এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  অর্থনীতি  শনিবারবেলা

  • দিন গোনার দিন - পর্ব পাঁচ

    হীরেন সিংহরায়
    ধারাবাহিক | অর্থনীতি | ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৪৫৩ বার পঠিত
  • ছবি: রমিত

     

    নিভিছে দেউটি 

    ট্রিকলর (২০০৭- ২০২৫) 



    প্রস্তাবনা 

    চলতি লরির পিছনে হাইকু স্টাইলের নানান কাব্যের দেখা মেলে- যেমন ‘বুলবুল কি জিন্দগি পেড়ো কে ডাল পর, ড্রাইভার কি জিন্দগি গাড়ি কে চাল পর।’ কথাটা ধার করে বলা যায় ব্যাঙ্কার কি জিন্দগি উধারকে হাল পর। 

    ব্যাঙ্কের কর্ম তালিকা চতুর্বিধ – টাকা জমা নেওয়া (deposit) টাকা ধার দেওয়া (credit), টাকা বদলানো (foreign exchange) এবং জমা টাকার হিসেব রাখা/ টাকা পাঠানো (cash management, money transfer)। প্রথম দুটিকে বলি ঝুঁকি- টাকা জমা দিয়ে আপনার এবং সেই টাকা পাঁচজনকে ধার দিয়ে ব্যাঙ্কের। শেষের দুটি পরিষেবা, সেটিও কিঞ্চিৎ ঝুঁকি সহ। স্মার্ট ব্যাঙ্কাররা যতোই এ প্রোডাক্ট সে প্রোডাক্টের গল্প ছাড়ুন না কেন, তাঁদের তাবৎ কর্মকাণ্ডকে এই চারটের কোনো না কোনো বাকসোয় ফেলে দেওয়া যায়। আপনার দিরহাম, দিনার, ডলার বদলে দেশে ভারতীয় টাকা পাঠানোর পয়সায় দুবাই, বাহরেনের এক্সচেঞ্জ হাউস, ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন, রেমিটলি চলে বটে কিন্তু সে আয় ব্যাঙ্কারদের হিসেবে ছোট খাট ভাজা, স্মল ফ্রাই, ঠেলা ওলার ধান্দা। তাতে ব্যাঙ্কারের বিজনেস ক্লাস ফ্লাইট, বেতন, বোনাসের সাশ্রয় হয় না, তাঁরা বাঁচেন ধার নিয়ে ও ধার দিয়ে।

    ঋণং কৃত্বা!

    স্টেট ব্যাঙ্কের পাঠশালায় আমাদের ক্রেডিট গুরুরা কানে কামড়ে বলেছেন, ধার কাকে দিচ্ছ, কেন দিচ্ছ, কতদিনের জন্য দিচ্ছ এই তিনটি জিনিস খুঁটিয়ে দেখবে, সুদের হার, ঋণ গ্রহীতার সুটের বহর নয়। আগে বা পরে সেই দেনার নিয়মিত তদারকি করবে, কারখানা, গুদাম পর্যবেক্ষণ; পয়লাটি ক্রেডিট ডিসিশন, দ্বিতীয়টি ডিউ ডিলিজেন্স, সম্যক তদারকি। 

    দু পর্ব আগে আমরা পরিচিত হয়েছি তুর্ক এক্সিম ব্যাঙ্ক ইজমিরের অধ্যক্ষ রাফায়েলের সঙ্গে। তিনি এবং তাঁর লোকজন স্থানীয় জার্মান গাড়ি কোম্পানি ওপেলের ব্রেক প্যাড, ওয়াইপার সরবরাহকারীদের টাকা যেমন আগাম চুকিয়ে দিয়েছেন তেমনই সে গাড়ি যারা কিনেছেন তাঁদেরও ধার দিয়েছেন। প্রথমটি সাপ্লায়ার ফাইনান্স, ঝুঁকির নাম অর্থবলে বলীয়ান বিশ্ববিখ্যাত ওপেল। দ্বিতীয়টি লিজ ফাইনান্স বা বন্ধকি ধার যেখানে ঋণ গ্রহীতা ইজমির শহরের তামাকওলা, মুদি বা সমাজের মধ্যম বর্গীয় স্তরের মানুষ যাদের বেশির ভাগের সাংসারিক ব্যাল্যান্স শিট দৃষ্টিনন্দন নয়; তবে তাঁরা যে গাড়ি চড়েন সেটি বন্ধক আছে ইজমিরের তুর্ক এক্সিম ব্যাঙ্কের কাছে, যতদিন না পুরো দাম শোধ হচ্ছে সেটি ব্যাঙ্কের গাড়ি, মুস্তাফার বা আবদুল্লার নয়। কলকাতার পথে ঘাটে আপনারা ট্যাক্সি, ট্রাকের পেছনে লেখা দেখেন, Hypothecated to the State Bank of India ‘ (অবশ্যই অন্য ব্যাঙ্ক ধার দিতে পারে, তবে কি আমার আদি গুরুগৃহের নামটাই মনে আসে প্রথমে, অন্যদের নয়!)। সে গাড়ির মালিক স্বপ্ন দেখেন কবে গাড়ির ওপরে ঐ গ্রাফিতি মুছে ফেলতে পারবেন! জলপাইগুড়ি ব্রাঞ্চে কাজ করার সময়ে এমনি ট্রাক্টরের ওপরে স্টেন্সিল করা ফ্রেমে রঙ লাগিয়ে স্টেট ব্যাঙ্কের মালিকানা জাহির করেছি। 

    আন্ডাররাইটিং স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী স্টেট ব্যাঙ্ক তার কাছে বন্ধক রাখা গাড়ি বা ট্রাক্টরের সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেটের দামকেই বাকি ধারের একমাত্র সুরক্ষা বিবেচনা করেনি; শোধের কিস্তিতে গাফিলতি হলেই সেটিকে ক্রোক করে দিনবাজারে উত্তম সিংহের গ্যারাজে পাঠিয়ে উদ্বৃত্ত দাম স্থির করাটা ছিল একেবারে শেষ পন্থা, লাস্ট রিকোর্স। তা যদি হতো সব ব্যাঙ্কেই সেভিংস, কারেন্ট অ্যাকাউনট দফতরের পাশাপাশি আরেকটা বোর্ড লাগানো থাকতো- এখানে সুলভে ব্যবহৃত গাড়ি ও ট্রাক বিক্রয় হয়! আমার অভিজ্ঞতায় ট্যাক্সি ড্রাইভার বা জলপাইগুড়ি ব্রাঞ্চের ক্ষেত্রে চাষির বাৎসরিক আয় ব্যয়ের তত্ত্ব তালাশ করা হয়েছে, শুধু তোমার গাড়ি নয় গো হে বন্ধু হে প্রিয়, মাঝেমাঝে তোমার আয় ব্যয়ের খবরটুকু দিও। 

    বাড়ি জমি বন্ধকি ঋণের অঙ্কটাও একই – পরে অবশ্য শুনেছি শক্তিমান লোক পাঠিয়ে গাড়ি বা গাড়ির ধার উদ্ধার করা হয়েছে; খবরের কাগজে ঋণ না চোকানো বাড়ি ঘর বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়ে থাকে। 

    ড্যানিয়েল চু, নিচের মহল এবং ট্রিকলর 

    ড‍্যানিয়েল চু, প্রতিষ্ঠাতা ও সি ই ও ট্রিকলর



    চিন থেকে আসা ইমিগ্রান্ট পরিবারের সন্তান ড্যানিয়েল চু ওয়াশিংটন ইউনিভারসিটি (সেন্ট লুই, মিসৌরি ) থেকে ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে মায়ামি ইউনিভারসিটিতে মাস্টার্স ডিগ্রি করেন অ্যাথলেটিক অ্যাডমিনিসট্রেশন বিদ্যায়। বিজলির সঙ্গে দৌড় ঝাঁপের হয়তো কোথাও কোন যোগাযোগ আছে কারণ এবার তাঁকে দেখা গেল মায়ামি ইউনি বাস্কেটবল টিমের কোচের ভূমিকায়। সেখানে সাফল্যের সঙ্গে প্রায় বছর দশেক কাটিয়ে ২০০৭ সালে ড্যানিয়েল ট্রিকলর অটো নামক সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি বিক্রির কোম্পানি স্থাপনা করেন ক্যালিফোরনিয়া এবং টেক্সাসে। তাঁর পিতা মাতা দুজনেই ইঞ্জিনিয়ার, আমেরিকায় এসে ইংরেজি ভাষা নিয়ে সমস্যায় পড়েছিলেন, তাই পুত্রকে দিয়েছিলেন শ্রেষ্ঠ আমেরিকান শিক্ষার সুযোগ, উদ্বুদ্ধ করেছিলেন কঠিন পরিশ্রমের মন্ত্রে। ড্যানিয়েলের নতুন ব্যবসার কথা শুনে তাঁর মা বলেছিলেন বাস্কেটবল কোচিং, সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি বিক্রির পরে আইন বিদ্যাটাও শিখে নাও, তাহলে দুনিয়ার তিনটে সবচেয়ে নিন্দিত পেশার সঙ্গে তোমার নাম জড়িয়ে থাকবে!

    ড্যানিয়েল চু’র বিজনেস মডেল অন্যদের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা- কোম্পানির নাম ট্রিকলর, ইঙ্গিতটা তেরঙ্গা পতাকার দিকে। আমাদের মতন তেরঙ্গা অনেক দেশেই আছে; ইতালি, ফ্রান্সের পতাকা সেই নামেই বেশি পরিচিত। ট্রিকলরের টার্গেট কাসটমার মেক্সিকান, কলম্বিয়ান, ভেনেজুয়েলান সহ অন্যান্য হিসপানিক মানুষ। তাঁদের প্রায় সকলের পতাকায় তিনটে রঙ, মেক্সিকোর লাল সবুজ সাদা, কলম্বিয়া ভেনেজুয়েলার লাল হলুদ নীল। ড্যানিয়েল চু লক্ষ করেছিলেন আরেক জায়গায় মিল আছে, এঁদের প্রায় কারোই আমেরিকায় বসবাসের সঠিক অধিকার নেই (ট্রাম্পের প্রিয় আখ্যা -আনডকুমেন্টেড ইমিগ্রান্ট ); কেউ সম্পূর্ণ বেআইনি অনুপ্রবেশকারী, কেউ অ্যাসাইলামের দরখাস্ত করেছেন, বাকিরা মাঝখানে কোথাও ঝুলে আছেন। চেয়ার টেবিলে বসে সাদা কলারের ভদ্র কাজ করেন না; চাষের মাঠে ফল ফসল তোলেন, হোটেলে দারোয়ান, মালবাহী, গারাজ মেকানিক, মজুর বা মিস্ত্রী। ড্যানিয়েলের হিসেবে এই রকম লোকের সংখ্যা চল্লিশ মিলিয়ন। এঁরা খেটে খুটে সংসার প্রতিপালন করেন, ক্যাথলিক, ধর্মভীরু, আইন বাঁচিয়ে চলেন কেননা পুলিশের হাতে পড়লে ছত্রিশ ঘা তাঁদের প্রাপ্য। কিছু জমানো টাকা থাকে তোষকের নিচে, গাড়ি কিনতে গেলে ডাউন পেমেন্ট করতে পারেন ভালো মতন, ঋণের মেয়াদ বা সুদের হার নিয়ে উচ্চবাচ্য করেন না, ঋণ পাচ্ছেন এই যথেষ্ট। এমনিতেই কোন গাড়ি বিক্রির দোকানে যেতে ভীত সন্ত্রস্ত থাকেন; ক্রেডিট কার্ড নামক আমেরিকার সর্বাধিক প্রচলিত কারেন্সি কারোর পকেটে নেই যদিও এঁরা নিয়মিত বাড়িওলাকে ভাড়া দিয়ে থাকেন, কোন প্রকার ঋণ তদন্ত এজেন্সির খাতায় তাঁদের নাম পৌঁছয়নি। এঁরা সিস্টেমের বাইরে। 

    একদা সিস্টেম বহির্ভূত ছিলাম বলে আমি নিজেও এই প্রকার বিবেচনার শিকার ও ভুক্তভোগী। ১৯৮৫ সালে ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে লন্ডন এসেই জাতে ওঠার চেষ্টায় ভিসা ক্রেডিট কার্ডের দরখাস্ত করেছি বারক্লেজ ব্যাঙ্কে। এক সপ্তাহের মধ্যে চিঠি – অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি আপনাকে আমরা কোন ক্রেডিট কার্ড ইসু করতে একান্ত অপারগ; এই প্রত্যাখ্যানের কোন কারণ জানানো হয়নি। আমার অস্ট্রেলিয়ান কলিগ নীল স্পেরিন বোঝালেন আমি যে ৩৩৬ নম্বর স্ট্র্যানডে সিটি ব্যাঙ্কে একটা ভদ্রস্থ কাজ করি, মাইনেটা নেহাত ফেলনার নয় সে সব তথ্য তখন অবধি রিসার্চ ব্যুরোর খাতায় ওঠেনি, আপাতত আমার কোন ঋণের ইতিহাস নেই! যতদিন না কোন ঐতিহাসিক সেখানে আমার বার্তা বিবরণ লিপিবদ্ধ করছেন, আমি বাইরের, অচেনা মতান্তরে হাঘরে লোক। এক বছর লেগেছিল সে অবধি পৌঁছুতে এবং পরে এস্পেরিয়ান নামের ক্রেডিট সার্চ সংস্থা থেকে নিজের রিপোর্ট আনিয়ে দেখেছি এই সমাজের বিগ ব্রাদারের কাছে আমার বিষয়ে কোন তথ্য তাদের অজ্ঞাত নেই।

    ১৯৯৭ সালে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরে আমাদের ব্যাঙ্কের হংকং ব্রাঞ্চগুলিতে অসংখ্য চিনা নাগরিক ক্রেডিট কার্ডের দরখাস্ত করেছিলেন তাদের কোন ট্র্যাক রেকর্ড নেই কারণ কমিউনিস্ট চিনে ক্রেডিট ব্যুরো ছিল না। এক দেশ দুই ব্যবস্থার মধ্যে কাজ করে লাইসেন্স বজায় রাখতে গিয়ে স্ট্যান্ডার্ড স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড সহ বহু ব্যাঙ্ক ক্রেডিট কার্ড ইসু করতে বাধ্য হয় বেলুনটি ফাটলে পড় দেখা যায় অনেকের কাছে ৫৭র বেশি কার্ড এ কার্ড থেকে ধার করে অন্য কার্ডে জমা করতেন। সে গল্প পরে হবে,ওহ কিসসা ফির কভি। 

    ড্যানিয়েল চু হিসেব করে দেখলেন নিচের তলার এই মানুষদের সংখ্যা আমেরিকান নাগরিকের বিশ শতাংশ -ওয়াল স্ট্রিট কেন, মেন স্ট্রিটের কোন ব্যাঙ্ক এঁদের দু পয়সা ধার দেবেন না কারণ এঁদের ক্রেডিট রেকর্ড নেই। ড্যানিয়েল বললেন, আরও কিছু তো খুঁটিয়ে দেখা যেতে পারে, যেমন কেউ হয়তো ভালো গোছের কাজ করেছিলেন, প্যানডেমিকে বেকার, এতদিন ঠিক চলছিল আচমকা বিবাহ বিচ্ছদের কারণে সংসারে টানাটানি, দশ বছর নিয়মিত বাড়ি ভাড়া দিয়ে এসেছেন কিন্তু সে সব তথ্য ক্রেডিট ব্যুরোর খাতায় উঠবে না কেন না এঁদের কাগজপত্র বা সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর নেই। তাহলে একটা জলজ্যান্ত মানুষের কর্ম বা আয় ক্ষমতার একমাত্র নির্ণায়ক ক্রেডিট ব্যুরো? 

    ফিন টেকের সাহারা নিয়ে গাড়ি বিক্রির নতুন মডেল বানালেন - ক্রেতা ৭৫% ল্যাটিনো ইমিগ্রান্ট মানুষ, দরিদ্র কিন্তু ধার শোধ না দিয়ে আদালতের সামনে যেতে চান না, টাকা দিতে না পারলে গাড়িটি ব্যাঙ্কের দরোজায় পৌঁছে দিয়ে যান, আজ এখানে কাল ওখানে ধারের (রি ফাইনান্সিং) সন্ধান করেন না, বেশি হারে সুদ দিতে এবং উঁচু ডাউন পেমেন্ট দিতে, কম মেয়াদে ঋণ নিতেও প্রস্তুত; ট্রিকলরের মূল মন্ত্র বাই হিয়ার পে হিয়ার (BHPH), গাড়ি এখানে কিনুন, এখানেই ধার করে দাম চুকিয়ে সেটি বাড়ি নিয়ে যান। অফিস ক্যালিফোরনিয়া ও টেক্সাস, ক্রেতা মেক্সিকান, অন্য ল্যাটিন আমেরিকান, পাসপোর্ট ইমিগ্রেশন বা সোশ্যাল সিকিউরিটি অপ্রয়োজনীয়। এই বাজারে ড্যানিয়েল চু কোন প্রতিযোগিতার আশঙ্কা দেখলেন না, অন্য গাড়ি বিক্রেতারা যখন ক্রেতার ক্রেডিট স্কোর দেখতে ব্যস্ত, ড্যানিয়েলের লোক গাড়ির ক্রেতার সঙ্গে মেলামেশা করে তাঁকে ও সেই সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে বোঝাপড়া বাড়াচ্ছেন, মানুষকে চিনেই তার ঋণের যোগ্যতা যাচাই করা যায়। 

    আজ আমার প্রণম্য ব্যাঙ্কিং গুরু প্রয়াত সুপ্রিয় গুপ্তের কথা মনে পড়ে। তিনি বলতেন ঋণদান সিদ্ধান্ত নির্ভর করে সেই সময় অবধি আমাদের জানা তথ্যের ওপরে (অন দি বেসিস অফ দি আভেইলেবল ইনফরমেশন অ্যাট দি মেটিরিয়াল টাইম), পরে তো অনেক কিছুই বদলে যেতে পারে। প্রশ্ন হল এই তথ্য মেলে কোথায়? কেবল ক্রেডিট কোম্পানিতে? ইজমিরের রাফায়েল তার ধার ধারেননি, তাঁর লোকজন পাড়া পড়শিকে জিজ্ঞেস করেছে; স্টেট ব্যাঙ্ক জলপাইগুড়িতে আমাদের হেড ক্যাশিয়ার সজনী বাবু অনেকের হাঁড়ির খবর রাখতেন। 

    যখন ড্যানিয়েল চু তাঁর অটো ক্রেডিট কোম্পানি ট্রিকলরের শুভ মহরত করলেন ঠিক সেই সময়ে, ২০০৭ সালে, নিউ ইয়র্কে গেছি। টাটা স্টিল বিলেতের কোরাস কোম্পানি কিনবে, তার রোড শো হচ্ছে; স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড এবং সিটি তার আয়োজক। প্রধান বক্তা কৌশিক চাটুজ্যে আর আমরা সেই লোনের খদ্দের পাকড়াতে ব্যস্ত। সেই অনুষ্ঠানের আনাচে কানাচে, টি এবং লাঞ্চ ব্রেকের সময়ে শোনা গেল ঋণের অযোগ্য লোকেদের ধার দিয়ে, সেই ধারের বান্ডিল বেচে ওয়াল স্ট্রিটের মহামতি ব্যাংকাররা যে বৃহৎ ব্যবসায় ফেঁদেছিলেন সেটি এবে সাত বাঁও জলের তলায়। এই সমস্যাটির নাম সাব প্রাইম ক্রাইসিস, নিচের মহলকে ধার দিয়ে, সেই ধারের প্যাকেজ বেচে ওপর মহলের অট্টালিকা ভেঙ্গে পড়ার জোগাড়। 

    টেক্সাস, ক্যালিফোরনিয়াতে সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি বেচার যে বিশাল যজ্ঞের সূচনা হল তার নাম ট্রিকলর অটো - এঁদের ধ্যান ধারনা, বিজনেস মডেল অন্যরকমের। মার্বেল মেঝে, ওক প্যানেল দেওয়াল, ছ ইঞ্চি গভীর কার্পেটে মোড়া অফিস থেকে বেরিয়ে এঁরা অবহেলিত উপেক্ষিত দরিদ্র পরিযায়ী শ্রমিকদের গাড়ি কিনতে সাহায্য করছেন – ড্যানিয়েল চু কি সেই মানুষ যার কথা ভেবে ইউনুস সাহেব লিখেছিলেন, ব্যাংকার টু দি পুওর? মাইক্রো ফাইনান্স?

    সুখী ক্রেতা, মেক্সিকান পরিবার


    হু হু করে গাড়ি বিক্রি হতে থাকে অস্টিন, ডালাস, সান ডিয়েগো, লস এঞ্জেলেসে –সেই সব লোনের টাকা বা ডলার আসে কোথা থেকে? আলাদা করে নয়, এক গোছা লোন বেঁধে সেগুলির বিনিময়ে ঋণ পাওয়া গেল জে পি মরগান, বারক্লেজ, ফাইভ থার্ড ব্যাঙ্ক থেকে। এর নাম কোল্যাটারাইজড লোন অবলিগেশন (CLO), যার লজিক অত্যন্ত সহজ, যে কোন বালকের বুদ্ধিতে বোধগম্য – হাজারটা লোনের পেছনে আছে হাজারটা দেনদার, হাজারটা গাড়ি; এক আঁটিতে বাঁধা যখন, সবগুলি একই সঙ্গে তো ডিফলট করতে পারে না একটা পচা আপেলের দরুন বাকিগুলো খারাপ হয় না। মন্দ যদি তিন চল্লিশ ভালোর সংখ্যা সাতান্ন! ইন্ডাস্ট্রি অ্যাভারেজ অনুমান করে ১৫% অনাদায়ী, লস, কিন্তু তেমনি সুদের হার যে ২০%! অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট নয় বরং ছিলিমের দম বাড়ার সম্ভাবনা। 

    এই কোল্যাটারাইজড লোন অবলিগেশনের সঙ্গে মাইক্রো ফাইনান্সের ঋণ পদ্ধতির কোথাও কি একটা মিল আছে? আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি সেখানেও ঋণগুলি একক নয়, সঙ্ঘবদ্ধ, দশ বা পনেরো জনের সমবেত দায়িত্বে! বার্ষিক সুদের হার ২০%। ওয়ান ফর অল, অল ফর ওয়ান। 

    আধার র‍্যাশন কার্ড ছাড়াই ভোটার লিস্টের বহির্ভূত মানুষের ব্রাজিলের হাওাইয়ানা চটি পরে নিজের গাড়ি চড়ার স্বপ্ন সফল করলেন ড্যানিয়েল চু, ব্যাংকার টু দি পুওর! 

    সাব প্রাইম যখন আমেরিকা তথা পশ্চিমের ব্যাঙ্কিং বাজারে একটি অপাংক্তেয় শব্দ, সিটিব্যাঙ্ক হতে গোল্ডম্যান জাকসের মতন মাস্টারস অফ দি ইউনিভার্স ভূতলে লুটিয়ে পড়ে আপন সরকারের কাছে প্রাণ ভিক্ষা করছে, তখন ট্রিকলর প্রকাশ্যে দাবি করে তারা দেশের বৃহত্তম সফলতম সাব প্রাইম অটো লেনডার। ড্যানিয়েল চু র সেমিনারে ভাষণ শোনার জন্য টিকিটের লম্বা লাইন পড়ে যায়। 

    ডিউ ডিলিজেন্স? 
    ঋণের তদারকি আমাদের কাজ নয় – জে পি মরগান 

    কমার্শিয়াল ব্যাঙ্কারের মতে আফটার সেলস সার্ভিস কথাটা কেবল গাড়ি নয়, ঋণের ক্ষেত্রেও সম্যক প্রযোজ্য। আমরা নিয়মিত কাস্টমার কল করেছি, খোঁজ খবর রেখেছি তাঁদের ব্যবসা কেমন চলছে, দেনা ঠিক সময়ে শোধ হবে তো? লোন পাঁচ বছরের হতে পারে কিন্তু ঋণ গ্রহীতার তত্ত্ব তালাশের সন্ধান নিরন্তর। সুস্থ সবল প্রতিষ্ঠান রাতারাতি অসুস্থ হয়ে পড়ে না, ছোট খাট লক্ষণ আগেই দেখা দেয়। সব সময়ে আমরা সফল হয়েছি তা নয়, হয়তো চোখে পড়েনি আকাশে সিঁদুরে মেঘ, আমরা দেখিনি কখনো বা দেখতে চাইনি পারে কিন্তু সেই চেষ্টায় যেন খামতি না থাকে। 

    অন্য দিকে ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার, বন্ড হোল্ডারের পাখির চোখ থাকে সেই লোনের পঞ্চম বার্ষিকীর দিকে, ঋণ শোধের দিনটিতে। ইতিমধ্যে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসে ঋণ গ্রহীতার বা তার দেশের বিষয়ে দু চারটে গোলমেলে খবর ছাপা হলে বন্ডের বাজার দরে হেরফের হয়। দেনদারের স্বাস্থ্যের ব্যারোমিটার তাঁরা রোজ দেখেন না, সেটা তাঁদের কাজ নয়। 

    দু দিক থেকেই ব্যাঙ্কিং ব্যবসা দেখার সৌভাগ্য হয়েছে, দুটি মানসিকতার সঙ্গে পরিচয় আছে। ধিরুভাইয়ের দেহান্তের পর আম্বানি ভ্রাতৃদ্বয় যখন পিতার সম্পত্তির অংশ ভাগ নিয়ে কলহে লিপ্ত, আমাদের ব্যাঙ্কের সিনিয়র ক্রেডিট অফিসার রবার্ট গ্রিন জিজ্ঞেস করেছিলেন, আমাদের খাতায় যে এতো ধার, লোন ট্রেডিঙের বাজারে কী দেখছ? রিলায়েন্সের লোনের দাম কমছে কি? বলেছিলাম, রবার্ট, কমার্শিয়াল ব্যাঙ্কাররা এত সহজে বিচলিত হন না, তাঁরা লম্বা রেসের ঘোড়ায় টাকা চাপান। তবে খবরের কাগজের হেড লাইন দেখেই বন্ডের বাজারে খানিক উথাল পাথাল চলছে কারণ বন্ড হোল্ডারদের কেউ রিলায়েন্সের রিফাইনারি দূরের কথা কর্পোরেট অফিসটা অবধি দেখেননি! 

    প্রথম দিনে এক সূত্রে সহস্রটি লোন বেঁধে ড্যানিয়েল চু যে আঁটিটি জে পি মরগানের হাতে ধরালেন তার ভেতরে ছিল তিন বা পাঁচ বছরের পুরনো ফোর্ড, ক্রাইসলার টয়োটা গাড়ি, মেক্সিকার মাতামোরোস নিয়েছেন দু বছরের, কলম্বিয়ার সান্তিয়াগো তিন বছরের ভেনেজুয়েলার আলেসানদ্রো পাঁচ বছরের লোন, তাঁদের কারো ক্রেডিট রেকর্ড, পে স্লিপ বা সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর নেই; কেবল বাড়ির ঠিকানা আছে, সুদের হার ২০%; এই আঁটির চেহারাটি মাস খানেক বাদে বদলে যাবে। 

    ধরুন বাজারে আপনি কলমি, পালং, পুঁই মেশানো এক আঁটি শাক কিনলেন, দামটাও দিলেন শাকের অনুপাতে। বাড়ি গিয়ে দেখলেন কিছু পচা কিছু ভালো। অভিজ্ঞতা অনুযায়ী আপনি পরের বার আশুবাবুর বাজারে খোকনের গল্প না শুনে শাকগুলো উলটে পালটে দেখে নেবেন। 

    ড্যানিয়েল চুর বানানো আঁটির চেহারা, কমপোজিশন বদলে যায় প্রতিদিন কিন্তু সেই হাটের ক্রেতা জে পি মরগান তার আকৃতি এবং তার ওপরে সাঁটা দামটি শুধু দেখেন; বান্ডিলের চরিত্র বিশ্লেষণ বা তদারকি তাঁদের কাজ নয়। তাঁদের কাজ সেই বান্ডিলটির খানিক নিজের রান্নাঘরে রেখে বাকিটুকু ডাবলিন ব্যাংকক ব্রাসেলস বা তোক্কাইদো হাকুশুকু দ্বীপের জলস্তম্ভে লীন কোন ইনভেস্টরকে বেচে দেওয়া।

    ডিউ ডিলিজেন্স ইজ নট আওয়ার জব। 

    কাঁটাকল, একষট্টি নম্বর কাশীনাথ দত্ত রোডের স্কুল কলেজের শিক্ষা হয়তো আমাকে প্রশ্ন করতে শিখিয়েছে –কিনলাম একদল বেড়াল না ছাগল? তাদের পরিচর্যার ব্যবস্থাই বা কি? 

    ২০০৭ থেকে ট্রিকলরের অগ্রগতি দুর্বার, পাঁচ বছরের ভেতরেই ড্যানিয়েল চু’র প্রতিষ্ঠান সাব প্রাইম অটো ক্রেডিটে পয়লা নম্বরে। ট্রিকলর শুধু গাড়ি বেচে না, লোনও বেচে; ল্যাটিনো সমাজে তার বিশিষ্ট স্থান; ট্রিকলর একাধারে গাড়ি বেচে এবং কমিউনিটি ফাইন্সিয়াল ডেভেলপমেনট কোম্পানি। জে পি মরগান, বারক্লেজ, ফাইভ থার্ড ব্যাঙ্কের সঙ্গে এই দলবদ্ধ কাবাডি খেলায় যোগ দিয়েছে পেল্লায় ইনভেস্টমেন্ট ফার্ম ব্ল্যাক রক, পিমকো। 

    এ বছরের আগস্ট মাসে ভেনিসে একটি অটো ক্রেডিট সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে আমন্ত্রিত ড্যানিয়েল চুর তাঁর পরবর্তী সেশনে বক্তৃতার জন্য সবে প্রস্তুত হচ্ছেন, এমন সময়ে তাঁর মোবাইল বেজে উঠলো। অস্টিন, টেক্সাস থেকে তাঁর চিফ ফাইনান্স অফিসার ফোন করছেন। জে পি মরগানের এক জুনিয়র অ্যানালিস্টকে তার ট্রেনিঙের অঙ্গ হিসেবে ট্রিকলরের ফাইল পড়তে দেওয়া হয়েছিল। সে যুবকটি অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে সেই ফাইলে কিছু চমকপ্রদ তথ্যের সন্ধান পেয়ে নিজের বসের সামনে বাহাদুরি দেখাবার জন্য যে রিপোর্ট পেশ করে সেটি দেখেই জে পি মরগানের লেনডিঙ অফিসারের আক্কেল গুড়ুম হয়ে যায়। তিনি উদব্যস্ত হয়ে ফোন করেছেন, ড্যানিয়েলের সঙ্গে কথা বলতে চান, সাক্ষাতে। 

    জুনিয়র অ্যানালিস্টের নিরীক্ষণের সংক্ষিপ্ত তালিকা নিম্নরূপ:

    ১। ৭৫% লোন কাগজপত্র বিহীন অনুপ্রবেশকারীদের ঋণ দেওয়া হয়েছে যাদের মধ্যে ৬৮% এর কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। 

    ২। ডাবল /ট্রিপল ফাইনান্সিং - জে পি মরগানকে যে লোন পোর্টফলিও দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে অজস্রবার একই গাড়ি এবং ঋণ গ্রহীতার নাম রয়েছে একটা গাড়িকে কবার বন্ধক দেওয়া যেতে পারে? তার মানে মরগানের লোন সম্পূর্ণভাবে গাড়ি বন্ধক দিয়ে সুরক্ষিত নয়? 

    ৩। একটু খোঁজ করতে কোর্টে গিয়ে সেই কৌতূহলী অ্যানালিস্ট কয়েকটি টেলিফোন করে জানলেন বেশ কিছু গাড়ি এবং তাঁদের মালিক ইতিমধ্যে দেশত্যাগ করেছেন আমেরিকা/মেক্সিকান বর্ডারে কেউ গাড়ির লগ বুক চেক করে না।

    ৪। বেশ কিছু গাড়ির পরিচিতি স্ট্যাম্প (Vehicle Identification Number -VIN, আপনার গাড়ির বনেট খুললে যেটি দেখেন) বদলে দিয়ে একাধিকবার ঋণ নেওয়া হয়েছে। একই গাড়ি আলাদা VIN

    অতঃপর 

    ড্যানিয়েল চু দেশে ফিরেই কিছু স্কেলিটন স্টাফ বাদে তাঁর কোম্পানির বাকি কর্মচারীদের ‘সাময়িকভাবে’ বরখাস্ত করলেন। 

    অরিজিন নামক ব্যাঙ্কের ডিরেক্টরশিপ থেকে বিদায় নিলেন। অরিজিন ব্যাঙ্কের কাছে ট্রিকলরের ঋণ ছিল পঞ্চাশ মিলিয়ন ডলার। 

    জে পি মরগান বারক্লেজ ফাইভ থার্ড ব্যাঙ্কের মহারথীরা ততক্ষণে জেগে উঠেছেন; এমনিতে এক ব্যাঙ্ক অন্যকে জানায় না কাকে কতো কি দরে ধার দেওয়া হয়েছে এখন কাদায় পড়ে এক হাতি অন্য হাতিকে জিজ্ঞেস করে তোমার কেস কতোটা খারাপ? এবার আর জুনিয়র নয় বিশেষ দঢ় অডিটরকে দিয়ে তাঁদের এক্সপোজার চেক করিয়ে তিনটি ব্যাঙ্ক জানলেন তাঁদের মোট ক্ষতির পরিমাণ পাঁচশ মিলিয়ন। ব্ল্যাকরক পিমলিকোর কাছে দু চারশ মিলিয়ন ডলার নিতান্ত নস্যি; তাঁরা অন্তত কোন সংখ্যা জানাননি। 

    শেষ শাখা উদ্বোধন ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ অরোরা ইলিনয়



    ট্রিকলরের শেয়ারের দাম নব্বুই শতাংশ কমে গেল। 

    ব্যাঙ্ক ও বিভিন্ন ফান্ড আওয়াজ তুলেছেন এতদিন ধরে ট্রিকলর সম্পূর্ণ ধাপ্পাবাজি করে চলেছিলেন, সরাসর ঝুট, ফরেব, ফ্রড। 
    ষাটটি ব্রাঞ্চ বন্ধ। দু হাজার কর্মচারী বরখাস্ত। 

    দেউলে অবস্থার সম্মুখীন হলে আমেরিকান কর্পোরেটের সামনে দুটি পন্থা উন্মুক্ত; এক, যদি আকাশে কোন সিলভার লাইনিং থেকে থাকে, পাওনাদারের হুমকি থেকে নিস্তারের জন্য আদালতে গিয়ে চ্যাপ্টার ইলেভেনের দাবি জানানো যায়; নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা দ্বারা শপথ নেওয়া হয়, প্রভু সময় দিন, আমাদের গোয়িং কনসার্ন হিসেবে চলতে দিন, সব দায় দায়িত্বকে পুনর্গঠন করে আপনার টাকা যতদূর সম্ভব ফেরত দেব, কিপ দা ফেথ। আমাদের বরানগরের ভাষায় পেয়েবল হোয়েন এবল! 

    ট্রিকলরের সামনে কেবলই অন্ধকার; অতএব অধোবদনে সেপ্টেম্বর মাসে তাঁরা আদালতে গিয়ে চ্যাপ্টার সেভেন মোতাবেক নিজেদের দেউলে জাহির করলেন যার সহজ অর্থ - লাল বাতি, দোকানের ঝাঁপ বন্ধ, সি ই ও বরখাস্ত, খাতাপত্র ছানবিন, দোষীর সন্ধান ও সাজা, ঘটি বাটি বেচে যতদূর সম্ভব অর্থ উদ্ধার করা। 

    উভয় চ্যাপ্টারেই উকিলদের পোয়া বারো। 

    কিছু কি শেখা গেলো? আগের পর্বে সোলো ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে – একই স্টিল প্রোডাক্ট জাহাজে তোলার চারটে নকল প্রমাণ পত্র (বিল অফ লেডিঙ) দেখিয়ে তাঁরা চারটে ব্যাঙ্কের কাছে ঋণ করেছেন। সিটি, এ বি এন আমরো, কমেরতস সহ সতেরোটি ব্যাঙ্ক কোন প্রশ্ন করেননি, সুবোধ বালকের মতো সেই জাল বিল অফ লেডিঙ দেখেই মোট তিনশ মিলিয়ন ডলার উধার দিয়েছেন। নিজেই তো দেখলাম, নৌকো যখন টলোমলো, বিল অফ লেডিঙ দূরের কথা, সিটি ব্যাঙ্কের ক্রেডিট অফিসার হাসান ক্রেতাদের সম্বন্ধেই সন্দিহান হয়ে আমার কাছে জানতে চেয়েছেন, এই স্টিল প্রোডাক্টের ক্রেতারা কি আসল, জেনুইন? 

    মরাল অফ দি স্টোরি – তদারকি, ডিউ ডিলিজেন্সের কোন বিকল্প নেই। 

    বিষ যদি পান করতেই হয়, জেনেশুনে করুন। 

    পিট সিগারের গান মনে পড়ে। 

    হোয়েন উইল দে এভার লার্ন, ও হোয়েন উইল দে এভার লার্ন? 

    পুনশ্চ:

    চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে এই আপ্ত বাক্য পুনর্বার প্রমাণিত হলো। 

    ট্রিকলর দেউলে ঘোষিত হবার পরে দুই মহামতি ব্যাঙ্কারের উক্তি - 

    “দেউলে গাড়ি বিক্রেতা ট্রিকলরকে বিশাল ঋণ দেওয়াটা জে পি মরগানের কাছে কোন গৌরবের বিষয় নয়”- জে পি মরগানের সি ই ও জেমস ডাইমন 

    জেমি ডাইমনের বাবা থিওডোর পাপাডেমেত্রিউ ইজমিরে ব্যাঙ্কিং করেছেন; নাম বদলেছেন আমেরিকা এসে। জেমি ডাইমনকে আমরা এক্স সিটি ব্যাঙ্কাররা খুব মনে রাখি; স্যানডি ওয়াইলের নেতৃত্বে সলোমন ব্রাদার্স নামক নিউ ইয়র্কের ভুঁইফোড় এক ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক প্রায় দুশো বছরের পুরনো সিটি ব্যাঙ্ক অধিগ্রহণ করে, জেমি ডাইমন ছিলেন তাঁদের সেনানায়ক। ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক কাউকে ধার দেয় না কারণ তাদের তিজোরির বল অতি সামান্য। সিটি ব্যাঙ্কের বিশাল কোষাগার দেখে তাদের চক্ষু চড়ক গাছ হয়ে যায়, দেদার ধার দেবার প্রস্তাব ওঠে। তৎকালীন সিটি ব্যাঙ্কারদের কাছে শোনা গল্প - এক মিটিঙে তাঁর লাগামহীন ঋণদান প্রস্তাব খারিজ করে সিনিয়র ক্রেডিট অফিসার পাশের আলমারিতে রাখা সিটি ক্রেডিট ম্যানুয়ালের প্রতি জেমি ডাইমনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে শ্রী ডাইমন উঠে গিয়ে সেই মোটা ম্যানুয়াল টেনে মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলে এ বিষয়ে তাঁর আপন অভিমত সর্বসমক্ষে ব্যক্ত করেন। 

    “ ট্রিকলরের কায়দায় ঋণকে ভালো করে না বুঝেই কেটে জুড়ে বেচে দেওয়াটা আমাকে ২০০৭/৮ সালের সাব প্রাইম সঙ্কটের কথা মনে করিয়ে দেয়” - অ্যানড্রু বেইলি, গভর্নর, ব্যাঙ্ক অফ ইংল্যান্ড 

    “ ম্যানহাটানে ইউ এস এটর্নি অফিসের বক্তব্য অনুযায়ী সি ই ও ড্যানিয়েল চু’র নির্দেশে ট্রিকলর ছকে বাঁধা প্রতারণা (এ সিস্টেমিক ফ্রড ) চালিয়েছে এক দশকের বেশি” – ফাইনান্সিয়াল টাইমস ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ 

    এতদিন এঁরা কোথায় ছিলেন? এক সরলমতি জুনিয়র অ্যানালিস্ট না দেখালে ট্রিকলরের সিস্টেমিক ফ্রড তো চলতেই থাকতো! 

    পরের পর্বে –বঙ্কিম বাবুর ক্যারিওকস, প্যাট্রিক জেমসের ফার্স্ট ব্র্যান্ডস 

    তথ্যসূত্র: 

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, অটো ডাইজেস্ট, ব্যারনস, ফাইনান্সিয়াল টাইমস। 

    এক সত্যান্বেষী সাংবাদিকের সঙ্গে এ বিষয়ে আমার কিছু মতামত বিনিময় হয়েছে (তাঁর নাম উল্লেখ করা সমীচীন হবে না)। প্রশ্ন করেছিলাম এক জুনিয়র অ্যানালিস্ট লক্ষ করা অবধি ড্যানিয়েল চুর ফেরেববাজি কেমন করে সতেরো বছর চলল? কেবল ইধার কা মাল উধর করে? একটা লোনের ক্ষয় ক্ষতি পুরিয়ে দেওয়া হয়েছে আরও দুটো নকলি বন্ধক দেখিয়ে? এক সাম্প্রতিক ই মেলে তিনি আমাকে লিখেছেন, ডিউ ডিলিজেন্সে ঋণদাতাদের সামগ্রিক গাফিলতি ছাড়া আর কোন উত্তর তিনি এতাবৎ খুঁজে পাননি। 

     


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • ধারাবাহিক | ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৪৫৩ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    মাংস - অরিন
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • আশীষ সিংহরায়। | 202.78.***.*** | ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৪:১১736889
  • এত ভাল লেখা বহুকাল পড়িনি।
  • Ranjan Roy | ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৪:৩০736892
  • আমি হরিদাস পাল। ফোতো ব্যাংকার। আদার ব্যাপারী।
    কিন্তু আমার বুক একেবারে --ধকধক করনে লাগা।
     
     যেমন টিভিতে খেলার মাঠে কোন ডাকসাইটে ব্যাটারকে ভুল স্ট্রোক নিতে দেখলে বা বোলারকে লেগ স্টাম্পের উপর শর্টপিচ বল করতে অথবা কোন নামজাদা ফিল্ডারকে উঁচুতে ওঠা লোপ্পা ক্যাচ শেষ মুহুর্তে হাত থেকে পিছলে ফেলে দিতে দেখলে আমরা নন এনটিটিরা হায় হায় করে উঠি।
     
    ভাবি, ইস খুব খুব মাইক্রো লেভেলে হলেও এমন দাঁত ক্যালানো কবে কবে হয়েছে? আমার হাত দিয়ে? কোন কলীগের হাত দিয়ে? 
    সেই ডিউ ডিলিজেন্স! শুধু সি এ দ্বারা  সযত্নে গুছিয়ে উইন্ডো ড্রেসিং করা ব্যালান্স শিটে লিকুইডিটি রেশিও, ডেট ইকুইটি রেশিও, টার্ন ওভার রেশিও দেখে সন্তুষ্ট হওয়া নয়, দামি গাড়ি থেকে স্যূটেড বুটেড কাউকে নামতে দেখে নালেঝোলে হওয়া নয়-- ডিউ ডিলিজেন্স। 
    আগেই মনে প্রশ্ন ওঠা উচিত যে উনি স্টেট ব্যাংক বা অ্যাক্সিস ব্যাংক না গিয়ে এখানে এই অকিঞ্চনের দরজায়!!
    সেই বিখ্যাত জালিয়াত এবং খুনি চার্লস শোভরাজকেও দেখতে অপাপবিদ্ধ কিশোর মনে হত। 
     
    দ্বিতীয় আরেকটি কথা মনে এল। ঔপন্যাসিক বালজাক কোথাও এরকম কিছু বলেছিলেন-- যখনই কোথাও হঠাৎ এবং দ্রুত বিশাল ধন সঞ্চিত হতে দেখি, বুঝতে পারি এর পেছনে বড় সংগঠিত অপরাধ রয়েছে। 
    যাকগে, এর বেশি বলে ক্যাল খেয়ে চাই না।
     
     
    ভুললে চলবে না যে মার্ক্স  বলেছিলেন-- আমি পুঁজির নরকের আগুনকে চিনেছি অর্থনীতির বই পড়ে নয়, বালজাকের উপন্যাস পড়ে। 
  • হীরেন সিংহরায় | ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৫:২১736902
  • রঞ্জন

    আমার আরেক শিক্ষা সিটি ব্যাঙ্কের এক গুরুর কাছে । তিনি বলেছিলেন, সাবধান থেকো  যখন কেউ এসে বলবে বারক্লেজ ব্যাঙ্কে আমার অ্যাকাউনট আছে কিন্তু তাদের ব্যবহার আমার ঠিক পছন্দ নয় , তাই আপনাদের ব্যাঙ্কে খাতা  খুলতে চাই , এজেন্সির দুয়োরে গিয়ে খোঁজ খবর করো ( যেমন সে আমলে ডান অ্যান্ড ব্র্যাডস্ট্রিট)। ঝকঝকে মার্সিডিজ গাড়ি থেকে নেমে তোমার ডেস্কে হাজির হয়েছে দেখেই চা কফি লাল কার্পেট অফার কোরো না । এ নিয়েও একটা আখ্যান লিখতে হবে । আমরা যখন বৃক্ষে বৃক্ষে ডেট /ইকুইটি ,কারেন্ট রেশিও নিয়ে চুল চেরা  অঙ্ক কষছি , ঠিক তখনই গাছের তলায় মাধব প্যাটেল জালি গুডস অন বোর্ড কাগজ দেখিয়ে আমাদের লুটে গেলো। আজকের এম বি এ পাস তরুণ ব্যাংকাররা তোমার আমার সতর্কতাবানী বৃদ্ধের প্রলাপ বলে উড়িয়ে দেবে জানি , তবে আমার বাবা যেমন বলতেন বলে যাওয়াটা আমার কাজ, শোনা না শোনাটা তোমার।
     
  • Ranjan Roy | ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৫:২৬736903
  • দাদা
    এ তো দেখছি সাম্প্রতিক ঘটনা।
    ড্যানিয়েল চু'র হাঁড়ি ফাটল মাত্র অগাস্ট ২০২৫ তারিখে। 
     
    মানুষ সহজে শেখে না। 
  • Debanjan | 2409:4060:2d9c:26fc:af3e:8063:705e:***:*** | ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৩:১৫736974
  • অসাধারণ হিরেনদা l ব্যাঙ্কিং এর ব্যাপারস্যাপার খুব সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন আপনি l অনেক অনেক ধন্যবাদ l যত আপনার লেখা পড়ছি নতুন একটা দুনিয়া খুলে যাচ্ছে সামনে l 
  • Debanjan | 2409:4060:2d9c:26fc:af3e:8063:705e:***:*** | ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৩:২৫736975
  • "এক সরলমতি জুনিয়র অ্যানালিস্ট না দেখালে ট্রিকলরের সিস্টেমিক ফ্রড তো চলতেই থাকতো! " আমার মনে হয় যে এটা অনেকটাই বিশ্বাসের ব্যাপার l কোনো ড্যানিয়েল চু বা বঙ্কিম ব্রহ্মদত্ত বা এরকম কেউ খুব অল্পে আয়াসেই প্রবল লাভের একটা সম্ভাবনা দেখান আর গড়গড় করে ব্যবসার গাড়ী চলতে থাকে , ঘুরতে থাকে টাকা l এখন মাঝে মাঝে এই জুনিয়র এনালিস্টের মত বেরসিক কেউ কিছু করে ফেলে তখনই পুরো খেলাটায় লোকের বিশ্বাস চলে যায় এবং খেলা ভেঙ্গে যায় l মানুষের বিশ্বাস এবং চট্জলদি লাভের আশা এটাই আসল খেলা দাদা আমার তাই মনে হয় l কি বলেন দাদা ?
  • শিবাংশু | ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৩:২৭737138
  • @হীরেনদা, 
    আমাদের দেশে ব্যাংকে একটা পারল্যান্স আছে,  'অরে, ববুয়া বহোৎ অংরেজি বতিয়াইছে হো। তনি বচকে রহ রউয়া ' । যে সব সম্ভাব্য ইস্মার্ট খরিদ্দার 'স্যুটবুট কা সরকার' হয়ে পদার্পণ করেন, তাঁদের সঙ্গে কীভাবে ডিল করতে হয়,  তার শিক্ষাটি যেকোনও নমকহলাল (ট্রু টু সল্ট) ব্যাংকারের জরুরি ইমতিহান। আপনার লেখাগুলি পড়ে এই গরিবের মাথায় ঢোকে না সাহেবদের দেশে কীভাবে এই সব ব্যাংকিং প্র‌্যাকটিস এতো রমরম করে চলতে পারে। আমার অভিজ্ঞতায় 'রিসিভেবল'-এর ব্যবসায় ব্যাংকের সব চেয়ে বেশি ঝুঁকি থাকে। দ্বিতীয়ত, কোল্যাটেরাল সম্পত্তির মূল্যায়ণ। দুনম্বরি ব্যাংকিং-এ সরতাজ হলো চিনের অর্থব্যবস্থা। ওদের দেশে 'কোথা হইতে কী হৈয়া গেলো' খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। আমাদের দেশে রাজনৈতিক ক্ষমতার 'অপব্যবহার' করে পাইয়ে দেওয়ার দুর্নীতি  ও সংখ্যাতত্ত্বের সাড়ে সর্বনাশ করে 'উন্নতি' দেখানোর ভেল্কিবাজি অর্থনীতিকে পথে বসায়। আগেও ছিলো, এখন তো তার  পৌষ মাস। কিন্তু আমরা জানতুম সাহেবদের দেশে 'বর্ণাশ্রম' নেই । যুক্তিবুদ্ধি ও শ্রমের মর্যাদা আছে। 'ডিউ ডিলিজেন্স'কে যদি  প্লেন 'আক্কেল' নামে চিহ্নিত করি তবে তাদের এতোটা বেয়াক্কেলে ভাবতে কষ্ট হয়। 

    একটা গল্প মনে পড়লো। আমি তখন মুসাবনি ব্রাঞ্চে। এককালের বিখ্যাত কপার ক্যাপিটাল অফ ইণ্ডিয়া। তবে আমি যখন গিয়েছি সেখানে,  তখন তাহার দিন গিয়াছে। ছটা বিশাল তামাখনির মধ্যে শুধু একটা টিমটিম করে চলছে। মউভান্ডারের স্মেল্টিং প্ল্যান্টটা চালু আছে  মলঞ্জখণ্ড থেকে আনা আকরিকের ভরসায়। কিন্তু ব্রাঞ্চটি বেশ বড়ো। স্কেল ফোর । একদিন আমার খাজাঞ্চি সাহেব বেশ কাঁচুমাচু মুখে একটি ছেলেকে নিয়ে আমার কাছে এলো। ছেলেটার হাবভাব, পোষাক আশাক, সুগন্ধির ব্যবহার, সঙ্গে ফর্রাটেদার অংরেজি শুনে খাজাঞ্চিসাহেব বেশ নার্ভাস। ছেলেটা লাখখানেক টাকার ট্র‌্যাভলার্স  চেক ভাঙাতে চায়। পঁয়ত্রিশ বছর আগে সেটা বেশ বড়ো অংক।এখন আর ওই স্কিমটি  বেঁচে নেই। আমি ছেলেটিকে বসতে বললুম। কিন্তু সে ঘোড়ায় জিন দিয়ে এসেছে। সমানে ইংরেজিতে বলে যাচ্ছে এটা ভ্যালু রিসিভড ইন্স্ট্রুমেন্ট। আমাকে এক্ষুনি পেমেন্ট করো। আমি জিগাই,  তুমি কোথায় থাকো? সে বলে,  আমি বলতে বাধ্য নই। -এখানে কেন এসেছো? -বলতে বাধ্য নই। -স্থানীয় কারো বাড়ি এসে থাকলে তার ঠিকানা লিখে দাও।-দেবো না। আইনত ব্যাংক তৎক্ষণাৎ টাকা দিতে বাধ্য।  আবার জিগ্যেস করি, তুমি এখানে কীসে এসেছো? সে বলে, আমার সঙ্গে গাড়ি আছে।  আমি তখন বলি, দেখো, আমাদের কাছে রিপোর্ট আছে, বিপুল পরিমাণ ট্র‌্যাভলার্স চেক দেওয়াস সিকিউরিটি  প্রেস থেকে লাপতা হয়ে গিয়েছে। আমাকে খোঁজ করতেই হবে মূল স্রোতের বাইরে এমন একটা পাহাড়-জঙ্গল ঘেরা প্রত্যন্ত জায়গায় তুমি কেন এসেছো? তখন সে ইংরেজিতে বেশ মুখখারাপ করতে লাগলো। অবশ্য প্রতি কথাতেই স্টেট ব্যাংককে গালাগালি দেবার কাজটি প্রথম থেকেই করছিলো সে। ওসব অবশ্য আমাদের অভ্যেস হয়ে গেছে। তখন আমি অংরেজি ছেড়ে আমাদের লিংগুয়া ফ্র‌্যাংকা ভোজপুরিতে কহতব্য নয় এমন ভাষায় তাকে অভ্যর্থনা জানালুম। তখন সে একটু ঘাবড়ে গেলো। এতো বড়ো একটা ব্রাঞ্চের চিফ ম্যানেজার এভাবে নর্থ বিহারের মাফিয়াদের ভাষায় হড়কাতে পারে যেন তার বিশ্বেস হচ্ছিলো না। আমি চাপরাসিকে ডেকে বললুম থানা থেকে বড়াবাবু, ছোটাবাবু যাকে পাওয়া যায় ডেকে আনো। এই লোকটাকে ততোক্ষণ বসিয়ে রাখো। এটুকু শুনেই সে তড়িৎগতিতে গালাগালি দিতে দিতে ভাগলবা হয়ে গেলো। আমার গার্ড তার গাড়িটার নম্বর টুকে রেখেছিলো। পরের দিন থানার বড়াবাবু রোঁদে বেরিয়ে নিয়মমাফিক ব্যাংকে চা খেতে  আসতে তাকে গপ্পোটি বললুম। তার কান খাড়া হয়ে উঠলো। 'সা... কল বহড়াগোড়া মেঁ পকড়ায়া। স্মাগলার হ্যাঁয়।আপ জোর বচ গয়ে।'     

    ব্যাংকারের আক্কেলের কথা হচ্ছিলো না?  অসংখ্য গপ্পের মধ্যে একটা রইলো।  
  • Ranjan Roy | ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ০১:৩৫737141
  • আহা, শিবাংশু,
    মজা আ গয়া বস্!
    আরও ছাড়ুন।
  • হীরেন সিংহরায় | ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৬:১৭737168
  • শিবাংশু

    অশেষ ধন্যবাদ।

    যে বেসিক ব্যাঙ্কিং খানিকটা  শিখে ইউরোপে এসেছিলাম প্রায় পাঁচ দশক আগে  সেটা বদলাতে শুরু করলো আটের দশকে – ওয়াল স্ট্রিটের ‘ফার্ম’ নামক ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কাররা তাদের সনাতন প্রোডাক্ট লাইনের  ( সিকিউরিটি ইসু, স্টক আন্ডাররাইটিং, ফিডিউশিয়ারি ট্রেডিং, ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট) লক্ষণ রেখা পেরিয়ে অন অ্যাকাউনট ট্রেডিং শুরু করে নিজের ইকুইটি নিয়ে জুয়ো খেলতে লাগে নতুন অর্থকরী ধান্দা । অতএব এনটার মাইকেল মিলকেন - কাট এ লং স্টোরি শর্ট  মিডলম্যানের সংখ্যা বাড়ল এবং আমাদের ট্রাডিশনাল ব্যাংকার কাস্টমার রিলেশনশিপের ( তোমার ট্রাভেলারস চেক কাহিনি ) বারোটা বাজল ।  ৫ আগস্ট ২০০৭ জ্যাকসন হোলে ফেড গভর্নর বেরনানকের বিদায়ী ডিনারে রাজন বলেছিলেন, পিতা মাতা কি আজকে জানেন তাঁদের ছেলে  মেয়েরা  কোথায়? রিসকের শেকড় উপড়ে প্যাক করা হল বন্ডের কাগজে ( নোবেল গ্রন্থে বিস্তারিত লিখেছি)- গ্রিড ইজ গুড যখন মন্ত্র, তার প্রথম বলি ডিউ ডিলিজেনস ।

    বাকি জীবনে লন্ডন নিউ ইয়র্কের অনেক মুখোশ খোলার সময় এসেছে । বাংলায় এ নিয়ে কেউ লিখছেন কিনা জানি না তবে তুমি আমি রঞ্জন আমাদের গল্প বলে যাই – ট্রিপল বন্দি !

    তোমার আরও গল্প শুনতে চাই ।
     
    স্টেট ব্যাঙ্কের , গ্রামীণ ব্যাঙ্কের  এই সব গল্প বেঁচে রবে চিরকাল
    ইউ বি আই ধুলো আজ দেনা ব্যাঙ্ক  ছাই হয়ে আছে !
     
  • Ranjan Roy | ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:২০737171
  • আমেন!
     
  • শিবাংশু | ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৩:০৬737190
  • @ হীরেনদা, 
    আমরা যে ইশকুলে ব্যাংকিং শিখেছি সেটা এদেশে সাতের দশকের অর্থনীতি নির্ভর। এ অভাগা দেশে তো কখনও ওয়েলফেয়ার স্টেট হবে না। সে জায়গায় একটা পরীক্ষা চলেছিলো ওয়েলফেয়ার ব্যাংকিং-এর সুবিধে এনে দেওয়ার জন্য।বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প, বিশেষত গ্রামীণ অর্থনীতি ও জীবনযাপনকে একটা ন্যূনতম মান এনে দেওয়া  ব্যাংকের লোকেরা করেছে। একজন চর্মকারের জন্য এক হাজার টাকার ঋণ থেকে কর্পোরেটের জন্য হাজার কোটি টাকার ঋণ একই লোকেদের দায়িত্ব ছিলো। ন্যূনতম বাসযোগ্যতাহীন প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে শুরু করে নিরাপত্তাহীন, আইনের রাজত্বের আওতার বাইরে গিয়ে মানুষের কাছে  ব্যাংকিং সুবিধে এনে দেওয়ার দুরূহ কাজ প্রায় তিন দশক ধরে করে গেছে এদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা।  'গ্রিড ইজ গুড' জাতীয় তত্ত্ব তখন আমরা অচ্ছুৎ মনে করতুম। এসব মুক্ত অর্থনীতির প্লাবনের সঙ্গে  আসা বেনোজল। মহানগর বা বৃহৎ শহরবাসী সুবিধেভোগী নাগরিকদের চশমার মধ্যে দিয়ে  দেখা  ভারতবর্ষ আমাদের অন্বিষ্ট ছিলো না। বর্ণাশ্রমী, সামন্ততান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির মালিক, ক্ষমতাশালী  এক ছোটো সম্প্রদায়ের মানুষ, যাদের  গ্রামীণ, অত্যাচারিত মানুষদের প্রতি কাগুজে সহানুভূতি ছাড়া আর কিছু সম্বল ছিলো না, তারাই  সরকারি ব্যাংকগুলিকে রীতিমতো ঘৃণার চোখে দেখতো। একটা অপপ্রচার চলতো দেশি ব্যাংকের লাভের গুড় সবসময় সমাজের নিপীড়িত মানুষদের 'করুণা' করতে গিয়ে শেষ হয়ে যায়। ব্যাংকের  আভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার মধ্যে অনেক ত্রুটি অবশ্যই ছিলো। কিন্তু আসল ঘটনা ছিলো  অন্যরকম। ব্যাংক ডুবতো ক্ষমতাশালী কর্পোরেটদের অনাদায়ী ঋণের বোঝায়। যাদের প্রত্যেকের সঙ্গে অশুভ রাজনৈতিক সমঝোতা থাকতো। এখন তো প্লেন ভূতের নৃত্য চলেছে। 

    জগৎশেঠের ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে উদ্ধার করে সাহেবরা এদেশে একটা বৈজ্ঞানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা এনে দিয়েছিলো ঠিকই, কিন্তু মুক্ত অর্থনীতির আড়ালে 'গ্রিড ইজ গুড' জাতীয় বিষও তাদের দৌলতেই এসেছে। যেসব বাঘা বাঘা ব্যাংকিং বিশারদরা মুক্তকণ্ঠে এই সব পাপের তরফদারি করে,  তারা ভুলে যায় যে সম্পদের ভরসায় তাদের ফাটকাবাজি, তার প্রতিটি  নয়াপয়সাই গরিব লোকের হকের টাকা।  

    অবশ্য এসব কথা আপনাকে বলা বাহুল্যমাত্র। আপনি সবই জানেন। বুটজুতো না-পরা ব্যাংকাররা,  যাবতীয় বিদ্রূপ ও গালাগালি হজম করে  এদেশের অর্থনীতির উন্নতির প্রতি যে কর্তব্য করে গেছে , কোনওদিন হয়তো তার ইতিহাস কেউ লিখবে। ডঃ মনমোহন সিং তাঁর বিদায়ী ভাষণে যেমন বলেছিলেন,  আগামী ইতিহাস তাঁর প্রতি  কখনও অকরুণ হবে না এ বিশ্বাস তাঁর আছে। তাঁর ভবিষ্যদবাণী মাত্র এক দশকের মধ্যেই লোকে সত্য হতে দেখছে। 
  • Ranjan Roy | ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ০১:৩৯737198
  • বর্ণে বর্ণে সত্যি। 
  • হীরেন সিংহরায় | ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ০২:১২737203
  • "একটা অপপ্রচার চলতো দেশি ব্যাংকের লাভের গুড় সবসময় সমাজের নিপীড়িত মানুষদের 'করুণা' করতে গিয়ে শেষ হয়ে যায়। ব্যাংকের  আভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার মধ্যে অনেক ত্রুটি অবশ্যই ছিলো। কিন্তু আসল ঘটনা ছিলো  অন্যরকম। ব্যাংক ডুবতো ক্ষমতাশালী কর্পোরেটদের অনাদায়ী ঋণের বোঝায়। যাদের প্রত্যেকের সঙ্গে অশুভ রাজনৈতিক সমঝোতা থাকতো। এখন তো প্লেন ভূতের নৃত্য চলেছে। "
     
    এবং 
     
    "বুটজুতো না-পরা ব্যাংকাররা,  যাবতীয় বিদ্রূপ ও গালাগালি হজম করে  এদেশের অর্থনীতির উন্নতির প্রতি যে কর্তব্য করে গেছে , কোনওদিন হয়তো তার ইতিহাস কেউ লিখবে। ডঃ মনমোহন সিং তাঁর বিদায়ী ভাষণে যেমন বলেছিলেন,  আগামী ইতিহাস তাঁর প্রতি  কখনও অকরুণ হবে না এ বিশ্বাস তাঁর আছে।"
     
    সম্পূর্ণ সহমত।
  • অনির্বান | 42.98.***.*** | ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৮:৩৯737312
  • @হীরেনদা 
    দারুণ লাগছে আপনার লেখা পড়তে।
    আমার একটি ছোট্ট অভিজ্ঞতার কথা জানাই - ২০০১ সালে বিহারের এক প্রত্যন্ত গ্রামে এক সরকারি  ব্যান্ক-এ অডিট করতে গিয়ে দেখি বেশ কিছু ক্ষুদ্র লোন NPA. ফলো আপ কি করা হয়েছে জানতে চাইলে ম্যানেজার বলেন এরা সব প্রান্তিক চাষি, গরু কিনতে টাকা ধার করে, কিছু দিন টাকা ফেরত দেয়, তারপর বন্ধ করে দেয়। গরুর ওপর ব্যান্কের দাবি (collateral) থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গরুটি মারা গেছে বলে জানানো হয়, আর ব্যান্কের পক্ষেও কয়েকটি গরু তুলে এনে তাদের ভরনপোষণ করা বাস্তবিক নয়।  তাই টাকাগুলি ফেরত না পাওয়া যেতেই পারে এটা জেনেও ধার দেওয়া হয় - একপ্রকার  বকলমে সরকারি সাহায্য প্রান্তিক চাষিদের জন্য।  আমাদের রিপোর্টে এ নিয়ে লেখা হয়, যেমন আরও অনেক রিপোর্টে-ই হয়তো লেখা হয়েছে আগে এবং পরে, কিন্তু সেটা শুধুই দ্বায়িত্ব পালন ছাড়া কিছু নয় - ব্যান্ক কর্মীদের এর কারণে কারো শাস্তি হলে অবাক এবং দু:খিত হবো, যদি না কোনো দুর্নীতির অভিযোগ থাকে।
     এই প্রসংগ তুললাম কারণ সাব প্রাইমেও কিন্তু একই ধরনের borrower, একই ধরনের ডিউ ডিলিজেন্সে শিথিলতা। তফাত একটা-ই, অন্তর্নিহিত তত্ত্বের। এক ক্ষেত্রে ব্যাক্তিগত মালিকানাভিত্তিক লোভ এবং ফলস্বরূপ চড়া সুদের হার যা borrower দের একপ্রকার বাধ্য করে defaulter হতে, আরেক ক্ষেত্রে সরকারি দাক্ষিণ্য যেখানে সুদের হার অপেক্ষাকৃত অনেকটাই কম। এছাড়া ধার-এর কারণটাও আলাদা, এক ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা আনার জন্য,  অন্য ক্ষেত্রে গাড়ি-বাড়ির জন্য (যদিও পশ্চিমের দেশগুলিতে গাড়ি একটি অবশ্য প্রয়োজনীয় বস্তু - গণপরিবহন ব্যাবস্থা এসব দেশে খুব দু্র্বল)। আসল সমস্যাটা অন্যত্র, যেমন আপনি বলেছেন - একগুচ্ছ loan ক্রমাগত packaging and re-packaging করে আরো আরো জটিল পেপার তৈরি করে বিক্রি করা, যেখানে হয়তো আমেরিকার ঋনগ্রাহকের সুদ যাচ্ছে স্কটল্যান্ডে, আর মূল যাচ্ছে জার্মানিতে। কিছু বড় পরিমান ঋন অনাদায়ী হয়ে গেলে সব তাসের দেশের মত ভেংে পড়ছে, বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। আর সবই হচ্ছে "টু বিগ টু ফেল" ব্যাংকদের হাতে, তাই কোথাও কোনো শাস্তি নেই, পরিবর্তন-ও নেই।
    পরিশেষে বলি, এক সরলমতি জুনিয়র অ্যানালিস্ট না দেখালে ট্রিকলরের সিস্টেমিক ফ্রড তো চলতেই থাকতো, এটা ঘটনা।  কিন্তু এমন নয় যে সেই জুনিয়র অ্যানালিস্ট-এর সিনিয়ররা এবিষয়ে ওয়াকিবহাল ছিলেন না - আমার তো মনে হয় যে সব জেনেও চুপ ছিলেন সবাই, কারণ মুনাফার সাথেই প্রোমোশন, বোনাস, ক্ষেত্রবিশেষে চাকরি থাকা না থাকা জড়িয়ে আছে। অ্যানালিস্ট ছোকরা খুব সম্ভবত লিখিত ভাবে এ বিষয়টি তুলে ধরায় আর কারো কিছু করার ছিল না।
  • হীরেন সিংহরায় | ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ০০:২৪737414
  • অনির্বাণ
     
    অনেকটাই সহমত । তবে ভারতীয় সাব প্রাইমের গরুর একটা মানবিক দিক আছে আর সে গরুর লোনের আঁটি বেচা হয় নি ! লোনটি থেকে গেছে স্টেট ব‍্যাংকের খাতায় - সেই ক্লাসিক ব‍্যাংকার কাস্টমার রিলেশনশিপ  আমেরিকায় সেটি ঘটে নি - লোন বেচে হাত ধোয়া হয়ে গেছে! 
     
    তবে আপনার এই মন্তব্যের সঙ্গে একমত না হয়ে উপায় নেই-
     
    কিন্তু এমন নয় যে সেই জুনিয়র অ্যানালিস্ট-এর সিনিয়ররা এবিষয়ে ওয়াকিবহাল ছিলেন না - আমার তো মনে হয় যে সব জেনেও চুপ ছিলেন সবাই, কারণ মুনাফার সাথেই প্রোমোশন, বোনাস, ক্ষেত্রবিশেষে চাকরি থাকা না থাকা জড়িয়ে আছে। অ্যানালিস্ট ছোকরা খুব সম্ভবত লিখিত ভাবে এ বিষয়টি তুলে ধরায় আর কারো কিছু করার ছিল না।
     
    ঠিক এই কথাটাই রঘুরাম রাজন বলেছিলেন আগস্ট ২০০৫ সালে  পুরো কোট পাঠিয়ে দেব । 
     
     
  • হীরেন সিংহরায় | ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ০০:৪২737415
  • অনির্বাণ
    আপনি যখন অডিটে গেছেন ব্যাঙ্কের রিস্কটি চোখে রেখে দেখেছিলেন। কিন্তু আজ সেই রিস্কের কেনা বেচার ফলে চোখ রাখার ব্যাপারটা উঠে গেছে । ঠিক আপনার কথার অনুরণন শুনুন আই আই টির ইলেকট্রিকাল এঞ্জিনিয়ার , আই এম এফ চিফ ইকনমিসট রঘুরাম রাজনের মুখে - স্থান জ্যাকসন হোল ফেড চিফ গ্রিনস্পানের বিদায়ী ডিনার ,  ২৭ শে  আগস্ট , ২০০৫ 
     
    Something as intimate as credit risk is now being traded with strangers. In fact, in the same way as parents are asked "Do you know where your children are?", bankers nowadays are asked "Do you know where your risks are held?". The tendency towards arm's length transactions has been termed "disintermediation" because it involves moving away from traditional bank-centered ties. 
     
    দু বছর বাদে জ্ঞানী গুণীরা সাব প্রাইমের সুনামি দেখে অবাক হবেন ! 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। চটপট মতামত দিন