শেখ হাসিনা ইউকে আওয়ামীলীগের এক সভায় ভারত থেকে অনলাইনে বক্তব্য দিয়েছেন। আওয়ামীলীগ যে দিশেহারা, এবং কতটা দিশেহারা তা পরিষ্কার বুঝা গেছে। চার মাস পার হয়ে গেছে এখনও দিক নির্দেশনা পাওয়া যায় নাই দলের শীর্ষস্থান থেকে। এগুলা আমরাই বলে আসছে এতদিন ধরে যা শুনলাম বক্তব্যে। ষড়যন্ত্র করে সরকারের পতন করিয়েছে, মানুষ মেরেছে, ইউনুসের বিচার করবে ব্লা ব্লা ব্লা...! ছন্নছাড়া একটা দল, দেশে একটা নাম নেওয়ার মতো কেউ নাই দলের, তা নিয়ে কোন বক্তব্য নাই, নতুন কথা নাই কোন, সেই পুরাতন ধান্য ধারণা নিয়েই বসে আছেন তিনি। প্রতিপক্ষ কোন মাপের খেলোয়াড় সে সম্পর্কে এত কিছু হয়ে যাওয়ার পরেও তিনি সম্ভবত সচেতন না। দেশে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য একটা কমিটি ঘোষণা করা উচিত। একদম পরিষ্কার রাজনীতি করা লোক নাই কেউ? তাদেরকে দিয়েই মাটিতে দাঁড়াতে হবে আগে। এখনও তিনিই আসবেন, তিনিই সব করবেন কিংবা বিএনপির মতো আংকেল স্যামের মন্দিরে পূজা দিয়েই সব কাজ সমাধা হয়ে যাবে এমন ভেবে বসে থাকাটা কত ভয়ংকর চিন্তা তা বুঝতে পারেন তিনি? এই বুঝতে না পারাটা আরও ভয়ংকর চিন্তা।
শেখ হাসিনা একক ক্ষমতায় এতই মজে ছিলেন যে তার আশেপাশে কেউ নাই। কাওকে রাখেন নাই। কত ভয়ংকর সময় গেছে, পাশে ছিল দুর্দান্ত নেতাকর্মীরা। ফখরুল মইনউদ্দিন জেলে নিলো। দল ভেসে গেছিল? সৈয়দ আশরাফের মতো লোক, জিল্লুর রহমানের মতো নেতা হাল ধরল দলের। দল টিকে গেল না শুধু, দলের ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সময় পার করল। ৫ মে মতিঝিল দখল করে বসে গেল হেফাজতের লোকজন। খালেদা জিয়া ব্যাগ গুছিয়ে তৈরি চেয়ারে বসার জন্য! তিনি সিগনাল পেয়ে গেছেন হেফাজত তাকে ক্ষমতায় বসাচ্ছে। সৈয়দ আশরাফ একক বুদ্ধিতে, একক চেষ্টায় বিপদ থেকে উত্তরণ হল। সেই সৈয়দ আশরাফকে সরিয়ে দেওয়া হল, ওবায়দুল কাদেরর মতো ফালতু একটা লোককে সাধারণ সম্পাদক বানানো হল! ২০১৩ সাল পর্যন্ত দলের নেতৃত্বে কারা ছিল, সরকারের মন্ত্রী পরিষদে কারা ছিল দেখলেই বুঝা যায় দলটা চালাচ্ছিল কারা। আর ২০২৪ সালের বিপদের সময় দেখেন, সব গুলো চামচা, টাকা পয়সার ধান্দা করার জন্য আসছে দেখেই বুঝা গেছে।
আবার সময় হয়েছে রিফরম করার। পরিষ্কার রাজনীতি করা লোকজনকে সামনে আনতে হবে। আর যদি তেমন কাওকে না পাওয়া যায় তাহলে ফুল স্টপ দিয়ে রাজনীতি বাদ দিয়ে দিন। বাংলাদেশকে মুক্তি দিন আপনারা। শেখ পরিবারের হাত থেকে মুক্তি দিয়ে দিন। ৩০০ সংসদ সদস্যার মধ্যে শেখ পরিবার থেকেই ৩০ জন! শেখ হাসিনা ম্যাজিক যতদিন চলেছে ততদিন এই সব চোখে পড়েনি কারো। পড়লেও গা করেনি। আমরাও করিনি। কিন্তু আজকেও আমরা জিজ্ঞাস করব না শেখ তাপসের ব্যাংকে কত টাকা? পরশের কত টাকা? ওর স্ত্রীর কত টাকা? কীভাবে রাতারাতি ব্যাংকের মালিক হয়ে যায় একেকজন! শেখ তন্ময়, শেখ হেলাল! এরা লতায়পাতায় শেখ পরিবারের লোক। বঙ্গবন্ধুর চাচা, কাকা, এদের ছেলেপেলে এমন লোকজনের দাপটে থাকা যায় না। কত টাকা করছে? একেকজন কত টাকা পাচার করছে?
এমন না এগুলা আমরা জানতাম না। সব না জানলেও জানতাম তো কিছু। কিন্তু এইটাও জানতাম উন্নয়নের সাথে দুর্নীতির সম্পর্ক আছে। চাই না কিন্তু অস্বীকারও করতে পারি না। টাকা পাচার হইছে, এইটা সত্য। কিন্তু সরকার শ্বেতপত্র নামে যে একটা জিনিস বানায়া সামনে আনছে তা এক কথায় হাস্যকর। শ্বেতপত্র নিয়ে শেখ হাসিনা বিরোধীদের অর্গাজম হয়ে যাচ্ছে সকাল বিকাল! শ্বেতপত্রে লিখেছে ২৮ লাখ কোটি টাকা! মানে শেখ হাসিনার এই ১৬ বছরে মোট অবৈধ পথে পাচার হয়েছে ২৮ লাখ কোটি টাকা। এই অংক শুনলে যে কারো মাথা নষ্ট হয়ে যাবে। সমস্যা হচ্ছে আমাদের যাদের দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছে বলেই তাতে ইমান আনতে পারি নাই তাদের নিয়ে। খুব সহজ একটা প্রশ্ন মাথায় আসছে আমার, ১৬ বছরের বাজেট কত ছিল বাংলাদেশের? খোঁজ নিয়ে দেখলাম ৫৬ লাখ কোটি টাকা! এখন কেউ আমারে বুঝায় দিয়া জান এইটা কেমনে সম্ভব? ৫৬ লাখের মধ্যে যদি ২৮ লাখ পাচার হয়ে থাকে তাহলে এই ১৬ বছরে আমরা করছি কী? ঘাস খেয়ে ছিলাম? সবাই এক যোগে ছাগল হয়ে গেছি?
এগুলা নিয়ে যে একটা শক্ত, শক্তিশালী অবস্থান থেকে প্রতিবাদ আসবে, করবে তার কোন উপায় নাই। প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া সবাই এক যোগে গোসাইমে পাদিছে বলে মারহাবা মারহাবা করে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা অবশ্য তার বক্তব্যে সরকারি বড় বড় প্রকল্পে দুর্নীতি খুঁজে বের করার জন্য ওপেন চ্যালেঞ্জ করেছেন। এইটা ভালো কথা কিন্তু ভুল সময়ে ভুল লোককে চ্যালেঞ্জ করেছেন তিনি। এই লোক, বিখ্যাত নোবেল ম্যান এখন সবই সম্ভব করে দিতে পারেন। তিনি বুক পিঠ আলাদা করা লোক না। ঠাণ্ডা মাথায় চাকু ঢুকিয়ে মানুষ মারতে পারেন তিনি।
বিশ্বাস হচ্ছে না? পঞ্চগড়ে ছাত্রলীগ নেতাকে বাসায় খুঁজতে গিয়ে তাকে না পেয়ে মাকে কুপিয়ে মেরে আসছে তথাকথিত কিছু দুর্বৃত্ত! বেচারা মা নামাজ পড়তেছিল, নামাজরত অবস্থায়ই কুপিয়েছে! আরেক জায়গায় আওয়ামীলীগ নেতাকে না পেয়ে মা আর খালাকে আগুনে জ্বলিয়ে দিয়েছে সোনার টুকরো ছেলেরা! ইউনুসের দোষ কথায়? দোষ হচ্ছে এগুলার বিচার পাওয়ার রাস্তা না রাখা। পুলিশ এগুলা নিয়ে কোন পদক্ষেপই নিচ্ছে না। দেশে এখন এমন অবস্থা যে আওয়ামীলীগ বা ছাত্রলীগের কেউ মরলে কোন সমস্যা নাই, জায়েজ করে দেওয়া হয়েছে। ফরহাদ মজহারের মতো লোক বলতেছে বিনা অপরাধে কাওকে ধরা যাবে না। অথচ এখন পর্যন্ত ইউনুসের বা আসিফ নজরুলের মুখ দিয়ে এটা বের হল না যে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য কোন অপরাধ করা যাবে না, প্রতিহিংসায় যিনি নিজেই জর্জরিত তিনি এমন বলবে এইটা অবশ্য আশা করাও বোকামি!
দেশেকে শান্ত রাখার পরিবর্তে নোবেল ম্যান এবং তার উপদেষ্টা মণ্ডলী এক যোগে বারুদে আগুন দেওয়ার কাজ করে যাচ্ছে। আমি প্রথমে বুঝিনি। মাথায়ই আসছিল না কেন হুট করে চিন্ময় দাসকে আটক করা হল। কেন তাঁকে আটকের সাথে ইশকনকে নিষিদ্ধের ডাক আসল। চিন্ময় দাসকে ধরলে দেশের হিন্দু ধর্মালম্বীরা সহজে মেনে নিবে না এইটা তারা জানত না? জানত। বুয়েটের ফুটপাথে ভারতের পতাকা আঁকা হল, সরকার জানত না এইটার ফলাফল? জানত। সবই হতে দিয়েছে। এই পর্যন্ত আমাকে ধোঁয়াশায় ফেলে দিয়েছিল। চট্টগ্রাম সহ সারাদেশে প্রলয়কাণ্ড হয়ে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে তেমন কিছুই হল না কোথাও। এরপরে আমি আস্তে আস্তে বুঝতে পারলাম কোন খেলা কোথায় খেলা হচ্ছে।
বুয়েটের পরে আরও কয়েকটা জায়গায় ভারতের পতাকা ফুটপাথে আঁকা হল। ( এখন পর্যন্ত আঁকা আছে এই পতাকা) ভারত থেকে যথারীতি প্রবল বিক্ষোভে ফেটে পড়ল মানুষ। বাড়াবাড়িও হল। আগরতলায় বাংলাদেশের উপ হাইকমিশনারে হামলা করে বসল। এর আগ পর্যন্ত খেলা এক রকম ছিল। কিন্তু এইটা পট পরিবর্তন করে দিল। আমাদের দূতাবাসে হামলা হবে এইটা আমি সমর্থন করব না। এইটা সমর্থন না করার জন্য ইউনুসকে সমর্থন করার দরকার নাই। এরপরেই ডাক আসল সরকার প্রধানের কাছ থেকে, জাতীয় ঐক্য! প্রথমে ছাত্ররা দেখা করে জাতীয় ঐক্যের প্রতি সমর্থন জানাল, এরপরে গেল রাজনৈতিক দলের নেতারা, গেল ধর্মীয় মহাজনেরা! ভারত আমাদের সার্বভৌমত্বের ওপরে আক্রমণ করবে আর আমরা এক হতে পারব না? বাহ! কী উচ্চ চিন্তা ধারা! সবাই জাতীয় ঐক্যকে সাধুবাদ জানাল! দেশে এমন কাণ্ড জীবনে হয় নাই, এমন পুরুষ এই ভূখণ্ডে আসে নাই, বাহ বাহ বাহ হা হা হা!
খেলাটা বুঝা গেল? আমি তাজ্জব হয়ে রইলাম। ইউনুস বা ইউনুসকে যারা চালাচ্ছে তারা এই চার মাসের লেজেগোবরে থেকে উদ্ধারের জন্য এই বুদ্ধি দিয়েছে কি না জানি না। এইটা আরও গভীর কোন খেলার অংশ কি না জানি না। কেউ কেউ বলছে এইটা মূল পরকল্পনার অংশ। বৃহৎ পরিকল্পনায় ভারতকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনাও আছে। ওইদিক থেকে পাকিস্তান তৈরি হয়ে বসেই আছে। এদিকে বাংলাদেশ, যে বাংলাস্তান হওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে! আজগুবি মনে হতে পারে। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টার সাবেক সহকারী, বর্তমানে আল্লাই জানে কোন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সেই মাহফুজ আলমের কথা শুনলে মনে হবে না যে আজগুবি কথা এগুলা। তিনি বলছেন ৭১ সালে যে ভুল হয়েছে এখন আর সেই ভুল করা হবে না! তিনি কোন ভুলের কথা বললেন? এক সামরিক বিশেষজ্ঞ (!) টেলিভিশনের টকশোতে বলছে পাকিস্তানকে বললেই না কি বিশটা নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড দিয়ে দিবে। বিশটা এনে ভারতের দিকে তাক করে রাখলেই সব ঠাণ্ডা! ভারত না কি এই খবর শুনে আঁতকে উঠেছে!
কে না জানে দুর্বল সরকার যদি একটা যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে তাহলে তার সমস্ত দুর্বলতা নিমিষে উধাও হয়ে যায়? ইউনুস সাহেব সাফল্যের সাথে দেশে এমন একটা ভাব আনতে পেরেছে। দেশে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা হয়েছে যা আসলে হচ্ছে জাতীয় ভারত বিরোধী ঐক্য বা আওয়ামীলীগ বিরোধী ঐক্য! ত্রিশ শতাংশ ভোট যাদের হাতে তাদেরকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য আসলে কতখানি জাতীয়? খালেদ মহিউদ্দিন অবশ্য বলছে আওয়ামীলীগকে ডাকতে চাইলে কাকে ডাকবে? কোথায় চিঠি পাঠাবে? এইটাও সত্য, যেটা শুরুতেই লিখছি, আসলেই কেউ তো নাই!
জাতীয় ঐক্যের নামে ভারত বিরোধীদের সমর্থন দিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি করা হল তার ফলাফল কেমন হবে? কারা সামনে আসবে? কারা সাহস পাবে এই ক্ষেত্রে? একটা উদাহরণ দেই, ১৩ তারিখ খুলনায় ইশকনের একটা সম্মেলন আছে, হেফাজত ঘোষণা দিয়েছে তা প্রতিহত করবে। করতেই দিবে না। সারা দেশে এমন কত ঘটনা ঘটছে? মাইক দিয়ে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে হিন্দুদের এবার উচিত শিক্ষা দেওয়া হবে! আমাকে পাগলা কুত্তায় কামড় দিছে যে আমি এই সব কিছুকেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে পাশে সরায় রাখব?
বলছিলাম সরকারের ইশারায়ই সব হইছে হচ্ছে। সত্য হচ্ছে এতদিন যে মব জাস্টিস হচ্ছিল তা এমনে এমনেই না। এগুলাও এরা হতে দিয়েছিল। এরাই যখন বুঝল যে এখন সহিংস হওয়া যাবে না তখন চুপ করে রইল। গলায় সাপ পেঁচায় দিলেই আমি বিশ্বাস করব যে বাংলাদেশের মানুষ সবাই শান্ত হয়ে, প্রতিবেশীর প্রতি প্রেম দেখিয়ে কোন দাঙ্গা হাঙ্গামা করে নাই? হুট করিয়ে এরা ভিন্ন ধর্মালম্বীদের বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে গেল? না, তেমন বিশ্বাস করার কোন কারণ নাই। এর উত্তর হচ্ছে এই ভেড়ার পালের রাখাল আছে! এই রাখালরাই নির্ধারণ করছে কোনটায় দাঙ্গা হামলা হবে আর কোনটায় চুপ করে থাকতে হবে। বাড়তি কথা বলছি? আরে কোন মধ্যপ্রাচ্যে, কোন ইউরোপে কে কী করছে না করছে দেখে এখানে আগুন ঝরা মিছিল হয়, মানব বন্ধন হয় অন্তত পক্ষে। চট্টগ্রামে একজন আইনজীবী মারা গেল! মসজিদে হামলা হল, ভারতে, কলকাতায় আমাদের জাতীয় পতাকায় আগুন দিল, ত্রিপুরায় দূতাবাসে আক্রমণ করে বসল, অথচ আমাদের শহরে একটা মিছিল পর্যন্ত হল না? নুন্যতম একটা মানব বন্ধন? কিচ্ছু না? এইটা তো বাড়াবাড়ি রে ভাই! এরপরেও আমি বলব না যে রাখাল রাজা এদেরকে নিয়ন্ত্রণ করে? কোন সুদূর থেকে হয়ত নির্দেশনা আসছে যে না, এইটা নিয়ে বেশি কিছু করা যাবে না, কারণ আমাদের এইটার জন্য বৃহৎ পরিকল্পনা আছে! মিলে? খাপে খাপ মিলে?
বাংলাদেশের মুসলিম সমাজ এখন এক বিচিত্র চেহারা নিয়েছে। ওয়াহাবিদের উত্থান দুনিয়া জুড়েই। ওয়াহাবিরা মনে করে তারা ছাড়া সবাই কাফের, তাদেরকে মারা জায়েজ আছে! আমাদের এলাকায় পীরের দরগা যখন লুট হল তখন দাঁড়ি জোব্বাওয়ালাদেরকে কেউ কেউ জিজ্ঞাস করেছে এগুলা নিয়ে যাচ্ছেন কেন? উত্তর আসছে এগুলা গনিমতের মাল! ধর্ম যুদ্ধের পরে বিজয়ীরা পরাজিতের মাল সামান ভাগ করে নেয়, এমন একটা প্রথা ছিল এক সময়। এখন এরা বলছে বিধর্মী হতে হবে না, আমার মতের সাথে না মিললেই তা লুট করে নেওয়া জায়েজ, ওইটাই গনিমতের মাল! এইটা আমাদের এলাকার মূর্খ কোন হুজুরের লুটের মাল জায়েজ করার জন্য হুট করে বলা কোন তত্ত্ব না। ওয়াহাবিরা এমন করে চিন্তা করে। এরা আল বাকি নামের এক গোরস্থানকে কয়েকবার করে গুড়িয়ে দিয়ে ছিল। কারণ তাদের মতে গোরস্থানে যে কবর রয়েছে মানুষ সেখানে গিয়ে দোয়া করে। তাদের মতে এইটা তো নাজায়েজ! তাদের মতই তো শেষ কথা, তাই না? অথচ আল বাকিতে নবীর পরিবারের অনেকের কবর ছিল, অনেক প্রখ্যাত সাহাবিদের কবর ছিল। সব গুড়িয়ে দিয়েছিল এরা!
কেন এই গল্প বললাম? কারণ আমাদের দেশ তো বটেই সব জায়গায়ই এদের জয় জয়কার। সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতন হয়েছে। আসাদ পালিয়ে গেছে। আমাদের এই পবিত্র ভূমির মুসলমানরা দেখলাম খুশিতে আত্মহারা! কেন? আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি এক সময় আল কায়দার সাথে ছিল, আইএসএসের সাথে ছিল, তার নেতৃত্বেই আসাদ সরকারের পতন হয়েছে, এইটা খুশির সংবাদ না? বিলো এভারেজ আইকিউওয়ালাদের কেমনে বুঝাই এই অঞ্চলে এক প্রকার শেষ পেরেক মেরে দিল মার্কিন ইজরাইল শক্তি! ইজরাইল এখন কী কী করবে তা দেখা শুধু সময়ের অপেক্ষা! এরা নিজের দেশে মার্কিন শক্তির কোন লক্ষণ খুঁজে পায় নাই তো এরা অত দূরের সিরিয়ায় খুঁজে পাবে? বালখিল্য আলাপ করে ফেললাম মনে হয়!
দেশ মানে কী? এইটা নিয়ে খুব ভাবছি কিছুদিন ধরে। বান্দরের হাতে লাঠি, কখন কী করে ফেলবে কে জানে? আমরা কী ভারতের সাথে যুদ্ধে জরিয়ে যাব? অহেতুক জরিয়ে যাওয়া একটা যুদ্ধে আমি কী করব? আমার তো আমার মাতৃভূমির পক্ষেই দাঁড়াতে হবে, তাই না? অথচ আমি বুঝতেছি এইটা যদি হয় তা হবে জোর করে, আগ বাড়িয়ে একটা আকাম। তারপরেও আমাকে তো দেশের পক্ষেই দাঁড়াতে হবে, কী বিচিত্র না?
একটা ডার্ক কমেডি দিয়ে শেষ করি। আমার এক হিন্দু বন্ধুকে আরেকজন মজার ছলেই বলছে যুদ্ধ বাধলে এবার কই যাবে তোরা? সবার আগে দৌড় দিবি ভারতের দিকে? ও চাল্লু মাল, মজার একটা উত্তর দিছে। বলছে এবার আমরা যামু কেন? ভারত আক্রমণ করব, তোরা দৌড়ের ওপরে থাকবি এবার! লুঙ্গি খুলে তোদেরকে পরীক্ষা করব এবার! কী নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে, কী ভাবতে হচ্ছে আমাদের! বিচিত্র এক সময়।
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।