এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • স্বপন সেনগুপ্ত ( ঝানকু ) | 103.218.***.*** | ১৩ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:০২735745
  • অত্যন্ত জরুরি প্রবন্ধ ....
    অসাধারণ!
     
  • হীরেন সিংহরায় | ১৩ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:৫৮735748
  • মনুর ব‍্যাংকিং সুদের  বিধানটি  অতি  চমকপ্রদ । ব্রাহ্মন দেবে মাসে ২%  ক্ষত্রিয় ৩% বৈশ‍্য ৪% শূদ্র  ৫% । বার্ষিক রেট হলো ২৪% ৩৬% ৪৮% ও ৬০% যথাক্রমে । স্টেট ব‍্যাংকে দেখা ডিফারেনশিয়াল রেট অফ ইন্টারেস্টের  পয়লা নজির।  এবার তোমার আমার ই এম আই হিসেব করো! 
     
  • অরিন | 119.224.***.*** | ১৪ নভেম্বর ২০২৫ ০১:৩০735758
  • মনুস্মৃতি কে লিখেছিলেন একটু আলোচনা করুন না। মনু আসলে কে ছিলেন? কবে, কোথায় থাকতেন? এ বই (?) লেখার প্রেক্ষাপট কী? এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হলে পড়তে সুবিধা হয়। 
  • Ranjan Roy | ১৯ নভেম্বর ২০২৫ ০০:১৯735908
  • অরিন
    সরি, আপনার পোস্টটি আজ দেখলাম। 
     
    ১ বিশেষজ্ঞদের মতেঃ মনুসংহিতা রচনায় কালে কালে অনেকের হাত পড়েছে। তাই অনেক পরস্পরবিরোধী নির্দেশ। নারীকে চারটে শ্লোকে দেবী জ্ঞানে স্তুতি, আবার ৩৬টি শ্লোকে গুষ্ঠির ষষ্ঠীপুজো! 
    খাদ্যাখাদ্য নিয়েও নানান বিরোধাভাস। কিন্তু দুটো ব্যাপারে কোন বিরোধ নেইঃ
     
    এক, ব্রাহ্মণকে অনেক বড় অপরাধেও প্রাণদণ্ড দেয়া চলবে না। বড়জোর দেশান্তরী করা যেতে পারে।
    কিন্তু শূদ্র বেদপাঠ করলে বা ব্রাহ্মণকে অপমান করলে কঠিন শারীরিক শাস্তি, এমনকি প্রাণদণ্ড। 
     
    দুই, নারীর স্বাধীনতা নেই। তিনি দ্বিজ নন, পৈতে হয় না। তাই শাস্ত্রপাঠ করতে পারেন না।
    বোঝাই যায়, স্মৃতিশাস্ত্র বেদ উপনিষদের অনেক পরে রচিত। তখন অপালা, বিশ্ববারা, গার্গী, মৈত্রেয়ীদের দিন গেছে।
    গবেষকেরা একমত এর রচনাকাল ১ম এবং ২য় কমন এরা (সি ই) নাগাদ। 
     
    এর চারটে ভার্সন পাওয়া যায়। উইলিয়াম জোন্স এন্ড কোং বঙ্গীয় ভার্সন পেয়েছিলেন--কুল্লুক ভট্ট নামক বাঙালি পণ্ডিতের লেখা। তবে উত্তর ও পশ্চিম ভারতে প্রাপ্ত ভার্সনকে বেশি প্রামাণ্য ধরা হয়। 
    মনুসং হিতায় মেধাতিথির ভাষ্যকে সবচেয়ে উত্তম ধরা হয়।
     এখন ভরত চন্দ্র শিরোমণির টীকাও পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া হিন্দু পরিবারের সম্পত্তি ও উত্তরাধিকার প্রশ্নে  বাংলার জীমূতবাহনের "দায়ভাগ" টীকা প্রসিদ্ধ। তবে বাকি ভারতে "মিতাক্ষরা" পদ্ধতি মান্য।
    কোম্পানির আদালতে হিন্দুদের বিচারের জন্য স্মৃতিশাস্ত্র, মূলতঃ মনুস্মৃতিকে, ভিত্তি করে  নির্বাচিত ১১জন  পণ্ডিত মিলে হিন্দু কোড বিলের রূপরেখা তৈরি করেন। এর দায়রা ছিল সিভিল-- বিবাহ, উত্তরাধিকার এবং দত্তক নেয়া।
     
    ক্রিমিনাল ল বৃটিশের তৈরি আইন হিসেবে চলত। 
     
    মনুসং হিতা কে রচনা করেন এবং কেন?  এ বিষয়ে টেক্সচুয়াল এভিডেন্স কী বলে?
     প্রথম অধ্যায় থেকে দেখা যাচ্ছে কিছু ঋষি এসে মহর্ষি স্বায়ম্ভুব* মনুকে অনুরোধ করছেন--
    "বিনম্র অনুরোধ, আপনি আমাদের চার বর্ণ এবং ওদের সৃষ্ট 'বর্ণসংকর' (অর্থাৎ বাস্টার্ড বা উচ্চজাতির পুরুষের সঙ্গে নিম্নজাতির স্ত্রীর মিলনের ফলে জাত সন্তান) জাতির লোকদের আচরণীয় ধর্মের প্রকাশ করার কৃপা করুন। ১/২
     
    * স্বায়ম্ভুব মানে যিনি নিজেই নিজেকে সৃষ্টি করেছেন--নন বায়োলজিক্যাল আর কি! 
     
    আপনি চার বেদ ও যজ্ঞাদি অনুষ্ঠানের জ্ঞাতা (১/৩) , চার প্রকার প্রাণীর জন্ম ( জরায়ুজ--যারা জরায়ু থেকে জন্মায়, অন্ডজ-- ডিম থেকে জন্মায়, স্বেদজ--ঘাম থেকে জন্মায় মশা মাছি পোকা, উদ্ভিজ --মাটি ফুঁড়ে বেরোয়) বৃত্তান্ত বলুন। 
    মনু বললেন--অব্যক্ত নিরাকার পরব্রহ্মএর ব্যক্ত সাকার রূপ হলেন ব্রহ্মা।  প্রলয়ের পর প্রত্যেক কল্পকালে পরব্রহ্ম বেদোচ্চারণ করে নিজেই নিজেকে উৎপন্ন করেন। অর্থাৎ উনি একইসঙ্গে সৃষ্টির আদি বা উপাদান কারণ এবং নিমিত্ত কারণ। (১/১০)
     
    এভাবেই উনি সবার পিতামহ ব্রহ্মাকে সৃজন করেন।  তাই পরমেশ্বরের নির্বিকার রূপ হোল ব্রহ্ম আর সাকার বা সবিকার রূপ হলেন ব্রহ্মা।  এরপর সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা নিজেই স্থাবর জঙ্গম, নর নারী সব সৃষ্টি করেন।  তাই উনি প্রজাপতি । মানে মানবের পিতামহ। নিয়ন্তা।  (১/২৭)
    অনাদি পরব্রহ্ম লোককল্যাণ হেতু মুখ , বাহু, হাঁটু এবং পা থেকে ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় বৈশ্য ও শূদ্র উৎপন্ন করলেন। মনু বললেন--আমিই ব্রহ্মা। (১/৩৬, ৩৭)। 
     
    আমি অনাদি ব্রহ্মের ইচ্ছে পূর্ণ করতে দশ জন মহর্ষিকে সৃষ্টি করলাম। ওনারা বাকি সৃষ্টির কাজ করলেন। (১/৪০)
     
    *সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে মনুস্মৃতির বর্ণনার সঙ্গে পুরাণের বর্ণনার অনেকখানি অমিল। 
     
    এভাবে মনু মহর্ষিদের বলে চললেন। বলা হয় প্রথম ৫২ শ্লোক ওঁর রচনা আর বাকি সব মহর্ষি ভৃগুর রচনা। 
     
    স্মৃতিশাস্ত্র রচনার কেন দরকার পড়ল? আমার যা মনে হয়
     
    স্পষ্টত তখন বর্ণাশ্রম ধর্ম বেশ rigid  আগের  flexibility হারিয়েছে। তাই দরকার পড়ল বিভিন্ন জাতির কোড অফ কন্ডাক্ট, সম্পত্তি, বিবাহবিধি, রাজার কর্তবা, স্বামী স্ত্রীর কর্তব্য, পাপ ও প্রায়শিচত্ত এর নিয়ম বেঁধে দেয়া। মনুস্মৃতি সেই কাজটাই করেছে। আজকে তার প্রাসংগিকতা হারালেও সেই সময়ে রাজ্যগঠনের দিনে এই কাজটা নিঃসন্দেহে বৈপ্লবিক ছিল--গোঁড়া ব্রাহ্মণবাদী  পিতৃতান্ত্রিক ঝোঁক সত্ত্বেও। 
  • অরিন | 119.224.***.*** | ১৯ নভেম্বর ২০২৫ ০১:৩০735910
  • অসংখ‍্য ধন‍্যবাদ রঞ্জনবাবু। ভারি সুন্দর করে লিখলেন। 
  • Aditi Dasgupta | ২৭ নভেম্বর ২০২৫ ১৪:০৩736207
  • মনু আসলে একটি সিস্টেম। অনেক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা লোকের (লোক মানে তো পুরুষ)  লুটে  খাওয়ার ও প্রতিরোধের থেকে আত্মরক্ষার  প্রয়োজনে।একাধিক  মনু ছিল ---এমনও বলা হয়। কাজেই ​​​​​​​'মনুর ​​​​​​​মূর্তি' ---???
     
    এটি সরাসরি দৈহিক ও মানসিক দমন পীড়নমূলক ব্যবস্থা ও তাকে 'নৈতিক' বলে  প্রচার করে একধরণের জন স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা।  যে  দমিত , সেও যাতে মগজ ধোলাই এর  মাধ্যমে  নিজের  পায়ে নিজেই কুড়ুল মেরে 'তেনাদের'পায়ে লুটিয়ে পড়ে ! এক দমনমূলক সহিষ্ণুতার বাণী প্রচারই এর মুখ্য উদ্দেশ্য। 
     
    মনু শিল্প আমাদের তাই এক সাংঘাতিক সহিষ্ণুতা এনে দিয়েছে যার ফলে আমরা,ব্যক্তি স্তরে,জাত পাত, পিতৃতন্ত্রকে লাথি না কষিয়ে উল্টে, একটু সুবিধাজনক অবস্থানে (জাত, অর্থ, লিঙ্গ, সামাজিক স্বীকৃতি...  )থাকলেই  নিচের দিকে যে আছে তাকে পিষছি! আমায়  যে পিষছে  তাকে  প্রশ্ন না  করে তার  গায়ে  গা  ঘষে  জাতে ওঠার  চেষ্টা  করছি। শূদ্র  ও তাই অতিশূদ্রকে ঠেলে বামুন হতে চাইছে! তাই কোনো দ্বিকোটিক লড়াই হচ্ছেনা ---উঁচু জাত বনাম নিচু জাত, বিচ্ছিরি বড়লোক বনাম হত দরিদ্র, লিঙ্গ সুবিধাবাদ বনাম লিঙ্গ শোষণ! একটু হাওয়া ওঠে তারপর সহিষ্ণুতায় হারিয়ে যায়। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল প্রতিক্রিয়া দিন