হীরেনদার sacking এর ইতিহাস দারুণ।
আমাদের সময় চলেছে সাদামাটা Your service is no longer required. যেন গিন্নি বাড়ির ঠিকে কাজের লোককে বলছেন-- কাল থেকে আর আসতে হবে না!
আর আমাদের সময়ে গ্রামীণ ব্যাংকের হেড অফিসে মাথায় বসে থাকা স্টেট ব্যাংকের অফিসাররা শিখিয়েছিলেন হেড অফিসকে লিখবে we have to advise that, to inform/ to intimate চলবে না।
আমার বিনীত নিবেদন --আমরা অধঃস্তনেরা উর্ধতনদের কী করে 'পরামর্শ' দিতে পারি?
--তক্কো কর না। ব্যাংকিং এ বেশি 'হুঁশিয়ারি' দেখাতে হবে না। পিছে দেখো, আগে বড়ো। মহাজনেরা যা করেছেন তাই করবে।
আর নীচে sincerely/truly চলবে না, obediently লেখা অভ্যেস কর।
একবার আমাদের জিএম আমাকে একটা চিঠির ড্রাফ্ট করে আনতে বললেন। তাতে যেখানে সেখানে একগাদা kindly/please লাগিয়ে দিলেন। আমি অবাক, এসব কেন?
উনি বললেন-- তুমি গ্রামীণ ব্যাংক, বুঝবে না।
চিঠিটা লেখা হচ্ছে চিফ জেনারেল ম্যানেজার মধ্যপ্রদেশকে। বাটার জিতনা বনে লগায়ে যাও, লগায়ে যাও! কম নহীঁ হোনা চাহিয়ে।
স্টেট ব্যাংকের নিজস্ব জার্নাল কলীগ আমাদের অফিসে আসত। তাতে একটা লেখা পড়ে জেনেছিলাম --ইম্পিরিয়াল ব্যাংক থেকে স্টেট ব্যাংক হওয়ার পরও কিছুদিন বোম্বের কর্পোরেট অফিসে ওয়াশরুম ছিল দু'জাতের। একটার দরজায় লেখা থাকত Officers Only, অন্যটায় Gentlemen Only। ওগুলো সবসময় লক করা থাকতো। যাঁরা ব্যভার করবেন তাঁদের প্রত্যেকের কাছে একটি করে চাবি থাকত।
ক্লার্ক থেকে প্রমোশন পেয়ে অফিসার হলে তাঁকে প্রমোশনের লেটারের সংগে উপযুক্ত বাথরুমের চাবি উপহার দেয়া হত।
আমি বললাম-- তাহলে অফিসাররা জেন্টেলম্যান হয় না? মানে আপনাদের স্টেট ব্যাংকে?
যথারীতি বকুনি খেলাম ফালতু প্রশ্ন করার জন্যে।
একবার চেয়ারম্যান হয়ে এলেন মিঃ গর্গ। ওনার ইংরেজি ড্রাফটিং এর খুব সুখ্যাতি স্টেট ব্যাংক সার্কেলে। উনি আমাদের ড্রাফটিং এর প্যারাগ্রাফ কে প্যারাগ্রাফ উড়িয়ে দিয়ে একটা বা দুটো সেন্টেন্স যোগ করতেন। আমরা অবাক হয়ে দেখতাম যা বলতে চাইছিলাম তা সুচারু রূপে বলা হয়ে গেছে।
আমি লিখতাম enclosed herewith. উনি শুধরে দিয়ে বলতেন-- enclosed এর মধ্যে herewith আছে, আলাদা করে বলার দরকার নেই। দেখ রায়, ইংরেজি ভাষার জোর তার understatement এ।
ওনাকে নিয়ে শেষ গল্পটা। আমার অন্যতম প্রিয় জিএম পি এন সুব্রাহ্মনিয়নের কাছে শোনা।
তখন উনি রায়পুরের বড় ব্র্যাঞ্চে Grade One officer, এবং তখন টেলিগ্রাম এলে কোন বুকে নোট করে কাউকে দেয়ার প্রচলন ছিল না। একটা টাকা আসার টেলিগ্রাম হারিয়ে যায়। একবছর পরে এর জন্যে পিএন কে সাসপেন্ড করে চার্জশীট দেয়া হয়। উনি দিব্যি গেলে বলেন সেটা উনি নিয়মমাফিক হেড ক্যাশিয়ারকে হ্যান্ড ওভার করেছিলেন। কিন্তু কোন ডকুমেন্ট নেই। হেড ক্যাশিয়ার ভদ্রলোক অস্বীকার করেন।
পিএনকে চার্জশীট দিয়ে লাস্ট চান্স দেয়া হল--তোমার যা বলার আছে শেষবারে মত বল। এরপর প্রসিড করা হবে।
উনি গেলেন মিঃ গর্গের কাছে--কী জবাব দেব, মাথায় আসছে না। আপনি ড্রাফট করে দিন।
গর্গ বানালেন এক লাইনের জবাব-- I have got nothing more to say except my word of honour as an officer of State Bank of India.
চার্জশীট বন্ধ হয়ে গেল।