এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • বৈঠকি আড্ডায় ১৮ 

    হীরেন সিংহরায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১৫ জুন ২০২৪ | ১২২৭ বার পঠিত | রেটিং ৫ (২ জন)
  • বৈঠকি আড্ডায় ১৮

    গরুর গাড়ির গতি বাড়ালেই মোটর*


    গতির গেট
     

    “ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ তিরিশ মাইল বেগে চালনার জন্য নির্দিষ্ট এলাকায় আপনি পঁয়ত্রিশ মাইল গতিতে গাড়ি চালিয়েছেন। আপনার অবগতির জন্য অপরাধের দিন, সময় এবং গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্লেটের ছবি এই পেনাল্টি নোটিসের সঙ্গে সংযোজিত হলো। এ চিঠি পাবার পনেরো দিনের মধ্যে পেনাল্টি পরিমাণ চেক বা অন লাইনে প্রদেয়। বিলম্বে জরিমানা।

    আপনি যদি এই গাড়ি তখন না চালিয়ে থাকেন বা এই গতিসীমা উল্লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আপনার অন্য কোন প্রতিবাদ থাকলে এই ঠিকানায় আপন বক্তব্য পেশ করতে পারেন। আমরা সে বিষয়টি প্রণিধান করব। "

    দিন তারিখ ও ছবি দেখে বুঝলাম অকুস্থল আমাদের পাশের ছোটো শহর সানিংডেল। ঘটনার দিন মেয়ের সঙ্গে দেখা করে এগহ্যামের রয়্যাল হলওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিরছিলাম। বনপথে উচ্চতম ঘণ্টায় চল্লিশ মাইল বেগে গাড়ি চালানোর নির্দেশ দেওয়া আছে কিন্তু সানিংডেল ঢোকার পাঁচশ মিটার আগে হঠাৎ সেই গতিসীমা দশ মাইল কমে যায়। যেখানে সন্ধ্যে হয় মানে ঠিক ওই নোটিসের পাশেই শীর্ণ পিলারের মাথায় একটি হরিৎ বর্ণের ছোট বাকসো অনেকটা উটের গ্রীবার মতো কৌতূহলী ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুতুল নাচের ইতিকথায় হারু ঘোষের দিকে আকাশের দেবতা কটাক্ষ করেছিলেন এখানেও সেই রকম এক যান্ত্রিক কটাক্ষের ফলে আমার গাড়িটি ঝলসিয়া না গেলেও চিত্রায়িত হইল। এটি তার শাস্তি – এবার ফাইন এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সে তিনটে পয়েন্ট যোগ হবে। এই প্রক্রিয়া চালু রেখে আগামী তিন বছরের মধ্যে এক ডজন পয়েন্ট অর্জন করলে আমার লাইসেন্স বাতিল হবে।


    উটের গ্রীবার মত
     

    পুলিশের চিঠির পরের পাতায় একটি চমকের সম্মুখীন হতে হলো।

    আমার পরিণত বয়সের কথা বিবেচনা করে তাঁরা আমাকে একটি দ্বিতীয় প্রস্তাব দিচ্ছেন – আমি যদি পুলিশ কর্তৃপক্ষ আয়োজিত গাড়ির গতি বিষয়ক সচেতনতার একটি কোর্স সাফল্যের সঙ্গে সমাপ্ত করতে পারি তাহলে ফাইন দিতে হবে না, লাইসেন্সে পয়েন্ট যোগ হবে না। এমনকি আমার গাড়ির ইন্সিউরেনস কোম্পানি আমার এই পদস্খলনের উপাখ্যান অবধি জানবেন না( এই দুষ্কর্মের কাহিনি চাউর হলে তাঁরা আমার বিমার প্রিমিয়াম বাড়িয়ে দিতে পারেন )। সামনের চার মাসের মধ্যে আমার বাড়ির নিকটবর্তী শিক্ষাকেন্দ্রে চার ঘণ্টার ক্লাস করতে হবে, ইন্টারনেটে বেছে নিন কোনদিন আপনার সুবিধে : দক্ষিণা নব্বুই পাউনড।

    ঘোড়া জোতা ফিটনের উচ্চতম গতি কোথায় বাঁধা ছিল জানি না তবে মোটর গাড়ির আবির্ভাবের পরে গত শতাব্দীর গোড়ায় ইংল্যান্ডে প্রথম আইনি গতিসীমা ছিল ঘণ্টায় চৌদ্দ পরে কুড়ি মাইল। কোন যন্ত্রপাতি নয়, স্টপ ওয়াচ হাতে ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে থাকা পুলিশ অনুমান করতো কোন গতিতে একটি গাড়ি দুটি নির্দিষ্ট পয়েন্ট অতিক্রম করেছে। তাই দিয়ে জরিমানা ধার্য হতো। লর্ড মনটেগু মন্তব্য করেন এটি হাইওয়ে রবারি !

    কত দ্রুত বেগে গাড়ি চলছে সেটা মাপার জন্য স্পিডক্যামেরার আবিষ্কার হয় নি। হয়েছে ঠিক তার উলটো কারণে।
    মাউরিস গাটসোনিদেস নামের এক ডাচ রেসিং ড্রাইভার নিজের গাড়ির স্পিডোমিটারের সঙ্গে একটি পালস মাপার যন্ত্র লাগিয়ে দেখতে চাইলেন মোড় নেওয়ার সময়ে তাঁর গাড়ির গতি কতোটা কমাতে সক্ষম হচ্ছেন। ঠিকমত না কমাতে পারলে অঘটনের সম্ভাবনা। পরে সেই আইডিয়া থেকে তিনি বানালেন পথে পথে ধাবিত গাড়ির গতি মাপতে সক্ষম এক ক্যামেরা তার নাম হল গাটসোমিটার। ১৯৬৪ সালে ডাচ পুলিশের কোন তৎপর করিতকর্মা মানুষ ভাবলেন, এই মউকা পাওয়া গেল টাকা আদায়ের। সেই ক্যামেরাকে কাজে লাগিয়ে লর্ড মনটেগুর হাইওয়ে রবারিকে সম্পূর্ণ আইন সম্মত করে সরকারের রাজকোষ ভরে তোলার যে তরিকা ডাচেরা চালু করলেন, ইউরোপের সব দেশ তাকে হামলে নিলো ! ব্রিটেনে অবশ্য কিছু বিলম্বে, এই মাত্র ১৯৮০ সালে প্রথম স্পিডক্যামেরা বসানো হয়। আশ্চর্যের বিষয় কিছু নয়- এদেশে যখন এসেছি, এই চল্লিশ বছর আগে, সিট বেল্ট বাঁধা আবশ্যিক হলো, তাও কেবল ড্রাইভার ও সহ যাত্রীর জন্য ; বাকিদের সিটবেল্ট পরার নির্দেশ এলো আরও কয়েক বছর বাদে। জার্মানিতে গাড়ি চড়লেই বেল্ট বাঁধতে হতো সেই ১৯৭৫ সালে।

    ভাবলাম নব্বুই পাউনড খরচা করলে যদি শাস্তিমূলক কোন পয়েন্ট যোগ না হয় তাহলে ক্লাসে না হয় চার ঘণ্টা বসে গতি বিষয়ে সচেতনতা অর্জন করে আসি। আমার ড্রাইভিং লাইসেন্স জার্মানির – সে দেশে একটা লিখিত পরীক্ষা পাশ করলে তবেই নিরীক্ষকের তত্ত্বাবধানে বসে গাড়ি চালানো শেখা সম্ভব ( ইংল্যান্ডে রিটন টেস্ট চালু হয়েছে বছর বিশেক আগে ) ; জার্মান লাইসেন্স আজীবনের। যখন ব্রিটেনে এলাম আমার সেই লাইসেন্স অনুবাদ করিয়ে এ দেশের মোটর ভেহিকল দফতরে জমা দিয়ে পেলাম ব্রিটেনে গাড়ি চালানোর আইনি অধিকার। সেটি ৬৫ বছর বয়েস অবধি ভ্যালিড তার পর বছর পাঁচেক অন্তর রিনিউ করাতে হবে ! তাঁরা অবশ্য আমাকে সান্ত্বনা দিলেন আমার আদি লাইসেন্স তাঁদের হেপাজতে রইল। আমি কখনো দেশ ত্যাগ করলে সেই জার্মান লাইসেন্স তাঁরা অক্ষত অবস্থায় ফেরত দেবেন।

    ফ্রাঙ্কফুর্টে আমার ড্রাইভিং শিক্ষাগুরু কার্ল বলতেন, ’ যা শেখাচ্ছি তার অর্ধেকও মনে রাখবেন না পরে , কিন্তু কেতাবি আইনগুলো জেনে রাখুন। ফলে কোন আইনটা যে ভাঙ্গছেন সেটা নিজেই বুঝবেন, ধরা না পড়লেই হলো। ‘ স্থানীয় জেলা সদর গিলডফোরডে গতি সচেতনতার কেলাসে বসে বুঝলাম কার্লের কথা কতোটা সত্যি ছিল। একে তো আমার গাড়ি চালানোর কেতাবি শিক্ষা ব্রিটেনের নয়, হাইওয়ে কোড নামক বিলিতি বাইবেল পাঠ করি নি। তাই রাস্তায় ল্যাম্প পোস্ট থাকলেই যে তিরিশ মাইল গতি সীমা বাঁধা সেটা জানি না। মনে আছে জার্মানিতে শহর /গ্রামের মধ্যে (ইনারহালব গেশ্লসেনে অরটশাফট ) কত কিলোমিটার স্পিডে চালাতে পারি তার নির্দেশ সূচক সাইনবোর্ড দেওয়া আছে, তা সেখানে ল্যাম্প পোস্ট থাকুক আর নাই থাকুক।

    গতি শিক্ষা ক্লাসের মধ্যিখানে চায়ের বিরতি ছিল -সেই সময় লক্ষ করলাম উদ্ধত যত শাখার শিখরে রডোড্রেনডন গুচ্ছের সন্ধানে ধাবিত আঠারো কুড়ি বছরের কোনো যুবক যুবতী নয়, আমার কমরেডস ইন ক্রাইম প্রায় সকলেই মধ্য বা আমার মতন পরিপক্ব বয়েসি। এমন জায়গায় অনায়াসে জানতে চাওয়া যায় কে কোথায় কোন আইন ভঙ্গ করে এই করেকশনাল কারাগারে এয়েছেন। আমার মতন সকলেই কোন গ্রামে গঞ্জে গতি নিয়ম ভেঙ্গেছেন, ওই পাঁচ সাত মাইল বেশি ; কেউ পেরেনট-টিচার মিটিঙে সময়মত পৌঁছুনোর তাড়ায়, কেউ ডাক্তার দেখাতে। মোটরওয়ের খোলা হাওয়ার পালে গা এবং গাড়ি ভাসিয়ে, নিছক আইন ভাঙার আনন্দে কেউ অ্যাকসিলারেটর দাবান নি।


    ট্রাফিক লাইটের সঙ্গী ক্যামেরা

    শিক্ষক রবার্ট অত্যন্ত ভালমানুষ। তাঁর কেলাসে পাশ ফেল নেই, নব্বুই পাউনড এবং হাজিরা দিলেই তিনি সন্তুষ্ট। কাউকে সরাসরি কোন প্রশ্ন করে বিড়ম্বনায় ফেলেন না – বড়জোর জিজ্ঞাসার বল হাওয়ায় ভাসিয়ে দেন – যার ইচ্ছে সে সেই বলটা তুলে নিক। রাস্তায় ল্যাম্প পোস্ট না থাকলেও কোন রাস্তায় কোন স্পিডে গাড়ি চালানোর নিয়ম সেটা যে অধিকাংশ সময়ে পথের দুপাশে দুটি বিশাল ললিপপের মতন বোর্ডে সাজানো থাকে, তার নাম যে গেট সে তথ্য জেনে ধন্য হলাম। চেষ্টা না করেও কিছু প্রাসঙ্গিক তথ্য গোচরে এলো – গোটা সারে জিলায় সেই মুহূর্তে ১২১টা স্পিডক্যামেরা আছে। কিন্তু যে কোন সময়ে মাত্র ৭১টি ক্যামেরায় ফিল্ম বা মেমরি কার্ড থাকে, অন্যগুলোতে ফ্ল্যাশ হয় কিন্তু ছবি ওঠে না। এই আমার প্রশ্ন করার সুযোগ – যদি ছবি না উঠবে তাহলে ক্যামেরার কাজ কি ? রবার্ট স্মিতমুখে বললেন, কোনো গাড়ি গতি সীমার ঊর্ধ্বে চালিত হলে, ফিল্ম থাকুক না থাকুক ক্যামেরা ফ্ল্যাশ করবে। আপনি তো জানেন না আপনি সত্যিকারের স্ক্রিনশট দিলেন কিনা কিন্তু ক্যামেরার ঝলকানি দেখেই আইন ভেঙ্গেছেন ভেবে অপরাধী বোধ করবেন। প্রতি মাসে একবার চেক করা হয় কোন ক্যামেরায় কতবার ফ্ল্যাশ হয়েছে। সেই হিসেবে ফিল্ম বা মেমরি কার্ড যোগ বিয়োগ করা হয়। আপনি যেখানে ধরা পড়েছেন সেখানে লাগানো ক্যামেরায় ছবি ওঠার চান্স অঙ্কের হিসেবে ষাট পারসেন্ট। কিন্তু সেদিন আপনার ভাগ্য খারাপ ছিলো। তবে লক্ষ রাখবেন সারের বহু ট্রাফিক লাইটেও ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে, সেটা স্পিড মাপার এবং কেউ রেড লাইট জাম্প করলো কিনা দেখার জন্য। সেই অপরাধের তাৎক্ষনিক দণ্ড তিনটে পয়েন্ট।

    আমার ছেলে ইন্দ্রনীল ছোটবেলায় বলতো পয়সা খরচা করে ক্যামেরা বসানোর কি দরকার, তার ছবি দিলেই তো লোকে সাবধান হবে ! ভাববে ছবি উঠতে পারে। এখন মোটরওয়েতে অনেক জায়গায় দেখি ক্যামেরার ছবি আছে- বিগ ব্রাদার ওয়াচিং ! রবার্টের কথা শুনে মনে হলো, আমার পুত্র সেটাই ভেবেছিল – বাট হি ইজ নট অলওয়েজ ওয়াচিং! কিন্তু সেই চান্স নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়।


    তুমি কি কেবলই ছবি

    ক্যামেরা কোথায় কোনখানে থাকে? লুকিয়ে না প্রকাশ্যে ? তাকে চেনার উপায় কি ? এ ব্যাপারে ব্রিটিশ অত্যন্ত ভদ্র- এক সময় এ দেশে ক্যামেরা বসানো থাকতো ঘোর অরেঞ্জ রঙের পিলারের ওপরে ( এখন কটকটে হলুদ)। গোপন ক্যামেরাটি রবে না গোপনে – আপনার ফটোগ্রাফার ঠিক কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে ‘ লাইট ক্যামেরা অ্যাকশন’ বলবে সেটা আপনার অগ্রিম জেনে সতর্ক হবার সুযোগ আছে, যাতে কয়েক মুহূর্তের জন্যে আপনি নিয়মানুবর্তী সভ্য সচেতন নাগরিক হিসেবে গাড়ির গতি কমিয়ে সেই শুটিং জোন অতিক্রম করতে পারেন। একই সঙ্গে অন্ধ এবং কোন কারণে উন্মনা না হলে এই বর্ণাঢ্য ক্যামেরা বাহী পিলারটি চোখে পড়া কঠিন নয়। সে তুলনায় জার্মান পুলিশ অতীব বদমাইশ –তারা ক্যামেরা লুকিয়ে রাখে কোথাও কোনো উঁচু বাড়ির ব্যালকনিতে, কারো ছাতে, এমনকি ফ্রাঙ্কফুর্টের একটা বিশাল মোড়ে মধ্যযুগের টাওয়ারের ওপরে ( স্থানীয় খবর কাগজ সেটা ফাঁস করেছে হালে)। এই রকমের বদবুদ্ধি ইউরোপের নানান দেশ আয়ত্ত করেছে। ফরাসি সীমান্ত পার হয়ে ব্রুঘে থেকে লিয়েজ যাওয়ার মোটরওয়ে পার হয়েছি বহু বার – কোথাও কোন স্পিডক্যামেরার আভাস অবধি দেখি নি। এক গুণীজন বলেছেন, বেলজিয়ামে মোটরওয়ের মাঝের ব্যারিয়ারের হেজে নাকি সেটা লুকোনো থাকে। সে পথে আমার নিয়মিত আসা যাওয়া, তবে ছবি এখনও ওঠে নি এই যা।

    যারা এই গ্রীষ্মে ইউরোপে গাড়ি চালাবেন মনস্থ করেছেন তাঁদের আগাম সতর্কবাণী দিয়ে রাখি- বেশির ভাগ ক্যামেরা পাবেন মোটরওয়েতে নয়, শহরের ভেতরে মানে বিল্ট আপ এলাকায়; গড় হিসেব অনুযায়ী প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা সেখানেই বেশি ঘটে। মনে রাখবেন তারা সরকারি কর্মীর মতো নটা থেকে ছটা কাজ করে, সন্ধ্যে হলে ক্যামেরার বিশ্রাম, অনেক দেশে উইক এন্ডেও তাদের ছুটি। স্পিড ক্যামেরা মোতায়েন করার কাজে ইতালি একবারে নুমেরো উনো। স্বাভাবিক। যে দেশে প্রত্যক্ষ কর ফাঁকি দেওয়াটা জাতীয় স্পোর্টের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে সেখানে নিজের দানাপানি যোগাড় করার জন্য সরকারকে অন্য পন্থা খুঁজতে হয়। কোনো ইতালিয়ান পৌরসভার বাৎসরিক আয়ের প্রধান আইটেম পারকিং মিটারের প্রাপ্য দেয় পূরণ না করার ফাইন এবং স্পিডিঙ জনিত জরিমানা। তারপরেই ব্রিটেনের স্থান। ইউরোপের দেশগুলি বুঝে ফেলেছে এই বাজারে খাজনা বা ট্যাক্স বাড়ানো শক্ত হলেও নাগরিকদের দ্রুত গতি বাহনের ছবি তুলে প্রভূত অর্থ অর্জন করা সম্ভব।

    ফিনল্যান্ডে ফাইনের পরিমাণ পূর্ব নির্ধারিত বা ফ্ল্যাট রেট নয়। আপনার মাসিক আয়ের ওপরে সেটা স্থির হয়। নির্দিষ্ট গতিবেগ উল্লঙ্ঘন করে তাঁর হারলে ডেভিডসন বাইক চালানোর জন্য নোকিয়ার এক ডিরেক্টর আনসি ভানওকির জরিমানা হয় চোদ্দ দিনের মাইনে, এক লক্ষ ইউরো! নোকিয়ার এক লোন সাইনিং অনুষ্ঠানে গল্পটি শুনি তৎকালীন সি ই ও ওলিল্লার কাছে। হল্যান্ডে নির্ধারিত গতির দ্বিগুণ বেগে চালিয়ে ধরা পড়লে আপনার বাহনটি বাজেয়াপ্ত করার অধিকার আছে ডাচ পুলিশের – শোনা যায় কোন রবিবার সকালে স্কিফোল এয়ারপোর্ট এলাকায় পুলিশ একটি ফেরারি গাড়ি তাদের খোঁয়াড়ে ভরে রাখে; চালকের গতি ছিল ঘণ্টায় দুশ কিলোমিটার ! শহরে বা গ্রামের ভেতরে ধীরে গাড়ি চালানো অবশ্যই বাঞ্ছনীয়। স্পিড ক্যামেরার পথিকৃৎ হল্যান্ড – তাঁদের দেশের ট্রাফিক পুলিস জানিয়েছে গত বছরের প্রথম চার মাসে দশ লক্ষ পেনাল্টি টিকিট ইস্যু হয়েছে তার সঙ্গে দেড় লক্ষ বিদেশি নাম্বার প্লেটের গাড়ি ( সাধু ও টুরিস্ট সাবধান !)। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রায় সকল দেশের ট্রাফিক পুলিশ দাবি করে স্পিড ক্যামেরা লাগানোর পরে পথ দুর্ঘটনা জনিত মৃত্যুর হার অর্ধেক হয়েছে কিন্তু সকলে জানান না এ বাবদে তাঁরা কত আয় করেন। ব্যতিক্রম বেলজিয়ান পুলিস – তাঁরা জানিয়েছেন গত বছরে স্পিডিঙ ফাইন বাবদ সরকারের আয় প্রায় ছ কোটি ইউরো -কষ্ট ইনকাম রেশিও অত্যন্ত লোভনীয়। যে হারে ব্রিটেনের গ্রামাঞ্চলে ক্যামেরা বহনকারী হলুদ রঙের পিলারের সংখ্যা বাড়ছে তা দেখে অনুমান করে নিতে অসুবিধে হয় না ব্রিটিশ সরকার বাজেট ঘাটতি পূরণের জন্য ক্যামেরার জাল দেশময় বিছিয়ে দিতে তৎপর হয়েছেন।

    যে কোন গাড়ির লিফলেট বা ব্রশিউর হাতে তুলে দেখি - তাতে কত না গুণের ব্যাখ্যান – কিলোমিটারে কতো সামান্য তেল খায়, মেটালিক রঙ, অটোমেটিক গিয়ার, ব্রেকিং সিস্টেম ( এ বি এস ), ছটা স্পিকার, মাত্র দশ সেকেন্ডে সে গাড়ির গতি শূন্য থেকে একশো কিলো মিটারে পৌঁছুতে সক্ষম। গাড়ির ড্যাশ বোর্ডের স্পিডোমিটার দেখলে জানা যায় তার উচ্চতম গতি বেগ ঘণ্টায় দুশো কিলোমিটার। এই সব মূল্যবান তথ্য জানিয়ে বিক্রেতারা মহার্ঘ্য গাড়ি বিক্রি করেন।


    সে যে মানে সব মানা

    গাড়ির শো রুম থেকে বেরুলেই চোখে পড়ে নোটিস - শহরের ভেতরে গাড়ির গতির উচ্চসীমা ঘণ্টায় বিশ মাইল, একটু দূরে গেলে তিরিশ। মোটরওয়েতে ৭০ মাইল ( ১১২ কিমি ) গতি অনুমোদিত। সেখানে কদিন যাই ? যেখানে আমার নিত্যিদিনের ঘোরাঘুরি - হাটে বাজারে, বন্ধু সন্দর্শনে, তসেখানে আমার গাড়ির টিকিটি বাঁধা আছে তিরিশ বা বড়জোর পঞ্চাশ মাইল বেগে। প্রয়াত ভাস্করদার ( ভাস্কর দত্ত, সুনীলদার অভিন্ন হৃদয় বন্ধু) পুত্র অর্ণবের বাড়ি থেকে কিছু সঞ্চিত বই সংগ্রহের জন্য উত্তর লন্ডনের স্টোক নিউইংটন গেলাম গত রবিবার - এককালের সেই বিখ্যাত ওয়েস্টওয়ে আকীর্ণ হয়ে আছে অজস্র ক্যামেরায়, ওয়েম্বলি, হ্যামারস্মিথ থেকে কিংস ক্রস ছাড়িয়ে গাড়ি চলে ধীরে মন্দ গতিতে, আইন বাঁচিয়ে।

    তাহলে এত ফাস্ট গাড়ি আমার কোন কাজে লাগে ?

    জানি রথ চালকের অন্তবিহীন স্বাধীনতা আছে এক দেশে - কিছু নির্ধারিত এলাকা বাদে মোটরওয়েতে গাড়ি চালানোর গতির কোন উচ্চসীমা বাঁধা নেই, শুমাখার বা লুইস হ্যামিলটনের মতন যেখানে যেমন খুশি যে কোন স্পিডে হারিয়ে যেতে পারি। লুইবেক থেকে হামবুর্গের অত্যন্ত সমতল পথে ঘণ্টায় অনায়াসে দুশো কিলোমিটার গতিতে পৌঁছে মনে হয়েছে মাটি ছাড়ালেই তো প্লেন ! গতি আরেকটু বাড়ালেই হয়ে যাবো জন গ্লেন। কিন্তু নিত্যদিনের কাজের জগতে জার্মানিতেও তো আবার সেই ৩০/৫০ কিলোমিটারের শিকলি পরানো আছে।

    আজ মনে পড়ে আমাদের প্রতিদিনের পথের ধুলায় সঙ্গী এক যান – গ্রামের কাঁকর বিছানো পথে, গরুর গাড়ি চলে চলে দু পাশে গভীর গর্ত মাঝখানে জেগে থাকা মাটির চরের সঙ্গে সমঝোতা করে, ছাগল গরু সাইকেলকে পাশ কাটিয়ে রাস্তায় শুকোতে দেওয়া ধানের ওপরে চলে যায় গাড়ি। সিঁথি বরানগরের অলিতে গলিতে ভেঁপু বাজিয়ে পথচারীকে জানায় আমি পেছনে আছি। উচ্চ গতির অহেতুক অহংকার ছিল না তার, হাটখোলা থেকে কলুটোলা, পদুমা গ্রাম থেকে কেন্দুলির মেলা ঠিক পৌঁছে দিয়েছে সে, তার নিজস্ব চালে। পথে হলো দেরি ? হোক না। দের আয়ে পর দুরুস্ত আয়ে।

    ততক্ষণ সিট বেল্ট বর্জিত আরামদায়ক গদিতে গা এলিয়ে দিয়ে বসে দুটো গল্প গাছা, পথচারী নিরীক্ষণ।

    দাও ফিরে সে অ্যামবাসাডার , লহ এ জাগুয়ার !

    গতি সম্পর্কিত কবিতা -তুষার রায়

    এই ভাবেই তো গরুর গাড়ির গতি বাড়ালেই মোটর
    আবার মোটর থেকে মাটি ছাড়ালেই প্লেন
    আরো গতি বাড়ালে জন গ্লেন , পারে
    অভিকর্ষের বাইরে চলে যেতে
     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ১৫ জুন ২০২৪ | ১২২৭ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    নো  - albert banerjee
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Kishore Ghosal | ১৫ জুন ২০২৪ ১৩:০১533190
  • গরুগুলো - আমাদের মতো বুদ্ধিজীবী - সচরাচর রা কাড়ে না। কিন্তু মোষ?
     
    ছোটমামার বিয়ে। মণ্ডল গ্রামের মঙ্গলার হাট থেকে একবার মোষের গাড়ি করে ফিরছিলাম নিজেদের গ্রামে। জষ্টির মধ্যদুপুরে মাথার ওপর গনগনে সূর্য - চাঁদি ঝাঁঝাঁ করছে...। আমাদের গ্রামে ঢোকার পথে রাস্তার বাঁদিকে একটা পুকুর ছিল - মোষদুটো হঠাৎই গাড়ি নিয়ে গড়গড়িয়ে নেমে পড়ল সেই পুকুরে - পুকুরের গা ডোবানি জলে দাঁড়িয়ে মোষ দুটো আরামে ডেকে উঠল - হোঁয়া-আ-আ-আ। আমার তখন বছর দশেক বয়েস - আমাদের রাখাল কাম গাড়োয়ান কাম হাট-গার্জেন লক্ষ্মণদার মুখ থেকে সেদিন যা বাণী শুনেছিলাম, তার প্রকৃত অর্থ জেনেছিলাম কলেজের হস্টেলে গিয়ে।
     
    আপনার "গরুরগাড়ি"-র প্রসঙ্গে হঠাৎ এই ছবিটা মনে পড়ল,হয়তো অবান্তর তাও লিখে দিলাম।
     
    গরুর গাড়িতে এমন ঘটনা কোনদিন ঘটেনি - গরুরা আইন বাঁচিয়েই চলে।
  • হীরেন সিংহরায় | ১৫ জুন ২০২৪ ১৪:৩১533193
  • কিশোর
    বীরভূমের দুবরাজপুর স্টেশনে ট্রেন থেকে নেমে ন মাইল দূরের পদুমা গ্রাম যাবার একমাত্র বাহন ছিল আমাদের বলদের গাড়ি, দু জোড়া অদলবদল করে আসতো। কোন অজ্ঞাত কারণে তাদের যুগল বন্দি ছিল অব্যাহত। আপনার সঙ্গে এ বিষয়ে একমত - বাবা মা আমরা দু ভাই গাড়োয়ান ও বাকসো প্যাঁটরা সমেত গোটা পরিবারকে দিনে রাতে যে কোন সময়ে তারা আটচালার উঠোন অবধি পৌঁছে দিয়েছে গুগল বা কম্পাসের সাহায্য ছাড়াই। তাদের দানা পানির জন্য কোথাও থামতে হয়েছে বলে মনে পড়ে না। এখনও যে স্বপ্নের মধ্যে দেখি ছই দেওয়া ( আমরা বলতাম ঘেরা ) গাড়িতে মায়ের কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে আছি, সামনের দিকে বাবা বসে, কেবলই জিজ্ঞেস করে যাচ্ছেন গাড়োয়ানকে, হ্যাঁরে এবার বিঘেতে কত মাপ ধান হবে বল দিকি ? গাড়ি চলেছে মন্দ মন্থরে। আপনার কাহিনি শুনে মনে হল হয়তো মোষের সম্ভাব্য বেআক্কেলে আচরণের কারণেই বাবা আমাদের গোয়ালে কখনো মোষ রাখেন নি।
     
    অবান্তর মোটেও নয়, মণ্ডল গ্রাম থেকে টেকে এনে এক ঝলকে আমার পদুমার বাল্যকাল মনে করিয়ে দিলেন।
  • সমরেশ মুখার্জী | ১৫ জুন ২০২৪ ১৯:১৩533214
  • যেহেতু আমার বিদেশে গাড়ি চালানো‌র সম্ভাবনা অতি ক্ষীণ তাই এটা পড়ে খুব উল্লাস হলো - যারা ওখানে চালায় তারা কীভাবে জালে পড়ে জেনে। laugh
     
    একদা TOI তে পড়েছি‌লাম ইংল্যান্ডের ইনটেলিজেন্ট স্পীড ব্রেকার সম্পর্কে। এক জটিল কারিগরি ব‍্যবস্থা‌য় সে স্পীড ব্রেকার ভদ্রলোকের মতো নিছক একটি স্ট্রিপের মতো শুয়ে থাকে রাস্তায় এবং একটি স্পিড ক‍্যামেরা দ্বারা সেটি নিয়ন্ত্রিত। যদি আগত গাড়ির গতি সীমা‌র বেশী হয় তাহলে সেটি উঠে গিয়ে স্পিড ব্রেকার বনে যায় না হলে আল্পনার মতো ছবি হয়ে শুয়ে‌ই থাকে রাস্তায়। সে আবার এ্যাতো বুদ্ধি‌মান যে দমকল আর পুলিশের গাড়ি গতিসীমা‌র বেশী গতিতে তার দিকে এলেও সে শুয়ে‌ই থাকে কারণ তাকে সে ভাবেই প্রোগ্ৰাম করা আছে। অমন একটি স্পিড ব্রেকারের মূল‍্য হয়তো ভারতের ন‍্যানোর থেকেও বেশী।
     
    ভারতের রাস্তায় ভেহিকল রেকার গোত্রের গোদা স্পিড ব্রেকার দেখলে খারাপ লাগে। তার কাছে সীমিত গতি‌তে চালানো সুশীল চালক বা উন্মাদের মতো গতিতে অগস্ত‍্য যাত্রা‌য় বেরোনো চালক - মুড়ি মিছরির এক দর। মিস করলেই - গদাম।
     
    স্পিড ক‍্যামেরা প্রসঙ্গে মনে পড়লো রিলায়েন্স জামনগর রিফাইনারি তে ২০০০ সালের একটি লজ্জা‌কর ঘটনা যার প্রোটাগনিস্ট Jan Vandenberg নামক Shell Global Solutions এর এক শ্বেতাঙ্গ ইঞ্জিনিয়ার। সে আখ‍্যানের মরাল হতে পারে White man's burden - মানে কীভাবে সাদা চামড়ার ডান্ডা না পড়লে ভারতে শিক্ষিত লোক‌ও বোঝে না - রিফাইনারি‌র মতো বিপজ্জনক ইন্ডাস্ট্রির রাস্তায় গতিসীমা কেন মেনে চলা উচিত। এটা পড়ে মেন্টালি নোট করে রাখলাম। কখনো লিখবো সেটা নিয়ে।
  • পলিটিশিয়ান | 2603:*:*:*:*:*:*:* | ১৫ জুন ২০২৪ ২০:৪৭533220
  • মোটে পাঁচ মাইল বেশি স্পীডে চালালেই টিকিট দেওয়া খুবই না ইনসাফি।
     
    একবার আমি একটি স্পিডিং টিকেট খেয়েছিলাম। পুলিশ আমারই বয়েসী, ভারি নিরীহ দেখতে। আমাকে টিকিট দিয়ে সে জানাল তাদের ওপর গোপন নির্দেশ স্পিড লিমিটের ওপর পনেরো মাইল অবধি টিকিট না দিতে। তবে এই আইন নেটিভ ইন্ডিয়ান অধিকারের ভেতরে প্রযোজ্য না। তারা সাধারনতঃ কড়া হাতে ফাইন আদায় করে, ওই বাজেটের জন্য।
     
    যাই হোক, ক্যামেরা লাগিয়ে বা হেলিকপ্টার চড়ে টিকিট দেবার দিন শেষ হয়ে এল। ভবিষ্যতে আপনার গাড়ী নিজেই হিসেব রাখবে আপনি টিকিট খাবার মত কাজ করেছেন কিনা। এবং সেই খবরটি গাড়ি নিজেই পুলিশকে জানিয়ে দেবে।
  • হীরেন সিংহরায় | ১৫ জুন ২০২৪ ২৩:৫২533243
  • শ্রী পলিটিশিয়ান

    ইংল্যান্ডের মোটরওয়েতে স্পিড লিমিটের টেন পারসেন্টের ভেতরে থাকলে ক্ষমা ঘেন্না পূর্বক টিকেট না দেওয়ার রেওয়াজ এখনও চালু আছে। তবে শহরে গ্রামে কোনো রেয়াত নেই, পাঁচ মাইল হলেও হালে দেখলাম ডিসক্রিশন দেওয়ার দাবি উঠেছে। ফ্রান্সের গ্রামে ঠিক এই ভাবেই টিকেট পেয়েছি। তবে ফরাসি মোটরওয়েতে ‘ রাডার কন্ট্রোল ‘ আসিতেছে কথাটা এতবার লেখা থাকে মিস করা শক্ত। বেশ কয়েক বছর আগে লুকসেমবুরগের গ্রামের ভেতরে হাতে স্পিড মাপার যন্ত্র নিয়ে পুলিশকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি, স্পেনেও। বিদেশি নাম্বার প্লেটের অধিকারীদের পিছনে ধাওয়া করাটা আবার ব্যয় সাপেক্ষ। জার্মানি থেকে লন্ডনে আসার পরে এক বছর আমার জার্মান নাম্বার প্লেট লাগানো গাড়ি যত্র তত্র পার্ক করেছি – ব্রিটিশ পুলিশ আমাকে ফ্লেন্সবুরগে টিকিট পাঠানোর চেষ্টা করে নি ! ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে আরেক সমস্যা হলো আপনার আপন দেশের ইন্সিউরেন্স নিয়ে সাতাশটা দেশে গাড়ি চালাতে পারেন। আমাদের একটি আতঙ্ক হলো কোন পোলিশ রেজিস্টার্ড গাড়ি যদি আমাকে ধাক্কা দেয় আমাকে পোলিশ ইন্সিউরারের দ্বারস্থ হতে হবে। সেটি কোন সুখদ চিন্তা নয়।
     
  • হীরেন সিংহরায় | ১৫ জুন ২০২৪ ২৩:৫৩533244
  • সমরেশ

    স্মার্ট স্পিড বাম্প ডেনমার্ক, সুইডেনে দেখা দিয়েছে বলে জানি। ইংল্যান্ডে যে কোন ইনোভেশন একশ বছরে বাদে প্রচলিত হয়। তাই আমরা আপাতত শান্তিতে আছি।
     
  • পলিটিশিয়ান | 2603:*:*:*:*:*:*:* | ১৬ জুন ২০২৪ ০০:৫০533253
  • হীরেনবাবু
     
    আমেরিকার লোক অংকে কাঁচা হয় বলেই বোধহয় পারেসেনটেজের ঝামেলায় যায়নি। স্রেফ পনেরো মাইল করে ছেড়ে দিয়েছে।
     
    ইনস্যুরেন্সএর ব্যাপারে। এখানে আপনার যদি কমপ্রিহেনসিভ ইন্স্যুরেন্স থাকে তো আপনার কোম্পানি আপনাকে টাকা দিয়ে দেবে। তারপর অন্যপক্ষের ইন্স্যুরেন্স থেকে টাকা আদায় করা আপনার ইন্স্যুরেন্সের মাথাব্যথা। অবশ্য অন্যপক্ষের থেকে টাকা আদায় না হওয়া অবধি আপনি ডিডাক্টিবলটি পাবেন না। কিন্তু আপনি পন্ডিত মানুষ। সর্বনাশে সমুৎপন্নে অর্ধেকের কম ছাড়তে নিশ্চয়ই আপত্তি করবেন না।
  • হীরেন সিংহরায় | ১৬ জুন ২০২৪ ০১:০৯533256
  •  
    ' এখানে' বলতে আপনি কোন খানের কথা বলছেন বা ডিডাকটেবিলিটি কি তা আমি বুঝলাম না।
     
    ইউরোপে কমপ্রিহেনসিভ ( জার্মান ফলকাসকো ) ইন্সিউরেন্সে টাকা পাওয়া যায় কিন্তু প্রিমিয়ামও বেড়ে যায় ( নো ক্লেম বোনাস হারানোর দরুন )। ইন্সিউরেন্স ব্রোকার স্পষ্ট বলে দেয় - বেছে নিন, টাকা চান না প্রিমিয়াম বাঁচাতে চান। নো ক্লেম বাঁচানোর ইনস্যুরেনসও করানো যায়, তাতে খরচা বাড়ে। আমার পরিচিতা এক মহিলা এক গ্রিক লরি ড্রাইভারের কাছ থেকে টাকা উদ্ধার করতে তিন বছর ব্যয় করেন। কারণটা সহজবোধ্য, অন্তত ইউরোপীয় ইন্সিউরেন্স কনটেক্সটে। এটা ঠিক সর্বনাশে সমুৎপন্নের ব্যাপার বলে মনে হয় না যদিও আমার পাণ্ডিত্য সম্বন্ধে আমার এবং আমার স্ত্রীর যথেষ্ট সংশয় আছে।
  • পলিটিশিয়ান | 2603:*:*:*:*:*:*:* | ১৬ জুন ২০২৪ ০৩:৫৮533264
  • এখানে বলতে আমেরিকা।
     
    এদেশে ইনস্যুরেন্স করালে ডিডাক্টিবল বলে একটা জিনিস থাকে। ধরুন কিছু একটা হল যেটা ঠিক করতে দু হাজার ডলার লাগবে। আপনার পলিসিতে একটা ক্লস থাকবে যে আপনি দুহাজার ডলার থেকে পাঁচশ বা দুশ বা হাজার ডলার কম পাবেন। এই টাকাটাকে ডিডাক্টিবল বলে। ডিডাক্টিবল একটু বাড়িয়ে প্রিমিয়াম কমানো যায়।
     
    যদি অন্য পক্ষের দোষে দুর্ঘটনা হয় তাহলে তার ইন্স্যুরেন্স পুরো দুহাজার ডলারই দেবে, এবং আপনি পুরো টাকাটাই পাবেন, যদি টাকা আদায় হয়। আপনার যদি কমপ্রিহেনসিভ ইন্স্যুরেন্স থাকে ও ডিডাক্টিবল পাঁচশ ডলার হয় তাহলে আপনার কোম্পানি আপনাকে প্রথমে পনেরশ ডলার দেবে। তারপর অন্য পক্ষের কাছ থেকে টাকা আদায় হলে আপনি বাকি পাঁচশ পাবেন। এইটে হল থিওরি।
     
    বাস্তবে ব্যাপারটা এত সরল নাও হতে পারে। ধরুন টাকা আদায় হল এবং আপনার কোম্পানি সেটা আপনাকে জানাতে বেবাক ভুলে গেল। আপনি ব্যস্ত মানুষ, আপনারও ওই পাঁচশ টাকা মনে থাকল না। আপনি যদি কোন ভুলভাল স্টেটে বাস করেন তো ওটা কোম্পানির লাভের খাতায় ঢুকে গেল।
     
    এখন হয়তো এসে যায়না। কিন্তু ছাত্রজীবনে ওই ডিডাক্টিবল না পাওয়াটা সত্যিই সর্বনাশ বলে মনে হত।
  • হীরেন সিংহরায় | ১৬ জুন ২০২৪ ০৮:৪৭533279
  • ইউরোপীয় কার ইনসিউরেনস অতটা জটিল নয় এবং দেশে দেশে পার্থক্য সামান্য। যা আমি লিখেছি। এটা বুঝতে পন্ডিতির প্রয়োজন হয় নি।
  • শিবাংশু | ২৩ জুন ২০২৪ ১২:৩৬533640
  • এদেশে চার-চাকা চালাচ্ছি তিরিশ বছরের বেশি। দু-চাকা পাক্কা পঁয়তাল্লিশ বছর। মোটামুটি ভাবে এদেশের সব দিকেই। গ্রাম-শহর-মহানগর, নদী-নালা- ধানখেত, সব কিছুই আছে তার মধ্যে। তাদের মধ্যে গাড়ির চাল নিয়ে খবরদারি থাকে দিল্লি -বম্বে -কলকাতা -হায়দরাবাদ -লুরু। তাও তার মধ্যে ইতরবিশেষ থাকে। ঠাকুরের ইচ্ছেয় এখনও পুরো এনসিবি দাবি করতে পারি এবং ট্র্যাফিক চালান পাইনি কখনও। অকারণ গতি তোলার ব্যাপার শীর্ষে হায়দরাবাদ। ট্র্যাফিক পুলুস কলকাতায় বেশ সতর্ক। দিল্লিতে অতিরিক্ত রূঢ়। বম্বের পাণ্ডু হাওলদার খুব বেশি জ্বালাতন করে না। লুরু'তে রাস্তাই নেই, তাই গতি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে যে সব ড্রাইভার পাটনায় নিরাপদে গাড়ি চালিয়ে নিতে পারেন, তাঁদের খুরে দণ্ডবৎ।
     
    গতি নয়, রাস্তার সাড়ে সব্বোনাশ হলো চকিতে লেন বদলানো ভাড়াটে ড্রাইভাররা।
  • হীরেন সিংহরায় | ২৩ জুন ২০২৪ ১৬:০৭533643
  • শিবাংশু
     
    দারুণ থিম / কনটেন্ট দিলে ! মাদ্রিদ মিলান বনাম মিউনিকেরড্রাইভারদের গাড়ি চালানোর ইডিওসিনক্রেসি, দেশে দেশে রাডার যন্ত্রের দুষ্প্রয়োগ ! নরওয়ের অসলোয় সন্ধ্যে সাতটার পরেও পুলিশ টিকেট দেয় ( আমার ' উত্তরের আলোয় অচেনা ইউরোপ পশ্য !), ফ্রাঙ্কফুর্ট হানোভারে তখন পথ থেকে পুলিশ পলাতক ( পোলিতসাইরুহে )!
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভালবেসে মতামত দিন