

r2h | 73.*.*.* | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০০97548খাপ বনাম আদালতের ক্ষেত্রে আদালত একটা জায়গায় উচ্চতর ছিল, যে স্থানিক ও বদ্ধ মরালিটির ধারনার বাইরে একটি বৃহত্তর প্রগতিশীল প্রসেস অনুসৃত হবে বিচারএর জন্যে। কিন্তু ইদানীং যা সব রায় বেরুচ্ছে বা বিচারক বা বিচারপতিদের যা ছিরি, তাতে আর ওরকম বলার উপায় দেখি না। খাপ ইত্যাদির বিরুদ্ধে পশ্চাৎপরতার অভিযোগ আছে, আদালতও সম্প্রতি তেমন কিছু প্রগতিশীলতার পরিচয় দেয়নি।
কিন্তু মোগল আমল থেকে নতুন করে শুরু করাও সম্ভব না। জটিল ব্যাপার।
লেখকের মূল বক্তব্যের সঙ্গে সহমত হতে পারছি না।
খাপ বা গ্রামীণ সালিশি সভা বা আদিবাসী গাঁওতা কখনই রিপাবলিকের আইন ও বিচারব্যবস্থার সামাজিক বিকল্প হতে পারেনা। বর্তমান আইন আদালতের কিছু রায় বা ক্রমাগত একতরফা রায় তাকে খারিজ করে খাপ বা ক্যাঙ্গারু কোর্টকে মান্যতা দিতে পারেনা।
সমাজে বিরুদ্ধ মত ও স্বার্থের সংঘাতের মধ্যে সালিশি ও ফয়সালা করার আবশ্যকতা থেকেই এই জাতীয় সামাজিক গোষ্ঠী/সমিতি গড়ে উঠেছিল। তারা ট্র্যাডিশন ও কাস্টমস বা প্রচলিত গোষ্ঠীর মূল্যবোধের ভিত্তিতে রায় দেয়। রিপাবলিকের আইন ও বিচারব্যবস্থা (সব দেশেই) তারই বিকশিত রূপ। খেয়াল করুন, হিন্দু ল এবং মুসলিম ল গোড়ায় কাস্টমস এর ভিত্তিতেই আইন কোডিফায়েড করেছে।
এটাই খাপের সঙ্গে তফাৎ গড়ে দিয়েছে। রিপাবলিকের ব্যবস্থা ব্যয় বহুল এবং সময়সাপেক্ষ। তাই সাধারণ সিভিল কেসের জন্যে লোক আদালতের মাধ্যমে সুলভ শস্তা এবং সমঝোতাপরক বিকল্প রেজোলুশনের প্রয়াস করা হয়েছে।
যদিও খাপ সুলভ এবং শস্তা কিন্তু এর আইন লিপিবদ্ধ নয়, বরং অত্যন্ত পশ্চাদপদ মূল্যবোধের ভিত্তিতে রায় দেয়। অনার কিলিং তো একটি উদাহরণ মাত্র। অধিকাংশ ক্ষেত্রে জমি ও সামাজিক বিবাদে রায় এবং শাস্তি পাশবিক এবং বর্বর। বেশিরভাগ সময় এদের রায় এবং শাস্তি মেয়েদের বিরুদ্ধে ও দলিত/ গরীবদের বিরুদ্ধে। মাথা মুড়িয়ে দেয়া ঘোল ঢেলে দেওয়া গাঁ ছেড়ে চলে যেতে বলা মোটা অংকের টাকা ফাইন করা ধোপা-নাপিত বন্ধ করা -- এগুলো কমন।
এই প্রবন্ধটি নিতান্তই অ্যাকাডেমিক এবং তাতে গ্রাউণ্ড রিয়েলিটি বা এইসব জাতি পঞ্চায়েতের বিচারের হিংস্রতা একবিন্দুও ধরা পড়েনি।
আর সালিশিতে দু'পক্ষকে খুশি করা? বাজে কথা। খাপ পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে আপিল করার কোন ব্যবস্থা নেই। গাঁয়ে থাকতে হলে মাথা নীচু করে মেনে নিতে হবে ব্যস। রিপাব্লিকের আইনে তবু প্রক্রিয়ার রোডম্যাপ ( সিভিল ও ক্রিমিন্যাল প্রসিডিওর কোড) রয়েছে।
সবচেয়ে কমন এবং নির্মম শাস্তি হল একঘরে করে দেয়া। এ নিয়ে কোন কথা না বলে প্রবন্ধটিতে যেভাবে খাপের অপ্রত্যক্ষভাবে গুণগান করা হয়েছে তাতে আমি বিস্মিত।
তাতিন | 203.*.*.* | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১২:১৩97696রঞ্জনদা,লেখাটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ। একটা জিনিস খেয়াল করবেন আমি মূলতঃ বিবাদ মীমাংসার দৃষ্টান্ত তুলেছি অপরাধের বিচার নিয়ে খুব লিখিনি। যদি লিখি রাষ্ট্রের আদালত অবশ্যই বিচারের প্রহসনে এবং শাস্তির অমানবিকতায় খাপ বা গাঁওতাকে একশ গোলে হারাত। আমরা যদি সিলেক্টিভ বিস্ময়বোধে না ভুগি তাহলে কীভাবে জেলে যাওয়ার শাস্তিগত পরিমাপকে একঘরে করাবা গাঁ ছেড়ে চলে যেতে বলার থেকে কম বলতে পারি? ইন ফ্যাক্ট পুলিশের হাত থেকে পালাবে বলে গ্রাম ছেড়ে বাড়ি ছেড়ে কত লোক কতদিন পালিয়ে থাকে তার ইয়ত্তা নেই।
কোনটা বেশি কোনটা কম বলতে গেলে কোর্টের কয়েকটা রায়কে ব্যতিক্রম বলব আর সালিশির কয়েকটা রায়কে এরকমই হয় বলব এমনটা হতে পারে না।
যেহেতু কোর্ট পুলিশব্যবস্থার উপর দাঁড়িয়ে, ইন ফ্যাক্ট পুলিশের লাঠি আর বন্দুক কেড়ে নিলে কোর্টকে মানুষ লোম দিয়েও পুঁছবে না- তার পিছনের পুরো ভিত্তিটাই আসলে হিংসা। সেইটা সবসময় সালিশিগুলোর ক্ষেত্রে সত্যি নয়।
আর নন্দকুমার থেকে ধনঞ্জয় এই কয়েকটি বিখ্যাত কেস বাদ দিয়েও যদি দেখেন ইতিহাসের সবপর্যায়েই এই ব্যবস্থা একতরফা বিচার করে এসেছে- তার ফ্রিকোয়েন্সি এত বেশি যে সলমন খানরা জাস্ট ভালো উকিল পেলেই রাস্তায় বেরোতে পারেন আর পাড়ার ছিঁচকে চোর জেল হাজতে জীবন কাটিয়ে দেয়- এরকমটাই কোর্টের দস্তুর। সম্ভবতঃ ভারতে শুধু নয় অন্যান্য দেশেও।
র২হ | 73.*.*.* | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০২:২০97832'...রাষ্ট্রের আদালত অবশ্যই বিচারের প্রহসনে এবং শাস্তির অমানবিকতায় খাপ বা গাঁওতাকে একশ গোলে হারাত।...'
"In its verdict on 15 November 1995, the district and sessions court in Jaipur dismissed the case and acquitted all the five accused.[1] Five judges were changed, and it was the sixth judge who ruled that the accused were not guilty, stating inter alia that Bhanwari's husband couldn't have passively watched his wife being gang-raped.[15]
Under pressure from women's groups, the State Government decided to appeal against the judgment. The judgement led to a nationwide campaign for justice for Bhanwari Devi.[15] However, by 2007, 15 years after the incident, the Rajasthan High Court held only one hearing on the case and two of the accused were dead.[15]"
https://en.m.wikipedia.org/wiki/Bhanwari_Devi
(অভিজিতের ফেবু পোস্ট দেখে মনে হল)
রঞ্জনদার রিপাবলিকের আইন আর তার রোডম্যাপ :D :D :D
dc | 103.*.*.* | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৬:০১97850কিন্তু খাপ সালিশি তো অলরেডি সর্ব স্তরেই চালু হয়ে গেছে! এ নিয়ে আর তর্ক করার কি আছে!
ধুর, এই আজকের কেসটা যদি পাড়ার সালিশি বা গ্রামের পঞ্চায়েতের হাতেও অন্ততপক্ষে যেত, এরকম নিদানের পরে পঞ্চায়েতের মাথারা নাপিতের কাছে চুল কাটতে যেতে পারত না, বাজারে আলুপটল কিনতে যেতে পারত না - নিদেন পক্ষে পাড়ার ছেলেরা দূর থেকে টোন টিটকিরি কাটত।
রঞ্জন | 122.*.*.* | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৭:১০97854তাতিন
রিপাবলিকের বিচারের পেছনে যেমন পুলিশ তেমনি পঞ্চায়েতের পেছনে পটেল এবং কোতোযার। দুটোই রাষ্ট্র। বড এবং ছোট, ম্যাক্রো ও মাইক্রো। তফাত খালি স্কেল এর। কাজেই তুলনা হয়না। আলেকজান্ডার ও ডাকাত।
আদৌ কেস নিয়ে চেরিপিকিঙ এর পক্ষে নই, কোনদিকেই। আর গ্রামের মানুষ দেওযানি মামলা যতদূর সম্ভব আদালত না গিয়ে পঞ্চায়েত বা সালিশী সভার কাছে যায়। তাতে দুই পক্ষ খুশি হব এমন নয়।
যা বলতে চাই:
1 রাষ্ট্র এবং বিচার সালের দিকেই ঝুঁকে থাকে, আদালত বা গ্রামের সালিশী সভা।
2 আদালতের বিচারের সময় দুই পক্ষের উকিল থাকে, বিচার পদ্ধতি ও ঠিক ভুল কোডিফাযেড থাকে। আপিল এর জায়গা থাকে। এসব কিছুই সালিশীতে থাকেনা।
3 প্রাইভেট স্পেস এর ধারণা সালিশীতে নেই। আছে প্রচলিত মূল্যবোধ ভিত্তিক শাস্তি যা দলিত এবং নারীর ক্ষেত্রে অমানবিক হয়ে যায়।
4 কোন আদালত জুতোপেটা, সামাজিক ধর্ষণ, মাথা মুভিতে ঘোল ঢেলে দেযার মত বর্বর শাস্তি দেযনা। এর আপিল হয়না।
কাজেই দুটোর খামতি দেখে সালিশী বা খপ বা কাঙারু কোর্ট অপেক্ষাকৃত গণতান্ত্রিক এমন সিদ্ধান্ত সমীচীন না।
* সংস্কার করতে হবে আধুনিক বিচার ব্যবস্থার, পেছন ফিরে কাজীর কাছে কেন যাব? এইটুকুই, নমস্কার।
রঞ্জন | 122.*.*.* | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৭:৪২97857সোমনাথ
এটা আপনার শহুরে বুদ্ধিমানের দিবাসপন। আমার এনজিও ছতরিশগরের গ্রামে কাজ করে ১৫ বছর ধরে। ওদেের আশা এবং বিশ্বাস ছিল এই রাযই হবে। মিঠাই বিতরণ চলছে। আর পঞ্চায়েতের রায় পছন্দ না হলে ? বঙ্গে অমন হয? মোডলদের নাপিিত চুল কাটবে না।
হিন্দি বলযের গ্রামে বসবাস করেননি বা সালিশী দেখেননি _--- গারানটিকে সাথ।
হুতো
তোমার ভঁওরী দেবীর কেসটিই দেখ। আগে পঞ্চায়েতের কাছেই গেছল।
হাইকোর্ট বলে আপীল হয়েছিল, পঞ্চায়েতের সেরকম প্রথা নেই।
খাপে কিন্তু উচ্চতর ধাপে আপিল করার সুযোগ থাকে। S Kaurএর পেপারটায় কেস স্টাডি সহ ধাপগুলো বলা আছে।
র২হ | 73.*.*.* | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৮:২৮97859কিন্তু তাতে লাভ কী হলো? আজ তো বাবরিধ্বংসের রায়ও বেরুলো।
আমি খাপ সালিশি ওসবের সমর্থক নই, তবে রিপাবলিকও বৃহত্তর খাপের থেকে পবিত্রতর কিছু না। আর চেরিপিকিং - সে তো দুপক্ষই বলতে পারে, ওহো এইটা ভুল হয়েছে, আসলে আমরা চমৎকার লোক, চেরিপিক করবেন না :)
আন্ডাসেল, ডান্ডাবেড়ি, সলিটারি - ওসবও তেমন কিছু মানবিক না - আইনসম্মতই সব।
সংস্কার দরকার - কে বলতে পারে, সংস্কার করলে হয়তো খাপও সুন্দর কাজ করবে - মানুষকে বোঝাতে হবে-র মত আরকি :)
রঞ্জন | 2405:*:*:*:*:*:*:* | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২২:৫০97865সোমনাথ
খাপ, সালিশি সভা ও ক্যাঙ্গারু কোর্টে আপিল?
১ এদের কোনটারই কোন লীগ্যাল স্ট্যাটাস নেই। কাজেই এদের যে কোন রায়ের বিরুদ্ধে সেই রিপাবলিক এর আদালতে যাওয়া যায়।
২ আমি বলছি সালিশি সভা, ক্যাঙ্গারু কোর্ট খাপের নিজস্ব আপীলের কথা। রিসার্চ পেপারে মনে হয় খাপের মহাপঞ্চায়েতের কথা বলা হয়েছে। ওটা কোথাও কোডিফায়েড নেই। ফলে কালেভদ্রে বিশেষ স্থিতিতে।
রিসার্চ পেপার টি পড়িনি। ভুল বললে শুধরে দেবেন।
হুতো
1 আজকের রায় মাত্র সিবিআই কোর্টের। এখন ও হাইকোর্ট সুপ্রীম কোর্ট বাকি। মনে করুন পার্লামেন্ট আক্রমণে মৃত্যু দন্ড প্রাপ্ত অধ্যাপক গিলানি আপীল কোর্টে মুক্তি পেয়েছেন এবং জেসিকা লাল কেসে ছাড়া পাওয়া অভিযুক্ত আপীলের জেলে গেলে।
----ওই তিন ধরণের "গত আদালতে" কারও মৃত্যুদন্ড আপীলের বদলে গেছে এমন কোন উদাহরণ?
2 চেরিপিক নিয়ে আমি কোন অভিযোগ করিনি তো! তাতিন আমাাাকে 'সিিি
"সিলেক্টিভ" হতে বারণ করায় আমি আমার পজিশন স্পষ্ট করে বলি যে আমি দুটো ব্যবস্থার সিস্টেমিক তফাত নিয়ে কথা বলতে চাই, কিছু কেস (কোন পক্ষেই) চেরিপিক করে তুলনায় নয়।
৩ না, ডিমে তা দিলে পাখির বাচ্চা জন্মাতে পারে, পাথরে তা দিলে নয়। তেমনি যে আইন পার্লামেন্টে বিতর্ক হয়ে পাশ হয়, তার বেসিস দেশের সংবিধান, তার রিফর্ম সম্ভব
পরিবর্তন হচ্ছে ও। আর টিআই, খাদ্য সুরক্ষা, 377, হিন্দু সম্পত্তি, তিন তালাক ইত্যাদি।
কিন্তু মান্ধাতার আমলের কিছু ট্রাডিশন ভিত্তিক সংস্কার নির্ভর খাপ ইত্যাদির রিফর্ম সম্ভব নয়।
আমি হাইওয়ে আর মাইওয়ে বিমর্শে বিশ্বাসী নই।
আদালতের খামতি দেখালে খপ বা সালিশি ভালো বা এর উল্টো টা--- এই ডিসকোর্সের বাইরে দাঁড়িয়ে দুটোর মধ্যের সিস্টেমিক ডিফারেন্স দেখাতে চেয়েছি।
আর কিছু বলার নেই।:)))
r2h | 73.*.*.* | ০১ অক্টোবর ২০২০ ০০:০৫97867আমিও তো তাই, খাপের খামতি দেখলে আদালত ভালো বা এর উল্টোটা...ইত্যাদি :)
জেসিকা লালের কেস পুনর্বিবেচনার জন্যে যে স্তরে গণআন্দোলন দরকার হয়েছিল, সেটা তো ঐ রিপাবলিকের বিচার ব্যবস্থার ফ্যালাসি দেখিয়ে দেওয়ার জন্যে যথেষ্ট। আন্দোলন না করলে যে আদালতে (সু)বিচার পাওয়া যায়না, তার দস্তাবেজে বড়সড় গোলমাল নিশ্চয় আছে।
তার ওপর জেসিকা লালের বিরাদরি খুবই প্রিভিলেজড।
প্রথম লাইনের শয়তানের ওকালতি করলাম, কিন্তু ব্যাপারটা খুব আলাদা কি? আইন কিছু মরালিটির ভিত্তিতে কাজ করে - দেশের বিরোধীতা করলে বাটাম, রাজ্যপাল, সেনাবাহিনীর বড়কর্তা ইত্যাদিদের টিঁকি ছুঁতে প্রচুর কাঠখড় পোড়াতে হবে, যত পয়সা তত ভালো উকিল, তত ছাড়া পাওয়া সোজা। (মনু শর্ম প্যারোলে বেরিয়ে ফুর্তি করছিল ক'দিন আগে, মায়া কোদনানিও বোধয়)। খাপ টাপেও তাই। যত প্রভাব, যত পয়সা, গাঁয়ের বিরোধিতা করলে বাটাম, সরপঞ্চের টিঁকি ছুঁতে কাঠখড়।
ওদিকে দুই ব্যবস্থাই উকিল বিচারক ইত্যাদিদের মরালিটি দিয়ে প্রভাবিত (কদিন আগে গুয়াহাটিতে সিঁদুর সংক্রান্ত বক্তব্য, বা সমলৈঙ্গিক বিয়ে নিয়ে)।
অধিকন্তু হলো স্থানীয় ব্যবস্থাটা স্থানীয়, রিপাবলিকটা কলোনীয়।
আবারও, আমি বলছি না আমি চাই খাপ, সালিশী ইত্যাদিতে যেতে হবে, ঐটা ইভল্ভ করলে ভালো হত, কিন্তু সে সম্ভাবনা গেছে। কিন্তু এখানে খাপ নামটা চালু হয়ে গেছে হরিয়ানা ইত্যাদি থেকে, আসলে ব্যবস্থাটা তো গ্রামীন ভারতের হাজার বছরের প্রাচীন চালু ব্যবস্থা যা অনেক ক্ষেত্রে কাজ করে (আদিবাসী সমাজগুলিতে জমিজায়গার হিসেব নিকেশ, ছোট খাটো ঝগড়া বিবাদ - রিপাবলিকের আদালতে?); সেইটাকে নস্যাৎ করে দিয়ে আমাদের মহামান্য আদালত যে আজ বাবরি কাল উন্নাও পরশু কামদুনির প্রমান পাচ্ছে না, বা তার পরদিন ধনঞ্জয়ের প্রমান পেয়ে যাচ্ছে, এবং যার সংস্কার দরকার, তাকে খুব বেশি উচ্চাসনে বসাতে দ্বিধা হচ্ছে।
আদালত নিখুঁত নয়, তাকে সংস্কার করতে হবে, ওদিকে সালিশি নিখুঁত নয় তাই সেটা এক্কেবারে ফেলে দাও - এইটা গোলমেলে। আইন আদালত আধুনিক ব্যবস্থা, অনেক বড়সড় ব্যাপার, অনেক টাকাকড়ি আছে, ঐটাই টিঁকবে। কিন্তু স্থানীয় সালিশির থেকে তার দু'চার কথা শেখার তো আছেই। জজ মোটরসাইকেল চেপেছে তাই নিয়ে উকিল তাকে দুয়ো দিয়েছে, তাই উকিলকে শাস্তি দাও, এ কীরকম রিপাবলিক মামদোবাজি।
"ডিমে তা দিলে পাখির বাচ্চা জন্মাতে পারে, পাথরে তা দিলে নয়"
আমার বক্তব্যও কিছুটা এইরকম ছিল। উকিল এবং আইনব্যবসায়ের যে বিশাল সার্কেলটা আছে। যেখানে দুজন লড়ছে এবং যার দামি উকিল সে এগোচ্ছে, সেই সিস্টেম কীভাবে শুধরে যাবে? যার পয়সা কম সে কেন বেটার বিচার পাবে? যদি সেটে পেতে শুরু করে, তাহলে উকিলদের রোজগার বাড়বে না বরং কমবে।
কোর্ট নিজেই কোর্টকে শুধরোতে দেবে না, কারণ সেটা তার নিজের স্বার্থ-বিরোধী। এইটা আমার লজিকাল ডিডাকশন হিসেবে মনে হয়। পৃথিবীর কোনও দেশে আইন ব্যবসাকে ওঠানো গেছে কি? অথবা, গরিব লোক বড়লোকের থেকে বেটার বা সমান বিচার পাচ্ছে এরকম হয়েছে কি?
দ্বিতীয়তঃ কোর্ট একা নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে না। রাষ্ট্রীয় হিংসার বন্দোবস্ত না থাকলে কোর্ট অর্থহীন হয়ে পড়ত। এবং হিংসাসংগঠনটি শত রিফর্ম স্বত্তেও হিংসা সংগঠন, তার সেই চরিত্র থাকবেই। ধনতন্ত্র থেকে পার্টিতন্ত্র কোথাও এর ব্যতিক্রম হয় না। কোর্টকে সুবিচার করতে হলে পুলিশ রিফর্ম হতে হবে। পুলিশ রিফর্মড হয়ে গেলে সে লোককে অনুনয় বিনয় বড়জোর প্যাসিভ রেসিস্ট করে বাধ্য করবে (এইটার চেষ্টা অনেকসময় হয়)। কিন্তু, পুলিশ অহিংস হয়ে গেলে রাষ্ট্র চলবে কী করে?
এইদুটো (যদি বোঝাতে পারি) অনপনেয় দ্বন্দ্ব মনে হয়। এর পাশাপাশি রাজনীতি, দুর্নীতি, বিচারক/শান্তিরক্ষকদের ব্যক্তিগত বায়াস, রেসিজম, শভিনিজম ইত্যাদি আসে। তা হয়ত অপনেয়, কিন্তু বিস্তর কঠিন।
সোমনাথ,
আপনার মূল বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি একমত। কিন্তু সেই একই পাওয়ার স্ট্রাগল গাজোয়ারি সব কিছু লোক্যাল স্তরেও আছে। গ্রামীণ সমাজের বিচার দেশের বাইরে রেয়ারিফায়েড কিছু নয়। যতদিন শ্রেণীবিভাগ এবং সম্পদের বিশাল তারতম্য থাকবে ততদিন সব দেশে সব সমাজে এটা হবেই। রিপাবলিকের কলোনিয়াল ছাঁচে তৈরি আইন/বিচার ব্যবস্থা বৈষম্যমূলক আর সামন্ততান্ত্রিক ধার্মিক সংস্কার ভিত্তিক দেশি গ্রাম্য বিচারসভা খানিকটা ইগলেটেরিয়ান? এটা নিজেকে চোখ মারা।
তবু আদালতে উকিল দুপক্ষেই লাগাতে পারে।
সালিশীতে সেসবের কোন সুযোগ নেই। আর 'দেশের কুকুর ধরি বিদেশের ঠাকুর ফেলিয়া'র ব্যাপারটাআমরা পেছনে ফেলে এসেছি। এই অজুহাতে যেমন ইংরেজিকে বাদ দেওয়া যায়না ইত্যাদি।
এত বড়লোকের পক্ষে হেলে থাকা ব্যবস্থায়ও কিচু ফাঁক পাওয়া যায় দশবছর পরেও কেউ কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হয়। প্রাণদন্ড ঘোষণার পরও অনেকগুলো চ্যানেলের মধ্যে দিয়ে সেটা একজিকিউট না হয়ে লম্বিত থাকে।
খপে প্রাণদন্ডের ঘোষণা হলে?
গ্রামীন ব্যবস্থাইয় ইন্টারভেন করে তাকে সংস্কার করার একটা নিদর্শন দিয়েছি শ্রমজীবী মহিলা সমিতির পেপারে। কোর্ট সংস্কারের থেকে সহজ অবশ্যই।
দুটোর মধ্যেই ফ্ল আছে। আর গ্রাম্য ব্যাবস্থাও আজকের রাজনীতি সমাজের বেড়ে চলা বৈষম্য রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। ব্রিটিশ আমলে সামন্ততন্ত্রের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে তার প্রভাবও এগুলিতে নিশ্চয়ই পড়েছে। যেমন ধরুন, খাপের মতন অন্য পঞ্চায়েতেও হয়ত স্তর বিভাগ ছিল, কিন্তু সামাজিক বিপর্যয়ে সেগুলি ভেঙে গেছে।
তাস্বত্তেও, রাষ্ট্রিক ব্যবস্থা কাঠামোগত দিক থেকে অনড়। দেশে রাষ্ট্র পরিবর্তন কয়েক শতাব্দীতে একবার হয়, তাও সচরাচর ব্যবস্থা পালটায় না। আমার মনে হয় সমাজের ব্যবস্থা তুলনায় বেশি ফ্লুইড এবং তার মধ্যে কাজ করে তাকে পালটানো সহজতর। এর উদাহরণও বহু আছে।
শ্রমজীবি মহিলা সমিতির পেপারে আপনার লেখাটি পড়তে চাই, লিংক বা পিডিএফ পাঠাবেন? আমার নম্বর ৮৫৮৩০৪১৩৯৫।
@তাতিন, সোমনাথ এবং হুতো,
এই বিমর্শের পর উপরের প্রবন্ধটি আবার পড়লাম। আপনাদের বক্তব্যটি এখন অনেকটা বুঝতে পারছি। সম্ভবতঃ কাছ থেকে দেখা কিছু তেতো অভিজ্ঞতার ফলে আমার গ্রামীণ স্থানীয় বিচার পদ্ধতি নিয়ে খানিকটা পূর্বাগ্রহ রয়েছে।
এখন তার থেকে 'খানিকটা' সরে এলাম।
"বেশিরভাগ আক্রান্ত মহিলা যেহেতু নিজের পরিবার টিকিয়ে রাখতে চেয়েছেন, ঘরোয়া হিংসার প্রতিকার করে সেইটা করার জন্য সালিশি রাষ্ট্রীয় বিচারের থেকে বেশি কার্যকরী বলে তাঁরা দেখেছেন"। এটা সত্যি কথা, ১০০%।
আমার সঙ্গে ধৈর্য ধরে মত বিনিময় করার জন্যে এবং একপেশেপনাকে দেখিয়ে দেয়ার জন্যে আপনাদের ধন্যবাদ।
রঞ্জনদা,
পুরোনো একটা মেল আইডি ছিল, সেটা অ্যাক্টিভ কি না জানি না, পেলে জানাবেন।
r2h | 73.*.*.* | ০১ অক্টোবর ২০২০ ১৯:৪৫97918ইয়ে, পূর্বাগ্রহ মানে কি আগে থেকে আগ্রহ? কিন্তু পড়ে তো আগ্রহের অভাব মনে হচ্ছে। আর বিমর্শ মানে কী? ব্যাপারটা বুঝতে পারছি। কিন্তু বাংলায় কী?
একক | ০১ অক্টোবর ২০২০ ২০:০৬97920ওটা বাংলা . মানে পক্ষপাতিত্ব :))
r2h | 73.*.*.* | ০১ অক্টোবর ২০২০ ২০:১৭97921তাহলে তো উল্টো দাঁড়াচ্ছে ব্যাপারটা। রঞ্জনদার - গ্রামীণ স্থানীয় বিচার পদ্ধতি নিয়ে খানিকটা পক্ষপাতিত্ব রয়েছে? তা কী করে হয়।
একক | ০১ অক্টোবর ২০২০ ২০:৩০97923আরে যেখানে পক্ষপাত বায়াস অর্থে ব্যবহৃত . বায়াস পজিটিভ নেগেটিভ দুরকম ই হয় |
r2h | 73.*.*.* | ০১ অক্টোবর ২০২০ ২১:১৪97926আচ্ছা, সেরকম হতে পারে বটে।
r2h | 49.*.*.* | ২৫ জানুয়ারি ২০২১ ১৩:৪৪102024আইন আদালত
https://www.bengalinfo.com/newsdetail.php?newsid=148801
"...পকসাে আইনের আট নং ধারা মােতাবেক ওই অভিযুক্তের তিন বছর জেল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আইনের নতুন ব্যাখ্যা দিয়ে বিচারপতি ভারতীয় দন্ডবিধির ৩৫৪ এবং ৩৪২ ধারা মােতাবেক এক বছরের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন। আর ব্যাখ্যায় আদালত জানিয়েছ শিশুদের ক্ষেত্রে জামাকাপড় খুলিয়ে বা জামাকাপড়ের ভিতরে হাত গলিয়ে তাদের বুক বা গােপনাঙ্গ স্পর্শনা করা হলে সেটা যৌন নির্যাতন নয়।... (দৈনিক স্টেটসম্যান, 25 January 2021)"
https://www.bengalinfo.com/newsdetail.php?newsid=148803
"...এই ঘটনায় মেয়েটিকে বাড়িতে ডেকে তার সঙ্গে অসভ্য আচরণ করেন এক ব্যক্তি। তার স্তনে হাত দিয়ে পোশাক খোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই মুহূর্তে তাঁর মা এসে যাওয়ায় মেয়েটিকে ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে অভিযুক্ত। তার নামে স্থানীয় পুলিস স্টেশনে এফআইআর করা হয়। অভিযোগ ভিত্তিতে আটক করা হয় ওই ব্যক্তিকে তারপর বম্বে হাইকোর্ট পর্যন্ত জল গড়ায়। শুনানির রায়ে হাইকোর্ট জানায় পকসো আইনের আওতায় ওই ব্যক্তি দোষী নয়। তবে, ৩৫৪ (শ্লীলতাহানি) ও ৩৪২ (জোর করে আটকে রাখা) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। কারণ এই ঘটনায় নাবালিকার ত্বকে স্পর্শ ও পেনিট্রেশন (Penetration) বা অঙ্গপ্রবেশের মতো ঘটনা ঘটেনি।... (২৪ ঘন্টা, 25 January 2021)"
r2h | 49.*.*.* | ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ২১:১১102365
kumarjit mandal | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ২০:৪০102475আদালত নির্ধারিত বিচার ব্যবস্থার বাইরে অনেকগুলি ইনফরমাল ব্যবস্থা শুধু এদেশে নয়, অন্যান্য দেশেও চালু আছে। এগুলি র আইনি স্ববীকৃতি নেই, কিন্তু এর আওতাভুুক্ত মানুষের মধ্যে জনপ্রিয়তা আছে। বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর এবং চার্চের নিজস্ব বিচার পদ্ধতি থাকে। কিন্তু ওই সব বিচ প্রক্রিয়া খুুব ই হটকারী। ওদের বিচার প্রণালী র সংস্কার হয়না বা খুব দেরীতে হয়।
র২হ | 96.*.*.* | ০৩ মার্চ ২০২৪ ২১:২৭529011
r2h | 134.*.*.* | ২৬ আগস্ট ২০২৫ ২১:১১733654