এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  অর্থনীতি

  • হীরা ফেরি ২ 

    হীরেন সিংহরায় লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | অর্থনীতি | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১৯৫৬ বার পঠিত | রেটিং ৪.৫ (৪ জন)
  • ব্যবসা তবে বাড়ে কিসে ? মূলধন, ঋণ, নতুন আবিষ্কার, দক্ষতা অথবা হিসেবের গোঁজামিলে ?

    আটের দশকে ইউরোপ জুড়ে সিটিব্যাঙ্কের সে কি রমরমা। মাল্টা, সাইপ্রাস এবং আইসল্যান্ড বাদে সারা পশ্চিম ইউরোপের প্রতিটি দেশে আমাদের ব্রাঞ্চ। সেই সঙ্গে এই বিপুল কর্মী বাহিনিকে শিখিয়ে পড়িয়ে নেওয়ার কাজটিও ছিল জরুরি। ব্যাংকিং এমন একটি উদ্যোগ যেখানে দরখাস্ত করতে গেলে কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে পরীক্ষা পাশ করার প্রয়োজন হয় না। মাইক্রো বায়লজিসট থেকে আরম্ভ করে পদার্থ বিদ্যার পণ্ডিত অবধি সকল প্রকারের মানুষকে একই ধরনের কাজে ব্যাঙ্কের জন্য আত্ম নিবেদন করতে দেখেছি। অতো লেখাপড়া কোন কাজে লাগে নি। আমার কোন কর্মদাতা আমার এম এ পাশ করার সার্টিফিকেট দেখতে চান নি !

    স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আহরিত কুসুমগুলিকে ব্যাংকিং শেখানোর জন্য সিটি ব্যাঙ্ক একাধিক শিক্ষা মন্দির গড়ে তোলে। তাদের অবস্থান এমন সব জায়গায় যেখানে বিদ্যা অর্জন নয়, মানুষজন গ্যাঁটের পয়সা খরচা করে ছুটি কাটাতে যায়, যেমন বেইরুত এবং আথেন্স। আমার সেগুলো জোটে নি। এই অভাগা যতদিনে ব্যাঙ্কে ঢুকেছে, গুলি গোলার দাপটে বেইরুতের ইস্কুলে তালা, খরচা কমানোর অশুভ অভিলাষে আথেনসের ইশকুল বন্ধ। ট্রেনিং সেন্টার উঠে এলো নিতান্ত বোরিং দক্ষিণ লন্ডনের লুইশামে, আর কি ভাগ্যে দ্বিতীয়টি খোলা হল ইস্তানবুলের এসেনটেপে পাড়ার মায়া সেন্টারে। তার বাঁ দিকে ছিল একটি ছোট মসজিদ –এক ধর্মপ্রাণা তুর্কী মহিলা মানত করেছিলেন লটারির টিকিট জিতলে একটি ভজনালয় স্থাপনা করবেন ! ধর্মের সঙ্গে ব্যাংকিং কর্মের নির্ঘাত কোন যোগাযোগ ছিল, অতি সত্বর মায়া সেন্টার কাচ বাধানো বিশাল অট্টালিকায় পরিণত হল।

    মায়া সেন্টার এসেনটেপে ইস্তানবুল ও মসজিদ


    সে আমলে সিটিব্যাঙ্কে একটি অলিখিত প্রথা ছিল- বছরে দু সপ্তাহ, নিদেন পক্ষে এক সপ্তাহ, ব্যাঙ্কের কোন বিদ্যামন্দিরে গিয়ে নিজের প্রাত্যহিক কাজের বাইরে কিছু শেখা। ব্যাঙ্ক আশা করে সকলে একদিন হরফান মউলায় পরিণত হবে। তিন বছর অন্তর প্রত্যেকের কাজ বদল। আজ যে মাদ্রিদে অডিট দেখে, দু তিন বছর বাদে সে স্টকহলমে ইস্পাত শিল্পের খদ্দেরের দেখা শোনা করবে। আমরা যে শুধু নিতুই নব কিছু শেখার সুযোগ পেতাম তাই নয়, ব্যাঙ্কে নবাগত বালক বালিকাদের পড়ানোর সুযোগও পেয়েছি। এ ব্যাপারে একেবারে মাস্তান ছিলেন ইস্তানবুল শিক্ষা কেন্দ্রের প্রধান লেবাননের বাসাম হায়েক। বেইরুত বিদ্যালয় বন্ধ হলে পরে তিনি জ্ঞানের বাকসো প্যাটরা নিয়ে তুরস্কে বাসা বাঁধেন। নব পরিচিতদের বলতেন তিনি অভিনেত্রী সালমা হায়েকের ( আনতোনিও বান্দেরাসের ডেসপেরাদোর কথা মনে করুন) কাকা! যদিও সালমা হায়েক মেক্সিকান/ হলিউড অভিনেত্রী হিসেবে খ্যাত, জন্মসূত্রে তিনি লেবানিজ। নতুন ছেলে মেয়েদের তাঁর গুল বিশ্বাস করানোর জন্য বাসাম তাঁর অফিসে সালমা হায়েকের একটি পারিবারিক ছবি টাঙ্গিয়ে রাখতেন! কখন যে কি করেন ঠিক নেই। রোদিকাকে নিয়ে ইস্তানবুল গেছি একবার। পরিচয় হবার পরে রোদিকা বলেছে সে বাকলাভা ( নানান বাদাম পিষে কয়েক স্তরে বানানো সিরাপে ভরা মিষ্টির এক মেগাটনের তুর্কী বোমা ) ভালবাসে। পরের দিন সকালে সুইস হোটেলের পাগড়ি বাঁধা ওয়েটার এক পেল্লায় প্যাকেট নিয়ে ঘরের দরোজায় বেল বাজাচ্ছে – বাসাম পাঠিয়েছে দু কিলো বাকলাভা! এক লক্ষ টাকা গুনেছি ব্যাঙ্কে ভল্টে বসে, দু কিলো বাকলাভা কখনো একসঙ্গে দেখি নি!

    পরের দিন দেখা হতেই ধন্যবাদ দিচ্ছি – বাসাম বললে ওটা ঘুষ। জানি ইস্তানবুল ব্রাঞ্চে তোমার কর্পোরেট খদ্দেরের সেবায় এসেছো। কালকের দিনটা অফিসের কাজ থেকে ছুটি নিয়ে আমাদের ট্রেনিং সেন্টারে এসো। সবই তো সিটি ব্যাঙ্কের সেবা। এক পাল এম বি এ ট্রেনি এসেছে দু সপ্তাহের জন্যে। ক্লাসে কিছু শোনে না , বসে কেবল মোবাইল দেখে। কাল আর ক্লাস নেবো না, ব্রাঞ্চের আরও দুজনকে ডেকেছি – একটি প্যানেল বসাব। আমি একা সামলাতে পারছি না। হোয়ারটন, কেয়ারন্স আর কি কি সব স্কুল থেকে বিশ্বের যাবতীয় বিদ্যে শিখে এসেছে সিটিব্যাঙ্ককে ধন্য করবে বলে !

    কাঁটাকল সিঁথি বরানগরের পাঠ নিয়ে নির্ভয়ে চলি– বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বাণিজ্যিক বিদ্যালয়ের বিশ জন বালক বালিকা আর কোন ভয়ের সঞ্চার করে না। সেদিন ইস্তানবুল অফিসের ক্রেডিট গুরু বুলেন্ত, কর্পোরেট প্রধান তুরকেকুল, বাসাম ও আমি মিলে ঠিক করেছিলাম আমরা কেউ কোন বক্তৃতা দেবো না, সমানে সমানে বলিব শুনিব, আজকাল যাকে বলে ইন্টার অ্যাকটিভ সেশান। তার পূর্ণ বয়ান এখানে বাহুল্য মাত্র তবে অংশ বিশেষ এখানে উল্লেখের দাবি রাখে।

    ব্যাঙ্ক কাকে কি দেখে কেন ধার দেয়, কিসের ভিত্তিতে দেয়, দেনদারকে চেনার বিষয়ে ব্যাল্যান্স শিটের ভূমিকা ইত্যাকার সারগর্ভ আলোচনার সূত্রপাত করা গেলো। একজন প্রশ্ন করলে ব্যবসা শুরু করতে যে অর্থ প্রয়োজন সেটাই কি মূলধন ? সেটি কি মালিকের পকেট থেকেই আসে ?

    আমার একটা সহজ গল্প আছে। বললাম পুঁথিগত বিদ্যে বাদ দিয়ে ব্যাপারটা একটু অন্য ভাবে দেখা যায় না কি ? মনে করো আমার ছেলে আজ এসে বললে আমি ক্যানাবিস কেনা বেচার ব্যবসা শুরু করতে চাই। সাহায্য করবে ? আমার একটি প্রশ্ন এবং তিনটি উত্তর হতে পারে এক – ব্যবসাটা কিসের, সেটা কি বৈধ ?

    তিনটি উত্তর - পুত্র, আমি তোমাকে একশ ডলার দেবো, তুমি তোমার ব্যবসায় আমাকে দশ শতাংশ মালিকানা দাও। বছরের শেষে সেই মতো লাভ লোকসানের অংশ দেবে। অথবা বলতে পারি, এই একশ ডলার দিলাম, বছরের শেষে আমাকে পাঁচ ডলার সুদ দিয়ে যেও কিংবা পুত্র, এই একশ ডলার দিলাম, যা পারো করো, আমার কাছে আর মুখ দেখিও না। এই তিনটে পন্থার কি কি নাম দেবে ?

    প্রথমটা হল মূলধনের অংশ বা একুইটি। আমার ছেলের ব্যবসায়ে লাভ লোকসানের সঙ্গে আমি অঙ্গাঙ্গী জড়িত। দ্বিতীয়টা ঋণ – সুদ এবং আসল ফেরত পাওয়াটাই আমার অভীষ্ট। তৃতীয়টি দান খয়রাত, ঠিক তো ? ছেলের ব্যবসায় লোকসান হলে মূলধন ভস্ম হতে পারে কিন্তু ঋণের দায়িত্ব রয়ে যায়। ঋণ শোধের জন্য ঘটিবাটি নিলাম করার অধিকার আমার আছে। ছেলের ব্যবসার শ্রীবৃদ্ধি হলে সে ডিভিডেন্ড দেবে, শেয়ারের দাম বাড়বে, তার ধার নেওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, ধার দেওয়ার জন্য ব্যাঙ্ক লাইন দেবে দুয়োরে।

    কোনো কোম্পানির ব্যবসা ভালো কি খারাপ চলছে সেটা ব্যাল্যান্স শিট পড়ে বোঝার কথা বটে কিন্তু ব্যাল্যান্স শিটের ছবিটি ক্ষণিকের স্থিরচিত্র – স্ন্যাপশট। সেই হিসেবের খাতাকে সত্য বলে মানতেই হবে? যদি সেখানে কেউ একই হীরাকে অন্যত্র ফেরি করে ? ব্যাঙ্ক কিরূপে জানবে হিসেব ঠিক লেখা হচ্ছে কিনা ?

    একজন ছাত্র বললে সেটা তো অডিটরের কাজ। নইলে তাদের পয়সা দিয়ে নিযুক্ত করা কেন ? কাউকে তো বিশ্বাস করতে হবে ?

    ‘আচ্ছা, এবার ধরো বাজারে কোম্পানির শেয়ার দ্রুত উঠে গেলো আকাশে কিন্তু কেন? তাঁরা কি কোন স্বর্ণ খনির সন্ধান পেয়েছেন বা স্টিভ জবসের নতুন অবতার সেখানে দেখা দিয়েছেন ? নতুন টেকনোলজি? তা যদি হয় তেমন কোন খবর ফাইনান্সিয়াল টাইমসে তো পড়ি নি? কিন্তু ত্রৈমাসিক অথবা ষাণ্মাসিক হিসেব দেওয়ার আগে অবধি সেই তথ্য আমাদের জানাতে কোম্পানি বাধ্য নয়। আমরা ব্যাঙ্কাররা তাহলে কি আরও টাকা ধার দিয়ে যাবো কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে বলে?

    অত:কিম ?

    ‘কেন, এস ই সি ? সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন ? তারা শেয়ারের কোন আচমকা ওঠানামার প্রতি শ্যেনদৃষ্টি রাখে। তারাই তো আমাদের আর্থিক স্বাস্থ্যের বিবেক রক্ষক ‘।

    সমবেত হাস্যরোল।

    এখন ধরো শেয়ারের দাম বেড়ে যাচ্ছে দেখে আমার পুত্র ব্যাঙ্ককে বলতে পারে তুমি আর কোন সুরক্ষা নয়, আমার কোম্পানির শেয়ার জমা রাখো। কোন কারণে যদি সুদ আসল শোধ না করতে পারি, আমার শেয়ার বেচে দিয়ে টাকা উদ্ধার করে নিও, এই যেমন মর্টগেজ শোধ না করতে পারলে ব্যাঙ্ক বসতবাড়ি বাজেয়াপ্ত করে টাকা উসুল করে।

    পেছন থেকে একটি ছেলে বললে বাড়ি ঘরের দাম কমতে বাড়তে পারে, তবু তার কিছু মূল্য থেকে যায়। কিন্তু শেয়ারের দাম শূন্য হয়ে যেতে পারে না কি ? এই যেমন এনরনের ক্ষেত্রে হয়েছে। আমার বাবা পেনশন ফানডে এনরনের শেয়ার জমা রেখেছিলেন, এখন সেগুলো ছেঁড়া কাগজের বাকসোয় ঠাই পেয়েছে।

    হক কথা।

    নয়ের দশকে বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, বিদ্যুত সরবরাহের কারবারি টেকসাসের এনরন কোম্পানি ছিল ওয়াল স্ট্রিটের চোখের মণি। আমেরিকার টপ ফাইভ কোম্পানি। জেফ্রি স্কিলিং নামক এক অত্যন্ত স্কিলফুল অর্থনৈতিক অধ্যক্ষ যখন ত্রৈমাসিক টেলি কনফারেন্সে এনরনের হিসেব নিকেশ দিতেন, দুনিয়ার তিনশ ফাইনান্সিয়াল অ্যানালিসট তাঁর বানী শুনতো। কেউ জানতে চায় নি শেয়ারের দামের এই স্বর্গারোহণের সিঁড়ির পিছনে কোন রহস্য নিহিত ছিল, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ধন্য ধন্য করেছে। শেয়ার বাজার খুশ।

    জব ধান্দা ঠিক যা রহা হ্যায় তো পুছনা ক্যা ?

    বছরের পর বছর আয় ও শেয়ারের শ্রীগণেশ হয়। পাঁচ ডলারের শেয়ার নব্বুই ডলারে পৌঁছে যায়।কেউ ঠিক বুঝে উঠতে পারে নি এত লাভ এনরন কিভাবে করছে। শেরন ওয়াটকিনস নাম্নী এনরনের এক ভাইস প্রেসিডেন্টের মনে এ বিষয়ে খটকা লেগেছিল। তিনি লক্ষ্য করলেন হিসেবের খাতায় প্রভূত হের ফের আছে। যেমন ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের সঙ্গে এনরনের চুক্তি হয়েছে পরবর্তী পাঁচ বছর সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার। সে বাবদে এনরনের পঞ্চাশ লক্ষ ডলার পারিশ্রমিক প্রাপ্য - সেটা জমা হতে পাঁচ বছর বাকি কিন্তু এনরন সেটাকে লাভ হিসেবে বুক করেছে। শেরন আরও দেখলেন লোকসান লুকোনোর জন্য এনরন খুলেছে একাধিক বিশেষ উদ্দেশ্যমূলক কোম্পানি ( স্পেশাল পারপাস ভেহিকলস ) যে গুলো প্রচলিত হিসাবরক্ষণের নিয়মকে কলা দেখিয়ে কয়েকজনের পকেট ভারি করছে। কোন ব্যক্তিগত লাভ নয়, শেয়ারর দাম কমলে মুনাফা লাভের তাড়নায় নয়, নিতান্ত বিবেকের প্ররোচনায় নিজের পায়ে কুড়ুল মেরে এবং এনরনের কল্যাণের কথা ভেবে ২০০১ সালে তিনি কোম্পানির প্রেসিডেন্ট কেনেথ লে কে একটি রিপোর্ট পাঠান। তাতে অ্যাকাউনটিংএ কারচুপির বিষয়ে আপন সংশয় ব্যক্ত করেন। কেনেথ লে সে রিপোর্টকে একপাশে সরিয়ে রেখে কোম্পানির এক নিজস্ব জনসভায় বললেন, কর্মী বৃন্দ আপনার আরও এনরনের শেয়ার কিনুন। আপন পেনশন সুরক্ষিত করুন।

    ওয়াটকিনসের রিপোর্ট জানাজানি হতে এনরনের শেয়ারের দাম ৯০ ডলার থেকে ৪২ ডলারে নেমে আসে, চার মাসের মধ্যে দাম গিয়ে দাঁড়ায় ২৭ সেন্টে।

    পরাক্রমী প্রতিষ্ঠান এনরন নিজেকে দেউলে ঘোষণা করে চার মাস বাদে ডিসেম্বর, ২০০১ । স্কিলিঙ্গের কুড়ি বছরের হাজত বাসের সাজা হল। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সমৃদ্ধ ক্ষমতাশালী সি ই ও কেনেথ লে ( যাকে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ আদর করে কেনি বয় বলে ডাকতেন ) জেলে যাবার আগেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন।

    তাহলে ব্যাঙ্ক তার দেওয়া ঋণের সুরক্ষা করে কিভাবে ? মূলধনের তুলনায় ধার কতো, সে ধারের সুদ ও আসল শোধ দেওয়ার ক্ষমতা আছে কিনা সেটা জেনে ? জমি বাড়ি কল কারখানা বন্ধক রেখে? শেয়ার জমা রেখে ? ঋণ যে নিচ্ছে তার খাতাপত্র সঠিক কি না তার খবর কে রাখে ? কোম্পানির অডিটর ? এনরনের অডিটর ছিল বিশ্ব বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান আরথার অ্যানডারসেন -তাদের মটো “ সিধে ভাবো সিধে বলো” -থিংক স্ট্রেট, টক স্ট্রেট। সে অডিট ফার্ম উঠে গেলো কারণ আরথার অ্যানডারসেন সোজা প্রশ্ন করে নি, কোম্পানির গোঁজামিল দেওয়া হিসেবের তলায় সই করেছে। কোথায় ছিল আমেরিকান সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন? শেয়ারের দাম বাড়লে কোন প্রশ্ন করেন না?

    জব তক ভাও উপর যা রহা হ্যায়, সব ঠিক হ্যায় ? ভাও ভগওয়ান ছে।

    বন্ধুগন, পাঠ্য পুস্তকে অনেক সুপরামর্শ মেলে কিন্তু ব্যবহারিক জীবনে অর্থ ব্যবস্থার ওলট পালট হবার সম্ভাবনাকে ঠেকানোর সঠিক পথ সেখানে পাবে না। কারণ তার অস্তিত্ব নেই। অনেক পক্ষের সততা ও সহযোগিতার প্রয়োজন হয়, নাহলে বিপদ – সকল পক্ষের। কিন্তু কোন পক্ষের স্বার্থ কোন পথে চালিত হচ্ছে সেটা বোঝার উপায় নেই। চোর পালালে অবশ্যই হাঁক ডাক পড়ে, সেটা ওই আইরিশ পাস দি পার্সেল খেলার মতন – বিমল বলে এটা কমলের কাজ ছিল, কমল বলে অমল কি ঘুমুচ্ছিল ? ফলত আমরা, ব্যাঙ্ক গুলি অন্ধকারে পথ হাতড়াই।

    কিন্তু প্রশ্ন করাটা আমাদের কর্তব্য।

    আমাদের ক্রেডিট গুরু বুলেন্ত, কর্পোরেট বিভাগের কর্তা তুরকেকুল, বাসাম হায়েক আর আমি একটা গোটা দিন কাটিয়ে দিলাম এই আড্ডায়। গর্বের সঙ্গে বলতে পারি কেউ সেদিন মোবাইল খোলে নি, অংশ নিয়েছে আলোচনায়। ক্লাসরুমকে আমরা নিয়ে গেছি কফি হাউসের মাঝখানে!

    স্বাভাবিক। পৃথিবীর প্রথম কফি হাউস, কিভা হান, আত্মপ্রকাশ করেছিল এই কনস্টানটিনোপেল শহরে, ১৪৭৫ সালে!

    তাহমিস কাহভে (১৬৩৫) গাজিয়ানটেপ কনসটানটিনোপেল ( ইস্তানবুল )

    পুঃ শেরন ওয়াটকিনস অ্যাকাউনটিং শিখে আরথার অ্যানডারসেনে যোগ দিয়েছিলেন। ১৯৯৩ সালে এনরনে কাজ শুরু করেন। আট বছর কাজ করার পরে তাঁর প্রশ্নগুলি তুললেন, জবাব পেলেন না। কোম্পানি উঠে গেল। এখন বিভিন্ন কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং লেকচারার। তাঁর বই Power Failure: The Inside Story of the Collapse of Enron স্বচ্ছন্দে সুপারিশ করতে পারি।
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • আলোচনা | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১৯৫৬ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    নো  - albert banerjee
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Asish kumar Sinharay | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ০৯:১৫516837
  • আমদানী স্টক নিয়ে আমার একই রকম মন্তব্য ছিল। এনরনের কথা পরিস্কার মনে আছে।
  • Ranjan Roy | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৭:০৬516862
  • চলুক ! চলুক!
    একজন ঋণ গ্রহীতার (সম্ভাবিত) ব্যাপারে ব্যাংকের কিঞ্চিৎ বাণিজ্যিক জাসুসী করা অবশ্যই জরুরি। কিন্তু প্র্যাক্টিক্যাল ব্যাংকিং এ তার কতটুকু হয়?
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই মতামত দিন