এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  গপ্পো

  • চিড়িয়াখানার লোকটা

    শর্মিষ্ঠা
    গপ্পো | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ | ৯১২ বার পঠিত | রেটিং ৫ (২ জন)

  • অলংকরণ: রমিত




    - 'আপনি একে আগে থেকে চেনেন?' জেরা করা হল আমাকে। যে আমিই কিনা দাঁড় করিয়েছি এই গোয়েন্দা শবরসুলভ পুলিশ অফিসারটিকে।
    - 'নাহ। আজ প্রথম কথা হল।'
    - 'হুঁম। চিড়িয়াখানায় এর সাথেই দেখা করতে এসেছিলেন?'
    - 'না না! আমার দুটো সজারু আছে! তাদের সাথে।'
    - 'সজারু? হুঁঃ!'

    চোখদুটো নরুণের মত সরু করে আমার দিকে তাকালেন ইন্সপেক্টর সাহেব। তারপর আর একটিও কথা জিজ্ঞেস না করে, বনেটে দুটো চাপড় সমেত বেজার মুখে হাঁক দিলেন, -'অ্যায় বরেন, ফটাফট তোল্ এ দুটোকে গাড়িতে!’

    ছোট্ট এই কথোপকথনটির অল্প পূর্বরাগ আছে।

    এক

    সদ্য চাকুরীর গরম, প্যান্ডেমিকের পরিবেশ চেতনা আর ওই চিড়িয়াখানার বিজ্ঞাপনটা। তিনে মিলে লকডাউন খোলার পরপরই আমি দুইখানা সজারু কন্যাকে দত্তক নিয়ে ফেললাম। ছ’মাসের জন্য। রাতারাতি আমার দুটি পুষ্যিভগিনী হল। চিনি আর মিছরি।

    আরো অনেক অপশন ছিল। বাঘ, সিংহ, হাতি, কুমির, শিম্পাঞ্জি, ভালুক, জিরাফ, ক্যাঙারু। কিন্তু নাহ্। বিজ্ঞাপনটা দেখার সময়েই আমি ফাইনাল করে ফেলেছিলাম। নিলে সজারুই নেব।

    সমস্যাটা বাজেট নয়। আসল কথা হল গায়ে ঝমঝমে কাঁটাওয়ালা প্রাণীগুলোর ডিফেন্স মেকানিজমে আমি বরাবরই মুগ্ধ। অতএব বেগুনী কালিতে পর্কুপাইনে টিক মেরে দিলুম। কালক্রমে অবশেষে একদিন চিড়িয়াখানা ফুঁড়ে আমার খোঁচাতুতো বোনেরা আবির্ভূতা হলেন।

    এমনিতে আমার কোনো শাখা নেই। মানে বর, ছানা, খুড়শ্বশুর ইত্যাদি। কোনো এক বসন্তে শাখা পাখা গজালে বেশ হয়, এমন বেয়াড়া কোন শখও নেই। আমি চির তালগাছ; 'একপায়ে দাঁড়িয়ে, সব গাছ ছাড়িয়ে' ইত্যাদি ইত্যাদি। নিজের মত উঁকি মারার ঝুঁকি নিয়ে দিব্য আছি।

    কাগজপত্তর সব ফাইনাল হয়ে গেছে গত শুক্রবার। সোমবার ঘুম ভেঙেই লাইন দিলাম টিকিটঘরের সামনে। ক্রমে ক্রমে খাঁচার উঠানে। কিন্তু তেনারা, আদেখলা এক কাঁটাহীন প্রাণীকে পাত্তা দেবেন কেন?

    সে এক দৃশ্য! রাতভর গাজর-ঝিঙে-রাঙালু মোচ্ছবের পর, অন্ধকার এককোনে দেয়াল-ঠেসা হয়ে সটান ঘুম চলছে। কী আর করি! একটু দমে গিয়ে আশপাশের লোকজন দেখছি। আর ভাবছি, নাকডাকার তোড়টা একটু কমুক, ততক্ষণ বরং পাড়া-পড়শিদের অল্প খোঁজ নিয়ে আসি।

    দুই

    ঠিক উল্টোদিকের খাঁচার সামনে আড়াগোড়া দাঁড়িয়ে ছিল লোকটা। চেহারাখানা একেবারেই গুন্ডা টাইপ। এক কানে মাকড়ি। কপালে সিঁদুর টিপ। নেভি ফুলশার্ট। জামার এখানে সেখানে ঘাম শুকিয়ে সাদা হয়ে ফুটে আছে পাউডারের মত। দৃষ্টি উদাস নাকি ঘোলাটে বোঝা দায়।

    কিন্তু এই লোকটাই যখন হাতের স্বপ্না স্টোর্স লেখা হলুদ প্লাস্টিক থেকে একটা জ্যান্ত কৈ মাছ বার করে ছুঁড়ে দিল সবুজ রেলিংএর ওদিকে, তাতে করে বেশ কৌতুহল হল আমার। এ বাজারে এমন কে মহাত্মা আছে, যে জিওলমাছ গুছিয়ে আনে বারোয়ারি উদবিড়ালের জন্য!

    লোকটা এসেছে একা। সবাই জানে, চিড়িয়াখানায় আসার একটা সনাতন দস্তুর আছে - পুরো পরিবারের ঘুঁটি সাজিয়ে - শতরঞ্জি, টিফিনবাক্স, কমলালেবু, টুপি, ছাতা, বোতল, সাপলুডো সবরকম বগলদাবা করে।

    অথবা আরেকরকমও যেমন চলে, প্রেমিক-প্রেমিকা দুজনায় দুজনার হাতটি ধরে। সাথে আর কিছু না থাক একটা ছাতা অন্তত লাগে। তা সেভাবে দেখতে গেলে আমিও অবশ্যি একাই এসেছি। যদিও আমার কারণ হিসেবে সুভগা দুই সজারুকে পেশ করা যেতেই পারে। কিন্তু এ লোকের ব্যাপারখানা কি?

    তখনো জানিনা এ লোকটাই 'চিড়িয়াখানা, চিনিমিছরি ও আমি' চিত্রনাট্যের একটা খিটকেল ওপেনিং সিন হয়ে ঝুলে রয়ে যাবে বরাবর।

    একটা বয়স থাকে, যখন আশপাশের সবকিছুই খোলা মনে নিতে পারি আমরা। ভাগ্যিস থাকে! সেটা হয়ত ওরকমই একটা সময় ছিল। এখন হলে প্রকাশের মত উটকো একটা লোককে অতখানি সময় দেবার আগে দুচারবার ভাবতাম।

    সৎসঙ্গে স্বর্গবাস হয় কী না জানিনা তবে চিড়িয়াখানার এই লোকটির সঙ্গ আমার হাজতবাসের প্রায় নিশ্চিত কারন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কী ভাবে সেটাই বলব এখন। সজারু মহাত্মারা ইতিমধ্যেই, এ গল্পে নেহাৎ পার্শ্বচরিত্র হয়ে গেছে। তাও আবার ঘুমন্ত।

    তিন

    আধঘন্টাটাক হয়েছে। লোকটা মন থেকে প্রায় সরেই গেছিল। মন দিয়ে নীলগাই দেখছি, এমন সময় বেশ উঁচু স্কেলে, 'রূপাআ! রূপাআআ!' করে হাঁকাহাঁকি করে চলেছে দেখি সে লোক।

    কৌতুহল আমার মুদ্রাদোষ। আশপাশে চোখ চালিয়ে কোনো ঝলমলে রূপাকে দেখতে না পেয়ে আরেকটু এগিয়ে গেলাম।

    দেখি সরু খালের ওপারে, ছাউনির নীচে দাঁড়িয়ে একটা গোলপিঠ হাতি - ঘনঘন কান লটপট করে মাথা নাড়ছে। রূপার চেহারাটি পেল্লায় নয়, ছোটোখাটো। তার সামনে বালতিতে সরু একগোছা আখের-আঁটি রাখা।

    রেলিং-এ বগল রেখে, কে শুনলোর তোয়াক্কা না করে, নিজমনেই গজগজ করছে লোকটা, - 'দুচার বিঘা তো এমনিই মুচড়ে খাবে! কিরে পারবি না? ছেড়ে দেখুক না একবার!' তারপর একটু গলা নামিয়ে, 'এক বোতল আখের রস আনব কাল? ও রুপি?'

    আখের রস না হয় আনল। কিন্তু খালের ওপারে গিয়ে খাওয়াবেই বা কেমন করে তা বুঝলাম না। তবে মক্কেলের মন বড় বলতেই হবে। ওদিকে উদবিড়ালকে মাছ যোগায়, এদিকে হাতির সমব্যথী - লোক মন্দ না; এই জ্ঞান করে কথা বাড়ালুম।

    বললুম, 'আচ্ছা অমন করে মাথা নাড়াচ্ছে কেন বারবার? কান নেড়ে মাছি তাড়াচ্ছে? নাকি ডাঁশ?'

    - 'নাহ্', বলে এদিক ওদিক একটু তাকিয়ে নিয়ে নিজের মনেই সে হাসল খানিক। ভাবটা এমন যে হাতির ব্যাপারে আমি কিচ্ছু বুঝিনা!

    লোকটার হাসি মোলায়েম কিন্তু একই সাথে সাংঘাতিকও! দাঁতের সারি দুটি ধারালো, টেরাব্যাঁকা। উঁচুনীচু সজ্জা। তাতে আবার অবাধ কালো ছোপছাপ। মাড়িসুদ্ধ দেখা গেলে নেকড়ে কিম্বা বুনোকুকুরের দাঁতখিঁচুনি জাতীয় একটা ছবি মনে আসি-আসি করে। অন্তত আমার করেছিল।

    তারপর হাসি মুখেই বলল, 'অত মাছি নেই আসলে, বুঝলেন? কেসটা আলাদা। রূপা আমাকে একদম পছন্দ করে না।'

    বুঝলাম লোকটি হয় দার্শনিক নয় তারকাটা। দ্বিতীয়টি হবারই সম্ভাবনাই বেশী। মুখে বললাম,
    -'আচ্ছা'। কিন্তু আমার গলা আমি নিজেই শুনতে পেলাম না। কারন ঠিক তখনই একটা 'গর্-র্- রুমমম্' ধরনের আওয়াজে গুমগুম করে উঠল দুপুরের বাতাস।

    চার

    ডাকের টানে টানা হয়ে এলুম বাঘের পানে। এখানে জম্পেশ ভিড়। লোকজন রীতিমত হাঁকডাক করছে। 'অ্যাই মৌসুমী, এই যে, এদিকটায় সাদাবাগ! দেখবে তো এসো- ' কিম্বা 'আরে তখন থেকে বলছি একটা লাল জেমস দাও! বেগনীটা বোধহয় দেখতে পায়নি, লালটা পেলে ঠিকই চাটবে!' অথবা কাঁদুকাঁদু মুখে 'বাঘটাকে আরেকটিবার ডাকতে বলো না দাদু!' এমন আবদারও আছে। এসবের মাঝে খেয়াল করলাম, লোকটা এসে দাঁড়িয়েছে খাঁচাটার কোনাকুনি।

    - 'ধ্যার্! সবাই এক ভুল করে। বাঘ না রে বাবা, বাঘিনী!'

    গুচ্ছের বিরক্তি লোকটার মুখে। হোক তারকাটা। কিন্তু কথাটায় যুক্তি আছে। খাঁচার ওপারে যিনি হুঙ্কার দিচ্ছেন, ঘষে যাওয়া নেমপ্লেট অনুযায়ী নির্ভুলভাবে তিনি একজন হোয়াইট টাইগ্রেস। নাম সরস্বতী।

    রাজাকে কি রানী বলা চলে? চলে না। তাহলে সুন্দরবনের অমন তেজী বাঘিনীটিকে মামাটামা বলে খামোকা অপমান করা কেন? হাতে নাতে টের পেলুম, 'নামে কী বা আসে যায়' ওসব কাব্যিকথা।

    এতক্ষণে যখন আমি প্রায় সেমি-দার্শনিকের সার্টিফিকেট দিয়েই ফেলেছি লোকটাকে বোমাটা পড়ল ঠিক তখনই। সে হঠাৎ উত্তেজিতভাবে দুপা এগিয়ে এল। তারপর নীচু গলায়, যেন কারো কোনো গোপন তথ্য ফাঁস করে দিচ্ছে এভাবে বলল, 'এই যে বাঘিনী, আর ওদিকের ওই প্যান্থার সানি তারপর এই একটা খাঁচা ছেড়ে ওদিকটায় পাবেন লোমড়ি বাবলুকে, এদের সবারই কিছু না কিছু, জানেন - ডিঈট্টো রোশনির মত'।

    - 'রোশনি?' আমি বেশ অবাক হই। আগ বাড়িয়ে এসব কী না কি কথা আবার আমাকে বলা কেন?

    - 'হ্যাঁ। আমার বউ রোশনি। ওই যে সানির হাঁটাটা দেখেছেন, কেমন ল্যাদ খাওয়া পাবলিকের মত! এক্কেরে রোশনি। বিকেলে গা ধুয়ে, বিনুন বেঁধে, বাজারে যেত যখন! অমনি হাঁটত। রয়েসয়ে। আর ওই সরস্বতী যখন ঘাড় হেলিয়ে সোওজা প্যাটপ্যাট করে তাকায় আমার দিকে, মা কালীর দিব্যি, ডর লাগে যে তলা অবধি মেপে নিচ্ছে রোশনি আমাকে। তারপর ওই খোঁড়া শেয়াল বাবলু। রামধূর্তু ওটা! মিটমিটে। রোব্বার জগাদের কলতলায় শ্যাম্পু করে এসে রোশনি ওরম একটা মুখ করে বলত, ‘যতই করো মন মিলবে না মন মিলবে না।‘' শেষটায় দুহাতের বুড়ো আঙুল নেড়ে কাঁচকলার ভঙ্গি করে দেখায় সে।

    বুঝলাম। এ একেবারে খাঁটি পাগলের পাল্লায় পড়েছি। এইবার তাহলে কেটে পড়তে হবে মানে মানে।

    যাব বলে পা বাড়াতেই সে তাড়াহুড়ো করে বলল,
    - 'চললেন নাকি? আচ্ছা আর দুটো মিনিট দাঁড়িয়ে একটা কথা জাস্ট শুনে যান! আসলে না, আজকাল আর কেউ তেমন বিশ্বাস করে না আমায়, জানেন? আপনি করবেন কি?' কাকুতি-মিনতির হড়পা বানে যথারীতি আটকে গেলাম। কিন্তু এরপর যেটা শুনতে হল, তার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না।

    ঘাড় চুলকে লোকটা বলল, 'শুনুন না, আমি এই রোশনিকে খুন করে এদের খাইয়ে দিয়েছি। সরস্বতী, সানি আর বাবলুকে। তারপর থেকেই এরা রোশনির মতো হাবভাব করে। রূপা সব জানে। ও দেখেছে।'

    শুনে ফেলেছি। আর ফেরার পথ নেই। গা শিউরে উঠল। হাত পা ঠান্ডা। দৌড়ে যে পালাব, পা চলছে না। মাথা ঝনঝন করছে। এদিকে ভায়োলেন্ট ওয়েব সিরিজের ঠেলায় জীবন অতিষ্ঠ। ওদিকে তন্ত্রমন্ত্রথ্রিলারেও অরুচি। বেছে বেছে সেই আমার সাথেই এমন ঘটনা ঘটার মানে কি?

    মনে মনে চলছে তখন, ওরে বাবা! পাগল টাগল না। দিনদুপুরেই একেবারে সাক্ষাৎ ক্রিমিনাল? কনফেস করার আর লোক পেলি না? এমন একটা কথা শোনার পর, এবার আমার কি করা উচিত? তিন সেকেন্ডের মধ্যে আমি পায়ের সুখতলা থেকে চশমার কাচ অবধি ঘেমে উঠলাম৷

    তবুও মুখ গম্ভীর করে বললাম, 'বাইরে চলুন তবে, গেটে অনেক পুলিশ পাবেন'৷

    পাঁচ

    সানি নামের প্যান্থারটির খাঁচা পেরলাম। গ্রিল টপকে আসা তেরছা রোদের ডোরাকাটায় কাদা হয়ে ঘুমিয়ে আছে সে। এ প্রাণীটি মানুষের দেহের স্বাদ জানে? দিনের আলোয় বিশ্বাস হচ্ছে না এমন একটা সাইকো পরিস্থিতির মধ্যে ঢুকে পড়েছি। অথচ পরিস্থিতি ঘাড় ধরে চালাচ্ছে আমাকে।

    একটা খসখসে অস্বস্তির মধ্যে আছি। পরিষ্কার বুঝতে পারছি লোকটা ঝামেলার। কিন্তু দৌড়ে পালাতে পারছি না। ভয় পেলে মানুষ অনেকসময় ফ্রিজ হয়ে যায় শুনেছি। সেটাই বোধহয় ঘটছে এখন আমার সাথে। পা দুটো পুরোপুরি বশে নেই। এখন কোনোমতে গেট অবধি পৌছতে পারলে বাঁচি।

    পেরতে পেরতে আড়চোখে দেখলাম, দেয়ালঘেঁষা কাঁটাগায়েরা এখনও মোষের মত ঘুমিয়ে। চুলোয় যাক সব। আপাতত এ দুঃস্বপ্নটা বিদায় হলে বাঁচি। তখনও প্রায় দুহাত জায়গা ছেড়ে, মোটামুটি আমার পাশে পাশেই হাঁটছে লোকটা। নিরস্ত্র মানুষ আমি। মনে মনে বালখিল্য বিচার করছি, খাঁচা খোলা পেলে একখানা ধারালো দেখে সজারু ছেড়ে দেওয়া যেত লোকটার গায়ে।

    হঠাৎ একটা অশ্বত্থ গাছের গোড়ায় আঙুল দেখিয়ে সে বলল, 'ওই দেখুন!' দেখি, একটা নেউল। বাদামী রঙের। বাঘিনীর খাঁচার দিকে চেয়ে, মুখ চুন করে বসে আছে। কানে আসতে থাকল, 'ওকে সবাই চেনে। রোজ আসে। বাঘের মাংসের থেকে কেউ কেউ ছু্ঁড়ে দেয় ওর দিকে দুয়েক কুচি।' মনে মনে ভাবি নেউলটাও কি ছিল নাকি ক্রাইম সিনে?

    লোকটা বলেই চলেছে, ‘তখন আমি রঙের কাজ করি। এই যে গ্রীলে, দেয়ালে, চারদিকে সবুজের পোঁচ দেখছেন, এর অনেকগুলো খাঁচা আমি আর বিকাশ একসাথে করেছি। বিকাশ আর কী করবে? রোশনি, আমার বৌ, বুঝলেন? কমলা রং খুব পছন্দ। তা কমলাটা আমি আবার ঠিক - মানে পছন্দ টছন্দের ব্যপার না! নানী মরবার দিন রাতে কমলা খেতে চেয়েছিল। দিতে পারিনি। সেই থেকে আর খাইও না, পরিও না। তারপর দেখুন 'ঈঈ' - এই কুমিরের মতো দাঁত! আমার সাথে কী ওর থাকা মানায়?'

    'আপনাকে এত কিছু বলছি, কিছু মনে করছেন না ত‌ো! আসলে অনেকদিন হয়েও গেল! কাউকে একটা বলা খুব দরকার ছিল। মনটা আর কাঁহাতক পাথরচাপা দিয়ে রাখা যায়?'

    আমি আর একটিও কথা বাড়াই না। দরকার নেই বাবা!

    এমুর খাঁচা পেরচ্ছি, হঠাৎ লোকটা থম মেরে দাঁড়িয়ে পড়ল। তারপর নিজের মনেই বলতে লাগল, 'আমি জানেন, নানীর কাছে মানুষ। আগে এত খারাপ ছিলাম না৷ তখন কী যে ঢুকেছিল মাথায়! এই যে ন্যাড়া পাখিটা দেখছেন এখানে' – তারজালের বরফির ওদিকে আঙুল ঢুকিয়ে দেখাল সে- 'একে আমি রোজ দেখি। মুখটা দেখুন, মরার আগে-আগেটায় নানীকে অমনি দেখতে হয়ে গেছল। আহারে! রোশনিটা বেচারা বুড়ো হয়ে মরতে পেল না।'

    আমি শুনতে শুনতেই চুপচাপ এগোবার চেষ্টা করি। পালাতে হবে। সল্লুভাই যাদের গুলি করে জেলে গেছল কী যায়নি, সেই কৃষ্ণসার হরিনদের পেরিয়ে যাই। কুমিরদের খাল পার হই। লম্বা খজবজে লেজ বিছিয়ে শুয়ে আছে তারা পাথর হয়ে। কেউ হাঁ, কেউ মুখ বন্ধ। লোকজন বলাবলি করছে, 'এগুলো আসলে সিমেন্টের কুমীর। ছবি তোলার জন্য বানিয়ে রেখেছে।'
    মাত্র দেড় মিনিটের মাথায় লম্বা পায়ে হেঁটে আবার আমার টিকি ধরে ফেলে লোকটা।

    ইনিয়ে বিনিয়ে দাঁত বার করে বলে, 'মাঝে মাঝে ভাবি, কে জানে হয়ত আর জন্মে সত্যিই ঘড়িয়াল ছিলাম!' আমি গেটের ভিড়ভাট্টার দিকে বড় বড় পা ফেলি। মনে মনে বলি, ‘আর জন্মের কথা জানি না, তবে এ জন্মে যে তুমি বিশ্বঘোড়েল, সন্দেহ নেই’।

    সে ঘাড় নীচু করে স্বগোতোক্তি-বিলাপ চালিয়ে যায়।
    - 'আচ্ছা, কমলা রং যে আমার কপালে নেই, সে আমি কি করব, বলুন?'

    মনে মনে জপি ‘হরি হে মাধব’। গেটের বাইরে একটা পুলিশের জিপ নজরে আসে।

    ছয়

    - 'আপনি একে আগে থেকে চেনেন?' জেরা করা হল আমাকে। যে আমিই কিনা দাঁড় করিয়েছি এই গোয়েন্দা শবরসুলভ পুলিশ অফিসারটিকে।
    - 'নাহ। আজ প্রথম কথা হল।'
    - 'হুঁম। চিড়িয়াখানায় কারও সাথে দেখা করতে এসেছিলেন?'
    - 'হ্যাঁ আমার দুটো সজারু আছে! তাদের সাথে।'
    - 'সজারু? হুঁঃ!'

    চোখদুটো নরুণের মত সরু করে আমার দিকে তাকালেন ইন্সপেক্টর সাহেব।

    তারপর আর একটিও কথা জিজ্ঞেস না করে, বনেটে দুটো চাপড় সমেত বেজার মুখে হাঁক দিলেন, -'অ্যায় বরেন, ফটাফট তোল্ এ দুটোকে গাড়িতে! আজকে যা নাটক হবার সব লালবাজারে গিয়ে হবে।' - আমাকে ভড়কে দিতেই বোধহয় শেষটায় আরো এক স্কেল গুমগুমে হল গলাটা।

    এমন সময় এক মহিলা, ঝাঁ করে রাস্তা পার হয়ে দৌড়ে এল এদিকের ফুটপাতে। এসে লোকটার পাশে চুপ করে দাঁড়াল। মিনমিন করে বলল, 'স্যার এবারটা ছেড়ে দিন। আর হবে না।'

    'দেখ্, বারবার তিনবার হল। আজকে সোজা হাজতে পুরব ভেবেছিলাম। পাগল ছাগল নিয়ে কারবার যত। যাহ্ ঘর নিয়ে যা।'

    একজন চা-দোকানী চাপা গলায় বলল, 'আমরা আর কত নজর করব বল দেখি! এবার সত্যি পুলিশে তুলে নিয়ে যাবে। তুমি ওকে আর এখানে আসতে দিও না, রোশনিদি।'

    আমি হাঁ। রোশনি বলে মেয়েটি, ওদিকের এক সিড়িঙ্গে লোককে বলল, 'বিকাশদা, তুমি ক্লাবের লোকজনকে একবার ডাক দাও। আজও এরে নিয়ে যাওয়া মুশকিল হবে।'

    পুলিশ কর্তার গাড়ি স্টার্ট নিল। তিনি জানালা থেকে সানগ্লাস পরা মুড়ো বার করে গলা তুলে বললেন, 'আর এই যে, সজারু ম্যাডাম, আপনি তাহলে আপনার খাঁচায় ফিরে যান আজকের মত।' আমি বিগলিত হেসে ঘাড় হেলালুম, 'আচ্ছা'।

    একটা গুমটি থেকে চিড়েভাজার প্যাকেট কিনে খাবার অছিলায় দেখছি, রোশনি কোত্থেকে একটা প্লাস্টিকের বোতলে জল ভরে এনে লোকটার মুখে ঢেলে দিচ্ছে। উবু হয়ে বসে আছে লোকটা রাস্তার ডিভাইডারে।

    চোখগুলো তার এখন আর ঘোলাটে লাগছে না। একটা আলগা, ভেজা দৃষ্টি। সবদিকেই তাকাচ্ছে অথচ কোথাও তাকাচ্ছে না রকমের হাটখোলা। ইরফান খানের মত একটা আছি-নেই ব্যাপার সে তাকানোয়।

    এমন সময় একটা সাঁইতিরিশ-এ এল। একগাদা লোক পেটে নিয়ে। আমার রুটেরই বাস। এত ভিড় দেখে আর উঠলাম না। লোকজন হৈ হল্লা করে উঠল, নামল, কোনোমতে। শেষ মুহূর্তে দৌড়ে গিয়ে ছুটন্ত বাসের হাতল ধরে ফেলল আরো কয়েকজন। ঝিমিয়ে পড়া দুপুরটায় একটা বেশ হইচই বাঁধিয়ে দিয়ে গেল বাসটা। কিন্তু লোকটার এসবে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।

    ভ্রুক্ষেপ হল অবশ্য। ঠিক মিনিট পাঁচ-সাত পর। যখন কমলা রঙের ট্রাকটা ঘটাং-ঘটাং করে ধীরেসুস্থে অনেকটা ধুলো উড়িয়ে দিয়ে গেল। দুপুরের ঝমঝমে রোদে কালো পিচের উপর রং তার খুলেছিল সাংঘাতিক। ট্রাকটার চলে যাওয়া দেখতে দেখতে হঠাৎ ব্যস্ত হয়ে ধড়মড়িয়ে উঠে দাঁড়িয়েছিল লোকটা। যেন এখুনি কোথাও তাকে যেতে হবে।

    কত কিছুই তো ভুলে যাই রোজ। তবু কিছু মামুলি কথা কী করে যেন রয়ে যায় মনে। এতদিন পরও স্পষ্ট মনে আছে, ট্রাকটার পিছনে ব্লো হর্ন আর ফুলপাতা নক্সার নীচে লেখা ছিল অদ্ভুত একটা কথা – ‘যেতে পারিনা কিন্তু তবু যাব।‘


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • গপ্পো | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ | ৯১২ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    ঘ - শর্মিষ্ঠা
    আরও পড়ুন
    ৫  - albert banerjee
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • . | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:৩৯737761
  • এক নাগাড়ে পড়ে ফেললাম। অনেক দিন পরে একটা ভালো গল্প।
  • শর্মিষ্ঠা | 103.14.***.*** | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:২২737764
  • @ . পড়ে ভালো লেগেছে জেনে আনন্দিত হলাম। 
  • সুদীপ্ত | 2405:201:8012:50f9:b2ec:9218:aeb9:***:*** | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৪৮737767
  • সত্যি চমৎকার গল্পটা। ঝরঝরে লেখা। 
  • Urmi Ray | 2401:4900:8835:40a6:8c0e:4314:811a:***:*** | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:০০737768
  • বেশ ভালো লাগলো গল্পটা .
  • | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৪২737769
  • চমৎকার ঝরঝরে গল্প
  • শর্মিষ্ঠা | 103.14.***.*** | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:১১737770
  • @সুদীপ্ত @Urmi Ray @দ অনেক ধন্যবাদ জানবেন।
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:2cef:b044:eca7:***:*** | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:৪৯737771
  • দারুন গল্প, আর শেষটাও খুব ভালো লাগলো। 
  • Aditi Dasgupta | 45.123.***.*** | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:৫১737773
  • মজা পেতে গিয়ে মন খারাপ হলো! বড্ড স্মার্ট,বড্ড ধারালো আবার বড্ড নরম!আর কী বলি?
  • Ranjan Roy | ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ০২:৩৯737775
  • কুমীর শুয়ে আছে "লম্বা খজবজে লেজ বিছিয়ে"।
    সল্লুভাই কৃষ্ণসার হরিণ মেরে জেলে গেছে কি যায়নি।
    ঝিমিয়ে পড়া দুপুরটায় একটা বেশ হইচই বাঁধিয়ে দিয়ে গেল বাসটা
    কাকুতি মিনতির হড়পা বানে আটকে গেলাম।
     ইরফান খানের মত একটা আছি-নেই ব্যাপার সে তাকানোয়।
     
    ---মাত্র কয়েকটা উদাহরণ দিলাম। ছবি, ছবি, পুউরো ছবি। ইম্প্রেসনিস্ট নয়, এক্সপ্রেসনিস্ট। 
     
     
    আপনার ভাষা ও শব্দপ্রতিমার ফ্যান হয়ে গেলাম।
    আপনার লেখা দেখা মাত্র গোগ্রাসে গিলব। 
  • শর্মিষ্ঠা | 103.14.***.*** | ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৩737779
  • @ dc
    অনেক ধন্যবাদ জানবেন। 
  • শর্মিষ্ঠা | 103.14.***.*** | ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৭737780
  • @ Aditi Dashgupta @ Ranjan Roy
     
    আপনাদের প্রশ্রয় আর উৎসাহই আমার লেখালেখির  সাবমাইনাস পথে জরুরি অস্কিজেনের কাজ করবে। অনেক ধন্যবাদ জানবেন। 

    পড়াপড়ি চলুক। শুভেচ্ছা 
  • ফরিদা | ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:১৭737794
  • বাহ্‌...
  • শর্মিষ্ঠা | 103.14.***.*** | ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:৪৩737811
  • @ফরিদা ধন্যবাদ।
  • গোবু | 202.8.***.*** | ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:১৭737816
  • ভালো লাগলো, দুর্দান্ত সব চিত্রকল্প!! 
  • aranya | 2601:84:4600:5410:350e:2e5b:bbc7:***:*** | ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ০২:০৩737823
  • বেশ 
  • শর্মিষ্ঠা | 103.14.***.*** | ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:১৪737836
  • @গোবু  @ aranya  ধন্যবাদ জানবেন। 
  • অমিতাভ চক্রবর্ত্তী | ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:৫৯737838
  • গল্প ভাল লেগছে খূব। সবচেয়ে ভাল লেগেছে পুলিশ অফিসারের চরিত্রটির নির্মাণ - ছোট্ট কিন্তু গল্পটিকে বাস্তবের দুনিয়ায় ধরে রেখেছে। আর এই চরিত্রের গুটিয়ে নেওয়াটির জবাব নেই -
    "পুলিশ কর্তার গাড়ি স্টার্ট নিল। তিনি জানালা থেকে সানগ্লাস পরা মুড়ো বার করে গলা তুলে বললেন, 'আর এই যে, সজারু ম্যাডাম, আপনি তাহলে আপনার খাঁচায় ফিরে যান আজকের মত।' আমি বিগলিত হেসে ঘাড় হেলালুম, 'আচ্ছা'।"
     
    এমন গল্প আসুক আরও।
  • শর্মিষ্ঠা | 14.139.***.*** | ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৪৫737843
  • @ অমিতাভ চক্রবর্ত্তী  এই যে ভালোলাগাটুকু জানিয়ে উৎসাহ দিলেন,  খুব আনন্দ পেলাম। ভালো থাকবেন। শুভেচ্ছা রইল।
  • kk | 2607:fb91:4c8c:e047:3542:cb87:93b0:***:*** | ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৪১737844
  • আমার খুব ভালো লেগেছে গল্পটা। খুবই। অলংকরণও সুন্দর।
  • শর্মিষ্ঠা | 103.14.***.*** | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:৪৫737854
  • @kk অনেক ধন্যবাদ জানবেন। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে মতামত দিন