
তবে আর কী। হাতে নিন হাতা-খুন্তি। আর নিজেই করে ফেলুন খানা তৈয়ার। দুই কিসিমের রেসিপি এবার। যারে কয় হাঁসজারু, থুড়ি ফিউশন খাবার—নাম? ফুলকপির হাইকু! আহা খানা নয়, যেন পঙ্ক্তি কবিতার! সঙ্গে তার খানা গুরুবাদী, থুড়ি খানা অথেন্টিক, আগমার্কা খাঁটি— বাদশাহি বিন্স। চেবাতেই মেজাজখানা ঠিক যেন রাজা-রাজড়ার। ভয় নেই, মশলার ভুলে পড়বে না ঢি ঢি! বলে দিতে রান্নার নানা প্যাঁচপয়জার হাজির যে ডিডি।দাঁড়ান। ক্ষণকাল তিষ্ঠান। ব্যাপারটা বুঝুন।
এই এমন দুই কি আড়াই প্রজন্ম আগেও ছোঁচা, হ্যাংলা, পেটুক এইসব ছিল গালিবিশেষ। কর্ণও ভীমকে গালি দিতে গিয়ে ‘উদরপরায়ণ’ বলেছেন। আর এখন দেখুন, ‘আমি একজন ফুডি’ এই কথা সগর্বে কইতে পারবেন আড্ডায়। লোকে মানবে, এমনকি সমীহও করবে। ‘আমিও কম ফুডি নই’ বলে হয়তো সদর্পে চ্যালেঞ্জ করবেন অন্য কেউ।
তারপর ধরুন, ওই আছে না? ওই গ্লোবালাইজেশন? লোকে বিদেশে যাচ্ছে বিস্তর। তায় সোস্যাল মিডিয়া। হাতের মুঠোয় বিশ্ব। খাবারের খবরের একেবারে এক্সপ্লোশন। চাপ কি কম? কতরকমের কুইজিন যে শহরের পথেঘাটে। কতরকমের ভ্যারাইটির খাবার। এ ছাড়াও তো নিত্তিনতুন বিভিন্ন খাবারের ‘আবিষ্কার’ চলছে।
রথের মেলার তাই আইকন আর শুধুই তেলেভাজা আর জিলিপি নয়—স্বচ্ছন্দে ঠাঁই নিয়েছে চাউমিন আর মোমোও। কোথায় জানি হারিয়ে গেল টিপিকাল চপ আর কাটলেটেরা। এইজন্যই তো কবি বলেছেন... মানে নিশ্চয়ই কিছু বলেছেন। পরে মনে পড়লে লিখে দোব।
বেশ কয়েকটি ট্রেন্ড আছে এই ‘নতুন খাব, দেদার খাব’ বিবর্তনের। আজ দুটোর কথা বলি।
একটা তো ফিউশন, অন্যটি অথেন্টিক।
ফিউশন নাম নিয়ে কনফিউশন? আমার তো নিজেরই একটু ধন্দ আছে। আমার তো মনে হয় হাইব্রিড কথাটা বেশি কাছের। সে যাকগে, পাত্রাধার তৈল না তৈলাধার পাত্র, সে নিয়ে আর তক্কো করে কী হবে? পাবলিক যখন খাচ্ছে—মানে নাম এবং খাবার—তো সেটাই বহাল থাকুক। গোদা বাংলায় ব্যাপারটা হাঁসজারু। খুব কঠিন ভাবে বলতে গেলে আত্মীকরণ। যাকগে, আপনারা তো সবাই জানেন ব্যাপারটা কী, আমি খামোখা এককথায় প্রকাশ করতে ব্যস্ত হই কেন?
তাই রাস্তায় ‘অন্ধ্র স্টাইল চাইনিজ ফুড’ দেখলে, আগে ভাবতাম ইয়ার্কি মারছে কেউ। কিন্তু এখন সেটা খুব ন্যাচারাল ব্যাপার। ‘বেঙ্গালুরুতে বাঙালি চাইনিজ ফুড কোথায় সবচে’ ভালো?’ এই প্রশ্ন করলে সঠিক উত্তর পাবেন। কেউ হতভম্ব হয়ে যাবে না। তাই স্বচ্ছন্দেই মেনুকার্ডে স্থান পায় গোবি মাঞ্চুরিয়ান আর চিলি পটাটো। ‘ইন্দো-চাইনিজ ফুড’ স্বমহিমায় নিজের জায়গা করে নেয় খাওয়ার ঘরানার লিস্টে।
হ্যাঁ, বাড়াবাড়ি তো হয়ই। ঠাট্টা করে বললেন, ‘হি হি হি, সেদিন একজন চাউমিনের পায়েস খাওয়াল, হো হো’ বলে নিজেই হেসে গড়িয়ে পড়তে গিয়ে দেখলেন এক প্রাজ্ঞ ব্যক্তি গম্ভীর হয়ে বলছেন, ‘আমিও বানাই ওটা, তবে হ্যালোপেনো কম দিই’।
কাঁঠালের আমসত্ত্ব আমরা জানতাম একটি প্রবাদবাক্য মাত্র। ইকুয়াল টু সোনার পাথরবাটি। কিন্তু এখন আর নয়। কাঁঠালের বিরিয়ানি তো দিব্বি চলে। বেঙ্গালুরুতে বড়ো স্ট্রিটফুড চেইন ‘নাইনটিনাইন ধোসা’। তাতে ধোসার মধ্যে যা ইচ্ছে তাই (ম্যাগি, কিমা, কলা, আলুপোস্তো... এনিথিং) ঠেসে দিয়ে ৯৯ টা ভ্যারাইটি হাজির। লোকে খায়ও বিস্তর। কলকাতায় দেখলাম ওই মতনই এক দোকানে ৯৯ ধরনের রসগোল্লা আছে। নলেন গুড়ের রসগোল্লা তো সুপারহিট। স্ট্রবেরি, আম, ভ্যানিলা, গন্ধলেবু, এমনকি ভদকা ফ্লেবার্ড রসগোল্লাও দিব্বি চলে।
না, মনু থাকলে তো খুশি হতেনই না এইসব অনাছিষ্টি কাণ্ডে, পাণিনিও না। কিন্তু এখনকার ছেলেছোকরারা বলবে এ সব হচ্ছে ডিকন্সট্রাকশান। কোন্ এক সাহেব নাকি বলে দিয়েছেন আগেই। না, না আমাদের মার্কস বাবু নন। যদিও উনিও অ্যান্টিথিসিস, সিনথেসিস এইসব কী সব জানি বলেছিলেন। সে অন্য এক সাহেব। তা আমাদের বিশ্বকবিও তো বলেছেন ‘দিবে আর নিবে, মিলাবে মিলিবে’… হ্যান ত্যান। আর সত্যি বলতে কি দু-একটা পদ খেতেও কিছু খারাপ হয় না।
তো এই যুগাবতারের শেষে হুজুগবতারের কল্পে এই ট্রেন্ডের শেষ কোথায়কে জানে? মালপোয়ার কালিয়া নাকি পিৎজার নাড়ু? সে যাই হোক, আমি তো আপত্তির কিছু দেখি না। পাবলিকে খেলে—চলবে।
তো, আপতত এই রান্নাটা খেয়ে দেখুন। এটার রেসিপি এতই সামান্য যে এটাকে রেসিপি না বলে টেসিপি বলতে পারেন।
১. ফুলকফির ছোটো ছোটো টুকরো, টম্যাটো আর আলুও অমনি, হলুদ আর নুন ছিটিয়ে, কাঁচালঙ্কার কুচি দিয়ে, মটরশুঁটির সাথে একত্তর করে সরষের তেল দিয়ে চটকে মটকে মেখে একটা ঢাকনাওলা কড়াইতে দিয়ে দিন। ননস্টিক হলে তো কথাই নেই।
না আর ২ নেই। ব্যাস। এটাই রেসিপি।
এইবারে গ্যাসে বসিয়ে দিন। মাঝে মধ্যে উঁকি মেরে দেখুন সেদ্দ হল কি না। শেষের দিকটায় একটু ধনেপাতাও দিন। আর কিছু না। খেয়ে দেখুন, জমল কি না?
আর-একটা কথা, আমি সব তরকারিই মিনিট দুই-তিন ‘ব্লঞ্চ’ করে নেই। করোনাকালে এ তো খুবই স্বাস্থ্যসম্মত বিধি, তা ছাড়াও, আমার মতে ওতে টেস্টও খোলে।
বেশ। এইবারে আসুন ‘অথেন্টিক’ কুইজিনে।
অথেন্টিক ব্যাপারটাই বেশ গোলমেলে। এখন যেটা আপনার চোখে ফিউশন বা বিভ্রাট মনে হচ্ছে আগামী দিনে সেটাই হবে অথেন্টিক।
এই চাইনিজ ফুডই দেখুন। ‘ট্যাংরা স্টাইল চাইনিজ’ খাওয়ায় আপনি যদি আপত্তির কারণ খুঁজে পান তো একটু সবুর করুন, শিগগিরই দেখতে পাবেন ‘অথেন্টিক ট্যাংরা স্টাইল চাইনিজ’ খাবারের বিজ্ঞাপন। সিনেথেসিসের একেবারে হদ্দমুদ্দ।
আসলে শুধু খাওয়ার পদই শুধু নয়, আমাদের চিরকালীন খাওয়ার যেটা চল আছে সেটা যাবে কী করে? আমরা ছোটোবেলার থেকেই তিন চাট্টে মাংসের টুকরো আর এক বাটি ঝোল দিয়ে দিব্বি এক কাঁসি ভাত সাঁটিয়ে ফেলি। অথেন্টিক চিনা খাবারেও এই সিস্টেমই চালাতে হয় আমাদের। তাই একথালা ফ্রায়েড রাইস বা নুডল, গোটা চারেক চিলিচিকেনের টুকরো দিয়ে (উইথ গ্রেভি, মাইন্ড ইট, উইথ গ্রেভি) উড়িয়ে দেই আমরা স্বচ্ছন্দে। নিকুচি করেছে চিনাদের অথেন্টিক খাবার এস্টাইল। আমরা তাই ভাত আর মাংসের ঝোলের পরম্পরাই মেনে চলি, চিনা কুইজিনেও।
চিরস্থায়ী হলে, তবেই তো অথেন্টিক। তো বহমান জীবনের কোন্টাই বা পার্মানেন্ট? নাচ, গান, ভাষা—সবই তো বদলে যায়। অথেন্টিক কথাটাও, তাই কালনির্ভর। আ মরি বাংলা ভাষা—সে মঙ্গলকাব্যে যা ছিল, পরে রামমোহন, বঙ্কিম, রবিবাবু, কল্লোল যুগ থেকে একেবারে রিসেন্ট ডিডি (আমি নিজের কথাই কইলাম, হেঁ হেঁ হেঁ), সবাই কি আর একই ভাষা বলেন? এর মধ্যে তাহলে অথেন্টিক বাংলা কোন্টি? উত্তর হচ্ছে—সব ক-টিই, যদি ভাষার সাথে সেই সময়টাকেও যোগ করে দেওয়া যায়।
তাও, লোকে চেষ্টা করে। কারণ মানুষের হাতে সময় ও টাকা, দুটোই প্রচুর।
যাকে বলে রেপ্লিকেট করা। ইতালিয়ানরা এখন যেরকমভাবে মিলানে বসে পিৎজা খাচ্ছেন, সেটাই তালতলায় বসে তৈরি করা।
যেমন ধরুন আমার ভাগ্নে। কলকাতার এক বিজ্ঞানী। আবার ইতালির কোথায় জানি ভিজিটিং প্রফেসর। কয় মাস পর পরই যায়। খুব রান্নার শখ। তার পাস্তা বানানো দেখে আমার এক্কেবারে আক্কেল গুড়ুম।
সে চিজই দেয় তিন রকমের—মোজরেল্লা, চেডার আর গরগনজোল্লা। সবই আমদানি মাল। পাস্তা, সস আর তেলের তো কথাই নেই, এমনকি টমেটো পেস্ট, মাশরুম, প্যাঁজ, অলিভ—সবই কৌটোবন্দি হয়ে এসেছে ইতালি থেকে। রোদে শুকানো টমেটোও।
সে সগর্বে আমায় দ্যাখায় তার রান্না উপাচার। আমি হাঁ হাঁ করে উঠি। ‘ও কী, ও কী? অমন ডুরুমগমের পাস্তা, স্রেফ কলকাতার জলেই সেদ্দো করেছিস?’ ভাগ্নের মুখ ফ্যাকাসে হয়ে ওঠে, চোখ ছলছল করে। অস্ফুটে বলে ‘কিছু কমপ্রোমাইজ তো করতেই হয় গো, মামু’।
খেয়ে দেখি, যেমন ভেবেছিলাম সেরকমই, নিশ্চয়ই খুব অথেন্টিক পাস্তা হয়েছে, কিন্তু তেমন টেস্টি হল কই?
আসলে দেশে বসে বিদেশের রান্নাতেও একটা স্নবারি এসে গেছে। কে কীরকম দুষ্প্রাপ্য জিনিস এনে একটা ‘ক্যামন দিলাম’ গোছের ভাব দেখাতে পারে সেটাই মুখ্য উদ্দেশ্য। কীসের জন্য এই ‘অথেন্টিক’-এর জন্য ক্ষ্যাপামি?
হ্যাঁ, এইবারে মনে পড়েছে, কবি তো বলেইছেন ‘তোমার পূজার ছলে তোমায় ভুলেই থাকি’। রবি ঠাকুর ছাড়া, সত্যি, রেসিপিও লেখা যায় না।
আচ্ছা, এবার একটা রেসিপি দেই। ইটিও ভেজেটারিয়ান, কিন্তু খেয়ে দেখবেন কীরকম একটা নবাবি ভাব এসেছে। ভিগানরা খুশি হবেন, জাতে নিরামিষ হলেও চরিত্রে একটা ‘মাংস মাংস’ ভাব এসে গেছে।
ভালো কথা, আমি লিখছি বিন্স, সে তো ঠিক আছে। কিন্তু এটি কোন বিন্স? দেখুন, ইংরেজিতে বলে গ্রিন বিনস। সেটাকে আপনারা কোন্ নামে ডাকেন, সে তো জানি না। ‘Green beans’ বলে গুগলে ইমেজ সার্চ করে দেখুন, তাহলে হদিশ পাবেন।
১. একটু নুনের ছিটা দিয়ে ঘিতে সাঁৎলে নিন বিন্সগুলি। দুমিনিট নেড়ে চেড়ে সরিয়ে রাখুন।
২. এবার কড়াইতে আবার ঢালুন ঘি, ছোটো এলাচ আর মৌরীর ফোড়োন দিন।
৩. আদা, রসুন আর কাঁচালঙ্কা দিন।
৪. পেঁয়াজ (আমি বেটে দেই)।
৫. টম্যাটো (কুচিয়ে) আর নুনটা দিয়ে দিন।
৬. গুঁড়ো গরমমসল্লা + লাল লঙ্কাগুঁড়ো + ধনে গুঁড়ো + হলুদ
৭. এবারে বিনগুলো ঢেলে দিন।
৮. জল দিয়ে, ঢাকা দিন। মিনিট পাঁচেক পর ধনেপাতা দিন। আবার ঢাকনা দিয়ে রান্না করুন কম আঁচে যতক্ষণ না মর্জিমতন সেদ্দো হচ্ছে চাপা দিয়ে রাখুন।
আমি যে পাকামিটা করি, সেটা হচ্ছে ওই গরম মশলার বদলে বিরিয়ানি মশল্লা দিয়ে দেই। তবে আপনাদের ভাবাবেগে ব্যথা লাগলে এমনি সাধরণ মশল্লাই দিয়েন।
আর, এটা তো নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন আমি ওইসব ছেঁদো মেজারমেন্টের মধ্যে যাইইনি। আরে, আপনারা সব পাকা খেলুড়ে, যাকে বলে বিদগ্ধজন, আপনাদের ওইসব তুচ্ছ ডিটেইল্স দিয়ে অশ্রদ্ধা করতে, কেমন কেমন লাগে!
ডিডি ডিডি চোখ বন্ধ করে ভরসা করা যায়।
আহা কাঁচালঙ্কার রসগোল্লাও হয়

b | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৫:৪৪97601ডিডি। আপ নেহি তো গুরু নেহি।
‘ব্লঞ্চ’ | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৯:৪২97613পাকা খেলুড়েদের কাছে জানতে চাই ‘ব্লঞ্চ’ কি করে করে?
বাদশাহি বিন্স | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৯:৪৫97614এর মধ্যে রসগোল্লা কুচি করে দিলে হয়?
kk | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২০:০৬97615এই লেখাটা পড়ে আমার খুব মন ভালো হয়ে গেলো। এটা সিরিজ তো? চলতে থাকবে তো? ফুলকপির হাইকুর মত শুধু ১) আর দুই নেই হয়ে যাবে না আশা করি!
ইয়ার্কি না, আমি একবার পিত্জার নাড়ু বানিয়েছিলাম, সত্যি! ঠিক নাড়ু না, বড়া। আর খিচুড়ির পাকোড়া।
ওটাকে বাংলায় বলে অল্প করে ভাপানো। য়হিক সেদ্ধ নয়। ডিডিদাদা কিনা সায়েবি তাই ব্ল্যাঞ্চ করেছেন
আরে আমি ভাত বা ফ্রায়েড রাইসের বড়া মাঝেসাঝেই বানাই। বেশীরকম বাড়তি হয়ে গেলেই বানাই।
ডিডিদার এই দুরদান্ত রেসিপির সংগে নেট থেকে নেওয়া ফটো ঠিক জমচে না। আঁকা ছবি থাকুক এক্টু কার্টুন সহ, তবে না!!
ডিডিদা নিজে রেঁধে ছবি দিলেও মন্দ হয় না।
Foodie | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২১:৫৪97624ওব্বাবা। নিজে রেঁধে ছবি না দিলে রেসিপি ডিসকোয়ালিফায়েড। নেটের ছবি কিভাবে রেসিপি সেকশনে একসেপ্টেড হয়? ডিডি নিজে না হলেও তাঁর বাড়িতে তো টেকনিক্যাল ব্লাকবেল্ট কেউ কেউ আছে নাকি?
ডিডিদার রেসিপির যেটা ইউএস্পি বলে আমার অন্তত মনে হয়, তা হল ফিকশনাল ডিভাইসের ব্যভার, যা কিনা রেসিপি লেকায় সচরাচর হয় না। যে পাঠক নুন আর তেল মেপে না নিয়ে বেগুন রাঁধতে পারেন না, তিনি পড়তে গিয়ে এক্টা ডিসবিলিফে ভুগবেন, যে এটা রেসিপি না রেসিপি নয়? এরম করে হয় নাকি? কিন্তু লেখায় মজে পড়ে যাবেন।
ফটোগ্রাফ দিলেই এই উইলিং সাসপেনশন্টি মাঠে মারা যাবে। এক্টু কমিকাল, রংচঙয়ে আঁকা ছবি এর উপযুক্ত সংগত। ব্যক্তিগত মতামত।
Foodie | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২২:১৯97626আচ্ছা, লেখার মাঝে আঁকা ছবি থাক, কিন্তু ফিকশন লেখা শেষে তো লোককে রাঁধার কনফিডেন্সটা দিতে হবে? সব শেষে এক কপি ফোটো ও থাকুক?
ফুডির জন্য | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২২:৫৭97627হলদে পাখির পালক পড়বেন, বেশ লেখা
hu | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২৩:০০97628খুশি হয়ে গেলাম লেখাটা পড়ে। সিরিজটা যেন চলে। আর একক-বাবুকে ক দিলাম। হাতে আঁকা ছবি চাই। শুরু হোক ডিডি-হুতোর যুগলবন্দী।
হ্যাঁ। হুতোকে আঁকতে হবে। ওটাই বেস্ট অপশন।
সম্বিৎ | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০২:১৮97636এ বাওয়া, ডিডিদা ঘটি বাড়ির বাটি চচ্চড়ির অল্প অনুপান বদলে মিনিমালিস্ট ফুলকপি চালিয়ে দিল।
আমাদের মতন অভাগাদের কথা আর কী বলব, কিন্তু লেখা তো নয় যেন মুক্তোর মালা!
অরিন | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০২:৪৬97637বেজায় ভাল লেখা!
তবে শেষের রেসিপিতে ভেগানদের স্বার্থে, ইয়ে, মানে, ঘি এর জায়গায়, নারকেল তেল দিতে বলতে পারেন। তার পর অবিশ্যি কি হবে জানি না।
i | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০৩:০২97638প্রিয় ডিডি,
স্বাদু স্বাদু !
Atoz | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০৩:১২97639অপূর্ব ! সাধে কি আর ডিডি কই ডিডি কই করে বেড়াই ? :-)
dc | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০৬:৪৬97641কতোদিন বাদে ডিডিদার লেখা পড়লাম! আজ দিনটা ভালো যাবে :-)
একক আর পিনাকি বাবুর সাথে একমত, ডিডিদার লেখায় r2h এর ছবি চাই।
dd | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০৮:২৩97643ও হো। সেই লিখতেই হলো।
আচ্ছা, আপনেরা অ্যাতো ছোবি চাই ছোবি চাই করেন ক্যনো ? নাম সই দেখেও আশ মেটেনা, ছবিও চাই? আমি কি তালমিছরি?
আর এ তো আর কেক পেস্ট্রী পুটিং নয়, যেগুলো দেখতেও দারুন আর অনেকের কাছেই অজানা। তাই ছবি খুব জরুরী। আর আমি সে তরকারীকে "মানকচুর শকুন্তলা" বা "ঢ্যাঁঢ়শের আলেকজান্ডার" যাই ই বলি না কেনো, ব্যাপারটা তরকারীই থাকে। সে সবের ছবি দেখে করবেনটা কী?
মাঝে মধ্যে রবি ঠাকুরও তো পড়তে পারেন, "উহারা অন্তরের সৌন্দর্য্যের চাহিতে বহিরংগের আভরণ বেশী পছন্দ করে। উহারা দাড়ি দেখিয়া প্রাবন্ধিকের, ভুঁড়ি দেখিয়া রাজনৈতিক নেতার, গোঁপ দেখিয়া হুলোব্যারালের আর ছবি দেখিয়া রেসিপির তূল্যমূল্য বিচার করিতে চান "।
dd | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০৮:২৫97644এবং যে রেসিপি গুলি দিয়েছি এবং ভবিষ্যতেও দিবো, তাদের একটিও আমার "আবিষ্কার" নয়। সবই সংগৃহীত। সেরকমই থাকবে। কারুর জানা, কারুর অজানা। আমি শুধু ধরতাই দিবো।ব্যাস।
lcm | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০৮:৩২97645ইয়েস্স্স্স্স্স্ !
lcm | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০৮:৩৬97646ডিডি - বাকিসব লেখাপত্তর -
https://www.guruchandali.com/writers.php?forum=4&name=%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%A1%E0%A6%BF
Du | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০৯:১৯97649ডিডি দা জিন্দাবাদ
আমিও ডিডির লেখায় গুতোর ওঈ উপরের কার্টুন ছাড়া আত কিছুই দেওয়ার বিপক্ষে। ম্যাগাজিনেও ডিডির কিচাইন হুতোর কার্টুন দিয়ে বেরত বরাবর। আর লোগোও বানানো হয়েছিল ডিডির কিচাইনের জন্য।
এককের কথায় ক্ক। রিপিট করলাম না। আর ডিডির কিচাইন যতটা ফুডিদের জন্য, ঠিক ততটাই নন-ফুডিদের জন্যও। এর মধ্যে সত্যিকারের রান্নার ছবি পড়ল ডিডির কিচাইনেের ফ্লেভারটাই চটকে যায়।
হ্যাঁ হ্যাঁ আমিও আমিও একক পাই হুচিদের ক্ক'য়ে ক্ক। আসলেই এই ছবিদুটোও ভ্হাল লাগছে না।
'গুতো'!? মানে গুঁতো? :-)))
বিষাণ বসু | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১০:০৫97653DD লিখছেন। ব্যাস, এর বেশী আর কিছুই চাওয়ার নেই।
লিখবেন, অনেকদিন থেকেই এ আশায় ছিলাম। এবং আশায় থেকে ভুল করিনি, এটুকু ক্লিয়ার। আরো লিখবেন, এই আশা রইল।
বাকি বিষয়গুলো নিয়েও লিখবেন, বিশেষত ছবিছাবার অভিজ্ঞতা একান্ত নিজের স্টাইলে এই দাবী জোরগলায় জানানো রইল।
আর হ্যাঁ, এই লেখার সাথে সায়নের অলঙ্করণ থাকুক - একান্ত নিজের স্টাইলে। এমন লেখার সাথে ইন্টারনেট থেকে নামানো ছবিটা বড্ডো ফিউশন-ধর্মী হয়ে যাচ্ছে - আমার আবার ওতে বড্ডো পেট কামড়ায়।
ম | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৯:০৪97667দীপ্তেন্দা একবছর হতে চললো কিন্তু, কথা দিয়েছিলে। অপেক্ষা করতে করতে পায়ে ঝিঁঝিঁ ধরে গেলো যে
লেখাটা নিয়ে ওপরে সবার সংগে "ক" দিলাম।শুধু একটাই জিজ্ঞাসা আজকাল কি গোলমরিচ টাকে ধনেপাতা দিয়ে রিপ্লেস করেছো? :-)