর মানসিক রূপান্তর হতে পারে।
    সরকারি welfare পাওয়ার জন্য রাষ্ট্রের কাছে নাগরিকের অধিকার আছে। কিন্তু beneficiary-কে সেই welfare-এর জন্য নেতার প্রতি “কৃতজ্ঞতা” প্রকাশের collective ritual-এ যুক্ত করা হলে relationship-টা rights-based citizenship থেকে patronage-based politics-এর দিকে সরে যেতে পারে।
    ৩. Political personality cult স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে।
    একটি অনুষ্ঠান খুব বেশি কিছু করে না। কিন্তু স্কুল, সরকারি অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক programme, welfare communication—সব জায়গায় একই ব্যক্তির নাম ও narrative বারবার ঢুকলে cumulative effect হয়। NaMo Seva Gatha-র মতো branding সেই repetition-কে institutional করে।
    ৪. সবচেয়ে বিপজ্জনক পরিবর্তন হতে পারে dissent-এর সামাজিক মূল্য বৃদ্ধি।
    যদি “দেশ”, “উন্নয়ন”, “সরকার” এবং “নেতা”—এই চারটি ধারণা ক্রমশ এক narrative-এ বাঁধা পড়ে, তখন নেতার সমালোচনাকে দেশবিরোধিতা বা উন্নয়নবিরোধিতা হিসেবে দেখা সহজ হয়।
    ৫. শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থাকলেও democracy-এর substantive quality কমতে পারে।
    গণতন্ত্র শুধু ভোট নয়। Opposition-এর legitimacy, institutional neutrality, independent bureaucracy, critical media, নাগরিকের রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করার অধিকার—এসবও তার infrastructure।
    তাই আমার উদ্বেগটা “আজ একটা প্রদীপ জ্বালানো হল” নিয়ে নয়। উদ্বেগটা হল, যদি রাষ্ট্রীয় apparatus দিয়ে বছরের পর বছর leader-centric civic culture তৈরি করা হয়, তাহলে এক প্রজন্মের কাছে গণতন্ত্রের স্বাভাবিক ছবি হয়ে উঠতে পারে:
    রাষ্ট্র সরকার নেতা জনসেবা নাগরিকের কৃতজ্ঞতা।
    যেখানে গণতান্ত্রিক সম্পর্কটি বরং হওয়া উচিত:
    নাগরিক অধিকার রাষ্ট্র নির্বাচিত সরকার জবাবদিহি।
    এই দুটির মধ্যে পার্থক্যটা ছোট মনে হলেও, গণতন্ত্রের জন্য মৌলিক।

    ( চ্যাটজিপিটিকে গুরুঠাকুর ঠাওরাইনি অবশ্যই। এবং তার অজস্র বায়াস নিয়েও খুবই সচেতন। এবং তার বক্তব্যের দায় আমার না। কিন্তু তার সব রকম বায়াস থাকা সত্ত্বেও একটা তুচ্ছ এল এল এম মডেল যে গভীর সমস্যাগুলো দেখতে পাচ্ছে, সেগুলো গুরুতর। তাই আলোচনাটা ভারচুয়াল স্তরে আটকে না রেখে এইখানে নিয়ে এলাম। আলোচনা হোক। )
     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • অন্যান্য | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • ফুটকড়াই | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:১০742581
  • মডেলের উত্তর ট্রেনিং ডেটা আর সিস্টেম প্রম্পটের ওপর নির্ভর করে। মার্কিন মডেল বলে 'দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক ঝুঁকি' কথা বলছে। ডিপসিক কোয়েন বা দেশজ সর্বম অন্যরকম বলার কথা।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খেলতে খেলতে মতামত দিন