এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • অরিন | 119.224.***.*** | ২৮ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:১০736247
  • খাবারের বিধিনিষেধ পড়ে মনে হয়, এ সমস্ত আইন কানুন বহু যুগ ধরে একটু একটু করে সময় অনুযায়ী গড়ে উঠেছে। পাখীর মাংস খাওয়া নিয়ে বিধিনিষেধ বা মাছ খাওয়া নিয়ে taboo পড়ে অদ্ভুত লাগল। মনুর বিধি সব যুগে সকলে মেনেছে এমন নয়। মৈথিল এবং বাঙালী ব্রাহ্মণরা বরাবরই মাছ খেতেন, এমনকি নিম্বার্রকের এই নিয়ে বক্তব্যও রয়েছে (হাতের কাছে রেফারেন্স নেই, হয়ত নিম্বার্ক নন, অন‍্য কেউ হবেন), বক্তব্য ছিল যেখানে যা সুলভ যেমন বাঙলায় যারা থাকেন তাঁদের মাছ খেতে নিষেধ নেই। ভারতে বৌদ্ধ প্রভাবে খাওয়া নিয়ে কিছুটা হলেও নিশ্চয়ই প্রভা পড়েছিল। মনু মহারাজ এ বিষয়ে কি পন্থা অবলম্বন করেছেন? 
  • হীরেন সিংহরায় | ২৮ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:২৮736250
  • কত অজানারে! 
    ইহুদির সঙ্গে খানিক মেলে। 
    ৫/১১-১৭ খাদ‍্যাদি কোশার নয় অতএব ইহুদি ধর্মে নিষিদ্ধ।বরাহ অপরিচ্ছন্ন ,  ক্ষুর বিভক্ত নয় বলে অশ্ব উট বাতিল। পাখনা ( fin)বিহীন মাছ  চিংড়ি এবং সকল প্রকারের সমুদ্র মৎস একেবারেই নিষিদ্ধ ।পাখির ব‍্যাপারে মনু মহারাজ ও মোজেস একমত! তবে মনু যে রকমের এক্সারসাইজ ইন কন্ট্রাডিকশন দেখিয়েছেন সেটা জুডাইজমে নেই । না মানে না - যজ্ঞ হলে বা শুদ্ধ করে খাওয়ার ধাপপা বাজি নেই। ৭০ খ্রিস্টাব্দে মন্দির ধ্বংস হলে বিশুদ্ধি করনের পথ বন্ধ। 
  • Ranjan Roy | ২৮ নভেম্বর ২০২৫ ২২:৪৯736257
  • আলোচনা জমে ক্ষীর।
    দেখাই যাচ্ছে, সময়এর সঙ্গে মনুসংহিতায় অনেকের হাত পড়েছে। 
    এ যেন আগাথা ক্রিস্টির মার্ডার ইন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস --নানানা মোটিভেশনে এক জনকে সবাই মিলে আলাদা আলাদা করে প্রাণঘাতক আঘাত করেছে। 
    অবশ্যই মনুসংহিতা রচনার সময়ের (কমন এরা প্রথম বা দ্বিতীয়) অনেক আগে বৌদ্ধধর্ম এসে গেছে। যদিও মনু এ নিয়ে কিছুই বলেন নি। কিন্তু খাদ্যাভ্যাসে খানিকটা যেন বৌদ্ধ ছাপ। 
  • sangeeta das | ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ০৬:০৯736268
  • খুব জানতে ইচ্ছা করছে, ঘরের খেয়ে এমন বনের মোষ তাড়াতে ওনাকে, কে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন? মনু কি চন্ডীমন্ডপে বসা জেঠু? এতো বিষয়ে ওনাকে কে বকতে মনুপ্রেরণা দিইছিল? 
  • Prabhas Sen | ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ১০:১৮736273
  • শ্রুতি আর স্মৃতি। শুনেছি সনাতন ধর্মের  এই  দুটি ই প্রধান  নির্দেশক।  শ্রুতি  যা চিরন্তন তার  চর্চা। স্মৃতি হল দৈনন্দিন জীবন যাপনের নির্দেশিকা, যা পরিবর্তন হতে পারে এবং হয়ে থাকে। আত্মতত্বের চর্চা শ্রুতি । উপনিষদ  ইত্যাদি শ্রুতি। 
  • Anindya Rakshit | ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ১১:৪৮736277
  • কোন মনুর কথা বলছেন? মনু ছ্যাঠার্ঝি? 
    যদ্দূর জানি, বৈদিক আর্যদের ডিশ ছিল ঝলসানো ষাঁড় আর সোমরস, অর্থাৎ, বীফ স্টেক আর ওয়াইন। আমারও ওটাই ডিশ। ওয়াইন কেনার পয়সা না থাকলে বাংলা দিয়ে কাজ চালিয়ে নিই। টিটাগড় ইস্টিশন এর কাছে, ইদ্রিস ভাইয়ের রেস্টুরেন্টে, স্বল্প মূল্যে অতি স্বাদু বীফ কাবাব সুলভে পাওয়া যায়। সঙ্গে, তন্দুরি রুটি। খাসা ডিনার হয়ে যায়।
    কোনো মনুর সন্তান আসুক দেখি আমার বাড়া বীফে ছাই দিতে! 
  • Ranjan Roy | ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ১২:০৩736278
  • @,প্রভাস, 
    শুধু উপনিষদ নয়, সমগ্র বৈদিক সাহিত্যই শ্রুতি। কারণ, গোড়ায় লিখিত সাহিত্য ছিল না। বার বার আবৃত্তি ও শ্রবণের মাধ্যমে মনে রাখা হত। তাই শ্রুতি।
    এবং বৈদিক সংহিতায় সূক্তগুলি পড়ে দেখুন, আত্মতত্বের কথা খুব কম অংশে আছে। বেশির ভাগ অংশে ইন্দ্র ও অগ্নির কাছে নানারকম প্রার্থনা।
    বৃষ্টি, ফসল, যুদ্ধে বিজয় ও সন্তানের জন্য। এমনকি পাশার বন্দনা -- জুয়ো খেলায় জেতার জন্য।  জ্বরব্যাধির কাছে -- যাতে ছেড়ে যায়।
    মন্ত্রী রামদাস গো, করোনা, গো বলে যজ্ঞ করেছিলে।
    ঋগ্বোদে উর্বশী পুরুরবার প্রেম ও বিরহ নিয়ে চমৎকার কাব্যময় ব্যালাড আছে, সম্ভবত: যজ্ঞের সামনে অভিনয় করা হত।
    উপনিষদ হল আরও পরের , বৈদিক সাহিত্যের আরণ্যক অংশে। এখানে অবশ্যই বিভিন্ন কাহিনীর মাধ্যমে আত্মতত্বের গভীর চর্চা আছে।
     
    2 স্মৃতিশাস্ত্র =  সমাজ উন্নত ও আঁটোসাটো হলে তাকে নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনের জন্য প্রচলিত আচার আচরণ , প্রথাকে কোডিফাই করা। এতে তখনকার হিসেবে সিভিল ও ক্রিমিনাল কোড, রাজা ও গৃহস্থের আদর্শ আচরণ বিধি, পাপপূণ্য প্রায়শ্চিত্ত --সবই আছে।
     
     
    @, সংগীতা,
    মনুস্মৃতি হঠাৎ একদিন লেখা হয় নি, ওর মাথায় আচমকা গজায় নি। যা চলে আসছিল উনি তার সম্পাদনা করেছেন ।
     
    আইন সবসময় ক্ষমতাসীন বর্গের কথা ভেবে তৈরি হয়। তখন ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয়ের রাজত্ব। তাই বর্ণাশ্রম ধর্মের প্রতিফলন মনুস্মৃতিতে।
    তবে আজকের সমাজে এ জিনিস অচল।
  • Ranjan Roy | ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ১২:২১736279
  • @ প্রভাস
    বেদ ও উপনিষদ চর্চার থেকে জন্ম নিল ষড়দর্শন ---- সাংখ্য, যোগ, ন্যায়, বৈশেষিক, পূর্ব মীমাংসা ও উত্তর মীমাংসা বা বেদান্ত।
     
    এদের সূত্রগ্রন্থগুলো প্রপার দার্শনিক বিতর্কের কালেকশন। এগুলোতে নিজস্ব মেটাফিজিক্স ও এপিস্টেমোলজি (কোনটা প্রমাণ, কোনটা গ্রাহ্য নয়) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা আছে।
    আর আছে অন্য স্কুলগুলোর সঙ্গে বিতর্ক, বাদ পড়েনি বেদবিরোধী বৌদ্ধ ও জৈন দর্শনের সঙ্গে তীব্র বিতর্ক।
    পড়লে  বোঝা যায় অমর্ত্য সেন কেন তর্কপ্রিয় ভারতীয় বলেছিলেন।
     
  • sangeeta das | ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ০৯:৫০736311
  • রঞ্জন(বাবু/দাদা?) সে তো মোটামুটি বুঝেছি। কিন্তু এইগুলি কি কেবল সমাজব্যবস্থাকে কেবল কোডিফাই করার উদ্দেশ্যে?
  • Ranjan Roy | ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:৫১736373
  • হ্যাঁ, আমি রঞ্জনদা।
     ঠিক তা নয়। সমাজ তো তার নিজের নিয়মে চলেছে। বিভিন্ন শক্তি ও পরিবেশের চাপে নিয়ম কানুন বদলাচ্ছে। রীতিনীতি অভ্যাস গড়ে উঠছে। তারপর নানা মুনির নানা মত। কাজেই একটা সময়ে কোনটা আচরণীয় এ নিয়ে কাউকে না কাউকে কোদিফাই করতেই হত। জন্ম নিল মনু, পরাশর, যাজ্ঞবল্ক্য ও আরও অনেকের লেখা স্মৃতি গ্রন্থ।  
     অধিকাংশ বিষয়ে এদের বিধান মোটামুটি এক, তবু কোথাও কোথাও ফারাক আছে। ধীরে ধীরে মনুর গ্রন্থটিই সবার উপরে বলে স্বীকৃতি পেল।
     
    দেখুন, বিধবাবিবাহের পক্ষে শাস্ত্রের ধরতাই দিতে বিদ্যাসাগরকে যে বিখ্যাত  শ্লোকটি ---"নষ্টে মৃতে প্রব্রজিতে --" ইত্যাদি-- আওড়াতে হয়েছিল তাতে পাঁচটি ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে  স্ত্রীলোকের দ্বিতীয় বিবাহ শাস্ত্র সম্মত বলা হয়েছে। 
    মজার ব্যাপার এই শ্লোকটি মনুস্মৃতিতে নেই, পরাশরে আছে।
    মনু নারীর দ্বিতীয় বিবাহের পক্ষে ছিলেন না। উল্টোটাই বলেছেন।
  • sangeeta das | ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৬:৩৫736524
  • বুঝলুম দাদা। লিখে যান। পড়ে ভালো লাগছে। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি মতামত দিন