এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  স্মৃতিচারণ  নস্টালজিয়া

  • চেনা মানুষ অজানা কথা - ২১ 

    সুকান্ত ঘোষ লেখকের গ্রাহক হোন
    স্মৃতিচারণ | নস্টালজিয়া | ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬ বার পঠিত
  • চিত্তরঞ্জন দাশকে আমরা কি বলে চিনি যদি জিজ্ঞেস করি, বাঙালি হাইহাই করে উঠবে। এটা কোন প্রশ্ন হল! আচ্ছা, ঠিক আছে – তাহলে বলুন তো দেশবন্ধু নামে দাগানোর আগে অন্য এক বিখ্যাত ব্যক্তি চিত্তবাবুকে কি নাম দিয়েছিলেন?

    পারলেন না তো? কেসটা তাহলে খুলেই বলি -

    চিত্তবাবু বিলেতফেরত ব্যারিস্টার, হাইকোর্টে রাজার মত পসার, অথচ দেশের ডাকে সব ছেড়ে দিলেন। প্র্যাকটিস ছাড়লেন, বিলিতি পোশাক ছাড়লেন, শেষে রসা রোডের বসতবাড়িটাও দান করে গেলেন। যেটা কেউ জানেন না, সেটা হল দেশবন্ধুর আগে একটা ‘বেশবন্ধু’ ছিল। সেই গল্পের শুরু একটা পশমের অন্তর্বাসে, মাঝখানে কলকাতার সবচেয়ে রগচটা ডাক্তার, আর শেষ জোড়াসাঁকোর বারান্দায়।

    গল্প শুরু করা যাক ১৮৯০ সাল থেকে। প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বি.এ. পাশ করে কুড়ি বছরের চিত্তরঞ্জন জাহাজে চাপলেন বিলেতের পথে আই.সি.এস. হবেন বলে। বাবা ভুবনমোহন দাশ হাইকোর্টের নামী সলিসিটর, ছেলে জজ-ম্যাজিস্ট্রেট হবে এই আশা ছিল। আই.সি.এস. শেষ পর্যন্ত হল না, তবে ইনার টেম্পলে ঢুকে ব্যারিস্টার হলেন। লন্ডনে থাকতে দাদাভাই নওরোজীর হয়ে পার্লামেন্টের ভোটের প্রচারেও নেমেছিলেন – সে আরেক গল্প, আরেক দিন হবে।

    লন্ডনে তখন চলছে এক নতুন হুজুগ। জার্মানির ডাক্তার গুস্তাভ ইয়েগারের তত্ত্ব নিয়ে ১৮৮৪ সালে লন্ডনে দোকান খুলেছে ‘ইয়েগার্স স্যানিটারি উলেন সিস্টেম’। ডাক্তার সাহেবের যুক্তি সোজা – মানুষ একটা প্রাণী, প্রাণীর গায়ে প্রাণীর লোম ছাড়া আর কিছু থাকা উচিত নয়। তুলো, লিনেন ওসব গাছপালার জিনিস, স্বাস্থ্যের শত্রু। অতএব মাথা থেকে পা পর্যন্ত খাঁটি পশম। আর সবার আগে পশমের ‘কম্বিনেশন’ – গলা থেকে গোড়ালি পর্যন্ত এক টুকরো, গায়ের সাথে একেবারে লেপটে থাকা বোনা পশমের অন্তর্বাস। একেবারে বডি টাইট। অস্কার ওয়াইল্ড পরছেন, জর্জ বার্নার্ড শ পরছেন – লন্ডনের শৌখিন আর বুদ্ধিজীবী মহলে এটাই তখন ফ্যাশন।

    চিত্তরঞ্জন মানুষটা চিরকালই শৌখিন। পরে যখন পসার জমেছে, তখন তাঁর পোশাক, খাওয়াদাওয়া আর দানধ্যান – তিনটেই ছিল রাজকীয়, এ কথা তাঁর জীবনীকারেরা সবাই লিখেছেন। লন্ডনের হাড়কাঁপানো শীতে ইয়েগারের কম্বিনেশন গায়ে চড়িয়ে তিনি বুঝলেন, এ জিনিস স্বর্গ থেকে নেমেছে। ব্যস, এক ডজন কিনে ফেললেন। ১৮৯৩ সালে যখন দেশে ফিরলেন, তখন ট্রাঙ্ক ভর্তি সেই কম্বিনেশন, তার সাথে উলের স্যুট, ওয়েস্টকোট, মাড় দেওয়া শক্ত কলার আর রেশমের টাই।

    এবার একটু হাইকোর্টের বারের কথা বলে নিই, নইলে বোঝা যাবে না চিত্তরঞ্জন কেন এই পোশাক ছাড়তে পারলেন না। তখন কলকাতা হাইকোর্টে বাঙালি ব্যারিস্টার মানে পুরোদস্তুর সাহেব। মাথার উপরে বসে আছেন উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় – কংগ্রেসের প্রথম সভাপতি, বারের মুকুটহীন রাজা, চালচলনে ইংরেজের চেয়েও ইংরেজ। আছেন সত্যেন্দ্রপ্রসন্ন সিংহ, পরে যিনি লর্ড সিনহা হবেন। এঁদের পাশে দাঁড়াতে গেলে ধুতি-চাদর চলে না। অন্য দিকে উকিলদের সারিতে আছেন আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের মত মানুষ, যিনি মায়ের আপত্তিতে কোনদিন বিলেতই যাননি। নতুন ব্যারিস্টারের কাছে তখন একটাই অঙ্ক – যত বেশী সাহেব, তত বেশী মক্কেল। মুশকিল হল, মক্কেল তখনো আসছে না। প্রথম কয়েক বছর চিত্তরঞ্জনের পসার জমেনি, এ কথা সত্যি। বার লাইব্রেরিতে বসে থাকা, কেস না পাওয়া, কিন্তু বসে থাকতে হলেও স্যুট পরেই থাকতে হবে।

    জাহাজ যখন ভিড়ল তখন কলকাতায় শীতকাল, কিন্তু সে শীত তো মাত্র তিন সপ্তাহের অতিথি! দেখতে দেখতে ফাল্গুন এল, তারপর চৈত্র। ১৮৯৪ সালের সেই চৈত্র মাসে তাপমাত্রা উঠছে, বাতাসে জল থইথই, আর বিলেতফেরত ব্যারিস্টার চিত্তরঞ্জন দাশ গলা থেকে গোড়ালি পর্যন্ত খাঁটি জার্মান পশমে মোড়া, তার উপরে উলের স্যুট। ইয়েগার সাহেব লিখেছিলেন, পশম শরীরের ‘অতিরিক্ত তাপ’ কমায়। ভবানীপুর থেকে হাইকোর্ট যাবার পথে ঘোড়ার গাড়িতে বসে চিত্তরঞ্জন বুঝলেন, ইয়েগার সাহেব কলকাতার চৈত্র মাস দেখেননি।

    প্রথমে এল ঘামাচি, তারপর চুলকানি। তারপর এমন সব জায়গায় দাদ, যেগুলোর নাম ভদ্রসমাজে মুখে আনা যায় না। ওদিকে পশমের মোজা আর চামড়ার বুটের ভিতরে পা দুটোয় দেখা দিল হাজা। সবচেয়ে বিপদ হত কোর্টে। সাহেব জজের সামনে দাঁড়িয়ে “মি লর্ড” বলছেন, আর ঠিক সেই মুহূর্তে পিঠের মাঝখানে, যেখানে হাত পৌঁছয় না, একটা চুলকানি শুরু হল। একজন ইনার টেম্পলের ব্যারিস্টার তো আর কোর্টরুমে দাঁড়িয়ে কোমর বেঁকিয়ে পিঠ চুলকোতে পারেন না! চিত্তরঞ্জন দাঁতে দাঁত চেপে সওয়াল চালিয়ে যেতেন। পরে যিনি আলিপুর বোমা মামলায় টানা কয়েক মাস সওয়াল করে অরবিন্দকে ছাড়িয়ে আনবেন, তাঁর সহ্যশক্তির ট্রেনিং কোথায় হয়েছিল, একবার ভেবে নেবেন!

    বাড়িতে মা নিস্তারিণী দেবী ছেলের অবস্থা দেখে সবই বুঝলেন।

    - চিত্ত, সারাক্ষণ গা মোচড়াচ্ছিস কেন রে? নিমপাতা বেটে দিই, সাথে কাঁচা হলুদ। তিন দিনে সেরে যাবে।
    - মা, বিলেতফেরত ব্যারিস্টার গায়ে হলুদ মেখে কোর্টে যাবে? লোকে বলবে কি?
    - গায়ে হলুদ তো একদিন মাখতেই হবে বাবা। আগে থেকে একটু অভ্যাস করে রাখলে ক্ষতি কি?

    চিত্তরঞ্জন তখনো অবিবাহিত। বাসন্তী দেবীর সাথে বিয়ে হবে আরো বছর তিনেক পরে, ১৮৯৭ সালে। মায়ের এই ইঙ্গিতের পরে তিনি ঘর ছেড়ে পালালেন, নিমপাতাও মাখলেন না। লজ্জা বড় বালাই। এত বছর বিলেত থেকে এসে, এত বড় ব্যারিস্টার হয়ে কোন ডাক্তারকে গিয়ে বলবেন – আমার দাদ হয়েছে, চুলকুনি হয়েছে, হাজা হয়েছে? এক মাস গেল, দুই মাস গেল, বৈশাখ পড়ল। অবস্থা যখন এমন দাঁড়াল যে রাতে ঘুম হয় না, তখন আর উপায় রইল না।

    কলকাতায় তখন ডাক্তার অনেক, কিন্তু ডাক্তারের মত ডাক্তার একজনই, আর তিনি হলেন মহেন্দ্রলাল সরকার। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় এম.ডি., অ্যালোপ্যাথির ডিগ্রি নিয়ে যিনি হোমিওপ্যাথিতে চলে গিয়ে সারা শহরে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন। ঠাকুর রামকৃষ্ণের শেষ অসুখে তিনিই চিকিৎসা করেছিলেন। বিদ্যাসাগরের বন্ধু, ১৮৭৬ সালে বৌবাজারে ‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স’ গড়েছেন, ১৮৮৭ সালে কলকাতার শেরিফ হয়েছেন। কিন্তু তাঁর মুখ? সে মুখে মধু নেই, আছে নিম। রোগী রাজা হোক বা মহারাজা, ভুল করলে মহেন্দ্রলাল ধমক দিয়ে ভূত ছাড়িয়ে দিতেন। চিত্তরঞ্জন ভাবলেন, যিনি রামকৃষ্ণদেবকে ধমকাতে পারেন, তিনি অন্তত কথাটা বাইরে বলবেন না। আর এই ক্ষেত্রে মানুষ চেনায় তাঁর ভুল হয়নি।

    এক বৈশাখী দুপুরে চেম্বারে ঢুকলেন চিত্তরঞ্জন, পরনে পুরো উলের স্যুট, গলায় টাই, মাথায় হ্যাট। বয়স তখন তেইশ। ষাট পেরোনো মহেন্দ্রলাল চশমার উপর দিয়ে তাকিয়ে রইলেন খানিকক্ষণ।

    - এই বোশেখ মাসে উলের কোট? তুমি কি দার্জিলিং থেকে নেমে সোজা আমার চেম্বারে এলে?
    - আজ্ঞে, হাইকোর্ট থেকে।
    - একই কথা। বলো, কি হয়েছে।

    চিত্তরঞ্জন অনেক ঢোঁক গিলে, অনেক ‘মানে’, ‘আসলে’ করে শেষ পর্যন্ত বললেন। মহেন্দ্রলাল শুনলেন, তারপর বললেন জামা খোলো। চিত্তরঞ্জন কোট খুললেন, ওয়েস্টকোট খুললেন, কলার-টাই-শার্ট খুললেন। আর তারপর বেরিয়ে পড়ল সেই বস্তু – গলা থেকে পা পর্যন্ত ধূসর রঙের বোনা পশম, গায়ের সাথে এমন সেঁটে আছে যেন দ্বিতীয় চামড়া। মহেন্দ্রলাল প্রায় চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালেন।

    - এটা কি? এ তো দেখছি মানুষ নয়, পশমে মোড়া একটা পাশবালিশ!
    - আজ্ঞে, এটা ইয়েগারের স্যানিটারি উলেন সিস্টেম। লন্ডনে সবাই পরে। ডাক্তার ইয়েগার বলেছেন পশম শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ করে…
    - ইয়েগার! আমি বিলেত যাইনি বাপু, কিন্তু বিলেতের ল্যান্সেট পত্রিকা আমার টেবিলে প্রতি সপ্তাহে আসে। ইয়েগারের তত্ত্ব জার্মানির বরফে চলতে পারে। কলকাতার বোশেখে এ জিনিস পরা মানে নিজের গায়ে নিজেই ভাপা ইলিশ রান্না করা। কলাপাতার বদলে পশম, এই যা তফাত। খোলো এটা।

    খোলার পরে যা বেরোল, সেটা আর বর্ণনা না করাই ভালো। শুধু এটুকু বলি যে মহেন্দ্রলাল সরকার জীবনে অনেক রোগী দেখেছিলেন, কিন্তু এক শরীরে একসাথে ঘামাচি, দাদ, হাজা আর চুলকুনির এমন প্রদর্শনী তিনি আগে দেখেননি। খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে তিনি বললেন –

    - তোমার রোগের নাম ঘামাচি নয়, দাদও নয়। তোমার রোগের নাম বিলেত। দেশে ফিরেছ, কিন্তু চামড়াটা এখনো লন্ডনে পড়ে আছে। শোনো, প্রথম কথা – এই কম্বিনেশন আর কোনদিন গায়ে তুলবে না। দ্বিতীয় কথা – গায়ের সাথে সেঁটে থাকে এমন কিছুই পরবে না। চামড়াকে শ্বাস নিতে দাও। আর আমার আসল পরামর্শ যদি শোনো তাহলে বলি কি অন্তর্বাসই ছেড়ে দাও। বাড়িতে শুধু ধুতি পরে থাকো।

    চিত্তরঞ্জন যেন কারেন্টের শক খেলেন।

    - কি বলছেন ডাক্তারবাবু! ধুতি পরব, আর তার নিচে কিছুই পরব না? এটা কি হয়?
    - কেন হয় না? তোমার ঠাকুর্দা কাশীশ্বর দাশ বরিশালের আদালতে সরকারি উকিল ছিলেন। তিনি কি ধুতির নিচে জার্মান পশম পরতেন? তোমার চোদ্দপুরুষ কি পরত?
    - আজ্ঞে, তাঁরা তো ব্যারিস্টার ছিলেন না…
    - তাঁদের দাদও ছিল না।

    এই যুক্তির কোন জবাব ইনার টেম্পলের ট্রেনিংয়ে শেখানো হয়নি। চিত্তরঞ্জন খানিকক্ষণ চুপ করে রইলেন, তারপর জীবনের প্রথম আপসের সওয়াল শুরু করলেন - একটু কিছু অন্তত চাই, শুধু ধুতি সম্ভব নয়, দয়া করে বিবেচনা করুন মি লর্ড, থুড়ি, ডাক্তারবাবু। মহেন্দ্রলাল অবশেষে রায় দিলেন –
    - বেশ তাহলে ধুতি পরো, আর তার নিচে একটা ঢোলা সুতির ইজের। গায়ে ঢোলা সুতির গেঞ্জি। গেঞ্জি কথাটা কোথা থেকে এসেছে জানো? ইংলিশ চ্যানেলের গার্নসি দ্বীপের জেলেরা একরকম বোনা জামা পরত, সাহেবরা বলে ‘গার্নসি’, আমরা বলি গেঞ্জি। ওরা পশমেরটা পরে, তুমি সুতিরটা পরবে। আর ওষুধ দিচ্ছি সালফার থার্টি, তিন দিন। চর্মরোগে এর চেয়ে পুরনো বন্ধু হোমিওপ্যাথিতে নেই।

    প্রেসক্রিপশন লিখতে লিখতে মহেন্দ্রলাল নিজের মনেই বললেন, “দেশের ছেলে, অথচ মন পড়ে আছে বেশে। এ তো দেখছি দেশবন্ধু নয়, বেশবন্ধু!” তারপর পশমের স্তূপের দিকে তাকিয়ে আরো জুড়লেন, “বেশের বন্ধু, আর শরীরটাকে বন্ধ করে রেখেছে। বেশ-বন্ধু নামটা মন্দ হয়নি।” চিত্তরঞ্জন সেদিন হাসেননি তবে কথাটা তাঁর মনে গেঁথে গিয়েছিল, পরে সেটা কাজে লাগবে।

    চেম্বার থেকে বেরিয়ে চিত্তরঞ্জন সোজা বাড়ি ফিরলেন না। এক বন্ধু খবর দিয়েছিল, আপার সার্কুলার রোডে একজন প্রফেসর দেশি জিনিস দিয়ে ওষুধপত্র বানাচ্ছেন। সেই প্রফেসর হলেন প্রফুল্লচন্দ্র রায়। এডিনবরা থেকে ডক্টরেট নিয়ে ১৮৮৮ সালে দেশে ফিরেছেন, প্রেসিডেন্সি কলেজে রসায়ন পড়ান, আর ১৮৯২ সালে মাত্র সাতশো টাকা পুঁজি নিয়ে ৯১ নম্বর আপার সার্কুলার রোডের ভাড়া বাড়িতে খুলেছেন ‘বেঙ্গল কেমিক্যাল ওয়ার্কস’। আজকের বেঙ্গল কেমিক্যালের সেই শুরু। বাড়িটার একদিকে গবেষণা, একদিকে কারখানা, আর এক কোণে প্রফুল্লচন্দ্রের নিজের ছোট্ট থাকার ঘর। চিরকুমার মানুষ, পরনে সাদামাটা ধুতি আর চাদর।

    চিত্তরঞ্জনকে স্যুট-টাই পরা অবস্থায় দেখে প্রফুল্লচন্দ্র প্রথমে ভাবলেন কোন সাহেব কোম্পানির দালাল এসেছে। তারপর ঘটনা শুনে খুব একচোট হাসলেন।

    - আমি এডিনবরায় ছ’বছর ছিলাম হে। স্কটল্যান্ডের শীত লন্ডনের চেয়ে ঢের বেশী। পশম আমিও পরতাম, কিন্তু দেশে ফেরার জাহাজ যেই সুয়েজ খাল পার হল, সেই মুহূর্তে সব খুলে বাক্সে ভরেছি। আর মহেন্দ্রলালবাবু হোমিওপ্যাথি দিয়েছেন? দিন, ওঁর ওষুধ খান, ওঁর সাথে তর্ক করে আমার লাভ নেই। কিন্তু বাইরে লাগানোর জন্য আমি একটা জিনিস দিচ্ছি।

    প্রফুল্লচন্দ্র তাক থেকে নামালেন একটা কৌটো – বোরিক অ্যাসিড আর জিঙ্ক অক্সাইডের মিহি পাউডার, সাথে একটু কর্পূর। নিজের ল্যাবে নিজের হাতে বানানো।

    - এটা আমার কারখানার মাল, পুরো দিশি। বিলেতের কোম্পানি এই জিনিস বিক্রি করে চার গুণ দামে। আপনি তো ব্যারিস্টার মানুষ, বার লাইব্রেরিতে আপনার বন্ধুদের অনেকেরই নিশ্চয়ই এই একই রোগ। তাঁদের একটু বলবেন। বিলেতের জিনিস পরে যে রোগ হয়, তার ওষুধ দেশেই তৈরী হচ্ছে – এর চেয়ে বড় বিজ্ঞাপন আর কি হতে পারে!

    শোনা যায়, হাইকোর্টের বার লাইব্রেরিতে সেই বছর গ্রীষ্মে এই পাউডারের কৌটো গোপনে হাতে হাতে ঘুরেছিল। কারা কারা নিয়েছিলেন, সে তালিকা কোন দিন প্রকাশ হয়নি, আর হবেও না। বেঙ্গল কেমিক্যালের ইতিহাসে লেখা আছে যে শিক্ষিত বাঙালি সমাজ গোড়া থেকেই এর দিশি জিনিসের পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল। কোন ‘শিক্ষিত সমাজ’, সেটা লেখা নেই!

    চিকিৎসা চলল এক মাস। মহেন্দ্রলালের সালফার আর প্রফুল্লচন্দ্রের পাউডার – হোমিওপ্যাথি আর কেমিস্ট্রির এমন যৌথ অভিযান কলকাতায় আগে কখনো হয়নি। মুশকিল ছিল একটাই, দুজনের কেউ যেন অন্যজনের কথা জানতে না পারেন। মহেন্দ্রলাল ‘ওষুধের সাথে বাইরের কিছু মেশালে ফল নষ্ট’ বলে বিশ্বাস করতেন। তাই চেম্বারে যাবার আগে চিত্তরঞ্জন ভালো করে পাউডার মুছে যেতেন। তবু একদিন মহেন্দ্রলাল নাক কুঁচকে বললেন, “কর্পূরের গন্ধ পাচ্ছি যেন।” চিত্তরঞ্জন সঙ্গে সঙ্গে বললেন, “আজ বাড়িতে পুজো ছিল।” একজন ব্যারিস্টারের প্রথম সফল ‘ক্রস এক্সামিনেশন’ এড়ানো – সেটাও এই চেম্বারেই।

    এক মাস পরে চামড়া পরিষ্কার। চিত্তরঞ্জন দাশ সেরে উঠলেন। কোর্টে গাউন আর কোট তখনো পরতে হত – ব্যারিস্টারের পোশাক বলে কথা – কিন্তু তার নিচে আর জার্মান পশম নয়, দিশি সুতির ঢোলা গেঞ্জি। বাড়িতে ধুতি, আর মহেন্দ্রলালের নির্দেশমত ধুতির নিচে ঢোলা ইজের। আর বাকি এগারোটা ইয়েগারের কম্বিনেশন? সেগুলো গেল একটা লোহার ট্রাঙ্কে, ট্রাঙ্ক গেল চিলেকোঠায়। ফেলেও দেওয়া যায় না কারণ লন্ডনের দামী জিনিস, আবার পরাও যায় না।

    আর একটা ব্যাপার বলে রাখি, নব্বইয়ের দশকে চিত্তরঞ্জন শুধু ব্যারিস্টার নন, উঠতি কবিও বটে! ১৮৯৫ সালে বেরোল তাঁর প্রথম কবিতার বই ‘মালঞ্চ’। সেই সময়ে তরুণ কবি হিসেবে রবীন্দ্রনাথের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল, এ তো আম বাঙালি জানেই। রবীন্দ্রনাথ তখন চৌত্রিশ, ‘সাধনা’ পত্রিকা চালাচ্ছেন, শিলাইদহ আর কলকাতা করে বেড়াচ্ছেন। জোড়াসাঁকোয় এক সাহিত্যের আড্ডায় কবিতা পাঠ শেষ হবার পরে কথায় কথায় বিলেতের প্রসঙ্গ উঠল। রবীন্দ্রনাথ নিজেও দু’বার বিলেত ঘুরে এসেছেন – ১৮৭৮ আর ১৮৯০ সালে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “বিলেত থেকে কি নিয়ে ফিরলে চিত্তরঞ্জন? ব্যারিস্টারি ছাড়া?”

    চিত্তরঞ্জন তখন মালঞ্চের আনন্দে বেশ খোশমেজাজে ছিলেন। সেই দুর্বল মুহূর্তে তিনি পুরো গল্পটা বলে ফেললেন, ইয়েগারের কম্বিনেশন, চৈত্রের গরম, মহেন্দ্রলালের ধমক, আর শেষে সেই ‘বেশবন্ধু’। রবীন্দ্রনাথ এত জোরে হেসে উঠলেন যে পাশের ঘর থেকে কে যেন খোঁজ নিতে এল। তারপর হাসি থামিয়ে বললেন –

    - আমার ভাগ্য ভালো হে। আমি ১৮৯০-এ গিয়েছিলাম ভাদ্র মাসে, ফিরেছি কার্তিকে। কলকাতার গরম আর লন্ডনের পশমের দেখা হবার সুযোগ পায়নি। আর মহেন্দ্রলালবাবু বেশবন্ধু বলেছেন? কথাটা আমি রেখে দিলাম। একটা অক্ষর এদিক ওদিক করলেই কিন্তু ভারী সুন্দর একটা শব্দ হয়ে যায়। কোনদিন যদি সময় আসে, কাজে লাগাব।

    চিত্তরঞ্জন ভাবলেন কবিরা অমন অনেক কথা বলেন। কথাটা তিনি ভুলেই গেলেন। রবীন্দ্রনাথ ভোলেননি।

    ফাস্ট ফরোয়ার্ড প্রায় পঁচিশ বছর। এর মধ্যে অনেক জল গঙ্গা দিয়ে বয়ে গেছে। চিত্তরঞ্জন হয়েছেন কলকাতার সবচেয়ে দামী ব্যারিস্টার। ১৯০৮-০৯ সালে আলিপুর বোমা মামলায় অরবিন্দ ঘোষের হয়ে সওয়াল করে সারা দেশে নাম ছড়িয়েছে। যৌবনে বাবার সাথে দেউলিয়া হয়েছিলেন, পরে পসার জমার পর আইনের কোন বাধ্যবাধকতা না থাকা সত্ত্বেও বাবার সব পাওনাদারের দেনা নিজে থেকে শোধ করেছেন – কলকাতা অবাক হয়ে দেখেছে। মাঝখানে রবীন্দ্রনাথের সাথে সাহিত্য নিয়ে খটাখটিও কম হয়নি। চিত্তরঞ্জনের ‘নারায়ণ’ পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের লেখার কড়া সমালোচনা বেরিয়েছে। কিন্তু সাহিত্যের ঝগড়া সাহিত্যেই থেকে গেছে।

    আলিপুর বোমা মামলার কথা আপনারা সবাই জানেন। কিন্তু ওই সময়েই চিত্তরঞ্জনের হাতে আরেকটা মামলা এসেছিল, যার কথা কোন আইনের বইতে নেই, কোন ল-রিপোর্টে নেই। সেটা হল রসগোল্লা মামলা।

    ব্যাপারটা একটু খুলে বলি। বাংলার রসগোল্লার জনক কে, এ তর্ক আজকের নয়। বাগবাজারের নবীনচন্দ্র দাশ ১৮৬৮ সালে ছানা আর সুজির গোলা ফুটন্ত চিনির রসে ফেলে যে স্পঞ্জের মত সাদা রসগোল্লা বানিয়েছিলেন, আজ সবাই সেটাকেই আদি রসগোল্লা বলে জানে। কিন্তু খাদ্য-ইতিহাসবিদ প্রণব রায় লিখে গেছেন, তার দু’বছর আগে, ১৮৬৬ সালে ব্রজ ময়রা নামে এক কারিগর রসগোল্লা বেচতেন। আর তাঁর দোকানটা ছিল কোথায়? কলকাতা হাইকোর্টের ঠিক পাশে! তার উপরে ১৯০৬ সালে এক লেখায় দাবি উঠল, আসল জনক নদিয়ার ফুলিয়ার হারাধন ময়রা, যিনি রানাঘাটের পালচৌধুরীদের বাড়িতে কাজ করতেন। তিন দাবিদার, এক রসগোল্লা। এ জিনিস যে একদিন আদালতে গড়াবে, তাতে আর আশ্চর্য কি?

    ১৯১০-এর দশকের গোড়ায় ঠিক তাই হল। ব্রজ ময়রার উত্তরপুরুষরা ভাবলেন, দোকান থেকে হাইকোর্ট দু’পা, মামলা ঠুকতে খরচও কম। বাগবাজারের দিক থেকে ডাক পড়ল চিত্তরঞ্জন দাশের। লোকে বলল, ভালোই হল, দাশের মামলা দাশেই লড়বে। ফুলিয়ার দিক থেকেও দুজন এলেন, গামছায় বাঁধা হাঁড়ি নিয়ে। প্রথম শুনানির দিন কোর্টরুমে তিনটে হাঁড়ি পাশাপাশি রাখা হল – এক্সিবিট এ, এক্সিবিট বি, এক্সিবিট সি। সাহেব জজ চশমা নামিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, এগুলো কি প্রমাণ হিসেবে জমা থাকবে? চিত্তরঞ্জন জানালেন, থাকবে, তবে বেশী দিন নয় মি লর্ড – রস টেকে, রসগোল্লা টেকে না। সত্যিই টেকেনি। পরের শুনানির আগেই তিনটে হাঁড়ি খালি। কে খেয়েছিল, কোর্টের পেশকার থেকে আর্দালি – কেউই কোনদিন স্বীকার করেনি!

    কিন্তু আসল মজাটা শুরু হল শুনানির বাইরে। মক্কেলের সাথে আলোচনায় বসলেই চিত্তরঞ্জন দেখতেন, কারো মন মামলায় নেই। বাগবাজারের লোক জিজ্ঞেস করে – “আমরা জিতলে ওই ফুলিয়ার রসগোল্লা বন্ধ হয়ে যাবে না তো ব্যারিস্টারবাবু? আমার গিন্নি আবার ফুলিয়ারটা ছাড়া খান না।” খবর নিয়ে জানা গেল, ফুলিয়ার দলের লোক প্রতি রবিবার লুকিয়ে বাগবাজারে আসে হাঁড়ি কিনতে। ওদিকে ব্রজ ময়রার নাতি হাতজোড় করে বললেন, “হুজুর, মামলা যেমন চলে চলুক, কিন্তু নবীনবাবুর দোকানের রসগোল্লা যেন বাজেয়াপ্ত না হয়। আমাদের বাড়ির লক্ষ্মীপুজোয় ওটাই লাগে।” তিন পক্ষ, আর প্রত্যেকের একটাই চিন্তা যে মামলায় জিতলে পাছে প্রতিপক্ষের রসগোল্লাটা হারিয়ে যায়!
    তিন নম্বর শুনানির পরে চিত্তরঞ্জন আর পারলেন না। তিন পক্ষকে এক ঘরে ডেকে বললেন –

    - শুনুন, আমি বিলেতে আইন পড়েছি। সেখানে শিখেছি, মামলা হয় শত্রুর সাথে। আপনারা তো একে অপরের খদ্দের! তোমাদের যদি একে অপরের রসগোল্লার প্রতি এত প্রেম, তাহলে মামলা করতে হয় না। বাড়ি যান, একে অপরের দোকান থেকে হাঁড়ি কিনুন, আর আমার ফি-টা রসগোল্লায় মিটিয়ে দিন।

    মামলা উঠে গেল। ফি সত্যিই এসেছিল, তিন দোকান থেকে তিন হাঁড়ি। ভাগ্যিস ততদিনে চিত্তরঞ্জনের গায়ে আর জার্মান পশম নেই, নইলে সেই রস ঘামের সাথে মিশে কি হত, মহেন্দ্রলালই জানতেন! কিন্তু রসগোল্লার জনক কে, সে মীমাংসা আর কোনদিন হল না। নবীনচন্দ্রের ছেলে কৃষ্ণচন্দ্র দাশ ১৯৩০ সালে রসগোল্লা টিনে ভরে দেশ বিদেশে পাঠাতে শুরু করলেন, তবু তর্ক থামল না। একশো বছর পরে, ২০১৫ সালে, ওড়িশা আর পশ্চিমবঙ্গ আবার লড়াইয়ে নামল – এবার জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন নিয়ে। ২০১৭ সালে বাংলা পেল ‘বাংলার রসগোল্লা’, ২০১৯-এ ওড়িশা পেল ‘ওড়িশা রসগোল্লা’। মানে এবারও মীমাংসা হল না, দুই পক্ষই জিতল। চিত্তরঞ্জন বেঁচে থাকলে নিশ্চয়ই বলতেন – বলেছিলাম না?

    তারপর এল ১৯২০-২১ সালে গান্ধীজীর অসহযোগ আন্দোলন। চিত্তরঞ্জন রাজকীয় প্র্যাকটিস ছেড়ে দিলেন। ওদিকে সারা দেশে শুরু হল বিলিতি কাপড় পোড়ানো। মোড়ে মোড়ে আগুন জ্বলছে, তাতে পড়ছে ম্যাঞ্চেস্টারের ধুতি, বিলিতি শাড়ি, সাহেবি কোট। রসা রোডের বাড়িতেও আগুন জ্বলল। বাড়ির লোকে সব আলমারি খালি করছে, এমন সময়ে চিত্তরঞ্জন নিজেই চিলেকোঠায় উঠে গেলেন, আর নামিয়ে আনলেন একটা পুরনো লোহার ট্রাঙ্ক। ঢাকনা খুলতেই বেরিয়ে এল এগারোটা ধূসর পশমের কম্বিনেশন – সাতাশ বছর ধরে ন্যাপথলিনে ঘুমিয়ে আছে। বাড়ির লোকে অবাক যে এগুলো আবার কি? চিত্তরঞ্জন কোন উত্তর দিলেন না। শুধু নিজের হাতে একটা একটা করে আগুনে ফেললেন। পশম পোড়ার কটু গন্ধে পাড়ার লোক জড়ো হল। সবাই ভাবল, কি গভীর দেশপ্রেম – একটা একটা করে, যেন প্রতিটা ফেলার সাথে একটা করে প্রতিজ্ঞা! আসলে প্রতিটা ফেলার সাথে চিত্তরঞ্জনের মনে পড়ছিল ১৮৯৪ সালের এক একটা রাত – যে রাতে চুলকানিতে ঘুম হয়নি।

    মজার কথা, রবীন্দ্রনাথ কিন্তু এই কাপড় পোড়ানোর ঘোর বিরোধী ছিলেন। ১৯২১ সালেই ‘সত্যের আহ্বান’ প্রবন্ধে লিখেছিলেন, যে দেশে গরিবের গায়ে কাপড় জোটে না, সেখানে কাপড় পোড়ানো তাঁর ভালো লাগে না। খবরটা জোড়াসাঁকো পৌঁছল যে চিত্তরঞ্জন দাশ নিজের হাতে বিলিতি কাপড় পুড়িয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ ভুরু কোঁচকালেন, কিন্তু তারপর যখন শুনলেন পোড়ানো কাপড়গুলো ছিল ধূসর পশমের, গলা থেকে পা পর্যন্ত এক টুকরো, তখন তাঁর ভুরু সোজা হয়ে গেল, আর দাড়ির আড়ালে একটা হাসি খেলে গেল। “ওটা দেশপ্রেম নয়,” তিনি পাশের লোককে বললেন, “ওটা চিকিৎসা। আর চিকিৎসায় আমার আপত্তি নেই।”

    এই ঘটনার কিছুদিন পরে, যখন বাংলা জুড়ে চিত্তরঞ্জনের জয়জয়কার, তখন এক সভায় রবীন্দ্রনাথের মুখ থেকে বেরিয়ে এল সেই শব্দটা – দেশবন্ধু। বলা বাহুল্য, পঁচিশ বছর আগের সেই ‘একটা অক্ষর এদিক ওদিক’। বেশ থেকে দেশ – ব গেল, দ এল। মহেন্দ্রলাল ততদিনে ইহলোক ছেড়েছেন, ১৯০৪ সালে। বেঁচে থাকলে হয়তো রয়্যালটি দাবি করতেন!

    শব্দটা লোকের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ল, আর তখনই চিত্তরঞ্জনের মনে এক নতুন দুশ্চিন্তা ঢুকল। একদিন জোড়াসাঁকোয় গিয়ে রবীন্দ্রনাথের সামনে বসলেন।

    - গুরুদেব, লোকে আমাকে দেশবন্ধু বলছে। শুনেছি নামটা আপনার মুখ থেকেই বেরিয়েছে। কোথা থেকে বেরিয়েছে, সেটা আমি আর আপনি দুজনেই জানি।
    - জানি। সে কথা আমার মুখ থেকে কেউ শুনবে না, নিশ্চিন্ত থাকো।
    - কিন্তু একটা ভয় হচ্ছে। উপাধি যখন খুব বড় হয়, তখন আসল নামটা চাপা পড়ে যায়। বিদ্যাসাগরের কথা ভাবুন, ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় নামটা আজ কে বলে? সবাই বলে বিদ্যাসাগর। দেশবন্ধুর চাপে আমার বাপ-মায়ের দেওয়া চিত্তরঞ্জন নামটাও যদি হারিয়ে যায়? আপনি তো শব্দের জাদুকর, এমন একটা ব্যবস্থা করে দিন যাতে উপাধিটাও থাকে, আর নামটাও হারিয়ে না যায়।

    রবীন্দ্রনাথ অনেকক্ষণ চুপ করে জানলার বাইরে তাকিয়ে রইলেন। তারপর বললেন –

    - দেখো চিত্তরঞ্জন, উপাধি যখন আসে, তখন সে খালি হাতে আসে না বরং কিছু একটা নিয়ে যায়। বিদ্যাসাগর এসে ঈশ্বরচন্দ্রের বন্দ্যোপাধ্যায়টা নিয়ে গেছে। তোমার ক্ষেত্রে একটা উপায় আছে। তোমার বাকি নাম হারিয়ে যাবে, কিন্তু চিত্তরঞ্জন হারাবে না।
    - বাকি নাম মানে?
    - মানে তোমার ‘দাশ’। লোকে বলবে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন, দেশবন্ধু দাশ কেউ বলবে না। ভেবে দেখো, দাশ থেকে বন্ধু – এ তো লোকসান নয় হে, এ তো পদোন্নতি! আর চিত্তরঞ্জন? সে থাকবে। রাস্তায় থাকবে, শহরে থাকবে, হাসপাতালে থাকবে। কলকাতার বুক চিরে যে বড় রাস্তা যাবে, সেটা হবে চিত্তরঞ্জন। দেশ যখন নিজের কলকারখানা গড়বে, তার একটার নাম হবে চিত্তরঞ্জন। দাশ খুঁজে পাবে না কেউ, চিত্তরঞ্জন সবাই খুঁজে পাবে।
    - আর বেশবন্ধু?
    - সেটা থাকবে তোমার আর আমার মধ্যে। আর মহেন্দ্রলালবাবু তো স্বর্গে বসে হাসছেনই।

    রবীন্দ্রনাথ খানিক থেমে দাড়িতে হাত বুলিয়ে মুচকি হাসলেন।
    - আর তুমি নাম হারানোর ভয় পাচ্ছ? রাস্তা, শহর, কলকারখানা তো পরের ব্যাপার হে। তোমার নাম আমি অনেক আগেই এক জায়গায় পাকা করে রেখেছি। বোলপুরের কালোর কথা মনে আছে?

    চিত্তরঞ্জনের মনে ছিল কারণ বছর কয়েক আগে এক শীতে তিনি শান্তিনিকেতনে গিয়েছিলেন। বোলপুর বাজারে তখন এক ময়রা ছিল, নাম কালো। নামেও কালো, গায়ের রঙেও মিশকালো, কিন্তু হাতে জাদু। রবীন্দ্রনাথ তাকে আদর করে ডাকতেন ‘কালাজাদু’। কালো একটা মিষ্টি বানাত, যেটা বীরভূমে তো নয়ই, সারা বাংলায় আর কোথাও পাওয়া যেত না। নতুন খেজুর গুড়ে পাক দেওয়া ছানা, ভিতরে ঘন ক্ষীরের পুর, উপরে হালকা করে পোড়ানো একটা খয়েরি সর। কালো সেটা বানাত শুধু শীতকালে, শুধু গুরুদেবের অতিথি এলে, আর তার কোন নাম ছিল না।

    সেদিন বিকেলে উত্তরায়ণের বারান্দায় সেই মিষ্টির থালা এল। চিত্তরঞ্জন একটা খেলেন, তারপর আরেকটা, তারপর গুনতে ভুলে গেলেন। পাশে বসে থাকা লোকেরা পরে বলেছিল সংখ্যাটা আট। শেষে কালো এসে হাত জোড় করে দাঁড়াল – “গুরুদেব, বাবু যখন এত ভালোবেসে খেলেন, এবার মিষ্টিটার একটা নাম দিয়ে দিন।”

    রবীন্দ্রনাথ একবার মিষ্টির থালার দিকে তাকালেন, একবার চিত্তরঞ্জনের তৃপ্ত মুখের দিকে। তারপর বললেন, “যে মিষ্টি খেয়ে মানুষের চিত্ত রঞ্জিত হয়, তার নাম চিত্তরঞ্জন ছাড়া আর কি হবে? তার উপর যিনি আটখানা খেলেন, তাঁর নামও যখন তাই, এর চেয়ে মানানসই নাম আর হয় না।” কালো সেদিন থেকে মিষ্টিটাকে ‘চিত্তরঞ্জন’ বলে ডাকত।

    - মনে আছে গুরুদেব। কিন্তু সে মিষ্টি তো কালো ছাড়া কেউ বানাতে পারে না। কালো তো কাউকে শেখায়নি।
    - শেখায়নি, শেখাবেও না। ময়রারা প্রাণ দেবে, পাকের হিসেব দেবে না। ওটার আসল স্বাদ হারাবে হয়তো। কিন্তু মনে রেখো, প্রচুর লোক সেই মিষ্টিকে নকল করার চেষ্টা অলরেডি শুরু করে দিয়েছে। সবাই তো আর কালোর হাতের আসল চিত্তরঞ্জন খায় নি, তাই আসল স্বাদ না পেলেও চিত্তরঞ্জন নামের মিষ্টির প্রেমে পড়ে যাবে। আর তোমার নাম সাথে যাবে গ্যাড়ান্টিড টিকে!

    সত্যিই কালোর সাথে সাথে সে মিষ্টিও চলে গেছে বোলপুর থেকে। আজ বোলপুরে খুঁজলে অনেক মিষ্টি পাবেন, এমনকি চিত্তরঞ্জন-ও পেতে পারেন - কিন্তু কালোর ‘চিত্তরঞ্জন’ পাবেন না। তাই কোন জীবনীকারও সেটা খুঁজে পাননি।

    চিত্তরঞ্জন সেদিন জোড়াসাঁকো থেকে বেরোলেন ধুতি আর চাদর পরে। দেশবন্ধুর ছবিতে আপনারা যে ঢোলা ধুতি-পাঞ্জাবি আর চাদর দেখেন, ঠিক সেই পোশাক। লোকে বলত দেশবন্ধু বিলিতি ছেড়ে দেশি ধরেছেন গান্ধীজীর ডাকে। সেটা ভুল নয়। কিন্তু ভিতরের বিলিতিটা তিনি ছেড়েছিলেন অনেক আগে, ১৮৯৪ সালের এক বৈশাখী দুপুরে, এক রগচটা হোমিওপ্যাথের ধমকে। আর ধুতির নিচে সেই ঢোলা ইজের, সেটা মহেন্দ্রলালের প্রেসক্রিপশনের সেই আপস যা বাকি জীবনে আর কোনদিন বদলায়নি।

    তবে গল্প এখানেই শেষ নয়। ১৯২২ সাল নাগাদ দেশবন্ধু আবিষ্কার করলেন একটা নতুন সমস্যা। অসহযোগের পরে তিনি পুরোপুরি খাদিতে চলে গেছেন। দেশের জিনিস, নিজের হাতে কাটা সুতো কিন্তু সে কালের খাদি মোটা আর খসখসে। পশমের মত অত্যাচার নয় ঠিকই, তবু বেশবন্ধুর চামড়া সাতাশ বছর পরে আবার একটু আপত্তি জানাতে শুরু করল। এবার আর লজ্জা করলেন না, সোজা চলে গেলেন জোড়াসাঁকো।

    জোড়াসাঁকোয় তখন নতুন উৎসাহ। রবীন্দ্রনাথের পুত্রবধূ প্রতিমা দেবী প্যারিসে এক ফরাসি শিল্পীর কাছে বাটিকের কাজ শিখে এসেছেন। ১৯২২ সালেই তিনি আর ফরাসি শিল্পী আঁদ্রে কার্পেলেস মিলে খুলেছেন ‘বিচিত্রা’, দেশের হাতের কাজ বাঁচানোর জন্য। রবীন্দ্রনাথ দেশবন্ধুকে দেখালেন একখানা বাটিক করা কাপড় – মোম দিয়ে নকশা আঁকা, তারপর রঙে চোবানো, শেষে মোম তুলে ফেলা। যেখানে মোম ছিল সেখানে রং ধরেনি, তাই সাদা নকশা ফুটে উঠেছে, আর মোমের ফাটল দিয়ে রং ঢুকে চুলের মত সরু রেখা।

    দেশবন্ধু প্রথমে খুশি হলেন, তারপর আঁতকে উঠলেন।

    - মোম দিয়ে কাপড়! গুরুদেব, মোম তো বাতাস ঢুকতে দেয় না। গায়ে দিলে আবার সেই চামড়া বন্ধ হয়ে যাবে না তো?
    - না হে বেশবন্ধু। মোম ফুটন্ত জলে গলিয়ে তুলে ফেলা হয়। থাকে শুধু রং আর নকশা। তোমার চামড়ার কোন ভয় নেই।

    তারপর দুজনে মিলে ঠিক হল আসল পরিকল্পনা। মোটা খাদি নয়, ঢোলা, নরম, দেশি সুতির কাপড় তার উপরে বাটিক। দেশের মানুষ পরবে ঢিলেঢালা আরামের কাপড়, অথচ দেখতে বিলিতি ছিটের চেয়ে ঢের সুন্দর। দেশবন্ধু বললেন, তাঁর ধুতি-চাদর দিয়েই শুরু হোক। কিন্তু প্রতিমা দেবী একটা গোলমাল ধরিয়ে দিলেন, রং। বাজারে তখন যত ঝলমলে রং, সব জার্মানির অ্যানিলিন, জাহাজে করে আসে। দেশবন্ধু মাথায় হাত দিলেন।

    - এ তো ভারি মুশকিল হল! বিলিতি কাপড় পুড়িয়ে শেষে গায়ে বিলিতি রং মাখব? এর একটাই সমাধান আছে গুরুদেব, প্রফুল্লচন্দ্র।

    প্রফুল্লচন্দ্র রায় তখন একষট্টি বছরের। ১৯১৬ সাল থেকে রাজাবাজারের সায়েন্স কলেজে, ছাত্রদের নিয়ে গবেষণা করেন, আর নিজেও তখন খাদি আর চরকার জোর প্রচারক। সেই এক ধুতি-চাদর, শুধু চুল পেকে সাদা। দেশবন্ধুকে দেখেই চিনলেন।

    - আরে, এ যে সেই পশমের ব্যারিস্টার! এখন তো শুনছি দেশবন্ধু। তা, আবার চুলকুনি নাকি?
    - আজ্ঞে না, এবার রং। বিচিত্রার জন্য দিশি রং চাই, বাটিকের জন্য।

    প্রফুল্লচন্দ্রের চোখ জ্বলে উঠল। ‘হিস্ট্রি অফ হিন্দু কেমিস্ট্রি’ যিনি লিখেছেন, তাঁর কাছে এ তো ঘরের কথা। বসে গেলেন বোঝাতে - নীল তো আমাদেরই জিনিস, নীলকর সাহেবরা এই বাংলার চাষীর রক্ত দিয়ে সে নীল বিলেতে পাঠিয়েছে। হলুদ আছে, খয়ের আছে, মঞ্জিষ্ঠার লাল আছে, ডালিমের খোসা আছে। রং কাপড়ে বসাতে লাগে ফটকিরি – আমাদের ঠাকুমা দিদিমারা যে রসায়ন না জেনেই রোজ ব্যবহার করতেন। তিনি রসায়নের ভাষায় তার মানে বোঝালেন। দেশবন্ধু অর্ধেক বুঝলেন, বাকি অর্ধেক মেনে নিলেন।

    কয়েক সপ্তাহ পরে জোড়াসাঁকোয় একটা কাঠের বাক্স এসে পৌঁছল। ভিতরে সারি সারি কাগজের মোড়ক, প্রতিটার গায়ে প্রফুল্লচন্দ্রের নিজের হাতে লেখা – নীল, হলুদ, খয়েরি, লাল। উপরে একটা চিরকুট: “বিচিত্রার জন্য। বিক্রির জন্য নয়। আর দেশবন্ধুকে বলবেন, তাঁর প্রথম বাটিকের ধুতিটা যেন ঢোলা হয় – মহেন্দ্রলালবাবুর আত্মা নইলে শান্তি পাবে না।”

    দেশবন্ধু অবশ্য বাটিকের ধুতি পরে খুব বেশী দিন ঘোরার সুযোগ পাননি। রাজনীতি, স্বরাজ্য দল, কলকাতা কর্পোরেশন – সময় আর কোথায়! ১৯২৫ সালে তিনি চলে গেলেন। তার দু’বছর পরে, ১৯২৭ সালে, রবীন্দ্রনাথ গেলেন জাভা আর বালি। সঙ্গে শিল্পী সুরেন্দ্রনাথ কর, যিনি সেখানে হাতে-কলমে বাটিক শিখে এলেন। ফিরে আসার পর শান্তিনিকেতনে বাটিক ছড়িয়ে পড়ল। আজ শান্তিনিকেতনের বাটিকের ঢোলা পাঞ্জাবি, শাড়ি, চাদর – বাঙালির ঘরে ঘরে। পরার সময় একবার মনে রাখবেন, এর পিছনে আছে এক ব্যারিস্টারের চুলকানি, এক কবির কৌতুক আর এক রসায়নবিদের রঙের মোড়ক।

    ১৯২৫ সালের ১৬ জুন দার্জিলিঙে দেশবন্ধুর মৃত্যু হল। কলকাতায় সেই শবযাত্রায় যে ভিড় হয়েছিল, শহর আগে কখনো তা দেখেনি। রবীন্দ্রনাথ লিখলেন সেই দুটো লাইন, যা আজও আমরা মুখস্থ বলি –

    “এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ,
    মরণে তাহাই তুমি করে গেলে দান।”

    আর রবীন্দ্রনাথের কথাও অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেল। আজ কলকাতার বুক চিরে চলে গেছে চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ। বর্ধমানের প্রান্তে রেলের ইঞ্জিন তৈরীর শহরের নাম চিত্তরঞ্জন। রসা রোডের সেই দান করা বাড়ির জায়গায় চিত্তরঞ্জন সেবাসদন, ক্যান্সারের হাসপাতাল চিত্তরঞ্জন, দিল্লিতে বাঙালির পাড়া চিত্তরঞ্জন পার্ক। কোথাও ‘দাশ’ নেই। বাংলার কোন মানুষ ‘দেশবন্ধু দাশ’ বলেন না। বলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন।

    আর বেশবন্ধু? সেটা কোন জীবনীতে নেই, কোন ইতিহাস বইতে নেই, রবীন্দ্র রচনাবলীর কোন খণ্ডেও নেই। কারণ কথা দিয়ে কথা রাখার ব্যাপারে রবীন্দ্রনাথ আর চিত্তরঞ্জন – দুজনেই ছিলেন খাঁটি। পশমের মত খাঁটি নয় অবশ্য, সুতির মত খাঁটি।

    এবার বুঝলেন তো, দেশবন্ধুর ছবিতে ধুতিটা কেন সবসময় অত ঢোলা?
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • স্মৃতিচারণ | ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই মতামত দিন।