এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  স্মৃতিচারণ  নস্টালজিয়া

  • চেনা মানুষ অজানা কথা - ২০ (২) 

    সুকান্ত ঘোষ লেখকের গ্রাহক হোন
    স্মৃতিচারণ | নস্টালজিয়া | ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | ৬ বার পঠিত
  • বিদ্যাসাগর ভিতরের ঘরের দিকে এগিয়ে গেলেন সুইমিং স্যুটটা ট্রায়াল দিতে। খানিক পরে ভিতরের ঘর থেকে বিদ্যাসাগরের গলা ভেসে এল –

    - অক্ষয়, এ জিনিস তো দেখছি গলা থেকে হাঁটু পর্যন্ত! এ তো আন্ডারপ্যান্ট নয়, এ যে পুরো আলখাল্লা!

    - ওটাই তো এখন ফ্যাশন ঈশ্বর! ফরাসী দেশের সমুদ্রের ধারে সাহেব মেমরা সবাই ওই পরেই জলে নামছে। মধু লিখেছে ত্রুভিল না কোথায় যেন নিজের চোখে দেখে এসেছে।

    বলে রাখা ভালো, মধুসূদন তখন আর বিলেতে নেই। লন্ডনের খরচ সামলাতে না পেরে ১৮৬৩ সালেই সপরিবারে চলে গেছেন ফ্রান্সের ভার্সাই শহরে। সেখানে অবস্থা আরও খারাপ, দেশ থেকে টাকা আসে না, বাড়িভাড়া বাকি, পাওনাদারের তাগাদা। শেষ পর্যন্ত বাঁচিয়েছিলেন এই বিদ্যাসাগরই - ধার-কর্জ করে, নিজের নামে ঋণ নিয়ে টাকা পাঠিয়ে। সে গল্প আপনারা সবাই জানেন। যেটা জানেন না সেটা হল, টাকা পাওয়ার পর মধু অক্ষয়বাবুর ঠিকানায় একটা পার্সেল পাঠিয়েছিলেন। তার ভিতরে ছিল নীল-সাদা ডোরাকাটা দুটো পশমের সুইমিং স্যুট, আর একটা চিরকুট –

    “অক্ষয়, তোমার ফরমাশ মত দুটো পাঠালাম - একটা মিডিয়াম, একটা লার্জ। ঈশ্বরকে বোলো টাকাটা পেয়েছি। ওর মধ্যে আছে প্রাচীন ঋষির প্রতিভা ও প্রজ্ঞা, ইংরেজের কর্মশক্তি আর বাঙালী মায়ের হৃদয়। আর বোলো, যদি পারে আরো একটু পাঠালে মন্দ হয় না।”

    ঋষি-ইংরেজ-মা মার্কা লাইনটা জীবনীকারেরা ফলাও করে ছেপেছেন। শুধু শেষ লাইনটা কেউ ছাপেন নি।

    যাই হোক, দরজা খুলে বেরিয়ে এলেন বিদ্যাসাগর। ছোটখাটো চেহারা, তার উপরে সেই বিশাল মাথা, ছোটবেলায় যে মাথার জন্য গ্রামের লোক তাঁকে ডাকত ‘যশুরে কই’। গলা থেকে হাঁটু পর্যন্ত নীল-সাদা ডোরা। অভ্যাসবশে কাঁধে সেই চিরকালের চাদর, পায়ে তালতলার চটি। অক্ষয়বাবু প্রথমে খুব চেষ্টা করলেন গম্ভীর থাকার। তারপর আর পারলেন না। হাসতে হাসতে চেয়ারে বসে পড়লেন, আর তার পরেই দুই হাতে মাথা চেপে ধরলেন।

    ১৮৫৫ সাল নাগাদ থেকেই অক্ষয়কুমার দত্ত এক দুরারোগ্য শিরঃপীড়ায় ভুগছিলেন। সেই জন্যই তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদনা ছাড়তে হয়েছিল, নর্ম্যাল স্কুলের প্রধান শিক্ষকের চাকরিও। ডাক্তার সাফ বলে দিয়েছিল যে বেশী উত্তেজনা চলবে না, জোরে হাসাও বারণ। সারা জীবনে অক্ষয়বাবু সেই নিষেধ একবারই ভেঙেছিলেন, সেদিন।

    - হাসছ কেন অক্ষয়?

    - না, ভাবছি তোমাকে এই অবস্থায় দেখলে বীডন সাহেব কি বলতেন!

    - ছোটলাট সাহেব আমাকে ধুতি-চাদরে দেখেছেন, দরকার হলে এতেও দেখবেন। তবে চাদর আর চটি আমি ছাড়ছি না। সাহেবদের জিনিস গায়ে চড়িয়েছি বলে মাথাটাও তো আর সাহেবদের কাছে বেচে দিইনি!

    এবার একটু অক্ষয়বাবুর কথা বলে নিই, নইলে অনেকে ভাববেন এই লোকটা পাড়ার কোন খেয়ালী ভদ্রলোক, সুইমিং স্যুট নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে। বাঙালী যখন প্রায় পুরোটাই শাস্ত্র আর তর্কে ডুবে, তখন এই মানুষটা লিখছেন ‘বাহ্যবস্তুর সহিত মানবপ্রকৃতির সম্বন্ধ বিচার’ - প্রকৃতির নিয়ম না জানলে মানুষের মঙ্গল নেই, এই ছিল মূল কথা। ১৮৫৬ সালে লিখলেন ‘পদার্থবিদ্যা’, বাংলা ভাষায় পদার্থবিজ্ঞানের গোড়ার দিকের বই। বিজ্ঞানের কথা বাংলায় বলতে গেলে শব্দ চাই - ‘মাধ্যাকর্ষণ’-এর মত বহু পরিভাষা তাঁর হাতেই তৈরী বলে ধরা হয়। বিলেত থেকে নিয়মিত বই আর জার্নাল আনাতেন, রয়্যাল সোসাইটির খবর রাখতেন। কলকাতার হট্টগোল ছেড়ে গঙ্গার ওপারে বালিতে বাগানবাড়ি বানিয়েছিলেন, নাম ‘শোভনোদ্যান’ যেখানে দেশ বিদেশের গাছপালা, নানা রকম পাথর, জীবাশ্ম, আর একটা ঘর ভর্তি যন্ত্রপাতিঃ ব্যারোমিটার, থার্মোমিটার, দাঁড়িপাল্লা, অণুবীক্ষণ। ওদিকে বাগানের এক কোণে একটা মাঝারি সাইজের পুকুর। এক্সপেরিমেন্টের জন্য সেই পুকুরই বেছে নেওয়া হল।

    এক্সপেরিমেন্ট শুরু হবার আগে অবশ্য বিদ্যাসাগর একবার শেষ চেষ্টা করলেন।

    - অক্ষয়, এত ঝামেলার কি আছে? মালকোঁচা মেরে নিলেই তো হয়। গাঁয়ের ছেলেরা তো ওই করেই নদীতে নামে। আমিও ছোটবেলায় বীরসিংহের পুকুরে তাই করেছি।

    - মালকোঁচা পুকুরে চলে ঈশ্বর, বর্ষার দামোদরে নয়। মালকোঁচা যত শক্ত করেই বাঁধো, বারো হাত কাপড় তো গায়েই থাকছে, ভিজলে তার ওজন কয়েকগুণ। স্রোতের ধাক্কায় মিনিট পাঁচেকের মধ্যে গিঁট আলগা হবেই। তখন সেই কাপড় কোথায় যাবে, সেটা তুমি ঠিক করবে না, দামোদর করবে।

    - তাহলে বিলেতের রবারের কাপড়? শুনেছি ম্যাকিনটশ বলে কি একটা কাপড় আছে, জল ঢোকে না। সেই কাপড়ে একটা ধুতি বানিয়ে নিলে? ধুতিও থাকল, জলও ঢুকল না।

    - সেটাও ভেবেছিলাম। ম্যাকিনটশ সাহেবের রবার লাগানো কাপড় প্রায় চল্লিশ বছর ধরে বাজারে আছে, সাহেবরা বর্ষাতি বানায়। জল ঢোকে না ঠিকই, ওজনও বাড়বে না। কিন্তু ধুতি তো ধুতিই থাকবে, কোঁচা খোলার ভয় যেমন ছিল তেমনই রইল। তার উপর রবারের ধুতি পরে বাগবাজার থেকে রাজবল্লভহাট হাঁটলে, শ্রাবণের গরমে ঘেমে তুমি দামোদরে পৌঁছনোর আগেই ভিজে যাবে ভিতর থেকে।

    - তাহলে দেখছি তোমার এই সাহেবি আলখাল্লা ছাড়া গতি নেই।

    - আগে মেপে দেখি, তারপর বলব গতি আছে কি নেই।

    প্রথমে ওজন। শুকনো ধুতি ওজন হল, তারপর সেটাকে পুকুরে চুবিয়ে ভেজা ধুতি, ওজন প্রায় তিনগুণ। সুইমিং স্যুটটা বিদ্যাসাগরের গায়েই আছে, খুলে ওজন করার প্রস্তাবে তিনি যে চোখে তাকালেন, তাতে অক্ষয়বাবু ঠিক করলেন মানুষ সমেত ওজন হবে পাড়ার মুদির দোকান থেকে চালের বস্তা মাপার দাঁড়িপাল্লা আনিয়ে। ফলাফল দেখে অক্ষয়বাবুর মুখ একটু শুকিয়ে গেল। পশম ভিজলেও ভারী হয়।

    - তাহলে আর কি অক্ষয়! দুটোই তো ভারী হচ্ছে। খামোকা আমাকে সঙ সাজালে।

    - দাঁড়াও ঈশ্বর, এত তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্তে এসো না। ভাসা নিয়ে তোমার চিন্তা নেই - আর্কিমিডিসের সূত্র বলছে জল যতটা সরাবে, ততটাই তোমাকে ঠেলে তুলবে। দামোদরের বর্ষার জল তো জল নয়, পুরো গোলা মাটি, গঙ্গার চেয়ে ঘন। ওতে তুমি এমনিতেই একটু বেশী ভাসবে। আসল কথা ভাসা নয় ঈশ্বর, আসল কথা টান।

    - টান মানে?

    - নিউটন সাহেব প্রিন্সিপিয়া-তে লিখে গেছেন যে জলের মধ্যে দিয়ে কিছু এগোতে গেলে জল তাকে পিছনে টানে। সেই টান বাড়ে তিনটে জিনিসে: জল কত ঘন, তুমি কত জোরে যাচ্ছ, আর সামনে থেকে তোমার কতটা জায়গা জলকে ধাক্কা দিচ্ছে। প্রথম দুটো তোমার হাতে নেই। কিন্তু তিন নম্বরটা আছে। জলে নামলেই তোমার কোঁচা খুলে যাবে, পিছনে পাল তোলা নৌকার মত ছড়িয়ে পড়বে। তুমি একটা মানুষ নও, তখন তুমি একটা মানুষ আর তার পিছনে বারো হাত কাপড়ের একটা পাল। তার উপরে কেমব্রিজের স্টোকস সাহেব ১৮৫১ সালে দেখিয়েছেন জলের নিজস্ব একটা ‘অন্তর্ঘর্ষণ’ আছে, কাপড়ের প্রতিটি ভাঁজ সেই ঘষা খায়। এই আলখাল্লা ভারী হোক, কিন্তু গায়ের সাথে লেপটে থাকবে। পাল নেই, ভাঁজ নেই।

    - তোমার নিউটন, স্টোকস - এঁরা কেউ দামোদর দেখেছেন?

    - দেখেন নি বলেই তো তোমার উপরে এক্সপেরিমেন্ট হচ্ছে!

    বিদ্যাসাগর আর তর্ক করলেন না। পুকুর ঘাটে দাঁড়িয়ে ঝাঁপ দেবার আগে অভ্যাস মত বিড়বিড় করে বললেন, “দুর্গা দুর্গা”। অক্ষয়বাবু আর থাকতে পারলেন না –

    - ঈশ্বর, আমার সেই সমীকরণটা ভুলে গেলে? পরিশ্রম = শস্য। পরিশ্রম + প্রার্থনা = শস্য। অতএব প্রার্থনা = ০। এখানেও একই হিসেব, সাঁতার + সুইমিং স্যুট = পার, সাঁতার + সুইমিং স্যুট + দুর্গানাম = পার। দুর্গানাম ইজ ইকুয়াল টু শূন্য!

    - তোমার অঙ্ক তোমার কাছেই রাখো অক্ষয়। শূন্য যোগ করলে তো আর কোন অঙ্ক ভুল হয় না! তাহলে যোগ করতে দোষ কি?

    এই বলে ঝপাং। এপার থেকে ওপার, আবার ওপার থেকে এপার - অক্ষয়বাবু পকেট ঘড়ি দেখে সময় লিখলেন। তারপর ধুতি পরে আবার একই কাজ। ধুতিতে লাগল প্রায় দেড়গুণ বেশী সময়, আর ফেরার পথে কোঁচা খুলে গিয়ে ঠিক সেই কেস। পিছনে ধুতি ছড়িয়ে পড়েছে কচুরিপানার মত, আর বিদ্যাসাগর হাঁসফাঁস করছেন। অক্ষয়বাবু খাতায় ফলাফল লিখে তার নিচে মোটা করে দাগ দিলেন। বাগানের বেড়ার ওপাশে ততক্ষণে বালির লোকজনের বেশ ভীড় জমে গেছে। সেদিন বালির লোক প্রথম দেখল ডোরাকাটা কুমির।

    কিন্তু ঘড়ির হিসেব ছাড়াও সেদিন আরেকটা জিনিস অক্ষয়বাবুর চোখে পড়েছিল, তা হল বিদ্যাসাগরের সাঁতারের ধরন। পুকুর থেকে উঠে গা মুছতে মুছতে বিদ্যাসাগর শুনলেন –

    - ঈশ্বর, তুমি যেভাবে সাঁতার কাটো, সাহেবরা কিন্তু সেভাবে কাটে না!

    - কিভাবে কাটে?

    - সাহেবদের সাঁতার ব্যাঙের মত। দুই হাত একসাথে সামনে ঠেলে দুই পাশে টেনে আনে, মাথা জলের উপরে। ওদেশে ওটাকেই ভদ্রলোকের সাঁতার বলে। আর তুমি এক হাত তুলে মাথার উপর দিয়ে জল কেটে আনছ, তারপর অন্য হাত, গাঁয়ের ছেলেরা যেমন কাটে।

    - তাতে দোষটা কি হল?

    - দোষ নয়, গুণ। বছর কুড়ি আগে, ১৮৪৪ সালে, লন্ডনে আমেরিকার দুজন আদিবাসী সাঁতারু ঠিক এই কায়দায় সাঁতরে ইংরেজ সাঁতারুকে অনায়াসে হারিয়ে দিয়েছিল। বিলেতের কাগজ লিখেছিল যে ‘অ-ইউরোপীয়’ কায়দা, দেখতে ভালো নয়, জল ছিটোয়। তাই সাহেবরা ওটা নেয়নি, ব্যাঙ সাঁতারই চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু হিসেব বলছে অন্য কথা। তোমার হাত যখন জলের বাইরে দিয়ে ফেরে, তখন জলের সাথে লড়তে হয় না। ব্যাঙ সাঁতারে হাত ফেরানোর সময়েও জল ঠেলতে হয় - যতটা এগোও, তার খানিকটা আবার নিজেই পিছিয়ে দাও। স্রোতের নদীতে তোমার গাঁয়ের কায়দাই ভালো।

    বিদ্যাসাগর সেদিন বেশ খুশী হয়েছিলেন। জীবনে সাহেবদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছেন, কিন্তু অন্তত একটা ব্যাপারে বীরসিংহের ছেলেরা যে সাহেবদের থেকে এগিয়ে আছে, সেটা জেনে খুশী না হয়ে উপায় কি!

    কিন্তু অক্ষয়বাবুর মুখে তখনো চিন্তার ছাপ।

    - পুকুর আর দামোদর এক জিনিস নয় ঈশ্বর। পুকুরের জল দাঁড়িয়ে থাকে, দামোদর দৌড়োয়। তুমি যত ভালোই সাঁতরাও, স্রোত তোমাকে ভাটির দিকে টেনে নেবেই। কতটা টানবে, সেটা না জেনে তোমাকে আমি ঝাঁপাতে দেব না। বর্ষার দামোদরের স্রোত কত জোরে বয়, নদী কত চওড়া - এই হিসেব একজনই ঠিক ঠাক দিতে পারবে।

    - কে?

    - রাধানাথ।

    রাধানাথ শিকদারকে আজ আমরা চিনি একটা কারণে যে ১৮৫২ সালে গ্রেট ট্রিগোনোমেট্রিক্যাল সার্ভের অফিসে বসে কাগজ কলমে অঙ্ক কষে তিনিই প্রথম দেখিয়েছিলেন যে ‘পিক ফিফটিন’ পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু পাহাড়। পরে সাহেবরা তার নাম দিল তাঁদের প্রাক্তন বড়কর্তার নামে, এভারেস্ট। কিন্তু অনেকেই জানেন না যে কলকাতার সার্ভে অফিসে রাধানাথ আবহাওয়া মাপার বিভাগের দায়িত্বেও ছিলেন, বছরের পর বছর রোজ ব্যারোমিটার, থার্মোমিটার, বৃষ্টির মাপ। বাতাসও তো একরকম তরল, তার চলাফেরার হিসেব তাঁর চেয়ে ভালো বাংলায় কেউ রাখত না।
     
    ১৮৬২ সালে অবসর নিয়ে তিনি তখন চন্দননগরে গঙ্গার ধারে থাকেন। পিয়ারীচাঁদ মিত্রের সাথে মিলে ‘মাসিক পত্রিকা’ বের করেছিলেন সেই ১৮৫৪ সালে, যার প্রতিজ্ঞা ছিল এমন সহজ বাংলায় লেখা হবে যা সবাই পড়তে পারে। এই নিয়ে তত্ত্ববোধিনীর সংস্কৃত-ঘেঁষা অক্ষয়বাবুর সাথে তাঁর ভালোবাসার খুনসুটি অনেক দিনের।

    চিঠি গেল চন্দননগরে। পরের রবিবার নৌকা করে এসে হাজির রাধানাথ, সাথে একটা চামড়ার ব্যাগে সার্ভে অফিসের পুরানো খাতা। বিদ্যাসাগরকে আপাদমস্তক একবার দেখে নিয়ে বললেন -

    - ঈশ্বর, পোশাকটা তোমার ব্যক্তিত্বের সাথে ঠিক যায় না। তবে অঙ্কের সাথে দিব্যি যায়।

    তারপর কাজের কথা। খাতা খুলে রাধানাথ জানালেন যে বর্ষার দামোদর রাজবল্লভহাটের কাছে প্রায় হাজার ফুট চওড়া, আর ভরা বর্ষায় মাঝনদীতে স্রোত সেকেন্ডে সাত ফুটের কাছাকাছি। এবার পুকুরের হিসেব থেকে বিদ্যাসাগরের সাঁতারের গতি বের করলেন অক্ষয়বাবু, সুইমিং স্যুটে সেকেন্ডে মোটামুটি দুই ফুট। রাধানাথ এক মিনিটের মধ্যে খাতায় অঙ্কটা কষে ফেললেন -

    - হাজার ফুট পেরোতে তোমার লাগবে পাঁচশো সেকেন্ড, মানে আট মিনিটের একটু বেশী। ওই আট মিনিটে দামোদর তোমাকে ভাটির দিকে টানবে সাড়ে তিন হাজার ফুট, আধ মাইলেরও বেশী। আর ধুতি পরলে তোমার গতি দেড়গুণ কমবে, নদীতে থাকবে বেশীক্ষণ, টানও তত বেশী - এক মাইল পেরিয়ে কোথায় গিয়ে উঠবে, দামোদরই জানে।

    - তাহলে উপায়?

    - দুটো উপায়। এক, ঘাট থেকে ঝাঁপ দিও না। আধ মাইলের একটু বেশী উজানে হেঁটে গিয়ে তবে জলে নামবে। দামোদর তোমাকে নিজেই এনে ঘাটের উল্টোদিকে নামিয়ে দেবে। দুই, এটাই আসল কথা - স্রোতের সাথে লড়াই করবে না। স্রোতের উল্টো দিকে মুখ করে সাঁতরালে দম ফুরোবে, এগোবে কম। সোজা ওপারের দিকে মুখ করে হাত চালাবে। ভাটির টানটা আমরা আগেই হিসেবে ধরে নিয়েছি, তাই ওটাকে শত্রু ভেবো না।

    বিদ্যাসাগর খানিক চুপ করে রইলেন। তারপর বললেন, “রাধানাথ, তোমার এই অঙ্কটা শুধু দামোদরের জন্য নয়, এদেশের সমাজের জন্যও খাটে। স্রোতের সাথে সরাসরি লড়লে দম ফুরোবে, সোজা নিজের লক্ষ্যের দিকে হাত চালিয়ে যাও।” বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয়েছে ১৮৫৬ সালে - সেই লড়াইয়ের দাগ তখনো তাঁর গায়ে টাটকা। কথাটা যে শুধু নদীর কথা নয়, সেটা অক্ষয়বাবু আর রাধানাথ দুজনেই বুঝলেন।

    বিকেলের চা খেতে খেতে প্রশ্ন উঠল, তাহলে সুইমিং স্যুটের বাংলা কি হবে? অক্ষয়বাবু বললেন ‘সন্তরণ-পরিচ্ছদ’। বিদ্যাসাগর বললেন, এত লম্বা নাম উচ্চারণ করতে করতেই মাঝ দামোদরে দম ফুরিয়ে যাবে, বলো ‘জলবাস’। অক্ষয়বাবু বললেন জলবাস তো মাছের বাসা মনে হবে। রাধানাথ ‘মাসিক পত্রিকা’র নীতিতে অটল, বললেন, “এত ঝামেলার কি আছে? বলো ‘সাঁতারের জামা’। আমার বাড়ির বাচ্ছা ছেলেরাও বুঝবে।” এটা শুনে দুই পণ্ডিত একসাথে এমন ভাবে তাকালেন, যেন রাধানাথ মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা দশ হাত কম বলে ফেলেছেন। সেই জন্যই আজও বাংলায় সুইমিং স্যুটের কোন জুতসই প্রতিশব্দ নেই - তিন ওস্তাদের ঝগড়ায় ব্যাপারটা সেই যে ঝুলে গেল, আর নামল না।

    যাবার আগে রাধানাথ শোভনোদ্যানের ব্যারোমিটারটার সামনে খানিক দাঁড়িয়ে রইলেন। তারপর বললেন, “পারা নামছে। তিন-চার দিনের মধ্যে বড় বৃষ্টি আসছে। ঈশ্বর, যাবার হলে তার আগে যাও, নইলে দামোদরের স্রোত আমার খাতার হিসেবও ছাড়িয়ে যাবে।”

    ফাস্ট ফরোয়ার্ড দুই দিন। শ্রাবণ মাস, বীরসিংহ থেকে খবর এসেছে যে মা দেখতে চেয়েছেন। বিদ্যাসাগর আর দেরী করলেন না। কলেজের কাজ সেরে, সেই চেনা রাস্তা - বাগবাজার, খেয়ায় শালিখা, মশাট, চণ্ডীতলা। ধুতির তলায় ডোরাকাটা স্যুট - মাঝে মাঝে পশমের কুটকুটানিতে চুলকে উঠছে, কিন্তু প্রকাশ্য রাস্তায় তো আর ধুতির ভিতরে হাত ঢুকিয়ে চুলকানো যায় না! অনেক বড় বড় অপমান তিনি সহ্য করেছেন, পশমের কুটকুটানি তো সে তুলনায় কিছুই নয়।

    রাজবল্লভহাটের ঘাটে যখন পৌঁছলেন তখন রাত অনেক। আকাশ মেঘলা, দামোদর গর্জন করছে, ঘাটে নৌকা বাঁধা, মাঝিরা চালাঘরে ঘুমোচ্ছে। রাধানাথের কথামত বিদ্যাসাগর ঘাট থেকে নামলেন না - পাড় ধরে উজানে হাঁটতে লাগলেন, পা গুনে গুনে। আধ মাইলের একটু বেশী গিয়ে থামলেন। ধুতি চাদর খুলে পুঁটলি বেঁধে মাথায়, চটি দাঁতে।

    ঠিক সেই সময়ে পাড়ের এক জেলের ঘুম ভেঙে গেল। কুঁড়ে থেকে বেরিয়ে সে দেখল অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আছে এক বেঁটে মূর্তি, মাথাটা অস্বাভাবিক বড়, তার উপরে আরেকটা পুঁটলি, গা ভর্তি ডোরা ডোরা দাগ, আর মুখে কি একটা কামড়ে ধরা! “মেছো ভূত! মেছো ভূত!” বলে সে যে দৌড় দিল, পরের দিন দুপুরের আগে তাকে আর গ্রামে দেখা যায় নি।

    বিদ্যাসাগর ঝাঁপ দিলেন। মুখ সোজা ওপারের দিকে, স্রোতের সাথে কোন লড়াই নেই। মাঝ নদীতে একবার মনে হল আর বোধহয় পারবেন না - হাত পা ভারী হয়ে আসছে, ভেজা পশম গায়ে যেন লোহার বর্ম। ঠিক তখনই কানে বাজল অক্ষয়ের গলা - “আসল কথা ভাসা নয় ঈশ্বর, আসল কথা টান!” কোঁচা নেই, পাল নেই, পিছনে টান নেই। এক হাত, তারপর আরেক হাত, বীরসিংহের পুকুরে শেখা সেই অ-ইউরোপীয় কায়দা। বিদ্যাসাগর মনে মনে একবার ‘দুর্গা’ বললেন, তারপর অক্ষয়ের সমীকরণটা মনে পড়তে আরেকবার বললেন ‘শূন্য’ - যাতে দুজনের কারো মনেই দুঃখ না থাকে। তারপর দাঁতে চটি আরো জোরে চেপে হাত চালাতে লাগলেন।

    ওপারে যখন উঠলেন, তখন দেখলেন সামনেই রাজবল্লভহাটের উল্টো দিকের ঘাট। রাধানাথের অঙ্ক এক চুলও ভুল হয় নি। যে লোক কাগজ কলমে হিমালয় মেপেছেন, দামোদরের এক চিলতে স্রোত তাঁর কাছে কি!

    বীরসিংহে যখন বাড়ির দরজায় পৌঁছলেন, তখন মাঝরাত পেরিয়ে গেছে। ধুতি চাদর ভিজে বলে আর পরেননি, গায়ে শুধু সেই ডোরাকাটা স্যুট। দরজায় টোকা দিতে লণ্ঠন হাতে দরজা খুললেন মা ভগবতী দেবী। লণ্ঠনের আলোয় দেখলেন জল ঝরছে এমন এক ডোরাকাটা প্রাণী দাঁড়িয়ে আছে দরজায়! প্রায় ভির্মি খেতে খেতেও সামলে নিলেন কারণ লণ্ঠনের আলো গিয়ে পড়েছে সেই মাথার উপরে। ও মাথা মা অন্ধকারেও চেনেন।

    - ঈশ্বর! এ কি পরেছিস রে! শেষে সাহেব হলি নাকি?

    - না মা, সাহেব হই নি। এটা পরেই দামোদর পার হয়ে এলাম। ধুতি পরে ঝাঁপালে পার হতে পারতাম না – অক্ষয় আর রাধানাথ অঙ্ক কষে দেখিয়েছে।

    সব শুনে ভগবতী দেবী অনেকক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর বললেন,

    - শোন ঈশ্বর, তুই একবার জিজ্ঞেস করেছিলি আমার কি গয়না চাই। আমি বলেছিলাম গ্রামে একটা ইস্কুল, একটা দাতব্য চিকিৎসালয় আর গরীবদের জন্য অন্নের ব্যবস্থা। আজ আর একটা জিনিস চাইছি। এই আলখাল্লার কথা তুই কাউকে বলবি না। লোকে জানুক, আমার ঈশ্বর মায়ের ডাকে উত্তাল দামোদর সাঁতরে পার হয়েছিল, ব্যাস। কি পরে পার হয়েছিল, কার অঙ্কে পার হয়েছিল সেটা লোকের জানার দরকার নেই।

    বিদ্যাসাগর মায়ের কথা কোনদিন অমান্য করেন নি, তাই এটাও করলেন না। তাই আজও বাংলার ঘরে ঘরে ছোটবেলায় আমরা শুনি যে মায়ের ডাকে বিদ্যাসাগর ঝড়ের রাতে দামোদর সাঁতরে পার হয়েছিলেন। গল্পে মায়ের ডাক আছে, দামোদর আছে, ঝড় আছে। শুধু ডোরাকাটা সুইমিং স্যুট নেই, নিউটন-স্টোকস নেই, আর রাধানাথের খাতা নেই।

    তবে মাকে কথা দিলেও অক্ষয়কে তো আর ফাঁকি দেওয়া যায় না। কলকাতায় ফিরে বিদ্যাসাগর বালি গিয়ে সব খুলে বললেন - কত মিনিট লাগল, কোথায় গিয়ে উঠলেন, পশমের কুটকুটানির মাত্রা কত। অক্ষয়বাবু আর রাধানাথ মিলে ইংরেজীতে একটা পেপার লিখে ফেললেন, “On the Comparative Resistance of the Bengal Dhoti and the European Bathing Costume in the Currents of the River Damodar, with a Note on the Optimum Point of Entry”। পরিচিত এক সাহেবের হাত দিয়ে সেই পেপার গেল লন্ডনে। গোপনীয়তার খাতিরে সাঁতারুর নাম লেখা হয় নি। কোন উত্তর আসেনি, সাহেবরা হয়ত ভেবেছিল গোটা ব্যাপারটাই বানানো।

    এর বছর ছয়েক পরে, ১৮৭২ সাল নাগাদ, ইংল্যান্ডের টর্কি শহরে উইলিয়াম ফ্রুড নামে এক সাহেব একটা লম্বা জলের ট্যাঙ্ক বানিয়ে তার মধ্যে কাঠের তক্তা টেনে টেনে মাপতে শুরু করলেন যে জলের সাথে ঘষা লেগে জিনিস কতটা পিছনে টান খায়। জাহাজ বানানোর জগতে সেই ‘স্কিন ফ্রিকশন’-এর পরীক্ষা আজও যুগান্তকারী কাজ বলে ধরা হয়। কথিত আছে, ফ্রুড সাহেবের ড্রয়ারে নাকি একটা পুরানো পাণ্ডুলিপি পাওয়া গিয়েছিল যার প্রথম পাতায় ‘Damodar’ শব্দটা অন্তত তিনবার লেখা। রাধানাথ সেই খবর পান নি কারণ ১৮৭০ সালেই তিনি চলে গিয়েছিলেন চন্দননগরে গঙ্গার ধারে।

    আর বাকি রইল লার্জ সাইজের স্যুটটা। অক্ষয়বাবু সেটা যত্ন করে তুলে রেখেছিলেন। ১৮৬৭ সালের গোড়ায় ব্যারিস্টার হয়ে মধু দেশে ফিরলে তাঁকেই ফেরত দিলেন। সাহেবদের লার্জ, ভেবেছিলেন ঝুলে থাকবে। কিন্তু মধুর গায়ে উঠে সেটা ঝুলে থাকেনি, বরং বেশ টাইট হয়েছিল। ভার্সাইয়ের অভাবের দিনেও মধু খাওয়া দাওয়ায় কোনদিন কম যান নি।

    তবে বিলেত ফেরত ব্যারিস্টার মধুসূদন সেই স্যুট পরে কোথায় জলে নেমেছিলেন, সেই গল্প অন্যদিন।

     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • স্মৃতিচারণ | ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | ৬ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে মতামত দিন।