এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • কথার কথা তিন  

    হীরেন সিংহরায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ২১ আগস্ট ২০২৬ | ১৯২ বার পঠিত
  • জারগনের জয়যাত্রা

    ব্রিটেনের ডেভিড ম্যাকেঞ্জি অগিলভিকে পশ্চিমের আধুনিক বিজ্ঞাপন এবং ব্র্যানডিঙের পিতা বলে মান্য করা হয়ে থাকে। গত শতাব্দীর ছয়ের দশকে তাঁর ফার্ম অগিলভি মাথের দুনিয়ার প্রথম পাবলিক লিমিটেড বিজ্ঞাপন সংস্থা রূপে দেখা দেয়। ডেভিড অগিলভির আত্মজীবনী ‘কনফেশনস অফ অ্যান অ্যাডভারটাইজিং ম্যান’ একাধিক বিজনেস স্কুলে অবশ্য পাঠ্য। ১৯৮৯ সালে মারটিন সোরেলের ডব্লিউ পি পি ( পুরো নামটা অত্যন্ত গদ্যময় – ওয়ার অ্যান্ড প্লাস্টিক প্রোডাক্ট) যখন অগিলভি মাথের কেনার জন্য হাড্ডাহাড্ডি লড়ছে, তখন সিটিব্যাঙ্ক সোরেলের পাশে দাঁড়ায়, এতে ডেভিড অত্যন্ত অপ্রসন্ন হয়েছিলেন। এই ডিলটিকে সাফল্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ করার কাজে আমাদের ব্যাঙ্কের মারভিন ডেভিস বিশাল খ্যাতি অর্জন করেন , তার আগেই মারভিনের সঙ্গে আমার আলাপ পরিচয় হয়েছে। পরে যখন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাঙ্কে যোগ দিয়েছি তখন মারভিন সেখানকার সি ই ও।

    এই টেক ওভার লড়াইয়ের সময়ে ডেভিড অগিলভির মতন এক প্রখর ব্যক্তিত্বকে অন্তত একটু দূর থেকে দেখার, তাঁর কথা শোনার সৌভাগ্য হয়েছে। মনে আছে কোন প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, অ্যাডভারটাইজিং ইজ কমিউনিকেশন উইথ দি মাসেস। ইয়োর বিজনেস ইজ কমিউনিশন উইথ এ ফিউ অ্যাট এ টাইম‘। তাঁর বইতে তিনি লিখেছেন, ‘ আমাদের ব্যবসায় নির্বোধের ছড়াছড়ি, এঁরা মনে করেন দুর্বোধ্য জারগন দিয়েই দুনিয়া জয় করা যায়। আপনি যদি কিছু বিক্রি করতে চান বা মানুষকে মুগ্ধ করতে অথবা বোকা বানাতে চান তাদের ভাষায় লিখুন, জারগনের কেরামতি দেখাবেন না।‘

    আজকের এই অর্থহীন টেকনিকাল শব্দের সুনামির দিনে সেই কথাটা খুব মনে পড়ে। ব্যাঙ্কে আমাদের কাজ কিছু কেনা কিছু বেচা, খদ্দেরের সঙ্গে কথা চালাচালি এবং সহকর্মীদের সঙ্গে কাজের অকাজের গল্পগাছা। প্রথমটা বিজনেস, মার্কেটিং দ্বিতীয়টা ইন্টারনাল কমিউনিকেশন- এ দুটো সহজ স্বচ্ছ হলেই তো ভালো।

    আমার ইউরোপীয় ব্যবসায়িক জীবনের প্রারম্ভ জার্মানিতে, সেখানে নটউইথস্ট্যান্ডিং দিয়ে শুরু করে একটা গোটা পাতায় কোন কিছু না বলা নয়, যা বলার তা স্পষ্ট করে বলাটাই ছিল রীতি। যেমনটা ১৯৯০ সাল নাগাদ ঢাকার আড়ং দোকানের ভেতরে দেওয়ালে লেখা দেখেছি, ‘বাংলা বলতে হলে বাংলায় বলুন !’

    আমার নিজের কর্ম জীবনের বিরতির পরেও যা দেখছি শুনছি পড়ছি তাতে মনে হয়, যে জারগনের রথ থেকে একদিন বিদায় নিয়েছি,তার যাত্রা আজ শুধু অব্যাহত তাই নয়, সেখানে আরোহীর সংখ্যা ক্রমবর্ধমান ! নিত্যি সে রথে চড়ে বসেন নব নব শব্দশৈলীর সেনানী।

    শুধুই কি অকারণ পুলকে? নাকি এই নব মেঘদূত ? অপূর্ব অদ্ভুত

    পিচ

    বরানগরের বাংলা স্কুলে পড়েছি কিন্তু ইডেনের ক্রিকেট পিচ জানি, গরমের দিনে বি টি রোডে গলা পিচ, সঙ্গীতের উচ্চগ্রাম বা হাই পিচ। কিন্তু কখন একদিন যেন পিচ তার অর্থ বদল করে ফেলেছে। আজ শুনি সেলস পিচ, ইনভেস্টর পিচ, জব পিচ – পিচ মানে উপস্থাপনা, দেওয়ালে স্লাইড শো, নীল সাদা প্লাস্টিকে বাঁধানো এ ফোর সাইজের একশ পাতা, তার নাম পিচ বুক। বনগাঁ লোকালে যখন হঠাৎ একজন উঠে দাঁড়িয়ে সকলের দিকে চেয়ে অকস্মাৎ ‘ কুকুরের বাচ্চা, শুয়োরের বাচ্চা’ বলার পরে ছোট পজ দিয়ে যোগ করেন,’যদি কামড়ায়’, সেটি তাঁর একটি মলম বিক্রির আকর্ষণীয় সেলস পিচ। তার সঙ্গে গোল্ডম্যান জাখসের হোয়ারটন ফেরত, আরমানি সুট, ফেরাগামো টাই পরা সেলস পারসনের গ্রিক বা সিনথেটিক বন্ড ( পড়ুন আষাঢ়ে গল্পের) বিক্রি বা সেলস পিচের পার্থক্য শুধু অর্থের মাপে ; বনগাঁ লোকালের ফিরিওলার মলমে কাজ না হলে আপনার আর্থিক ক্ষতি সামান্য, মেরিল গোল্ডম্যানের গ্রিক বা সিনথেটিক বন্ড কিনে অর্থদণ্ডের সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি।

    পিং মি

    শুনে মনে হয় ইনি কি কোন আলপিনের খোঁচা খেতে চাইছেন? মাথা ঠিক আছে তো ? না, চিন্তার কারণ নেই, ইনি বলছেন আমাকে ফোন কোরো। জানি আজকাল মোবাইল ফোনে মেসেজ এলে একটা টুং শব্দ হয় তাকেই বলে পিং, মানে, আওয়াজ দো, কাহাঁ হো? অথবা, বাজো বাঁশি বাজো ?

    লো হ্যাঙ্গিং ফ্রুট

    গাছে না উঠতেই এক কাঁদি ? আমাদের গ্রামের বড়ো বাগানের আম গাছগুলো ছিল পেল্লায় সাইজের, আম ঝুলতো দোতলা তিনতলার লেভেলে। সেখানে ঢিল ঠিকমতো পৌঁছয় না। বরং কাছেই কুলু পুকুরের পাশে ঘোষ বাগানে গাছ তেমন বড়ো নয়, আম পাড়া অনেকটা সহজ ছিল। মানে সেটাই লো হ্যাঙ্গিং ফ্রুট ? যাকে সহজে পাড়া যায় ?

    আমার লক্ষ যখন বাজেট নম্বরটি বানানো, সহজে সে কাজটা সিদ্ধ হলেই তো ভালো, নইলে খাটনি বাড়ে। কিন্তু সেখানে বাগড়া দিতে থাকেন আমার বস ; ছ মাসের রেভিনিউ নাম্বার উঁচুর দিকে কিন্তু তাতে খুশি না হয়ে বললেন, ‘ লুকস লাইক ইউ আর ওনলি গোয়িং ফর লো হ্যাঙ্গিং ফ্রুটস’ ! আমি মেহনত না করে কেবলই সহজ লভ্য ডিলের সন্ধানে আছি, শর্ট কাটে দু পয়সা বানাচ্ছি। তার মানে রেভেনিউ নম্বর যথেষ্ট নয় ? রান তোলাটাই যথেষ্ট নয়, লোপ্পা বলে নয়, জসপ্রিত বুমরার বলে ছয় মেরে দেখাতে হবে ? নাকি যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা ?

    টাচ বেস

    ক্রিকেট খেলায় উইকেট ব্যাটসম্যানের দুর্গ, সেখানে তিনি যতক্ষণ খুশি অবস্থান করতে চান। সেই নিরাপদ কেল্লার ভেতরে পা রেখে কখনো একটা পা বের করে চার, ছয় মারেন; কেবল রান নেবার সময়ে তিনি এক দূর্গ পরিত্যাগ করে বাইশ গজ দূরের অন্য দূর্গ পানে ধাওয়া করেন। সেখানে পৌঁছুনোর আগেই দুষ্ট ফিল্ডারের ছোঁড়া বল যদি তিন কাঠি ছিটকে দেয় তাহলে তাঁর খেলা শেষ, তিনি প্যাভিলিয়ন পানে রওয়ানা হন। আমাদের পক্ষে একান্ত দুর্বোধ্য ক্রীড়া, ক্রিকেটের অক্ষম দু নম্বরি খেলা বেসবলে উইকেটের মতন আছে চারটে বেস, প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয় এবং হোম বেস। হীরক আকৃতির এই ফিল্ডে খেলোয়াড়রা রানের জন্য যখন ছুটোছুটি করেন,তখন তাঁদের একের পর এক বেস ছুঁয়ে যেতে হবে ; ক্রিকেটে রান নেবার সময়ে ব্যাটসম্যান এক উইকেট থেকে ছুটে অন্য উইকেটে একবার ব্যাট ঠেকিয়ে তবেই দ্বিতীয় রানের জন্য দৌড়ুবেন, না ছোঁয়ালে আম্পায়ার বলবেন ওয়ান শর্ট, রানটা গণ্য হবে না। বেসবলেও তাই।

    আমেরিকান বেসবলের বিন্দু বিসর্গ না জেনেই আমরা কথায় কথায় বলি টাচ বেস, যার আক্ষরিক অর্থ বুড়ি ছোঁয়া কিন্তু নিহিত অর্থ - অমুকের সঙ্গে কথা বলুন, একত্রে দু পাততর সেবন করে কাজটা গুছিয়ে নিন বা হালচাল জেনে নিন। শুদ্ধ হিন্দিতে, ঊনকে সাথ সম্পর্ক স্থাপিত করেঁ।

    আটলান্টিকের অন্য কুলে ইংরেজ লেখে - ফ্রন্ট ফুট, ব্যাক ফুট, হিট ফর সিক্স, স্ট্রেট ব্যাট, স্টিকি উইকেট ; চেক ফরাসি পোলিশ সহ ক্রিকেটে বিশেষ রূপে অজ্ঞ মানুষ নির্দ্বিধায় সেগুলি ব্যবহার করেন।

    বটম আপ/ টপ ডাউন

    জানুয়ারি মাসে বাৎসরিক বাজেট তৈরির সময়ে বেশ কিছু ইফস অ্যান্ড বাটস জুড়ে দিয়ে বসকে জানালাম, আমার মনে হয় এ বছরে পাঁচ মিলিয়ন ডলার অবধি পৌঁছুতে পারি। আমার মতো অন্য হেডদের নম্বর যোগ করে ফিলিপ তাঁর বড়ো বস মাইককে জানালেন দুনিয়া জোড়া সিনডিকেশন টিমের আয় এতোটা হতে পারে; অর্থাৎ সেই বার্তা নিচের থেকে গেলো ওপরে, বটম আপ ! আমাদের মতন আরও অনেক বিভাগের আয় জুড়ে মাইকের বাজেট।

    সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ মাইকের অফিস থেকে সংবাদ এলো অন্য ডিপার্টমেন্টের রেভিনিউ তেমন সুখপ্রদ নয়, শেষ কোয়ার্টারে সেই ফাঁকটা ভরে দিতে পারলে তিনি সাতিশয় প্রসন্ন হবেন ( মানে বোনাসের সময় বিশেষ বিবেচনা করতে পারেন )। সেটি এখন কেমনে হবে, চুরি না ডাকাতি করে সেটা তাঁর বিবেচ্য নয়। ফিলিপ একটু হাত কচলে বললেন, কি করা যাবে মাইক চাইছেন। এ বাজেটের নাম টপ ডাঊন।

    পু: বটমস আপ অন্য অর্থ বহন করে, সেটা মোদো মাতালের গল্প। এখানে অপ্রযোজ্য।

    ফ্লেশ ইট আউট / পুট ফ্লেশ অন দি বোন

    কথাটা শুনলে ঠাকুর গড়ার কথা মনে পড়ে, কাঠামোতে মাটি লাগানো হচ্ছে! এক্ষেত্রে, আপনি কেবল ডিল সামারি দিয়েছেন শুধু,এবারে ভাব সম্প্রসারণ করে বলুন, প্ল্যানটা কি ? ডিলের চেহারা বা নতুন অরগ্যানাইজেশন ?

    বাই ইন

    ডিল তো ভালো। ফিলিপের চিন্তা এটা তাঁর বস মাইকের মনোমত হবে কিনা, শুধু অর্থ নয় এই খদ্দের, এই প্রমাণ রিস্ক - তাঁর মত পাওয়া যাবে কি? না, মাইক আক্ষরিক অর্থে কিছু কিনবেন না, কাজে এগুনোর আগে তাঁর সম্মতি প্রয়োজন। যে কোন পদক্ষেপের আগে ভাগে বড়ো কর্তার মনটি বুঝে নেওয়া দরকার, কর্তার ইচ্ছায় কর্ম।

    সলিউশন ওরিয়েন্টেড চ্যাট / মিটিং

    সারমণ দেওয়া হয়েছে, সাপ্তাহিক গ্রুপ মিটিং যেন সলিউশন ওরিয়েন্টেড হয়। তার মানে কি ? মঙ্গলবার সকাল ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে পড়ি কি মরি করে নটায় হাজিরা দিই এই কচকচির আড়তে। সে কি শুধু বাজে চা বা কফি পান অথবা ফুটবল আর আবহাওয়া নিয়ে গল্প করার জন্যে ? সলিউশন কি একা আমার হাতে ? অবশ্যই মিটিং শুরু করি সেই শুভ উদ্দেশ্য নিয়ে কিন্তু কখনো বেচালে কর্ড লাইনে চলে যায়। মেরা ক্যা কসুর ?

    অন বোর্ডিং

    জাহাজে চড়া নয়। ধরুন একজন বিজনেসের খাতা খুলতে চান ব্যাঙ্কে, তাঁর বাপ পিতেমোর পরিচয়, বিজলি, জলের রসিদ, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স কপি দিয়েছেন, তাঁর সম্বন্ধে বাজারি তদন্তের রিপোর্ট চলনসই। কিন্তু এতেই শেষ নয়। ব্যাঙ্কের ভেতরে মেজো, বড়ো সায়েব, ক্রেডিট গুরুকে বাজিয়ে দেখতে হবে, সাহেব বিবি রাজি হলে তবেই ইনি সিটি ব্যাঙ্ক নামক জাহাজে চড়তে পারবেন। এর নাম অন বোর্ডিং !

    এটা কোম্পানির নতুন কর্মীদের ক্ষেত্রেও সম্যক প্রযোজ্য- কেউ কাজে সবে যোগ দিয়েছে, জাহাজের কোন খানে লাইফ বোট আছে, দুপুরে লাঞ্চের লাইন কোথায় পড়ে এমনি সব ব্যাপার স্যাপার বুঝিয়ে দিয়ে তাকে অন বোর্ডিং করাতে হবে, নইলে সে বেঘোরে মারা যেতে পারে।

    সিটি ব্যাঙ্কে আমার প্রথম বস জো ম্যাকিয়েভিতস এই পন্থায় সিটি ব্যাঙ্ক নামক জাহাজে আমায় চড়িয়েছিলেন। তবে তখন সেই ১৯৮৫ সালে অন বোর্ডিং কথাটা চালু ছিল না।

    পাইপলাইন

    পাইপ দিয়ে তেল জল আসে। টিম মিটিঙে যখন বস জানতে চাইলেন হোয়াটস ইয়োর পাইপলাইন লুকিং লাইক, প্রথমে বেশ অস্বস্তিতে পড়ে যাই। আজকাল অবশ্য এ পাইপলাইন শুধু তেল জল নয়, সম্ভাব্য বিজনেসের গাল গল্প সহ অনেক আকাশ কুসুম বয়ে আনে। আমরা খুব ভালো করেই জানি এই পাইপলাইনে ডিলের নাম চেহারা আয় বদলাতে থাকে, আজ যে কুমিরছানার গল্পটা করলাম, সেটা পরের মাসে থাকতে পারে, নাও থাকতে পারে। তখন দুসরা কিসসা। খুব তুখোড় বস না হলে ক্যাচ করা শক্ত, তিনি লাইন বাই লাইন নয়, সবার বটম লাইন দেখেন। পাইপলাইন অত্যন্ত লিকুইড।

    জুস ইজ ওয়ার্থ দি স্কুইজ

    মার্কেট রিসার্চের ব্যাপারে নতুন প্রস্তাব দিয়েছেন এক উদ্যোগী ট্রেনি, ‘আমরা যদি কল সেন্টারকে সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মের সঙ্গে জুড়ে দিই ?’ বস বললেন, হ্যাঁ পারো। কিন্তু দেখো, তোমার এই লেবু নিংড়ানোটা যেন বেকার না হয়, দেখো কিছু রস যেন পাওয়া যায় !

    খাটনি পোষানো ? ইজ ইট ওয়ারথ দি এফরট ?

    থট লিডারশিপ

    চিন্তায় নেতৃত্ব দেন কারা ? কোন বীর বৃন্দ ? বসেরা তাঁদের অধস্তনদের উদ্বুদ্ধ করেন, ইউ হ্যাভ টু টেক দি থট লিডারশশিপ, ভাবো নতুন কিছু। ভালো কথা। সহকর্মীদের সঙ্গে টিম মিটিঙে জেমস তাঁর ব্যারিটোন কণ্ঠে বললেন, আমাদের দিশা পরিবর্তন করতে হবে, উত্তর আফ্রিকায় ফরাসি ভাষীদের বাজারটা ধরা প্রয়োজন। নতুন ভাবনা। তাঁর পাশে বসা কর্মীরা ভাবলেন এই মহাপুরুষ কোথা থেকে প্রকট হলেন ? এই চিন্তাটি কি বড়ো সায়েবরা ইতিমধ্যেই অনুমোদন করেছেন না অতি চালাক জেমস নিজেই একটা বল ছুঁড়লেন হাওয়াতে ? জেমসের নিজের মতলবটা কি ? থট লিডারশিপ ?

    পিগিব্যাক

    এটা আমার সময়েও শুনেছি - লেট মি পিগিব্যাক অন হিজ কমেন্ট ! উনি যেটা বললেন, সেই মন্তব্যের সঙ্গে আরও কিছু যোগ করতে চাই, তার ঘাড়ে চড়ে কাঁঠাল ভাঙ্গা ? অথবা কেউ একটা ধান্দা ধরেছেন, তার কপি ক্যাট ?

    লিন ইন

    আমি ওইদিকে ঝুঁকছি। ভালো। আপনি যেদিকে খুশি ঝুঁকতে পারেন কিন্তু যখন আপনি বলেন ‘ আই অ্যাম গোয়িং টু লিন ইন টু ফিনিশ ডেটা কালেকশন ‘ সেটা তো কাজ শেষ করা নিয়ে কথা। নাকি আপনি কি কোন মাকারেনা নৃত্যের তাল খুঁজছেন ?

    প্রোবাবিলিস্টিক

    রাজশেখর বসু কোথাও লিখেছিলেন, এয়া হইতে পারে ওঁয়াও হইতে পারে।কেউ যখন একটা প্রোজেক্টের পরিকল্পনাকে প্রোবাবিলিস্টিক আখ্যা দেন সেটা কি বাতাসে ঘুড়ি ওড়ানো ? যা সম্ভব হতে পারে তাকে শুধু প্রোবেবল বলা যায় না ? নাকি এটা প্রোবেবলের চেয়ে কিছু কম বা বেশি ?

    প্রোবাবিলিটি ইয়ার্ডস্টিক

    তরুণদা স্ট্যাটিস্টিকসের ক্লাসে প্রোবাবিলিটি থিওরি পড়িয়েছিলেন একটা কয়েনকে টস করলে হেড বা টেল, চিত ইয়া পটের সম্ভাবনা ফিফটি -ফিফটি। আজ যদু বাবুর কাছে আগাম ক্ষমা চেয়ে বলি খানিক অঙ্ক কষে অতীতকে চেক করে ভবিষ্যতে প্রোজেক্ট করে প্রোবাবিলিটি না হয় দাঁড় করানো গেল। কিন্তু সেটা তো থানের কাপড় কাটার গজ নয়, তাই দিয়ে ডিলের সম্ভাব্য সফলতা মাপা হবে ? কিংস কলেজে পাঠরতা আমার মেয়ে মায়া বললে ব্যাঙ্ক বা আই টি কেন, এটা আমাদের নানান মডিউলেও ব্যবহার হয়।

    লেট আস পুট এ পিন অন দ্যাট

    আমি একটা দারুণ প্রস্তাব দিলাম টিম বৈঠকে, বস হাঁ বললেন না, নাও বললেন না। আচ্ছা ওটা আমরা পরে ভেবে দেখব, ততক্ষণ লেট আস পুট এ পিন অন দ্যাট। হমে সোচনা হ্যায়। এক সময় শুনেছি, লেট আস পুট ইট অন হোলড অথবা পুট অন এ ব্যাক বারনার, এখন তার স্থান নিয়েছে একটি পিন, নির্ঘাত গুগলের কারসাজি ! আপনি কোথায় আছেন বা কি খুঁজছেন সেখানে একটি পিন ঠুকে দিন। আবার আসিব ফিরে। হয়তো।

    কান্ট পুট মাই আর্মস অ্যারাউনড ইট

    কাকে কার আলিঙ্গন ? না, এটা রূপক মাত্র। বক্তা বলতে চাইছেন এ ব্যাপারটা বুঝে উঠতে পারছি না। ইমেজটি অসাধারণ, কোনো দার্শনিক ( শোপেনহাউয়ার হতে পারেন) বলেছিলেন সত্য বা ঈশ্বরকে খোঁজা আর অন্ধকার ঘরে একটা কালো বেড়ালের সন্ধান করা একই রকমের কঠিন কাজ। আমাদের জাগতিক বা অর্থনৈতিক দুনিয়াতে কোন একটা সময়ে আমরা ব্যাপারটা বুঝে উঠি, তাকে আলিঙ্গন করতে পারি। অন্যথায় বসের কাছে বকুনি খেতে হতে পারে।

    পিল দি অনিয়ন

    পেয়াজের খোসা ছাড়াতে গেলে চোখে জল আসে এবং সে খোসা ছাড়ানোর কাজ ফুরোবার নয়। কিন্তু একথা প্রভুকে বললে তিনি ভাববেন আমি ঠাট্টা করছি, তাঁর এই চিত্রকল্পটিতে কাদা ছুঁড়ছি। তিনি চাইছেন আমি খুলে বলি ঘটনাটা কি।

    মনে আছে ঢাকায় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাঙ্কের হাজি ম্যানসনের অফিসে আশেকের প্রভাতি সম্ভাষন, আরে বলেন, কি ঘটনা কি রটনা ?

    কিকিং দি ক্যান ( ডাঊন দি রোড )

    ফ্রেড টিটমাসের বলে চান্দু বোরদের বাউনডারি দেখে শঙ্করীপ্রসাদ বসু অনন্য চতুর্দশপদী ছন্দে লিখলেন *

    রাজার প্রতাপে বলে দূর লোকারণ্যে
    নির্বাসিলে টিটমাসে, নষ্ট নারী সম

    এক্ষেত্রে বল অথবা কোকা কোলার ক্যানে পদাঘাত করে তাকে দূর লোকারণ্যে পাঠানোর অর্থ – এ বিষয়টা আপাতত মুলতুবি থাক। পরে কখনো দেখা যাবে, অথবা কখনোই নয় ( পুট দি পিন দ্রষ্টব্য)।

    ক্রস ফাঙ্কশনাল সিনারজি

    এক কোম্পানি আরেকটিকে দখল করার প্রপোজাল পেশ করার সময়ে কেউ বললেন,, কি বিশাল সিনারজি সঞ্চার হতে পারে ভেবে দেখুন ! এই বিষয়ে আমার বিষম অনীহা ছিল এবং আছে। জোর জবরদস্তি করে হোক বা ভালবেসেই হোক, দুটি কোম্পানির সম্মিলনে সকল কর্মী উদ্বাহু হয়ে একে অপরের গলা জড়িয়ে ধরে আমরা দুটি ভাই শিবের গাজন গাই বলে কখনোই সঙ্কীর্তন করেন না। থেকে যায় অজস্র সংশয়, পারস্পরিক সন্দেহ। আমি ভুক্তভোগী। সিটি ব্যাঙ্কের সি ই ও জন রিড এবং ট্রাভেলারস / সলোমন ব্রাদার্সের মালিক স্যানডি ওয়াইল যখন বেতারে, টি ভিতে, ক্লিনটনের দরবারে বলে বেড়াচ্ছেন আহা ইন্সিউরেন্স, ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কিঙ্গের সঙ্গে কর্পোরেট ব্যাঙ্কিঙ্গের এ কি আশ্চর্য মিলন, তখন তো দেখেছি সিটি ব্যাঙ্কের কর্মীদের গভীর অনিশ্চয়তা, কাজ থাকবে তো ? দু বছরে আমাদের ব্যাঙ্কের চেহারা চরিত্র বদলে গেল, শেয়ারের দাম ছাপান্ন থেকে পাঁচ ডলারে নেমে এলো। ভেবে দেখুন ম্যানুফ্যাকচারারস হানোভার ট্রাস্ট, কেমিকাল, চেজ ম্যানহাটান, জে পি মরগান মিলে আজকের ব্যাঙ্ক জে পি মরগান - কোথায় সিনারজি ? আমেরিকা অন লাইন এবং টাইম ওয়ারনারের মার্জার মনে পড়ে ? তাদের নেতারা বলে বলে থকে গেলেন অন লাইন নিউজ আর প্রিন্ট মিডিয়ার বিপুল সিনারজি অবশ্যম্ভাবী। তাদের আলাদা হয়ে যেতে দু বছর লেগেছিল। ইতিহাসে এর নমুনা অজস্র। আমার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কিঙ্গের কালে যে কোন মার্জার /অ্যাকিউজিশনের ডিলে আমি সিনারজির মানিটারি ভ্যালুকে বিশেষ মূল্য দিই নি।

    ক্রস ফাঙ্কশনের ভেতরেই দ্বন্দ্ব নিহিত আছে ; একই প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ক্রস ফাঙ্কশনাল সিনারজি কোন সঞ্জীবনী বটিকা নয়। এটি যে অসম্ভব একথা বলি না, তবে বিভিন্ন তাঁবুর পদাতিক সৈন্যদের একত্র বসে সন্ধ্যে বেলা খণ্ডন ভব বন্ধন গাওয়ার অলীক স্বপ্ন না দেখাই ভালো; অবশ্য আমাদের সি ই ও এই হার্ড সেল করতেই থাকবেন, তাঁকে যে স্ক্রিপ্ট ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে - দ্যাখো মিলে মিশে কাজ করার কতো ফায়দা।

    গ্রোথ মাইন্ডসেট

    বোনাসের এনভেলপ হাতে তুলে দেওয়ার সময় বস বললেন, হয়তো এটা আপনার আশা অনুযায়ী নয়। আপনি কাজ মোটামুটি করছেন বটে কিন্তু আপনার মধ্যে গ্রোথ মাইন্ডসেট দেখতে পাচ্ছি না।

    মানে রেভেনিউ বাড়ছে না, তাই তো ?

    প্রভু, এই ব্যবসার পরিচালক, প্রযোজক, সম্পাদক আপনি। ভবিষ্যতের দিশা দেখানোর ভার আমার? সিধে বলুন আয় বাড়ছে না, তার সব দায়িত্ব আমার ঘাড়ে কেন চাপাচ্ছেন ?

    ইন্টেলেকচুয়াল হর্স পাওয়ার

    এককালে গাড়ি টেনেছে ঘোড়া। গটলিব ডাইমলার ও কার্ল বেন্তস তাকে আস্তাবলে ফেরত পাঠালেন বটে কিন্তু তার স্মৃতি রইলো অমলিন। আজকের আধুনিকতম শৌর্য বীর্য সম্পন্ন মার্সিডিজ বা পরশের পরখ তার অশ্বশক্তি। এবার আই টির দুনিয়াতে দেখা দিয়েছে বুদ্ধির অশ্বশক্তি, যাকে হয়তো সাদা বাংলায় বলি বুদ্ধির দৌড়। পারিবারিক সূত্রে পরিচিতা ইউরোপীয় মাইক্রো সফটের এক ডেভেলপারের কাছে শুনলাম কারো বুদ্ধির দীপ্তির মাপ হিসেবে এটি তাঁরা আকছার ব্যবহার করে থাকেন ; কারো হর্স পাওয়ার একশো কারো বা মাইনাস দশ।

    অপটিমিজম ইজ এ রিনিউয়েবল রিসোর্স

    আশার ছলনে ভুলি কি ফল লভিনু হায় ?

    এই বেদবাক্য নিঃসৃত হয়েছে মাইক্রো সফটের হর্তা কর্তা স্বয়ং সত্য নাদেলার শ্রীমুখ থেকে। জানিয়েছেন এক্স বক্সের হেড, শ্রীমতী আশা শর্মা। সত্য নাদেলা তাঁকে বলেছেন, সবসময়ে আশাবাদী থাকুন, একবার নয়, বারবার। একবারে টার্গেট না ধরতে পারলে ভেঙ্গে পড়বেন না। আষাঢ়ে নয়, আশার দীপটি জ্বালিয়ে রাখুন। আশা রিনিউ করতে থাকুন।

    নো পান ইনটেনডেড !

    রেসিন, উইসকনসিনের আশা শর্মা সম্প্রতি এক্স বক্সের সি ই ও পদে অভিষিক্ত হয়েছেন।

    আমারে পাছে সহজে বোঝো, তাই তো এত লীলার ছল

    চেনা শব্দে মোচড় দিয়ে নতুন ফ্রেজিওলজি বানানোর পেছনে কি কোন গভীর উদ্দেশ্য নিহিত আছে ? জর্ডান কনরাড নামক নিউ ইয়র্কের এক সাইকো থেরাপিস্ট হালে বলেছেন আমাদের দৈনন্দিন শব্দ ও বাক্যাংশ চয়নের মুখ্য উদ্দেশ্য দুটি : বার্তা বিনিময় এবং পারস্পরিক সম্পর্ক সুরক্ষা। হয়তো এই দ্বিতীয় কারণে আমরা শব্দ চয়নের সময়ে তার সম্ভাব্য ঘাত প্রতিঘাতের বিষয়টি মাথায় রাখি।

    কথাটা ভেবে দেখার মতন।

    আমি যে অকাজের কাজি এ সত্যটি শুনতে যতোই খারাপ লাগুক না কেন, আমার বিভিন্ন বস বিভিন্ন সময়ে ও ভাষায় স্পষ্ট করেই সেটা সমঝে দিয়েছেন। স্টেট ব্যাঙ্কে গুপ্ত সায়েব দু বার মাথা দুলিয়ে বলেছেন, এ হে, এটা কি করলেন সিংহরায় ? অটল সায়েব বলতেন, অপনা দমাগ ঘর ছোড় আয়ে হো ক্যা ? হের শেফার বলেছেন , জি হাবেন রাইনে মিষ্ট গেবাউট ( আপনি একটি ধোঁয়াশা সৃষ্টি করেছেন ); আমেরিকান জো ম্যাকিইয়েভিতস কোদালকে কোদালকে বলতে কসুর করেন নি, হোয়াট ডু ইউ থিংক ইউ আর ডুইং ? ইংরেজ ফিলিপ বলেছেন, ইউ কুড হ্যাভ ডান বেটার।

    এমনিতেই মরমে মরে আছি, তার ওপরে আধমরাকে ঘা মারা।

    ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে বক্তব্য পরিবেশনের ইংরেজি প্রথা বিশ্ব বিদিত। জর্ডান কনরাডের মতে আজকের আমেরিকান বিজনেস স্পিক বেছে নিয়েছে মধ্য পন্থা, যেখানে কেউ সরাসরি বলেন না আপনাকে এখানে চাকরি দেওয়াটাই আমাদের ভুল হয়েছে। যেমন কথিত আছে কোন মিটিঙে গাড়োলের মতো কেউ প্রশ্ন তুললে ফরাসি রাষ্ট্রপতি শারল দি গল ক্ষিপ্ত হয়ে জিজ্ঞেস করতেন, এ শুয়োরটাকে এখানে কে ঢুকতে দিয়েছে ( হু লেট দি পিগ ইন ? কি আ লেস অন্ত্রার ল্য কোশোঁ) ?

    আবেগ নয়, আজকের কর্পোরেট স্পিক অপ্রিয় মন্দ ক্রুর বার্তা অধস্তনের কাছে পৌঁছে দেয় কিছু আপাত অনাবশ্যক চিত্রকল্প বা শব্দের অস্পষ্ট সাঙ্কেতিক মোড়কে মুড়ে। ডিকোড না করা অবধি তার কোন অর্থ উদ্ধার করা শক্ত। কনরাড বলেছেন এ কোন সরাসরি আক্রমণ নয়, এখানে আছে সেফটি বাফার ; ভাবের অভাব হলেই ভাব বাচ্যের আবির্ভাব হয়, তাই সহকর্মী বা বসেরা যে কোন ভুলত্রুটি নিয়ে নিতান্ত নিরাসক্ত ভাবে আলোচনা করতে পারেন।

    আপনি ভুল করেছেন এমন নয় ; মিসটেকস হ্যাভ বিন মেড।

    দোষ কারো নয় গো মা।

    এর নাম মুখ রক্ষা ? ফেস সেভিং ?

    যেমন

    ইউ ওয়ের বিল্ডিং দি প্লেন হোয়াইল ফ্লায়িং ইট

    স্টেজে মেরে দেওয়া ? নাকি চলতে চলতে য়ুহী কোই মিল গয়া থা ? আজকের টেকি দুনিয়া বা কর্পোরেট সুইটে বলা হয় না - এমন আধা খেঁচড়া কাজ করেন কেন ? সেখানে শোনা যায়, আপনি কি পুরো ভেবে কাজটা করছিলেন, না যখন যেমন মনে হল তেমনই ? প্লেনটা তৈরি হয় নি আর আপনি এয়ারক্রাফট বিল্ডিং ম্যানুয়াল নিয়ে তাতেই চড়ে বসলেন?

    বোকার মতো কাজ করছেন কথাটা শুনলে আঁতে ঘা লাগে, প্লেন ওড়ানোর গল্পে অতোটা নয়। যদিও নিহিত অর্থটি একই।

    লেট আস সানসেট দি ইনিশিয়েটিভ

    ১৯৯০ সাল। আফ্রিকার বিভিন্ন ব্যাঙ্কের সঙ্গে কাজ কর্মে বেশ লেগে পড়েছি, দুটো পয়সা আসছে, এমন সময় এক মিটিঙে নিউ ইয়র্কের বড়ো কর্তা গুনটার গ্রাইনার বললেন ‘ সময় নষ্ট করবেন না। আফ্রিকান ফাইনানশিয়াল ইন্সটিটুইশন ইজ এ সানসেট ইন্ডাস্ট্রি ‘। ইংরেজ সাম্রাজ্যে সূর্যাস্ত হতো না শুনেছি কিন্তু গ্রাইনার সায়েব হয়তো বলতে চাইলেন আফ্রিকান বিজনেসে পয়সা হবে না, এটি মৃত্যুপথের যাত্রী, ডাইং ইন্ডাস্ট্রি। সেদিন তাঁর মন্তব্যের সদার্থ বুঝতে অসুবিধে হয় নি যদিও ভবিষ্যৎ তাঁর আশঙ্কাকে ভ্রান্ত প্রমাণিত করেছে।

    আজকের জুবানে সূর্যাস্ত নিয়েছে অন্য চেহারা, এমনকি সেটি এখন ক্রিয়াপদে পরিণত ! অধস্তন কর্মী এমন একটি প্রপোজাল নিয়ে খাটছে যার কোন ভবিষ্যৎ আছে বলে বস মনে করেন না। তিনি বলতেই পারতেন, ক্ষ‍্যামা দিন দিকি। এটা শিকেয় তুলে কাজের কাজ কিছু করুন। কিন্তু সেই কথাটাই বস কি সুন্দর করে আপনার মনে দু:খু না দিয়ে বললেন, আপনার উদ্যোগের সূর্যাস্ত ঘটান।

    সত্যজিৎ রায়ের ছবিতে দেখেছি মহাপুরুষ চারু মজুমদার চলন্ত ট্রেনের জানলার বাইরে সূর্যকে হুকুম দিচ্ছেন, ওঠ, ওঠ ! আজকের আমেরিকানায় সূর্যকে অস্তাচলেও পাঠানো হয়।

    এ কেস অফ মানডেজ

    পথে গাড়ি বেগড়বাঁই করলে জার্মান ক্ষিপ্ত হয়ে বলে, মোনটাগস ভাগেন ( সোমবার বানানো গাড়ি )। উইকএন্ডের খোয়ারি কাটেনি কিন্তু সোমবার কাজে হাজিরা দিতে হয়েছে। যার শরীর মন কোনটাই ঠিক জুতসই নয় , তার দ্বারা আর কি কাজ হবে ? মার্সিডিজ হোক আর বি এম ডব্লিউ হোক, কারখানায় সোমবারে কেউ মন দিয়ে কাজ করে না তাই সেদিনে তৈরি গাড়ি কেনা উচিত নয় ! তার মানে অবশ্য এই নয় যে মঙ্গলবারের গাড়ি সম্পূর্ণ ত্রুটিহীন! আমি অন্য কোথাও লিখেছি আমার প্রথম মার্সিডিজ গাড়ি কেনার সময়ে তাদের জিনডেলফিঙ্গেন অফিস থেকে ফোন পেয়েছিলাম, গাড়িটি অমুক মঙ্গলবার বানানো হবে, এসে দেখতে পারি।

    জার্মানি ছাড়ার বহু বছর বাদে আবার সোমবারের মাহাত্ম্য বুঝলাম- যে কোনদিনই ঠিকমত কাজ করে না, তার সব দিনের কাজের কোয়ালিটি সোমবারের মত।

    ট্রাই নট টু বয়েল দি ওশিয়ান

    অসম্ভবের পায়ে মাথা খুঁটে মরা ? এটা হবার নয় ? না হয় বলুন এ কাজে হাত না দেওয়া বা এর পিছনে ধাওয়া না করাই ভালো ?আহা তাতে যদি আমার মনে আঘাত লাগে তাই বললেন, সাগরের জল ফুটিও না! জল গরম করার ইমেজটি কিন্তু দুর্দান্ত; স্পেনে আমাদের টরেমোলিনোসের ফ্ল্যাটের জানলা দিয়ে চাঁদনি রাতে ভূমধ্যসাগরের দিকে চেয়ে ভাববার চেষ্টা করেছি - সমুদ্রের জল টগবগ করে ফুটছে আর আমার বস বলছেন হিটারের সুইচ বন্ধ করে শিগগির সাপ্তাহিক রেভেনিউ রিটার্ন ফাইল করুন।

    ক্যান আই পুট ইউ ব্যাক অন ইওর রেডার ?

    ফিলিপকে বললাম ভাবছি মরক্কো যাই, ফসফেট রপ্তানির ব্যবসাটা ধরা যাক। আমার দিকে চেয়ে তিনি বলতে পারতেন,, ট্রাভেল এজেন্সির গল্প বাদ দিয়ে যে কাজটা করছিলেন সেটাই মন দিয়ে করুন। এলেবেলে ধান্দার পেছনে ছোটার কোন প্রয়োজন নেই, বাজেটে ঘাটতি দেখছি।

    না বলে কি সুন্দর ভাবে তিনি আমাকে আমার যোগ্য ঠিকানায় অথবা রেডারের আওতায় পাঠিয়ে দিলেন! তবে সেটি বলার তরিকা ভি দেখ লিজিয়ে ! আজ হলে গিরিশ ঘোষের নাটকের চরিত্রের মতন সবেগে প্রস্থানের সময় বলে যেতাম

    নো ওয়ারিজ, ফিলিপ। আই অ্যাম অন এ আপওয়ার্ড ট্রাজেকটরি উইথ ফুল ব্যান্ডউইডথ, উইল সারকল ব্যাক অ্যান্ড রিচ আউট টু ইউ নেক্সট উইক!

    ক্রমশ

     
    • শঙ্করী প্রসাদ বসুর রিপোরতাজ : ভারত বনাম ইংল্যান্ড তৃতীয় টেস্ট ম্যাচ, ইডেন গার্ডেনস
    ২৯ জানুয়ারি -৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৪



    ট্রাই নট টু বয়েল দি ওশিয়ান !

    জানলার বাইরে পূর্ণ চাঁদের আলোয় ভূমধ্যসাগর- টরেমোলিনোস স্পেন

    পু:

    এই পর্বে বর্নিত কোন চরিত্র কাল্পনিক নয়
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ২১ আগস্ট ২০২৬ | ১৯২ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Debanjan | ২১ আগস্ট ২০২৬ ২১:৩৯742333
  • "বনগাঁ লোকালের ফিরিওলার মলমে কাজ না হলে আপনার আর্থিক ক্ষতি সামান্য, মেরিল গোল্ডম্যানের গ্রিক বা সিনথেটিক বন্ড কিনে অর্থদণ্ডের সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি।" হিরেনদা আপনার এই উপমাটি অতুলনীয় l বনগাঁ লোকালের ফিরিওলার মলমের সঙ্গে মেরিল গোল্ডম্যানের গ্রিক বা সিনথেটিক বন্ড এর তুলনা টানা অসাধারণ l আচ্ছা একটা প্রশ্ন বর্তমান যুগের ইনভেস্টমেন্ট অপশন্স নিয়ে জিজ্ঞেস করছি l হেজিং ব্যাপারটা কি ? এখন দেখছি অনেক সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক হেজিং করতে আম্রিকি ট্রেজারী বন্ড বেচে সোনা রুপা তামা কিনবার কথা বলছেন l এই ব্যাপারটা একটু বুঝিয়ে বলবেন l
  • অরিন | ২২ আগস্ট ২০২৬ ০৩:২৪742338
  • বাবা, এ তো jargon এর ফায়ারহোস ছেড়েচেন মশাই।
    তবে দুটো ‍টিপ্পনি করার অনুমতি যদি থাকে:
    "এও হয় ওও হয়" রাজশেখর বসুর বা পরশুরামের কোন লেখায় পড়েছি মনে করতে পারলাম না, যদিও যতদূর মনে পড়ে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের "সেই সময়" বইতে এর একটি উল্লেখ ছিল, কোন পাতায় কোন কনটেক্সটে দেখে বলতে হবে।
    আর "গ্রোথ মাইণ্ডসেট" একটি শুধু কর্পোরেট কথার কথা নয়, ক‍্যারল ডয়েক দিদিমণির প্রণীত একটি অবশ্যপাঠ্য‍ গ্রন্থ ও বটে, যেখানে তিনি গ্রোথ ও ফিক্সড মাইণ্ডসেট সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মাথা ঠাণ্ডা রেখে এগিয়ে যাওয়া (গ্রোথ মাইণ্ডসেট) বনাম যা আছে তার ব‍্যত‍্যয় হলেই উদ্বেলিত হওয়া (ফিক্সড মাইণ্ডসেট) নিয়ে চমৎকার লেখা, এক সময়ে শিক্ষাসত্রে বিস্তর আলোচিত হত।
     
    চালিয়ে যান।
  • হীরেন সিংহরায় | ২২ আগস্ট ২০২৬ ১২:২১742342
  • ধন্যবাদ। মনে হয় চিকিৎসা সংকটে পড়েছি তবে আশির কাছাকাছি এসে স্মৃতির ওপরে আস্থা রাখা শক্ত। ভুল হতেই পারে।
    গ্রোথ মাইন্ড সেট শুধু নয় অজস্র এমনি শব্দ আজকের কর্পোরেট স্পিকে ঢুকে পড়েছে তার আদত অর্থ ভুলে বা না জেনে। যেমন চেক পোলিশ কলিগকে ফ্রন্ট ফুট ব‍্যাক ফুট বলতে শুনেছি ! ক্রিকেট তারা জানেন না যদিও।
     
    চালিয়ে যাবার কোন বাসনা নেই। ভাষা চর্চা আমার হবি মাত্র তাই এই সব অকিনচিতকর লেখা লেখি। কেউ কেউ পড়েন। তাই যথেষ্ট!
  • অরিন | ২২ আগস্ট ২০২৬ ১৪:৩০742346
  • "চালিয়ে যাবার কোন বাসনা নেই।"
     
    এ আবার কেমনধারা কথা! এ সমস্ত অনবদ‍্য লেখা মশাই, অনবদ‍্য, এই ক্লাসের wit আর মুনসিয়ানা আজকাল দেখবেন কোথায়? আপনার কলম ও ইলেকট্রন সমূহ দীর্ঘজীবি হোক হীরেনবাবু।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে প্রতিক্রিয়া দিন