এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  বাকিসব  মোচ্ছব

  • Looking through the rainbow glass: পর্ব তিন (প্রথম দুই পর্ব অবতরণিকা সহ ভাগলবা, চোঁ চোঁ পুরো কপ্পুর)

    সিসে
    বাকিসব | মোচ্ছব | ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৩৫১ বার পঠিত
  • বহুদিন পরে এবার লিখতে এলাম, দুটো পর্ব লিখে উধাও হয়ে গেছিলাম শূন্যে শূন্যে অশান্ত কর্মময়তার বাতাসে, এরমধ্যে কত কি-ই না ঘটে গেছে- কিন্তু এবার থেকে, একটা নতুন বছরের শুরুতে চেষ্টা করছি, নিজের লেখালিখির পথটা নতুন করে খুঁজে নেওয়ার- কিছু না হোক একটু তো আত্মমোক্ষণ করা দরকার, গান চেষ্টা করলাম, আঁকিবুঁকিও, কিন্তু কোনটাই কিছু লাগল না। চেষ্টা করব এবার থেকে অন্তত সপ্তাহে একবার করে লিখতে বসার, আমিও যে লেখালিখি কিছু করতে পারি সরস্বতীর প্রসাদগুণে-সে কথা ভোলার জো হল।
     
    অনেক বিষয়ে লেখা যেত, আগের পর্বে বলেছিলুম কখনো কথা বলব স্কুল কলেজে র্যাগিং এর অভিজ্ঞতা নিয়ে, একজন ক্যুইওর পার্সন হিসাবে- সেটা নিয়ে লিখতে পারতাম, এতোদিনে পার্কস্ট্রিটের সেই নিশ্চিন্ত কালেজি ঘেরাটোপ ছেড়ে একবছর বাড়ি বসে পড়াশোনা করে চলে এসেছি উত্তরপ্রদেশের একটি :চোখ: :চোখ: :ফুটি: :ফুটি: তে (এই জায়গাটা যে বুঝতে পারবে, সে জেন জি লিঙ্গোর সুনীতিকুমার- মানালি বা মল্লারের ওপর আমার ভরসা আছে, তবে মানালি বোধহয় আমার মতো ছ্যাঁচড়া টাইপ না, বেশ টিপিকাল সিরিয়াস পড়ুয়া ধরনের) , বা এই সম্প্রতি ছায়ানটের ওপরে আক্রমণের ঘটনাটা আমার মনে tolerance towards islam এর ওপর কিরকম অভিঘাত ফেলেছে( literally the last straw that broke the camel's back and made me Islamophobic) - আরো অনেক কিছুই কলমের আগায়, থুড়ি আঙুলের ডগায় টাইপ করতে গিয়ে চলে আসছে, কিন্তু একটু রয়েসয়ে লিখি- আসলে ওইজন্য‌ই লিখতে ভয় পাই, লেখালিখি বা যেকোনো ধরনের সৃষ্টিকাজ আসলে বড়ো পরিশ্রমের কাজ, বিনাকাজে বসে চুপ করে ভাবনাস্রোতে তলিয়ে যেতে বা ভাবনাগুলো উড়িয়ে দিতে যত ভালো লাগে, তত যেন আর কিছুই লাগে না, সাধে কি মুজতবা আলি বলেছিলেন স্বর্গে যাওমার একটা সুবিধাই হলো সেখানে সবকিছুই বিনা আয়াসে সাধ্য।
     
    আপাতত একটা ছোট বিষয় দিয়ে মুখপাতটুকু করি, দেখি কোথাকার গুলিসুতো কোথায় গড়ায়।
    দূরদর্শন শান্তিনিকেতনের ইউটিউব চ্যানেলে এবারের খৃষ্টোৎসবের( হ্যাঁ এই বানান‌ই রবীন্দ্রনাথ ব্যবহার করেছেন তাঁর খৃষ্ট-সম্পর্কিত প্রবন্ধগুলিতে) অনুষ্ঠানের রেকর্ডিং শুনছিলাম- এইসব অনুষ্ঠানগুলো মোটামুটি আমি সব‌ই দেখি কিন্তু একবারে বসে টানা দেখতে পারি না, ওই কাজ করতে করতে বা শুয়ে শুয়ে চালিয়ে দিয়ে ফাঁকা ঘরে শুনি, গলা মেলাই গানে, আবৃত্তিতে, আমার নিভৃতির অন্তরঙ্গ সঙ্গী এসব গান কবিতা গীতি আলেখ্য শ্রুতিনাটকেরা, কোভিড ও তৎপরবর্তী সময়ে ছায়ানটের এতো অনুষ্ঠান দেখেছি আমি অনলাইনে, বর্ষবরণের নতুন-পুরোনো রেকর্ডিং, শারদোৎসব বা দূরশিক্ষণ প্রয়াস হিসেবে গানের নিবিড় পাঠ এপিসোডগুলো, ওইসব সীমান্তপারের মানুষগুলো- সঞ্জিদা খাতুন, লাইসা আহমেদ লিসা, খায়রুল আনাম শাকিল, সেমন্তী মঞ্জরী, আরেকটি মেয়ে আছে কি বড়ুয়া যেন, একটু লম্বা তেকোনা মুখটা আর চোখের পাতা একটু ভারি, খুব ভালো গায়কি, শান্তিনিকেতনের পলাশি ঘোষ, বা এপার বাংলার অরিত্র পাণ্ডা, অঙ্কন চট্টোপাধ্যায়দের মতোই নবীন প্রতিভাময়ী শিল্পী‌ রবিগানের- এদের সাথে একধরনের parasocial সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেছে গানের মাধ্যমে, সঞ্জিদা খাতুনের 'শান্তিনিকেতনের দিনগুলি' পড়ে, তাই সঞ্জিদা খাতুন মিতা হকদের প্রয়াণ বা ছায়ানটের ওপর আক্রমণ এতো বিচলিত করে ব্যাক্তি আমিকে।
     
    কিন্তু যে কথা বলছিলাম সেখানে ফেরত আসি। তো ওই অনুষ্ঠানের গান শুনছি সব, রবীন্দ্রসঙ্গীত দিয়ে শুরু করে ক্যারল গাওয়া হল,বাইবেল থেকে পাঠ হল ( রামকৃষ্ণ মিশনের যিশুপুজোর থেকে ঢের ভাল জিনিস আমি বলব), আচার্যের অভিভাষণ হল( এ প্রসঙ্গে একটু খোঁচা দিই- এবারের ৭ই পৌষের প্রভাতী উপাসনায় প্রধান অতিথির, সম্ভবত অবাঙালি, কোন সরকারি হোমরা চোমরা হবেন আর কি, বিচ্ছিরি বাংলা উচ্চারণে দীর্ঘ ভাষণ শুনতে কী বিরক্ত লাগছিল কি আর বলি।) , সঙ্গীতভবনের দুই গুণী অধ্যাপিকার মধ্যে অর্পিতা দত্ত গাইলেন 'জীবন যখন শুকায়ে যায়', একটু বেশিই ম্যানারিজম এল পরিবেশনায়। এরপরেই আচার্যের ভাষণ শেষে, মানিনী মুখোপাধ্যায় ধরলেন "শান্তি করো বরিষণ" আর আমার কানে বঁড়শির মতো বিঁধে গেল সব সুর- অপূর্ব পরিবেশনা এককথায়। Real time এ লাইভ অনুষ্ঠানে ওই স্তরের পরিবেশনা যে সম্ভব, সেটাই অভাবনীয়। ৩৭ মিনিটের মাথায় শুরু করে ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড ধরে আমার কানে যে কি সুধা বর্ষণ করলেন আমিই জানি। এই গানটা দেখেছি গীতবিতান ঘাঁটবার সময়, খুব কৌতূহল হয়নি শোনার কখনো, এবার tagoreweb খুলে দেখতেই হলো।
     
    রাগ দেখি তিলক-কামোদ লেখা আছে, কিছু অনেকটাই দেশ আসছে সুরের বিন্যাসে। তাল সুরফাঁকতাল। ইউটিউবে উল্লেখযোগ্য পরিবেশনা বলতে রয়েছে পূর্বা দাম, স্বাগতালক্ষ্মী, সুবিনয় রায়ের পুত্র সুরঞ্জন রায়ের(zahid Hussain এর চ্যানেলে এটা সুবিনয় রায়ের গাওয়া উল্লিখিত আছে, সেটা ভুল- প্রসঙ্গত এই zahid Hussainএর চ্যানেলটি একটি রত্নখনি বিশেষ, কতো যে গান, বিশেষত রবীন্দ্রসঙ্গীত- রমা মণ্ডল থেকে শুরু করে রেণুকা দাশগুপ্ত, সতী দেবীদের রেকর্ড, পাই ওঁর চ্যানেলে আর ভিডিও এডিটিং গুলো আমার খুব পছন্দের, বেশ গোলাপি রানি সব নয়নতারা ফুলের ছবি দেওয়া থাকে, আর আমি লক্ষ্য করেছি, কণিকার গানগুলো সবসময়‌ই ছবি দেওয়া থাকে বিকেলের বিষণ্ণ আলোয় হলুদ ফুলের, কখনোই গোলাপি বা লাল ফুল না- এই সব youtube channel গুলো যেগুলো আমার গান শোনার নিয়মিত ঠেক, এগুলোর বৈশিষ্ট্যগুলো নিয়ে কখনো লেখার ইচ্ছা আছে- anjan chakraborty থেকে purna chowdhury(ইনি খুব সম্ভবত প্রয়াত কারণ এনার চ্যানেলে কোনো আপলোড নেই বহুদিন হল), অধুনা প্রয়াত alo kunduর sound wing gramophone records,  geetibichitra(এখানে সব রবীন্দ্র গীতিনাট্যগুলোর গীতি আলেখ্যর পরিচ্ছন্ন বাহুল্যবর্জিত রেকর্ডিং আর শ্রীলা সেন, প্রতিমা মুখোপাধ্যায়ের গাওয়া অনেক রবীন্দ্রগানের রেকর্ডিং আছে) ইত্যাদি।)
     
    প্রসঙ্গে ফেরত আসি। এই তিনটে যে পরিবেশনা শুনলাম এই গানের, মানিনীকে শোনার পর; খুবই যথাযথ, স্বরলিপি অনুসারী। সুরঞ্জনের গলায় তো স্পষ্ট সুবিনয় রায়ের গায়কির ছাপ। কিন্তু মানিনীর গলায় গানটা বোধহয় আমার আজীবন কানে লেগে থাকবে এরপর থেকে। মানিনীর গায়কি শুনে মনে হল খুব সম্ভবত নীলিমা সেনের কাছ থেকে উনি এই গানটা তুলেছেন কখনো, কারণ প্রথম লাইনটা শুনেই আমি চমকে উঠেছিলাম, মনে হয়েছিল নীলিমা‌ই যেন গাইছেন আর আমার চোখ সেসময় ফোনের ওপর ছিল না তাই আমি অবাক হয়েছিলাম এই ভেবে যে, বিশ্বভারতী কি এখন পুরনো শিল্পীদের গান‌ই চালাচ্ছে অনুষ্ঠানে। 
     
    মানিনী শুরু করেন প্রথম লাইনটা দুবার গেয়ে। 'শান্তি করো বরিষণ নীরবধারে' এই অংশটুকু প্রথমে গেয়ে তারপর পূর্বা প্রবেশ করেছিলেন গানের মূল অংশে, ধুয়ো হিসেবে ফিরিয়ে এনেছিলেন ওই অংশটুকু আর শেষ আবর্তনে শুধুই প্রার্থনাটুকু জেগে থাকে "শান্তি করো বরিষণ", "নীরবধারে" অংশটুকু নীরব থাকে। কিন্তু মানিনী পুরো লাইনটাই বেশ ভেঙে ভেঙে গাইলেন দুবার-এটি তো দু লাইনের গান, ধ্রুপদ ভাঙা। নীরবধারে কে আমি প্রথমে শুনছিলাম নিবিড়ধারে, আর নিবিড়ধারে বললেও মাত্রার কিছু গোলমাল হয়না বা অর্থবিকৃতি ঘটে না এমনিতে, কিন্তু নীরবধারে লেখার কারণটা বোধহয় পরের অংশটায় আছে। এই এক লাইনের‌ই পুরো অন্তরাটা -" শান্তি করো বরিষণ/নীরবধারে(এখানে একটা সুন্দর মীড় আর ঘূর্ণির কাজ আছে আমার ভারি পছন্দ হয়েছে)/নাথ চিত্তমাঝে(আবার এখানে ভুল শুনছিলাম, ক্লান্ত চিত্ত মাঝে, যেহেতু নাথে একটু আ-কারে গলা ঘুরবে গমক দিয়ে, আর মাঝে তে নীচের পা পর্যন্ত যাবে, আমার গলায় ফিসফিস করে আওয়াজ বেরোচ্ছে ওই জায়গাটা গুনগুন করতে গিয়ে)/সুখে দুখে সব কাজে/ নির্জনে জনসমাজে(এই জনসমাজে কথার প্রয়োগটা খুব চিত্তাকর্ষক; জনসমাজ বলতে লোকের ভিড় সান্নিধ্য এসব বুঝিয়েছেন আবার এই সমাজের সকলের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক সে প্রার্থনাও কি করেছেন এই শব্দ প্রয়োগের মধ্যে দিয়ে?)" 
     
    এরপর সবচেয়ে সুন্দর অংশটা, অন্তরা। অন্তরা হলো-"উদিত রাখো নাথ/ তোমার প্রেমচন্দ্র(এখানে কিছু কাজ আছে বটে, একদম দেশ আঙ্গিকে স্বরবিন্যাস, আর 'র' তে র্রে-র্পা লাগলে সত্যিই যেন প্রেম ঘন হয়ে নিটোল পূর্ণচাঁদ উদয় হচ্ছে মনে হচ্ছে হৃদয়ে, আর বুঝতেও পারছি যেন এই শান্তিবরিষণ, "বরিষ ধরা মাঝে" র মতো শান্তিবারি না বরং এই প্রেমচন্দ্রের শান্তিকিরণ)/অনিমেষ মম/লোচনে/ গভীর তিমিরমাঝে।"(এ গান শোনার পর হয়তো যতোবারই খুব crisis এর মূহুর্ত আসবে জীবনে, বুকের মধ্যে তাকালে পূর্ণ একটা চাঁদ দেখতে পাব)
     
    তো মানিনী দুবার আস্থায়ী গেয়ে অন্তরায়  ঢুকলেন, দুবার ফিরে ফিরে গাইলেন "উদিত রাখো নাথ/তোমার প্রেমচন্দ্র", কি অনায়াসে তারে চড়াচ্ছেন গলা অথচ মুখের একটি পেশিকুঞ্চন পর্যন্ত হচ্ছে না, কণিকার সার্থক উত্তরসূরী বলতেই হয়। এস্রাজ আর গলা এক‌ইসাথে বাজছে আর জুড়ে যাচ্ছে পরস্পরের সাথে।  একবার আস্থায়ী গেয়ে অন্তরা গাইলেন এক‌ই নিয়মে, ফের আস্থায়ী দুবার গেয়ে 'শান্তি করো বরিষণ ' দিয়ে শেষ। সারাজীবনের সঙ্গী হয়ে গেল এই পরিবেশনা। 
     
    (বাপরে লেখালিখি করা কিছু কাজ বটে! এইটুকু লিখতে দুঘন্টা লেগে গেল শীতের রাত্তিরে, আজ এটুকুই থাক, ফিরে আসব এখন থেকে নিয়মিত, নিজের উদ্যমেই)
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • . | ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৬:৪২746439
  • বেশ লেখা। 
    আমি কিন্তু গেস করে ফেলেছি উত্তরপ্রদেশের সেই জায়গাটার নাম।cool
  • শৌনক | 2401:4900:76d8:571a:f7c1:eaf:ba39:***:*** | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:২৯746477
  • ' ' , , ,
  • শৌনক | 2401:4900:76d8:571a:f7c1:eaf:ba39:***:*** | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৩৬746478
  • অসাধারন। মানিনী মুখোপাধ্যায়ের 'শান্তি কর বরিষণ' র এই অপূর্ব বর্ণনা আর বিশ্লেষণ পড়ে যেমন গানটি শোনার একটা অদম্য কৌতুহল মনে তৈরী হয়, তেমনই লেখকের রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্বন্ধে জ্ঞান, সঙ্গীতসাধনা, পড়াশোনার বিরাট পরিসর ও পান্ডিত্যের প্রশংসা অজান্তেই মুখে প্রস্ফুটিত হয়। লেখকের পরবর্তি লেখার অপেক্ষায় থাকলাম। 
  • সিসে | 14.139.***.*** | ২৪ মার্চ ২০২৬ ২০:৫০747110
  • ২০২৫ শেষ হতে আর এক ঘন্টা বাকি আমার এখানে, তাপমাত্রা নেমেছে প্রায় ১০° সেলসিয়াসে, মরশুমের শীতলতম দিন আজ আপাতত। ফিরে দেখছিলাম ২০২৫ কে, স্মৃতির ভাঁড়ারে তেমন উল্লেখযোগ্য কিছুই জমা পড়েনি এ বছরের জন্য বা এ যাবৎ, আমার জীবনটা এরকমই- নিস্তরঙ্গ শীতের মৃদুমন্দ নদী বয়ে যাচ্ছে কুয়াশা আর মৃদু রোদ্দুরের মধ্যে দিয়ে, হালভাঙা পালছেঁড়া তরণী কোন নিরুদ্দেশের পানে চলেছে তার ঠিক ঠিকানা নাই।
     
    এর একটা বড়ো কারণ জীবনটা তো আমি এখনো ঠিক করে বাঁচলাম‌ই না, শুরুটাই তো হয়েছে অবাঞ্ছিত খাতে প্রবাহের। মাঝে মাঝে ভাবি, যেমনভাবে জীবনটা বাঁচতে চেয়েছিলাম, তেমনটি হলে ঠিক কেমনটি হতে পারত। আর সব variable fixed রেখে, মানে এই এক‌ই জায়গায়,এক‌ই সময়কালে, একই পরিবারে জন্ম নিলে, শুধু মেয়ে হিসেবে- কেমনভাবে সাজাতাম জীবনটা। বেশ মা,বাবা, দাদা সব মিলিয়ে মফস্বলি সাজানো সুখী সংসারের একমাত্র মেয়ে, বাবা-মা দুজনের দিক থেকেই তুতো ভাইবোনদের মধ্যে সবার ছোটবোন, বিশেষত মামা-মাসিদের দিকে মেয়ে বলতে আমাদের প্রজন্মে শুধু সবার বড়োজন,  দি'ভাই, বাকি সবাই ভাই আমরা, আমি হতে পারতাম আরেকটা বোন, সবার ছোটজন ও ছোটবোন। তারপর হয়তো স্কুলে পড়তাম (হয়তো আকনা, রমেশ নয় কারণ রমেশ নিয়ে একটু নাক-সেঁটকানি ভাব আছে আমাদের এদিকে, হয়তো দেবিশ্বরী(যদিও মান পড়ে গেছে), হয়তো ইংরাজি মিডিয়াম হলে সেন্ট জোসেফ, গসপেল), তারপর ইংরাজি বা তুলনামূলক ইউরোপীয় সাহিত্য নিয়ে যাদবপুর, প্রেসিডেন্সি বা বিশ্বভারতী, বা সেন্ট স্টিফেন্স, মিরান্ডা, তারপর হয়তো জেএন‌ইউ,টিস্ থেকে মাস্টার্স এম ফিল, তারপর হয়তো অক্সফোর্ড/কেমব্রিজ। এর‌ই মধ্যে মিশে থাকত গান শেখা,  অন্তরঙ্গ বান্ধবীদের দলে গল্পগুজব খেলাধুলো, গানের স্কুলে গান শেখা, ছবি আঁকা বা নাচ শেখা, অনুষ্ঠানে গান গাওয়া, নৃত্যনাট্যে গীতিনাট্যে সখীদের দল থেকে শ্যামার শ্যামা, মায়ার খেলার প্রমোদা হ‌ওয়া, প্রথম কৈশোরের আলোয় চোখ তুলে তাকানো টিউশন পড়তে আসা কোনো ফর্সা লম্বা চশমা পরা তরুণের চোখে আর চোখ ফিরিয়ে নেওয়া পরক্ষণেই, মায়ের কাছে পাঠ নিভৃত নারীত্বের। হাহ্, যেখানে হল না খেলা সে খেলাঘরে, আজি নিশিদিন মন কেমন কেমন করে। জীবনে প্রাপ্তির ঘর হয়তো শূন্য নয়- তথাকথিত ভালো স্কুলে প্রথম সারির ছাত্র হিসাবে পড়েছি, জনপ্রিয় এবং সত্যিকারেই ভালো কলেজে কলকাতার কেন্দ্রস্থলে গিয়ে পড়েছি, ভালো ফল করার চেষ্টা করেছি( অঙ্ক বা অঙ্ক সম্বন্ধীয় কোন বিষয়‌ই আমার সত্যি খুব একটা পছন্দের নয়, অন্ততঃ সাহিত্য পড়ার চাইতে তো নয়‌ই আর এই অঙ্ক-বিতৃষ্ণার পিছনে বাবার ভূমিকা অপরিসীম, কিন্তু তাও টিকটিক করে ইঁদুর দৌড়ে টিকে গেছি, নিজের পছন্দের বিষয়ে পড়ার চর্চার ইচ্ছেটাকে হিমঘরে পাঠিয়ে দিয়ে), আবার এসেও পড়েছি এক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু এই ২২ বছরের জীবনটা বেঁচেছি স্রোতের ওপর ভাসমান শ্যাওলাদাম হয়ে, আমিও তো শেকড় গাড়তে পারতাম জলের তলায় পদ্মলতা হিসেবে, ফোটাতে পারতাম ফুল, পাতায় ধরা পড়ত কতো জলবিন্দু নীহারকণা, আসতে পারত মধুলোভী ভ্রমর গুনগুনিয় গান শোনাতে, সরস্বতীর চরণকমল শোভা পেত আমার‌ই উতল প্রাণে আকাশপানে চাওমা মৃণাল বাহুডোরে - তার জায়গায় শ্যাওলার দল হয়ে ভেসে ভেসে বেড়াচ্ছি খালি,এ পৃথিবীর কোথাও আমার স্থান নেই, কোথাও আমার কেউ নেই, আমার নিজের জীবনটাও আমার নয়, আত্মহত্যার প্রচলিত পদ্ধতিগুলো বড়ো বীভৎস লাগে নাহলে কবেই শেষ করে দিতাম এই ভবের খেলা( দাও ভেঙে দাও এ ভবের সুখ, কাজ নেই এ খেলায় হে), যদিও কখনো কখনো সেল্ফ অ্যাসিস্টেড ইউথ্যানাশিয়া রোমান্টিসাইজ করি, অনেকটা 'জয়পরাজয়' গল্পের শেখরের মৃত্যুদৃশ্য থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে, কিন্তু সুন্দরী অগ্নিশিখাকে দেওয়ার জন্য শেখরের তবু নিজের রচিত কাব্যপুঁথি ছিল কাব্যমেধ করার জন্য, আমার তো এই নধর অনাকাঙ্ক্ষিত(কুৎসিত বলব না কারণ নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে আমার বাহ্যিক রূপ হয়তো গড়পরতা তরুণদের মতোই, খুব কুরূপ বা খুব সুদর্শন কোনটাই নয়, যদিও সুদর্শন হয়ে ওঠার কিছু বৈশিষ্ট্য আমার চেহারায় আছে, কিন্তু আমি তো সুন্দরী হতে চেয়েছিলাম, সুদর্শন সুপুরুষ নয়।)বপুখানি ছাড়া কিছুই নেই, আর কোনো রাজকন্যা অপরাজিতার মতো রাজপুত্র অপরাজিত (এটা লিখতেই ঝিন্দের বন্দীর সৌমিত্রের মুখটা ভেসে উঠল চোখে) নেই বিজয়মালা পরিয়ে দেবার আমার গলায়।
     
    যাকগে, মরুকগে। আরেকটু অন্যরকম দুঃখের‌ কথা‌ লিখি বরং। ওপরের কথাগুলো ভেবে দুঃখ হয়, কিন্তু মানিয়ে নিয়েছি আর সত্যি কথা বলতে‌,এখনকার ডাক্তারিবিদ্যার অভূতপূর্ব অগ্রগতির ফলে হয়তো একটা নারীদেহ আমি পেতে পারি, কিন্তু তার জন্য যে পরিমাণ লড়াই ঘরে, বাইরের সমাজে, সরকারি নিয়মের বেড়াজালে, অর্থনৈতিক ভাবে, নিজের মনের দ্বিধাদ্বন্দ্বের সাথে করতে হবে, তাও আবার সে সুযোগ আসতে আসতে হয়তো জীবনের অর্ধেকটাই কাবার হয়ে যাবে, আমার মধ্যে অতো প্রাণশক্তি নেই। হকিং এর কথা অনুসারে আমাদের সবার কাছে এই একটাই জীবন আছে এই মহাবিশ্বের বিপুল বর্ণাঢ্য রূপের রস উপভোগ করার,আর আমার সেই জীবনটার তো এককাল গিয়ে পড়ে রয়েছে আর তিনকাল, তাও যদি না আমি ৪০ এর আগে চাকাটা থামিয়ে দিই জোর করে, বিবেকানন্দ বলেছিলেন- "I'll never be on the right side of forty" আর কথা রেখেছিলেন‌ও, নিবেদিতাও গুরুর পদাঙ্ক‌ই অনুসরণ করেছিলেন কিন্তু নৌকাডুবির‌ আগে দেখতে চেয়েছিলেন সূর্যোদয়, আমিও তাই করব অনন্ত রাত্রির বুকে পাড়ি জমাব পারের খেয়ায় শেষ সূর্যোদয়টি দেখে।
     
    ছোটবেলায থেকেই art আমাকে আকৃষ্ট করে, সে সাহিত্য হোক বা ছবি, বা গান বা আবৃত্তি নাটক। সবচেয়ে আগে পরিচয় সাহিত্যের সাথেই, গল্পের ব‌ইয়ের হাত ধরে। তারপর আঁকা, আবৃত্তি শেখানোর চেষ্টা হয়েছে জোর করে যাতে "পরীক্ষার খাতায়  হাতের লেখা, ভূগোলে, জীবনবিজ্ঞান আঁকা ভালো হয়", "গলার আওয়াজ খোলে/পুরুষালি হয়" ইত্যাদি কারণে যে জন্য একদম‌ই ভালো লাগেনি কিন্তু এখন ভালো লাগে এই বয়সে এসে স্কেচপেন দিয়ে আঁকিবুঁকি করতে, রবীন্দ্রনাথের ও অন্যন্য কবিতা জোরে জোরে পড়তে। আর গান? একটু খুলে বলা দরকার।
     
    গান আমার ছোটবেলা থেকেই ভালো লাগে। এর একটা প্রমাণ হলো আমি ছোট থেকেই ছড়া কবিতা পড়তাম সুর করে, একঘেয়ে পাঁচালির সুরে হলেও, তাল‌ দিয়ে দিয়ে। আমি এখন যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠরত, সেখানে আমার একজন বন্ধু হয়েছে হোস্টেলে, যেটা বোধহয় এবছর (এই মুহূর্তে গতবছর, কারণ এই লাইন লেখার সময় ঘড়িতে বাজছে রাত ১২:৩০, অত‌এব ২০২৬ এ ঢুকে পড়েছি আমরা) ২০২৫ এ আমার সেরা প্রাপ্তি, এই প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পাওয়ার পাশাপাশি। ধরা যাক, ওর নাম প্রবাল (আমরা দুজন স‌ই পাতিয়েছি, কিন্তু ওই চিরাচরিত গঙ্গাজল-গোলাপ না, শঙ্খ আর প্রবাল, কারণ শাঁখা আর পলা যেমন সবসময় জোড়ায় থাকে আর এভাবে আমাদের নামের আদ্যাক্ষরগুলোও পরস্পরের মধ্যে অদল বদল হয়ে যায় হাহা)। প্রবাল ও আমার মতোই- কিন্তু ও প্রায় ১৫ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে কণ্ঠ সঙ্গীত সাধনা করছে আর পাশাপাশি সরোদ‌ও শিখছে। ওর মায়ের কাছ থেকেই ও অকুণ্ঠ উৎসাহ ও সমর্থন পেয়েছে যেহেতু কাকিমাও শিল্পরসিক ও রসগ্রাহী। কিন্তু আমার এ সৌভাগ্য হয়নি। আমার মায়ের বাড়ির দিকে গানবাজনা বা সংস্কৃতি চর্চার চল আছে যথেষ্ট, মা একসময় সেতার বাজিয়েছে কিছুদিন, আমার সদ্যপ্রয়াতা মাসি লখনৌ থেকে সঙ্গীত বিশারদ উপাধি পেয়েছে, মেজোমামা ছোটমামা দুজনেই ভালো গান গায়, ছোটমামা নিজের হাতে তৈরি উচ্চমাধ্যমিক স্কুল চালানোর পাশাপাশি গান লিখে সুর ও দেয় তাতে অবসর সময়ে, ভীষণ ভালো কুরুশ, কার্পেট বোনা ও হাতের কাজ জানে আমার মায়ের মতোই। কিন্তু বাবাদের দিকে একসময়ের প্রবল দারিদ্র্য ও তজ্জনিত বামপন্থী আদর্শের প্রতি আসক্তির‌ কারণে, সংস্কৃতিচর্চার মধ্যেও বলিষ্ঠতার আদর্শ‌ই বেশি পছন্দস‌ই আর মায়েদের দিকে দাদামশাই সরকারি চাকুরে ও বাড়িতে কংগ্রেসি আদর্শের পরিবেশ থাকায় মায়েদের পরিবার(উভয় পরিবার পরস্পরের প্রতিবেশী ছিল দীর্ঘদিন) ও তাদের সংস্কৃতিচর্চার প্রতি তাচ্ছিল্য ও উপহাসের মনোভাব ছিল। এমনি স্বশিক্ষিত আবৃত্তির চর্চা (রবীন্দ্রনাথ, সুকান্ত প্রমুখের কবিতা) করলেও একটা বিরুদ্ধ মানসিকতা কোথাও সবসময়‌ই সক্রিয় ছিল। তাই মা সকালে উঠে রান্নাঘরে যখন ভোরবেলা রান্না বা ঘরের কাজ করতে করতে রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনতো "১০৬.২ আমার fm" এ, বাবার মন্তব্য হতো-" এটা কি ঘর না চায়ের দোকান যে সবসময় গান বাজছে?" এই করতে করতে আমার মায়ের গান শোনার স্পৃহাটাই মরে গেছে। তাই আমিও ছোটবেলায় গান শোনার বা চর্চার খুব একটা পরিসর পাইনি বা স্পৃহাও হয়নি, কারণ একটা মানসিকতা আমার মধ্যে চারিয়ে গেছিল পরোক্ষ প্রভাবে - " পড়াশোনা করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হ‌ওয়াই মুখ্য, যারা পড়াশোনা পারে না, তারাই গানবাজনা নাটক ছবি আঁকা এসব করে সময় নষ্ট করে।"
     
     
    (এই লেখাটা সেই কবে থেকে ফেলে রেখেছি আধাখ্যাঁচড়া লিখে, জীবনের পটে লেখা কি আর শেষ হয়, কালির আঁচড় পড়ছে তো পড়ছেই। এই আদ্ধেক লেখাটাই পোস্টালাম এখন, পরে আরো জিনিস জুড়ব হয়তো।এর পরের অংশটা ওই গান শোনার গাওয়ার যাত্রাপথের আনন্দগান নিয়েই লেখার ছিলো, সেটা আধেক র‌ইল বাকি।)
     
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। চটপট মতামত দিন