আলোয় দূষণ ভরা……
গতকাল খবরের কাগজে সম্পাদক সমীপেষু কলামে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবঙ্ এর তেমাথানি থেকে লেখা শ্রী অরিজিৎ দাস অধিকারী মশাইয়ের লেখা নিত্য ধ্বংস হচ্ছে জৈবঘড়ি শীর্ষক নিবন্ধটির প্রসঙ্গ সূত্র ধরেই এই আলোচনা। তিনটি কাল্পনিক সংলাপের মাধ্যমে অরিজিৎ বাবু তাঁর বক্তব্য পেশ করেছেন যার মূল আলোচ্য আলোক দূষণে জেরবার হয়ে প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠছে মানুষ থেকে শুরু করে শেয়াল, পেঁচা, চামচিকা, বাদুড়ের মতো একান্তই নিশাচর প্রাণির দল। ঝা চকচকে হয়ে উঠতে আমাদের শহর,শহরতলি মায় নিভৃত গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে গেছে উজ্জ্বল আলোর ঝলকানি। আর এর ফলেই বিধ্বস্ত হয়ে গেছে আমাদের সহজাত বায়োলজিক্যাল ক্লক বা জৈব ঘড়ি। সেই ছেলেবেলা থেকে শুনে আসছি ‘তমসো মা জ্যোতির্গময়’ র শাশ্বত মন্ত্র– মনের সমস্ত জড়তা অবচেতনকে দূরে সরিয়ে আলোকময় চেতনার খোঁজ করা। আর আজ! সেই আলোই আলোচনার আখ্যান আখ্যায়িত করছে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র পরিবেশগত সমস্যাকে কেন্দ্র করে।
আলোর সমস্যা,আলো থেকে দূষণ এই সময়ের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠতে চলেছে। লাইট পলিউশন বা আলোক দূষণ আসলে কী? অন্ধকার ঘরে এক সামান্য পিদিমের স্নিগ্ধ আলোর দ্যুতি সব আঁধার দূর করে। এক্ষেত্রে সমস্যা তো নেইই, বরং তা মনকে ভরিয়ে দেয় অন্যতর এক আশ্চর্য অনুভবে। শব্দ, আলোর মতো প্রয়োজনীয় জড় শক্তির মাত্রাছাড়া ব্যবহারকেই সহজ কথায় বলা যায় দূষণ – শব্দদূষণ ও আলোক দূষণ। বলাবাহুল্য যে এমন মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে পরিবেশ মানের অনিবার্য অবনমন ঘটে, যেমন আলোচনা করেছেন অরিজিৎ বাবু। দিনের বেলায় আমাদের মাথার ওপর যে লক্ষ কোটি ওয়াটের বাল্বটি জ্বলে ঠিক সন্ধ্যায় তিনি বিশ্রামে যান। ধরা এ্যাপার্টমেন্টকে আলোকিত রাখার দায়িত্ব যাঁকে সঁপে দিয়ে যান তাঁর ক্ষমতা সীমিত ; ফলে রাতের অন্ধকার ঘোচাতে আমাদের ভরসা রকমারি বৈদ্যুতিক বাতির আলো। এইসব আলো ইলেক্ট্রিসিটির সাহায্য নিয়ে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ ছড়িয়ে অন্ধকারকে দূরে হটিয়ে দিয়ে আলোয় ভূবন ভরিয়ে দেয়। আমরা উজ্জ্বল হয়ে উঠি। আমাদের সব মলিনতা,সব দীনতা, সব কালিমা নিমেষেই ঢাকা পড়ে যায়। অথচ এই বিষয়টি নিয়ে একটু অন্যরকম ভাবনার ডুবতে হবে আমাদের সকলকে। আপনারা ভাবুন। এই নিবন্ধের একদম শেষে পৌঁছে এর উত্তর দেবো।
আসলে এই সময়ের দুই দুষণ ক্ষেত্র – আলো এবং বায়ু পরস্পর নিবিড় সম্পর্কে সম্পর্কিত। নাগরিক স্বাস্থ্যের ওপর আলোক দূষণের প্রভাব নিয়ে আমরা কেউই এখনও সেভাবে সচেতন নই , আর সেই কারণেই হয়তো সরব নই । আমাদের মাথায় রাখতে হবে যে আলোক দূষণের বিষয়টি একান্ত ভাবেই পরিবেশের গুণগত মানের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে। আলো জ্বললেই তা থেকে দূষণ হচ্ছে এমনটা কিন্তু কখনোই নয়। আলো থেকে আদৌ দূষণ হচ্ছে কিনা তা নির্ভর করে কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় ঠিক কতো আলো জ্বলছে, তাদের ঔজ্জ্বল্য কতটা, অনুভূমিক তলের ওপর ঠিক কতটা পরিমাণ আলো ছড়িয়ে পড়ছে, নিকটবর্তী উপাদানগুলো থেকে – যেমন ধরা যাক রাস্তা ,ফুটপাত, দেয়াল কিংবা জানালা থেকে ঠিক কতটা আলো প্রতিফলিত হচ্ছে এবং অবশ্যই সেই সময়ের আবহিক পরিস্থিতি ঠিক কেমন তার ওপর। অবশ্য ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার নিরিখে আলোক দূষণের মাত্রা পরিমাপনের একটা অপেক্ষাকৃত সহজ উপায় আছে। আর তা হলো রাতের আকাশের স্বাভাবিক দৃশ্যমানতা কতদূর পর্যন্ত বজায় থাকছে তার ওপর নির্ভর করে আলোক দূষণের মাত্রা ঠিক করা। এই নিয়মে যদি দেখা যায় যে রাত আকাশের স্বাভাবিক তারকা পটের ১০% সহজে দৃশ্যমান নয় তাহলেই ধরে নিতে হবে যে রাতের পরিবেশ আলোক দূষণ আক্রান্ত।
একটা প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার কথা বলি। বছর কয়েক আগের কথা। উল্কাপাতের ঘটনার সাক্ষী থাকতে জনাকয়েক উৎসাহী ছাত্রদের নিয়ে জনা তিনেক মাস্টারমশাই শহর ছেড়ে পাড়ি দিলাম উত্তর ২৪ পরগণার এক বর্ধিষ্ণু জনপদের উদ্দেশ্যে। উল্কাপাতের মাহেন্দ্রক্ষণ উপস্থিত হতেই মালুম হলো আমাদের মাথার ওপরে চন্দ্রাতপের মতো প্রসারিত আলোকিত নভোমন্ডল আমাদের উদ্দেশ্য পূরণের পথে মস্ত বড়ো বাঁধা। অথচ এই আকাশমণ্ডলী আশ্চর্য সুন্দর রূপ প্রত্যক্ষ করেছি কতো কতো বার পুরুলিয়ার মাঠ প্রান্তরে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জঙ্গলমহলে, বালেশ্বরের প্রসারিত সমুদ্র সৈকতে। জানিনা নাগরিক উন্নয়নের ডঙ্কার শব্দে মায়াবী আকাশ আলোর আঁচলে মুখ লুকিয়েছে কিনা ! আজকাল দেশের ছোট ছোট অখ্যাত জনপদের আকাশও হারিয়েছে রাত আকাশের অপার গভীর সৌন্দর্য। যে সব মানুষ এখনও রাতের অন্ধকারে আকাশের বুকে তারকা লেপনি পাঠে নিমগ্ন থাকতে ভালোবাসেন তাঁরা এই কৃত্রিম আলোর উল্লাসে অনেকটাই মুষড়ে পড়েছেন। খুবই স্বাভাবিক এমন ঘটনা। আজকাল রাত আকাশে ধ্রুব তারাকে খুঁজে পেতে, রীতিমতো হয়রান হতে হয় আলোকাসুরের দাপটে।
আলোক দূষণের বিষয়টিকে আদৌ দূষণ বলা যায় কিনা তা নিয়ে কিন্তু নানা মহলে নানা মতের টানাটানি রয়েছে । ঝা চকচকে উন্নয়নের তত্ত্বে যাঁরা বিশ্বাসী তাঁদের মতে আলোক দূষণ মোটেই দূষণ নয়, আলো হলো প্রগতির অন্যতম সূচক।
এটা অবশ্য ঘটনা যে দেশের মানুষ যতো বেশি আলো জ্বালায় সেই দেশ ততো বেশি উন্নত। মজা হলো দূষণ বললেই আমাদের মনে মোটা দাগের কয়েকটি উপাদানের কথা প্রথমে মনে আসে - রাসায়নিক সার, কীটনাশক , জীবাশ্ম জ্বালানি, প্লাস্টিক বর্জ্য কিংবা কার্বন ডাই অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড ইত্যাদি। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী,দূষণ মানেই হলো পরিবেশে এমন কিছু পদার্থের অনিয়ন্ত্রিত সংযোজন যা তাদের স্বাভাবিক বিয়োজন হারের তুলনায় অনেক বেশি। এই ধারণার প্রেক্ষাপটে আলোক দূষণকে ঠিক কীভাবে আমরা দূষণের মাপকাঠিতে বিচার করবো? এই অবস্থায় অতিরিক্ত মাত্রায় আলো জ্বালানোর বিষয়টিকে কেউ কেউ ন্যুইসেন্স বা উপদ্রব হিসেবে চিহ্নিত করবার পক্ষপাতী , ঠিক চেনা ছকের দূষণ নয় । অবশ্য এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে আস্তিন গুটিয়ে তেড়ে আসার লোকজনও নেহাত কম নয়। এঁদের মতে– However, since light pollution disperses energy, and energy disrupts the environment,it can legitimately be considered a form of pollution. মোদ্দাকথা হলো এই, যে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যায় কৃত্রিম আলো জ্বালানোর ফলে রাতের স্বাভাবিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের হানি হয় ; সুতরাং জল বা বায়ুদূষণের মতো আলোক দূষণ নিছক উপদ্রব নয় ,এটি দূষণেরই একটি বিশেষ রূপ।
আলোক দূষণ মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। দিনের বেলায় সূর্যের আলো আমাদের কর্মচঞ্চল রাখে। রাতের অন্ধকার নেমে এলেই আমাদের দেহযন্ত্র বিশ্রামের জন্য স্বাভাবিক ভাবেই প্রস্তুতি শুরু করে। দিনে কাজ, রাতে ঘুম – প্রকৃতি নির্দিষ্ট সহজাত ছন্দেই আমাদের শরীরের জৈব ঘড়ির প্রাকৃতিক ছন্দোময় চলন। নিশাচর প্রাণিদের বেলায় অবশ্য এই নিয়মের ব্যতিক্রম লক্ষ করা যায়। বলাবাহুল্য তেমন বিপরীত চলনেই তাদের অভ্যস্ত করেছেন বিধাতা। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত মাত্রায় অবাঞ্ছিত আলোর উপস্থিতি মানুষ সহ অন্যান্য প্রাণিদের শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আধুনিক নগরজীবন আমাদের উপহার দিয়েছে আলোকোজ্জ্বল রাত, বিনিময়ে আমরা হারিয়েছি স্বস্তি ও স্বাস্থ্যকর রাতঘুম। আমাদের জীবন এখন আলোয় আলোয় আলোকিত – ঘরের সাবেকি ফিলামেন্ট বাল্ব কবেই অদৃশ্য হয়ে গেছে ; নিওন টিউবের যুগ পার হয়ে সি.এফ.এল . পর্ব মিটিয়ে আমরা এখন ঝাঁ চকচকে এল.ই.ডির হাত ধরেছি। আর আলো তো শুধু ঘরের চৌহদ্দিতে সীমাবদ্ধ নেই রাস্তাঘাট, বাজার, শপিং মল, গাড়িঘোড়া সবকিছুই আজ আলোর ঝলকানিতে উল্লসিত। এই ঠিকরে পড়া আলোর দাপটে পৃথিবীর নিশি বাসর বিলকুল লোপাট হবার জোগাড় হয়েছে। তারকাখচিত রাত আকাশের দর্শন এখন দুর্লভ। আজকের দিনে এই সমস্যায় ভূক্তভোগী গোটা দুনিয়া।
রাতের সঙ্গে ঘুমের যে নিগূঢ় শান্তিময় সম্পর্ক তা আজ বেমালুম লোপাট। আমাদের সহজাত carcadian rhythm বা দেহঘড়ি,যা আমাদের দৈনন্দিন সমস্ত ক্রিয়াকলাপের মূল হোতা, বিলকুল বিগড়ে যাওয়ার মুখে। অথচ আমাদের ঘুমিয়ে পড়া, জেগে ওঠা, শরীরী তাপমাত্রা থেকে শুরু করে আমাদের মনের অলিগলিতে অবস্থান করা নানান অভিসন্ধি, খিদে পাওয়া বা না পাওয়া সবকিছু সামলে নেয় মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে থাকা সুপ্রাকিয়াসম্যাটিক নিউক্লিয়াস যা তার হাজার বিশেক কোশ পল্টন নিয়ে আমাদের দেহঘড়িকে নিরন্তর সক্রিয় রাখে। সমস্ত প্রাণিদের ক্ষেত্রেই এই দেহঘড়ির সমান দাপট। রাতের বেলা মেলাটোনিন নামের একটি হরমোন বেরিয়ে আসে, দেহঘড়িকে সচল রাখতে যার অনন্য ভূমিকা রয়েছে। যে কোনো রকম আলোর উপস্থিতি এই নিঃসরণ প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে ফলে ঘুম কমে যায়, ক্লান্তি বোধ হয়, মাথা ধরে, বেড়ে যায় স্ট্রেস বা মনোদৈহিক চাপ, উৎকন্ঠা ও আরও নানান শরীরী উপসর্গ। খুব সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে রাতঘুমের অভাবে মেলাটোনিন কম নিঃসৃত হলে ক্যানসার হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। American Medical Association এক নির্দেশনায় রাতের বেলা কৃত্রিম আলোর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার কথা বলেছে, বিশেষ করে নীল আলো। নীল আলো মেলাটোনিন তৈরির ওপর সবথেকে গভীর প্রভাব ফেলে। ঘুম - এক প্রশান্তির সময়। এই সময়কে হারিয়ে ফেললে বিপদ আমাদেরই।
মানুষের পাশাপাশি সাধারণ প্রাণিদের স্বভাবজ অভিব্যক্তি এবং আচার আচরণের ওপরও অতিরিক্ত রাত-আলো গভীর প্রভাব ফেলে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে প্রাণিদের প্রব্রজন প্রকৃতি, জেগে ওঠা ও ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস এবং আবাসিক এলাকা নির্বাচনের ওপর আলোক দূষণের গভীর প্রভাব রয়েছে। আমার বাগানে ভোর বেলা শিস্ দিয়ে গান শোনানো দোয়েল পাখি রাত দুটোর সময় নাগাড়ে শিস্ দিচ্ছে , ফিঙে পাখি রাত এগারোটার সময় উড়ে উড়ে পোকা ধরছে– এমন ঘটনা আকছার প্রত্যক্ষ করি। রাস্তার উজ্জ্বল আলোর ঝলকানিতে ওরা বিভ্রান্ত হচ্ছে বুঝতে পারি । প্রব্রজন কালে আকাশে নক্ষত্রের অবস্থান আর চাঁদের স্নিগ্ধ আলোর দ্যুতিকে দিশারী করে সমুদ্র কাছিম আর পাখিরা হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ফেরে নতুন আস্তানার উদ্দেশ্যে। অতিরিক্ত মাত্রায় আলোর উপস্থিতিতে প্রতিনিয়ত বিভ্রান্তির শিকার হতে হয় তাদের। কখনো কখনো পথভ্রষ্ট হয়ে মারা যায় তারা। ডিম ফুটে কাছিম শাবকেরা সূর্যের আলো দেখতেই অভ্যস্ত। সেক্ষেত্রে সৈকত বরাবর উজ্জ্বল আলোর ঝলকানি তাদের সময় নির্ধারণ করতে বাধা দিচ্ছে। রাতকে দিন ভেবে সমুদ্রে পাড়ি দিতে গিয়ে বেঘোরে প্রাণ হারাচ্ছে তারা।
পাখিরাও এমন ভ্রান্তির জালে অনিচ্ছাকৃত ভাবে জড়িয়ে পড়ছে। দেখা দিচ্ছে খাবারের অভাব কেননা আলোর আকর্ষণে ভিড় জমায় অসংখ্য পোকামাকড়। আলোর তীব্রতায় তারা মারা যায়, ফলে পাখিদের খাদ্যের জোগানে টান পড়ে, তারা অপুষ্টিতে ভোগে এবং মারা যায়। এজন্য পৃথিবীর অনেক দেশেই পাখিদের প্রব্রজন কালে নির্দিষ্ট সময়ের পর বাড়ির বাইরের আলো বন্ধ করে দেয়া হয়।
জার্মানিতে Turdus merula বা ব্ল্যাক বার্ডের ওপর পরীক্ষা করে দেখা গেছে প্রত্যন্ত গ্রামীণ অঞ্চলে থাকা পাখিদের তুলনায়অঞ্চলের পাখিরা শহর বা শহরের লাগোয়া এলাকার পাখিরা অনেক আগেই জেগে ওঠে এবং গানের রেওয়াজ শুরু করে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা দেরিতে। আসলে শহরের আলো আর মাত্রাতিরিক্ত শব্দ দূষণ পাখিদের এমন বিভ্রান্তির প্রধান কারণ। জলের নিচে কৃত্রিম আলোর ব্যবহার করার ফলে জলজ প্রাণিদের বাস্তুতন্ত্রের শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয় ফলে তাদের আচরণে লক্ষণীয় পরিবর্তন ঘটে। এমন উদাহরণ অনেক আছে। অতিরিক্ত মাত্রায় আলোর উপস্থিতিতে প্রতিনিয়ত নানান নতুন আচার আচরণের ব্যতিক্রম নজরে পড়ে।
এবার আলো নেভানোর সময় হলো। আপনাদের একটু অন্যরকম ভাবনায় জমতে বলেছিলাম। উত্তর পেলেন? আলোক দূষণ থেকেই অন্যতর দূষণের সূচনা হয় যা পরিণামে প্রভাব ফেলে দেশের অর্থনীতির ওপর। আলো জ্বালানোর জন্য চাই ইলেক্ট্রিসিটি। কয়লা বা অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে মিলবে এই বিদ্যুৎ। কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে বাড়বে বায়ুদূষণের মাত্রা। তাই যতো বেশি আলো তত বেশি বায়ুর দূষিত হবার সম্ভাবনা। এই ঘটনা ঘটছে সব দেশেই। পরিমিতি বোধ থেকেই সুস্থিতির সূচনা। সুস্থিত যাপন আমাদের বেঁচে থাকাকে নিরাপদ করে। নির্বিঘ্ন শান্ত জীবন যাপনের জন্য রাত আলোর ঝলকানি একটু কম হলে ক্ষতি কি? আসুন তারাভরা রাত আকাশের নিচে শান্ত হয়ে দুদণ্ড দাঁড়িয়ে থাকি ।
ঋণ স্বীকার -
National Geographic Magazine.
International Dark Sky Association Guide Book.
“Our Vanishing Night” by Verlyn Klinkenborg.
“ নিত্য ধ্বংস হচ্ছে জৈবঘড়ি” – অরিজিৎ দাস অধিকারী, বর্তমান পত্রিকা, মার্চ ৩১,২০২৫.
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।