এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • দুনিয়াদারীর টুকিটাকি ৩৩ : অন্য এক ইস্রাঈলের গল্প (পর্ব ১৭ )

    Debanjan Banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ২২ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪৭ বার পঠিত
    1. রোমে এসেছেন ফিলিপ ও অ্যান্টিপেটার l ফিলিপ অবশ্য আগেও অনেকবার এসেছেন সিরীয় লেভান্ট বণিক মহাসঙ্ঘের কাজ নিয়ে রোমের সেনেটর, জেনারেল আর অন্যান্য অভিজাতদের সঙ্গে কথা বলতে l কাজেই রোম তার কাছে নতুন কিছুই নয় l কিন্তু অ্যান্টিপেটার ইয়ানাইয়ের শাসনের পরে আর সেভাবে জুডিয়ার বাইরে যাবার সুযোগ পাননি l তার গুরু আরনের সঙ্গেই প্রথমবার এসেছিলেন তিনি এখানে l সেসময়ের সেই রোম শহরটা খুবই মনে পড়ে অ্যান্টিপেটার এর l তারপরে ইয়ানাইয়ের সঙ্গে রাজনীতিতে অনেক গভীরভাবে জড়িয়ে পড়বার পর থেকেই আরো কয়েকবার আসতে হয়েছে তাকে | তখন ইয়ানাইয়ের প্রয়োজনে তাদের নিজের যোগাযোগ বাড়াবার প্রয়োজন হয়েছিলো রোমের কিছু রাজনীতিক বা বণিক বা জেনারেলদের সঙ্গে | দুজনে রোমে এসেছেন কয়েকদিন মাত্র হলো l জাহাজে করে এখানে পৌঁছতে প্রায় একমাস লেগেছে তাদের l রোমের কিছু গুরুত্বপূর্ণ মানুষের সঙ্গে তাদের কথাবার্তা আছে l রোমের বর্তমান রাজনীতি, জুডিয়ার সম্রাজ্ঞী সালোমের শাসন, অ্যান্টিপেটার এর ইদুমিয়ার স্বার্থ, ব্যবসাবাণিজ্য বিশেষ করে রেশমপথের বাণিজ্য এসব নিয়েই আলোচনা হবে l তারা প্রত্যেক দিনেই সকালে এরকম বেড়াতে বেরোন দুজনে মিলে l এখন তারা যে রাস্তা দিযে হাঁটছেন সেটির নাম ভায়া আপ্পিয়া l এই সড়ক পথটি ধরেই দক্ষিণ ইতালীয় উপকূল থেকে রোমে ঢুকতে হয় l এই পথে আগেও বেশ কয়েকবার এসেছেন তারা দুজনেই l সাধারণতঃ বিদেশী বণিকেরা বা রোমের বাইরের অন্য প্রদেশগুলো থেকে মানুষ এই পথেই রোমে ঢোকে l রোমের অজেয় সেনাদের যুদ্ধযাত্রা করতেও হয় এই পথেই l তাই সবসময়েই দোকানপাট লোকজনে গমগম করে এই রাস্তা l কিন্তু অন্যবারের থেকে এইবারের পার্থক্য হচ্ছে যে দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছে যে দোকানপাটের সংখ্যা আগের থেকে অনেকটাই কম l রাস্তায় বেশ কয়েকজায়গাতে অনেক সেনা মোতায়েন আছে l বেশ কয়েকজায়গাতে আগাছা জন্মে গেছে l তবে যেটা সবচেয়ে চোখে পড়ছে অ্যান্টিপেটারের সেটা হচ্ছে যে রাস্তায় দু পাশেই মাঝে মাঝেই লম্বা লম্বা ক্রুশ পোঁতা l ক্রুশগুলোর নিচে কোথাও সমাধীর মত আছে, আবার কোথাও কোথাও যেন দুয়েকটা হাড়গোড় চারদিকে ছড়িয়ে আছে, বেশ কয়েকটা ক্রুশ অবশ্য খালি l হাঁটতে হাঁটতে এবারে একটা খুবি বড় ক্রুশের সামনে এসে দাঁড়ালেন দুজনেই l এই ক্রুশটা অন্য গুলোর থেকে একটু আলাদা কেননা ক্রুশের নিচে একটা সমাধিবেদি স্থাপিত করে সেখানে কিছু ফুল ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে l ফিলিপ ও অ্যান্টিপেটার বেশ কিছুক্ষন ধরে হাঁটতে হাঁটতে যাচ্ছিলেন ভায়া আপ্পিয়া ধরে l ফিলিপের মনে একটা প্রশ্ন অনেকক্ষন ধরেই ঘুরছিলো এবার তিনি সেই প্রশ্নটা করেই ফেললেন l “অ্যান্টিপেটার, আমরা অনেকদিন ধরেই দেশছাড়া l আমি একজন ব্যবসায়ী, ব্যাবসার কাজে বা আমাদের লেভান্ত বণিক মহাসংঘের কাজে আমি যতদিন খুশী রোমে থাকতেই পারি কিন্তু আপনি তো জুডিয়ার অন্তর্গত করদ রাজ্য ইদুমিয়ার আঞ্চলিক শাষক তারপরে বর্তমানে জুডিয়ার সম্রাজ্ঞী সালোমে আলেক্সান্দ্রার সঙ্গেও আপনার বিশেষ সদ্ভাব নেই l তবে এতোদিন ধরে আপনার রাজ্যের বাইরে থাকা কিন্তু ভবিষ্যতে আপনার জন্যেই না সমস্যা সৃষ্টি করে ! “ অ্যান্টিপেটার কিছুক্ষন চুপ করে থেকে বললেন যে, "ফিলিপ আপনি ঠিকই বলেছেন যে উপস্থিত জুডিয়ার সম্রাজ্ঞী সালোমে আলেক্সান্দ্রার সঙ্গে আমার বিশেষ সদ্ভাব নেই l আমাকে ইদুমিয়ার আঞ্চলিক শাসক নিযুক্ত করে তিনি আমাকে একরকম নির্বাসনই দিয়েছেন জেরুসালেম থেকে l কিন্তু উপস্থিত আমার অনুপস্থিতিতে নতুন কোনো সমস্যার সম্ভাবনা অনেকটাই কম l তার একাধিক কারণ আছে অবশ্য l প্রথমতঃ এবছরে বর্ষা খুবই ভালো হয়েছে তাই ফসলও খুবই ভালো হয়েছে এবারে l জেরুসালেমের খবর যে এবারে গমের ফসল এতোই ভালো হয়েছে যে গমের দানাগুলো মানুষের কিডনীর থেকে বড় হয়েছে, বার্লির ফসলটাও এতোই ভালো হয়েছে যে একটা বার্লির দানা অলিভের থেকেও বড় হয়েছে আর অলিভের ফলন এতোই ভালো হয়েছে যেমন মোজেস, রাজা দাভিদ আর সলোমনের সময়ে হতো l তাই মানুষের পকেটে সোনার দীনার উপচে পড়েছে আর মুখে সবার হাসি l ফারিসীদের তাই ইদুমিয়ার মরুভূমির দিকে একেবারেই নজর নেই এখন l দুই নম্বর কারণ হচ্ছে যে, সম্রাজ্ঞী নিজেও জানেন যে তার পরেই তার দুই ছেলে হিরকানুস ও আরিস্টোবুলুসের মধ্যেই জেরুসালেমের এই সিংহাসনের জন্যে বিবাদ লাগবে l আমিও ইতিমধ্যেই দুইজনের সঙ্গেই যোগাযোগ করেছি দুইজনের কাছেই নানান উপহার পাঠিয়েছি l দুইজনের কাছেই নিজেকে বিশ্বাসী আর কাজের লোক করে তোলবার চেষ্টা করেছি l কাজেই স্বয়ং সম্রাজ্ঞী সালোমে আলেক্সান্দ্রা যদি ফারিসীদের কথায় আমার বিরুদ্ধে কিছু করতে চান তাহলেই তার দুজন ছেলেই আমাকে আগে থেকে খবর দিয়ে দেবে আর আমি তখন জুডিয়া ছেড়ে রোমে পালাব l তবে উপস্থিত সেইরকম কিছুর সম্ভাবনা নেই বলেই এখানে আসবার আগে জেরুসালেম থেকেই খবর পেয়েছি l এতোক্ষন কথা বলে থামলেন অ্যান্টিপেটার l এইবার ওই ক্রুসগুলোর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন ফিলিপকে, "আচ্ছা এই এতোগুলো ক্রুসের এখানে থাকবার কারণ কি ?" এবার ফিলিপ নিজে আরো কিছুক্ষন চুপ করে থেকে বলা শুরু করলেন, "এসব গত বছরেরই ঘটনা l আপনি তো এর আগে দুয়েকবার রোমে এসেছেন অ্যান্টিপেটার l আপনি তো জানেনই যে এখানকার এমফিথিয়েটারে ক্রীতদাসদের যুদ্ধের ট্রেনিং দিয়ে গ্ল্যাডিয়েটর নাম দিয়ে একে অন্যের সঙ্গে লড়ানো হয়ে থাকে l যুগের পরে যুগ ধরে রোমের মানুষ এসব দেখেই চরম মজা পায় আর হয়তো এভাবেই তারা নিজের চরম অশান্ত বাস্তবকে ভুলে থাকতে পারে l সারা পৃথিবী থেকেই দাস ধরে আনা হতো এখানে l তা কয়েক বছর আগে থ্রেস থেকে এরকমি একজন দাস এসেছিলো, লোকে বলে তার নাম স্পার্টাকাস l অন্য অনেক দাসের সঙ্গে তাকেও পাঠানো হয় গ্ল্যাডিয়েটর তৈরির আখড়া কাপুয়াতে l সেখানেই অন্য দাসদের সঙ্গে তাকেও ট্রেনিং দিয়ে গ্ল্যাডিয়েটর বানানো হয় এবং কলোসিয়ামে পাঠানো হয় লড়াই করবার জন্যে l কিন্তু সেখানে লড়তে লড়তেই কিভাবে যেন পাল্টে যায় স্পার্টাকাস l কাপুয়াতে ফিরে গিয়ে অন্য গ্লাডিয়েটরদের সঙ্গে একটা দল জুটিয়ে সব কটা রোমান ট্রেনার আর পাহারাদারকে মেরে ফেলে তারপর এই দাসেরা একটা মুক্তরাজ্যের স্থাপনা করে যেখানে আর কোনো দাস থাকবেনা আর কেউ কখনো কাউকে গ্ল্যাডিয়েটর বানাতে পারবেনা l এই কাজে তাদের সাহায্য করে রোমের প্রতিদ্বন্দ্বী সিলিসিয়ান জলদস্যুরা l ওদের মাধ্যমেই এই দাসদের কাছে বাইরের দুনিয়া থেকে অস্ত্র আর রসদ আসতো l এখন আপনি তো জানেন রোমের সমৃদ্ধির পিছনে বড় ভূমিকা এই দাসদের থাকে l এরাই তো মাথার ঘাম আর রক্ত ঝরিয়ে চাষ করে আর মার্বেলের খনিতে কাজ করে l স্পার্টাকাসের এই মুক্তাঞ্চলের খবর রোমে পৌঁছতেই সমগ্র রোম রাজ্য থেকেই দাসেরা স্পার্টাকাসের দলে যোগ দিতে থাকে l এতে আস্তে আস্তে বাড়তেই থাকে স্পার্টাকাসের ক্ষমতা l এরপরেই শুরু হয় রোমের সঙ্গে এই মুক্ত হওয়া দাসরাজ্যের সংগ্রাম l অনেকগুলো যুদ্ধ হয় রোমের সঙ্গে স্পার্টাকাসের দাসবাহিনীর l শেষের দিকে রোমের সবচেয়ে বড় ধনী সেনেটর মার্কাস ক্রাসাস এক বিশাল সৈন্যদল নিয়ে চূর্ণবিচূর্ণ করেন এই দাসবাহিনীকে l তবে যুদ্ধক্ষেত্রে স্পার্টাকাসকে জীবিত বা মৃত ধরা যায়নি l এই ভিলা আপ্পিয়ার দুধারেই এই যে ক্রসগুলো দেখছেন এখানেই প্রায় ৬০০০ দাস বিদ্রোহীকে ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করেন ক্রাসাস l এভাবেই দাস বিদ্রোহ চূর্ন করলেও এই যে ক্রুসগুলো দুইধারে দেখছেন এগুলো এখনো সেই স্পার্টাকাস আর দাস বিদ্রোহীদের স্মৃতিকে বয়ে নিয়ে যাচ্ছে l " এইবার ফিলিপ আর অ্যান্টিপেটার দুজনেই বেশ কিছুক্ষন ধরে তাকালেন ওই ক্রুশগুলোর দিকে l ওরা যেন বলছে, দেখো দেখো তোমরা যাঁরা পৃথিবীর মানুষ আমরা মরে গিয়েও মরিনি, আমরা স্বাধীন ভাবে পৃথিবীতে এসেছিলাম, ভাগ্যের বিপর্যয়ে আমাদের দাস বানানো হয়েছিলো, কিন্তু আমরা দাস হয়ে মরিনি, আমরা স্বাধীন ভাবে যুদ্ধ করে বীরের মৃত্যু বরণ করেছি l মৃত্যু আমাদের মুছে দিতে পারবেনা l. References. ১। হীরেন সিংহরায়, “ইহুদী রসিকতা”, গুরুচণ্ডালী ২। হীরেন সিংহরায়, “পবিত্র ভূমি”, গুরুচণ্ডালী. ৩ l সত্যেন সেন, “অভিশপ্ত নগরী” ৪ l সত্যেন সেন, “পাপের সন্তান” ৫ l আব্দুল্লাহ ইবনে মাহমুদ, “ইহুদী জাতির ইতিহাস” (প্রথম ও দ্বিতীয় খন্ড ). ৬ l flavius josephus, “antiquities of the Jews” ৭ l flavius josephus, “the Jewish war” ৮ l Par Lagerkvist, “Herod and Mariamne” ৯ l Friedrich Hebel, “Herod and Mariamne : a play in five acts”. ১০ l Kenneth Atkinson, “A history of the Hasmonean State” ১১l Czajkowski and Eckhardt, “Herod in History” ১২ l Tal Ilan, “Silencing the Queen : a deeper study on Salome Alexandra” ১৩ l Howard fast, "Spartacus"

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Manali Moulik | ২২ অক্টোবর ২০২৬ ২২:৩৫743407
  • অপূর্ব লাগলো। আগ্রহ নিয়ে পড়ছি। স্পার্টাকাসকে নিয়ে Howard Frost এর লেখা বইটার সঙ্গে পরিচয় ছিলো না। স্পার্টাকাসের এই বিদ্রোহকে কার্ল মার্কস স্বয়ং প্রাচীন যুগের দাসব‍্যবস্থার প্রথম বিপ্লব (লোকোমোটিভ ফোর্স অফ হিষ্ট্রি) বলে উল্লেখ করেছেন। ক্লাস ইলেভেনে স্কুল ম‍্যাগাজিনে দেড় পাতার প্রবন্ধ লিখেছিলাম স্পার্টাকাসকে নিয়ে। বেশ সুন্দর লাগে এই পর্বটা
  • Debanjan Banerjee | ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৩৬743410
  • অনেক ধন্যবাদ মানালী l আসলে হাসমোনিয়ানদের ইতিহাস বলতে গিয়ে দেখছি এখন স্পার্টাকাসের বিদ্রোহ, সালোমে আলেক্সান্দ্রার শাসনকালের সমসাময়িক l
  • হীরেন সিংহরায় | ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:০৮743415
  • দেবাঞ্জন

    অনেক ধন্যবাদ। সেই সময়টাকে জীবন্ত করে তুলেছেন। কতকথা মনে পড়ে গেল ! আমার বাল্যকালে ঝরিয়ায় থাকার সময়ে বাংলায় স্পারটাকাস পড়েছি ; এখন বিশ্বাস হবে না এককালে বিদেশি বইয়ের কি অসাধারণ সব অনুবাদ হতো! ১৯৫১ সালে লেখা স্পারটাকাস বাংলায় পড়েছি ১৯৬০ সালে! স্টেফান তসয়াইগ পড়েছি বাংলায় ! ঝরিয়ার ইভনিং ক্লাব লাইব্রেরিতে কিছু না ভেবে হাওয়ারড ফাস্টের বইটি একদিন হাতে তুলে নিয়েছিলাম- রোম বা রোমানদের সঙ্গে সেই প্রথম পরিচয়। ভীষণ মন খারাপ হয়ে যায়। ফাস্টের আরেকটি বই ছিল লাইব্রেরিতে - আজাদি সড়ক ( দক্ষিণের সদ্য মুক্ত দাসেদের গল্প – ফ্রিডম রোড), তিনি অনেক ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখেন যেমন মাকাবি বিদ্রোহ নিয়ে মাই গ্লরিয়াস ব্রাদার্স, কিন্তু বাংলায় ঐ দুটোই পেয়েছি।কলকাতায় এসে ছয়ের দশকে ফড়েপুকুরের টকি শো হাউসে ছ আনার টিকিটের খাঁচায় লাইন দিয়ে দেখেছি স্ট্যানলি কুবরিকের স্পারটাকাস! নাম ভূমিকায় কারক ডগলাস।

    পাঁচের দশকে কমিউনিস্ট সমব্যথী হবার দাগ লেগে যায়। অ্যান্টি আমেরিকান অ্যকটিভিটির সন্দেহে হাওয়ারড ফাস্টকে অনেক জেরার সম্মুখীন হতে হয় – এ সেই সময় যখন একই অভিযোগে চার্লি চ্যাপলিন চিরতরে আমেরিকা পরিত্যাগ করেন।

    অনেক পরে কোন একটা আলোচনায় শ্রদ্ধেয় নিখিল সরকার ( শ্রী পান্থ ) বলেছিলেন স্পারটাকাসের দাস বিদ্রোহ ব্যর্থ হবার একটা বড়ো কারণ সংগ্রামী দাসেদের মনে সন্দেহ হয়েছিল ক্ষমতা পেলে স্পারটাকাস কি নিজেই একদিন আরেক সিজার হবেন ? আরেক প্রভু ?

    প্রসঙ্গত, রোমে গেলে সেই ভিয়া আপিয়া আন্তিকার গোড়ার সুরক্ষিত মাইল দশেক পথ দেখা যায়, সে রাস্তার ওপরে আছে কুও ভাদিস ( কোথায় যাচ্ছ ) গিরজে। সেন্ট পিটার একদিন ক্রিস্টিয়ানদের ওপরে রোমান অত্যাচার থেকে প্রাণ বাঁচাতে রোম ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, এই পথে তিনি দেখেন যেন উল্টো দিক থেকে প্রভু রোমে আসছেন, তিনি বললেন ‘কোথায় যাচ্ছ ?’।

    পিটার ফিরে এলেন রোমে, গিরজে বানালেন। বাকিটা ইতিহাস।

    কুও ভাদিস ছবিতে পিটার উস্তিনভ নেরোর ভূমিকায় অনন্য অভিনয় করেন।

    আমার বয়েসের মানুষদের সমস্যা হল বিশটা গল্প না করে একটা কথা বলতে পারি না !
  • Manali Moulik | ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৫:৫০743421
  • Manali Moulik | ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৫:৫৫743422
  • পিকচার কোয়ালিটি ভালো নয়। তবু সাহস করে সেই ছোটোকালে লেখা স্পার্টাকাস প্রবন্ধের একটা পেজ আপলোড করলামই।
    হীরেন স‍্যার, আপনার বলা প্রতিটি গল্প ভীষণভাবে আমাদের সমৃদ্ধ করে। আর এই প্রসঙ্গটি নিয়ে আপনার লেখাগুলি তো গুরুতে একেকটা মাইলষ্টোন। হাসমোনিয়ান ইতিহাস ও সমকালীন রোমান দাসবিদ্রোহের জীবন্ত ছবি এঁকে দেবাঞ্জনদাও খুব ভালো এগোচ্ছেন। আগ্রহ নিয়ে পড়ছি।
  • Debanjan Banerjee | ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৮:৪৪743424
  • হিরেনদা আর মানালী দুজনকেই অজস্র ধন্যবাদ l আপনাদের ভালোবাসাই এই লেখার পথে এগিয়ে চলবার পাথেয় l মানালী আপনার তো ছোটবেলা থেকেই লেখবার হাত বেশ ভালো l
  • Manali Moulik | ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ০০:০০743434
  • laugh
  • হীরেন সিংহরায় | ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ০২:০৩743436
  • মানালি
     
    ছবির কোয়ালিটি তো ভাল। পড়তে কোন অসুবিধে হলো না। সীমিত পরিসরে আপনি স্পারটাকাসের মূল সময়টাকে চমৎকার ধরে ফেলেছেন। যে কোন পাঠকের মনেই আগ্রহ জাগাবে আরো একটু বেশি জানার জন‍্য। রেকর্ড কিপিংএ রোমানদের জুড়ি ছিল না তাই কতো যে জানা যায় জানার আছে। গ্রিকরা অবশ্য এ বিষযে মাস্টার। আলেকজান্ডারের সঙ্গে সামান্য পরিচয়ের ফলে আমরা নাকি কালানু ক্রমিক ইতিহাস লিখতে শিখি। এর আগে ছিল না।
     
    গনতন্ত্রের পুরোধা আব্রাহাম লিংকনের গেটিসবারগ বক্তৃতা অতি খ‍্যাত সেই Govt of the people by the people for the people তাই তো ? লিংকন কোন পিপলের কথা বললেন ? সাদা পিপল? ৫০ লক্ষ কালো মানুষের কোন ভোটাধিকার ছিল না ( যদিও জ্ঞানেশ কুমারের ফিল্ডে নামতে দেরি আছে!)।
  • Manali Moulik | ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ১২:০৯743441
  • হীরেন স‍্যার, আমাকে 'আপনি' বলবেন না প্লিজ। অনেক অনেক ছোটো আমি সবদিক থেকেই। সে যাই হোক, লিঙ্কনের বক্তব‍্যের অংশটা ভারী সুন্দর শ্লেষাত্মক হাসির সঙ্গে ধরলেন। খুব ভালো লাগলো আপনি পড়লেন দেখে। আন্তরিক শ্রদ্ধা জানবেন
  • Debanjan Banerjee | ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ১২:২০743442
  • অসাধারণ তথ্য দিলেন হিরেনদা l মানালী আপনি তো জিয়োপলিটিক্স নিয়ে কাজ করছেন এই নিচএর ওযেবসাইট টা আপনার কাজে লাগতে পারে l https://iosiflazaridis.github.io/battles-of-the-romans/#map. হিরেনদা আপনার রোম নিয়ে লেখাগুলোতে আরেকটা রিসোর্স দিলুম l আপনারও কাজে লাগতে পারে রোম নিয়ে লেখাতে l রোমের সবচেয়ে বেশী যুদ্ধ হয়েছিলো আজকের ইতালি ও তুর্কিয়ে তে l
  • Debanjan Banerjee | ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ১২:২৪743443
  • https://x.com/iosif_lazaridis/status/2113697793730658426/photo/1. হিরেনদা আর মানালী রোম নিয়ে আরো অজানা ইতিহাস l রোমের সবচেয়ে বেশী যুদ্ধ ইটালি ও তুরস্কে হয়েছিলো তারপরেই গ্রীসের স্থান l
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল মতামত দিন।