এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • দেশ মানে কী? 

    কিংবদন্তি লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ | ৭২২ বার পঠিত | রেটিং ৪.৭ (৩ জন)
  • শেখ হাসিনা ইউকে আওয়ামীলীগের এক সভায় ভারত থেকে অনলাইনে বক্তব্য দিয়েছেন। আওয়ামীলীগ যে দিশেহারা, এবং কতটা দিশেহারা তা পরিষ্কার বুঝা গেছে। চার মাস পার হয়ে গেছে এখনও দিক নির্দেশনা পাওয়া যায় নাই দলের শীর্ষস্থান থেকে। এগুলা আমরাই বলে আসছে এতদিন ধরে যা শুনলাম বক্তব্যে। ষড়যন্ত্র করে সরকারের পতন করিয়েছে, মানুষ মেরেছে, ইউনুসের বিচার করবে ব্লা ব্লা ব্লা...! ছন্নছাড়া একটা দল, দেশে একটা নাম নেওয়ার মতো কেউ নাই দলের, তা নিয়ে কোন বক্তব্য নাই, নতুন কথা নাই কোন, সেই পুরাতন ধান্য ধারণা নিয়েই বসে আছেন তিনি। প্রতিপক্ষ কোন মাপের খেলোয়াড় সে সম্পর্কে এত কিছু হয়ে যাওয়ার পরেও তিনি সম্ভবত সচেতন না। দেশে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য একটা কমিটি ঘোষণা করা উচিত। একদম পরিষ্কার রাজনীতি করা লোক নাই কেউ? তাদেরকে দিয়েই মাটিতে দাঁড়াতে হবে আগে। এখনও তিনিই আসবেন, তিনিই সব করবেন কিংবা বিএনপির মতো আংকেল স্যামের মন্দিরে পূজা দিয়েই সব কাজ সমাধা হয়ে যাবে এমন ভেবে বসে থাকাটা কত ভয়ংকর চিন্তা তা বুঝতে পারেন তিনি? এই বুঝতে না পারাটা আরও ভয়ংকর চিন্তা। 

    শেখ হাসিনা একক ক্ষমতায় এতই মজে ছিলেন যে তার আশেপাশে কেউ নাই। কাওকে রাখেন নাই। কত ভয়ংকর সময় গেছে, পাশে ছিল দুর্দান্ত নেতাকর্মীরা। ফখরুল মইনউদ্দিন জেলে নিলো। দল ভেসে গেছিল? সৈয়দ আশরাফের মতো লোক, জিল্লুর রহমানের মতো নেতা হাল ধরল দলের। দল টিকে গেল না শুধু, দলের ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সময় পার করল। ৫ মে মতিঝিল দখল করে বসে গেল হেফাজতের লোকজন। খালেদা জিয়া ব্যাগ গুছিয়ে তৈরি চেয়ারে বসার জন্য! তিনি সিগনাল পেয়ে গেছেন হেফাজত তাকে ক্ষমতায় বসাচ্ছে। সৈয়দ আশরাফ একক বুদ্ধিতে, একক চেষ্টায় বিপদ থেকে উত্তরণ হল। সেই সৈয়দ আশরাফকে সরিয়ে দেওয়া হল, ওবায়দুল কাদেরর মতো ফালতু একটা লোককে সাধারণ সম্পাদক বানানো হল! ২০১৩ সাল পর্যন্ত দলের নেতৃত্বে কারা ছিল, সরকারের মন্ত্রী পরিষদে কারা ছিল দেখলেই বুঝা যায় দলটা চালাচ্ছিল কারা। আর ২০২৪ সালের বিপদের সময় দেখেন, সব গুলো চামচা, টাকা পয়সার ধান্দা করার জন্য আসছে দেখেই বুঝা গেছে। 

    আবার সময় হয়েছে রিফরম করার। পরিষ্কার রাজনীতি করা লোকজনকে সামনে আনতে হবে। আর যদি তেমন কাওকে না পাওয়া যায় তাহলে ফুল স্টপ দিয়ে রাজনীতি বাদ দিয়ে দিন। বাংলাদেশকে মুক্তি দিন আপনারা। শেখ পরিবারের হাত থেকে মুক্তি দিয়ে দিন। ৩০০ সংসদ সদস্যার মধ্যে শেখ পরিবার থেকেই ৩০ জন! শেখ হাসিনা ম্যাজিক যতদিন চলেছে ততদিন এই সব চোখে পড়েনি কারো। পড়লেও গা করেনি। আমরাও করিনি। কিন্তু আজকেও আমরা জিজ্ঞাস করব না শেখ তাপসের ব্যাংকে কত টাকা? পরশের কত টাকা? ওর স্ত্রীর কত টাকা? কীভাবে রাতারাতি ব্যাংকের মালিক হয়ে যায় একেকজন! শেখ তন্ময়, শেখ হেলাল! এরা লতায়পাতায় শেখ পরিবারের লোক। বঙ্গবন্ধুর চাচা, কাকা, এদের ছেলেপেলে এমন লোকজনের দাপটে থাকা যায় না। কত টাকা করছে? একেকজন কত টাকা পাচার করছে? 

    এমন না এগুলা আমরা জানতাম না। সব না জানলেও জানতাম তো কিছু। কিন্তু এইটাও জানতাম উন্নয়নের সাথে দুর্নীতির সম্পর্ক আছে। চাই না কিন্তু অস্বীকারও করতে পারি না। টাকা পাচার হইছে, এইটা সত্য। কিন্তু সরকার শ্বেতপত্র নামে যে একটা জিনিস বানায়া সামনে আনছে তা এক কথায় হাস্যকর। শ্বেতপত্র নিয়ে শেখ হাসিনা বিরোধীদের অর্গাজম হয়ে যাচ্ছে সকাল বিকাল! শ্বেতপত্রে লিখেছে ২৮ লাখ কোটি টাকা! মানে শেখ হাসিনার এই ১৬ বছরে মোট অবৈধ পথে পাচার হয়েছে ২৮ লাখ কোটি টাকা। এই অংক শুনলে যে কারো মাথা নষ্ট হয়ে যাবে। সমস্যা হচ্ছে আমাদের যাদের দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছে বলেই তাতে ইমান আনতে পারি নাই তাদের নিয়ে। খুব সহজ একটা প্রশ্ন মাথায় আসছে আমার, ১৬ বছরের বাজেট কত ছিল বাংলাদেশের? খোঁজ নিয়ে দেখলাম ৫৬ লাখ কোটি টাকা! এখন কেউ আমারে বুঝায় দিয়া জান এইটা কেমনে সম্ভব? ৫৬ লাখের মধ্যে যদি ২৮ লাখ পাচার হয়ে থাকে তাহলে এই ১৬ বছরে আমরা করছি কী? ঘাস খেয়ে ছিলাম? সবাই এক যোগে ছাগল হয়ে গেছি? 

    এগুলা নিয়ে যে একটা শক্ত, শক্তিশালী অবস্থান থেকে প্রতিবাদ আসবে, করবে তার কোন উপায় নাই। প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া সবাই এক যোগে গোসাইমে পাদিছে বলে মারহাবা মারহাবা করে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা অবশ্য তার বক্তব্যে সরকারি বড় বড় প্রকল্পে দুর্নীতি খুঁজে বের করার জন্য ওপেন চ্যালেঞ্জ করেছেন। এইটা ভালো কথা কিন্তু ভুল সময়ে ভুল লোককে চ্যালেঞ্জ করেছেন তিনি। এই লোক, বিখ্যাত নোবেল ম্যান এখন সবই সম্ভব করে দিতে পারেন। তিনি বুক পিঠ আলাদা করা লোক না। ঠাণ্ডা মাথায় চাকু ঢুকিয়ে মানুষ মারতে পারেন তিনি। 

    বিশ্বাস হচ্ছে না? পঞ্চগড়ে ছাত্রলীগ নেতাকে বাসায় খুঁজতে গিয়ে তাকে না পেয়ে মাকে কুপিয়ে মেরে আসছে তথাকথিত কিছু দুর্বৃত্ত! বেচারা মা নামাজ পড়তেছিল, নামাজরত অবস্থায়ই কুপিয়েছে! আরেক জায়গায় আওয়ামীলীগ নেতাকে না পেয়ে মা আর খালাকে আগুনে জ্বলিয়ে দিয়েছে সোনার টুকরো ছেলেরা! ইউনুসের দোষ কথায়? দোষ হচ্ছে এগুলার বিচার পাওয়ার রাস্তা না রাখা। পুলিশ এগুলা নিয়ে কোন পদক্ষেপই নিচ্ছে না। দেশে এখন এমন অবস্থা যে আওয়ামীলীগ বা ছাত্রলীগের কেউ মরলে কোন সমস্যা নাই, জায়েজ করে দেওয়া হয়েছে। ফরহাদ মজহারের মতো লোক বলতেছে বিনা অপরাধে কাওকে ধরা যাবে না। অথচ এখন পর্যন্ত ইউনুসের বা আসিফ নজরুলের মুখ দিয়ে এটা বের হল না যে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য কোন অপরাধ করা যাবে না, প্রতিহিংসায় যিনি নিজেই জর্জরিত তিনি এমন বলবে এইটা অবশ্য আশা করাও বোকামি! 
    দেশেকে শান্ত রাখার পরিবর্তে নোবেল ম্যান এবং তার উপদেষ্টা মণ্ডলী এক যোগে বারুদে আগুন দেওয়ার কাজ করে যাচ্ছে। আমি প্রথমে বুঝিনি। মাথায়ই আসছিল না কেন হুট করে চিন্ময় দাসকে আটক করা হল। কেন তাঁকে আটকের সাথে ইশকনকে নিষিদ্ধের ডাক আসল। চিন্ময় দাসকে ধরলে দেশের হিন্দু ধর্মালম্বীরা সহজে মেনে নিবে না এইটা তারা জানত না? জানত। বুয়েটের ফুটপাথে ভারতের পতাকা আঁকা হল, সরকার জানত না এইটার ফলাফল? জানত। সবই হতে দিয়েছে। এই পর্যন্ত আমাকে ধোঁয়াশায় ফেলে দিয়েছিল। চট্টগ্রাম সহ সারাদেশে প্রলয়কাণ্ড হয়ে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে তেমন কিছুই হল না কোথাও। এরপরে আমি আস্তে আস্তে বুঝতে পারলাম কোন খেলা কোথায় খেলা হচ্ছে। 

    বুয়েটের পরে আরও কয়েকটা জায়গায় ভারতের পতাকা ফুটপাথে আঁকা হল। ( এখন পর্যন্ত আঁকা আছে এই পতাকা) ভারত থেকে যথারীতি প্রবল বিক্ষোভে ফেটে পড়ল মানুষ। বাড়াবাড়িও হল। আগরতলায় বাংলাদেশের উপ হাইকমিশনারে হামলা করে বসল। এর আগ পর্যন্ত খেলা এক রকম ছিল। কিন্তু এইটা পট পরিবর্তন করে দিল। আমাদের দূতাবাসে হামলা হবে এইটা আমি সমর্থন করব না। এইটা সমর্থন না করার জন্য ইউনুসকে সমর্থন করার দরকার নাই। এরপরেই ডাক আসল সরকার প্রধানের কাছ থেকে, জাতীয় ঐক্য! প্রথমে ছাত্ররা দেখা করে জাতীয় ঐক্যের প্রতি সমর্থন জানাল, এরপরে গেল রাজনৈতিক দলের নেতারা, গেল ধর্মীয় মহাজনেরা! ভারত আমাদের সার্বভৌমত্বের ওপরে আক্রমণ করবে আর আমরা এক হতে পারব না? বাহ! কী উচ্চ চিন্তা ধারা! সবাই জাতীয় ঐক্যকে সাধুবাদ জানাল! দেশে এমন কাণ্ড জীবনে হয় নাই, এমন পুরুষ এই ভূখণ্ডে আসে নাই, বাহ বাহ বাহ হা হা হা! 

    খেলাটা বুঝা গেল? আমি তাজ্জব হয়ে রইলাম। ইউনুস বা ইউনুসকে যারা চালাচ্ছে তারা এই চার মাসের লেজেগোবরে থেকে উদ্ধারের জন্য এই বুদ্ধি দিয়েছে কি না জানি না। এইটা আরও গভীর কোন খেলার অংশ কি না জানি না। কেউ কেউ বলছে এইটা মূল পরকল্পনার অংশ। বৃহৎ পরিকল্পনায় ভারতকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনাও আছে। ওইদিক থেকে পাকিস্তান তৈরি হয়ে বসেই আছে। এদিকে বাংলাদেশ, যে বাংলাস্তান হওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে! আজগুবি মনে হতে পারে। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টার সাবেক সহকারী, বর্তমানে আল্লাই জানে কোন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সেই মাহফুজ আলমের কথা শুনলে মনে হবে না যে আজগুবি কথা এগুলা। তিনি বলছেন ৭১ সালে যে ভুল হয়েছে এখন আর সেই ভুল করা হবে না! তিনি কোন ভুলের কথা বললেন? এক সামরিক বিশেষজ্ঞ (!) টেলিভিশনের টকশোতে বলছে পাকিস্তানকে বললেই না কি বিশটা নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড দিয়ে দিবে। বিশটা এনে ভারতের দিকে তাক করে রাখলেই সব ঠাণ্ডা! ভারত না কি এই খবর শুনে আঁতকে উঠেছে! 

    কে না জানে দুর্বল সরকার যদি একটা যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে তাহলে তার সমস্ত দুর্বলতা নিমিষে উধাও হয়ে যায়? ইউনুস সাহেব সাফল্যের সাথে দেশে এমন একটা ভাব আনতে পেরেছে। দেশে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা হয়েছে যা আসলে হচ্ছে জাতীয় ভারত বিরোধী ঐক্য বা আওয়ামীলীগ বিরোধী ঐক্য! ত্রিশ শতাংশ ভোট যাদের হাতে তাদেরকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য আসলে কতখানি জাতীয়?  খালেদ মহিউদ্দিন অবশ্য বলছে আওয়ামীলীগকে ডাকতে চাইলে কাকে ডাকবে? কোথায় চিঠি পাঠাবে? এইটাও সত্য, যেটা শুরুতেই লিখছি, আসলেই কেউ তো নাই! 

    জাতীয় ঐক্যের নামে ভারত বিরোধীদের সমর্থন দিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি করা হল তার ফলাফল কেমন হবে? কারা সামনে আসবে? কারা সাহস পাবে এই ক্ষেত্রে? একটা উদাহরণ দেই, ১৩ তারিখ খুলনায় ইশকনের একটা সম্মেলন আছে, হেফাজত ঘোষণা দিয়েছে তা প্রতিহত করবে। করতেই দিবে না। সারা দেশে এমন কত ঘটনা ঘটছে? মাইক দিয়ে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে হিন্দুদের এবার উচিত শিক্ষা দেওয়া হবে! আমাকে পাগলা কুত্তায় কামড় দিছে যে আমি এই সব কিছুকেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে পাশে সরায় রাখব? 

    বলছিলাম সরকারের ইশারায়ই সব হইছে হচ্ছে। সত্য হচ্ছে এতদিন যে মব জাস্টিস হচ্ছিল তা এমনে এমনেই না। এগুলাও এরা হতে দিয়েছিল। এরাই যখন বুঝল যে এখন সহিংস হওয়া যাবে না তখন চুপ করে রইল। গলায় সাপ পেঁচায় দিলেই আমি বিশ্বাস করব যে বাংলাদেশের মানুষ সবাই শান্ত হয়ে, প্রতিবেশীর প্রতি প্রেম দেখিয়ে কোন দাঙ্গা হাঙ্গামা করে নাই? হুট করিয়ে এরা ভিন্ন ধর্মালম্বীদের বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে গেল? না, তেমন বিশ্বাস করার কোন কারণ নাই। এর উত্তর হচ্ছে এই ভেড়ার পালের রাখাল আছে! এই রাখালরাই নির্ধারণ করছে কোনটায় দাঙ্গা হামলা হবে আর কোনটায় চুপ করে থাকতে হবে। বাড়তি কথা বলছি? আরে কোন মধ্যপ্রাচ্যে, কোন ইউরোপে কে কী করছে না করছে দেখে এখানে আগুন ঝরা মিছিল হয়, মানব বন্ধন হয় অন্তত পক্ষে। চট্টগ্রামে একজন আইনজীবী মারা গেল! মসজিদে হামলা হল, ভারতে, কলকাতায় আমাদের জাতীয় পতাকায় আগুন দিল, ত্রিপুরায় দূতাবাসে আক্রমণ করে বসল, অথচ আমাদের শহরে একটা মিছিল পর্যন্ত হল না? নুন্যতম একটা মানব বন্ধন? কিচ্ছু না? এইটা তো বাড়াবাড়ি রে ভাই! এরপরেও আমি বলব না যে রাখাল রাজা এদেরকে নিয়ন্ত্রণ করে? কোন সুদূর থেকে হয়ত নির্দেশনা আসছে যে না, এইটা নিয়ে বেশি কিছু করা যাবে না, কারণ আমাদের এইটার জন্য বৃহৎ পরিকল্পনা আছে! মিলে? খাপে খাপ মিলে?  

    বাংলাদেশের মুসলিম সমাজ এখন এক বিচিত্র চেহারা নিয়েছে।  ওয়াহাবিদের উত্থান দুনিয়া জুড়েই। ওয়াহাবিরা মনে করে তারা ছাড়া সবাই কাফের, তাদেরকে মারা জায়েজ আছে! আমাদের এলাকায় পীরের দরগা যখন লুট হল তখন দাঁড়ি জোব্বাওয়ালাদেরকে কেউ কেউ জিজ্ঞাস করেছে এগুলা নিয়ে যাচ্ছেন কেন? উত্তর আসছে এগুলা গনিমতের মাল! ধর্ম যুদ্ধের পরে বিজয়ীরা পরাজিতের মাল সামান ভাগ করে নেয়, এমন একটা প্রথা ছিল এক সময়। এখন এরা বলছে বিধর্মী হতে হবে না, আমার মতের সাথে না মিললেই তা লুট করে নেওয়া জায়েজ, ওইটাই গনিমতের মাল! এইটা আমাদের এলাকার মূর্খ কোন হুজুরের লুটের মাল জায়েজ করার জন্য হুট করে বলা কোন তত্ত্ব না। ওয়াহাবিরা এমন করে চিন্তা করে। এরা আল বাকি নামের এক গোরস্থানকে কয়েকবার করে গুড়িয়ে দিয়ে ছিল। কারণ তাদের মতে গোরস্থানে যে কবর রয়েছে মানুষ সেখানে গিয়ে দোয়া করে। তাদের মতে এইটা তো নাজায়েজ! তাদের মতই তো শেষ কথা, তাই না? অথচ আল বাকিতে নবীর পরিবারের অনেকের কবর ছিল, অনেক প্রখ্যাত সাহাবিদের কবর ছিল। সব গুড়িয়ে দিয়েছিল এরা! 

    কেন এই গল্প বললাম? কারণ আমাদের দেশ তো বটেই সব জায়গায়ই এদের জয় জয়কার। সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতন হয়েছে। আসাদ পালিয়ে গেছে। আমাদের এই পবিত্র ভূমির মুসলমানরা দেখলাম খুশিতে আত্মহারা! কেন? আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি এক সময় আল কায়দার সাথে ছিল, আইএসএসের সাথে ছিল, তার নেতৃত্বেই আসাদ সরকারের পতন হয়েছে, এইটা খুশির সংবাদ না? বিলো এভারেজ আইকিউওয়ালাদের কেমনে বুঝাই এই অঞ্চলে এক প্রকার শেষ পেরেক মেরে দিল মার্কিন ইজরাইল শক্তি! ইজরাইল এখন কী কী করবে তা দেখা শুধু সময়ের অপেক্ষা! এরা নিজের দেশে মার্কিন শক্তির কোন লক্ষণ খুঁজে পায় নাই তো এরা অত দূরের সিরিয়ায় খুঁজে পাবে? বালখিল্য আলাপ করে ফেললাম মনে হয়! 
     
    দেশ মানে কী? এইটা নিয়ে খুব ভাবছি কিছুদিন ধরে। বান্দরের হাতে লাঠি, কখন কী করে ফেলবে কে জানে? আমরা কী ভারতের সাথে যুদ্ধে জরিয়ে যাব? অহেতুক জরিয়ে যাওয়া একটা যুদ্ধে আমি কী করব? আমার তো আমার মাতৃভূমির পক্ষেই দাঁড়াতে হবে, তাই না? অথচ আমি বুঝতেছি এইটা যদি হয় তা হবে জোর করে, আগ বাড়িয়ে একটা আকাম। তারপরেও আমাকে তো দেশের পক্ষেই দাঁড়াতে হবে, কী বিচিত্র না? 
    একটা ডার্ক কমেডি দিয়ে শেষ করি। আমার এক হিন্দু বন্ধুকে আরেকজন মজার ছলেই বলছে যুদ্ধ বাধলে এবার কই যাবে তোরা? সবার আগে দৌড় দিবি ভারতের দিকে? ও চাল্লু মাল, মজার একটা উত্তর দিছে। বলছে এবার আমরা যামু কেন? ভারত আক্রমণ করব, তোরা দৌড়ের ওপরে থাকবি এবার! লুঙ্গি খুলে তোদেরকে পরীক্ষা করব এবার! কী নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে, কী ভাবতে হচ্ছে আমাদের! বিচিত্র এক সময়। 
     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ | ৭২২ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • . | ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ ০৩:৪২540037
  • যুদ্ধ হবে না। ওসব কল্পনা।
  • PRABIRJIT SARKAR | ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৩:০৮540040
  • যুদ্ধ না লাগালে এই শান্তি পুরস্কার প্রাপ্ত ইউনুস গদিতে থাকবে কি করে? ভারত তো ইসরাইল নয় যে বাফার করে ওদের এলাকা দখল করে রাখবে।
  • PRABIRJIT SARKAR | ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৬:১৮540042
  • আরেকটা সিরিয়া কেস হচ্ছে।
  • . | ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৬:৪০540043
  • যেচে মার খেতে যে চায়, তাকে কী আর বলা যায়।
    ১৯৭১ এ বাংলাদেশের মা বোনেদের ধর্ষণ করল যাবা, এত  বাঙালি মারল যারা, তারা এখন বন্ধু হয়েছে। মার খেয়েছে ভুলে গেছে।
  • PRABIRJIT SARKAR | ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৮:০৪540044
  • অনেকদিন আগে এক বাংলাদেশি অফিসারকে সাসেক্স এ মিট করেছিলাম। সে আমায় বলল আপনাগো কী  দায় পড়সিলো আমাগো স্বাধীন করতে সৈন্য পাঠালেন...। পাকিস্তান বালো আসিল। বুঝলাম ইন্দিরা ভুল করেছিল। খান সেনাই এদের ভাল। একই ধর্ম। হিন্দু নিধন আটকাতে অন্য কিছু ভাবা উচিত ছিল।
  • dc | 2a09:bac3:3f46:11c3::1c5:***:*** | ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৮:১১540045
  • একজনের মন্তব্য থেকে দেশের সবার মনোভাব বুঝে গেলেন? 
  • PRABIRJIT SARKAR | ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৮:২২540046
  • তখন বুঝিনি এখন মনে হচ্ছে। ভাত একটা টিপলে যেমন বোঝে।
  • . | ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ ২০:১৯540048
  •  ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৮:০৪
     
    এই মনোভাবের পরিচয় একজন ব্যক্তির থেকে নয়, অনেকের থেকেই পেয়েছি। বিভিন্ন দেশে। ঘটনা।
  • r2h | 208.127.***.*** | ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ ২০:৫৪540050
  • উল্টো মনোভাবের পরিচয়ও অনেকের থেকে পেয়েছি, সত্যি বলতে বাংলাদেশের যত লোকজন চেনা মোটামুটি সবার থেকেই, আর চেনা বাংলাদেশের লোকজনের বৃত্তটা একেবারে ছোটও না। তবে ওরকম মনোভাব যে আছে, তাও খুব ভালো জানি, আমার চেনাশুনোই তো আর রিপ্রেজেন্টেটিভ না। দু'রকমই আছে।
    একবার দিল্লিগামী শিয়ালদা রাজধানীতে আজমীর শরীফ দর্শনার্থী একটি বাংলাদেশি দল সহযাত্রী ছিল - তারা নাকি ঘড়ির সময় পাকিস্তানের সঙ্গে মিলিয়ে রাখে - শুনে ভয়ানক বিস্মিত হয়েছিলাম।
    তো, ঐরকম মনোভাবই সংখ্যাগুরু হলেও হতে পারে - কতটুকু আর জানি।

    তবে ভারতীয়রা যেমন মুহুর্মুহু কৃতজ্ঞতার দাবি তোলে, তাতে যাদের ঐ মনোভাব ছিল না, তাদেরও হয়ে যাওয়ার কথা - সেটা হয়ও।
    পাকিস্তান ভেঙে স্বাধীন বাংলাদেশ হওয়াতে ভারতের লাভ বই ক্ষতি ছিল না - এটা অস্বীকার করার তেমন জায়গা নেই, একাত্তরের অকল্পনীয় নৃশংসতা মনে রেখেও সেটা বলা যায়।

    বরং ভারত সেনা পাঠিয়ে দেওয়াতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যথেষ্ট মৃত্যু ও রক্তের বিনিময়ে 'অর্জিত' হয়নি - অনেকটা এই মর্মে বক্তব্য রাখায় কল্লোলদা (হয়তো হনুদাও, ঠিক মনে নেই)-র সঙ্গে বছর দশেক আগে বোধয় একবার খুব তর্ক হয়েছিল এই পাতায়। যে, যথেষ্ট মূল্য না দিলে স্বাধীনতার মর্যাদা স্মরণে থাকবে না - এরকম।

    যদিও আমি মনে করি মূল্য যথেষ্টই দেওয়া হয়েছিল - স্বাধীনতার মর্যাদা না রাখা বোধয় কিছুটা সচেতনতা ও ডকুমেন্টেশনের অভাবে। নাজি জার্মানির পতনের পর আমেরিকার কার্যকলাপের মধ্যে একটা গুরুতর ছিল যত পারা যায় ছবি, ভিডিও, ইন্টারভিউ, স্মারক সংগ্রহ করে রাখা - না হলে কুড়ি বছর পর কেউ বলবে আরে দুর ওসব হয়ইনি।
    বাংলাদেশ বিষয়ে ঐ সিনড্রোম খুবই।

    দেশ কী - এর থেকে গুরুতর প্রশ্ন বোধয় এই সময় কমই আছে। বেড়া তোলার জন্য মানুষ বর্ণ জাতি ধর্ম অনেক কিছু বানিয়েছে, সেসবের মধ্যে একটা অন্যতম দুর্বল জিনিস বোধয় জাতীয়তাবাদ। একদল লোক কলেজের গেটে জাতীয় পতাকা আঁকলো, আরেকদল লোক অসুস্থ, শিক্ষার্থী, ভ্রমনার্থী লোকেদের ঢোকা আটকে দিল, তার উত্তরে আজ তো কোথায় পড়লাম বাংলাদেশে ভারত থেকে যাওয়া বাসে হামলা হয়েছে। রাজনৈতিক দল গুলি এই উন্মাদনা প্রশমিত করতে পারতো, কিন্তু সেটা কোন দল একক ভাবে করতে পারবে না- না হলে দেশ বিরোধী তকমা লেগে যাবে।
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:9970:718e:ec57:***:*** | ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ ২১:৩০540051
  • সবরকম মনোভাবের লোকই থাকে। সেজন্যই কনফার্মেশান বায়াস জিনিসটা আসে :-)
  • কিংবদন্তি | ১১ ডিসেম্বর ২০২৪ ০০:০৯540055
  • কয়েকটা মাস আগে এমন আলোচনায় আমার বক্তব্য কেমন হত ভাবার চেষ্টা করলাম। বাংলাদেশ পাকিস্তান/ আফগানিস্তান হয়ে যাচ্ছে এইটা নানা সময় নানা জায়গা থেকে নানা মানুষ দাবি করেছে। কোমর বেঁধে ঝগড়া করতাম আমি। আরে ধুর, আমরা আছি না? হতে দিব না কি? জোরটা ছিল কোথায় যেন, মনের ভিতরেই কোথায় যেন শক্তি পেতাম। ধীরে ধীরে পরিবেশ পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে দেখেছি, তবুও গোয়ারের মতো বলেই যেতাম যে হবে না, হতে দিব না। আজকে এই আলোচনায় আমার বক্তব্য কী? আমি কেন বলতে পারছি না আগের মতো? কী ভয়ংকর খেলায় মেতে উঠল সবাই যে মুক্তিযুদ্ধ এই দেশে এখন আতঙ্কের নাম! 
    আজকে আদালত জয় বাংলা স্লোগানকে জাতীয় স্লোগান করে যে ঘোষণা ছিল তাকে বাতিল করে দিয়েছে! ক্ষমতা আছে, দিয়ে দিল! ক্ষমতা আছে তাই ১৬ ডিসেম্বর, যার চেয়ে বড় কোন অর্জন বাঙালি জাতি আজ পর্যন্ত অর্জন করে নাই, সেই বিজয় দিবসকে সংকোচিত করে দেওয়া হচ্ছে! কোন কুচকাওয়াজ হবে না এবার! বিজয় মেলা হবে, সেখানেও কাওয়ালির আয়োজন করেছে ঢাকা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি! 
     
    একটা পক্ষ, আমরাই সেই পক্ষ যারা বিজয় অর্জিত হয়ে গেছে ভেবে তৃপ্তির ঢেকুর তুলেছি। আওয়ামীলীগ নানা সময় বলেছে দেশে জামাত শিবির সক্রিয়, তারা নানা ষড়যন্ত্র করছে। আমরা বলছি আওয়ামীলীগ এক জিনিস আর কতবার বেচবে? জামাত বলতে দেশে কিছু আছে? আরেকটা পক্ষ, জামাত, পাকিস্তানের প্রেতাত্মা, ওরা চুপ করে থাকেনি। ওরা জানে যুদ্ধে ওরা হারেনি, ওরা একটা খণ্ড যুদ্ধে হেরেছে শুধু। ওরা তৈরি হয়েছে, নিজেদের গুছিয়েছে, খোদ ছাত্রলীগেরই রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে বসে ছিল ! আমরা দেশ নিয়ে ভাবা বাদ দিয়েছি। দেশ চালাচ্ছে, চলছে, খারাপ কী? এই দেশে কোনদিন মুক্তিযুদ্ধ বাতিল করে দেওয়ার চেষ্টা হবে এইটা তো স্বপ্নেও কোনদিন কেউ ভাবেনি। কিন্তু আমাদের প্রতিপক্ষ ভেবেছে, তারা অনেক ভেবে দেখেছে এইটাই রাস্তা! এই দেশে আগের সমস্ত কিছু বাদ করে ফেলে দিতে হবে। ভারত মাথা গলায় আমাদের রাজনীতিতে, পাকিস্তানকে আমাদের সাথে নিব। দুই পাস থেকে চাপে রাখা হবে ভারতকে। ভারত সিধা হয়ে যাবে এবার! এগুলা ওরা পরিকল্পনা করেছে। আমরা, আমাদের আদর্শ নিয়ে মুড়ি খেয়েছি, তন্দ্রায় থেকেছি! 
     
    আমরা তো সামান্য মানুষ। যাদের হাতে অফুরন্ত ক্ষমতা ছিল তারা কী করেছে? তারা মুক্তিযুদ্ধ শব্দটাকে একটা শব্দ বানিয়ে রেখেছিল, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হাস্যকর বানিয়ে ফেলেছিল। প্রজন্ম কী ভাবছে, কেমন চোখে দেখছে নতুন এই প্রজন্ম তা ভেবে দেখেনি। ধর্মীয় শক্তির উত্থান হয়েছে। সরকার তাকে মোকাবেলা না করে তাকে সাথে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। ভেবেছে হুজুররা সাথে থাকলে সব ঠিক থাকবে। মদিনা সনদের স্বপ্ন দেখিয়েছে আমাদের! একটা ধর্মীয় সংগঠনও সাথে থাকেনি। ৫০০ মসজিদের ইমামও একটা শব্দ বলেনি! উল্টো সুযোগ পাওয়া মাত্র নাম ফলকে লেখা শেখ হাসিনার নাম মুছেছে নিজ দায়িত্বে! ধর্মান্ধ একটা প্রজন্ম বড় হয়েছে আওয়ামীলীগেরই শাসন আমলে। যারা ধর্মও বুঝে না, দেশ কাল রাজনীতি তো বুঝেই না। আজকে হাসনাত আব্দুল্লাহর একটা বক্তব্য খুব প্রচার হচ্ছে, তিনি কেঁদে কেঁদে বলছেন মুক্তিযুদ্ধকে পুঁজি করে আওয়ামীলীগ আলেমদেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে! আহারে প্রজন্ম! আলেমদের ফাঁসি দিয়েছে বলে কান্না! 
     
    এই আলেমরা যখন যৌবনে মানুষ হত্যার মিশনে নেমেছিল তার গল্প শুনবে না তোমরা? মোহাম্মদপুর জিমনেশিয়ামে অনেক নারীর মৃত দেহ পাওয়া গেছিল যাদের স্তন কাটা ছিল। কাটা স্তন গুলোও পাওয়া গেছিল আরেক জায়গায়, স্তূপ করে রাখা হয়েছিল! বর্বরতার নতুন মাত্রা তৈরি করেছিল তোমাদের এই আলেমেরা। সাক্ষাত শয়তান ছিল একেজন। সরকার ঘোষণা দিয়েছে বিজয় দিবসে কোন স্মৃতিচারণ করা যাবে না! এতে কন্ট্রোভার্সি তৈরি হওয়ার সম্ভবনা আছে! মানে এই সব ঘটনা বলাও যাবে না বিজয় দিবসে, কেন? কারণ হয়ত জীবিত আলেমদের কষ্ট লাগতে পারে! আর না হলে কোন কন্ট্রোভার্সির কথা বলছে?  
     
    আমাদের এদিকে একটা কথা প্রচলিত আছে, ফাটকা চেঙ্গি। বাঁশ, মোটা পরিপক্ষ বাঁশ মাঝখানে চিড় করলে মাঝ বরাবর যে ফাঁকা অংশটুকু তৈরি হয় ওইটাকে বলে ফাটকা চেঙ্গি। সত্য হচ্ছে আমরা ফাটকা চেঙ্গিতে আটকে গেছি। এর থেকে উত্তরণের কোন পথ আপাতত নাই। মুক্তিযুদ্ধ নিজেই এমন একটা শক্তি যাকে আমাদের হাতে ধরে বাঁচিয়ে রাখতে হবে এমন না। মুক্তিযুদ্ধ নিজেই নিজের পথ খুঁজে নিবে। আজকে যা ইচ্ছা তাই করা হোক, সমস্যা নাই। কয়দিন? দশ বিশ ত্রিশ? পঞ্চাশ বছর পরে হলেও মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে যাবে না। সত্য যেমন ঠিক নিজের পথ করেই নেয় তেমনই মুক্তিযুদ্ধও নিজের পথ করে নিবে। এই প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে যাচ্ছে। ঠিক এর পরের প্রজন্মই দেখা যাবে পরম মমতায় আঁকড়ে ধরছে মুক্তিযুদ্ধকে। বাঁধা যত আসবে তত আগ্রহ তৈরি হবে। আমাদের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। আমরা বৈরি পরিবেশই পেয়েছিলাম, স্বাধীনতা বিরোধীদের প্রবল প্রতাপের মাঝেই আমরা আমাদের রাস্তা খুঁজে পেয়েছি। 
    নতুন সূর্য উঠবেই, সেই পর্যন্ত অপেক্ষাই এখন কাজ। 
  • PRABIRJIT SARKAR | ১১ ডিসেম্বর ২০২৪ ০৬:৪৭540056
  • ধর্মের বাড় বাড়ন্ত থেকে পাকিস্তান প্রীতি আর ভারতকে ঘৃণা বেড়ে চলেছে মুজিবর খুন হবার পর থেকে। এদিকে ভারতে হিন্দুত্ববাদীদের উত্থান এদের পালে হাওয়া দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সি আই এ পাক আই এস আই। তৃতীয় বিশ্বে হাসিনার মত দুর্নীতিগ্রস্ত শাসক অনেক দেশেই আছে। তারা তাদের মুক্তিযুদ্ধ কে ব্যঙ্গ করে না।
  • কিংবদন্তি | ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৮:০৭540080
  • আজকে একটা মজার কাহিনী শুনলাম। কয়েকদিন আগে বিচার বসছিল আমাদের নানুবাড়ির গ্রামে। কী নিয়ে বিচার? বিচার হচ্ছে ৫ আগস্ট যে লুটপাট হয়েছে তা নিয়ে! না, যা ভাবছেন তা না। লুট করেছে এই জন্য বিচার না। লুটের মাল ভাগাভাগি নিয়ে বিচার! একজন একটা ভ্যান ভাড়া করেছে। ভ্যানওয়ালাকে নিয়ে গেছে এখানকার বড় একটা চালের মিলে। যার মালিক পৌরসভার মেয়র, আওয়ামীলীগ নেতা ছিল। ভ্যান দিয়ে চালের বস্তা লুট করেছে। দুইজন, ভ্যানওয়ালা আর বিচারের বাদী দুইজন মিলে ভ্যানে চালের বস্তা তুলেছে। ভ্যানওয়ালাকে দিয়ে চাল বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছে। ভ্যানাওয়ালা ওই সব চাল জায়গামত পৌঁছে দিয়েছে। এখন ভ্যানওয়ালা কী বাড়ি চলে যাবে? দিন তো শেষ হয়ে যায়নি। ও এবার নিজের জন্য গেছে। একাই বস্তা বোঝাই করে চালের বস্তা নিয়ে নিজের বাড়িতে নিয়ে গেছে। এতদিন পরে বিচার বসেছে যে ও কেন চাল নিবে? দ্বিতীয় ধাপেও তো ওর চাল নেওয়ার কথা না, এবারও না কি বাদীর বাড়িতেই চাল পৌঁছে দেওয়ার কথা! ভ্যানওয়ালার কথা হচ্ছে না, আমাকে একবারের কথা বলছে ওইটা তো আমি করছি কাজ, ওর বাড়িতেই চাল পৌঁছে দিছি! কিন্তু এই লোক মানে না। তার কথা হচ্ছে আমি তোরে ভাড়া করছি, তুই আমার ট্রিপ মারবি, তুই কেন নিজের জন্য নিবি! 
     
    আমি শুনে হাসব না কী করব বুঝতেছিলাম না। জিজ্ঞাস করলাম বিচারে কী হল? বিচার যিনি করতে গেছেন তিনিও এমন কাহিনী দেখে থ হয়ে গেছিলেন। এইটার বিচার কী হবে? পরে আর কী, গরিবকেই শাস্তি দেওয়া হয়, কয় বস্তা চাল দিয়ে ভ্যানওয়ালাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল! 
     
    বিচিত্র বাংলাদেশে বিচিত্র সময় পার করছি আমরা! 
  • . | ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৯:৩৫540082
  • এইটা তো বাঁধিয়ে রাখার মতো একটা ঘটনা!
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে প্রতিক্রিয়া দিন