এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • গোলাম মহম্মদ  - ১ 

    Anjan Banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২ বার পঠিত

  • ( ১ )

    সতীনাথ হালদার প্রায় বাহান্ন বছর আগে আগ্রায় গিয়েছিলেন একটা দলের সঙ্গে। চেনা অচেনা, আত্মীয় অনাত্মীয়ের সাত আট জনের একটা দল। সতীনাথের তখন একুশ বছর বয়স। আগ্রা থেকে ওরা গেল ফতেপুর সিক্রি দেখতে। না, কোন গাড়ি ভাড়া করে যাওয়ার রেস্ত ওদের দলের ছিল না। মানে দলের বেশির ভাগেরই ছিল না। আগ্রা থেকে ফতেপুর সিক্রি যাবার বাস ছাড়ে। সেই বাসে চড়ে ওরা ফতেপুর সিক্রিতে এসে পৌঁছল।
    বুলন্দ দরওয়াজা পেরিয়ে ভিতরে পা রাখতেই সতীনাথের
    কেমন গা ছমছমে অনুভূতি হল। যেন ইতিহাসের ঝাপটা লাগল মনে। সতীনাথের মনে হল সে একটু বেশি রোম্যান্টিক প্রকৃতির বলে হয়ত এরকম অনুভূতি হল। অন্য যারা ছিল তাদের কোন হেলদোল হল কিনা বোঝা মুশ্কিল। তারা যথারীতি নিজেদের মধ্যে বকবক করতে ব্যস্ত। কথায় কোন বিরতি নেই তাদের।
    একজন শেরওয়ানি কুর্তা পরা, হাল্কা দাড়িওয়ালা বছর পঁয়ত্রিশের যুবক এসে হাজির হল ওদের সামনে। বলল, ' বাবু গাইড কা জরুরত হোগা জরুর। গাইড কা সেবা কুছ সমঝ নেহি পাওগে। ইতনা দূর সে আয়া আপলোগ... সফর বেকার কিঁউ করেঙ্গে ... '
    গাইড পঞ্চাশ টাকা নেবে জানার পর নিজেদের মধ্যে খরচ সম্পর্কিত চটজলদি মধ্যবিত্তসুলভ হিসেবী আলাপ আলোচনা করে নেবার পরে দলের তিনজন বয়স্ক অভিবাবক সিদ্ধান্ত নিলেন যে একটা গাইড অবশ্যই নেওয়া দরকার। ' ইতনা দূর সে আয়া... সফর বেকার কিঁউ করেঙ্গে ' কথাটার যথার্থতা স্বীকার করলেন। মাথামুন্ডু কিছু বোঝাই যদি না যায় তা হলে এরকম একটা গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক জায়গায় এসে লাভ কী?
    সুতরাং গাইডের পারিশ্রমিক হিসেবে পঞ্চাশ টাকার বরাদ্দ অনুমোদিত হল। গাইড নিজেই তার নাম জানাল কাজ শুরু করার আগে। গোলাম মহম্মদ।
    গোলাম মহম্মদ আকবর বাদশাকে একেবারে আমাদের সামনে এনে ফেলল। পনেরশ একাত্তর থেকে পনেরশ পঁচাশি পর্যন্ত মোটামুটি চোদ্দ বছর আকবর এখানে বসে রাজত্ব নিয়ন্ত্রন করে তামাম ভারত চালিয়েছেন। তারপর কী একটা কারণে খুব জলের অভাব হল ফতেপুরে। আকবর বাদশা তখন আবার আগ্রায় ফিরে গেলেন।
    অন্যদের কথা বলা মুশ্কিল, গোলাম মহম্মদ সতীনাথকে একেবারে চারশ বছর পিছনে নিয়ে গিয়ে ফেলল।
    সতীনাথের দলবল এর কিছুদিন পর কলকাতায় ফিরে এল এবং যে যার কাজে ঢুকে গেল। সতীনাথের কিন্তু ফতেপুর সিক্রির সূফী সেলিম চিস্তির জামা মসজিদ, যোধাবাঈ প্রাসাদ, তানসেন মহল, দেওয়ানি আম, দেওয়ানি খাস সহ আকবর বাদশার নানান ক্রিয়াকর্মের জায়গা গুলো সতীনাথের মনের ঘরে ছায়া বিছিয়ে বসল। এছাড়া মনের মধ্যে ধরা রইল আর একজন মানুষ। সে হল গোলাম মহম্মদ, ফতেপুর সিক্রির গাইড। ছিপছিপে লম্বা চেহারা, তামাটে গায়ের রঙ, শেরওয়ানি কুর্তা পরা, গালে হাল্কা দাড়ি, চোখ দুটো সরল এবং সামান্য পিঙ্গল। গোলাম মহম্মদের একটা মুদ্রাদোষ চোখে পড়ল সতীনাথের। ও মাঝে মাঝে বড় করে হাঁ করে। হয়ত চোয়ালের কোন সমস্যা আছে কিংবা নিছকই একটা অভ্যাস।
    সে যাই হোক, গাইড গেলাম মহম্মদ একেবারে মোঘল যুগের আলো ছায়ায় ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল তাদের। কলকাতায় ফিরে আসার পর গোলাম মহম্মদের সরল, খানিকটা পিঙ্গলাভ চোখ দুটোর কথা অনেকদিন পর্যন্ত সতীনাথের মনে ভেসে ছিল ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘের মতো।
    এরপর বহু বছর ধরে সতীনাথের ইচ্ছে হয়েছে আগ্রা এবং ফতেপুর সিক্রি ভ্রমণে যাবার কিন্তু কোন না কোন কারণে তা আটকে গেছে। অন্য কত জায়গা ঘোরা হল সতীনাথের কিন্তু আগ্রা এবং ফতেপুর সিক্রি আর যাওয়া
    হয়ে উঠল না তার এত বছর ধরে।
    দেখতে দেখতে কেটে গেল অর্ধ শতাব্দীর ওপর। নানা ওলোটপালোট, পরিবর্তনের ঢেউ বয়ে গেছে সতীনাথের জীবন দিয়ে। সে এখন প্রৌঢ়। বৃদ্ধও বলা যায়। গোলাম মহম্মদের স্মৃতি ধীরে ধীরে আবছা হয়ে এসেছে।

    সতীনাথবাবুর দুই মেয়েরই বিয়ে হয়ে গেছে। শ্যামবাজারের বলরাম ঘোষ স্ট্রিটের বাড়িতে এখন সতীনাথরা শুধু স্বামী স্ত্রী। বড় মেয়ে সৃজিতা আর তার স্বামী থাকে তাইওয়ানে। ছোট মেয়ে শম্পালি আর জামাই সোমনাথ অবশ্য কলকাতাতেই থাকে। লেক টাউনে। খুব ভ্রমণপিপাসু। যখন তখন বেরিয়ে পড়ে। নানান জায়গা, পাহাড়, সমুদ্র বা অরণ্য কোথাও বাদ নেই। শুধু আগ্রা যাওয়া হয়ে ওঠেনি কোন না কোন কারণে। সতীনাথবাবু প্রায়ই বলেন শম্পালিকে, 'তোরা একবার ফতেপুর সিক্রিটা ঘুরে আয়। দেখবি কি সেনসেশানাল। এরকম হিস্টোরিকাল স্পট আর পাবি না। আমার কাছে এটাই সবচেয়ে থ্রিলিং হিস্টোরিক্যাল স্পট। অন্য কেউ অবশ্য আমার সঙ্গে একমত না হতেও পারে। তাতে আমার কিছু যায় আসে না। মোগল পিরিয়ডের গন্ধ পাওয়া যায় সারা এরিয়াটা জুড়ে। সেই কোন কালে একবার গিয়েছিলাম। খুব ইচ্ছে ছিল আর একবার যাবার। তা আর হয়ে উঠল না। তোরা একবার ঘুরে আয়... '
    শম্পালি সেদিন বলল, ' তা তোমরাও চল না আমাদের সঙ্গে। অতদিন আগে গেছ। দেখ এখন সেরকম থ্রিল ফিল কর কিনা ... '
    সতীনাথবাবু খুব খুশি হলেন ছোট মেয়ের প্রস্তাবটা শুনে।
    বললেন, ' তা গেলে হয়...জায়গাটা আমাকে খুব টানে ...'
    এইসব কথা সেদিন সন্ধেবেলা যখন হচ্ছে সতীনাথবাবুর এক ছোটবেলার বন্ধু সিদ্ধার্থ দত্ত সেখানে বসেছিলেন। সিদ্ধার্থবাবু মাসে অন্তত তিনবার বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে আসেন সন্ধের দিকে। বারো মাস যখনই আসেন তার সঙ্গে একটা ছাতা থাকে। ছাতাটা তার সঙ্গের সাথী বলা যায়।
    তিনি এদের কথাবার্তা শুনে টুনে বললেন, ' আমাকেও তোমাদের সঙ্গে নাও না ... আমি একাই যাব। অসুবিধে হবে না। যথেষ্ট ফিট আছি এখনও। বিপদে ফেলব না তোমাদের... '
    ----- ' কী যে বলেন কাকু ! আপনি গেলে ভীষণ আনন্দ পাব.... কোন ডেটে টিকিট কাটলে আপনার সুবিধে হবে ? ' শম্পালি বলল।
    ----- ' যে কোন দিন, আমার কোন অসুবিধা নেই। শুধু জার্নির তিন দিন আগে আমাকে জানিও ... '
    সতীনাথবাবু বললেন, ' তিনদিন কেন, অন্তত দশদিন আগে জানানো হবে তোকে। চল যাই ফতেপুর সিক্রি ঘুরে আসি ... '
    ----- ' তবে একটা কথা হচ্ছে কি সতীনাথ, তুমি প্রথমবারে যে থ্রিল পেয়েছিলে দ্বিতীয়বারে সেটা পাবে না। ডিমিনিশিং মার্জিনাল ইউটিলিটি থিয়োরি আর কী ... '
    সিদ্ধার্থ দত্ত বললেন।
    ----- ' তা ঠিক। এ অভিজ্ঞতা আমার অনেকবার হয়েছে... ' সতীনাথ একমত হন।
    তারপর বললেন, ' স্কুলে পড়েছিলাম মনে আছে সেই ইয়ারো ভিজিটেড, ইয়ারো আনভিজিটেড কবিতাগুলো। মনে আছে ? কার যেন লেখা... সেই রকম... '
    সিদ্ধার্থবাবু বললেন, ' ওয়ার্ডসওয়ার্থের। মনে আবার নেই। একদম একদম। ঠিক ওই রকম ব্যাপার। ডিমিনিশিং মার্জিনাল ইউটিলিটি। তবে এবারে হয়ত অন্য কিছু পেতে পারিস। যা আগের বার পাসনি... '
    সতীনাথ একটু চুপ করে কী ভাবলেন। তারপর বললেন, ' হতে পারে... হতে পারে। দেখা যাক। অর্ধ শতাব্দীর ওপর কেটে গেছে এর মধ্যে। সেই গোলাম মহম্মদও নেই। হয়ত সেই ফতেপুর সিক্রিও আর তেমন নেই। কী পাবার আছে কে জানে... '
    সিদ্ধার্থবাবু বললেন, ' না, ফতেপুর সিক্রি নিশ্চয়ই একই রকম আছে, যদি না কোন রিনোভেশান ওয়ার্ক হয়ে থাকে ওখানে। তবে আশপাশের পরিবেশ নিশ্চয়ই অনেক বদলে গেছে। সেটাই স্বাভাবিক। দেখা যাক, গেলেই বুঝতে পারবি... '
    ----- ' হমম্... সে তো নিশ্চয়ই ... '

    ওদের সাড়ে পাঁচজনের দল আগ্রায় এসে পৌঁছল সন্ধেবেলায়। সতীনাথ দম্পতি, সিদ্ধার্থবাবু এবং শম্পালি, সোমনাথ এবং তাদের ছ'বছরের ছেলে হৃদান ওরফে চিট্টি। হোটেল ঠিক করা ছিল। স্টেশন থেকে
    একটু দূরে। জায়গাটা বেশ মনোরম। দোকানপাট ঘন ঘন নয়। খানিকটা তফাতে তফাতে। রাস্তার ধারে বালির আস্তরণ ছড়ানো। অনেকটা যোধপুর বা জয়সলমীরের মতো। এ রাস্তাটায় গাড়ি চলাচল আছে। কিন্তু অত ঘন ঘন নয়। একটা উটে টানা গাড়ি চলেছে অলস গতিতে। রাজস্থানী দেহাতিদের মতো একটা পাগড়ি মাথায় লাগিয়ে চালক পিছনে বসে আছে নিশ্চিন্ত ভঙ্গীতে। যদিও সতীনাথবাবুর স্পষ্ট মনে আছে যে সেই বাহান্ন বছর আগে এ রাস্তায় ঘোড়ায় টানা টাঙ্গা চলত। চার চাকা দু চাকা চলত না।
    তিনটে ঘর নেওয়া হয়েছিল। একটা শম্পালিদের, একটা সতীনাথদের ডবল বেডরুম আর সিদ্ধার্থবাবুর জন্য একটা সিঙ্গল বেডরুম। সব ঘরই হোটেলের তিনতলায়। সাড়ে নটার মধ্যে খাওয়াদাওয়া হয়ে গেল। শরীরে ট্রেন যাত্রার ক্লান্তি ছিল। যে যার ঘরে ঢুকে গেল বিশ্রাম নেবার জন্য। কাল সকালে ফতেপুরের সিক্রি দেখতে যাওয়ার কথা। পরশু যাওয়া হবে আগ্রা ফোর্ট, তারপর তাজমহল। মানে, আকবর থেকে জাহাঙ্গীর হয়ে শাজাহান।
    শোবার আগে সতীনাথবাবু সিদ্ধার্থ দত্তর ঘরে ঢুকে বলে এলেন, ' রাতে কোন দরকার হলে ডাকিস কিন্তু ... '
    ----- ' আরে না না... কী আবার দরকার হবে। এক ঘুমে রাত কাবার হয়ে যাবে। তুই শুয়ে পড়... '

    সতীনাথ হালদার চলে গেলেন নিজের ঘরে। সতীনাথ চলে যাবার পর সিদ্ধার্থবাবু আলো নিভিয়ে শুয়ে পড়লেন। একটা ঢিমে নীল আলো জ্বলতে লাগল ঘরে। শরীর ক্লান্ত ছিল ঘুম আসতে দেরি হল না। ঘরের বাইরে করিডরে লোকজনের কথা এবং পায়ের শব্দ ক্রমশ থিতিয়ে গেল।
    ঘরে একটা দেয়াল ঘড়ি আছে। সেটায় টং টং করে রাত দুটো বাজল। নিঝুম মাঝরাত। নিস্তব্ধ রাস্তা দিয়ে দু একটা বাইক ছুটে যাবার শব্দ জেগে উঠছে মাঝেসাঝে।

    সিদ্ধার্থবাবুর ঘরের দরজায় কে যেন টোকা মারল। উনি তখন গভীর ঘুমের তলায়। মৃদু তরঙ্গের মতো টোকার আওয়াজ ভেসে চলে গেল। দরজায় আবার টোকা পড়ল। এবার একটু জোরে। সিদ্ধার্থবাবুর কাঁচা ঘুম ভেঙে গেল এবার। ঘুম জড়ানো চোখে তিনি চুপচাপ শুয়ে রইলেন। বুঝতে পারলেন না কেন তার ঘুম ভেঙে গেল। তিনি আবার ঘুমের কোলে যাবার জন্য পাশ ফিরে শুলেন। তার হাতটা গিয়ে পড়ল যেন পাশে শোয়া একজন মানুষের গায়ে। শিউরে উঠল সিদ্ধার্থবাবুর সারা শরীর। তার ঘুমের চটকা নিমেষে কেটে গেল। তিনি ধড়মড় করে উঠে বসলেন। এই সময়ে তিনি দরজায় আবার টোকার শব্দ শুনতে পেলেন স্পষ্ট। প্রাণপণে বাঁ পাশে ঘাড় ঘুরিয়ে ঘরের আবছা নীল আলোয় তিনি দেখলেন বিছানায় তার পাশে কেউ নেই। থাকবার কথাও তো নয়। ঘরে তিনি একা আছেন, আর একজন আসবে কেথা থেকে। নির্ঘাত রাতের ডিনারে খাওয়া পরটা আর চিকেন কষা ঠিকমতো হজম হয়নি। বায়ু কুপিত হয়েছে। ভাবলেন, খাট থেকে নেমে ঘরের আলোটা জ্বালবেন। কিন্তু হাত পা কেমন অবশ লাগছে।
    আতঙ্কে না হলেও অদ্ভুত একটা অস্বস্তিতে। তিনি ভাবলেন, পেটে বদহজমজনিত আন্ত্রিক বৈষম্য হওয়া ছাড়া আর কী কারণ থাকতে পারে এইসব উদ্ভট অভিজ্ঞতার। সিদ্ধার্থবাবু অতিপ্রাকৃত ব্যাপারে একেবারেই বিশ্বাস করেন না।

    কিন্তু বিছানা থেকে ওঠবার যথেষ্ট জোর পেলেন না শরীরে। এইসময়ে সিদ্ধার্থবাবু দরজায় আবার টোকার শব্দ শুনতে পেলেন। নিশুত রাতে দরজায় টক টক টক। সিদ্ধার্থবাবু এবার বলে উঠলেন, ' কে .... '
    কোন উত্তর পেলেন না। রাস্তা দিয়ে একটা ভারি গাড়ি চলার আওয়াজ পাওয়া গেল। বোধহয় কোন দূরপাল্লার ট্রাক হবে, হয়ত মথুরার দিকে যাচ্ছে।
    সিদ্ধার্থবাবু কোন উত্তর পেলেন না। তিনি ভাবতে লাগলেন কী করা যায়। পাশেই মোবাইলটা আছে। ভাবলেন, সতীনাথকে ডাকবেন কিনা। আবার মনে হল, এই সামান্য ব্যাপার নিয়ে এই গভীর রাতে ঘুমন্ত মানুষকে
    ডাকাডাকি করা হাস্যকর ব্যাপার হবে। এখন শুয়ে পড়া যাক। কাল সকালে আলোচনা করা যাবে। সিদ্ধার্থবাবু শুয়ে পড়লেন। তার মনে হল হোটেলের কোন কর্মচারি নিশ্চয়ই মশ্করা করছে এই রাত্তিরবেলায়। হয়ত ভাবছে বুড়োটাকে একটু ভড়কে দেখা যাক। এটাই মজা আর কী। ব্যাটা তো তাকে চেনে না। কত জায়গায় কত কাপ্তানকে জব্দ করেছেন তিনি তা যদি ব্যাটারা জানত। রাত পোয়াতে তো আর ঘন্টা দুয়েক। তারপর বাইরে বেরিয়ে এই উৎকট ঝামেলার একটা হেস্তনেস্ত করতে হবে। তিনি মোবাইলের টর্চ জ্বেলে বিছানাটা একবার চোখ বুলিয়ে নেবার জন্য মোবাইলে আঙুল দিলেন। কিন্তু আলো জ্বলল না। আবার চেষ্টা করলেন। হল না। হাল্কা নীল আলোয় অবশ্য দেখাই যাচ্ছে ঘরে বা বিছানায় কেউ নেই। অকুতোভয় সিদ্ধার্থ দত্ত দুত্ত্যারিকা বলে বিছানায় গড়িয়ে পড়লেন এবং প্রায় সঙ্গে সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়লেন।

    সব শুনে সকালে সতীনাথবাবু এবং শম্পালিদের তো চোখ কপালে উঠল। সতীনাথ বললেন, ' বলিস কী রে ! তুই আমার চেয়ে অনেক সাহসী তা জানতাম। কিন্তু এ তো দেখছি... তুই একেবারে চ্যাম্পিয়ন লোক। আমি হলে, স্বীকার করছি ভিরমি খেয়ে পড়ে থাকতাম। সকালে দরজা ভেঙে বার করতে হত... '
    সোমনাথ বলল, ' সেটা ঠিক আছে। কিন্তু ব্যাপারটা তো এনকোয়্যারি করার দরকার। এমনি ছেড়ে দেওয়া উচিৎ না। বোর্ডারদের কেন এরকম হ্যারাসমেন্ট সাফার করতে হবে ? জঘন্য .... '
    সোমনাথকে রীতিমতো ক্ষিপ্ত দেখাচ্ছিল। সে রিসেপশানে
    গিয়ে হম্বিতম্বি শুরু করল। হোটেলের লোকজন তো সব শুনে অবাক। ম্যানেজারবাবু বললেন, এরকম অদ্ভুত ব্যাপার তাদের হোটেলে কখনও ঘটেনি। তারা নিশ্চয়ই 'পাতা' লাগাবার কোশিশ করবেন কিন্তু তার মনে হচ্ছে স্যার হয়ত কিছুটা 'বেমার' ছিলেন, তাই উল্টাপুল্টা কিছু দেখেছেন। ম্যানেজারের বয়ান শুনে সোমনাথ তো ক্ষেপে লাল। সবাই মিলে তাকে কোনরকমে সামলালো।
    ম্যানেজার মশাই বয়সে যুবক, কথাবার্তা এবং আচরণ অত্যন্ত সংযত এবং পরিশীলিত। তিনি সিদ্ধার্থবাবুকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, যে লোকটি তার ঘরের দরজায় টোকা মেরেছিল সে তার কোন নাম বা পরিচয় দিয়েছিল
    কিনা। সিদ্ধার্থবাবু জানালেন, না কোন জবাব তার কানে আসেনি। ম্যানেজার আজাহার কুরেশি বললেন, আজ রাত্রে তিনি নিজে 'ওয়াচ ' রাখবেন হোল নাইট। তার সঙ্গে পরামর্শ দিলেন, সিদ্ধার্থবাবু যেন রাত্রে একা না থাকেন।
    আজ একটু পরে ফতেপুর সিক্রি যাবার কথা। হোটেল থেকে পাঁচ মিনিট দূরে একটা জায়গা থেকে গাড়ি ছাড়বে বেলা দশটায়। আপাতত কাল রাতে সিদ্ধার্থবাবুর অদ্ভুত বিড়ম্বনা বৃত্তান্ত চাপা পড়ল।

    সতীনাথবাবুর দল যখন অতিকায় প্রবেশদ্বার বুলন্দ দরওয়াজার সামনে গিয়ে দাঁড়াল তখন প্রায় বারোটা বাজে। সতীনাথবাবুর মনে পড়ল দরওয়াজার একপাশে একটা ছোট ভাতের হোটেল ছিল। স্পষ্ট মনে আছে ওখানে সেই বাহান্ন বছর আগে তারা ভাত, ডাল, আলুভাজা আর চিকেন কারি খেয়েছিলেন। দেশি মুরগির সেই ঝোলের অসাধারণ আস্বাদ তিনি আজও ভোলেননি। সেই ছোট্ট খাবার জায়গাটার এখন আর কোন অস্তিত্ব নেই। কালের অতলে তলিয়ে গেছে অনেক কিছুর মতো। তারা সকলে মিলে বুলন্দের তোরণ পেরিয়ে ভিতর দিকে এসে দাঁড়াল।
    সতীনাথ বললেন, ' একটা গাইড নেবার দরকার। নাহলে ভাইভটা ঠিক নিতে পারবে না ভিতরে। একজন দক্ষ গাইড তার কমেন্টারির মাধ্যমে তোমাদের মনে ছবির পর ছবি এঁকে দিয়ে যাবে। সেই অর্ধ শতাব্দীরও আগে আমি যখন এখানে এসেছিলাম দারুন একজন গাইড পেয়েছিলাম। তার নামটা এখনও মনে আছে আমার। নামটা হল... '
    এই সময়ে বাঁ দিকে সাত আট ফুট দূর থেকে কে যেন বলল, ' জি... গোলাম মহম্মদ.... হাজির। চলিয়ে জি ... '
    সকলের চোখ ঘুরে গেল বক্তার দিকে। সবাই দেখল সিদ্ধার্থবাবু মাথা নীচু করে কপালে হাত ঠেকিয়ে সেলাম করার স্টাইলে একগাল হেসে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। ওনার এরকম নাটকীয় ভঙ্গীমা দেখে সবাই হেসে ফেলল। সতীনাথবাবু ভাবলেন, তিনি নিশ্চয়ই কোন এক সময়ে গোলাম মহম্মদের নামটা বলেছিলেন সিদ্ধার্থর কাছে। ব্যাটা ঠিক মনে রেখেছে সেটা। কিন্তু নিপাট সাদাসিধে সিধুর এরকম মজা করার ক্ষমতা আছে সেটা তার জানা ছিল না। সে যাই হোক সিদ্ধার্থবাবুর রসিকতা দেখে সবাই হেসে উঠল। ওদের হাসতে দেখে চিট্টিও হাসতে লাগল।
    সিদ্ধার্থবাবুর অভিনয়কলা প্রদর্শন কিন্তু এখানেই শেষ হল না। তিনি চত্বরের দিকে এগিয়ে হাত নাড়িয়ে সবাইকে ডেকে হাসিমুখে বললেন, ' আইয়ে... ইধার আইয়ে... '
    সতীনাথবাবু তার বাল্যবন্ধুর কান্ড দেখে খুব মজা পেতে লাগলেন। ভাবলেন, ব্যাটার পেটে পেটে এত ছিল। এমনিতে তো যেন ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানে না।
    সিদ্ধার্থবাবু এবার বললেন, ' আইয়ে আইয়ে... ইস তরফ আইয়ে, উও হ্যায় জামা মসজিদ... বাদশা আকবরনে উনকি গুরু সেলিম চিস্তিকে লিয়ে বানায়া থা... '
    সিদ্ধার্থবাবু জুম্মা মসজিদের দিকে আস্তে আস্তে এগিয়ে যাচ্ছেন। সতীনাথের মনে হল সিধু বড্ড বাড়াবাড়ি শুরু করেছে। তিনি গলা তুলে বললেন, ' আরে অনেক হয়েছে... এবার থাম। ওরকম এগিয়ে যাচ্ছ কেন ? এদিক ওদিক হয়ে গেলে মুশ্কিল হয়ে যাবে ... তখন আবার খোঁজাখুঁজির হাঙ্গামা ... '
    সিদ্ধার্থবাবু বললেন, ' আইয়ে না জলদি... রুক কিঁউ রহা হ্যায় ? আজ জুম্মাবার হ্যায়... চার বাজে তক খুলা রহেগা... টাইম ওয়েস্ট মাত করনা। চলতে রহিয়ে ... '
    বলে উল্টো দিকে ঘুরে ওদের দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলেন।
    সতীনাথ মহা আতান্তরে পড়লেন। তার স্ত্রীকে বললেন, '
    এ তো মহা জ্বালা হল। সিদ্ধার্থ যে এরকম নাটুকেপনা করে তা তো জানা ছিল না। তার অর্ধাঙ্গিনী বললেন, ' তাই তো। আচ্ছা, চল তো ওনার সঙ্গে যাই... দেখি শেষ পর্যন্ত কী করে .... '
    সোমনাথ কথাটায় সায় দিল। বলল, ' হ্যাঁ, সেটাই করা যাক। দেখি না, উনি শেষ পর্যন্ত কী করেন... দরকার হলে একটু পরেও গাইড ধরে নেওয়া যাবে... গাইড মনে হয় এখানে অলওয়েজ অ্যাভেলেবল ... '
    সতীনাথ বললেন, ' সে ঠিক আছে। কিন্তু আমার বেশ আশ্চর্য লাগছে... '
    ----- ' কী ? '
    ----- ' সিধুকে এরকম চোস্ত উচ্চারণে হিন্দী বলতে দেখে। ওর হিন্দী শুনে আমরা হাসতাম। এটা কিরকম ব্যাপার হল ? সিধু দেখছি একেবারে ছুপা রুস্তম... ওর পেটে এত ছিল ! এমন ভাব ছিল যেন ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানে না। যাগগে, চল এগোন যাক ... '

    এরপর সিদ্ধার্থবাবুর কেরামতি দেখে অবাক হয়ে গেল এরা সবাই। প্রতিটি জায়গার পুঙ্খানুপুঙ্খ 'কমেন্টারি' দিয়ে যেতে লাগলেন উনি। যে জায়গাটায় বসে আকবর এবং অন্যান্যরা দাবা খেলতেন সেই জায়গাটার এক ধারে ওরা বসল একটু জিরিয়ে নেবার জন্য। সতীনাথ ঘরণী ফ্লাস্ক থেকে চা বার করে সকলকে দিতে লাগলেন। সিধুবাবু বললেন, ' ম্যায় চায়ে নেহি পিতে ... '
    সতীনাথ আর থাকতে পারলেন না। বললেন, ' ন্যাকামির একটা সীমা আছে সিধু। এবারে ক্ষ্যামা দে। তুই নাকি চা খাস না ! সারা দিনে কতবার চা খাস আমি যেন জানি না হ্যাঃ। আর এই হিন্দী বলাটা এবার বন্ধ কর। বলছি যে, তুই যে আগে এখানে ঘুরে গেছিস... একবার না, হয়ত বার কয়েক সেটা তো আর বুঝতে কারও বাকি নেই। কী লাভ হল লুকিয়ে.... কোন মানে হয় ? '
    সিদ্ধার্থবাবু ওদের থেকে একটু ফারাকে এক জায়গায় গিয়ে দাঁড়ালেন। দূরে উত্তর দিকের আকাশের তলায় সাত আটটা চিল অনেকক্ষণ ধরে ঘুরে ঘুরে চক্কর মারছে। সিধুবাবু বিভোর দৃষ্টিতে সেদিকে তাকিয়ে রইলেন। চা খাওয়া শেষ হলে সতীনাথবাবু ঠাট্টা করে বললেন, ' এই যে গাইড সাহেব, চলুন এবার... বাকিটা কমপ্লিট করে নিই ... '
    সিদ্ধার্থবাবু এদিকে তাকিয়ে বললেন, ' হাঁ... আগে চলিয়ে জি... আব উস ওর, যোধাবাঈ মহেল অর বীরবল কি মকান দিখলাতা হুঁ। উও দেখিয়ে উও জাগা যিধর বৈঠকে তানসেন আপনা আওয়াজমে রাগ দীপক লাতে থে অর রাগ মল্লার গাকে আশমানসে বারিস উতারতে থে .... '
    সতীনাথ স্বগতোক্তি করলেন, ' ও বাবা... সিধু তো একেবারে কামাল করে দিচ্ছে। এ তো একেবারে সেই বাহান্ন বছর আগেকার গোলাম মহম্মদের স্টাইল দেখছি। ব্যাটা নির্ঘাত আগে অন্তত একবার গোলাম মহম্মদের সঙ্গে ফতেপুর সিক্রি ঘুরেছে। কর্তা বিরাট ছুপা রুস্তম...

    কোন গাইড আর নিতে হল না মাঝপথে। পনেরশ একাত্তর থেকে পনেরশ পঁচাশি পর্যন্ত এই দূর্গ তথা প্রাসাদের খাঁজে খাঁজে লেগে থাকা ইতিহাসের রোমাঞ্চ নিঙড়ে বার করে নিপুনভাবে ছড়িয়ে দিতে লাগলেন সিদ্ধার্থ দত্ত।
    ( শেষাংশ পরের পর্বে )
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল মতামত দিন