এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  প্রবন্ধ

  • ক্যাথেরিন, পরিবেশ সুরক্ষা ও ডি পেভিং মুভমেন্ট।

    Somnath mukhopadhyay লেখকের গ্রাহক হোন
    প্রবন্ধ | ১০ মার্চ ২০২৫ | ২৯৪ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  •  ক্যাথেরিন, পরিবেশ সুরক্ষা ও ডি পেভিং মুভমেন্ট ।
     
    আজ আপনাদের এক নতুন ধরনের পরিবেশ আন্দোলনের কথা শোনাবো। খাতায় কলমে এই আন্দোলনের সূচনা ২০০৮ সালে হলেও খুব সম্প্রতি তা একটু একটু করে দানা বাঁধছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে। আসলে একটা আন্দোলন হলো নতুন এক পথে পথিক হবার আহ্বান। চলতি নিয়মকানুনকে পাশ কাটিয়ে সম্পূর্ণ অজানা একটা ভাবনার স্রোতে গা ভাসানো সবসময় কিন্তু খুব সহজ নয়। আমাদের এই নতুন আন্দোলনের ক্ষেত্রেও ঠিক সে কথাই বলার । 
    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওরিগন প্রদেশের পোর্টল্যান্ড শহরের আবাসিক ক্যাথেরিন রোজ ২০০৮ সালের জুলাই মাসের এক তপ্ত দিনে হাতে শাবল আর গাইতি নিয়ে তাঁর বাড়ির লাগোয়া কংক্রিটের ফুটপাতে পা রেখেছিলেন । তখন তিনি ভাবতেই পারেন নি যে তাঁর কাজ একদিন আরও বহু সংখ্যক নাগরিক মানুষের নজর কাড়বে এবং তাঁরাও তাঁর মতো শাবল,গাইতি হাতে শহরের অনাবশ্যক কংক্রিটের বোঝা হালকা করতে কোমড় বেঁধে নেমে পড়বে রীতিমতো হৈহৈ করে।
     
    শহর বা নগর – আপাদমস্তক কংক্রিটে মোড়া এক নাগরিক জনপদ। আধুনিক মানুষের বিচারে যে শহর যত বেশি ইট বালি সিমেন্ট পাথরের আবরণীতে ঢাকা সেই শহর নাকি তত বেশি উন্নত,তত বেশি আধুনিক। সাবেকি গ্রামগুলোর সঙ্গে শহরের পার্থক্য নাকি এখানেই। তাহলে ক্যাথেরিন শাবল গাইতি হাতে নিয়ে কি করছে? তাও আবার এক সাজানো গোছানো মার্কিন শহরে? আসুন ওঁর সঙ্গে পা মেলাই।
     
    বাড়ি থেকে বেরিয়ে ক্যাথেরিন চার্চে যাওয়ার পথ ধরে। কয়েকদিন ধরেই ক্যাথেরিন ভেবে রেখেছে ওখান থেকেই শুরু করবে তাঁর “ মাটিকে মুক্ত” করার আন্দোলন। চার্চের কংক্রিটে মোড়া একটা দিক থেকেই সে কাজ শুরু করে। হাতের শাবলের মাথার দিকটা দুটো পেভ ব্লকের জোড় বরাবর ঢুকিয়ে চাপ দিতে থাকে যেমন করে শক্ত করে আঁটা কৌটোর ঢাকনা খুলতে চামচের পেছন দিয়ে চাপ দিই আমরা। ক্যাথেরিন জানে একটা কংক্রিটের আয়তাকার ব্লককে খুলে ফেলতে পারলেই তাঁর বাকি কাজটা অনেক সহজ হয়ে যাবে। জুলাই মাসের প্রচণ্ড গরমের ভেতরে কাজ করতে গিয়ে ঘেমে নেয়ে স্নান করে ওঠে ক্যাথেরিন। বেশ খানিকক্ষণ চাপাচাপি করতেই একসময় পেভ ব্লকের জোড় আলগা হয়ে যায়। হাতের গাইতির মাথা দিয়ে একটু চাপ দিতেই উঠে আসে পেভ ব্লকটি। আনন্দে আত্মহারা হয়ে ক্যাথেরিন বক্সিংয়ের কঠিন “বাউট”জেতা বক্সারের মতো গ্লাভসে ঢাকা মুষ্টিবদ্ধ হাত দুটোকে মাথার ওপর তুলে চিৎকার করে ওঠে –Oh! My Lord,I have succeeded to liberate the soil. Bless me please. ফুলের ভারে নুইয়ে পড়া‌ হাইড্রেনজিয়ার ফুল আর ঘন সবুজ পাতার আড়াল টপকে প্রভাতী সূর্যের আলো এসে পড়ে মাটির ওপর, এতোদিনের বন্দি দশা কাটিয়ে মাটিও যেন বুকভরা স্বস্তির শ্বাস নেয়। ক্যাথেরিনের হাতেই শুরু হয় নতুন এক পরিবেশ আন্দোলন – De pave Movement.
     
    পাঠকদের মধ্যে নিশ্চ‌য়‌ই কেউ কেউ আছেন যাঁরা এই আন্দোলনের রূপরেখাটি আমি খোলাসা করে বলার আগেই বুঝে নিতে পেরেছেন। তবে সবার জন্যই জানাই যে এই আন্দোলন হলো শহরগুলোকে অনাবশ্যক কংক্রিটের মোড়ক থেকে মুক্ত করে আবার তাদের অতীত চেহারায় ফিরিয়ে দেওয়া। ক্যাথেরিন তাঁর এবং তাঁর সহযোগীদের এই প্রয়াসকেই বলেছেন শহর থেকে কংক্রিটের মোড়ক উন্মোচনের আন্দোলন। জুলাই মাসের সেই রৌদ্র দগ্ধ দিনটিকে স্মরণ করে ক্যাথেরিন জানিয়েছেন, “It's envisioning and fully realising a dream that I think we all have.” আমরা সবাই চাই এক মুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ। শহরকে কংক্রিটের আবরণ মুক্ত করার আন্দোলন সেই ইচ্ছার‌ই প্রতিফলন।
     
    পোর্টল্যান্ড শহরের ছোট্ট গির্জা থেকে ক্যাথেরিন ও তাঁর জনা পঞ্চাশেক সহযোগী প্রায় ১৬৭০ বর্গ মিটার এলাকার কংক্রিটের পেভ ব্লক তুলে ফেলে গোটা পরিসরকে আবার তার বহুদিন আগের হারিয়ে যাওয়া চেহারা ফিরিয়ে দেন। ক্যাথেরিনের মতে, “আধুনিক ঝাঁ চকচকে শহর গড়তে গিয়ে আমরা অপ্রয়োজনীয় ভাবে কংক্রিটের মোড়কের আড়ালে শহরের প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্যকে নিয়ত ধ্বংস করে চলেছি। কিছু মানুষের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিফল ভুগতে হয় গোটা শহরবাসীকে। কংক্রিটে মোড়া পেভমেন্টের সুবিধার তুলনায় কংক্রিটে না ঢাকা খালি মেঠো জমির সুবিধার মাত্রা অনেক অনেক বেশি। দেরিতে হলেও এই সত্যটা আমাদের উপলব্ধি করাটা খুব জরুরি।”
     
    ক্যাথেরিন ও তাঁর সহযোগীরা মিলে সুদূর পোর্টল্যান্ড শহরের এক চার্চের কংক্রিট পেভ ব্লক গুলোকে সরিয়ে মাটিকে মুক্ত করার যে আন্দোলন এক সময় শুরু করেছিলেন তার ঢেউ এসে পৌঁছেছে ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের মাটিতে। আন্দোলন প্রসারিত হলেও প্রশ্ন জাগে এমন প্রচেষ্টার সদর্থক দিকগুলো নিয়ে। এর জবাব দিতেও প্রস্তুত ক্যাথেরিন। তাঁর মতে – “কংক্রিট আর অ্যাসফল্টের মলাটে মুখ ঢেকেছে আমাদের শহরগুলো। এরফলে শহরের জমিন‌ তাদের
    স্বাভাবিক নমনীয়তা বা Sponginess হারিয়েছে যা শহরের বাস্তুতন্ত্রের পক্ষে মোটেই ভালো নয়। আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য‌ই হলো কঠিন শান্ বাঁধানো চত্বরে নতুন করে আবার সবুজের সমারোহকে ফিরিয়ে আনা। তাই যেখানে যেখানে আমরা কংক্রিটের আস্তরণকে সরিয়ে মাটির মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছি সেখানেই একটু একটু করে হারিয়ে যাওয়া ঘাস , লতাপাতায় ভরে উঠেছে। শহুরে পরিবেশের ভারসাম্যকে ফিরিয়ে আনতে আমাদের এই প্রয়াসের গুরুত্ব অপরিসীম।”
     
    “দ্বিতীয়ত, শহরের কংক্রিটের মোড়ক সরিয়ে ফেলাটা আজকের এই জল সংকটের দিনে অত্যন্ত জরুরি একটি পদক্ষেপ বলে মনে করি। অচ্ছিদ্র কংক্রিটের ওপর দিয়ে ঝরে পড়া বৃষ্টির জলের প্রায় সবটাই ঢাল বেয়ে গড়িয়ে চলে যায়, মাটির গভীরে প্রবেশ করতে পারে না। এরফলে কংক্রিটের নিচে থাকা মাটি তৃষিত থেকে যায়। সেখানে ছিটেফোঁটা জল‌ও ঢুকতে পারেনা। অথচ পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি শহরের ভৌমজলের ভাণ্ডার ক্রমশ কমছে। দুবাই শহরের সাম্প্রতিক বন্যা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে আধুনিকতার নামে শহরকে কংক্রিট আর অ্যাসফল্টের চাদরে আগাগোড়া ঢেকে ফেললে, তার পরিণতি কতটা অস্বস্তিকর অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। মাটির ওপর চাপিয়ে দেওয়া আবরণী তুলে দিলে ওয়াটার ম্যানেজমেন্টের কাজটা অনেক সহজ ও ফলপ্রসূ হবে। এরফলে ভৌমজলের ভাণ্ডার পরিপুষ্ট হবে, কমবে শহরে জল জমার সমস্যা, শহরের আবর্জনা নদীতে পরা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।”
     
    তৃতীয়ত, বৈশ্বিক জলবায়ুর পরিবর্তনের কথা মাথায় রাখলে এমন প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে আমাদের শহরগুলো ক্রমশই তাপদ্বীপে পরিণত হয়েছে। কংক্রিটের জঙ্গলে আটকে থাকছে তাপ। এই তাপ ছেড়ে যেতে লাগছে অনেক অনেক বেশি সময়। দিনের তুলনায় তাই শহুরে রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে বেশি থাকছে। এই পরিস্থিতিতে বাড়ছে নাগরিকদের অস্বস্তি। প্রভাব পড়ছে স্বস্তি ও স্বাস্থ্যের ওপর। অপ্রয়োজনীয় কংক্রিটের মোড়ক সরিয়ে ফেললে শহরের বাতাবরণ অনেক বেশি আরামদায়ক ও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। বিলম্বিত হবে বৈশ্বিক উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ায় সম্ভাবনা।
     
    চতুর্থত, এই কাজের মধ্য দিয়ে সবাই মিলে কাজ করার ইতিবাচক ভাবনা সক্রিয় হয়ে ওঠে। আমার এখনও ২০০৮এর জুলাই মাসের সেই রৌদ্র তপ্ত দিনের কথা মনে পড়ে। বেশ কিছুদিন ধরেই ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু কাজটা কখন কীভাবে কোথা থেকে শুরু করবো তা ঠিক করতে পারছিলাম না। কী করি,কী করি ভাবতে ভাবতে একদিন শাবল আর গাইতি হাতে হাজির হলাম চার্চ চত্বরে। ওখানকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আগেই কথা বলে নিয়েছিলাম। যেখান থেকে কাজটা শুরু করবো বলে ভেবেছিলাম সেখানে গাইতি দিয়ে বারকয়েক আঘাত করতেই দেখি আমাকে ঘিরে একটা ছোট্ট জটলা তৈরি হয়েছে। রবিবার ছিল বলে চার্চে কিছু মানুষ প্রেয়ার করতে এসেছিলেন। অধিকাংশ‌ই অবশ্য প্রবীণ মানুষ, তবে অল্পবয়সি কয়েকজন ছিলেন। তাঁদের কেউ কেউ আমার পূর্ব পরিচিত। তাঁদের কাছে আমার খোঁড়াখুঁড়ির উদ্দেশ্য খুলে বলতেই,তাঁরা আমার হাত থেকে শাবল একরকম জোর করেই কেড়ে নিয়ে পেভ ব্লকগুলোকে তুলে ফেলতে থাকলো। কেউ কেউ আমার ওপর অভিমান করে বললো, কেন আমি তাঁদের আগে ডাকি নি। এভাবে প্রথম দিনেই, আমি বেশ কিছু উৎসাহী সহযোগী জুটিয়ে নিলাম। আমাদের মধ্যে দশে মিলে কাজ করার আগ্রহ তৈরি হলো। এই পাওয়াটাও কিন্তু খুব কম পাওয়া নয়।
    এই প্রচেষ্টার কল্যাণে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য‌ও উন্নত হয়েছে। আগে রাস্তায় বেরিয়ে কংক্রিটের ধূসরতা ছাড়া আর কিছুই তেমন নজরে পড়তো না। এমন রুক্ষতা আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের সুস্থিতি বিঘ্নিত হয়। আমাদের চেষ্টায় কিছু কিছু ফাঁকা জায়গায় খানিকটা প্রশান্তির পরিসর তৈরি করা সম্ভব হয়েছে যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
     
    পরিশেষে বলতে চাই ,ডি পেভিং অর্থনৈতিক দিক থেকেও সাশ্রয়ী। শহরের কিছু অংশ এভাবে কংক্রিট মুক্ত করা হলে পরিকাঠামোর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ব্যয়ের মাত্রা বেশ কিছুটা কমবে। গোটা বিষয়টাই অর্থকরী ভাবনা প্রসূত বলে আমরা মনে করি।”
     
    শহরের আবরণী হিসেবে কংক্রিটের ব্যবহারকে বাতিল করার যে আহ্বান ক্যাথেরিন রোজ ও তাঁর বিশ্বস্ত অনুগামীরা দিয়েছেন তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও ধীরে ধীরে গ্রহণীয় হয়ে উঠেছে। বৃটিশ যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, বেলজিয়ামের মতো ইউরোপীয় দেশগুলোতে ডি পেভিং মুভমেন্ট বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সম্প্রতি। আসলে নগর পরিকল্পনার যে ত্রুটির প্রতি এই আন্দোলন সকলকে সচেতন করতে চাইছে তার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। এটা এখন আমাদের কাছে হয়তো পরিস্কার হয়ে গেছে যে জলবায়ুর পরিবর্তন অনিবার্য , সহজে তাকে রোখা যাবেনা। তাই আমাদের এখন উচিত এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আগামীদিনের যাপনকে সুস্থিত করা। ডি পেভ সেই লক্ষ্যে একটা বড়ো পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সকলেই।
    ক্যাথেরিন ও তাঁর বিশ্বস্ত অনুগামীরা এযাবৎ পোর্টল্যান্ডের ৩৩০০০ বর্গ মিটার এলাকার কংক্রিটের মেঝে সরিয়ে সেখানে হারিয়ে যাওয়া সবুজকে সাড়ম্বরে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন। এরফলে ২৪.৫ মিলিয়ন গ্যালন বৃষ্টির জলকে মাটির গভীরে সঞ্চালিত করা সম্ভব হয়েছে। বেলজিয়ামের লিউভেন শহরে এক‌ই উপায়ে ৩৭৭০০০ গ্যালন বৃষ্টির জল ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে যা ভবিষ্যতের প্রয়োজন মেটাতে পারবে।
    জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর গড় বৃষ্টিপাত ও বন্টনের ক্ষেত্রেও ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। বাড়ছে লাগামছাড়া বন্যার প্রকোপ। বৃষ্টিপাতের অনিয়মিতির কারণে পেয় জলের জোগানে টান পড়বে অদূর ভবিষ্যতে।তাই ঘনায়মান সংকটের প্রেক্ষাপটে ডি পেভিং মুভমেন্ট সদর্থক দিশা দিতে পারে বলেই মনে করছেন সকলে । এই কর্মদ্যোগ কি একেবারেই সমস্যামুক্ত? এর উত্তর‌ও দিয়েছেন ডি পেভিং আন্দোলনের সদস্যরা। তাঁদের মতে, কংক্রিটের আবরণী তুলে ফেলার ক্ষেত্রে সবথেকে প্রধান সমস্যা হলো প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়া। কোনো নাগরিক‌ই চাইবেন না তাঁর বাড়ির লাগোয়া কংক্রিটের ফুটপাতে খোঁড়াখুঁড়ি হোক। এক্ষেত্রে তাঁদের এই উদ্যোগ বিষয়ে বোঝানো খুব জরুরি। স্থানীয় নগর প্রশাসনের তরফে অনুমোদন‌ও খুব জরুরি। অবশ্য কেন এই উদ্যোগ নেয়া জরুরি তা ঠিকঠাক বোঝাতে পারলে এই বাঁধা কাটিয়ে ওঠা যায় খুব সহজে। পোর্টল্যান্ড, অন্টারিও,লিউভেন, মেলবোর্ন প্রভৃতি শহরের পুরপ্রশাসন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এগিয়ে এসেছেন এই আন্দোলনের পৃষ্ঠপোষকতায়। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষেরা হাত লাগিয়েছেন এই কর্মসূচির রূপায়ণে। এভাবেই বাড়ছে সবুজের সমারোহ।
     
    এটা মাথায় রাখতে হবে যে বাঁধানো ফুটপাতের মোহ ত্যাগ করে নাগরিক সমাজ খুব চট্ করে বেড়িয়ে আসতে পারবে না। আমাদের শহরের কথাই ধরা যাক। অলিতে গলিতে এখন ফুটপাতের অংশে যথেচ্ছভাবে পেভ ব্লকের বাড়ন্ত ব্যবহার। এগুলোর মধ্য দিয়ে জল চলাচল করতে পারে না। এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সচ্ছিদ্র পেভ ব্লক ব্যবহার করা হচ্ছে। এগুলোর মধ্য দিয়ে বৃষ্টির জল সহজেই ঢুকতে পারে। ফলে উৎপাটনের পরিশ্রম আর থাকবে না। উপযুক্ত পরিকল্পনা থাকলে এই কাজের সঙ্গে সবুজায়নকেও জুড়ে দেওয়া সম্ভব হবে। তবে কংক্রিটের মোড়ক তুলে গুটিকয় গাছ লাগিয়ে দায় সম্পূর্ণ বলে মনে করলে হবেনা। গাছগাছালির নিয়মিত ভাবে যত্ন নিতে হবে । আমাদের শহরে অনুপ্রাণিত হয়ে কিছু সবুজায়ন অথবা সৌন্দর্যায়নে প্রকল্পের হতশ্রী দশা দেখে মন খারাপ হয়ে যায়। আসলে আমাদের দেশের কোনো কাজকে ধরে ডি পেভিং কর্মসূচির মূল্যায়ন করতে বসলে হবে না। ভাবনার গভীরে ডুব দিতে হবে।
     
    আমাদের দেশে এই আন্দোলনের ঢেউ এখনও সেভাবে এসে পৌঁছায়নি। শহর বাড়ছে, তবে সেখানেও যে ভবিষ্যতের কথা ভাবা হচ্ছে মোটেই তা নয়। ফ্ল্যাটের ভীড়ে চাপা পড়ে যাচ্ছে আমাদের জল জমি জঙ্গল। আড়াল হয়ে গেছে মাথার ওপরের আকাশ। যে উপলব্ধির স্তর থেকে ক্যাথেরিন রোজ একটা সম্পূর্ণ নতুন ভাবনা পথে হাঁটার কথা ভাবতে পারেন সেই স্তরে উন্নীত হতে আমাদের আরও অনেক অনেক পথ হাঁটতে হবে। বিক্ষিপ্ত ভাবে কিছু কাজ হচ্ছেনা তা হয়তো নয়, তবে তা যে যথেষ্ট নয় সেটা বুঝতে খুব অসুবিধা হয় না।
     
    আজ শেষ করবো Giuliana Casimirri’ র উপলব্ধির কথা দিয়ে। Giuliana থাকেন কানাডার অন্টারিও শহরে। হ্যামিল্টন শহরের মানুষের পানীয় জলের উৎস হলো অন্টারিও হ্রদ। বৃষ্টি ধোয়া রাস্তা আর নর্দমার জল গড়িয়ে এসে হ্রদের জলে পড়ায় জল দূষিত হচ্ছে দেখে ডি পেভ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তৈরি করেছেন Green Venture নামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এই কর্মকাণ্ডের গুরুত্বের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন - “ With climate change, extreme weather rainfall events are going to increase and so depaving is not a nice to have - it is a necessity.” 
    আমরা এটা কবে বুঝতে পারবো?
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • প্রবন্ধ | ১০ মার্চ ২০২৫ | ২৯৪ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • sarmistha lahiri | ১০ মার্চ ২০২৫ ২৩:৩০541591
  • বিষয় ভাবনার বৈচিত্র্যে সত্যি ই অভিনব রচনা। প্রকৃতি কে স্বাভাবিক ভাবে নিঃশ্বাস প্রশ্বাস নেবার সুযোগ করে দেবার বিষয়টিও যথেষ্ট ভাববার বিষয়। ক্যাথরিন বা Giuliana র মতো ঝাঁপিয়ে পড়তে পারবো কিনা জানিনা, কিন্তু চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
  • Somnath mukhopadhyay | ১০ মার্চ ২০২৫ ২৩:৫৩541592
  • ইচ্ছেটাই বড়ো কথা। প্রকৃতির সহজাত দানকে গ্রহণ করতে না পারলে সমস্যা মানুষের। ক্যাথেরিন একটা প্রতীক। বিকল্প ভাবনা ভাবা খুব জরুরি হয়ে পড়েছে আজকের পৃথিবীতে।
  • স্বাতী রায় | ১১ মার্চ ২০২৫ ০১:২০541595
  • থ্যাংক ইউ। নতুন বিষয় জানলাম .
  • &/ | 151.14.***.*** | ১১ মার্চ ২০২৫ ০১:৩৩541596
  • আর পরিত্যক্ত পার্কিং লটগুলো। ওগুলোকে কংক্রিটের ঢাকনা মুক্ত করে ঘাস লতা গুল্মের বাগান করা যায়, একটা দু'টো বড় গাছও লাগানো যায়।
  • পৌলমী | 2405:201:8000:b11b:619f:24cf:f9b0:***:*** | ১১ মার্চ ২০২৫ ১৯:৫৬541622
  • বিষয়টি সত্যিই নতুন। আমরা শহুরে মানুষেরা যাকে নিশ্ছিদ্র উন্নয়ন বলে বিশ্বাস করি তার মধ্যেই যে নতুন সমস্যার বীজ লুকিয়ে আছে তা জেনেই সত্যি চিন্তা বেড়ে যায়। আসলে পরিবেশ নিয়ে ভাবতে চাইনা আমরা। এরফলে সমস্যা বেড়েই চলে। লেখক আমাদের জন্য বিচিত্র বিষয়ের পসরা সাজিয়ে নিয়ে উপস্থিত। এবার আমাদের কিছু করে দেখানোর পালা।
  • #:+ | 2405:201:8000:b11b:619f:24cf:f9b0:***:*** | ১২ মার্চ ২০২৫ ২১:৩৫541644
  • বিষয়টি নতুন চিন্তার খোরাক যোগায়। যেহেতু চলতি বাজারি বিষয় নয়, সেহেতু মন্তব্য করার আগে বেশ দ্বিধায় ছিলাম। এদেশে ক্যাথেরিনের মতো উদ্যোগ নিয়ে রাস্তার ধারের কংক্রিটের আচ্ছাদন তুলে দিতে গেলে তার পরিণতি খুব সুখকর হবে বলে মনে হয় না। পুর পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের এসব বিষয়ে ভাবা উচিত। এই লেখকের লেখায় বিচিত্র বিষয়ের আলোচনা দেখেছি। আগামী দিনেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে আশা করি।
  • সঞ্জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। | 2409:40e0:102b:c4a4:8000::***:*** | ১২ মার্চ ২০২৫ ২৩:৩৬541646
  • আমাদের রাজ্যে বা শহরে সরকারী পেভিং এর কাজ এত নিম্ন মানের হয় যে বছর দুয়েকের মধ্যেই সেল্ফ ডিপেভিং এর কাজ সুসম্পন্ন  হয়ে যায়। আর নতুন করে সেগুলোর মেরামতি না করার অনুপ্রেরণা থাকলেই কেল্লাফতে। রাস্তার ছাল্ বাকল তো হামেশাই উৎপাটিত হয়ে মাটির দেখা পাওয়া যায়। সরকারের উন্নয়ন করার বাতিক টা বিদায় হলেই আর নো চিন্তা। 
  • সৌমেন রায় | 2409:40e1:10f6:9bcd:8000::***:*** | ১৩ মার্চ ২০২৫ ০৮:২৭541650
  • অভিনব বিষয়।   এমন এমন নূতন বিষয় তুলে আনেন লেখক যা ভাবনার খোরাক জোগায়।আমরা কি ভাবতে পারব এমন করে? 
  • Avijit Chakraborty | ১৩ মার্চ ২০২৫ ১৮:৪৪541665
  • অভিনব ঘটনা, অভিনব উদ্যোগ। প্রশংসার যোগ্য। মনকে উজ্জীবিত করে। কিন্তু চাপ আছে বস্। আমাদের লোকালয়ের মানুষজন এইসব ব্যপারে এতোটাই অসচেতন যে এই ডি-পেভিং করতে গেলে পাবলিকের মারেই বিছানা নিতে হবে। সঙ্গে ডি-পেভিং আন্দোলনের বিরুদ্ধে আরেকটা নতুন আন্দোলন শুরু হয়ে যাবে। 
  • পলি মুখার্জি | 2405:201:8000:b11b:c4e3:2586:36b2:***:*** | ১৭ মার্চ ২০২৫ ২২:২০541757
  • ভারতের নগর জীবনে কংক্রিটের আচ্ছাদন বাড়ছে অনেকটাই অপ্রয়োজনীয় ভাবে।এই প্রবণতা রুখতে হবে।না হলে গোটা দেশটাই জলহীন মরুস্থলির চেহারা নেবে। মাথায় রাখতে হবে পৃথিবীতে পেয় জলের জোগান কমছে।
  • Somnath mukhopadhyay | ১৮ মার্চ ২০২৫ ০৬:৫৬541766
  • বিলম্বিত বোধোদয়।
    ইংরেজির সেই পুরনো প্রবাদের কথাই মনে এলো --Better late than never. কর্ণাটক সরকারের তরফ থেকে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্যের উপ মুখ্যমন্ত্রী শ্রী ডি কে শিবকুমার এখন থেকে নির্মিয়মান বাড়ির পিছনের দিকের অংশে খালি জায়গা রাখা বাধ্যতামূলক বলে ঘোষণা করেছেন। ব্যাঙ্গালুরুর মানুষেরা গতবছরের ভয়ঙ্কর জলাভাবের কথা এখনও পর্যন্ত ভুলতে পারেননি।এই বছর এখন‌ই জলের টানাটানি শুরু হয়ে গেছে। এমন অবস্থায় কংক্রিটের বাঁধনে বাঁধা পড়ে যাওয়া ব্যাঙ্গালুরু শহরের এই প্রচেষ্টা নিশ্চয়ই প্রশংসনীয়। যথেচ্ছভাবে শহরের প্রতিটি এলাকা কংক্রিটের মোড়কে মুড়ে ফেলার আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বর্জন করতে হবে। না হলে আগামী দিনে ভয়ঙ্কর জল সঙ্কটের সম্মুখীন হতে হবে আমাদের। পরিকল্পিতভাবে ডি পেভিং মুভমেন্টের ওপর জোর দিতে হবে আমাদের।
  • Sudeep Chatterjee | ১৯ মার্চ ২০২৫ ১০:৫১541781
  • চমৎকার লেখা।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আলোচনা করতে মতামত দিন