এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • ইরান প্রশ্ন

    Tirtho Dasgupta লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১১ জানুয়ারি ২০২৬ | ৪০৩ বার পঠিত
  • চিত্র - ১
    ২০২২-এ যখন পুলিশ লকআপে মাসা আমিনীর মৃত্যু নিয়ে ইরান তোলপাড়, মেহনাজ তখন ও প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি। তার মা তাকে যেতে দেয়নি রাস্তায় ইরানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে। ঘরে বসে দেখেছে কিভাবে পুলিশ ও মিলিশিয়া নির্বিচারে গুলি ও লাঠি চালিয়েছে। ১৯ বছরের কম্পিউটার সায়েন্সের ছাত্র মেহনাজকে এবার আর রোখা যায়নি। মেহনাজের যুক্তি খুব সহজ - ইরানীয় প্রশাসন এমনিতেই ছাত্র-যুবদের ধরে ধরে জেলে পুড়ছে, অত্যাচার করছে, গুলি করছে - তাহলে আর উপযুক্ত সময়ের জন্যে অপেক্ষা করে লাভ কী? তাই সেও তার মায়ের নিষেধ না শুনে রাস্তায় নেমে পড়েছে তার সাথীদের সাথে।

    চিত্র - ২
    ওদিকে ইরানের শেষ শাহের নির্বাসিত পুত্র রেজা পাহলভী সামাজিক মাধ্যমে ইরানীয় জনতাকে ডাক দেন ঠিক রাত ৮-টায় খামেইনি বিরোধী স্লোগান দিয়ে রাস্তায় নামতে। সংবাদমাধ্যম গুলো বলছে নির্বাসিত রাজপুত্রের এই আহবানে যেন আগুনে ঘি পরে। বেশ কিছু জায়গায় রেজার নামে, পুরোনো শাহের রাজতন্ত্রের পক্ষেও স্লোগান শোনা গেছে, বিশেষত ইরানের পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে, যেখানে ইরানি রাজতন্ত্রের সমর্থন এককালে খুব শক্তিশালী ছিল। যদিও রেজা নিজে রাজতন্ত্র ফেরানোর ব্যাপারটা পুরোপুরি জনগণের রেফারেন্ডামের উপর ছেড়ে দিয়েছেন। তার দাবী, মোল্লাতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে দেশে ব্যক্তি-স্বাধীনতা, নারী-স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা।

    চিত্র - ৩
    এইরকম অস্থির সময়ে ইরানের শত্রু আমেরিকা ও ইজরায়েল এই গণ-বিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়েছে এবং দরকারে আন্দোলনকারীদের সমর্থনে ইরানের সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। খামেইনির সরকার ও সেই সুযোগে এই আন্দোলনকে বিদেশী শক্তি কতৃক সংগঠিত বলে অবৈধ ঘোষণা করছে এবং বিক্ষোভকারীদের কঠোর শাস্তির হুমকি দিচ্ছে।

    এই তিনটি চিত্র এইজন্যেই দেয়া যে ইরানের বিক্ষোভ ও গণ-আন্দোলন একটি বহুমাত্রিক ঘটনা যার প্রভাব শুধুমাত্র ইরানের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দগুলির উপর নয়, বস্তুত আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও তৃতীয় বিশ্বের রাষ্ট্র-বিরোধী আন্দোলনের উপরেও বর্তায়।

    ইরান প্রশ্ন আমাদের আবার কতগুলি চেনা দ্বন্দ্বের মুখে এনে দাঁড় করায় - এই গণ-আন্দোলন স্বতঃস্ফূর্ত না বিদেশী শক্তি দ্বারা সংগঠিত? প্রতিক্রিয়াশীল, ধর্মীয় মৌলবাদী রাষ্ট্র বনাম সাম্রাজ্যবাদী, আধিপত্যকামী রাষ্ট্র, কে শ্রেয়? জনমানুষের স্বাধীনতা, গণতন্ত্রের দুর্নিবার আকাঙ্খা কি দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত করবে?

    দুর্ভাগ্যবশত এই প্রশ্নগুলোর কোনো সহজ উত্তর নেই। ইতিহাস থেকে আমরা দেখেছি ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, লিবিয়ার মতো ইসলামী দেশগুলোতে পশ্চিম বিরোধী শক্তি যখন একত্রিত হয়েছে তারা নিজের দেশের মানুষের উপর অত্যাচার ও নিপীড়ণ নামিয়ে এনেছে কিন্তু গঠন-কাঠামোগত ভাবে সেইসব রাষ্ট্র ছিল প্রগতিশীল এবং ধর্মনিরপেক্ষ। ইরানের ক্ষেত্রে হয়েছে উল্টো। গঠন-কাঠামোয় প্রতিক্রিয়াশীল, ধর্মীয় রাষ্ট্র। কিন্তু পশ্চিম ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।

    ইসলামী দুনিয়াতে পশ্চিমের সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতার উৎস ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে। এর দুটি ধারা ছিল, প্রথমটি হলো জাতীয়তাবাদী, অপেক্ষাকৃত উদার, ধর্মনিরপেক্ষ ইসলামী রাষ্ট্র এবং দ্বিতীয়টি হলো শরীয়াত পন্থী, ইসলামী উম্মাহের আদলে ধর্মীয় রাষ্ট্র। আধুনিক ইসলামী রাজীনীতির সূচনাই তাই ঔপনিবেশিক বিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে।

    প্রথমটি থেকে দ্বিতীয়টি পরে আলাদা হয়ে যায় রাষ্ট্রের উপর ধর্মের কতৃত্বের প্রসঙ্গে।

    গতবছর ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের সময় ইরানের জনতা কিন্তু ইজরায়েলের উস্কানিতে কান দেয়নি। দেশের সরকারের বিরুদ্ধে ঐসময় কোনো আন্দোলনে নামেনি এবং আমেরিকা-ইজরায়েলের আক্রমণকে দেশের সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত হিসেবেই দেখেছে। যদিও রেজা পাহলভী ও প্রবাসী ইরানীয়দের একটা অংশ চাইছিলো যেকোনো মূল্যে খোমেইনীর পতন। আর সেক্ষেত্রে তারা ইজরায়েল বা আমেরিকার হাত ধরতে পিছপা হবেনা। রেজা শাহ ২০২৩ এ ইজরায়েল সফর করে হলোকাস্টের মৃতদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। তার ফলে আরো দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পরে শাহের পক্ষের জনমত।

    পশ্চিম লবি ও ইজরায়েল যদিও রেজার উপর বাজি ধরতে নারাজ। তারা বরং আন্দোনকারীদের পাশে দাঁড়াবার অছিলায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে চায়। তাদের এজেন্টরা হয়তো মাঠে নেমে পড়েছে।

    সুতরাং ইরান প্রশ্ন আমাদের আবার সেই পরীক্ষার সামনে ফেলে - গণআন্দোলনের শুদ্ধতার বিচার কিভাবে হবে? গণ-আন্দোলনের ফলাফল না তার প্রকৃতির উপর জোর দেব? গণআন্দোলনের কি কোনো সঠিক সময় আছে?

    ইরানে প্রকাশ্যে কোনো সংগঠিত বিরোধী শক্তি নেই। খামেইনি রেজিম তাদের নিকেশ করে দিয়েছে। আন্ডারগ্রউন্ডে থাকা বামপন্থী তু দে পার্টি সমর্থন করলেও তাদের প্রভাব নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। আরেকটি সশস্ত্র গ্রুপ পিপল’স মোজাহেদীন অর্গানাইজেশন অফ ইরান, যারা ফ্রান্স ও আলবেনিয়া থেকে খামেইনি সরকার বিরোধী কাজকর্ম চালায়। এছাড়া একটি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক আছে যেটি দেশের বাইরে থেকে সরকার বিরোধী প্রচার চালায়।

    তাহলে দেখা যাচ্ছে মূলত অসংগঠিত হলেও এই আন্দোলনের ভিতর প্রতক্ষ্য বা পরোক্ষ ভাবে বেশ কিছু শক্তির প্রভাব আছে যা আন্দোলনটিকে পুষ্ট করছে। কারোর বেশি কারোর কম। কিন্তু রাস্তায় নেমে গুলি খাচ্ছে মেহনাজের মতো তরুণী-তরুণ রা যারা এতো জটিল গণনা করে বিক্ষোভে সামিল হচ্ছেনা। এখন এই আন্দোলন যদি সফল হয়, তবে খামেইনির পতনের ফলে যে রাজনৈতিক শুন্যতা তৈরী হবে তা পূরণ করতে এগিয়ে আসবে বিভিন্ন দেশি-বিদেশী শক্তি। ১৯৭৯-র ইরানিয় বিপ্লবও যে কারণে ইসলামিক বিপ্লব ছিল না। অজস্র স্বাধীনতা প্রিয়, গণতন্ত্র আকাঙ্খী সাধারণ মানুষ পথে নেমেছিল। সাথে ছিল বিভিন্ন জাতীয়তাবাদী, কমুনিস্ট ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিও। কিন্তু জয়ী হয়েছিল খোমেইনীরা।

    ইতিহাস এভাবেই চলে। আমরা নির্ধারণ করতে পারিনা ভবিষ্যৎ কী হবে? মানুষের কাছে বর্তমানই বাস্তব। সেই বাস্তব সে বদলাতে চায়। ভবিষ্যতের বিমূর্ত ধারণার উপর নির্ভর করে সে রাস্তায় নামেনা। তাই ইরানের প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির বিরুদ্ধে সে দেশের মানুষ পথে নেমেছে তাদের অস্তিত্ব রক্ষায় । তার পেছনে কারা আছে, কাদের সুবিধে করে দিচ্ছে সেই গভীর বিচার করার সময় বা তাগিদ তাদের নেই। ইতিহাস ও তাদের সেই প্রতিশ্রুতি দেয়না যে, এই আত্মত্যাগ ও সাহসের ফলে তাদের বাস্তব বদলে যাবে। তবুও তারা রাস্তায় নামে কারণ না নেমে উপায় নেই। এটাই ইতিহাসের শিক্ষা।

    তথ্য সূত্র : The Guardian, Financial Times, Wikipedia, Internet
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ১১ জানুয়ারি ২০২৬ | ৪০৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:a168:6ce9:9ebb:***:*** | ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:২৯737801
  • "প্রতিক্রিয়াশীল, ধর্মীয় মৌলবাদী  রাষ্ট্র বনাম সাম্রাজ্যবাদী, আধিপত্যকামী রাষ্ট্র, কে শ্রেয় ? জনমানুষের স্বাধীনতা, গণতন্ত্রের দুর্নিবার আকাঙ্খা  কি দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত করবে ? 
    দুর্ভাগ্যবশত এই প্রশ্নগুলোর কোনো সহজ উত্তর নেই ।"
     
    আমার কাছে প্রস্নগুলোর উত্তর সহজ - ডেমোক্রেটিক রাষ্ট্র, যেখানে অন্তত কিছুটা হলেও ব্যক্তিস্বাধীনতা আর চিন্তার স্বাধীনতা আছে, অন্যান্য সিস্টেমের তুলনায় শ্রেয়। ইরানের রিপ্রেসিভ আর রিগ্রেসিভ খামেইনি রেজিমের পতন হলে আমার ভালো লাগবে। এখনকার তুলনায় অন্তত কিছুটা হলেও যদি নারীদের অধিকার বাড়ে, সাধারন মানুষ যদি কিছুটা ধর্মীয় প্রভাবমুক্ত জীবন ফিরে পায়, তাহলে খুশী হবো। 
  • MP | 2409:4060:2d12:fddc:8355:3819:8d68:***:*** | ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:০৭737803
  • লেখক খুব সুচিন্তিত মতামত দিয়েছেন। আমার মনে হয়, আমরা খুব তাড়াতাড়ি ভাবছি যে ইরানে বর্তমান শাসনের পতন হলে মেয়েদের ভালো কিছু আসবে। আসলে কেউই আমরা ইরানে যাইনি কখনো কাজেই সেদেশের সম্বন্ধে জানবার আমাদের একমাত্র উপায় গার্ডিয়ানের মত পশ্চিমী সংবাদ পত্র যারা কোনোদিনই নিজস্ব ন্যারেটিভের বাইরে কিছুই বলবেনা। দ্বিতীয়তঃ পৃথিবীতে আদৌ কোনো রাষ্ট্র কি আছে যেটি গণতান্ত্রিক ও ব্যাক্তিস্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেয়? আম্রিকা কোনোভাবেই কি গণতান্ত্রিক যেখানে দুটোর বেশী পার্টির অস্তিত্ত্ব নেই এবং এখন প্যালেস্টাইনের পক্ষে কলেজ ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ করলে জেলে যেতে হবে? ইরানের সম্বন্ধে আমি আমার নিজের এক ইরানী বন্ধুর মুখে শুনেছি যে সেখানে গবেষক অধ্যাপকদের সত্তর শতাংশই মহিলা। কাজেই এসব পশ্চিমী সংবাদমাধ্যমকে গুরুত্ত দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত ! দ্বিতীয়তঃ ট্রাম্পের পরে গণতন্ত্রকেও আম্রিকি ধারণার বাইরে বেরিয়ে দেখা বলে মনে করি। লেখক কি বলেন জানবার ইচ্ছা রইলো।
  • π | ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ০১:৩৯737821
  • লেখার বিশ্লেষণ ভাল লাগল।
     
    মন্তব্য প্রসঙ্গে, ইরানে মেয়েরা কতটা নিপীড়িত, এটা আমিও জানতে চাই। উচ্চশিক্ষিতা ইরানিয়ান গবেষিকা আমিও বেশ ভাল সং্খ্যায় দেখেছি। আবার তাঁদের ইরান ছেড়ে আম্রিগায় যেতেও দেখেছি। সে অবশ্য সব দেশ থেকেই যান, তাই ইরানের নারী অবদমন তার পিছনে কতটা কাজ করছে বা করছেনা, জানা গেলে ভাল হত।
    ইজরায়েল আক্রমণের সময় বেশ কিছু  ইজ্রায়েল আর কিছু যুদ্ধবিরোধী মিছিল প্রতিবাদের ভিডিও দেখেছিলাম, লেখা পড়েছিলাম, সেখানে অনেক মহিলারই হিজাব,  বোরখা ছিল না।  মাসা আমিনির মত এক্সট্রিম কেস না হোক, এঁদের এসবের জন্য কতটা অসুবিধায় পড়তে হয়, বা হয়না, সেও জানা গেলে ভাল হত।
    পাকিস্তান নিয়েও ধন্দ লাগে। একদিকে নানা লেখাপত্তরে মনে হয়, মেয়েরা খুবই চাপে, স্বাধীনতা প্রায় কিছু নেই, পর্দানসীন। ওদিকে পাকিস্তানের রমরমিয়ে চলা সিরিয়ালগুলো দেখে তো মনে হয় দিব্বি আছে মেয়েরা, পড়াশুনা, চাকরি, ব্যাবসা সবই চুটিয়ে করছে। হিজাব, বোরখার বালাই প্রায় দেখিনা।  রাজনীতির নানা উচ্চপদেও মেয়েদের দেখি, ডাক্তারি, গবেষণায়। এঁরা সবাই এলিট ক্লাস, এমনো তো না!  
    কোনটা সত্যি আর আর কোনটা বানানো ন্যারেটিভ, এই তথ্যবিস্ফোরণের যুগে এই বেসিক তথ্যের চাল, কাঁকরটুকু আলাদা করা এত মুশকিল হয়ে যাচ্ছে , এও আরেক চাপ। 
  • অরিন | ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ০১:৫৬737822
  • https://www.rferl.org/a/nobel-shirin-ebadi-iran-protests-interview/33637862.html
     
    "Shirin Ebadi, who was awarded the 2003 Nobel Peace Prize for her efforts to bring democracy and safeguard human rights in Iran, spoke with RFE/RL's Radio Farda by phone on January 1 on what is driving her compatriots to confront the authorities and what makes these protests different from previous ones.
    ... 

    Radio Farda: How different are these protests from previous ones?
    Ebadi: What distinguishes this wave of protests from previous ones is the growing realization within the establishment that repression and killing no longer work. Using force against people who have nothing left to lose would only intensify public anger -- like pouring gasoline on a fire.
    People have nothing to lose, they can't stand it anymore. People's tables are empty and hunger has pressured people so much that they have given up on life. The establishment understands it and it doesn't want to pour gasoline on the fire.
    ... 
     

    Radio Farda: Antiestablishment protests have been taking place in Iran for years, for decades, amid a widening gap between the people and the authorities? Where do you think the current round of protests will take Iran?
    Ebadi: I hope this time people will win and the establishment falls and the people will reach their long-time wish to decide about their future in a referendum under the supervision of the UN. The establishment has lost the power and will to repress because it knows that killing people, as during the previous protests, will be like pouring gasoline on the fire of their anger.
    "
     
    গত সপ্তাহে আমার কাছে ইরান থেকে জনৈকা ছাত্রী PhD করতে আসবে বলে লিখেছিলেন, তাঁর সঙ্গে কথাবার্তা চলতে চলতে এই সমস্ত ইরানে ঘটছে, তিনি কেমন আছেন এখন দেখছি জানার উপায় নেই। দেখা যাক। 
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:f400:b9db:1930:***:*** | ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:১০737827
  • "কোনটা সত্যি আর আর কোনটা বানানো ন্যারেটিভ, এই তথ্যবিস্ফোরণের যুগে এই বেসিক তথ্যের চাল, কাঁকরটুকু আলাদা করা এত মুশকিল হয়ে যাচ্ছে , এও আরেক চাপ"
     
    পাই ম্যাডাম, আমার মনে হয় যদি বিভিন্ন লেখালেখি, আর্টিকল, ডেটা (মানে বডি অফ লিটারেচার) ফলো করেন তাহলে খুব একটা মুশকিল নাও হতে পারে :-)
     
    প্রশ্ন হলো, ইন জেনারাল ইরানে মেয়েদের বা বিভিন্ন মাইনরিটি গ্রুপের কি অবস্থা। এই প্রশ্নটা বিভিন্ন দেশের বা রিজিয়নের সম্বন্ধেও করা যায়, যেমন ইন্ডিয়াতে বা য়ুরোপে বা রাশিয়ায় বা আমেরিকায় মেয়েদের কি অবস্থা বা কি কি রাইটস আছে, সেই রাইটস কতোটা মানা হয় (মাইনরিটি গ্রুপদের, এলজিবিটিদের ক্ষেত্রেও কি কি রাইটস আছে ইত্যাদি)। তুলনাও করা যায়, যেমন, আমেরিকাতে মেয়েদের অ্যাবর্শান রাইটস কমছে বা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, বেশ কিছু স্টেটে অ্যাবর্শান ব্যানড, রো ভি ওয়েড উল্টে গেছে, কিন্তু য়ুরোপে মোটামুটি সুরক্ষিত আছে, ইত্যাদি। 
     
    এবার ইরানের ক্ষেত্রে, ইন জেনারাল, নানান জায়গার খবর থেকে বুঝতে পারি মেয়েদের অধিকার বেশ সীমিত আর সে নিয়ে সেখানকার মেয়েদের ক্ষোভও খুব বেশী। ইরানে মেয়েদের অ্যাবর্শান রাইট নেই, প্রপার্টি রাইটসও ছেলেদের দিকে স্কিউড। হিজাব পরা বা না পরা নিয়ে তো প্রচুর গন্ডগোল, আন্দোলন ইত্যাদি হয়েছে বা হচ্ছে, মাঝে মাঝেই খবরে পড়ি মেয়েদের অ্যারেস্ট করা হয়, টর্চার করা হয়। কাজেই ওভারল ইরানে যে মেয়েদের প্রচুর ডিসক্রিমিনেশানের মুখোমুখি হতে হয় এ নিয়ে তো সন্দেহের কারন দেখি না। 
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:f400:b9db:1930:***:*** | ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:২৬737828
  • আপনারা কেউ অজি ম্যান ফলো করেন কিনা জানিনা। এটা দেখতে পারেন (অজি ম্যান এর ডেসটিনেশান ফাকড সিরিজও দেখতে পারেন :-))
     
  • MP | 2401:4900:7084:bede:654a:b050:7b06:***:*** | ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩৪737829
  • @ অরিন , নোবেল প্রাইজ প্রাপকদের কি আর বিশ্বাসযোগ্যতা আছে খুব একটা আজকের পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে বিশেষ করে গাজা ও ভেনেজুয়েলার ঘটনার পরে ? নোবেল বিজয়ী মাচাদো তো তার নিজের দেশ আক্রমণ করবার জন্যে ট্রাম্পকে সাধুবাদ দিচ্ছেন ! গাজাতে জেনোসাইডের সময়ে নোবেল বিজয়ী শিরিন আবাদী বা মালালারা কোথায় ছিলেন ? গত বছর জুন মাসে যখন ইস্রাঈল বা আম্রিকা ইরানে সামরিক আগ্রাসন চালায় যার ফলে প্রায় ৬০০ নিরীহ মহিলা ও শিশুকে মরতে হয় , তখন কোথায় ছিলেন শিরিন আবাদী ? তাহলে আজকে তাদের কথাকে বা পশ্চিমী সংবাদমাধ্যমে তাদের দেওয়া ইন্টারভিউকে গুরুত্ব দেবার কি প্রয়োজন ? নোবেল কমিটিও যে নিজস্ব এজেন্ডা নিয়ে কাজ করে সেটা তো মাচাদোকে নোবেল দেওয়া থেকেই স্পষ্ট l 
  • MP | 2401:4900:7084:bede:654a:b050:7b06:***:*** | ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪৬737830
  • আপনারা কেউ গিল ডুরান পড়েন কি না জানিনা এই ভিডিওটা দেখতে পারেন l
  • দ্রি | 2406:b400:b4:1fd:8101:d306:e63:***:*** | ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪৮737831
  • ক্ষোভ সব দেশেই আছে। সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভও দেখানো যেতে পারে। নো প্রবলেম। যেটা চলেনা সেটা হল বিপ্লবের নাম করে ভাঙচুর লুটপাট আর্সন। সরকার বদলানোর ডিউ প্রসেস আছে। এইসব এক্সট্রালীগাল ভাবে সরকার বদলানোর চেষ্টা করলে সরকার বলপ্রয়োগ করবেই। 
     
    এইভাবে সরকার বদলে ইরাক আফগানিস্তান লিবিয়া ইউক্রেন কোথাও ভালো কিছু হয়নি। 
     
    আরো একটা কথা। দশ হাজার জন রাস্তায় নেমেছে তার মানে এই নয় সবাই বা ইভেন মেজোরিটিও সরকারের বিরুদ্ধে। যারা সরকারকে সাপোর্ট কর্ছে তাঁর রাষ্টায় নামছে না বলে আপনি তাদের দেখতে পাচ্ছেন না। 
     
    এবার ইরানে সরকারের সাপোর্টেও লোকে রাস্তায় নেমেছিল। 
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভ্যাবাচ্যাকা না খেয়ে মতামত দিন