যেমন শহর থেকে একটু দূরে থাকে পাওয়ার স্টেশন।
সূর্য , উঠে গেছ?
আলাউদ্দিন খলজির সেনাপতি মালিক কাফুর প্রথম দাক্ষিণাত্য আক্রমণ করেন। তারপর তুঘলকের আমলে দেবগিরি [দৌলতাবাদ] দিল্লির দ্বিতীয় রাজধানী হয়। তারপর বাহমনী আলাদা রাজ্য হিসেবে বিজয়নগরের সঙ্গে লড়তে শুরু করে। বিজয়নগর নিজের রাজত্ত্ব অক্ষুণ্ণ রাখলেও দ্রুত বাহমনী পাঁচটা আলাদা রাজ্যে ভেঙে যায় - আহমেদনগর , বিদার , বিরার , বিজাপুর , গোলকোন্ডা। এদের সুলতানরা নিজেদের মধ্যে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। অন্তর্কলহে ধুনো দেবার জন্য আহমেদনগর রাজ্যের সুলতানকে সাত আট বছর রাম রায় হাম্পিতে আশ্রয় দিয়েছিলেন। একবার আহমেদনগরের হয়ে বিজাপুর আর বিদারের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন , কয়েকবছর বাদে আবার বিজাপুর আর বিদারের হয়ে আহমেদনগরের বিরুদ্ধে। তালিকোটার যুদ্ধে বিজয়নগরের পতনের পরে পরেই এই পাঁচ রাজ্য আবার নিজেদের মধ্যে লড়াই শুরু করে। এভাবে বিজাপুর ছিল ১৫০০ থেকে ১৬৮৬ পর্যন্ত। তারপর ঔরঙ্গজেব বিজাপুর , আহমেদনগর দখল করে নেন। আহমেদনগরেই তার মৃত্যু হয়েছিল। আরো পরে মারাঠারা।

এখন অবশ্য আদিল শাহদের বিজাপুরের নাম বদলে সরকারি নথিতে বিজয়পুর করা হয়েছে , রাস্তার কয়েকটি মোড়ে শিবাজীর মূর্তি। মহারাষ্ট্র সীমান্তও একেবারে কাছে। সীমান্তের উল্টোদিকে সোলাপুর। হায়দ্রাবাদের দিকে গেলে কলবুর্গি , বিদার। বিজয়পুরের সঙ্গে মুর্শিদাবাদের অনেক মিল। কিছু প্রধান স্থাপত্য এএসআই দেখভাল করে। বাকিগুলি সারা শহরে ছড়িয়ে। তাদের পাশে পাশেই গজিয়ে গেছে নতুন বাড়ি। প্রধান আকর্ষণ গোল গম্বুজ , যেটা রোমের সন্ত পিটার ব্যাসিলিকার পরেই পৃথিবীতে দ্বিতীয় বৃহত্তম গম্বুজ। ট্রেন স্টেশন থেকে নেমেই পাশে দেখা যায়। ব্যাগ নিয়ে ঢোকা বারণ , সেসব রাখার জন্য বিনামূল্যে এএসআইয়ের ক্লোক ঘর আছে।
এএসআই জাদুঘর
গোলগম্বুজ সামনে থেকে
ওরছার মত কাঠামো
মসোলিয়ামের ভেতর
মহম্মদ আদিল শাহ নাকি শাজাহানের তাজমহলকে টক্কর দেবার জন্য এটি বানিয়েছিলেন। এর ওই ওপরে আছে 'হুইসপারিং গ্যালারি', যেখানে উঠে আওয়াজ করলে অনেকক্ষণ ধরে প্রতিধ্বনি হয়। কিন্তু তার জন্য বিরাট উঁচু উঁচু আর সরু ধাপের সিঁড়ি ভাঙতে হবে।
সিঁড়িতে ওঠার মাথায় , বিজাপুর রাজ্যের প্রতীক
ওপরের দিকে
সিমেট্রি। ঠিক ওরছায় যেমন ছিল।
ছাদে
প্রতিধ্বনি কক্ষ। সত্যি এক বার হাততালি দিলে মনে হয় ক্রমাগত ঘোড়া দৌড়ে যাচ্ছে।
প্রতিধ্বনি কক্ষ থেকে ছাদে বেরোনোর দরজার ওপরে অন্য প্রতীক।
কোণায়
নটার সময় জাদুঘর খোলে। ওর ভেতর আছে আদিল শাহী আমলের সব মুদ্রা , আঁকা ছবি , বিদ্রি বাসন
[৩] এই সমস্ত।
চালুক্য আমলের ব্রাম্ভী-কন্নড় লিপি
ইব্রাহিম আদিল শাহ তাম্বুর [তুরস্কের বাদ্যযন্ত্র [২] , গিটারের পূর্বসূরি মনে হল] বাজাচ্ছেন।
ওয়াক ওয়াক দ্বীপের কিংবদন্তী গাছের ছবি। [১]
তালিকোটা মিনিয়েচার /১
তালিকোটা মিনিয়েচার /২
তালিকোটা মিনিয়েচার /৩ - অনেকে এই ছবিকে বলেছেন রাম রায়ের মাথা কাটার দৃশ্য।
রাম রায়ের কাটা মাথার পাথর প্রতিকৃতি। বিজাপুরে খোঁড়াখুঁড়ির সময় পাওয়া গেছে।
বেরোলে বিজাপুর ঘুরিয়ে দেখানোর জন্য ঘোড়ার গাড়ির ভিড়। বিজাপুর শহরে এই একটাই প্রধান বড় রাস্তা। এটা ধরে হাঁটতে থাকলেই দুদিকে দর্শনীয় জিনিস। বড় সমস্যা খুব অল্প জায়গায় রাস্তা পেরোনোর জন্য সিগন্যাল আছে। হাত দেখিয়ে পেরিয়ে যায় লোকে। শেয়ার অটো চলে , কিন্তু তারা আবার সোজা এখান থেকে ইব্রাহিম রোজা যাবেনা। মাঝপথে তারা ঢুকে যায় বিজয়পুর বাসস্ট্যান্ডে।
গোল গম্বুজ থেকে হেঁটে ইব্রাহিম রোজার দিকে যেতে থাকলে বাঁদিকে অনেকখানি জায়গা জুড়ে পরিত্যক্ত রাজপ্রাসাদের নানা অংশ পড়ে। কিছু কিছু বাড়ি উঠোনসমেত এএসাই ঘিরে দিয়েছে। সেসব জায়গায় ঢুকতে টিকিট লাগে না। বাকি বাড়িগুলি হয় খন্ডহর হয়ে ভেঙে পড়ছে বা লোকজন থাকে।
রাজবাড়ির আসার মহল। বর্তমানে মসজিদ ওই বাড়ির দরজায় লেখা আছে মেয়েদের প্রবেশ নিষেধ।
রাজবাড়ির গগন [আকাশ] মহল।
রাস্তা পেরিয়ে বিজয়পুর বাজারের মাঝে আলি আদিল শাহের এই সমাধির নাম 'বড় কামান'। ছাদ ধ্বসে গেলেও থামগুলি দাঁড়িয়ে।
পুরোনো বিজয়পুর শহর ঘিরে কেল্লার পাঁচিল ছিল। এই 'উপ্পালী বুরুজ'টির মাথায় চারদিকে কামানগুলি নির্দেশ করা থাকত।
বিজাপুরের সেনার প্রধান সম্পদই ছিল বিরাট আকারের সব কামান। তুরস্ক থেকে অটোমান সাম্রাজ্যের অফিসাররা এসে এখানে কামান বানাতেন , বিজাপুর সেনাকে শেখানো হত কীভাবে ব্যবহার করতে হয়।
প্রাচীন বিজাপুর কেল্লার প্রাকারে থাকা আরেকটি বুরুজের মাথায় লিপি
তালিকোটার যুদ্ধে ব্যবহৃত মালিক-ই-ময়দান কামান। মাথার রিলিফে হাতির ছবি।
বিজাপুর কেল্লা ছাড়িয়ে আরো এগোলে প্রধান রাস্তার বাঁদিকে পড়ে 'ইব্রাহিম রোজা' - ইব্রাহিম আদিল শাহের সমাধি।
ক্ষুধিত পাষাণ /১
ক্ষুধিত পাষাণ /২
ক্ষুধিত পাষাণ /৩
ক্ষুধিত পাষাণ /৪
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।