
করোনার দিনগুলি #৫১
একলা ঘর
গোনা ছেড়ে দিয়েছি। মাঝেমাঝেই ফোন পাচ্ছি, 'ডাক্তারবাবু, করোনার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। কি করব?’
খবর নিচ্ছি জ্বর কমেছে কিনা। তাঁর কোন শারীরিক অসুবিধা আছে কিনা। সুগার, প্রেশার, হার্টের সমস্যা বা অন্য কোন মর্বিডিটি আছে কিনা।
সারাদিন রোগী দেখি। সকলকেই রাত সাড়ে নটার পর ফোন করতে বলছি। দেড় ঘন্টা ধরে প্রায় জনা কুড়ি রোগীর সাথে কথা বলছি। যারা আজকে পজিটিভ হয়েছেন তাদের জিজ্ঞাসা বেশি। পুরনো রোগীদের জিজ্ঞাসা কম।
একটাই ভালো দিক অধিকাংশ রোগী সামান্য সিম্পটোম্যাটিক। বাড়িতেই থাকছেন। তবে অনেককেই হোম আইসোলেশন এর নিয়ম কানুন বলতে গিয়ে বিব্রত হচ্ছি।
একজন ভ্যান চালান। তাঁর করোনা ধরা পড়েছে। তিনি বললেন, 'ডাক্তারবাবু, আমাদের তো একটাই ঘর। দুটো বাচ্চা। কি করবো?'
বললাম, 'তাহলে কোথাও ভর্তি হয়ে যান।'
তিনি বললেন, 'দেখছি, কি করা যায়।' ফোন কেটে দিলেন।
মধ্যমগ্রাম পৌরসভার উদ্যোগে একটি সেফ হোমের ব্যবস্থা হচ্ছে। এটি তাড়াতাড়ি চালু হলে ভালো হয়। তাতে এইসব নিম্নবিত্ত মানুষদের বড্ড সুবিধা হবে। তাঁদের বাড়ির লোকজন সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে পারবেন।
আরও একটা সমস্যা, অধিকাংশ মানুষই কোভিড টেস্ট করাতে চাইছেন না। একজন মধ্যবয়স্ক রোগীর জ্বর কমছে না। তাকে বললাম, 'আমি তো চারদিন আগেই টেস্ট করাতে বলেছিলাম। করান নি কেন?’
'ডাক্তারবাবু, অত পয়সা নেই। মিউনিসিপ্যালিটি হাসপাতালে খবর নিয়েছিলাম। দুহাজার টাকার বেশি খরচ। একজনের প্রাইভেট গাড়ি চালাতাম। লকডাউন শুরু হওয়ার পরেই চাকরি চলে গেছে।'
'তাহলে সরকারি জায়গা থেকে করান। বারাসাত বা ঘোলা হাসপাতাল।'
ভদ্রলোক মাথা নীচু করে বললেন, 'ডাক্তারবাবু, ভাড়া বাড়িতে থাকি। করোনা ধরা পড়লে বাড়িওয়ালা বার করে দেবে।'
অতি উৎসাহী কিছু কিছু জ্বর ও গলাব্যথার রোগীর দাবি, 'ডাক্তারবাবু, একবার টর্চ দিয়ে গলাটা দেখলেন না?'
তাঁদের বলছি, 'মাফ করবেন। এ সময় গলার মধ্যে উঁকিঝুঁকি দিতে পারব না।'
'ইস, আপনি ডাক্তার হয়ে এতো ভয় পাচ্ছেন?’
হাসিমুখেই জানাচ্ছি, 'দেখুন, সাহস ও দুঃসাহস যেমন এক নয়; ভয় ও মুর্খামি দুটোর মধ্যেও পার্থক্য আছে।'
নিজের সুরক্ষার জন্য বাড়াবাড়ি করছি না। কিন্তু সবসময় দুটো মাস্ক ব্যবহার করছি। নীচে একটি সার্জিক্যাল মাস্ক এবং উপরে N95। কোনোভাবেই রোগী দেখার সময় হাত দিয়ে মুখ স্পর্শ করছি না। সে যতই নাক চুলকাক, কান কট কট করুক। আর এইটুকু সুরক্ষার জোরেই শতাধিক করোনা রোগীর সংস্পর্শে এসেও এখনো করোনা আক্রান্ত হইনি।
অদ্ভুত অদ্ভুত ঘটনা ঘটছে। সারাদিন রোগী দেখে, রাত দশটায় স্নান করে, ফোন পর্ব মিটিয়ে, খাওয়া-দাওয়া সেরে, একলা ঘরে খাতা-কলম নিয়ে বসেছি; এমন সময় কলিং বেল বাজলো। ঘড়ি দেখলাম। রাত ঠিক বারোটা। অত্যন্ত বিরক্তিকর ব্যাপার। এমনিতেই সারাদিনে চৌদ্দ ঘণ্টা রোগী দেখেছি। তার উপর আমার নিজের যে ঘন্টাখানেক সময় সেটাতেও যদি রোগীরা হামলা করতে থাকে, তাহলে মন মেজাজ ভালো রাখা মুশকিল। তাছাড়া এখন রোগী দেখা মানেই জামা কাপড় পাল্টাও, হাত মুখ ধোও।
গোমড়া মুখে দরজা খুললাম। গেটের সামনে একটা গাড়ি দাঁড়িয়ে। এক ভদ্রলোক ঘোরাঘুরি করছেন। জিজ্ঞাসা করলাম, 'কি হয়েছে?’
বাড়ির লোকটি বললেন, 'রোগীর শ্বাসকষ্ট হচ্ছে ডাক্তারবাবু।'
'কখন থেকে হচ্ছে?’
'সেই সকাল থেকেই।'
'তা এই মাঝরাত্রে আনার সময় পেলেন।'
'দিনের বেলায় আনার উপায় ছিল না ডাক্তারবাবু।'
বললাম, 'কেন? রোগী কি জঙ্গী টঙ্গী নাকি?’
ভদ্রলোক হাসলেন। বললেন, 'রোগীর একাশি বছর বয়স। আমার মা। জঙ্গী কি করে হবেন। তবে এই বয়সে তিনি রোগের জন্য পাড়া-প্রতিবেশী চোখে অপরাধী হয়ে গেছেন। ওনার করোনা হয়েছে।'
আমি বললাম, 'এভাবে একজন করোনা রোগী নিয়ে আপনি ঘুরে বেড়াচ্ছেন।'
ভদ্রলোক বললেন, 'আমারও করোনা হয়ে ঠিক হয়ে গেছে। তাই আমার আর ভয় নেই। মায়ের অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমছে। প্রায় ৮০%। কিন্তু ভর্তি করতে চাইছি না। হাসপাতালে ভর্তি করলে কেউ নাকি বাঁচেনা। তার থেকে যা হোক বাড়িতেই হোক।'
অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে তাঁকে কাছাকাছি কোভিড হাসপাতলে পাঠালাম।
তবে এগুলি ছোটখাটো সমস্যা। আমার প্রধান সমস্যা মেয়ে দুজনকে কাছে না পাওয়া। একই বাড়িতে থাকছি। অথচ মেয়েদের সাথে খেলতে পারছি না। ছোট মেয়ে রাণী আমার পাশে শুতো। নানারকম আজগুবি গল্প বলতাম। অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে শুনতো। গল্প বলতে বলতে আমি আগে ঘুমিয়ে পড়তাম। পেটে খোঁচা মেরে জাগিয়ে দিতো। 'গল্প শেষ হয়নি বাবা। ঘুমাচ্ছ কেন? গল্প বলো বাবা।'
যবে থেকে রোগীদের করোনা ধরা পড়তে শুরু করেছে, তবে থেকেই আমি আলাদা। তাও মাসখানেক হতে চলল। মাস্ক পরে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে মাঝে মাঝে একটু গল্প-স্বল্প হয় বটে; কিন্তু তাতে মন ভরে না। সানাই এর সাথে আর লুডো খেলা হয় না। ও এখন একা একাই মোবাইলে লুডো খেলে। আমার এই একলা থাকা সমস্যার সমাধান কবে হবে বলা মুশকিল।
তবে সব খারাপ কিছুর মধ্যেও একটা ভালো দিক থাকে। মহামারী আমার দুই মেয়েকে অনেক স্বাবলম্বী করে তুলেছে।দিন কয়েক আগে এক রাতে দুই বোন আমাকে ডাকলো, 'বাবা, দেখে যাও কি করেছি।'
আমি ওদের পিছু পিছু দেড় তলার ঘরে গেলাম। দুই বোন মিলে ঝুলন সাজিয়েছে। বালি, মাটি ইত্যাদি ব্যবহার করার অনুমতি পায়নি। তবুও তারা হতোদ্যম হয়নি।
করোনার দিনগুলি #৫২
জে বি এস হ্যালডেন
রোজ একাধিক রোগীর করোনার রিপোর্ট পজিটিভ আসছে। অবশ্য ডায়াগনোসিস হচ্ছে না তার চেয়ে বেশি রোগীর। যাঁদের চার পাঁচ দিনে জ্বর কমে যাচ্ছে, তাঁরা কেউই টেস্ট করাচ্ছেন না। বারবার বলা সত্ত্বেও টেস্ট করতে রাজি হচ্ছেন না। প্রধান কারণ সমাজচ্যুত হওয়ার ভয়। তাছাড়া যেসব দিন আনা দিন খাওয়া মানুষেরা লকডাউনের ফলে এতদিন বাড়ি বসে ছিলেন এবং অর্থনৈতিক ভাবে যাঁদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, তাঁরা আর কাজ কামাই করতে চাইছেন না। জ্বর গায়েই কাজে যাচ্ছেন এবং আরও অনেককে সংক্রমিত করছেন।
এসব সত্ত্বেও আমাদের এখানে মৃত্যুহার নিঃসন্দেহে কম। কয়েকটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যু বাদ দিলে প্রায় সকলেই সুস্থ হয়ে উঠছেন। পরীক্ষা কম হওয়ায় এখানে কেসও অনেক কম হচ্ছে। সকল রোগীর পরীক্ষা করতে পারলে কেস নিঃসন্দেহে আরও অনেক বাড়ত এবং মৃত্যুহারও কমত।
এখন প্রশ্ন হল, কেন আমাদের এখানে করোনায় মৃত্যুহার কম? অতি বড় দেশভক্ত মানুষও দাবী করবেন না, আমাদের এখানে চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রথম বিশ্বের দেশ গুলির তুলনায় ভালো। আমাদের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর নড়বড়ে অবস্থা আমরা ভালভাবেই টের পাচ্ছি।
হওয়া উচিৎ ছিল উল্টোটাই। অপুষ্টি ও অন্যান্য অনেক রোগে আক্রান্ত আমাদেরই সহজে মরে যাওয়া উচিৎ ছিল। কি রোগ নেই এখানে। ডেঙ্গু তো প্রায় বাৎসরিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। ম্যালেরিয়া, টিবি রোগী বাড়ছে হুহু করে। বর্ষার সময় হেপাটাইটিস, পেটের রোগী ঘরে ঘরে। সেই সব রোগে মৃত্যুহার তেমন কম নয়। বরঞ্চ বাকি পৃথিবীর তুলনায় বেশির দিকে। আমাদের দেশ ডায়াবেটিসেও জগত সভায় শ্রেষ্ঠ হওয়ার দিকে ক্রমশ এগিয়ে চলেছে।
তাহলে সারা বিশ্ব কাঁপিয়ে আসা কোভিড- ১৯ ভাইরাস আমাদের এখানে তেমন সুবিধা করতে পারছে না কেন? এখানেই তো তার তাণ্ডব চালানর কথা ছিল। ম্যালনিঊট্রিশানে ভোগা, নানা রকম রোগে ভোগা, আগে থেকেই আধমরা থাকা আমাদের করোনা ভাইরাস সহজে মারতে পারছে না কেন?
ছোটবেলা থেকেই তৃতীয় বিশ্বের দেশ গুলিতে আমরা যেভাবে আনহাইজিনিক পরিবেশে বেড়ে উঠেছি, আনহাইজিনিক জল পান করেছি, আনহাইজিনিক খাবার খেয়েছি- তা আমাদের ইনেট ইমিউনো সিস্টেমকে নিঃসন্দেহে অনেক জোরদার করেছে। তাছাড়া হাজার গণ্ডা ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, প্যারাসাইট নিয়ে ঘর করায় কোন রোগ যে কার বিরুদ্ধে ক্রস ইমিউনিটি দিচ্ছে তাও বলা মুশকিল।
যাহোক এসব নিয়ে বিশেষজ্ঞরা পরে গবেষণা করবেন। আমি পাতি চিকিৎসক। যুদ্ধক্ষেত্রে সৈনিকের ভূমিকা পালন করি। সেনাপতি হওয়ার যোগ্যতা নেই। আমি বরঞ্চ আপনাদের একটা গল্প শোনাই।
১৯৪০ সাল। আফ্রিকার জঙ্গলে জঙ্গলে এক সাহেব ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। সেসময় অনেক শ্বেতাঙ্গ মানুষই দলবল নিয়ে আফ্রিকার জঙ্গলে ঘুরে বেড়াতেন। নির্বিচারে হত্যা করতেন সিংহ, জিরাফ, জেব্রা, বাইসন এবং আফ্রিকান উপজাতির মানুষকেও। আফ্রিকান উপজাতির মানুষরা সেসময় শ্বেতাঙ্গ মানুষদের কাছে জংলী জানোয়ারের চাইতে বেশি মর্যাদা পেত না।
কিন্তু এই সাহেব অন্যদের থেকে আলাদা। তিনি জঙ্গলের মধ্যে বিভিন্ন উপজাতি মানুষদের গ্রামে ঘুরে বেড়ান। অসুস্থদের চিকিৎসা করেন। সারিয়ে তোলেন। সাহেব ইংল্যান্ডের মানুষ। তাঁর নাম জে বি এস হ্যালডেন। নামটা খুব চেনা চেনা লাগছে, তাই না? হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন। এনার নামেই একটি রাস্তা আছে কোলকাতায়। যে রাস্তাটি ইস্টার্ন বাইপাসকে পার্ক সার্কাসের সাথে যোগ করেছে।
তবে হ্যালডেন সাহেবকে উপজাতির কম বয়সী ছেলে মেয়েরা যমের মতো ভয় পেত। জ্বর আসলেই তিনি মোটা একটা সিরিঞ্জ নিয়ে রক্ত নিতে আসতেন। তারপর সেই রক্ত স্লাইডে নিয়ে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের তলায় রেখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কীসব দেখতেন।
হ্যালডেন সাহেব সারা জীবন ধরেই অনেক অদ্ভুত অদ্ভুত গবেষণা করেছেন। কিন্তু আফ্রিকার উপজাতিদের মধ্যে তাঁর গবেষণা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ও জেনেটিক্সের ক্ষেত্রে একটি মাইলস্টোন। তাঁর গবেষণার বিষয় বস্তু ছিল ম্যালেরিয়া নিয়ে। আফ্রিকায় তখন ম্যালিগন্যান্ট ম্যালেরিয়ায় প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ উপজাতির মানুষ মারা যায়। হ্যালডেন সাহেব তাঁদের মধ্যে চিকিৎসার কাজ করতে করতে এক অদ্ভুত পর্যবেক্ষণ করলেন। কিছু কিছু জনগোষ্ঠীর মানুষ ম্যালেরিয়ায় অনেক কম আক্রান্ত হচ্ছে। কিন্তু তাঁদের মধ্যে আবার সিকেল সেল অ্যানিমিয়া বলে এক ধরণের অ্যানিমিয়ার প্রাদুর্ভাব বেশি।
সিকেল সেন অ্যানিমিয়া রোগীদের লোহিত কণিকায় অক্সিজেনের অভাব হলে তারা কাস্তে বা সিকেল আকৃতির হয়। হ্যালডেন সাহেব পর্যবেক্ষণ করলেন, যারা এই রোগের ক্যারিয়ার তাদের লোহিত কণিকা স্বাভাবিক হলেও ম্যালেরিয়ার জীবাণুর দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার পরে তা কাস্তের আকৃতি হয়ে যায়। এবং জীবাণু সহ লোহিত কণিকাটি পিলের মধ্যে আটকে যায় ও ধ্বংস হয়ে যায়।
এখান থেকে হ্যালডেন সাহেব ধারণা করেন হাজার হাজার বছর ধরে ম্যালেরিয়ার সাথে বসবাস করতে করতে এই সব উপজাতির মানুষদের মধ্যে সিকেল সেল অ্যানিমিয়ার জিন এসেছে। এবং এটা ডারউইনের থিয়োরি অনুযায়ী ন্যাচারাল সিলেকশন।
পরবর্তী কালে এরকম আরও অনেক রোগ পাওয়া গেছে, যা অন্য রোগকে প্রতিরোধ করে। যেমন সিস্টিক ফাইব্রোসিস রোগীদের যক্ষ্মা হয়না। কুষ্ঠ আক্রান্ত রোগীদের কখনও সোরিয়াসিস বলে একটি চর্মরোগ হয়না।
অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের আগে যখন আফ্রিকায় ইউরোপিয়ানরা কলোনি গড়ে তুলছে, তখন তাদের মধ্যে সিফিলিস মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছিল। পেনিসিলিন আবিষ্কার হবে আরও দেড়শো বছর পরে। ইউরোপিয়ান সৈনিকরা খেয়াল করেছিল যাদের ম্যালেরিয়া হচ্ছে এবং বরাত জোরে ম্যালেরিয়ার থেকে বেঁচে ফিরছে তাদের সিফিলিস সেরে যাচ্ছে। একাধিক সৈনিকের ক্ষেত্রে এই পর্যবেক্ষণ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
এর প্রকৃত কারণ বলা মুশকিল। তবে একটা কারণ হতে পারে সিফিলিসের জীবাণু ট্রিপোনেমা প্যালিডাম বেশি উষ্ণতায় বাঁচে না। ম্যালেরিয়া জ্বরের সময় দেহের উষ্ণতা মাঝে মাঝেই ৪০ – ৪২ ডিগ্রী সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। সেই যুগে ম্যালেরিয়ারও নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা ছিল না। ফলে জ্বর চলতো দীর্ঘদিন ধরে। শরীরের মধ্যে থাকা সিফিলিসের জীবাণু এই উচ্চ তাপমাত্রায় মারা পড়ত।
হ্যালডেন সাহেব বামপন্থায় বিশ্বাসী হওয়ায় ইংল্যান্ড ত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং শেষ জীবনে তিনি ভারতে নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। কলকাতা ও উড়িষ্যাতে তাঁর বাকি জীবন কাটান। সেসময় তাঁর কাজকর্ম নিয়ে পরে লেখা যাবে। আপাতত করোনার দিনে ফেরত আসা যাক।
মোদ্দা কথা কোন রোগ যে কোন জনগোষ্ঠীকে কিভাবে আক্রান্ত করবে তা আগে থেকে বলা মুশকিল। যেমন বলা মুশকিল এই মহামারীর শেষ কোথায়। আমাদের বোধহয় এবার করোনা ছাড়াও অন্য রোগ নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। অন্যান্য রোগের চিকিৎসা বড় বেশি অবহেলিত হচ্ছে। একজনের দু’সপ্তাহের জ্বর কমছিল না। করোনার রিপোর্ট করেই এসেছিলেন। নেগেটিভ। রক্তের স্লাইডেই ধরা পড়ল ভাইভ্যাক্স ম্যালেরিয়া। টুক টুক করে ডেঙ্গু রোগীও আসতে শুরু করেছে। ২০১৭ সালের ডেঙ্গু মহামারীর সময়ে চিকিৎসার অভিজ্ঞতা আছে। সেই মহামারীর মর্টালিটি নিঃসন্দেহে অনেক বেশি। কোমর্বিডিটি ছাড়াই অনেক কমবয়সী রোগীকে চোখের সামনে খারাপ হয়ে যেতে দেখেছি। ভগবান করুন তিন বছর আগের মতো ডেঙ্গু মহামারী না হয়। কিন্তু যদি হয়? আমরা লড়তে পারব এই পরিকাঠামো নিয়ে?
মৌমিতা | 2409:*:*:*:*:*:*:* | ০৯ আগস্ট ২০২০ ১৮:১৭96098ভালো লাগল Sickle cell anemia ও malaria নিয়ে জানতে। পড়তে পড়তেই ভাবছি park circus-eastern bypass r মাঝে কোন রাস্তা টা। :-).. কবে সবকিছু স্বাভাবিক হবে এখন তার ই wait করা।
aranya | 162.*.*.* | ১০ আগস্ট ২০২০ ০৪:১৭96111
:|: | 174.*.*.* | ১০ আগস্ট ২০২০ ০৫:১৮96113