এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • বার্লিন ! তিন দশকের স্মৃতি 

    হীরেন সিংহরায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০৭ মার্চ ২০২৪ | ১২৭০ বার পঠিত | রেটিং ৪ (৩ জন)
  • পর্ব ১ | পর্ব ২

    হোটেল আডলন লোরেনতস আডলন


    দুই

    শেষের পরের দিন

    সকালবেলা মর্নিং কোট, টপ হ্যাটে সজ্জিত হয়ে বার্লিনের সবচেয়ে প্রখ্যাত হোটেলিয়ার লোরেনতস আডলন তাঁর নামাঙ্কিত হোটেলের সদর দরোজা পেরিয়েই প্রথম যে ফুলওলা পেলেন তাকেই বললেন, “ শোনো তোমার যত রকমের ফুল আছে সব দিয়ে একটা বিশাল বোকে ( স্ত্রাউস ) বানাও দেখি“। সে বললে “ মাইন হের, এই বাজারে সবই অমিল। কেবল জঙ্গলি ফুল আছে, তাই দিয়ে বানাবো?” তাই সই, আডলন বুনো ফুলের পাতার এক বিশাল বোকে হাতে নিয়ে দু পা এগিয়ে ব্রানডেনবুরগার গেটের সুরম্য স্তম্ভের পাশে দাঁড়ালেন।

    ঊনটার ডেন লিনডেনের পশ্চিম দিকে বিজয় স্তম্ভের দিকে চোখ রেখে মাথা উঁচু করে অ্যাটেনশনে দাঁড়িয়ে আছেন লোরেনতস আডলন ; তাঁর দু পাশ দিয়ে ছেঁড়া পোশাকে যুদ্ধ ফেরত বিভ্রান্ত সৈন্যেরা হেঁটে যাচ্ছে, এখানে ওখানে নীরব মানুষের জটলা, সব মিলে একটি নির্বাক চিত্র।

    নগরের শান্তি রক্ষার্থে সমবেত প্রাশিয়ান পুলিশ বাহিনীর কর্তা এগিয়ে এসে লোরেনতস আডলনকে সসম্মানে জিজ্ঞেস করলেন এই ফুলের বোকে নিয়ে তিনি এখানে কার অপেক্ষায় আছেন ?


    ব্রান্ডেনবুর্গার গেট ১৯১৮

    আডলন বললেন “ আজ যুদ্ধ বিজয় করে মহামান্য সম্রাট বার্লিনে ফিরছেন। তিনি যখন ব্রানডেনবুরগ তোরণে এসে পৌঁছুবেন, এই ফুলের বোকে দিয়ে আমি তাঁর প্রথম সম্বর্ধনা জানানোর জন্য এখানে দাঁড়িয়ে আছি।“

    পুলিশ হতবাক। ইতিমধ্যে লোরেনস আডলনের ছেলে লুডভিগ এসে পড়েছেন; বাবার কনুই ধরে কোনমতে তাঁকে হোটেলে ফিরিয়ে নিয়ে গেলেন, বোঝানোর চেষ্টা করলেন তাঁর চেনা পৃথিবীটা গতকাল বদলে গেছে ; দশ বছর আগে যে সম্রাটের একান্ত উৎসাহে ও সহযোগিতায় তিনি এই হোটেলের স্থাপনা করেছিলেন, যে সম্রাট তাঁর বার্লিন কেল্লার চেয়ে এখানে সময় কাটানো বেশি পছন্দ করতেন, সেই সম্রাট গতকাল প্রাশিয়ান রাজত্ব ও জার্মান সাম্রাজ্যের অধীশ্বরের দুই সম্মানিত মুকুট পরিত্যাগ করেছেন।

    মাইন্তস শহরের লোরেনতস আডলন প্রথম জীবনে ফার্নিচার বানিয়েছেন, তারপর রাইনের ওয়াইন বেচেছেন ;বার্লিনে এসে নামলেন হোটেল ব্যবসায়ে। এক আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে পরিচিত হয়েছিলেন সম্রাট দ্বিতীয় ভিলহেলমের সঙ্গে ; সম্রাট তাঁকে বললেন কফি হাউস বার্লিনে ঢের আছে। আপনি এমন একটা হোটেল বানান যেখানে আমি আমার পারিষদ ও বার্লিনের ভব্য মানুষদের নিয়ে দু দণ্ড বিশ্রম্ভালাপ করতে পারি। যা টাকা ছিল তাই দিয়ে, সঙ্গে প্রচুর ঋণ করে লোরেনতস আডলন যে হোটেলের স্থাপনা করলেন তার প্রথম অতিথি সম্রাট ভিলহেলম ও সম্রাজ্ঞী আউগুসটা ভিক্টোরিয়া (২৬শে অক্টোবর ১৯০৭) ! বিগত দশকে কতবার তিনি হেথায় এসে লোরেনতস আডলনকে ধন্য করেছেন। আজ তিনি কি করে মেনে নেবেন ভিলহেলম আর প্রাশিয়ার রাজা, জার্মানির কাইজার নন, তিনি হল্যান্ডের ডুরন শহরবাসী এক ধনী জমিদার মাত্র। লোরেনতস আডলন বিশ্বাস করেছেন এক মহা পরাক্রমী প্রাশিয়ান শাসনে, যেখানে সেই সম্রাট ছিলেন সবার মাথার ওপরে ; ভোটের অধিকার সবার ছিল না, ছিল মুষ্টিমেয় ধনী জমিদার ও অভিজাত মানুষের গড়া আইন শৃঙ্খলা, যাকে মানুষ মেনে এসেছে, প্রশ্ন করে নি। সৈন্য বাহিনীর জবাবদিহি ছিল পার্লামেন্ট নয়, রাজার কাছে। আজ পার্লামেন্ট আছে, রাজা নেই – নেই কোন দৃঢ় বলিষ্ঠ টিউটনিক মর্যাদার পিতৃ পুরুষ যিনি ভার নেবেন এই দেশের, নিয়ে যাবেন অন্ধকার থেকে আলোতে, রাজা ফ্রেডেরিক, প্রথম ভিলহেলমের মতন। আমরা কি অনাথ হলাম? কয়েকশ বছরের প্রথা হঠাৎ বাতিল হলে এবার কিসের ওপরে আস্থা রাখবে মানুষ?

    জীবনের বাকি দু বছর তাঁর হোটেলের লবিতে স্থাপিত কাইজারের স্ট্যাচুর সামনে নিশ্চুপ বসে থাকতেন লোরেনতস আডলন।

    কীল হামবুর্গের নৌ বিদ্রোহী, ফ্রাই করপ্সের ( প্যারা মিলিটারি ) সেনা সম্রাটের পদত্যাগ চেয়ে বার্লিনে এসে পৌঁছেছেন, রাজ কেল্লার দখল নিয়েছেন। সম্রাট নিজেই বিদায় নিলেন। তাহলে এঁরা কি চান ? বিপ্লব ? দোকান থেকে লাল কাপড়ের থান অদৃশ্য হলো, যে যেখানে পারেন লাল পতাকা ওড়ালেন। বার্লিন স্পষ্ট দু ভাগে বিভক্ত, পশ্চিম বার্লিনের সম্পন্ন বার্লিন ; অন্য প্রান্তে বুভুক্ষু জনতার ভিড় – র‍্যাশন চালু হয়েছে, দিনে আড়াইশ গ্রাম রুটি, পঁচিশ গ্রাম মাখন, পনেরো দিন অন্তর একটা ডিম, দশ কিলো আলু পাওয়ার কথা, মেলে না সব সময়ে। দশগুণ বেশি দামে কালোবাজারে কিছুই দুর্লভ নয়। রাজা নেই, পুলিশ আছে, তাকে শাসন করে কে ?

    ঝাণ্ডা ওড়ে অনেক- বামপন্থীদের লাল, রাজপন্থীদের সাদা কালো লাল, প্যারা মিলিটারি/ ভগ্ন সৈনিকদের স্বস্তিকা, প্রজাতন্ত্রের প্রতীক কালো সোনালি লাল। শহরে সমাগত সৈন্য বাহিনী, যে যেখানে খুশি লুঠপাট করে। দীর্ঘ পরিচিত সমাজ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে, এখন চেনা পথে অচেনা পথিক। এক ঘোলাটে চোখে বার্লিনের মানুষ অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ দেখবার চেষ্টা করে।

    জানুয়ারি ১৯১৯ – অগুনতি লাল পতাকায় ছেয়ে গেছে বার্লিন। স্পারটাকাসের নামাঙ্কিত বাহিনীর নেতৃত্ব দিলেন কার্ল লিবকনেখট, রোজা লুকসেমবুরগ, প্রতিষ্ঠিত হলো জার্মান কমিউনিস্ট পার্টি ( কে পি ডি – কমিউনিসটিশে পারটাই ডয়েচলানডস) কোন প্রস্তুতি ছাড়াই বিপ্লবের ডাক দিলেন কার্ল লিবকনেখট। রোজা লুকসেমবুরগ হতবাক, নেতারা বন্ধ ঘরে আলোচনায় ব্যস্ত, পথে পথে লাল নিশান উঁচুতে তুলে সংগ্রামী কমরেডরা নির্দেশের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে - বার্লিন লাল দুর্গে পরিণত, বার্লিন এক সোভিয়েত। তার প্রতিপক্ষ ওত পেতে আছে অলিতে গলিতে। মাঠে ঘাটে নামলো যুদ্ধ মন্ত্রী নোসকের ব্লাডহাউনড বাহিনী, বারশো প্যারা মিলিটারি, তাদের কাজ কমিউনিস্ট নেতাদের খুঁজে বের করা। , কার্ল গা ঢাকা দিলেন নয় কোলনের এক কমরেডের ঘরে, পরের দিন এক ইনফরমারের সৌজন্যে ধরা পড়লেন। লুকসেমবুরগ গ্রেপ্তার হলেন – তাঁদের আনা হলো চিড়িয়াখানার পাশের ইডেন হোটেলে। অকথ্য অত্যাচারে মৃত্যু বরণ করলেন – নভেম্বর বিপ্লবের অন্ত।

    আজকের কুরফুরস্টেনডাম দিয়ে উলানডস্ত্রাসে ঢুকে সিধে উত্তরে পাঁচ মিনিট হাঁটলেই ডান দিকে পড়বে ইডেন হোটেল

    কার্ল লিবকনেখট এবং রোজা লুকসেমবুরগকে মনে রেখেছে বার্লিন- দেখবেন কার্ল লিবকনেখট হাউস, যেখানে কমিউনিস্ট পার্টির অফিস ছিল, যে বাড়ির দেয়ালে দেয়ালে লেখা হয়েছিল আসন্ন নাৎসি শাসনের বিরুদ্ধে সতর্কতার শেষ ইস্তেহার, কাছেই পাবেন রোজা লুকসেমবুরগ প্লাতস। এই তো সেদিন।


    রোজা লুকসেমবুর্গ মেট্রো স্টেশন, বার্লিন

    শোনা গেল বার্লিন শহরে এবার গণতন্ত্র আসবে, ভাইমার শহরে সংবিধান লেখা হবে, শুধু কাগুজে বাঘ নয়। সেটি নির্দেশ করবে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি, প্রশাসন, জনজীবন।

    গণতন্ত্র? প্রাশিয়ার পার্লামেন্ট তো ছিল, কিন্তু সেখানে ভোট দেওয়ার অধিকার কেবলমাত্র প্রাশিয়ান পুলিশের কাছে ক্লিন চিট পাওয়া চব্বিশ বছরের বেশি বয়স্ক পুরুষদের। এবার নাকি বিশ বছরের ওপরে পুরুষ নারী নির্বিশেষে এক মাথা এক ভোটের অধিকার পাবেন ( তুলনামূলক ভাবে, নারী পুরুষ নির্বিশেষে ভোটের অধিকার প্রথম দেওয়া হয় ফিনল্যান্ডে ১৯০৬ সালে, ইংল্যান্ডে ১৯২৮, ফ্রান্সে ১৯৪৪ এবং গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী সুইজারল্যান্ডের শেষ ক্যানটন আপ্পেনজেল ১৯৯০ – সেই ক্যানটনের এক যুবক হান্স রুডি নেফ নামের এক যুবক আমার জন্যে কাজ করত, সে বলতো মেয়েদের ভোটের অধিকার দেওয়া ঠিক নয় )। বয়স্ক জার্মান পুরুষেরা এই নবীন ভাবনার কড়ি সে কড়ি নিন্দা করলেন – মেয়েদের স্থান রান্নাঘরে, ভোটের ঘরে নয়।

    অরাজক বার্লিনের অনেকটা দক্ষিণ পশ্চিমে, দুশো কিলোমিটার দূরে, ভাইমার শহরে সংবিধানের প্রথম ড্রাফট লিখলেন ফ্রিডরিখ ভিলহেলম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক হুগো প্রয়েস; তিনি ইহুদি বলে সেখানে কোনদিন স্থায়ী পদ পান নি। সংবিধানে ১৭৭ টি আর্টিকেল, তার মধ্যে সবচেয়ে বিবাদিত হলো সকল প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার, এমনকি মেয়েদের ! প্রাশিয়া তথা জার্মানির ইতিহাসে প্রথম নির্বাচন হলো ১৯শে জানুয়ারি, ১৯১৯। বাম দক্ষিণ উত্তম মধ্যম রাজভক্ত প্রজা পূজারী এমনি আঠেরোটা দল ভোটে দাঁড়ালেন – কমিউনিস্ট পার্টি কোন প্রার্থী দিলেন না, নির্বাচনে তাঁদের আস্থা নেই।। আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ( প্রপরশনাল রিপ্রেসেনটেশন ) দিয়ে হারজিত ঠিক হবে অর্থাৎ পাঁচজনের মধ্যে যিনি অন্তত একটা বেশি ভোট পেলেন তিনি বিজয়ী হবেন না ; ভোটার কোন নির্দিষ্ট প্রার্থীকে নয়, পার্টিকে ভোট দিলেন( যে প্রথা আজও চালু আছে জার্মানিতে )। ৫০.১% এর বেশি ভোট পেলে কোন দল সরকার গঠন করতে পারে, নইলে কোয়ালিশন। এই নির্বাচনে বাম ঘেঁষা সোশ্যাল ডেমোক্রাটরা পেলেন ৩৭%, মধ্যপন্থী ক্যাথলিক দল ২০% এবং খানিকটা বাঁয়ে খানিকটা ডাইনে জার্মান জাতীয় দল ১৯% - মেজরিটি কারোরই নেই, তিন দল মিলে গড়লেন প্রথম কোয়ালিশন সরকার। আনুপাতিক প্রধিনিধিত্ব আইনের প্যাঁচে কোন দল সংখ্যা গরিষ্ঠতা পাবেন না ভবিষ্যতে-হিটলারের নাৎসি পার্টিও -এমনকি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে জার্মানিতে একবার মাত্র কোন সংখ্যাগরিষ্ঠ দল একক শাসন করেছে ( কনরাড আদেনআউয়ার, ক্রিস্টিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন, ১৯৫৭-১৯৬১)। নির্বাচনের পরে তত্ত্বাবধায়ক রাষ্ট্রপ্রধান ফ্রিডরিখ এবারট (কোন জমিদার নন, সেনাপতি নন, ঘোড়ার জিন বানানো ছিল তাঁর পেশা) সোশ্যাল ডেমোক্রাট নেতা ফিলিপ শাইডেমানকে জার্মানির চ্যান্সেলর হতে আহ্বান জানালেন, সেই ফিলিপ শাইডেমান যিনি ৯ নভেম্বর ১৯১৮ রাইখসটাগের জানলা থেকে জার্মান প্রজাতন্ত্রের জন্ম ঘোষণা করেছিলেন।

    ইয়ে চুনাও ঝুটা হ্যায় ডাক দিয়ে ভাইমার সংবিধান ও নতুন সরকারের বিরুদ্ধে রাজতন্ত্র ও এককেন্দ্রিক সরকারের পুন:প্রতিষ্ঠার দাবিতে সঙ্ঘবদ্ধ কিছু সৈনিক সামরিক অভ্যুথানের ডাক দিয়ে ১৩ই মার্চ ১৯২০ বৃহস্পতিবার পথে নামলেন, তাঁদের হেলমেটে স্বস্তিকা, হাতে সাদা কালো লাল রাজ পতাকা। চারিদিকে স্ট্রাইক।

    পাঁচ দিনের প্রভু



    কাপ অভ্যুথানের পতাকা বিশ্রামরত এরহার্ড বাহিনী, মার্চ ১৯১৮


    নেতৃত্ব দিতে এগিয়ে এলেন ডক্টর ভলফগাং কাপ। বিশ্বযুদ্ধের কালে রাজনীতিতে আসেন, ঘোর জাতীয়তাবাদী ফাদারল্যানড পার্টির প্রতিষ্ঠাতা, রাইখসটাগে প্রখর প্রবক্তা। কাইজারের বিদায়ের পরে কিছুই জুটল না, শেষ পর্যন্ত পূর্ব প্রাশিয়ার ( আজকের পোল্যান্ড ) এক জেলা শাসক হলেন। যুদ্ধ ফেরত জেনারালদের মনে অসন্তোষ, রাজা বিনে রাজ্য আটক প্রায়, অরাজকতার চূড়ান্ত। ডক্টর কাপ বললেন ভাইমার সংবিধান, ভারসাই চুক্তি মানি না ; যুদ্ধে জার্মানি হারে নি। তাঁদের পিঠে ছোরা মারা হয়েছে - এইসব অন্যায়ের অবসান ঘটাতে মিলিটারি বিপ্লবের ডাক দিলেন। সঙ্গে প্যারা মিলিটারি বাহিনীর সামন্ত সমেত তাদের নেতা এরহার্ড ; মার্চের ১৩ তারিখ, ১৯২০।। আশা করেছিলেন তিনি আওয়াজ তুললেই ভাইমার সংবিধান বিরোধী সকল শক্তি এবং তাবৎ রাজপন্থী ও দক্ষিনপন্থী দল গুলি তাঁর সঙ্গ দেবে কিন্তু তাঁদের সাড়া মেলে না। দুর্দম গতিতে চ্যান্সেলর অফিসে গিয়ে সে গদি দখল করলেন ডক্টর কাপ, কোথাও বাধা পেলেন না - ক্যাবিনেট সহ আসল চ্যান্সেলর ড্রেসডেনে গা ঢাকা দিয়েছেন। ট্রেড ইউনিয়নের ডাকে কল কারখানা, দোকান, জল বিজলি সরবরাহ বন্ধ, সরকারি কর্মচারীরা বিনা নোটিসে ছুটি নিয়েছেন। সবচাইতে বড়ো কথা ট্রাম চলছে না – বার্লিনের মানুষের কাছে ট্রাম ছিল স্বাভাবিক পরিস্থিতির প্রতীক- ট্রাম চললেই, আল ইজ ওয়েল। কাপের কন্যার ওপরে ভার ছিল অভ্যুথানের নেতৃবৃন্দের দাবি শনিবারে বার্লিনের খবরের কাগজে পাঠানোর যাতে সকালের কফির সঙ্গে জনতা জানতে পারেন দেশে পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু ফ্রলাইন কাপ কোন টাইপ রাইটার খুঁজে পেলেন না ( রেডিও আসতে তিন বছর বাকি ) ডক্টর হ্যারমান নামের এক আইনজ্ঞকে ভার দেওয়া হয়েছিল সত্বর এক নতুন সংবিধান ড্রাফট করার কিন্তু তিনি সে কাজ শেষ করে উঠতে পারছেন না, একেক প্যারা পড়েন আর কাটাকুটি করেন। আরেক বিপত্তি ঘটালেন যুগ্ম চিফ সেক্রেটারি আর্নল্ড ব্রেখট ( না, তাঁর কোন আত্মীয় নাট্যকর্মের যুক্ত ছিলেন না !)- তিনি চ্যান্সেলর অফিসের সব টেলিফোন অপারেটরকে এক সপ্তাহের ছুটি দিয়ে নিজে সরকারি শীল মোহর আর স্ট্যাম্প পকেটে পুরে হাওয়া হলেন। এরহারডের সহযোগী সৈনিকেরা হপ্তার মাইনে চাইছে – ডক্টর কাপ এরহার্ডকে বললেন, ‘ যাও স্টেট ব্যাঙ্কের গেট ভেঙ্গে টাকা নিয়ে এসো ‘। এরহার্ড অত্যন্ত ক্ষুণ্ণ হয়ে বললেন, “ আমি সেনাপতি, ব্যাঙ্ক ডাকাত নই “। তুঘলকি স্টাইলে শনিবার দিন প্রাশিয়ান বিধান সভা খারিজ করে আবার সোমবার সেই আদেশ রদ করলেন; প্রাশিয়ান ক্যাবিনেট গ্রেপ্তার হলো, দু দিন বাদে মন্ত্রীদের মুক্তি দেওয়া হলো – বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা বন্ধ করার ফরমান জারি করলেন ডক্টর কাপ। এই সামরিক অভ্যুথানে একটিও গুলি চলে নি তবু নতুন নিঃসঙ্গ চ্যান্সেলরের প্রাত্যহিক অর্থহীন ডিক্রি অনুযায়ী কাজ করতে বার্লিন পুলিশ অবধি অরাজি। পঞ্চম দিনে ডক্টর কাপ ডিক্রি জারি করলেন, চ্যান্সেলর হিসেবে তাঁর কাজ শেষ – নিলেম ছুটি, বিদায় দেহ ভাই!

    ১৮ই মার্চ, ১৯২০।

    একটি ট্যাক্সি ডেকে তার ছাতে জিনিসপত্র চাদরে বেঁধে তুলে দেওয়া হলে কোটের ওপরে মাফলার জড়িয়ে সফট টুপি পরে তাঁর কন্যা কুমারী কাপকে সঙ্গে নিয়ে ডক্টর কাপ বার্লিন টেমপলহফ হাওয়াই আড্ডায় গিয়ে সুইডেনের প্লেন ধরলেন।
    একটিও গুলি খরচা না করেও আপদ বিদেয় হয়েছে দেখে সরকার বার্লিনে ফেরেন ; প্রভূত টাকা পয়সা দিয়ে প্যারা মিলিটারি বাহিনীকে বললেন অনেক হয়েছে এবার ব্যারাকে ফিরে যাও। কিছুকাল বাদে আদালত বসল মার্চের সেই গোলযোগের জন্য দায়ী কে তার বিচারের জন্য। যদিও তাঁর ডাক পড়ে নি, যদিও সুইডেন তাঁকে শর্ত বিহীন বসবাসের অনুমতি দিয়েছিল, তবু ডক্টর কাপ আত্মপক্ষ সমর্থনে বার্লিন উড়ে এলেই সাক্ষ্য সাপেক্ষে বন্দি হলেন। বছর খানেকের ভেতরে ডান চোখে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার ধরা পড়ে, তার অপারেশন সফল হয় নি। কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর আগেই মারা যান, বয়েস ৬৩ । অভ্যুথানের অন্যান্য কুশীলবদের কোন শাস্তি হয় নি।

    বার্লিনের মানুষ তখন কি করছিলেন ? তাঁরা বাম বনাম দক্ষিণের মারপিট, নিয়মিত সৈন্য বাহিনী বনাম দলছুট প্যারা মিলিটারি, ভাইমারের প্রজাতন্ত্রী বনাম রাজতন্ত্রের আহ্বায়ক, ট্রেড ইউনিয়ন বনাম মালিক – হাজারটা লড়াইতে নিরাসক্ত; ক্লান্ত বার্লিন দুটো অন্নের খোঁজে ব্যস্ত। ভিলহেলমস্ত্রাসের অফিসে কে কারা আড্ডা গেড়েছে তাতে কিছুই আসে যায় না। বহুল প্রচলিত বারলিনার উক্তি- ডি শাইজে ইস্ট ইমার ডি গ্লাইখে ( ভালো বাংলায়, বিষ্ঠার আবার এ পিঠ ও পিঠ)।

    প্রসঙ্গত, জার্মান কর্ম দক্ষতার উল্লসিত প্রশংসা না করে যারা জলগ্রহণ করেন না তাঁদের কাছে শিবরাম চক্রবর্তীর হর্ষ বর্ধন গোবর্ধনকে হার মানানো ডক্টর কাপের এই সামরিক অভ্যুথান গাঁজা খুরি মনে হবে!

    হিটলারের যুদ্ধ মন্ত্রী আলবার্ট স্পেয়ারের মা বলেছিলেন, নাৎসিরা অন্তত লাইন দিয়ে প্যারেড করতে জানে !

    এক বছরের ভেতরে রোজা লুকসেমবুরগ এবং কার্ল লিবকনেখটের বামপন্থী ও ভলফগাং কাপের দক্ষিনপন্থী অভ্যুথান দুটি ব্যর্থ হলো। আজ একটা প্রশ্ন মনে আসে - জনসংযোগের অসফলতা কি তার জন্য খানিক দায়ী ? বহু বছর ধরে পড়ে ও শুনে আসছি যে কোন কু’র নেতারা প্রথমেই স্থানীয় রেডিও বা টি ভি স্টেশন দখল করে সংগ্রামী অভিনন্দন সহকারে জনতাকে অবহিত করেন এখন তাঁরাই রাজা। সেই অগ্নিগর্ভ আহ্বান শুনে কিছু লোক তাঁদের পাশে এসে দাঁড়ান, হাটুরে মেছুরে আপন প্রাণ বাঁচানোর শুভ ইচ্ছায় ততদিন গৃহে আত্মগোপন করেন যতদিন না বাইরের হাওয়াটা সুবিধের মনে হয়। ১৯১৯ সালের জানুয়ারি মাসের বিপ্লবে রোজা লুকসেমবুরগ এবং কার্ল লিবকনেখটের মধ্যে যোগাযোগের একমাত্র উপায় ছিল দূতের হাতে পাঠানো কাগজের টুকরো : ১৯২০ সালের মার্চ মাসে চিফ সেক্রেটারি টেলিফোন লাইন বন্ধ করে দিলেন, কাপের মেয়ে টাইপরাইটার খুঁজে পেলেন না। তারস্বরে রেডিও বাজিয়ে, কাঁচা ঘুম ভাঙ্গিয়ে বারলিনারদের জানানোই গেল না ‘ বিপ্লব আগত ওই, জাগো বার্লিন! ‘।

    গুগল বা ইন্টারনেট থাকলে কি জার্মানির ইতিহাস অন্যরকম হতো?

    ভোটের, বিপ্লবের চেয়ে বেশি জরুরি রোটি কাপড়া মকান। জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে হু হু করে, জার্মান সরকার আমাদের কাঁটাকলে অর্থনীতি পড়েন নি, নোট ছাপালে মুদ্রাস্ফীতি হতে পারে সে কথা উপেক্ষা করে কেবলই সেটি ছাপিয়ে যাচ্ছেন। ১৯১৪ সালে যুদ্ধের সূচনায় এক ডলার পাওয়া যেতো চার মার্কের বিনিময়ে, দাম বেড়ে জানুয়ারি ১৯২৩ সালে সেটা হল দশ হাজার মার্ক, আগস্ট মাসে দশ লক্ষ মার্ক, সেপ্টেম্বরে এক কোটি ষাট লক্ষ মার্ক। কিন্তু মেলে কি ? একটা রুটির দাম দু কোটি মার্ক। জুলাই মাসে ট্রামের ভাড়া তিন হাজার, আগস্টের বিশ তারিখে এক লক্ষ মার্ক। এক কিউবিক মিটার গ্যাসের দাম সেই সময়ে ছ হাজার থেকে বেড়ে দাঁড়াল আড়াই লক্ষ মার্ক। ঘণ্টা চুক্তিতে কাজ- দুপুর বেলা নাগাদ চার ঘণ্টার বেতন দেওয়া হয়, সেই টাকা নিয়ে শ্রমিক দৌড়ুন দোকানে জিনিস কিনতে। বিকেল বেলা দাম বেড়ে যাবে।


    টাকা মাটি মাটি টাকা

    অনেক সহজে বিকোয় সম্মান।পাড়ায় পাড়ায় এবং ঘরে ঘরে পরিবারের আয়োজিত সেক্স ক্লাব। পাঁচ ডলার ব্যয়ে বিদেশি ক্রেতারা – বিশেষ করে কমিউনিস্ট সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে পলাতক ধনী এমিগ্রে - সেখানে সারা দিন রাত কাটান, পাঁচশ ডলারে বালিকা সহ আস্ত অ্যাপারটমেনট কিনে নিতে পারেন। দেখা দিলো মাদক দ্রব্য সেবনের ক্লাব। সুইডেন ডেনমার্কের মানুষ এলেন সস্তায় ছুটি কাটাতে। সঠিক কারণ জানা শক্ত কিন্তু আজও জন সংখ্যা অনুপাতে বার্লিনের অ্যাপারটমেনটের বৃহত্তর বিদেশি মালিক ডেনিশ/সুইডিশ ! পঞ্চাশের মন্বন্তরে গ্রাম থেকে আসা মানুষ ফ্যান দেবে গো বলে কলকাতার দুয়োরে দুয়োরে ঘুরেছে (আমার জানা মতে এর একমাত্র তুলনা তিরিশের দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের তৈরি করা ইউক্রেন হত্যা প্রকল্প, হলদোমোর- ভুখা মারো – যেখানে আমাদের মন্বন্তরের চেয়ে অনেক বেশি, অন্তত পঞ্চাশ লক্ষ মানুষ না খেয়ে মারা যান)। বিশের দশকের বার্লিনের মানুষের যাবার কোনো জায়গা ছিল না, তাঁরা মাটি কামড়ে পড়ে থেকে ঘটি বাটি মান ইজ্জত সর্বস্ব বেচে দিন গুজরানের চেষ্টা চালিয়েছেন। শহরের বাইরে চাষিরা বন্দুক হাতে সারা রাত খাদ্য এবং ফসলের পাহারায় রত।

    একদিন শোনা গেল কাঠের ঠেলায় রাইখস মার্ক বোঝাই করে দুই মহিলা বাজার করতে গেছেন। দোকানের বাইরে ঠেলাটি পার্ক করে মনোযোগ দিয়ে জানলায় সাজানো জিনিসপত্র দেখছেন আর হিসেব করছেন কোনটা কিনতে পারেন। হঠাৎ পেছন ফিরে দেখেন ঠেলা নেই, সমস্ত নোট ফুটপাথে পড়ে আছে। বার্লিনের বাজারে ওই ঠেলাটির মূল্য কোটি রাইখসমার্কের চেয়ে বেশি।

    জলে স্থলে অন্তরীক্ষে তখন উত্তাল আরেক বার্লিন।

    সকল অশান্তি, ক্ষুধা, রাষ্ট্র বিপ্লবকে উপেক্ষা করে সেই বার্লিনে উন্মুক্ত শিল্প সঙ্গীত বিজ্ঞানের নতুন দিগন্ত, সেখানে বিরাজ করেন আলবার্ট আইনস্টাইন থেকে বিলি ওয়াইলডার, মাক্স লিবারমান থেকে আনা পাভলোভা !

    পুনশ্চ কিছু :

    এক
    প্রয়োজন উদ্ভাবনার জননী। প্রাচীন বিনিময় তথা বারটার ব্যবস্থা আবার প্রচলিত হলো। বার্লিন মেট্রোতে বিজ্ঞাপন করতে চান এক লিনেন সাপ্লাই কোম্পানি, সে খরচা দেওয়ার মতন সাধ্য বা মার্ক কোনটাই নেই মালিকের। তিনি মেট্রো পরিবহনকে প্রস্তাব দিলেন বিজ্ঞাপনের টাকার বদলে মেট্রো ট্রেনের দৈনন্দিন ঝাড় পোঁছ করতে যে ন্যাতা লাগে সেগুলো তিনি সরবরাহ করবেন; ব্যবসা ফুলে ফেঁপে উঠলো, ১৯৩৫ সাল নাগাদ লন্ডনে ব্রাঞ্চ খুললেন – মালিক বদল হলেও লন্ডন লিনেন সাপ্লাই কোম্পানি আজও বহাল তবিয়তে বাণিজ্য করে !

    দুই

    জাম্বিয়া / জিম্বাবোয়ের সীমান্তবর্তী ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতে যদি বেড়াতে যান, সেখানে কিছু উদ্যোগী মানুষ অত্যন্ত সুলভে এক বিলিয়ন জিম্বাবোয়ে ডলারের নোট আপনাকে গছিয়ে দেবার চেষ্টা করবে। মুগাবের আমলে সে দেশের মুদ্রাস্ফীতি জার্মান রেকর্ডকে স্পর্শ করেছিল।

    তিন

    পাঁচের দশকে আমাদের কনটিনেনটাল ইলিনয় ব্যাঙ্কের শিকাগো মেন ব্রাঞ্চে কে বা কারা লক্ষ মার্কের ব্যাঙ্ক নোট নিয়ে হাজির হয়; সে নোট ততদিনে বাজে কাগজ মাত্র কিন্তু ব্যাঙ্কের ক্যাশ ডেস্কের কোন সরলা বালা জার্মান মার্ক লেখা দেখে তৎকালীন দর অনুযায়ী আমেরিকান ডলারে সেই নোটের সমমূল্য প্রদান করেন- আমাদের লোকসান সহজেই অনুমেয়। সতর্কতা বাণী হিসেবে রদ্দি মার্ক ও মহা মূল্য ডলারের সেই বিনিময়ের রসিদের কপি এবং লক্ষ রাইখসমার্ক নোটের ছবি ২৩১ নম্বর সাউথ লা সাল স্ট্রিট অফিসের ক্যাশ ডিপার্টমেনটের দেওয়ালে টাঙ্গিয়ে রাখা হয়েছিল বহুকাল।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    পর্ব ১ | পর্ব ২
  • ব্লগ | ০৭ মার্চ ২০২৪ | ১২৭০ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    নো  - albert banerjee
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • বিপ্লব রহমান | ০৭ মার্চ ২০২৪ ২১:০২529087
  • মন দিয়ে পড়ছি। যেন ইতিহাসের ভেতরে পথ চলা ...
  • Amit Sengupta | 2406:*:*:*:*:*:*:* | ০৯ মার্চ ২০২৪ ২০:০১529150
  • "আজকের কুরফুরস্টেনডাম দিয়ে উলানডস্ত্রাসে ঢুকে সিধে উত্তরে পাঁচ মিনিট হাঁটলেই ডান দিকে পড়বে ইডেন হোটেল"। মনে পরে গেলো বছর বারো আগে আমি এই ইডেন হোটেলে ছিলাম আমার অন্যান্য ইউরোপিয়ান সহকর্মীদের সঙ্গে। হোটেল ছাড়িয়ে আরো এগিয়ে গেলে রেললাইন। কুরফুরস্টেনডাম আর উলানডস্ত্রাসের মোর দাঁড়িয়ে খুব ভাবার চেষ্টা করছিলাম কোথায় ছিল সেই হিন্দুস্থান হাউস। মোড়ে বেশ বড় বিএম ডাব্লিউর শোরুম। উলানডস্ত্রাসেতে একটু হাঁটাহাঁটি ও করলাম। তারপর ভাবলাম স্মৃতি আর কল্পনাতেই থাকুন চাচাও তাঁর সাঙ্গপাঙ্গ।
  • হীরেন সিংহরায় | ১০ মার্চ ২০২৪ ০০:৫৬529171
  • ঠিক! আমাদের প্রজন্মে হিন্দুস্তান হৌস স্মৃতি আর কল্পনার থেকে যাবে,সেখান থেকে সারানো যাবে না ! তবে যেখানে রাস্তা দুটো কাটাকুটি করেছে তার বাঁয়ে গ্রোলমানস সত্রাসের কর্নারে একটা কফি হাউস মতন ছিলো দশ বছর আগে ( আমার জার্মানি বইতে বিশদ উল্লেখ করেছি) - মনে হয়েছে এখানে বসেই কি পুলিন বিহারী গোলাম মৌলা একদিন নাতসি মিছিল দেখেছিলেন ! ইডেন হোটেলে রোজা লুকসেমবুরগ বা কার্ল লিবকনেখটের ছবি দেখি নি। কি আর বলি আজ আবার ভারসাই এসেছি - ১৮৭১ বা ১৯১৯ এর সন্ধি চুক্তির কোনো উল্লেখ নেই। কে হায় হৃদয় খুঁড়ে .....
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় প্রতিক্রিয়া দিন