এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  শনিবারবেলা

  • বিশ্বশক্তির অলিখিত নিয়ম ও ডলারের সাম্রাজ্য - পর্ব ২

    দেবজিৎ ঘোষ
    ধারাবাহিক | ২৯ মার্চ ২০২৬ | ৫৮৩ বার পঠিত
  • পর্ব ১ | পর্ব ২
    খেলার বোর্ড এবং খেলোয়াড়রাঃ পুঁজি, প্রযুক্তি ও আমাদের ভবিষ্যৎ রূপায়নের শক্তিগুলো

    ছবি: রমিত




    যোগসূত্রঃ প্রথম পর্বে আমরা যা দেখেছিলাম
    প্রথম পর্বে আমরা লক্ষ্য করেছি কীভাবে বিশ্ব মুদ্রাব্যবস্থার শৃঙ্খলা গড়ে উঠেছিল এবং পরে তা ভেঙে পড়েছিল। আমরা দেখেছি কীভাবে 'ব্র্যাটন উডস' সম্মেলনে সোনা ডলারের কাছে নতিস্বীকার করেছিল; কীভাবে ১৯৭১ সালে নিক্সন যখন সোনার সাথে সংযোগ বন্ধ করে দিলেন, তখন ডলারের ভিত্তি হয়ে দাঁড়াল 'শূন্য'; এবং কীভাবে কিসিঞ্জার রিয়াদের সাথে এক প্রায় অলিখিত এবং নিঃশব্দ চুক্তির মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল থেকে এক নতুন নোঙর বা ভিত্তি তৈরি করলেন। আমরা বোঝার চেষ্টা করেছি রেছি কেন আমেরিকার ৩৮ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ ডলারের আধিপত্যকে কেবল একটি বিলাসিতা নয়, বরং টিকে থাকার জন্য এক অপরিহার্য প্রয়োজনে পরিণত করেছে। আমরা এও বুঝেছি যে, কেন এই বাধ্যবাধকতা আমেরিকার বিদেশনীতিকে এমনভাবে রূপ দেয় যা কোনো প্রেসিডেন্টই নির্বাচনী প্রচারের সময় স্বীকার করেন না।

    'প্রিজনার্স ডিলেমা' আমাদের শিখিয়েছে কেন দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা টিকিয়ে রাখা এত কঠিন: যখন কোনো বলবৎযোগ্য নিয়ম ছাড়াই প্রতিটি পক্ষ কেবল নিজের স্বার্থ অনুসরণ করে, তখন তারা সমষ্টিগতভাবে এমন একটি পরিণতির দিকে এগিয়ে যায় যা সহযোগিতার মাধ্যমে পাওয়া ফলাফলের চেয়ে অনেক বেশি খারাপ। ব্র্যাটন উডস এবং পেট্রোডলার ছিল এই খেলাটি পরিবর্তনের প্রচেষ্টা। সেগুলো কাজ করেছিল, ততদিন পর্যন্তই - যতদিন না সেগুলো ব্যর্থ হতে শুরু করে।

    এখন প্রশ্ন হলো: এই টেবিলে বসা খেলোয়াড়রা আসলে কারা? উত্তরটি অধিকাংশ মানুষের ধারণার চেয়েও বেশি বিস্ময়কর। রাষ্ট্রশক্তিগুলো দৃশ্যমান। কিন্তু সেই সব রেফারি — যারা মাঝেমধ্যে সরকারগুলোর কাজের সীমানা নির্ধারণ করে দেয়—তারা মূলত অদৃশ্য। না, আমরা এখনও কোনো ‘ডিপ স্টেট’ বা গভীর রাষ্ট্র নিয়ে কথা বলছি না। দুই ধরণের অদৃশ্য ক্ষমতা এখন নির্বাচিত নেতাদের চেয়েও বেশি গভীরভাবে পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করছে: প্রথমত, বিশ্ব পুঁজির নিয়ন্ত্রকগণ — সেই বিশাল সব বেসরকারি ও সার্বভৌম ফান্ডের ম্যানেজাররা যারা কোনো গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতা ছাড়াই ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার নাড়াচাড়া করেন; এবং দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তি জায়েন্ট-রা - যারা মানুষের মনোযোগ এবং তথ্যকে ইতিহাসের সবচেয়ে লাভজনক কাঁচামালে পরিণত করেছে। আর এটি করতে গিয়ে তারা—ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় — এ যাবতকাল নির্মিত বিশ্বের সবচেয়ে বিস্তৃত নজরদারি ব্যবস্থার অংশীদার হয়ে উঠেছে।

    সেই রেফারি-রা, যাদের আপনি কখনো নির্বাচিত করেননি
    কল্পনা করুন এমন মুষ্টিমেয় কিছু প্রতিষ্ঠানের কথা যারা আমেরিকা ও চীনের সম্মিলিত জিডিপি-র চেয়েও বেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করে, যারা কোনো ভোটারের কাছে জবাবদিহি করে না, যারা প্রতিটি জাতীয় সীমানা ছাড়িয়ে কাজ করে এবং এমন সব সিদ্ধান্ত নেয় যা ঠিক করে দেয় কোন দেশ উন্নতি করবে আর কোন দেশ থমকে থাকবে — আর এই সব কিছুই ঘটে কোনো পাবলিক হিয়ারিং, সংবাদ সম্মেলন বা ভোট ছাড়াই। বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ বা ছয়টি বেসরকারি ফান্ড ম্যানেজার আসলে এই শক্তিরই প্রতিনিধিত্ব করে। এবার এর সাথে যোগ করুন সেই মুষ্টিমেয় কিছু প্রযুক্তি কোম্পানিকে যারা আপনার বিশ্বাস, আকাঙ্ক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থবিত্ত এবং সামাজিক সম্পর্ক সম্পর্কে আপনার নিজের চেয়েও বেশি জানে; এবং যারা আইনি বাধ্যবাধকতা বা বাণিজ্যিক চুক্তির অধীনে সেই জ্ঞান এমন সব গোয়েন্দা সংস্থার সাথে ভাগ করে নিতে পারে যাদের আপনি কখনোই অডিট করতে পারবেন না।

    এটি কোনো কল্পনা নয়। এটিই বর্তমান বিশ্বের কাঠামো। দ্বিতীয় পর্বটি হলো সেই গল্প নিয়ে — কীভাবে এই শক্তিগুলো কাজ করে, দেশগুলোর সাথে তাদের মিথস্ক্রিয়া কেমন এবং গণতন্ত্র, ভূ-রাজনীতি ও একটি নিয়ম-নির্ভর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভবিষ্যতের জন্য এর প্রভাব কি। এটা সেই আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, যা এখন এমন এক ব্যবস্থার চাপে নুয়ে পড়ছে যা সামলানোর জন্য এটি তৈরিই করা হয়নি।

    অধ্যায় ৬: বিশ্ব পুঁজির নিয়ন্ত্রক—ভোটহীন ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার
    যে মাপকাঠি রাজনীতিকে নতুন করে লেখে

    ২০২৬ সালের শুরুর দিকের হিসাব অনুযায়ী, তিনটি বেসরকারি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ফার্ম — ব্ল্যাকরক (১৪ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদ), ভ্যানগার্ড (১১ ট্রিলিয়ন ডলার) এবং স্টেট স্ট্রিট (৫.৭ ট্রিলিয়ন ডলার)—সম্মিলিতভাবে ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ পরিচালনা করছে। বিশ্বের শীর্ষ সার্বভৌম সম্পদ তহবিলগুলো (Sovereign Wealth Funds) এর সাথে আরও ১৩-১৪ ট্রিলিয়ন ডলার যোগ করে: নরওয়ের সরকারি পেনশন ফান্ড গ্লোবাল, চীন ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন, আবুধাবি ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি, সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড এবং আরও কিছু। সব মিলিয়ে, এই মুষ্টিমেয় ‘বিশ্ব পুঁজির নিয়ন্ত্রক’ (CGCs) এমন পরিমাণ সম্পদ পরিচালনা করে যা আমেরিকা ও চীনের সম্মিলিত জিডিপি-কেও ছাড়িয়ে যায়।

    তাদের এই প্রভাব কেবল অর্থনৈতিক নয়। পুঁজির বণ্টন মানেই ক্ষমতার বণ্টন। যখন এই সংস্থাগুলো কোথাও বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়, তারা আসলে ঠিক করে দিচ্ছে কোন দেশ উন্নয়নকে আকর্ষণ করবে, কোন শিল্প বড় হওয়ার ইন্ধন পাবে এবং কোন রাজনৈতিক ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের জন্য যথেষ্ট স্থিতিশীল। আর তারা এই কাজগুলো করে কোনো ভোট ছাড়াই, কোনো গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট ছাড়াই এবং সার্বভৌম তহবিলের ক্ষেত্রে অনেক সময় কোনো অর্থবহ প্রকাশ্য তথ্য প্রকাশ ছাড়াই।

    সব পুঁজি একভাবে ভাবে না: প্রশ্নটি সময়সীমার
    বেসরকারি এবং সার্বভৌম পুঁজির মধ্যে পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্ল্যাকরক, ভ্যানগার্ড এবং স্টেট স্ট্রিটের মতো বেসরকারি ফান্ডগুলো কড়া নজরদারিতে কাজ করে: তাদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা, শেয়ারহোল্ডার এবং ত্রৈমাসিক রিপোর্টিং-এর কাছে জবাবদিহি করতে হয়। তাদের নৈতিকতার বাহ্যিক রূপ বজায় রাখতে হয়। এবং তারা তুলনামূলকভাবে স্বল্পমেয়াদী লক্ষ্যে কাজ করে: একটি বেসরকারি ফান্ডের জন্য ‘দীর্ঘমেয়াদী’বিনিয়োগ মানে হয়তো বড়জোর ৫ থেকে ১০ বছর।

    সার্বভৌম সম্পদ তহবিলগুলো মনে হয় এক সম্পূর্ণ ভিন্ন জগতে বাস করে! তারা ২০, ৩০ বা ৫০ বছরের জন্য বিনিয়োগ ধরে রাখতে পারে। তারা জনগণের ন্যূনতম নজরদারির সম্মুখীন হয়। তারা এমন রাজনৈতিক ঝুঁকি এবং বিলম্বে মুনাফা পাওয়ার ক্ষমতা রাখে যা বেসরকারি পুঁজির পক্ষে অসম্ভব। এবং তারা কেবল মুনাফা বাড়ানোর বাইরেও কৌশলগত উদ্দেশ্য অনুসরণ করতে পারে—যেমন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি বা কাঁচামাল দখল করা এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরি করা। নরওয়ের ফান্ডটি তৈরি করা হয়েছে বর্তমান রাজনীতিবিদদের বিদায়ের অনেক পরেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুবিধার জন্য। সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড হলো তাদের অর্থনৈতিক রূপান্তরের বাহন। চীনের সার্বভৌম তহবিলগুলো হলো তাদের কৌশলগত অবস্থান তৈরির হাতিয়ার।

    গুরুত্বপূর্ণভাবে, বেসরকারি ফান্ডের কোনো নির্দিষ্ট দেশের প্রতি আনুগত্য নেই। তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো ঝুঁকি-সামঞ্জস্যপূর্ণ মুনাফা। যদি অন্য কোথাও বেশি মুনাফা পাওয়া যায়, তবে একটি বেসরকারি ফান্ডের কোনো দেশের কৌশলগত স্বার্থের প্রতি সহজাত কোনো আনুগত্য থাকে না। তবুও তাদের এই বিশ্বব্যাপী বিস্তার এমন এক আন্তঃনির্ভরশীলতার জাল তৈরি করে যা পুরো ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করতে পারে, কারণ বিশৃঙ্খলা সর্বজনীনভাবেই মুনাফার জন্য ক্ষতিকর।

    অদৃশ্য রেফারি
    রাজনীতিবিদরা হলেন মাঠের দৃশ্যমান খেলোয়াড়। আর এই পুঁজির নিয়ন্ত্রকরা (CGCs) হলেন অদৃশ্য বিচারক বা রেফারি। তারা কোনো নির্দেশ জারি করে না। তারা কোনো সংবাদ সম্মেলন করে না। তারা সেই ‘ইনসেনটিভ স্ট্রাকচার’ বা কাঠামোটি তৈরি করে দেয় যার মধ্যে থেকে সরকারগুলো কাজ করে—আর এটি যেকোনো সরাসরি নির্দেশের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।
    যদি কোনো সরকার বিদেশি সম্পদ জাতীয়করণের হুমকি দেয়, তবে আইন পাস হওয়ার আগেই পুঁজি সেই দেশ থেকে পালিয়ে যাবে। যদি কোনো দেশে আইনের শাসন অনিশ্চিত হয়, তবে সেই দেশকে তাদের ঋণের জন্য চড়া সুদে মাশুল দিতে হবে, যা শিক্ষা বা হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ করা সম্পদ কেড়ে নেবে। উল্টোদিকে, যে সরকারগুলো স্থিতিশীল প্রতিষ্ঠান, পূর্বাভাসযোগ্য নিয়মকানুন এবং বিনিয়োগকারীর সুরক্ষা দেয়, তারা পুঁজির প্রবাহকে আকর্ষণ করবে যা প্রবৃদ্ধি ঘটাবে, কর্মসংস্থান তৈরি করবে এবং সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখবে।

    এই গতিশীলতাকেই রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা ‘গোল্ডেন স্ট্রেটজ্যাকেট’বলেন। এর মানে হলো, ভোটাররা হয়তো আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া কোনো নেতাকে নির্বাচিত করতে পারেন, কিন্তু সেই নেতা যদি পুঁজি বাজারকে ভয় পাইয়ে দেন, তবে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা তার সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করা অসম্ভব করে তুলবে। অর্থাৎ গণতান্ত্রিক বৈধতা এবং পুঁজি বাজারের শৃঙ্খলা সব সময় একে অপরের মিত্র নয়।

    অধ্যায় ৭: আমেরিকা-চীন প্যারাডক্স: দুই প্রতিদ্বন্দ্বী, একে অপরের ব্যর্থতা যাদের কাম্য নয়
    বাগাড়ম্বরের আড়ালে আন্তঃনির্ভরশীলতা

    জনসমক্ষে প্রচারিত বয়ান এবং কাঠামোগত বাস্তবতার মধ্যে যে বিশাল ফারাক রয়েছে, তা আমেরিকা ও চীনের সম্পর্কের চেয়ে ভালো আর কোনো উদাহরণ দিয়ে বোঝানো সম্ভব নয়। বাইরের আলোচনাগুলো মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা, প্রতিযোগিতা বা এমনকি সভ্যতার সংঘাত নিয়ে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—এই দুটি অর্থনীতি একে অপরের সাথে এত গভীরভাবে জড়িয়ে আছে যে কেউই অপরের ধস সহ্য করতে পারবে না।

    যদি বেজিং হঠাৎ করে তাদের হাতে থাকা আমেরিকার সব ঋণপত্র (US Securities) বিক্রি করে দেয়, তবে তা আমেরিকার সুদের হারকে আকাশছোঁয়া করবে ঠিকই, কিন্তু সাথে সাথে চীনের হাতে থাকা বাকি ডলার সম্পদের মূল্যও ধসিয়ে দেবে এবং চীনের সেই রপ্তানিকারকদের ধ্বংস করবে যাদের আমেরিকার বাজারে প্রবেশাধিকার চীনের উন্নয়নের মূলে রয়েছে। এটি হবে প্রতিশোধের ছদ্মবেশে এক ধরণের অর্থনৈতিক আত্মহত্যা। অন্যদিকে, মার্কিন কোম্পানিগুলো চীনের উৎপাদন ব্যবস্থায় শত শত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। যে কোনো গুরুতর ফাটল দুই পক্ষেই পণ্যের অভাব, দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনবে।

    এটি আসলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়। এটি হলো ‘আন্তঃনির্ভরশীলতা’, যা দুই দেশেরই ঘরোয়া রাজনীতির দর্শকদের সন্তুষ্ট করার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার নাটক হিসেবে মঞ্চস্থ করা হয়।

    ডলার এবং কারখানা
    দুটি কাঠামোগত বাধ্যবাধকতা এই সম্পর্ককে স্পষ্ট করে দেয়। প্রথমত: আমেরিকাকে নিশ্চিত করতে হবে যে তেলের লেনদেন যেন ডলারে চলতে থাকে, কারণ ডলারের আধিপত্য—যা প্রথম পর্বে বর্ণিত আর্থিক কাঠামোর ভিত্তি—তার ওপরই টিকে আছে। দ্বিতীয়ত: আমেরিকা চাইলেই এখন আর বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতামূলক দামে ‘মেড ইন আমেরিকা’ উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবে না। তাদের ঘরোয়া খরচ কাঠামো এমন যে চীনের বিশাল উৎপাদন ব্যবস্থাকে প্রতিস্থাপন করা তাদের পক্ষে অর্থনৈতিকভাবে অসম্ভব।

    চীনের প্রয়োজন আমেরিকার বাজার এবং ডলার-ভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার। তাদের প্রয়োজন সেই প্রযুক্তি এবং মেধাসম্পদ যা এখনও মূলত আমেরিকা ও তার মিত্রদের কাছ থেকেই আসে। এই পারস্পরিক নির্ভরশীলতা এক অদ্ভুত ভারসাম্য তৈরি করে: দুই দেশই সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সামরিক প্রযুক্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে; দুজনেই জনসমক্ষে হুমকিমূলক ভঙ্গি বজায় রাখে; কিন্তু দুজনেই সতর্কভাবে এমন কোনো উত্তেজনা এড়িয়ে চলে যা সেই অর্থনৈতিক মহাপ্রলয় ডেকে আনবে—যা কেউই সহ্য করতে পারবে না। বাইরের নাটকটি হলো সংঘাতের, কিন্তু কাঠামোগত বাস্তবতা হলো এক নিয়ন্ত্রিত সহ-নির্ভরশীলতা।

    ইরাক কেস স্টাডি: আসলে জিতল কে?
    ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণ থেকে ঘোষিত উদ্দেশ্য এবং কাঠামোগত যুক্তির মধ্যকার পার্থক্যের সবচেয়ে শিক্ষামূলক উদাহরণ পাওয়া যায়। আজ ইরাকের তেল খাতে আমেরিকান কোম্পানি নয়, বরং চীনা কোম্পানিগুলোর বড় অংশীদারিত্ব রয়েছে। ইরাকের উৎপাদনের অর্ধেকেরও বেশি আসে এমন সব ক্ষেত্র থেকে যেখানে চীনা কোম্পানিগুলো পরিচালক বা অংশীদার। এটি হয়তো ‘তেলের জন্য যুদ্ধ’ তত্ত্বের বিরোধী বলে মনে হতে পারে। কিন্তু আসল প্রশ্নটি কখনোই এটি ছিল না যে তেল কে উত্তোলন করছে। প্রশ্নটি সব সময় ছিল: তেলের দাম কোন মুদ্রায় মেটানো হচ্ছে? সাদ্দাম হোসেন ইরাকি তেলের দাম ইউরোতে নির্ধারণ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন। এখন ইরাকের তেল যে দেশই তুলুক না কেন, তা ডলার-ভিত্তিক চুক্তির মাধ্যমেই বাজারে আসে। চীন তার প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাচ্ছে। আর আমেরিকা পাচ্ছে সেই মুদ্রার আধিপত্য যা ছাড়া তারা টিকে থাকতে পারবে না। কোনো দেশই জনসমক্ষে এই ব্যবস্থার কথা স্বীকার করে না। এর জন্য কোনো চুক্তির প্রয়োজন হয় না। এটি কেবল কাঠামোগত মিল থেকে তৈরি হয়—যৌথ স্বার্থের মাধ্যমে ‘প্রিজনার্স ডিলেমা’র এক নীরব সমাধান।

    অধ্যায় ৮: ভেনিজুয়েলা ব্লু-প্রিন্ট: পরবর্তী পদক্ষেপের পূর্বাভাস
    ভেনিজুয়েলার হাতে বিশ্বের বৃহত্তম প্রমাণিত তেলের মজুদ রয়েছে। তবুও অব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক চাপের কারণে তাদের উৎপাদন নব্বইয়ের দশকের প্রতিদিন ৩০ লাখ ব্যারেল থেকে কমে আজ সামান্য একটি অংশে এসে দাঁড়িয়েছে। এই সম্পদ উত্তোলনের জন্য কয়েক দশক ধরে শত শত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন—যা বেসরকারি পুঁজির ত্রৈমাসিক হিসাবের সাথে খাপ খায় না, কিন্তু সার্বভৌম পুঁজির বহু-দশকের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে ঠিকই মিলে যায়।

    যদি এই বিশ্লেষণের কাঠামোগত ফ্রেমওয়ার্ক ঠিক থাকে, তবে ইরাক পরীক্ষাটি এর পরবর্তী ধাপের জন্য একটি আদর্শ নমুনা প্রদান করে। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলো—মূলত CNPC এবং CNOOC—ইতিমধ্যেই ভেনিজুয়েলার তেল উত্তোলনের প্রধান বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে; তারা গত দুই দশকে কারাকাসকে তেলের বিনিময়ে কয়েক দশ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছে। যেখানে নিষেধাজ্ঞার চাপ এবং রাজনৈতিক ঝুঁকির মুখে বেসরকারি পুঁজি পিছু হটেছে, সেখানে ধৈর্যশীল সার্বভৌম-সমর্থিত পুঁজি টিকে থেকেছে, পুনর্গঠন করেছে এবং তাদের অবস্থান আরও গভীর করেছে। যে প্যাটার্নটি তৈরি হচ্ছে তা ইরাকি মডেলকেই অনুসরণ করে: ঘরোয়া রাজনীতির নাটক বজায় রাখার জন্য পশ্চিমা কোম্পানিগুলো হয়তো পাশে থাকবে, কিন্তু আসল কাজের গভীরে থাকবে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলো। সার্বভৌম সম্পদ তহবিলগুলো সেই দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়ন যোগাবে যা কোনো ত্রৈমাসিক-রিপোর্টিং করা প্রতিষ্ঠান দিতে পারবে না। আর এখানেও কোনো লিখিত চুক্তি ছাড়াই এক অলিখিত বোঝাপড়া থাকবে যে তেলের লেনদেন ডলারে হবে। কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই এই ব্যবস্থাটি তৈরি হবে। এটি কাঠামোগত স্বার্থের মিল থেকে অর্গানিকভাবে বা স্বাভাবিকভাবেই সুসংহত হবে। মুদ্রার আধিপত্য ওয়াশিংটনের স্বার্থ রক্ষা করবে। জ্বালানি প্রাপ্তি এবং কম দাম বেইজিংয়ের স্বার্থ রক্ষা করবে। আর বিনিয়োগের দীর্ঘ সময়সীমা সার্বভৌম পুঁজির জন্য উপযুক্ত হবে। আর ভেনিজুয়েলা—আগের ইরাকের মতো—এমন এক দেশ হয়ে থাকবে না যে নিজের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নিতে পারে, বরং সে হয়ে উঠবে এক বিশাল স্থাপত্যের একটি ক্ষুদ্র অংশ বা নোড, যে স্থাপত্যটি অন্য কোথাও এবং অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ডিজাইন করা হয়েছে।

    অধ্যায় ৯: রাশিয়া: যেখানে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার মুখে পড়ে
    পশ্চিমা আলোচনাগুলো প্রায়ই রাশিয়াকে একটি ক্ষয়িষ্ণু ‘পেট্রোস্টেট’ (তেলনির্ভর দেশ) হিসেবে উড়িয়ে দেয়। এই বয়ানটি রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক হলেও কৌশলগতভাবে অসম্পূর্ণ। রাশিয়া হাইপারসনিক অস্ত্র ব্যবস্থার কার্যকর মোতায়েন সম্পন্ন করেছে—যার মধ্যে রয়েছে ‘আভঁগার্দ’ গ্লাইড ভেহিকেল, ‘জিরকন’ ক্রুজ মিসাইল এবং এস-৪০০ ও এস-৫০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এগুলো এমন সব সক্ষমতা যা গতির কারণে মানুষের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়কে এতটাই কমিয়ে দেয় যে মানুষের বিচারবুদ্ধিই সেখানে শেষ বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
    তা সত্ত্বেও রাশিয়া এই রণকৌশলগত সক্ষমতাকে কৌশলগত ক্ষমতায় রূপান্তর করতে পারছে না, কারণ তাদের অর্থনীতি অত্যন্ত ছোট এবং বিচ্ছিন্ন যা বড় আকারের উদ্ভাবন টিকিয়ে রাখতে অক্ষম। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা তাদের ডলার-ভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। বিশ্ব পুঁজির নিয়ন্ত্রকদের (CGCs) রাশিয়ার প্রতি দায়বদ্ধতা নগণ্য এবং রাশিয়ার অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার কোনো তাগিদ তাদের নেই। ফলে একটি অর্থনৈতিকভাবে সীমাবদ্ধ রাশিয়া—যে বড় পরিসরে উদ্ভাবন করতে অক্ষম এবং নিজের নিকটবর্তী অঞ্চলের বাইরে প্রভাব বিস্তার করতে অসমর্থ—ইউরোপের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহকারী হিসেবে থেকে যায়। এটি ন্যাটোর অস্তিত্ব এবং বাজেটের যৌক্তিকতা প্রমাণের জন্য একটি সামরিক প্রতিপক্ষ হিসেবে কাজ করে এবং সেই দেশগুলোর জন্য একটি সতর্কবার্তা হয়ে থাকে যারা ডলার ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার কথা ভাবছে।

    অধ্যায় ১০: প্রযুক্তি জায়েন্ট - যখন তথ্যই নতুন ‘তেল’ হিসেবে আবির্ভূত হয়
    চতুর্থ শক্তি কেন্দ্র

    আমরা এতক্ষণ রাষ্ট্রশক্তি, পুঁজির নিয়ন্ত্রক এবং প্রধান শক্তিগুলোর মধ্যকার গতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করেছি। কিন্তু গত কয়েক দশকে এক চতুর্থ শক্তি কেন্দ্রের উদ্ভব ঘটেছে, যা মানুষের আচরণের ওপর প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে প্রথাগত প্রতিষ্ঠানগুলোকে টেক্কা দিচ্ছে, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছাড়িয়ে যাচ্ছে: এই শক্তি হলো সেই প্রযুক্তি জায়েন্টগুলো যারা তথ্যের পরিকাঠামো নিয়ন্ত্রণ করে।

    গুগল প্রতিদিন ৮০০ কোটিরও বেশি সার্চ প্রসেস করে। মেটা-র মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ৩০০ কোটির বেশি। অ্যামাজন জানে কোটি কোটি পরিবারের কেনাকাটার ধরণ। অ্যাপল এবং গুগল মিলে পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করে—সেই ডিভাইসগুলো যা কোটি কোটি মানুষ সারাক্ষণ সাথে নিয়ে ঘোরে এবং যা থেকে অবস্থান, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য এবং আচরণ সংক্রান্ত তথ্যের এক অবিরাম ধারা তৈরি হয়। এই কোম্পানিগুলো এখন আর কেবল ব্যবসা নয়, তারা পরিকাঠামোয় পরিণত হয়েছে। তারা কেবল বাজারে প্রতিযোগিতা করা ব্যবসা নয়; তারা আধুনিক সভ্যতার ভিত্তিস্তর। আর অন্য সব পরিকাঠামোর মতোই, এগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ এমন এক ক্ষমতা দেয় যা হয়তো তাদের মালিকরা শুরুতে পরিকল্পনা করেননি এবং গণতান্ত্রিক সমাজগুলো এখনও সেগুলো নিয়ন্ত্রণের সঠিক উপায় খুঁজে পায়নি।

    নজরদারি পুঁজিবাদ: ক্ষমতার পিছনের ব্যবসায়িক মডেল
    হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক শোশানা জুবফ তার ২০১৯ সালের যুগান্তকারী বই ‘দ্য এজ অফ সারভেইল্যান্স ক্যাপিটালিজম’-এ নথিবদ্ধ করেছেন কীভাবে ইন্টারনেট অর্থনীতির প্রধান ব্যবসায়িক মডেলটি কাজ করে। এখানে ব্যবহারকারীদের কাছে পণ্য বিক্রি করা হয় না, বরং ব্যবহারকারীদের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। মানুষের অভিজ্ঞতা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়, সেগুলোকে আচরণগত তথ্যে রূপান্তর করা হয় এবং সেই তথ্য দিয়ে মানুষের ভবিষ্যৎ আচরণের পূর্বাভাস দেওয়ার পণ্য তৈরি করা হয়। জুবফের ভাষায় এই ‘আচরণগত ভবিষ্যৎ বাজারে’ (behavioural futures markets) বিজ্ঞাপনদাতা, রাজনৈতিক প্রচারক, বিমা কোম্পানি এবং যারা মানুষের কাজ, কেনাকাটা বা বিশ্বাসকে প্রভাবিত করতে চায়, তাদের কাছে এই তথ্য বিক্রি করা হয়। এখানে ব্যবহারকারী ক্রেতা নয়, বরং ব্যবহারকারীই হলো কাঁচামালের উৎস।

    কী বিশাল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করা হয় তা কল্পনা করাও কঠিন। প্রতিটি সার্চ থেকে উদ্দেশ্য বোঝা যায়। প্রতিটি ক্লিক আগ্রহ প্রকাশ করে। প্রতিটি লোকেশন সিগন্যাল চলাফেরার ধরণ স্পষ্ট করে। প্রতিটি কেনাকাটা মানুষের পছন্দ এবং আর্থিক ক্ষমতা প্রকাশ করে। কোটি কোটি ব্যবহারকারীর এই তথ্য যখন মেশিন লার্নিং সিস্টেমের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করা হয়, তখন তা মানুষের আচরণ সম্পর্কে এমন সব পূর্বাভাস দেয় যা অনেক ক্ষেত্রে মানুষ নিজেও নিজের সম্পর্কে জানে না। এটি এক প্রকৃত, ফলাফল-নির্ধারক এবং মূলত অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা, যা কেবল শেয়ারহোল্ডারদের কাছে দায়বদ্ধ কিছু বেসরকারি কর্পোরেশনের হাতে রয়েছে।

    রাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারিত্ব: প্রমাণ আসলে কী বলছে
    প্রযুক্তি দানবরা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাথে কাজ করে—এই দাবি কোনো জল্পনা নয়। এটি প্রমাণিত সত্য, যা শ্রেণিবদ্ধ নথিপত্র, কংগ্রেসের সাক্ষ্য, আইনি প্রক্রিয়া এবং পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিকতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৩ সালে এডওয়ার্ড স্নোডেন এনএসএ-র (NSA) যেসব গোপন নথি সাংবাদিক গ্লেন গ্রিনওয়াল্ড এবং বার্টন গেলম্যানকে দিয়েছিলেন (যা দ্য গার্ডিয়ান এবং দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত হয়েছিল এবং ২০১৪ সালে জনসেবায় পুলিৎজার পুরস্কার জিতেছিল), তা ‘প্রিজম’ (PRISM) নামক এক গোপন প্রোগ্রামের অস্তিত্ব ফাঁস করে দেয়। এর মাধ্যমে এনএসএ সরাসরি আমেরিকার প্রধান ইন্টারনেট কোম্পানিগুলোর সার্ভার থেকে যোগাযোগের তথ্য সংগ্রহ করত। ইলেক্ট্রনিক প্রাইভেসি ইনফরমেশন সেন্টার আইনি নথিতে নিশ্চিত করেছে যে এনএসএ প্রতি বছর ‘সেকশন ৭০২’-এর অধীনে যে ২৫ কোটি ইন্টারনেট যোগাযোগ সংগ্রহ করত, তার ৯১% আসত এই প্রিজম প্রোগ্রাম থেকে।

    কোম্পানিগুলো শুরুতে এ বিষয়ে তাদের জ্ঞান থাকার কথা অস্বীকার করেছিল। কিন্তু আইনি ও সাংবাদিকতার অব্যাহত চাপে তারা স্বীকার করতে বাধ্য হয় যে তারা তথ্য হস্তান্তরের আইনি আদেশ পায়। মূল বিষয়টি নিয়ে কোনো বিতর্ক ছিল না: মার্কিন সরকার কোটি কোটি মানুষের ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্যে বিশাল পরিসরে প্রবেশাধিকার পেয়েছিল। এই প্রোগ্রামগুলো অনুমোদিত ছিল, গোপন আদালতের মাধ্যমে নজরদারি করা হতো এবং গোয়েন্দা কমিটির বাছাই করা সদস্যদের জানানো হতো—যাদের আবার নিজেদের সহকর্মীদের সাথে এ নিয়ে আলোচনা করা আইনত নিষিদ্ধ ছিল। এটি কোনো এটি কোনো তুচ্ছ বা উপেক্ষাযোগ্য দাবি নয় — এটি দৃঢ় বাস্তবতা। এটি একটি নজরদারি ব্যবস্থার প্রমাণিত স্থাপত্য, যা বিশ্বের অত্যন্ত সম্মানিত দুটি সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানানো হয়েছে এবং পুলিৎজার পুরস্কারের জুরি দ্বারা স্বীকৃত হয়েছে।

    ভূ-রাজনৈতিক মাত্রা
    প্রযুক্তি দানবরা এখন ভূ-রাজনীতিতে এমন প্রভাব বিস্তার করছে যা প্রথাগত রাষ্ট্র বা ডিপ স্টেট খেলোয়াড়দের সমতুল্য। তাদের কনটেন্ট মডারেশনের সিদ্ধান্ত ঠিক করে দেয় কোটি কোটি মানুষ যুদ্ধ, নির্বাচন বা জনস্বাস্থ্য সংকট নিয়ে কী তথ্য দেখবে। তাদের অ্যালগরিদমের পছন্দ নির্ধারণ করে কোন রাজনৈতিক বার্তাটি ছড়িয়ে যাবে আর কোনটি চেপে রাখা হবে। ফেসবুক বা গুগলের একটি মাত্র নীতি পরিবর্তন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শত শত দেশের কোটি কোটি মানুষকে প্রভাবিত করে—যার জন্য কোনো আইনি বিতর্ক, জনমত যাচাই বা গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেটের প্রয়োজন হয় না। এই কোম্পানিগুলো আসলে সরকারের কাজই করছে। কিন্তু তাদের কোনো সরকারি দায়বদ্ধতা নেই।

    অধ্যায় ১১: সম্ভাব্য ভারসাম্য এবং আমাদের পথ
    সিস্টেম যা চায়

    এই বিশ্লেষণে বর্ণিত শক্তিগুলোকে একত্রিত করলে আমরা সেই ভারসাম্যের দিকে পৌঁছাতে পারি যেদিকে বর্তমান ব্যবস্থার যুক্তি ধাবিত হচ্ছে। এটি কেউ পরিকল্পনা করেছে বলে নয়, বরং বিদ্যমান নিয়মের মধ্যে প্রতিটি পক্ষ নিজের স্বার্থ অনুসরণ করায় এটিই চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে বেরিয়ে আসছে।

    আমেরিকার জন্য: তেলের লেনদেনের মুদ্রার মাধ্যমে ডলারের আধিপত্য বজায় রাখা, যা নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং কৌশলগত অবস্থানের মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকবে। চীনের জন্য: আমেরিকার বাজার এবং ডলার-ভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থায় ক্রমাগত প্রবেশাধিকার; বাণিজ্যিকভাবে সুবিধাজনক শর্তে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা; এবং গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে সম্পদ উত্তোলনের কার্যকরী নিয়ন্ত্রণ। বিশ্ব পুঁজির নিয়ন্ত্রকদের জন্য: বিশ্বজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন মুনাফা বৃদ্ধি এবং সেই স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যা তাদের সম্পদের মূল্য রক্ষা করবে। ইউরোপের জন্য: আমেরিকার নিরাপত্তা ছত্রছায়া, বৈচিত্র্যময় জ্বালানি উৎস এবং চীনের বাজারের মধ্যকার সেই আরামদায়ক ভারসাম্য বজায় রাখা—যাতে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে কাউকে বেছে নিতে না হয়। রাশিয়ার জন্য (অন্যান্য বড় খেলোয়াড়দের দৃষ্টিভঙ্গিতে): এমন এক অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা যা উদ্ভাবন এবং ক্ষমতা প্রদর্শনকে বাধা দেবে, কিন্তু জ্বালানি সরবরাহকারী হিসেবে তাকে টিকিয়ে রাখবে।
    ‘সফট ল্যান্ডিং’ বা নিরাপদ অবতরণের অপরিহার্যতা

    আমাদের যুগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত প্রশ্ন হলো—আমেরিকা কি এমন কোনো পালানোর পথ পাবে যা তাকে ধ্বংসাত্মক পরিণতির বদলে ধীরে ধীরে পতনের দিকে যাওয়ার সুযোগ দেবে? কেউ যদি যৌক্তিকভাবে চিন্তা করে তবে দেখবে ৩৮ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ অনির্দিষ্টকাল ধরে পরিশোধ করা সম্ভব নয়। পেট্রোডলার ব্যবস্থাও চাপের মুখে রয়েছে কারণ ব্রিকস (BRICS) দেশগুলো বিকল্প খুঁজছে এবং জ্বালানি পরিবর্তনের ফলে তেলের কেন্দ্রীয় গুরুত্ব কমছে।

    ডলারের আধিপত্যের আকস্মিক পতন তাদেরও রেহাই দেবে না যারা এটি ধ্বংস করতে চায়। তেল রপ্তানিকারকরা কয়েক দশকের পেট্রোডলারের আয় আমেরিকার আর্থিক বাজারে বিনিয়োগ করেছে। ইউরোপীয় ব্যাংকগুলো ডলার-ভিত্তিক পরিকাঠামোর সাথে গভীরভাবে জড়িত। ডলারের ধস হবে একটি বৈশ্বিক বিপর্যয়—সভ্যতার মাপকাঠিতে সেই ‘প্রিজনার্স ডিলেমা’র ফল—যেখানে প্রত্যেকে অসহযোগিতা বেছে নেবে এবং শেষ পর্যন্ত সবাই হারবে। সবচেয়ে ভালো ফলাফল হতে পারে একটি নিয়ন্ত্রিত রূপান্তর: একটি বহুমুখী রিজার্ভ কারেন্সি ব্যবস্থার দিকে ধীর পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার যেখানে উদীয়মান শক্তিগুলোকে আরও বেশি কণ্ঠস্বর দেওয়া হবে—বিনিময়ে তারা এই রূপান্তর সামলানোর ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে।

    গণতান্ত্রিক ঘাটতি
    আমরা সেই যুক্তিতে ফিরে আসি যা এই বিশ্লেষণটি শুরু করতে অনুপ্রাণিত করেছিল: গণতন্ত্র তৈরি হয়েছিল যাতে নাগরিকরা তাদের যৌথ ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী সিদ্ধান্তগুলোতে অর্থবহভাবে অংশ নিতে পারে। কিন্তু যদি সেই ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী শক্তিগুলো—অর্থাৎ পুঁজির প্রবাহ, পেট্রোডলারের বিন্যাস, নজরদারির স্থাপত্য, সার্বভৌম ফান্ডের কৌশল, অ্যালগরিদমিক কনটেন্ট কিউরেশন—সম্পূর্ণরূপে গণতান্ত্রিক আলোচনার বাইরে কাজ করে, তবে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের অর্থ কী?

    এই দুই নিবন্ধে বর্ণিত ব্যবস্থাটি চলার জন্য কোনো ষড়যন্ত্রের প্রয়োজন নেই। এর জন্য কোনো গোপন বৈঠক বা সুসংগঠিত প্রতারণার প্রয়োজন নেই। এটি কেবল বিদ্যমান নিয়মের মধ্যে যৌক্তিক পক্ষগুলোর নিজের স্বার্থ অনুসরণের একটি স্বাভাবিক ফল। সমস্যা হলো—এই নিয়মগুলো মূলত জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়াই লেখা হয়েছিল, মূলত জনগণের সচেতনতা ছাড়াই বজায় রাখা হয় এবং মূলত জনগণের সম্মতি ছাড়াই রক্ষা করা হয়।

    একুশ শতকের প্রকৃত রাজনৈতিক সচেতনতা নাগরিকদের কাছ থেকে এটিই দাবি করে যে তারা যেন দৃশ্যমান খেলোয়াড়দের ছাড়িয়ে রেফারিদের বুঝতে শেখে; সরকারি বক্তব্যের বাইরে গিয়ে কাঠামোগত উৎসাহ বা প্রণোদনা বুঝতে শেখে; জাতীয় বয়ানের বাইরে গিয়ে বিশ্ব পুঁজির প্রবাহ বুঝতে শেখে; এবং কেবল নির্বাচনই ক্ষমতার একমাত্র উৎস—এই ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে সেই প্রাতিষ্ঠানিক স্থাপত্যকে বুঝতে শেখে যার মধ্যে থেকে নির্বাচিত সরকারগুলো কাজ করে।

    আপনি যদি জানেন কোথায় তাকাতে হবে, তবে খেলাটি পরিষ্কার দেখা যায়। প্রশ্ন হলো—আমাদের মধ্যে যথেষ্ট সংখ্যক মানুষ কি সেদিকে তাকাতে ইচ্ছুক? এবং তাকানোর পর আমাদের কি সেই সদিচ্ছা আছে যে আমরা নিয়মগুলো পরিবর্তন করে এমন এক ব্যবস্থা তৈরি করব যা কেবল ক্ষমতা ও পুঁজির অপ্টিমাইজেশন নয়, বরং মানুষের সার্বিক কল্যাণে কাজ করবে?
    সেই প্রশ্নটি এখনও অমীমাংসিত। উত্তরটি নির্ভর করছে আমরা এরপর কী করি তার ওপর।

    তৃতীয় পর্বে আমরা ফ্রেমওয়ার্ক থেকে বাস্তব পরীক্ষার দিকে যাব। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে এই পৃষ্ঠাগুলোতে বর্ণিত কাঠামোগত উত্তেজনাগুলো—বিদ্যমান ডলার-ভিত্তিক জ্বালানি ব্যবস্থা এবং এর সমান্তরালে গড়ে ওঠা নতুন স্থাপত্যের মধ্যে—মধ্যপ্রাচ্যে এক উন্মুক্ত দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে। ইরান সংকট আমাদের বর্ণিত ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। এটি কেবল সেই উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ যা সামলানোর জায়গা ফুরিয়ে গিয়েছিল।

    [ক্রমশঃ]


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
    পর্ব ১ | পর্ব ২
  • ধারাবাহিক | ২৯ মার্চ ২০২৬ | ৫৮৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • Debanjan Banerjee | ০১ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৩৯739612
  • অনেক ধন্যবাদ দেবজিৎবাবু l আচ্ছা কোলকাতায় একটা কথা ঘুরছে যে আম্রিকা এই যুদ্ধ চালাচ্ছে এই উদ্যেশ্যে যে শুধুমাত্র আম্রিকি ফসিল ফুয়েলস (যেমন শেল অয়েল ) সেগুলোই সারা পৃথিবীতে রপ্তানী হোবে এবং পশ্চিম এশিয়ার ফসিল ফুয়েলস রপ্তানী হরমুজ প্রণালীতে আটকে দেওয়া হবে l আম্রিকি ফসিল ফুয়েলস এর মনোপোলি তৈরী হবে যেহেতু এখন আম্রিকা ভেনেজুয়েলার তেল পেয়ে বেচবে l দুই , এই হরমুজ প্রণালীতে ফসিল ফুয়েলস রপ্তানীর সাপ্লাই চেন বন্ধ হয়ে গেলে চীনের অর্থনীতিও ধ্বংস হবে l এই ধারণাগুলো from your vast knowledge and expertise on the subject কতোটা সত্য ? নাকি এগুলোও রাজনৈতিক ন্যারেটিভ যার বাস্তবতা কিছুই নেই ?
  • Debajit Ghosh | ০১ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৫৯739617
  • Debanjan,

    Allow me to address this in english (to preserve my chain of thoughts. but I can be wrong as well):

    On American fossil fuel monopoly: I think the logic might be partially right but overstated (its more complex). The United States is the world's largest oil and gas producer and benefits significantly from the geopolitical risk premium that any Gulf disruption adds to global energy prices. American LNG exporters are indeed positioned as the alternative supplier for Europe and parts of Asia. But a complete blockade of Hormuz hurts the global economy so severely, including American consumers and the financial system that dollar hegemony depends upon, that it would be self-defeating beyond a short window. I think, the goal was never a permanent Hormuz closure. It was leverage and currency denomination, which I discuss through the Iraq case study in Part II.
     
    On Venezuela, the Part II already maps out why Venezuela might fit the same structural template as Iraq (I have worked in Iraq i oil fields exploration, and then Chinese companies came in)   Chinese operational involvement, sovereign capital financing, dollar denomination of output, and American strategic positioning at the margins. That analysis was written before the current crisis and the parallels have only sharpened since then.
    On collapsing China's economy: this is where your narrative might be oversimplified. As Part II argues, the US-China relationship is not a zero sum contest. It is managed co-dependence. A Chinese economic collapse could devastate American financial markets, corporate supply chains, and the Treasury market simultaneously. Neither side can afford the other's collapse. The structural constraint runs both ways.
    Part III, addresses how these dynamics are likely playing out in real time.
  • Debanjan Banerjee | ০১ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:২৮739625
  • অনেক ধন্যবাদ দেবজিৎবাবু | 
  • পাতা :
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভ্যাবাচ্যাকা না খেয়ে মতামত দিন