এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  পড়াবই  কাঁটাতার

  • ৫০ বছরে বাংলাদেশ যা পারে, ভারত পাকিস্তান এবং পশ্চিমবঙ্গ ৭৫ বছরে তা কেন পারে না?

    ইমানুল হক
    পড়াবই | কাঁটাতার | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ২০৯২৫ বার পঠিত | রেটিং ৪.৩ (৯ জন)
  • ১৯৪৭ উত্তর ভারতবর্ষ জন্ম দিয়েছিল নতুন কিছু শব্দবন্ধের। এই প্রবীণরা কখনও স্বাধীনতা বলেননি, বলেছেন পার্টিশন, তৃতীয় বিশ্বের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে যে শব্দ ভারতের অবদান। পার্টিশনের হাত ধরে এসেছে উদ্বাস্তু। রিফিউজি কলোনি। তারও পরে এসেছে অনুপ্রবেশ। বসেছে কাঁটাতার। এসেছে এনআরসি, নতুন নাগরিকত্ব আইন। শুরু হয়েছে "বৈধ-অবৈধ" বিচার। শোনা যাচ্ছে, নতুন শব্দবন্ধ, "অবৈধ অনুপ্রবেশ"। যাঁরা বিচার করছেন, তাঁদের বিচার কে করে। এসব শব্দের, আখ্যানের জন্ম হচ্ছে প্রতিনিয়ত। দেশভাগের এই আদি পাপ, মুছে দেবার আপ্রাণ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, এভাবেই থেকে গেছে বেদনায়, ভাষায়, আখ্যানে। থেকে গেছে, এবং এখনও যাচ্ছে। সেই আখ্যানসমূহের সামান্য কিছু অংশ, থাকল পড়াবই এর 'কাঁটাতার্' বিভাগের দ্বিতীয় সংখ্যায়।


    লেখা।

    দু অক্ষরের শব্দ।
    কিন্তু ব্যাপ্তি বিশাল।
    লেখার কোনো মূল্য নেই যদি না তাতে দর্শন থাকে। দর্শন মানে ভিন্ন চোখে দেখা ও একটি জীবন দর্শন। যে জীবন দর্শন না দেখাকে দেখতে বলে, অথবা দেখাকে ভিন্ন চোখে দেখতে শেখায়।

    অমল সরকার পেশায় সাংবাদিক, নেশায় জীবনপড়ুয়া।
    তিন দশকের বেশি সাংবাদিক জীবন। রাজনীতি অর্থনীতি সমাজের গভীরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। ভারতের দুই তৃতীয়াংশ রাজ্য নির্বাচন ইত্যাদি কাজে গেছেন। গেছেন একাধিকবার বাংলাদেশ। পাকিস্তানে যান নি। কিন্তু পাকিস্তান নিয়ে পড়াশোনা করেছেন মনস্ক ভাবে।

    অমল সরকার একটা বই লিখেছেন, আমার দেশ আমার দ্যাশ
    দেশভাগ ও পরবর্তী কুফল সুফল-- দুই আছে তাঁর আলোচনায়। ভারত পাকিস্তান বাংলাদেশ এবং অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গ আছে তার আলোচনায়।

    স্বাধীনতার পরও পশ্চিমবঙ্গ শিল্প, শিক্ষা  ও কর্মসংস্থানে অন্য অনেক রাজ্যের চেয়ে এগিয়েছিল। পিছিয়ে পড়ল। কেন? মূলত, কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি। যে সরকারই দিল্লিতে এসেছে, কংগ্রেস, জনতা বা বিজেপি-- কেউই পশ্চিমবঙ্গের ভালো চায় নি। মাশুল সমীকরণ নীতি, লাইসেন্স দিতে গড়িমসি, প্রাপ্য টাকা না দেওয়া, ভারি শিল্প দুর্গাপুর ছাড়া আর কোথাও সেভাবে না গড়া, পশ্চিমবঙ্গের কয়লা দূরে গেলে সস্তা হবে, আর তুলো দূর থেকে পশ্চিমবঙ্গে আনলে দামি হবে-- এইসব কারণে পশ্চিমবঙ্গ মার খেয়েছে। এটা শুধু শ্রমিক অসন্তোষ বা বাম আন্দোলনের দায় নয়। শুধু ৩৪ বছরকে দোষ দেওয়া ঠিকনয়,মনে করেন লেখক।

    আর রাজ্যের যে-সব নেতারা কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী হয়েছেন তাঁদের মধ্যে গণি খান চৌধুরী, অজিত পাঁজা ও  মমতা  বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া রাজ্যের জন্য কেউ তেমন কাজ করেন নি। এবং আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়  ছাড়া বাকি দলের বড় নেতারা সর্বভারতীয় হতে চেয়ে গায়ে যাতে বাঙালি ও প্রাদেশিক ছাপ না লাগে তার দিকে নজর  রাখতে গিয়ে বাংলার ক্ষতি করেছেন। ১৯৭৭-১৯৮৬ বামফ্রন্ট বিশেষত, অশোক মিত্র বাংলার তপথা রাজ্যের অধিকারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। তিনি সরকার ছাড়লেন।পরে কম্ল। ১৮৮৪-এ ন্তুন শিল্পনীতি। নতুন ভাবনা।

    অশোক মিত্র পশ্চিমবঙ্গকে বঞ্চনার জন্য যাঁর বিরুদ্ধে সবচেয়ে সরব  ছিলেন, সেই প্রণব মুখার্জি রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। কিন্তু তিনিই তো আটকে দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের টাকা, প্রক্রিয়া। গুজরাট ও রিলায়েন্সের স্বার্থে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের লাইসেন্স প্রাপ্তি ২০ বছর আটকে রেখেছিল কে এবং কারা? কটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন রাজ্যের প্রভাবশালী কংগ্রেস বা বিজেপি নেতারা-- নিজের এলাকায়। পশ্চিমবঙ্গের একটা নেতিবাচক প্রবণতা হল, প্রাকৃতিক বিপর্যয় অন্য রাজ্যে সব দল কেন্দ্রীয় সহযোগিতা চেয়ে দিল্লিতে দরবার করে। এ-রাজ্যে সরকারি দলকে বিপদে ফেলতে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে থাকা দল সবসময়ই বিরোধিতা করে। বলে, টাকা দিও না।

    রণজিৎ রায়ের পর সাংবাদিক  অমল সরকার বই লিখে চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছেন, কীভাবে বাংলা বঞ্চিত। অশোক মিত্র, তপন মিত্র, অশোক দাশগুপ্তরাও বাংলার বঞ্চনা নিয়ে লিখেছেন। অমল সরকার একটা আস্ত বই লিখে ফেলেছেন বাংলার বঞ্চনা নিয়ে।

    তিনি দেখিয়েছেন, ১৯৭৭ এর অবস্থা থেকে বামফ্রন্ট সরকার অনেকটা এগিয়েছিল রাজ্যকে। কিন্তু অসীম দাশগুপ্তের ঘাটতি শূন্য বাজেট নীতি, দিল্লিতে বছর বছর টাকা ফেরৎ যাওয়া, এই খাতের টাকা ওই খাতে খরচ করা, বেতন পেনশন ও ঋণশোধে  সিংহভাগ ব্যয়, কেন্দ্র থেকে প্রাপ্য ঠিক মতো ও সময়ে না পাওয়া, ভোটের ভয়ে কর না বসানো, বিক্রয়কর আদায়ে ঢিলেঢালা ভাব, কেন্দ্রীয় বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ কম আসা, সর্বোপরি স্থিতবস্থার রাজনীতি -- রাজ্যের উন্নয়নের বাধা।  ২০১৩ তে একটা আন্তর্জাতিক সমীক্ষা হয়, তাতে ৮১টি বিষয়ে তুলনামূলক বিচার করে ভারতের ৩৪ টি রাজ্যের একটা পর্যায়ক্রম করা হয়। তাতে পশ্চিমবঙ্গের স্থান দাঁড়ায় ২১।

    ২০১১ তেও তাই ছিল। তবে ২০২০তে অনেক  এগিয়েছে রাজ্য। লেখক জানাচ্ছেন, 'ইন্ডিয়া টুডে'-র সমীক্ষা অনুযায়ী বেস্ট পারফরমিং স্টেটের বিচারে পশ্চিমবঙ্গের স্থান এখন ১০। এবং বেস্ট ইমপ্রুভড স্টেটের বিচারে চতুর্থ। 

    বইটিতে অজস্র তথ্য, পরিসংখ্যান আছে। আগ্রহী পাঠক দেখতে পারেন। ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক রাজনৈতিক অর্থনৈতিক মানদণ্ডের বিচিত্র পরিসংখ্যান মিলবে  বইয়ে।

    লেখক লিখেছেন: বর্তমানকে জানতে, বুঝতে সুদূর এবং নিকট দুই অতীতকেই জানা জরুরি। সেই জানতে ও জানাতে লিখেছেন আটটি লেখা। এক জাতি, দুই দেশ, ধর্মনিরপেক্ষতা-স্বাধিকার-সাম্য এবং বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধু ও রক্তাক্ত বাংলা, অনুপ্রবেশ-তোষণ-এনআরসি-সিএএ এবং বিভাজনের রাজনীতি, বাংলা-বাংলাদেশ-পশ্চিমবঙ্গ, সোনার বাংলা ও এক বাবা ও মেয়ের কাহিনি, সোনার বাংলা সোনার পাথরবাটি, বাংলাদেশ: আমরা যা শিখতে পারি ।

    অমল সরকারের পূর্বপুরুষ পূর্ব বঙ্গের মানুষ। দেশভাগের আগেই চলে আসা। এই ধরনের পরিবারের সদস্যদের লেখায় অনেক সময় নস্টালজিয়া বা হা-হুতাশ বড় হয়ে দেখা দেয়। ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে।

    কিন্তু অমল সরকার এই ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমের ব্যতিক্রমী।

    দেশভাগের পর পশ্চিমবঙ্গ ৭৫ বছর পার করল। আর বাংলাদেশ দুটো দেশভাগ দেখেছে। দ্বিতীয় দফায় তারা সম্পূর্ণ স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। নতুন রাষ্ট্র। সমস্যা লাখ লাখ। কারখানা নেই তেমন। ভারি শিল্প নেই। বিপুল খনিজসম্পদ নেই। সোনার ভাণ্ডার নেই। বিদেশি মুদ্রা আসে দান হিসেবে। সেই দেশ  বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন, আত্মত্যাগ ও তাঁর কন্যার শাসনকালে এবং সবচেয়ে বড় সম্পদ মানবসম্পদ নিয়ে কীভাবে এশিয়ার সবচেয়ে বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি হারের দেশ হয়ে উঠল -- এটা দেখিয়েছেন অমল সরকার।

    দু পাড়েই বাংলা ও বাঙালি।
    বাংলাদেশ পারল পশ্চিমবঙ্গ  কেন পারল না?
    জানতে বুঝতে পড়তে হবে 'আমার দেশ আমার দ্যাশ'।

    ভারতের উন্নতি কেন থেমে গেল? পাকিস্তানে কেন মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্ম হল না, আর মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশ না ঘটলে বাজার ও শিল্পের বিকাশ ঘটে না।
    অর্থনৈতিক উন্নয়ন অসম্ভব। দেখিয়েছেন অমল সরকার।
    বাংলাদেশ যে যে সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল পাকিস্তানে। বঞ্চনা, অবকাঠামো, অনুন্নয়ন, বিমাতৃসুলভ মনোভাব-- সবকটির শিকার ভারতে পশ্চিমবঙ্গ।
    তাহলে পূর্ব পাকিস্তান  কেন পূর্ব বঙ্গ থেকে বাংলাদেশ হতে পারল?
    কারণ তাঁরা মেনে নেয় নি, এবং মনে নেয় নি।

    পশ্চিমবঙ্গের নেতাদের বড় অংশ দিল্লির কাছে সর্বভারতীয় হয়ে ওঠার দায় দেখাতে হয়েছে। ফলে বিধানচন্দ্র রায় থেকে জ্যোতি বসু বঞ্চনার কথা বলেও চুপ করে আপোস করতে হয়েছে।

    মুজিবুর রহমান 'বঙ্গবন্ধু' হয়ে ওঠার আগেই ছয় দফা দাবি তোলেন। তোলেন পূর্ববঙ্গের নিজস্ব মুদ্রা, মুদ্রাভাণ্ডার ও  নিজস্ব রিজার্ভ ব্যাংকের কথা। কেন্দ্রীয় সরকারের কেন অর্থমন্ত্রী থাকবে? এগুলো তো থাকবে প্রাদেশিক সরকারের হাতে। সোভিয়েত ইউনিয়নে তো তাই হয়েছে। তাই উন্নতি করতে পেরেছে। চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন মুজিবুর রহমান। অমল সরকার মুজিবুর রহমানের সংসদ ভাষণ, ছয় দফার দাবি অনুপুঙ্খভাবে তুলে এনে দেখিয়েছেন পূর্ব বঙ্গ কীভাবে বঞ্চিত।

    'আমার দেশ আমার দ্যাশ' বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা ২৭২।
    লেখা মাত্র  আটটি। কিন্তু প্রতিটি লেখায় অজস্র উপপ্রসঙ্গ, স্মৃতিচারণ, অভিজ্ঞতা, পাঠ, মত বিনিময়, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, সমাজদর্শন, ভিন্নতর বীক্ষা ও দিশার বিপুল হদিস মিলবে। এই বইয়ের সব লেখার সঙ্গে আপনি একমত নাও হতে পারেন, বিশেষ করে, আপনার নিজের মত তৈরি থাকলে তো বটেই, কিন্তু বইটি পাঠ শেষ করে আপনাকে ভাবতে হবে-- আগের ভাবনায় কতটা দাঁড়িয়ে থাকতে পারবেন। বা পারা উচিত নাকি আরেকবার পড়তে শুরু করবেন তর্ক করবেন বা তুলবেন বলে। এ বই তর্ক তোলার, তর্ক থামানোর নয়।

    বইটির উৎসর্গ পত্রে নাম আছে রণজিৎ রায়, দেবাশিস ভট্টাচার্য, পরিমল সরকারের।

    রণজিৎ রায় অতীতের নামী সাংবাদিক। পশ্চিমবাংলা কীভাবে বঞ্চিত হচ্ছে দিল্লির মসনদীদের হাতে, ধ্বংসের পথে বাংলা, বলে জানিয়েছিলেন তিনি। মাশুল সমীকরণ নীতি, লাইসেন্স রাজ, পশ্চিমবঙ্গ থেকে বেশি টাকা নিয়ে গিয়ে কম টাকা ফেরৎ দেওয়া, বিমাতাসুলভ আচরণ-- অনুপুঙ্খভাবে দেখিয়ে দিয়েছিলেন রণজিৎ রায়। বাঙালি তাঁকে মনে রাখে নি। একদিন দিল্লির বাড়ি থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন। আর কোনো খবর পাওয়া পায় নি। তিনি স্মৃতিভ্রষ্ট না বাঙালি-- প্রশ্ন ওঠে। রণজিৎ রায়ের উত্তরসূরী হিসেবে কাজ করেছেন অনেকটাই অমল সরকার। যদিও আরো অনেক তথ্য দরকার। আরো বিস্তারিত আলোচনা। এই বিষয়ে আরেকটি পৃথক বই লেখার দাবি রইল।

    সাংবাদিকতার বিশ্বকোষ দেবাশিস ভট্টাচার্য। অমল সরকার এবং দুজনেই তাঁর সহকর্মী ছিলাম। তখন এবং পরে বহু বিষয়ে তিনি দিক নির্দেশনা দেন। এই বইয়ে দেবাশিস ভট্টাচার্যের সহকর্মের ও সহমর্মের পরিচয় কিছুটা মিলবে।।

    বইয়ের প্রথম লেখা শুরু স্মৃতিচারণ দিয়ে। উদ্বাস্তু কলোনির অভিজ্ঞতা। কিন্তু এখানে চোরা মুসলিম বিদ্বেষ নেই। দেশভাগ নিয়ে বহু লেখাতেই যা অনিবার্য বিষয়।
    ভালভভরা রেডিও ছিল কলোনির প্রধান আকর্ষণ। পাকা বাড়ি বলতে স্কুল। সালমান রুশদির  'স্যাটানিক ভার্সেস' এবং 'হ্যারি পটার'-এর প্রকাশক রিচার্ড চারকিন ঢাকা ক্লাবে এক সকালের প্রাতরাশে বলেছিলেন, উদ্বাস্তু কোনো দেশের বিপদ নয়, দেশের সম্পদ।
    তাঁরা নতুন বসতির উন্নয়ন ও দেশের অগ্রগতিতে যথেষ্ট সহায়তা করেন।
    ইউরোপ থেকে শুরু করে সব দেশের ক্ষেত্রেই এটা সত্য।
    আমাদের বাংলায় শিক্ষা সংস্কৃতির বিকাশে উদ্বাস্তু পরিবারের সদস্যদের ভূমিকা অপরিসীম।
    যেকোনো কলোনি এলাকা দেখবেন, বিদ্যালয় পাবেন একাধিক। নাটক খেলার সংস্থাও চলে জোর কদমে।
    এবং এঁরা এটা করে থাকেন মানসিক শক্তির জোরে।

    নিজের মায়ের উদাহরণ দিয়েছেন লেখক। আজকের দিনে 'সমাদৃত' কেন্দ্রীয় বাহিনী পুলিশের সহযোগিতায় নকশাল আন্দোলনের সময় ঘর থেকে যুবকদের রাতে তুলে নিয়ে যেত। এঁরা অনেকেই ফিরতেন না।
    মেজদার খাতায় লেখা ছিল কেমিস্ট্রির ফর্মুলা, তাকে বোমা বানানোর ফর্মুলা ধরে তরুণ সুবিমল সরকারকে ধরে নিয়ে যাবে উল্লসিত বাহিনী। শিকার পাওয়া গেছে।
    মায়ের অসাধারণ সাহস আর জেদের কাছে হার মানতে হয়।

    এই উদ্বাস্তু কলোনির কাছে মুক্তিযুদ্ধ এক নতুন বার্তা নিয়ে আসে। ঘরে ঘরে উচ্চারিত হয় মুজিবুর রহমানের নাম।
    তারপর বাংলাদেশ ও ভারতে পরিবর্তন এল। মুজিবুর রহমান নিহত হলেন।
    ইন্দিরা গান্ধী পরাজিত হলেন ভারতে।
    কলেজ বা বিভিন্ন বাড়ির দেওয়ালগুলো উঠল রাজনীতি ও অর্থনীতির বুলেটিন। দেওয়াল লিখন তখন নিছক ভোট দিন আর সম্মেলন সমাবেশের বিজ্ঞপ্তিতে পরিণত হয় নি‌।

    কেন্দ্র রাজ্যের পুনর্বিন্যাসের দাবিতে রাজ্যে গড়ে উঠল আন্দোলন। জ্যোতি বসু  প্রমোদ দাশগুপ্ত অশোক মিত্র তাকে অন্য ভাষা দিলেন। জ্যোতি বসু বললেন, খানিকটা যেন মুজিবের স্বরেই, কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে টাকা ছাপানোর মেশিন আছে। ওদের যখন ইচ্ছে টাকা ছাপিয়ে নেয়। রাজ্য সরকারকে ভাগ দেয় না। আর রাজ্য সরকারের হাতে টাকা ছাপানোর মেশিনও নেই।'
    স্বর আরেকটু উঁচু পর্দায় যেতে পারত। গেলে দেশের মঙ্গল হতো। গেল না। কারণ সর্বভারতীয় হতে চাওয়ার দায়।

    অমল সরকার লিখেছেন: কংগ্রেস, বিজেপি যখন যে দল ক্ষমতায় থেকেছে, রাজ্যগুলিকে শোষণ করেছে। রাজ্যগুলিকে একদিকে রাজস্বের ভাগ কমিয়ে দিয়ে বাজার থেকে ঋণ নেওয়ার সীমা স্থির করে দেওয়ার পাশাপাশি নানা শর্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার যে হাজার হাজার কোটি টাকা ( এখন লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা; গত সাত বছরে কেন্দ্রীয় সরকারের ঋণ বেড়েছে ৪৯ লাখ কোটি থেকে বেড়ে এক কোটি দুই লাখ  কোটি টাকা)  ঋণ নিচ্ছে তা নিয়ে জবাবদিহির বালাই নেই।

    রেডিওর সামনে সত্তর দশকে মুজিবুর রহমানের কথা শুনে লেখকের মনে পড়েছে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর বীরত্বের কথা। 
    সাংবাদিকতা করতে এসে আরো বেশি করে চেনেন বাংলাদেশকে, এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে এ-দেশের মানুষের অজ্ঞতা ও নির্দিষ্ট ধারণা কে।
    যে ধারণা আসলে অনুকম্পা এবং বিদ্বেষজাত । তার বাইরে যে বাংলাদেশ, আসল বাংলাদেশ-- তাকে ছুঁতে পারেন এক বাংলাদেশি সাংবাদিকের কথায়:
    'আপনি ক্যাবল ইসসা লন।' আপনি কেবল ইচ্ছা করুন। থাকা খাওয়া ফ্রি।  অতিথি হয়ে থাকবেন।

    বাংলাদেশের পাশাপাশি এসেছে এই বাংলার কথা।
    সত্তর দশকে বামফ্রন্টের নেতৃত্বে মাতৃভাষায় শিক্ষাদান আন্দোলন নয়ের দশকের শেষে উল্টোপথে হাঁটতে থাকে। প্রতিক্রিয়ায় জন্ম নেয় 'ভাষা ও চেতনা সমিতি'। অশোক মিত্রসহ বহু প্রতিষ্ঠিত বামপন্থী বুদ্ধিজীবী বামফ্রন্ট সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই সরব হলেন। বাংলা ভাষা আন্দোলন গড়ে উঠল। সারাদিন নববর্ষ উৎসব, সারা বাংলা ভাষা উৎসব পালন শুরু হল। এরপর সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে 'ভাষা শহিদ স্মারক সমিতি' ও অশোক দাশগুপ্তের নেতৃত্বে 'নবজাগরণ'। কলকাতায় হল বাংলায় নামফলক লেখা অভিযান।

    এর আগেই নয়ের দশকের শুরুতেই পশ্চিমবঙ্গ দেখেছে অযোধ্যায় বাঙালি করসেবক, ইটপূজা। আর লেখক তখনকার অতি শক্তিশালী বিশ্বহিন্দু পরিষদ নেতা অশোক সিঙ্ঘলের মুখে শুনেছেন ভিন্নকথা: আমি তো শুনেছি বাঙালিরা ভগবানে বিশ্বাসী নয়। বাংলা দেখেছে রামনারায়ণ রাম থেকে বাম, রাম সত্য হ্যায়, শুনেছে জয় শ্রীরাম।

    এর পটভূমি যে তৈরি ছিলি তার একাধিক উদাহরণ দিয়েছেন লেখক।
    মুসলিম বৃদ্ধসহ মুসলিমরা  ভোট দিচ্ছেন ১৯৯৮-এ দমদম কেন্দ্রে পদ্মের পক্ষে, আসলে সিপিএমের বিরুদ্ধে-- বাবরি মসজিদ ওখানে ভেঙেছে এখানে তো মসজিদ ভাঙেনি।

    দ্বিতীয় উদাহরণ ট্রেনের। ১৯৯৪-এর।
    নৈহাটি লোকালে দুই তরুণীকে বিরক্ত করছে কিছু অবাঙালি তরুণ। যাত্রীদের কারো কারো প্রতিক্রিয়া: এদের ঘাড় ধরে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত'। কথাকাটাকাটি। গণধোলাইয়ের জোগাড়। তখন তরুণরা বলে উঠল, 'আপলোগ কেয়া সোচতে হ্যায়, হামভি হিন্দু হ্যায়'।
    'বদলে গেল পরিবেশ। ছেড়ে দিন ছেড়ে দিন। এসব বয়সকালের অসুখ।' একটু আগেই তরুণদের মুসলিম ভেবে পাকিস্তান পাঠিয়ে দিতে চাওয়া লোকের গলায় ভিন্ন সুর।

    মনোজগৎ বদলেছে আগে। তারপর রাজনীতির দুনিয়া। উপলব্ধি লেখকের। লেখক আক্ষেপ করেছেন:
    লোকসভা উপনির্বাচনে অন্ধ্র থেকে প্রার্থী হলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেসের নেতা নরসিংহ রাও। অন্ধ্রপ্রদেশে তখন কংগ্রেস বিরোধী এন টি রামা রাও। তিনি বললেন, নরসিংহ রাও তেলেগু জনতার গরিব। আমরা প্রার্থী দেব না। জিতলেন নরসিংহ রাও।
    আর জ্যোতি বসুকে যখন বিজেপি বাদে কংগ্রেসসহ সব বিরোধী দল সাধাসাধি করছে বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ সিপিএম নেতা কেন্দ্রীয় কমিটিতে জ্যোতি বসুকে প্রধানমন্ত্রী হতে না দিতে ভোট দিলেন।

    বিজেপির সদর দপ্তরে সেদিন উল্লাস দেখেছিলেন বহু সাংবাদিক।
    বিজেপির সেই প্রথম কেন্দ্রীয় সরকার গড়া। আজ তাঁরা দেশের প্রধান নিয়ন্ত্রক শক্তি।

    ##

    ভারতের বাংলা ও বাঙালির পিছিয়ে পড়া লেখকের আক্ষেপ ও যন্ত্রণার বিষয়। কলকাতায় বাঙালি সংখ্যালঘু হতে দেখেছেন তিনি, রামমোহন রায়ের গ্রামে দেখেছেন তপশিলি জাতির জন্য শ্মশান আলাদা। 
    লক্ষ্য করেছেন, করাচ্ছেন, ১৯৯১ থেকে ২০০১ থেকে বাংলায় হিন্দু মুসলমান দুই সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উপাসনালয়, শনি মন্দির থেকে নানা মন্দির ও মসজিদ দ্বিগুণ বেড়েছে।

    আর এখন তো হনুমান মন্দির ক্রমবর্ধমান।
    বর্ধমান গির্জা ও মসজিদও।

    #

    লেখক ভারতের বাঙালি ও বাংলাদেশের বাঙালিকে পরস্পরের থেকে শিক্ষা নিতে বলছেন।
    পশ্চিমবঙ্গে নকশাল আন্দোলন, বাংলাদেশে বাকশাল--নিয়ে লেখকের সিদ্ধান্ত:
    নকশালবাড়ির রাজনীতির মতো এক সকালে উঠে চলো গ্রামে তাই বলে বিপ্লবের ডাক দিলে বিপ্লব হয় না।
    আবার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ৫০ বছরে তাঁরা অর্থনীতি সংস্কৃতি স্বাস্থ্য সমাজকল্যাণে এতোটা এগোল স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও ভারত কেন তা পারল না।
    শিশুদের মৃত্যুহার বাংলাদেশে কম,  প্রসূতি মায়ের মৃত্যু কম, গড় আয়ু বেশি, গড় আয় বেশি-- কেন পারলো বাংলাদেশ।
    ইচ্ছাশক্তি ও মনের জোর এবং সদিচ্ছা এবং নিজস্ব জীবনাদর্শ। যা হারিয়ে যাচ্ছে।

    ###

    'বঙ্গবন্ধু ও রক্তাক্ত বাংলা' অধ্যায়ে লেখক বলেছেন: শেখ মুজিব শুধু রক্তাক্ত বাংলার নায়ক নন, তিনি গোটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রক্তাক্ত যুগসন্ধিক্ষণের নব নায়ক। নতুন ইতিহাসের নির্মাতা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ গোটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে সন্দেহ নেই।

    আবার 'সোনার বাংলা এবং এক বাবা ও মেয়ের কাহিনি' অধ্যায়ে ' ইন্দিরা গান্ধী, বেনজির ভুট্টোদের মতো শেখ হাসিনা মৌলবাদী ও উগ্রপন্থী শক্তির নিশানায় রয়েছেন'  এই মন্তব্য করে লেখক বলেছেন, হাসিনাকে লড়াই করে ক্ষমতায় আসতে হয়েছে বিরুদ্ধ পরিস্থিতিতে। ইন্দিরা গান্ধীর সরকারি উন্নয়ন ও হাসিনার উন্নয়নের মধ্যে মিল খুঁজে পেয়েছেন তিনি।

    বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহায়তার পাশাপাশি ব্যাঙ্ক জাতীয়করণ, খনি জাতীয়করণ একাধিক শিল্পের রাষ্ট্রায়ত্তকরণের মতো সাহসী পদক্ষেপ এই উপমহাদেশের ইতিহাসে তাঁকে চিরস্থায়ী আসন দিয়েছে।
    অন্যদিকে হাসিনার সময় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রগতি বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় ভালো। ভারতের তুলনায় তো যথেষ্ট ভালো। 

    ২০২১ এ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় চলে এসেছে বাংলাদেশ। কেবল ঢাকা নয় তৃণমূল স্তরে উন্নয়ন হয়েছে। গোটা দেশ জুড়ে হাইওয়ে সম্প্রসারণ ঘটেছে, ঢাকা মেট্রোসহ রেলের একাধিক প্রকল্পের সুবাদে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে।
    একের পর এক নদী সেতু নির্মাণ হয়েছে, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বাড়ছে। মাথাপিছু আয় বাড়ায় চীন, জাপান, আমেরিকা বাংলাদেশের বাজার ধরতে আগ্রহী। 

    উল্টোদিকে পাকিস্তান পিছনে পড়েছে। পিছিয়ে পড়ছে ভারতও। বিশ্বব্যাঙ্ক, ইউএনডিপি, এশিয়ান ডেভেলাপমেন্ট ব্যাঙ্কসহ নানা প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যান বলছে, 'বাংলাদেশ দারিদ্র্য দূরীকরণ, সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক উন্নতির মতো বিষয়গুলিতে উপমহাদেশের অনেক দেশ এমনকী ভারতের থেকেও এগিয়ে।। বাংলাদেশের মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি পেয়েছে লক্ষ্যণীয় হারে'।

    মায়ানমার থেকে নিপীড়িত অত্যাচারিত ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে নিজের ও দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন শেখ হাসিনা। 
    রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে স্যানিটারি প্যাড বিতরণের গল্প বলেছেন লেখক। বলেছেন রিলিফ নির্ভর দেশ আজ রিলিফ দিচ্ছে। 

    খোকা ইলিশ তথা জাটকা ধরতে না দেওয়ার হাসিনা সরকারের কঠোর নীতির প্রশংসা করেছেন লেখক। এতে ইলিশ উৎপাদন বেড়েছে। ১৬ হাজার কোটি টাকা আসছে ইলিশ থেকে। সামগ্রিক ভাবে মাছ উৎপাদনে উন্নতি চোখে পড়ার মতো। এর মধ্যে ১২-১৩ শতাংশ  ইংলিশ। প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যান বলছে, 'বাংলাদেশ দারিদ্র্য দূরীকরণ, সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক উন্নতির মতো বিষয়গুলিতে উপমহাদেশের অনেক দেশ এমনকী ভারতের থেকেও এগিয়ে।। বাংলাদেশের মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি পেয়েছে লক্ষ্যণীয় হারে'।

    ###

    'অনুপ্রবেশ' শব্দটা সত্তর দশকে শোনেননি লেখক। লোকে গর্ব করে বলতেন, বরিশাল আমার দ্যাশ।  ১৯৯০-এর পর শব্দটিকে সুকৌশলে ব্যবহার করা হতো লাগল। ১৯৯৬-এর নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন সক্রিয় হল,নাম বাদ দিতে।লেখক দেখেছেন, বনগাঁ-তে বস্তা বস্তা নাগরিকত্বের  দরখাস্ত। রেশন কার্ড, ছেলে-মেয়ের জন্ম অশক্ষার প্রমাণপত্র। কিন্তু ভোটাধিকার মিলছে না।    ১৯৯৮ থেকে ' অনুপ্রবেশকারী' আর 'শরণার্থী' বলে বাংলাদেশ থেকে আসাদের ধর্মীয় পরিচয় বড় করে তোলা হল। তাতে কেন্দ্রের উপ্প্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদবানি  ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একসুর।
    মতুয়া রাজনীতি, সিএএ--সব বিষয়েই আলোকপাত করেছেন লেখক।

    এসেছে সংখ্যালঘু তোষণের প্রসঙ্গ।লেখক মুজিবুর রহমানের পাকিস্তান সংসদে বক্তৃতা দীর্ঘভাবে উদ্ধৃত করে দেখিয়ে দিয়েছেন,হিন্দু মুসলিমের স্বার্থ অভিন্ন। মানুষ হিসেবে তাঁরা এক। জাতি হিসেবেও। পশ্চিমবঙ্গে 'সংখ্যালঘু তোষণ' চলের কথাটা মিথ--লেখক তথ্যসহ প্রমাণ করেছেন। সরকারি চাকরির ২০ ভাগ মাত্র মেয়ে। তার মধ্যে  মুসলিম মেয়ে অতি নগণ্য। বিজেপি নেতারা অন্য রাজ্যে লক ডাউনের মাঝে রাম মন্দিরের ঘটা করে উদ্বোধন করলেও কোনো রাজনৈতিক দল বা বড় সংবাদমাধ্যম প্রতিবাদ করতে পারে না। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে মমতা মুসলিমদের কোনো অনুষ্ঠানে গেলে অনেকেই লাফিয়ে ওঠেন। লেখক বলছেন, এর পিছনে আছে মুসলিমদের নিয়ে অনীহা।

    এবং বহুদিন ধরে চলে আসা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সংস্কৃতি। লেখকের বক্তব্য, দুর্গাপুজা কালীপূজা ইদ মহরম  কোনো কিছুতেই শুভেচ্ছা জানানো্র রীতি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ছিলনা।এবং মন্দিরে দরগায় যাওয়া। যেটা এখন হচ্ছে। এবং চোখে পড়ছে।  অবশ্যই বামনেতারা ব্যতিক্রম।

    পাকিস্তান নিয়ে অমল সরকারের সাফ কথা মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশ নেই। যারা জোতদার তারাই শিল্প-কারখানার মালিক,ব্যাংক বীমার মালিক, তারাই আমদানি-রফতানির মালিক, আবার তারাই সেনাবাহিনী এবং তারাই অসামরিক আমলা।

    ভারতেও সেদিকে আস্তে আস্তে চলে যাচ্ছে।
    এ বই সতর্কতার। এ বই সময়ের। 
    এ বই একজন গবেষক ও সাংবাদিকের।

    কিছু মুদ্রণপ্রমাদ আছে। অল্প পুনরুক্তি আছে। উপেক্ষণীয়। তবু লেখক ও প্রকাশক নজর দিতে পারেন। প্রচ্ছদ, ছাপা,  বাঁধাই ভালো।


    আমার দেশ আমার দ্যাশ
    অমল সরকার
    দে'জ পাবলিশিং, কলকাতা-৭৩
    মুদ্রিত মূল্য - ৩৯৯ টাকা


    বাড়িতে বসে বইটি পেতে হোয়াটসঅ্যাপে বা ফোনে অর্ডার করুন +919330308043 নম্বরে।



    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • পড়াবই | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ২০৯২৫ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • t | 2405:8100:8000:5ca1::5b:***:*** | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১০:১৪498712
  • ভাল বইয়ের খবর পেলাম। বাংলাদেশের পার ক্যাপিটা জিডিপি ভারতের চেয়ে কম কেন, বাংলাদেশ সংখ্যালঘুদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে অনেক বেশি সফল কেন এসব আলোচনাও রয়েছে?
  • Eman Bhasha | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৩:৫২498713
  • ১৯৯৪ এ নতুন শিল্পনীতি।
    ১৮৮৪ নয়।
  • | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৯:১৫498719
  • এই বইটাও নোট করলাম। যোগাড় করতে হবে।
  • guru | 103.135.***.*** | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২১:১৩498721
  • মাননীয় লেখক ইমানুল ভাইকে অনেক ধন্যবাদ জানাই এই লেখাটির জন্য | একজন বাঙালি হিসেবে সত্যি মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সাফল্য  খুব আকর্ষণীয় ও অনুপ্রেরোনা  | কিন্তু geopolitics এর ব্যাপারে বাংলাদেশের সাফল্য এখনো আকর্ষণীয় নয় | তার সবচেয়ে বোরো প্রমান যে এনআরসি এর মতো বাঙালি বিরোধী প্রকল্পের ব্যাপারে বাংলাদেশ কিন্তু সম্পূর্ণ নীরব | বরঞ্চ যে পাকিস্তানকে লেখক ব্যর্থ রাষ্ট্র বলে এতো তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছেন সে বরঞ্চ এনআরসি এর মতো ব্যাপারে অনেক অনেক বেশি সরব | রোহিঙ্গিয়া ব্যাপারেও কিন্তু বাংলাদেশ বিশ্বে নিজেদের মতামত প্রতিষ্ঠা করতে পারছেনা | দুদিন আগে আসামে পুলিশ বাঙালিদের উপর যা করেছে তা নিয়ে কিন্তু প্রতিবাদ বাংলাদেশ কিছুই করেনি বরঞ্চ করেছে পাকিস্তান | বাংলাদেশের আর্থিক সাফল্য অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য কিন্তু তাহলে নিজের geopolitical স্বার্থ নিয়ে এতো নীরবতা কেন এতো সাফল্য আসার পরেও ??
     
    একটি ভাষাভিত্তিক জাতিরাষ্ট্র যে কিনা রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জন্ম নিয়েছে সমস্ত বাঙালি জাতির আদর্শ হিসেবে তাহলে সে কেন অসম নিয়ে ,  এনআরসি এর মতো বাঙালি বিরোধী প্রকল্পের ব্যাপারে বলার জন্য পাকিস্তানের উপর কেন নির্ভর করে থাকবে ? এতো আর্থিক সাফল্য এলেও তার কেন ভয় করবে আসামের বাঙালিদের নিয়ে কিছু বলতে ?
     
    আজকে আসামে যা ঘটছে তা হতে পারতোনা যদি পাকিস্তান কাশ্মীর নিয়ে যেটুকু বলে তার অর্ধেক বাংলাদেশের রাষ্ট্র অসম নিয়ে বলতো | একটি এতখানি সফল রাষ্ট্রের কাছ থেকে তো এইটুকু আশা করে যাই নিশ্চয় ?

    আমি লেখকের এই ব্যাপারে উত্তরটি জানার অপেক্ষায় রইলাম | 
  • Emanul Haque | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৫:০৫498729
  • আপনার মতামতের জন্য ধন্যবাদ।
    আমি সমালোচনা লিখেছি মাত্র।
    লেখককে বলবো।
  • M U Kaisar | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৩:৩৭498743
  • ভারতীয় পরিচয়ের ভার বহন করতে গিয়ে পশ্চিম বাংলার বাঙালিদের বাঙালি পরিচয়টা মুছে গ্যাছে প্রায়।। খেয়াল করে দেখেন উপমহাদেশের বুর্জোয়া অর্থনীতির সুত্রপাত এইখান থেকে হলেও, কর্নওয়ালিসের বানিয়ে দেয়া নকল ভুস্বামিত্বে বাঙালির ব্যাবসা বাণিজ্য গেলো এবং বাঙালি একদিকে হল বাবু অন্যদিকে কেরানী।। যার থেকে বাঙালি আর বেরুতে পারে নি। বিশেষ করে পশ্চিম বাংলা। 
  • r2h | 2405:201:8005:9947:f980:b8e9:7081:***:*** | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৪:২৭498744
  • বাংলাদেশ যা পারবে বা ভারত কিংবা পাকিস্তানের যা পারা উচিত, পশ্চিমবঙ্গের তা পারার প্রশ্ন ওঠাটা গোলমেলে। প্রথম তিনটি সার্বভৌম রাষ্ট্র, শেষেরটি ভারতের একটি অঙ্গরাজ্য।
  • Soumitra Sasmal | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১০:৪৫498808
  • ধন্যবাদ দীপ। সঠিক কথা বলার জন্যে। গুরুর জন্যে অবশ্যই তিরষ্কার। কি অদ্ভুত! প্রতিবেশী দেশ কেনো প্রতিবাদ করছে না ভারতের বিরুদ্ধে, তার জন্যে একজন ভারতীয় নাগরিকের কি দুঃখ! আমরা আর কত শরণার্থীকে আমাদের দেশে জায়গা দিতে পারি? আমি বা আমরা অন্য কোনো দেশে এইভাবে অবৈধ ভাবে বসবাস করতে পারি কি? 
  • guru | 103.2.***.*** | ০৫ অক্টোবর ২০২১ ০৯:২৯499096
  • দীপ , ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা নিয়ে ভারতের হস্তক্ষেপ এখনো যেকোনো স্বাধীনতাপ্রেমী মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটা বড় ক্ষোভের কারণ | বাংলাদেশের মানুষকে বারবার সেই ঘটনার কথা মনে করানো তাদের বোঝানো যে তাদের স্বাধীনতা সম্পূর্ণ নয় বরঞ্চ তা অন্যের দয়ার দান | অন্যলোকের  দেয়া স্বাধীনতা কখনোই সম্পূর্ণ হয়না | এই ধরণের প্রচার আরো বেশি করে মৌলবাদ ও ভারতবিরোধীতা জমি তৈরী করে যার ফলস্বরুপ খেসারৎ দিতে হয় বাংলাদেশের সংখ্যালঘু মানুষকে | কাজেই এই ধরণের প্রচার বন্ধ করাই ভালো বলে আমি মনে করি যেইখানে ২০১৯ সাল থেকেই ৩৭০/কাশ্মীর  , CAA/NRC , ২০২১ মোদী সফর বা ২০২১ সালেই COVID যখন তুঙ্গে তখন ভারতের বাংলাদেশকে COVID টিকা না দেওয়া বিপদের সময় এই সব ঘটনার জন্য দুইদেশের সম্পর্ক খুব ভালো নয় | আপনার মতামতের অপেক্ষায় ​​​​​​​থাকলাম |
     
    সৌমিত্র শাসমল , আসামে একজন নিরীহ বাঙালী একজন বর্বর আসামী মুখ্যমন্ত্রীর কারণে বিনাদোষে খুন হয়েছে | নিরপরাধ ব্যক্তির মৃতদেহ নিয়েও প্রকাশ্যে আসামী বর্বরগুলি চরম অপমান করেছে | আপনি কি কারণে ওই বর্বর মুখ্যমন্ত্রীকে সমর্থন করছেন জানলে ভালো হতো যেইখানে নিহত নিরপরাধ ব্যক্তি আমার আপনার মতোই বাঙালি | আপনার উত্তরের অপেক্ষায় থাকলাম |
  • গৌতম রায় | 103.242.***.*** | ০৬ অক্টোবর ২০২১ ০২:১২499158
  • অমলের লেখা দেশ ভাগের পরবর্তী সময়ের বইটি আলোচনায়, বিতরকের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ইমানুলের ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাব পড়েছে। দুই লেখকের রিডারসিপ কিন্তু আলাদা। --বইটিতে সত্য়ই যদি ভারতের উন্নতি কেন থেমে গেল? অথবা, বাংলাদেশ পারল পশ্চিমবঙ্গ  কেন পারল না? এসব উদ্ভট কথা থাকে তবে তা বহু পাঠকের বিতর্ক ও সমালোচনার নয়, বীতরাগের কারণ হবে। কারণ চাই বইটি সবাই পড়ুক। ইমানুলের আলোচনায় ব্যাপারটি এমন যে প্রধানমন্ত্রী মনোমোহন সিং  ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে সাক্ষাতে বলেন, বহু জন পরিসেবায় কিউবা ভারতের থেকে ভাল কাজ করেছে। কাস্ত্রো বলেন, লজ্জা দেবেন না, জনসংখ্যার দায়ে কিউবা ভারতের একটি অঙ্গরাজয়ের মতো,তুলনা চলে না। দুই সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠীর জনসংখ্যার চাপ কমে এলেও তবু ভারতের অদলে গণতন্ত্র ও মোটের উপর ধর্মনিরপেক্ষতা সম্বল করে বাংলাদেশ কিন্তু এগিয়েছে। গোঁড়া ব্রাহ্মণ্য়ের সঙ্গে লড়াই করে এই অগ্রগতি পশ্চিমবঙ্গে ঘটেছে ততীত নবজাগরণের কালে। 'যবন' ইংরেজের সঙ্গে কার টেগোরের মতো ইঙ্গ-ভারতীয় কোম্পানিগুলি খোলা সম্ভব হয়, নবকৃষ্ণ দেবেরা কিন্তু শিল্পপতি হতে পারলেন না, মুৎসুদ্দি রয়ে গেলেন। আবার এখানে rise of middle class তখনই ঘটে। বাংলাদেশে মধ্যবিত্তের উত্থান সম্প্রতি হয়েছে, বাংলা রেখেও ইংরেজি ও পশ্চিমি আধুনিকতা, ধর্মনিরপেক্ষতা, মৌলবাদের সঙ্গে লড়াই করকে প্রাণ দেওয়া--বর্ধমান, এটিই আশার কথা। জানি না অমল কি লিখেছে, হিন্দু বিতড়ণের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা শেখ মুজিব এবং ফজলুল হক তার বিরুদ্ধাচরণ করেছিলেন। আমি অবশ্য এমন মনে করি না অমল লিখেছে, পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশের মতো উন্নতি করতে হলে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বাংলাদেশ গঠন করতে হবে। কারণ পশ্চিম পাকিস্তানিরা পূর্বের ওপর যে খুন ও ধর্ষণ চালাত ভারত সরকারও নাকি তাই পশ্চিমবঙ্গের ওপর চলাচ্ছে! এবার বলি পশ্চিমব্ঙ্গের পিছিয়ে পড়া কতক স্বাভাবিক--অন্য় রাজ্য়গুলিরও বিকাশ হবে। তার জন্য় কয়লা লোহা সবার দরকার, কিন্তি বম্বে আমেদাবেদের মতো ওষুধ শিল্প পশ্চিমবঙ্গে ছিল না, সুরাসারে তাই মাসুল সমীকরণ ছিল না। ব্য়বসায়িক উদ্য়োগকে শোষণ ভাবা আমাদের খুব ক্ষতি করেছে। বামফ্রন্টের বৈঠকে জ্য়োতি বাবু নিক্কো পার্ক হবে বলে জানালে সি পি আইয়ের স্বাধীণ গুহ বলেন, বড়লোকের ছেলেদের পার্ক আমরা তৈরী করবো কেন ? জ্য়োতি বাবু রেগে উত্তর দিলেন, কেন কলকাতা কি ভিখারিদের শহর ! উৎপাদনের বদলে বন্টনে আগ্রসি গুরুত্বও ক্ষতি করেছে, এগ্রি শিল্পের জমি নেই। সব শেষে এ বইয়ের কাছে ব্য়ক্তিগত দাবি, জানি না উদ্বাস্তু সন্তান হয়েও অমল লিখেছে কিনা, যে ছিন্নমূল মানুষ সব হারিয়ে এসেছিল, একটা অস্ত্র কিন্তু আনতে পেরেছিল, যা কেউ ছিনিয়ে নিতে পারে না, তা হল পুরুষ নারী নির্বিশেষে শিক্ষা। এপারের সব অংশের উদার মনোভাবে তারই জয়লাভ হয়েছে। পালায় প্যালা দেন দর্শক, তেমই বলি--প্রতিভাধর ইহুদিদের না তাড়িয়ে আরবেরা তাঁদের মেধা সম্পদ বাড়িয়ে নিতে পারতেন, জাতি ঘৃণায় পারেননি , জাতি ঘৃণা না থাকায় সেদিনের ছিন্নমূলেরা আজ ভারতের মানব সম্পদ বৃদ্ধি করেছেন।      
  • r2h | 2405:201:8005:9947:2d58:5b99:ee7a:***:*** | ০৯ অক্টোবর ২০২১ ১৮:২১499349
    • দীপ | 2402:3a80:abc:71e1:266:44a8:f1af:18e | ০৯ অক্টোবর ২০২১ ১৭:৫৬499346
    • ...কোনো কিছু‌ নিয়েই আলোচনা করা যাবেনা, তাতে কারো না কারোর অনুভূতি আহত হবে। জরুরি অবস্থা, শিখ দাঙ্গা, বাবরি মসজিদ ধ্বংস, গুজরাট দাঙ্গা, মরিচঝাঁপি, সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম, অম্বিকেশ-শিলাদিত্যের গ্রেপ্তারি - সব নিয়েই চুপ থাকতে হবে! আপনি কি সেটাই বলতে চাইছেন?
     
    • দীপ | 2402:3a80:abc:71e1:266:44a8:f1af:18e | ০৯ অক্টোবর ২০২১ ১৭:৫৮499347
    • বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় ভারতের সক্রিয় সমর্থন ও সহযোগিতা ঐতিহাসিক সত্য! কোনোভাবেই তাকে অস্বীকার করা সম্ভব নয়!
     
    কারো 'উপকার' করে তাকে প্রতি মুহূর্তে সেই উপকার মনে করিয়ে দেওয়ার মধ্যে যে ক্ষুদ্রতা আছে সেটা বিষম বস্তু। ভারতে ভূমিকা মনে করিয়ে ভারতীয়রা সারাক্ষণ লম্ফঝম্প করলে সেই জিনিসটা হয়।
     
    আর একাত্তরে ভারতের ভূমিকা, আমি মনে করি ঠিক ছিল; কিন্তু পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের কন্ফ্লিক্ট চলতে থাকলে সেটা ভারতের জন্যেও সুবিধেজনক হতো না, আর পাকিস্তান দু'ভাগ হয়েও ভারতে কিছু সুবিধে হয়েছে। তাই ভারতের ভূমিকা সমর্থন করেও এই জিনিসগুলো ভুলে ব্যাপারটা ঠিক নিঃস্বার্থ উপকার ছিল মনে করলে সেটা খণ্ডদর্শন হয়। এমনিতেও কূটনীতি, পররাষ্ট্রনীতি এসবে তো নানান হিসেব নিকেশ থাকে।
     
    তাই অস্বীকার করার প্রশ্ন নেই, কিন্তু ভারতীয় ও বাঙালী হিসেবে সেটাকে বারবার মনে করিয়ে দেওয়ার অভ্যাসে কী লাভ হবে সেটা ভাবার বিষয়।এবার, বাংলাদেশের লোক রাগ করলে আমার কী, এমন ভাবা যেতেই পারে। পঞ্চাশ বছর আগে ভারত বাংলাদেশকে কীভাবে সহায়তা করেছিল সেটা মনে করানো প্রতিবেশির সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার থেকে গুরুতর মনে করলে, সেটাও একটা প্রেফারেন্স।
  • bodhisattvagc dasgupta | ০৯ অক্টোবর ২০২১ ১৮:৫৯499354
  • মমতা তিস্তার জল‌ দিতে রাজি থাকলে এই সম্পর্ক রাখতে সুবিধা হতো । মোদী বারবার আমেরিকা গিয়ে হাউডি না করে একটু ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করলে উপকার হত, সে তো ৭১ এ নিজের ভূমিকা নিয়ে ডাঁহা মিথ্যাও বলেছে। 
     
    এই রিভিউ প্রবন্ধটির মেন সমস্যা হল , এই বই টিতেই এই প্রবন্ধ সীমাবদ্ধ, বিষয়টি অনেক বড় তাতে‌ প্রবন্ধটি আদৌ বিস্তৃত হতে পারেনি এবং প্রাবন্ধিক এই বিষয়ে আর কি কি পড়াশুনো করে বা কোন যুক্তিতে কি ধরণের অবস্থানে পৌঁচেছেন তার কোনো খবর নেই।
    বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সে দেশের মানুষের ভূমিকা ই সবচেয়ে বীরত্বপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গের একদল মানুষ যেমন প্রবল সিম্প্যাথেটিক ছিলেন, তেমনি , রিফিউজি দের একেবারে আদর করা হয়েছে তাও না , অন্যদিকে ইন্দিরা এই বিষয়ে নীতিগত এবং স্ট্রাটেজিক ভাবে ইনভেস্ট করার পরে কংগ্রেসী ইন্টেলেকচুয়াল রা বাঙালি ভাষা জাতীয়তাবাদের নামে একটু নড়ে চড়ে বসেন, বাঙলাদেশ‌ সরকারগুলি বিভিন্ন সময়ে সেই ভূমিকা কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করেছে, নিজেদের দেশে আনপপুলার হয়েও।
    ভারত শ্রীলঙ্কা য় যে ভাবে তামিল ন্যাশনালিজমকে কচুকাটা করতে সাহায্য করেছে বাংলাদেশ এর ক্ষেত্রে সেটা করেনি কারণ সকলেই জানেন। 
    ঘটনা হল ১৯৬৮ থেকে ১৯৭১ ইস্ট আর ওয়েস্ট পাকিস্তানে দুদিকেই প্রচুর গত বিক্ষোভ চলছিল। মৌলানা ভাসানি কৃষক সমাবেশে বক্তৃতা দিতে পশ্চিমেও গেছিলেন। তাই পাকিস্তানের বামপন্থী ঐতিহাসিক রা অনেকেই বাংলাদেশ এর মুক্তি যুদ্ধের প্রস্তুতি পর্বের অনেকটা কেই শ্রমজীবী মানুষের সম্মিলিত বা ডিসজয়েন্ট লড়াই হিসেবে দেখে থাকেন। 
    রাষ্ট্রের মধ্যে উচ্চতা র প্রতিযোগিতার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে না দেখে গোটা দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস রচনা জরুরি। রিভিউ পড়ে মনে হয়নি বইটা সে দিকে বিশেষ এগিয়েছে।
    এই ব ইটা পড়ার আমার কোনো আগ্রহ ই জাগল‌না, গৌতম রায়ের পুরো বিবলিওগ্রাফি পাওয়া যাবে? বাংলাদেশ বা ভারত বা পাকিস্তানে র নানা রকম আচিভমেন্ট আছে, দেশ হিসেবে, কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বা ডিপ্লোমাসির উপরে ব ই লেখা হচ্ছে না অঞ্চলের সামাজিক ইতিহাস লেখা হচ্ছে তার ব্যাপারে ক্ল্যারিটি না থাকলে যে সমস্যা হতে পারে সেই সমস্যা ব ইটিতে আছে না‌ নেই সেটা ই ক্লিয়ার হলো না।
  • bodhisattvagc dasgupta | ০৯ অক্টোবর ২০২১ ১৯:১৭499356
  • ৭০-৭১ এ ভারতে বেরোনো কার্টুনকে যদি ইতিহাসের সোর্স হিসেবে দেখা হয়, দেখা যাবে মূলতঃ তিনটি ভারতীয় অপিনিয়ন, একটা মুক্তিযোদ্ধা সাধারণ মানুষের প্রতি খুব সিম্প্যাথেটিক, আরেকটি সাবধানে পা ফেলছে দেশের ফরেন‌ পলিসি অনুযায়ী , আরেকটা নন কমিটাল এবং রিফিউজি সমস্যা নিয়ে বেশি বিব্রত। 
    তবে একটাই শান্তি এই অপিনিয়ন ডাইভারজেন্স এর প্রসেস মেইনস্ট্রীমেই আছে ৭১ এ যেটা তারপরে আর নেই।  
  • bodhisattvagc dasgupta | ০৯ অক্টোবর ২০২১ ১৯:৫৫499360
  • বাংলাদেশ মুসলমান প্রধান‌ দেশ‌ বলে এবং সেখানে সংখ্যালঘু হিন্দু দের নিরাপত্তা মাঝে মাঝেই বিপন্ন হয় বলে যেকোনও সরকারি পলিসির‌র ইমপ্লিমেন্টেশন এর যেকোনো মেট্রিক কেই সাম্প্রদায়িক টেক ওভার হিসেবে দেখার মত ডেটা আপনার আমার কারো কাছেই নেই, কোনো বিষয়ে যথেষ্ট ই ব ইটির লেখকের কাছেও আছে কিনা পরিষ্কার না, ব্যবহৃত হয়েছে কিনা পরিষ্কার না এবং রিভিউ য়ার সেটা আরো খোলসা করতে পারতেন বিষয়ের উপরে কমেন্ট করে , বা আংটির কনটেন্টে সীমাবদ্ধ না থেকে। 
    তবে ঘটনা হল হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্সে বেশ কিছু মেট্রিকে বাংলাদেশ এর আচিভমেন্ট রেকর্রডেড রয়েছে। স্টেট আচিভমেন্টকেই ডিনাউন্স করার কোনো অর্থ নেই , এটা আফটার অল ইজরায়েলের মতো সেটেলার স্টেট না। 
    আপনি আট্রিবিউশনটাকে প্রশ্ন করতে পারেন, তেমন একসময়ে বলা হতো মাইক্রোফাইনান্স ই তার প্রগতির চাবিকাঠি, এবং সেটা বেশ ঘাঁটা একটা পজিশন। কিন্তু অন্যদিকে মহিলাদের লেবার ইকোনোমিক পার্টিসিপেশন বেশ বেশি যেটা কনজারভেটিভ ইসলামিক থিয়োক্রাসির মা সামাজিক রমরমা সেখানে যথেষ্ট প্রশংসনীয়। ইত্যাদি। 
    ব ইটাই  সমস্যা না রিভিউ আর্টিকল‌টা সমস্যা সেটা বোঝার জন্য আর রাগ কমানোর জন্য ব ইটা পড়ে আর এই বিষয়ে আর কটা বই পড়ে আপনেই লম্বা কইরা ল্যাখেন‌ না। :--))))
  • bodhisattvagc dasgupta | ০৯ অক্টোবর ২০২১ ১৯:৫৭499361
  • **ব ইটির কনটেন্টে সীমাবদ্ধ না থেকে
  • bodhisattvagc dasgupta | ০৯ অক্টোবর ২০২১ ২০:১৪499362
  • **যেকোনও স্টেট আচিভমেন্টকেই ডিনাউন্স করার কিছু নেই , এটা কাবাডি ম্যাচ না। গিভেন দ্য চ্যালেঞ্জেস , সাবকন্টিনেন্টের তিনটে ভাঙা দেশের ই নানা আচিভমেন্ট রয়েছে। ভারতীয় নিওলিবেরালিজম র সবচেয়ে বড় ক্রিটিক অমিত ভাদুড়ির  প্রখ্যাত ব ইটি, ডেভেলপমেন্ট উইথ ডিগনিটির ভূমিকাতেই এই গুরুত্বপূর্ণ কথাটা রয়েছে, রাষ্ট্রের যা চেহারা ১৯৪৭ এ ছিল অবশ্যই ১৯৯০ বা ২০০০ তার থেকে বেটার হয়েছে । এবার সেটা রেকগনাইজ করাই ভালো।
  • বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত | 49.37.***.*** | ০৯ অক্টোবর ২০২১ ২১:২৭499370
  • আর এস এস বিজেপির কোন বিষয়েই কোনো ক্রেডিবিলিটি নেই। ওদের কথা বলে লাভ কি? 
     
    শুনুন এটা যেরকম একটা তথ্য। তেমনি একেক সময়ে একেক রকম এক্সোডাস হয়েছে। তার ওঠানামা কে আপনি কি ভাবে এক্সপ্লেন করেন? 
     
    উদাহরণ হিসেবে বলা যাক, সাধারণ তথ্য বলে, ইকোনোমিক ইন্ডিকেটর যখন ভালো তখন এক্সোডাস কম হবে। আর যদি আপনার দাবী হয়, হিন্দুরা পালিয়ে এসেছে বলেই বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে, তাইলে সে বিষয়ে আরো ডেটা লাগবে, আপনার ভাষাতেই বলছি,  'নিরাপত্তার অভাব বোধ'  আর তখন যেটা ইম্প্লাই করছিলেন, বাংলাদেশের সমস্ত ভূমি সংস্কার ই আসলে সাম্প্রদায়িক স্টেট ব্যাক্ড টেকওভার দুটো এক জিনিস না। তাই শুধু পপুলেশন ডেটা দিয়ে এটা দেখা ঠিক হবে কি? 
     
    আপনার অবস্থান ছাড়া সবার পজিশন ই সাম্প্রদায়িক বা মুসলিম সাম্প্রদায়িকতার প্রতি সফ্ট, এটা ভাবার কোন সঙ্গত এখনো আপনি এস্টাবলিশ করতে পারেন নি। বই টা অখাদ্য হতেই পারে, রিভিউ লেখাটা আপনার খারাপ লাগতেই পারে, মানে আমার তো বেশ বাজেই লেগেছে, কিন্তু তাতে আপনি একটা পপুলেশন ডেটা দিয়ে অন্য সমস্ত ইকোনোমিক ইন্ডিকেটর কেই ডিনাই যে করছেন, সেটার এমনিতে কোন যুক্তি গ্রাহ্য কারণ নেই। 
     
    ধরুণ চীন, অসহ্য বোগাস একটি দেশ। দেশে লোকে হাঁচলে কাশলে গোয়েন্দা লাগে পেছনে, মুসলমান , তিব্বতি , কোনটা i আপনি নিশ্চিন্তে হতে পারবেন না, তাই বলে কি তার ইকোনোমিক আচিভমেন্ট কে আপনি ছোটো করে দেখেন? নাকি মনে করেন ১৯৪৯ এর তুলনায় কিছুই এগোয় নি, আর চীনে ইমিগ্রান্ট এ তো পশ্চিম ভরে গেল, কিন্তু এগুলো র কোনোটা দিয়েই আপনি চীন কে বিচার করেন না। কারণ আর কিছুই না, শক্তিধর রাষ্ট্র সম্পর্কে আপনার অন্য বিচার ইত্যাদি, শক্তিধর কথাটার মানেটাই অন্য ভাবে দেখেন। মানে উদা বলছি, ব্যক্তিগত অপিনিয়নে হয়্তো দেখা গেল, আপনি আমি এক অবস্থানে ইত্যাদি। 
     
    আমি বলছি, এই লেখা যে এত ডিভিসিভ অপিনিয়ন তৈরী করছে, কারণ লেখার প্রিমাইস টা এবং বই টা, চেয়ার উঁচু করার প্রতিজোগিতার মত, কিন্তু তাই বলে সব ইকোনোমিক সোশাল ইন্ডিকেটর কে আপনি ডিনাউন্স কেন করছেন পরিষ্কার না। 
    বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত
  • aranya | 2601:84:4600:5410:50b:458d:ca4d:***:*** | ০৯ অক্টোবর ২০২১ ২২:০৪499372
  • '১৯৫১ সালে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে সংখ্যালঘু জনসংখ্যার অনুপাত মোটামুটি ২৪ শতাংশ। ২০১১ সালে এই অনুপাত ১০ শতাংশের কম। অর্থাৎ খুব স্পষ্টভাবে সংখ্যালঘু গোষ্ঠী এখান থেকে অভিপ্রয়াণ করেছে।‌ এর অন্যতম কারণ নিরাপত্তার অভাববোধ! কেউই স্বেচ্ছায় পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি ছেড়ে আসতে চায়না! সুতরাং তথ্য নেই, একথা মোটেও ঠিক নয়!
    এবার কেউ এটাকে গুরুত্ব দিতে নাই পারেন, সেটা তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত! '
    - আমি এটাকে গুরুত্ব দি। এই যে বিশাল এক্সোডাস, তার কিছুটা ইকোনমিক মাইগ্রেশন, কিন্তু অনেকটাই নির্যাতিত হয়ে, ভয়ে উদ্বাস্তু হওয়া। হিন্দু মেয়ে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া, ঘরে আগুন দেওয়া, সম্পত্তি দখল, মন্দির ভাঙা এ সবই  চলছে বাংলাদেশে। তার সাথে 'HDI' বেটার হচ্ছে, জিডিপি বাড়ছে, এটাও ঠিক। দুটো ই সত্য, দুটো ই স্বীকার করা উচিত। 
    একটা দেশে যদি রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ঘোষণা করা হয়, এবং তার বিরুদ্ধে বলার মত কোন প্রতিবাদ না হয়, সেটা লজ্জাজনক। 
    ভারতবর্ষে রাষ্ট্রধর্ম হিন্দুত্ব - এ জিনিস হবার চান্স অত্যন্ত কম , গত কয়েক বছরে বানর সেনাদের দাপাদাপি সত্বেও।   
  • r2h | 2405:201:8005:9947:fd60:95e5:3e19:***:*** | ০৯ অক্টোবর ২০২১ ২৩:১৫499375
    • দীপ | 2402:3a80:a51:df57:86f4:887a:b551:2881 | ০৯ অক্টোবর ২০২১ ১৮:৪৩499352
    • ...এগুলো কিন্তু ‌১৯৭১ এর আগেই ঘটেছে! সুতরাং ১৯৭১ দেখিয়ে এই মৌলবাদী কাজগুলিকে মান্যতা দেওয়া সম্ভব নয়। তাঁরা করছেন, তাঁরা মিথ্যাচারী! সেক্ষেত্রে বিজেপির সঙ্গে তাঁদের কোনো ভেদ নেই!
     মান্যতা দেওয়ার প্রশ্ন নেই - সংখ্যালঘু নির্যাতন আমাদের একটি উৎকট রোগ, মানবতার প্রতি অপরাধ। 
     
    ব্যক্তিগতভাবে আমার কথা বলতে পারি, ভারতে এসব হলে আমি বেশি বিচলিত হই, কারন আমি ভারতের নাগরিক, ভারতবাসী আমার সহনাগরিক, আমার দেশের দুর্নামের আমি ভাগীদার, চাই বা না চাই। অন্য রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে মানবতার প্রতি অপরাধে বিচলিত হলেও একটু দূরের ব্যাপার।
     
    বাংলাদেশে সামগ্রিকভাবে ধর্মীয় সহিষ্ণুতার বিষয়ে প্রশংসনীয় নয়। যদিও গত ক'বছর দুয়েকজ্ন ক্ষমতাবান রাজাকারদের ফাঁসি টাসি দেওয়া হয়েছে, ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট সমর্থন না করলেও নাজি হোমরাদের কেন ল্যামপোস্টে ফাঁসি দেওয়া নিয়ে তো আর আপত্তি করবো না, এদের ক্ষেত্রেও তাই।
     
    লেখার সুরটা আমার ভালো লাগেনি - ভারত বাংলাদেশ পাকিস্তানের তুলনা করে কী লাভ আমি জানি না, আর গুটিকয় সার্বভৌম রাষ্ট্রের সঙ্গে একটি অঙ্গরাজ্যের তুলনা অস্বাস্থ্যকর লেগেছে তা বলেওছি।
     
    • aranya | 2601:84:4600:5410:50b:458d:ca4d:7332 | ০৯ অক্টোবর ২০২১ ২২:০৪499372
    • - আমি এটাকে গুরুত্ব দি। এই যে বিশাল এক্সোডাস, তার কিছুটা ইকোনমিক মাইগ্রেশন, কিন্তু অনেকটাই নির্যাতিত হয়ে, ভয়ে উদ্বাস্তু হওয়া। হিন্দু মেয়ে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া, ঘরে আগুন দেওয়া, সম্পত্তি দখল, মন্দির ভাঙা এ সবই  চলছে বাংলাদেশে।   
      '
     
    অরণ্যদা, বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা কয়েকজনকে চিনি, খুবই সামান্য, এ দিয়ে বাস্তব পরিস্থিতির বিচার হয় না, তাও বলি।
     
    আমার আত্মীয়, সম্পর্কে ঘনিষ্ঠ বলা চলে, তাঁদের পরিবারের মূল অংশটি গ্রামে আদি বাড়িতে ছিল। ৪৭এর পর তাঁদের প্রাক্তন মুসলমান রায়ত, প্রজারা বলেন আপনারা থেকে যান, আমাদের প্রাণ থাকতে কেউ আপনাদের কেউ কিছু করবে না । কিন্তু লেট সিক্সটিজে সেসব লোক নিজেদেরই প্রাণ বাঁচাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, সুতরাং ঐ পরিবারের সবাই প্রাণ হাতে করে বাড়ি ঘর যেমনকে তেমন ছেড়ে পালান। 
     
    এবার ঐ পরিবারের বাকি খুচরো অংশের লোকজন একাত্তর সার্ভাইভ করেন, কিন্তু পরিবারের মূল অংশ ভারতে, তারপর মুজিব হত্যা ও ফলোয়িং টালমাটাল অবস্থা দেখে, অপশন যেহেতু ছিল, ভারতে চলে আসেন। সেই চলে আসা শেষ হয়েছে বছর দশেক আগে। তো, শুরুটা ধর্মের ভিত্তিতে উৎপীড়ন দিয়ে হয়েছিল, শেষটা জীবিকা, আর্থিক নিরাপত্তা, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে থাকা -এইসব দিয়ে।
     
    তরপর আমার এক বন্ধু ছিল কলেজে, সে বাংলাদেশে মাধ্যমিক পাশ করে চোরা পথে ভারতে এসে ক্লাস এইটে ভর্তি হয়। গরীব কৃষক পরিবারের ছেলে, নিষ্ঠাবান হিন্দু, কন্ঠীধারী বৈষ্ণব। কিন্তু তার আসার একমাত্র কারন ছিল বাংলাদেশে লেখাপড়ার খরচ।
     
    আর দু'জন বন্ধু আছে যারা এসেছে আশি ও নব্বইয়ের দশকে - সম্পন্ন ব্যবসায়ী- আসার কারন ভারতে বিনিয়োগ ও ব্যাবসার সুযোগ। 
     
    আরো একজন দূর সম্পর্কের আত্মীয়, যাঁদের বাংলাদেশে এখনো বিস্তর জমিজমা বিষয় সম্পত্তি আছে, সেখান থেকে হুন্ডি হাওলাতে টাকা আসে। এরকম ত্রিপুরায় অনেকে আছেন, এরা মূলত চাড্ডি হন।
     
    তারপর ধর আমেরিকায় ডাইভার্সিটি ভিসাতে আসা অনেক হিন্দু পরিবারকে চিনি - তাঁদের টাকাপয়সা ও শিক্ষা বেশি থাকাতে অ্যাপ্লিকেশনে একটু বেশি সড়গড়। 
     
    তো, ধর্মীয় উৎপীড়ন তো আছে নিশ্চয়, রাষ্ট্রধর্মের ব্যাপার থাকাতে অসাম্যও আছে। কিন্তু চলে আসার আরো বিবিধ কারন আছে।
     
    তবে ক্রমহ্রাসমান জনসং্খ্যার ব্যাপারে ভারতে যেমন শিক্ষিত ও প্রিবিলেজড মধ্যবিত্তদের মধে বংশবৃদ্ধির হার কম সেরকম ব্যাপার আছে, ওখানেও সেরকম কোন ফ্যাক্টর থাকবে হয়তো, জানি না।
  • সালা | 172.96.***.*** | ১০ অক্টোবর ২০২১ ০৯:১১499390
  • মিশন চাড্ডি ফের হাগতে লেগেচে!
  • বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত | 49.37.***.*** | ১২ অক্টোবর ২০২১ ০৭:২৫499447
  • সাম্প্রদায়িকতা একটু  চর্মরোগের মত, গোপন রাখা কঠিন। :-)))) 
     
    সিপিএম কে দেশে দেশে সংখ্যাগুরু সাম্প্রদায়িকতার বিরোধীতা করতে হবে, তার পরে এনার পারমিশন পাওয়া যাবে নিজেদের দেশে সাম্প্রদায়িঅকতার বিরোধিতা করার। :-)))))))  
     
    আব্বাস সিদ্দিকীর ভাগিদারীর দাবীতে খুব আপত্তি, অথচ পৃথিবীর যে কোন গণতন্ত্রে যে কোন সংখ্যালঘুর সমস্ত রাজনৈতিক দাবীর ভিত্তিই হল, প্রগতিশীল অন্তর্ভুক্তিকরণ,  সমস্ত , নাগরিক সুযোগ সুবিধায় অংশীদারীত্ত্ব। 
     
    ভারত রাষ্ট্রের, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম এর খারাপ ফল হবার মূল কারণ যদি হয়, রাজ্যের স্থানীয় সংখ্যালঘু মুসলমান দের অংশীদারিত্ত্বের দাবী কে সমর্থন করা , তাহলে বলতে হবে নীতির রাজনীতি এখনো বেঁচে আছে। মজাটা হল, আই এস এফ একটি সীট পেয়েছে, এই একই ডাকেই পেয়েছে। মারামারি না হলে আরো একটি অন্তত সিট পেত। সমাজের সর্বস্তরে হিন্দুত্ত্ববাদী আর মেজরিটারিয়ান লিবেরাল দের আপত্তি সত্ত্বেও, তৃণমূলের পরিবর্তন বিরোধী রক্ষণশীল দের দাপট সত্ত্বেও পেয়েছে। 
     
    সাচার কমিটি বলেছিলেন ,মুসলমান দের রাজ্যের সরকারী কাজে জনসংখ্ক্যার অংশের তুলনায় যথেষ্ট প্রতিনিধিত্ত্ব নেই।  বামফ্রন্টের বক্তব্য ছিল সাচার কমিটি ভূমি সংস্কারের বেনেফিসিয়ারি  দের ডেমোগ্রাফিক অ্যানালিসিস করেন নি, এবং আলাদা করে রঙ্গনাথ কমিশনের ফ্রেমওয়ার্ক ছাড়া পজিটিভ ডিসক্রিমিনেশন ভিত্তি তৈরী করা সম্ভব না। মমতা ৫ বছর এন ডি এ করার পরে এই সময়ে সেকুলার হলেন, এবং মুসলমান কনজারভেটিভ দের সঙ্গে হাত মেলালেন। একই সঙ্গে সিদ্দিকুল্লা র সঙ্গেও হাত মেলালেন। ত্বহা সিদ্দিকীরাও সমর্থন তাঁকেই করলেন। সিদ্দিকুল্লা খুব ই কনজারভেটিভ ছিলেন ঠিক ই , কিন্তু মূলতঃ চাকরি তে সংরক্ষন er কথা বলেই পপুলার হয়েছিলেন। তো এত বছরে মুসলমান দের প্রতিনিধিত্ত্ব সরকারী কাজে বেড়েছে কিনা খবর নেই, রঙ্গনাথ মিশ্র কমিশন এর প্রস্তাব গুলি নিয়ে আলোচনাও হয় নি, বিকল্প কিসুও হয় নি। শুধু যেটা হয়েছে, মুসলমান রক্ষনশীল দের কে পোলিটিকাল স্পেস দিতে গিয়ে, পরে ঢোঁক গিলে পুরোহিত ভাতা দিতে হচ্ছে এবং বিজেপি তৃণমূল দলের মধ্যে যাতায়াত বেড়েছে, আর এস এস সম্পর্কে প্রণবের থেকেও এগিয়ে যাবেন অদূর ভবিষ্যতে। :-)))) এর মাঝে গ্রামীন মুসলমান দের বিশেষত আমফান এর পরে ডিসকন্টেন্ট এর ফলেই আই এস এফ তৈরীও হয়েছে, একটা সীট ও পেয়েছে। নতুন দল, তার দক্ষিন বঙ্গের বাইরে বিশেষ প্রভাব নেই, তবে কয়েকটি নির্বাচণী ক্ষেত্রে তারা একটু হৈ হৈ ফেলেছিল। ঠিক সিদ্দিকুল্লার মতই রক্ষণশীল সামাজিক প্রেক্ষিত থেকে হওয়া সত্ত্বেও অর্থনৈতিক দাবী দাওআ, শিক্ষার দাবী দাওয়া তুলেই তার সাফল্য। সিদ্দিকুল্লা আগের ফর্মে থাকলে , এবং সরকারের মধ্যে থেকে নানা আলোচনায় পজিটিভ ডিসক্রিমিনেশনের আইনী ভিত্তি শক্তিশালী করতে জোর দিলে, সিদ্দিকীর নাম কেউ শুনতো কিনা সন্দেহ। তবে এটাও মনে রাখা দরকার, মুসলমানরা  ঠিক হিন্দু দের মতই রাজনৈতিক কোন বিষয়ে একমত হতে পারেন না, তাই নানা রাজনৈতিক দল আছে। সকলেই বাকি সকলকে বিজেপির হাত শক্ত করার অভিযোগ করেই থাকেন :-)))))  এটাই ঐতিহ্য। :-))) মুসলমান দের মধ্যে যে রাজনীতিটা চলছিল এবং যেটা তৃণমূলের অপারেশনাল অনুমোদন পেয়েছে সেটা হল, সামাজিক ক্ষেত্রে বহুমত্য রাখো, নানা সংগঠন গড়, ইত্যাদি, শুধু রাজনৈতিক ক্ষেত্রে দিদির সঙ্গে থেকো। মমতা যে ভাবে চলছেন, তাতে এমনকি e রাজ্যের মুসলমান রাও ২০২৪ এ কংগ্রেসের দিকে নতুন করে ঢলে পড়লে অবাক হবার বিশেষ কিছু থাকবে না। 
     
    সিপিএম এর সমর্থকদের একটা অংশ বিজেপির সঙ্গে গেলে, বাকি অংশ তৃণমূলের সঙ্গে গেলেও কিছু না এসে যাওয়াই উচিত। কয়েকট নির্বাচনে aদুটো উঠতি নতুন ফোর্সের সঙ্গে মানুষ গেছে, এতেই বা অবাক হবার কি আছে বুঝি না। 
     
    ভারতবর্ষে পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থার প্রয়োজন আছে মানুষ মনে করলে নতুন সমর্থক তৈরী হবে , না হলে দল উঠে যাবে, কি ই বা এসে যায়। নতুন বামপন্থী দল তৈরী করার দিকে লিবেরাল রা, যারা নিজেদের প্রকৃত বামপন্থী বলে মনে করেন, তাঁরাও বিশেষ এগোন নি। তবে হতেই পারে। ভবিষ্যতে।  
    অ্যাকচুয়ালি দেশের মানুষের মুর্খ বিজ্ঞানবিরোধী, ধর্মীয় মস্তানির রাজনীতি যদি বেশি পসন্দ হয় তো হবে কি করা যাবে। 
     
    এই প্রশ্নে সিপিএম  যদি উঠে যায়, তাতে কিসুই এসে যায় না। দেশের লোকের যদি মুর্খ হতে ইচ্ছে করে, কি করা যাবে। 
    অন্তত ১৯৯২ এর পরের ভারতবর্ষে যখন হিন্দুত্ত্ববাদের বিপদ দেশকে দখল করেছে, বামপন্থী পার্টি নিজের দেশের সংখ্যাগুরুর দল কিংবা বৃহত্তর রাজনীতির বিরুদ্ধে গেছে এটাই রেকর্ডেড থাকবে। 
     
    বাংলাদেশের বামপন্থীদের প্রভাব খুব বেশি না। রাজনীতিতেও না সংস্কৃতিতেও এখন আর তেমন কিছু না। বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানে অসংহ্য ধরণের ধরণের সিভিল রাইট্স এবং বামপন্থী রাই, সেখানকার সমস্ত রকমের সামাজিক সংখ্যালঘু দের কথা বলছেন , বলে চলেছেন, অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলার পাশাপাশি। 
    তাঁরা সে দেশের লোক, নিজের দেশ সংখ্যাগুরু সাম্প্রদায়িক ছাগলের হাত যাতে আরো আরো শক্ত ন হয় , তার চেষ্টা করছেন, সেটাকে আমাদের দেশের কোন ঘৃনার রাজনীতির রোগগ্রস্ত ভুলভাল লোক গুরুত্ত্ব দিল না দিল না,  তাতে কিছুই এসে যায় না। 
    :-)))))))))))))) 
     
     
  • guru | 103.15.***.*** | ১২ অক্টোবর ২০২১ ১৩:৪৪499467
  • বাংলাদেশের বিপুল অর্থ-সামাজিক সাফল্যের মুল কারণ হল ১৯৭১ সালের পর থেকেই সম্পূর্ণভাবেই পশ্চিম পাকিস্তান থেকেই পুরোপুরি বিহারী অনুপ্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া | ১৯৪৭ এর পর থেকেই বাংলাদেশে যতগুলি রাজনৈতিক আন্দোলন হয়েছে যেমন ভাষা আন্দোলন , শেখ মুজিবের উত্থান , ছয় দফা দাবী , মুজিবনগর সরকার এবং সর্বোপরি মহান মুক্তিযুদ্ধের মুল দাবিই ছিল পশ্চিম পাকিস্তান থেকেই পুরোপুরি বিহারী অনুপ্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া|
     
    বাংলাদেশের এই নীতি অনুসরণ না করার ফলেই আজকে পশ্চিমবঙ্গের এই অধঃপতন | ১৯৭১ এর ৫০ বছরেও বাঙালির এই উপলব্ধি হলোনা এটাই সবচেয়ে বড় দুঃখ এর কারণ |aajke বিহারী অনুপ্রবেশের কারণে পশ্চিমবঙ্গে বাঙালি সংখ্যালঘু | 
  • dc | 122.174.***.*** | ১২ অক্টোবর ২০২১ ১৫:০৬499469
  • পশ্চিমবঙ্গ আর বিহারের বর্ডারে একটা দেওয়াল বানানো হোক। দেওয়াল টপকে খোট্টাগুলো এদিকে আসতে চাইলেই গুলি করা হবে। ট্রাম্প দেওয়াল তোলার ব্যপারে বিশেষ পারদর্শী, ট্রাম্পের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। 
  • guru | 103.15.***.*** | ১২ অক্টোবর ২০২১ ১৮:১১499474
  • ডিসি আপনি ভালোই প্রস্তাব দিয়েছেন|Trumper সবকিছুই খারাপ ছিল তা নয় কিছু কিছু ব্যাপার সত্যি প্রশংসনীয় | শেখ মুজিব তো বাঙালিকে রাজ্য থেকে বিহারি ক্ষেদাতে অনেক দশক আগেই বলেছিলেন|
  • dc | 122.174.***.*** | ১২ অক্টোবর ২০২১ ১৯:০২499475
  • বিহারি বললে ঠিক জোশ আসে না। খোট্টা বলুন। 
  • guru | 103.15.***.*** | ১২ অক্টোবর ২০২১ ১৯:৩৯499476
  • হিন্দুস্তানী অথবা রাজাকার বললেই সবচেয়ে ভালো হয় | শেখ সাহেব তো সেই কথাই শিখিয়েছেন |
  • aranya | 2601:84:4600:5410:55e8:4fd0:9c12:***:*** | ১২ অক্টোবর ২০২১ ২১:০১499479
  • গুরু আর মূল্যবান মতামত চাইছেন না, উত্তরের অপেক্ষায়- ও থাকছেন না  :-)
  • guru | 103.15.***.*** | ১২ অক্টোবর ২০২১ ২২:২৮499483
  • অরণ্য আমি এখনো আপনার মূল্যবান মতামত চাইছি | কি মনে করেন আপনি পশ্চিমবঙ্গের কি শেখ সাহেবের মতো কোন চিরস্থায়ী  সমাধান দরকার নেই বিহারী অনুপ্রবেশ সমস্যার জন্য ? বাংলাদেশের সমস্ত সাফল্যই মূল কারণ সম্বন্ধে আপনার কি মতামত ?
  • dc | 122.174.***.*** | ১২ অক্টোবর ২০২১ ২২:৪৫499484
  • যাতা অবস্থা। অবশ্য সবার ভয়েসই আসা দরকার :d
  • dc | 122.174.***.*** | ১২ অক্টোবর ২০২১ ২২:৪৫499485
  • যাতা অবস্থা। অবশ্য সবার ভয়েসই আসা দরকার :d
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল মতামত দিন