এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  গপ্পো

  • খুদে খুদে লেখালিখি, কুচি কুচি আঁকিবুঁকি

    শিশুদিবস ইস্পেশাল লেখকের গ্রাহক হোন
    গপ্পো | ১৪ নভেম্বর ২০১২ | ১৪৪১♦ বার পঠিত
  • *****************************************************************************************

    *********************************************************************************

    জনি সিং

    উর্জা

    একদা একটি ছেলে ছিল যার নাম জনি। জনি খুব দুষ্টু ছিল। একদিন জনি খুব সুন্দর একটা ছবি এঁকেছিল।ছবিতে একটি বাচ্চা ছেলে এবং মেয়ে ছিল।হঠাত জনির মাথায় একটা দুষ্টু বুদ্ধি চাপলো। সে ছেলে এবং মেয়েটির মাথায় শিং এঁকে দিল। তারপর জনি যখন ঘুমাচ্ছিল তখন ছবির ওই ছেলে এবং মেয়েটি জীবন্ত হয়ে উঠেছিল।

    তারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিল যে " কি দুষ্টু ছেলে দেখ, কত সুন্দর করে প্রথমে আমাদের একেছিল কিন্তু শিং লাগিয়ে কি বিশ্রী বানিয়ে দিয়েছে আমাদের। তখন তারা ম্যাজিক করে জনির মাথায়ও শিং লাগিয়ে দিল।পরদিন সকালবেলা জনি যখন খেলতে গেছে সবাই ওকে দেখে পালাতে শুরু করেছে। জনি ত কিছুই বুঝতে পারছে না যে কেন এমনটি ঘটছে। সে বাড়ি ফিরে আয়নায় নিজেকে মাথায় শিং অবস্থায় দেখে তার মাকে তাড়াতাড়ি ডাকলো

    এবং নিজের অবস্থাটা দেখালো। তার মাও কিছুই বুঝতে পারছিল না যে ব্যাপারটা কি করে ঘটল। অবশেষে জনি তার মাকে নিজের আঁকা ছবিটি দেখাতেই তার মা বুঝে গেল ঠিক কেন এইরকম হয়েছে। মা জনিকে বললেন "তুমি দুষ্টু বলে তোমার সাথে এইরকম হয়েছে, এখুনি ওদের শিং মুছে দাও এবং ওদের সরি বল"। জনি ঠিক তাই করলো। সঙ্গে সঙ্গে ছবির ছেলে- মেয়েটিও জনির শিং ফিরিয়ে নিল. সেদিনের পর থেকে জনি খুব ভালো ছেলে হয়ে গেছিল।

    ছবি-সোনালি সেনগুপ্ত

    _____________________________________________________

    ****************************************************************************

    আমায় বকরাক্ষস হতে বোলো না

    মৈত্রেয়

    একটা ছেলে ছিল। ছেলেটা খুব রোগা ছিল। ছেলেটার নিজের কোনো দুঃখ ছিল না। ছেলেটাকে দেখলেই বড়রা ওকে বলত, "খাও খাও। বেশি বেশি খাও । ভালো ভালো খাবার খাও।" ছেলেটা যেখানে যেত, বড়রা সবসময় ওকে খেতে বলত। ছেলেটা বুঝতে পারত না ছেলেটা রোগা বলে বড়দের কেন এত দুঃখ হয়। বড়রা ছেলেটাকে ভালো ভালো খাবার খেতে বলে ওকে খেতে দিত সব স্মেলি আর স্লাইমি খাবার। কলা, ডিমসেদ্ধ, দুধ, দুধের সর, মাখন, ঘি, ভিন্ডি, ডাল, গলা ভাত, ইলিশ মাছ, রুই মাছ এইসব খাবার। আবার মাছের মাথাও খেতে বলত। মাছের মাথা খুব খারাপ খাবার। হাতে আর মুখে মোটা মোটা কাঁটায় ব্যথা লাগে। আর মাছের ব্রেনটার মত অত স্লাইমি আর খারাপ কোনো খাবার হয় না। এইসব খাবার কোনো ছেলেরই ভালো লাগতে পারে না। তাই এইগুলো খেতে গেলেই ছেলেটার বমি হয়ে যেত। বড়রা এইভাবে ছেলেটাকে দুঃখ দিতে থাকল। ছেলেটার যেসব খাবার ভালো লাগত, সেগুলো খেতে চাইলে সবাই ওকে বলত "ওগুলো খাবে না, ওগুলো খেলে পেটে ব্যথা হবে।" ছেলেটা বড়রা না থাকলে সেই খাবারগুলো খেয়ে দেখেছে। সেগুলো খেলে পেটে ব্যথাও হত না, বমিও হত না। ছেলেটা বুঝে গেল বড়রা কোন খাবার খেলে কী হয় সেটা ঠিক করে জানে না। না জেনে খেতে বলে। খাওয়ার সময় হলে ছেলেটার পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করত। কারণ ওকে কেউ ওর ভালোলাগা খাবারগুলো খেতে দিত না। নিজেদের ভালোলাগা খাবারগুলো খেতে দিত। আর বড়দের ভালোলাগা খাবারগুলোর এত খারাপ গন্ধ হত, যে ছেলেটার বমি পেয়ে যেত। ওকে তখন জোর করে গাল ধরে হাঁ করিয়ে ওর মুখে খাবার ঢুকিয়ে দিত বড়রা। ছেলেটার গলায় কাঁটা আটকে গেলে ওকে তখন গলা ভাত, কলা এইসব খাবার খেতে বলত। গলায় কাঁটা ফুটে ব্যথা করছে, সেই সময় কেউ কলা খেতে পারে? স্কুলে যেতে ছেলেটার খুব ভালো লাগত। ওর টিফিনটা ও ওর স্কুলের বন্ধুদের খেতে দিত। রোজ টিফিনের সময় ওদের স্কুলের মাঠের উপর কয়েকটা চিল উড়ত। কোনো কোনো দিন ওর টিফিনে এত খারাপ খাবার দেওয়া হত, ওর বন্ধুরা খেতে চাইত না। সেইসব দিন ও ডিমসেদ্ধ, মাখন মাখিয়ে মাখিয়ে স্লাইমি করে দেওয়া রুটি, ভিন্ডির তরকারি এগুলো সব গোল গোল বল বানিয়ে আকাশের দিকে ছুঁড়ে দিত, আর চিলগুলো উড়তে উড়তেই ঠোঁটে করে খাবারের বলগুলো ক্যাচ নিয়ে নিত। চিলদের এভাবে ক্যাচ নেওয়া দেখতে ছেলেটার খুব ভালো লাগত। তাই ওকে টিফিনে খারাপ খাবার দিলেও ও মানা করত না।

    একদিন ওর স্কুলের এক স্যার দেখে নিল চিলদের খাওয়ানো। তারপর ওকে টিচারস রুমে ডেকে খুব বকল। তারপর থেকে টিফিনের সময়ে ওকে বাইরে খেতে যেতে দিত না। ক্লাসে বসে খেতে হত। একদিন ওদের স্কুলে ল্যাঙ্গুয়েজ ডে সেলিব্রেট করা হবে বলে ঠিক করা হল। ল্যাঙ্গুয়েজ ডে তে সব ছেলেকে নিজেদের ভাষায় একটা করে নাটক অভিনয় করতে হবে। ওদের বাংলার টিচার বলল, ওরা বাংলায় যে নাটকটা করবে, সেটার জন্য সিলেকশন হবে টিফিনের সময়। টিফিনের সময় ও ক্লাসে বসে খাচ্ছিল, তখন বাংলার টিচার ক্লাসে এসে ওকে বলল "তুমি এত ধীরে ধীরে খাও! খাবারটা তাড়াতাড়ি শেষ কর।" ছেলেটা খুব চেষ্টা করল তাড়াতাড়ি খাবারটা শেষ করার। কিন্তু পারল না। তারপর বাংলার টিচার অন্যদের বলল তারা কে কোনটা হবে। কাউকে বলল "তুমি নকুল হবে", কাউকে বলল "তুমি অর্জুন হবে", কাউকে বলল "তুমি যুধিষ্ঠির হবে"। তখন একটা ছেলে জিজ্ঞেস করল "ম্যাম, আমরা কি জানে ভি দো ইয়ারোর মহাভারতটা অ্যাক্টিং করব?" বাংলার টিচার বলল "বাংলা ক্লাসে হিন্দি বলবে না।" টিচার তারপর একটা ছেলেকে বলল "তোমাকে একটা রাক্ষস হতে হবে, তার নাম বকরাক্ষস" আর দুটো ছোট ছেলেকে বলল "তোমাদের নাম আঁটলো আর বাঁটলো।" বাংলার টিচার ওর ধীরে ধীরে খাওয়াটা দেখে বলল "তোমাকে এমন একটা ক্যারেক্টার সেজে অভিনয় করতে হবে, যেখানে তোমাকে অনেক খেতে হবে আর মারামারি করতে হবে।" ওকে খেতে হবে আর মারামারি করতে হবে শুনে ওর বন্ধুরা খুব খুব হাসতে লাগল। ওর একটুও হাসি পাচ্ছিল না। ওর বন্ধুরা আরো অনেকে অনেক কিছু হতে লাগল। কিন্তু নাটকে অ্যাক্টিং করার সময়েও ওকে খেতে হবে শুনে ওর আর ভালো লাগছিল না। রোজ ওদের টিফিনের পর দুটো পিরিয়ড ধরে রিহার্সাল হত। ও দেখল, বাংলার টিচার ওকে মিথ্যে ভয় দেখিয়েছিলেন। ওকে সত্যি সত্যি খেতে হত না। সত্যি সত্যি মারামারিও করতে হত না। ওগুলো করার অ্যাক্টিং করতে হত। নাটকটায় খুব ঝগড়া আর মারামারি ছিল। সব ক্যারেক্টারগুলো সবার সঙ্গে ঝগড়া করত। নাটকটায় একটা ঝগড়ার ঠাকুরও ছিল, তার নাম নারদ। ডায়লগগুলো এত মজার ছিল যে ওরা বলতে গিয়েই হেসে ফেলত। হাসতে হাসতে ডায়লগই ভুলে যেত। তখন টিচার ওদের বলল "আমি পর্দার পাশে বসে থাকব আর ডায়লগগুলো রিডিং পড়ব। তোমরা ভুলে গেলে, আমি কী বলছি শুনে নিয়ে সেটা জোরে জোরে বলবে। ভয় পাবে না।" রিহার্সালের সময় ওর সামনে দুটো খালি বাস্কেট রেখে ওকে মিছিমিছি করে খেতে বলত। ওর মজাই লাগত মিথ্যে খাওয়ার অ্যাক্টিং করতে। বকরাক্ষসকেও ওকে মিথ্যে করে কিল মারতে হত। মিথ্যে করে চুল ধরে টানতে হত। ল্যাঙ্গুয়েজ ডের আগের দিন ওদের ফাইনাল রিহার্সাল হল। তখন টিচার ওর সামনের বাস্কেটে অনেকগুলো মাটির ফল রেখে ওকে সেগুলো খাওয়ার অ্যাক্টিং করতে বলল। ওর তখনও খুব মজা লেগেছিল।

    ল্যাঙ্গুয়েজ ডের দিন ও ড্রেস পরে যখন অ্যাক্টিং করতে গেছে, তখন ও অনেক খাবারের গন্ধ পাচ্ছিল। ওর খাওয়ার সীনটা যখন এল, তখন ও দেখে ওর সামনে রাখা এক থালা পোলাও, এক হাঁড়ি বিরিয়ানি, আর দুই থালা ভর্তি মিষ্টি। সব সত্যিকারের খাবার। ও যেই বাংলা টিচারকে জিজ্ঞেস করতে গেছে, আজ কেন সত্যিকারের খাবার। তখন টিচার ওকে বলেছে "আজকে সত্যিকারের খাবার খেতেই হবে, মিথ্যে খাওয়ার অ্যাক্টিং করতে হবে না।" ওর সেই শুনে খুব রাগ হয়ে গেছে ওকে এইভাবে ট্রিক করার জন্য। ও একটু একটু করে খাচ্ছিল আর ডায়লগগুলো বলছিল। আঁটলো, বাঁটলো আর হিড়িম্বাকে বকছিল। বকরাক্ষসের বন্ধু রাক্ষসগুলোর সঙ্গেও ঝগড়া করছিল। কিন্তু ঝগড়া করার সময়ে আর বকার সময়ে ও বুঝতে পারছিল আজ ওকে মিথ্যে করে বকতে আর ঝগড়া করতে হচ্ছে না। ওর সত্যি সত্যি রাগ হচ্ছে। তারপর যেই বকরাক্ষস এসে ওর পিঠে লাফিয়ে পড়তে গেছে, ও তখন এত জোরে পিঠঝাড়া দিয়ে বকরাক্ষসকে ফেলে দিয়েছে, যে বকরাক্ষসের খুব জোরে ব্যথা লেগে গেছে। সত্যিকারের ব্যথা। তখন বকরাক্ষস ব্যথায় আর উঠতে পারছে না। সে খোঁড়াতে খোঁড়াতে গাছ আনতে গেছে। কিন্তু এত ব্যথা করছে যে সত্যিকারের গাছ আনতে পারছে না। তখন ঐ সিনটা ওখানেই পর্দা ফেলে শেষ করে দিতে হয়েছে। ওদের টিচার যেই এসে ওকে জিজ্ঞেস করেছে "তুমি ওকে এত জোরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে কেন? ও এখন আর অ্যাক্টিং করতে পারছে না! এখন কী হবে?" ও খুব খুব রেগে গিয়ে বলেছে "আমাকে সত্যি করে খেতে হলে আমি সত্যি করেই মারব। মারার অ্যাক্টিং করব না।" টিচার ওকে বলল "আমি খাবারগুলো সরিয়ে নিলে তো তুমি আর সত্যি করে মারবে না?" বলেছে "হ্যাঁ আমাকে যদি সত্যি করে খেতে না হয়, তাহলে আমার রাগ হবে না। আমি মারব না।" তারপর ওরা সবাই ভালো করে অ্যাক্টিং করল। মিথ্যে করে মারামারির অ্যাক্টিংটাও খুব ভালো করে করল। বকরাক্ষসেরও ব্যথা কমে গেছিল। সবাই খুব হেসেছিল ওদের অ্যাক্টিং দেখে।

    নাটকটার নাম ছিল "বকবধপালা" আর ও যে ক্যারেক্টারটা করেছিল তার নাম ভীম। ছেলেটার সত্যিকারের নাম? যতবার লিখতাম ততবার য-ফলা লিখতে হত।

    [বাংলা টেক্সট বইয়ে বকবধ পালা পড়ে হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়া, মায়ের কাছে এক রোগা মামাকে ভীম সাজতে হয়েছিল এই নাটকে, সেকথা শুনে ফিকফিক হাসা আর মায়ের সঙ্গে জানে ভি দো ইয়ারো দেখতে যাওয়া, এই তিনটে ঘটনা লেখকের মনে খুবই প্রভাব ফেলে। তাই এই গল্পে এই তিন ঘটনার ছায়া দেখতে পাওয়া যায়]


    __________________________________________

    ছবি - তিতির

    ***************************************************************

    রহস্যের ভুলভুলাইয়া

    অনসূয়া


    আইসক্রিমের কোণ চাটতে চাটতে দুগ্গা ঠাকুর দেখছিলাম। এমন সময় পকেটে কি যেন খরখর করে উঠলো। মধ্যে হাত ঢুকিয়ে দেখলাম। আমার পকেটের থেকে উদ্ধার হলো একটা কাগজ যার উপর কাটাকাটা এবং পরিষ্কার হাতের লেখায় লেখা ছিলো:

    4!2!চি TERArGenTina

    এটা আমার পকেটে কোত্থেকে এলো? মনে তো হচ্ছে একটা কোড! এই সংকেতে বেশী পাত্তা না দিলেও কেমন যেন একটা খটকা লাগছিলো। নম্বরের পাশে বিস্ময়বোধক চিহ্নটা খুবই চেনা চেনা। বাড়ি ফিরে আমার বইয়ের তাকটা ঘাঁটতে গিয়ে পেয়ে গেলাম একটা permutations and combinations এর বই,– নাম-৪!, ৩!, ২!, ১!,Permutations and Combinations By G.J.Das. বইটার প্রথম পাতায় লেখা ছিলো – n(n-1) …..3.2.1 কে লেখা যায় n!।

    তার মানে এই যে, ৪!২! এর মানে হলো ৪৮। ৪৮ বললে অনেক কিছুই মনে আসে – যেমন, সাল ১৯৪৮, কারোর জামার নম্বর ৪৮, ম্যাগ্যাজিনের ইস্যু নাম্বার ৪৮, আর -------আর আমার বইয়ের র‌্যাক নাম্বার ৪৮। আমি আমার বইয়ের তাকের নাম্বারিং করে রাখি।

    কোডটার একটা অংশ ক্র্যাক করতে পেরে একটু খুশী-খুশী লাগছিলো। কিন্তু আমার ভাবনাটা ঠিক কিনা সেটা জানার জন্য কোডের বাকী অংশের মানেটা জানা জরুরী। 4!2! টা ছেড়ে দিলে রয়ে যায় চি TERArGenTina।

    এই বাকী কোডটাকে আমি অনেক রকম ভাবে ভাগ করার চেষ্টা করছিলাম। চি - TERAr- GenTina? চি T - ERA – rGenTina? চি - TER – ArGenTina!

    শেষটার কোন মানে থাকলেও থাকতে পারে। তাই আপাতত শেষটার ব্যাপারেই ভাবলাম। বিকেলবেলা একটু চা খেতে বাইরে বেরোলাম। আমার পাশের বাড়ির দোতালার ছাতে একজন বৃদ্ধা শিক্ষিকা বিজ্ঞান পড়ান। ওনার পড়ানো শুনে কোডের আরেকটা অংশ নিমেষেই পরিষ্কার হয়ে গেলো। উনি বলছিলেন “নোট করে নাও -- Copper – Cuprum, Gold – Aurum and Silver – Argentum”। আমি ভাবলাম – ও মা! এ জিনিস তো আমার অনেক আগেই বোঝার কথা ছিলো। Silver কে ল্যাটিনে বলে Argentum যেটা কিনা Argentina থেকে এসেছে। কিন্তু এখন আমি রুপো কোথায় খুঁজি?

    চা আর খাওয়া হলো না। বাড়ি ফিরে গিয়ে দেখি একজন মহিলা বাড়ীর বেলটা ক্রমাগত বাজিয়ে যাচ্ছেন। আমি পিছন থেকে এসে জিজ্ঞেস করলাম – “আপনি কি কাউকে খুঁজছেন?” হতাশ মুখে তাকিয়ে মহিলাটি বললেন “ইরা নামের কেউ কি এখানে থাকে?” আমি নিজের পরিচয়টা দিয়ে ওনাকে ঘরের ভেতরে আসতে বললাম। ওনাকে চা খাওয়ার কথা বলতে উনি বললেন যে উনি একটি সামান্য জিনিস জানতে এসেছেন। একটু তাড়ায় আছেন। তাই চা খাওয়ার ইচ্ছে নেই। এবার উনি প্রশ্ন করলেন -“ আপনি কি রিমা বসু নামে কাউকে চেনেন?” আমি অনেক চেষ্টা করেও কিছুতেই মনে করতে পারলাম না। শেষে ধন্যবাদ জানিয়ে উনি চলে গেলেন।

    উনি চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই আমার রান্নার লোকটি এলো। কয়েকটা রুটি আর মাংস বানিয়ে সে চলে গেলো। ওর চলে যাওয়ার পরে আমি এমন একটা জিনিস দেখলাম, যেটা কিছুক্ষণ আগেও লক্ষ্য করিনি। আমার বইয়ের আলমারীর ৪৮ নম্বর তাকে একটা লাল রঙের চুম্বক আটকে আছে। আমি ঐ তাকটা খোঁজা শুরু করলাম। কি আশ্চর্য্য! ঐ তাকেরই এককোণে একটা রুপোর ব্রেসলেট !

    এটা আবার এখানে কোত্থেকে এলো? মনের ভুলে কি ওখানে রেখেছি? ব্রেসলেটটা হাতে তোলা মাত্রই বেরিয়ে পড়ল একটা খাম । এখন কোডটা পুরো পরিষ্কার হয়ে গেল। চিঠির ইংরাজী হলো letter, কৌশলে এটাকে লেখা যায় চিTER।

    চিঠিটা পড়তেই সব বুঝতে পারা গেল। ওতে লেখা ছিলো –

    ইরা,

    একটু ঠাট্টা করতে গিয়ে বোধহয় তোমার অসুবিধারই সৃষ্টি করলাম। আমায় সেজন্য ক্ষমা কোরো। কয়েকদিন আগে তোমাদের পাড়ায় এসেছিলাম। রাস্তায় তোমাকে দেখে খুব চেনা চেনা লাগলো। এর পরে তোমার বাবা-মায়ের কাছ থেকে জানতে পারলাম যে তুমি কলকাতাতেই আছো। পরের দিন যখন তুমি পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্ট রিনিউ করাতে গেলে তখন তোমাকে ফলো করে আমিও গেলাম। তোমার ছোটোবেলর একটা ফটো তোমার পুরনো পাসপোর্টে ছিলো, যেটা তুমি কাউন্টারে দেখালে। সেটা দেখেই আমি একেবারে নিশ্চিত হলাম।

    তার পরের দিন সকাল বেলা তুমি ঠাকুর দেখতে গেছিলে। আমি তাড়াতাড়ি একট কোড লিখে তোমার কূর্তার পকেটে আস্তে করে ঢুকিয়ে দিয়েছিলাম। তোমার বাড়িতে তোমাকে দেখতেও এসেছিলাম। কিন্তু, তুমি তো আমাকে চিনতেই পারলে না! তার পরের মুহুর্তেই তোমার কাজের লোক তোমার বাড়িতে ঢুকলো। আমি ওর হাতে এই চিঠি আর ব্রেসলেটটা পাঠিয়ে দিচ্ছি । তোমার বাড়িতে ছোটবেলাও অনেক বার এসেছি। তাকের নাম্বারের ব্যাপারে তাই আগে থেকেই জানতাম। তার পরের ব্যাপার তো তুমিই জানো!

    আমি তোমার পুরোনো স্কুলের বন্ধু, রিমা বসু। মনে পড়ে তোমার? আমার বাবা চেন্নাই তে বদলি হয়ে গেছিলো । পুজোর নাচের প্রোগ্রামে পরার জন্য তুমি আমাকে এই ব্রেসলেটটা ধার দিয়েছিলে। হঠাৎ করে বাবার বদলি হওয়ায় সেটা তখন ফেরত দেওয়া হয়নি। সেটাই ফেরত দিতে এসেছিলাম। কিন্তু দেখলে তো? এতো দিন পরে আমি তোমাকে চিনতে পারলাম, তুমি আমাকে চিনতেই পারলে না! আমার সঙ্গে দেখা না করতে পারো, একবার ফোন অন্তত কোরো।

    আমার মোবাইল নং- +৯১৯২৭৩৬৪৫০২৪।

    ইতি,

    তোমার পুরনো বন্ধু

    রিমা বসু।

    ____________________________________________________

    ছবি -লেখক

    ***************************************************************************


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • গপ্পো | ১৪ নভেম্বর ২০১২ | ১৪৪১♦ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • pharida | ১৪ নভেম্বর ২০১২ ০৫:২২89864
  • অনসূয়া, উর্জা, মৈত্রেয় সাঁঝ, মধুরা, উজান হৃদি - সবাইকার আঁকা লেখা খুব ভালো লাগল। প্রচুর আদর, ক্যান্ডি, চকোলেট পাবে দেখা হলেই।
    সোসেনের ছবিও লা-জবাব।
  • siki | ১৪ নভেম্বর ২০১২ ০৫:২৩89865
  • তুলকালাম হয়েছে, জাস্ট অসাম।

    অনসূয়ার রহস্যরোমাঞ্চ গল্প এক কথায় দারুণ, কেবল শেষ লাইনের ফোন নাম্বারটাকে অন্য কিছু দিয়ে রিপ্লেস করে দিলে হয় না? আমি অবশ্য জানি না এটা ডামি নম্বর কিনা।
  • sosen | ১৪ নভেম্বর ২০১২ ০৫:৩৪89866
  • আমারো চকোলেট চাই!
  • ব্যাং | ১৪ নভেম্বর ২০১২ ০৬:০৫89867
  • বাঃ অনসূয়ার গল্পটা দারুণ তো! খুব সুন্দর আইডিয়া।
  • ব্যাং | ১৪ নভেম্বর ২০১২ ০৬:১২89868
  • জনি সিং গল্পটা পড়ে মনটা নরমমতন হয়ে গেল। আর হ্যাঁ, জদিও কোনৈ মিল নেই, তবুও লীলা মজুমদারের আপদ গল্পটার কথা মনে পড়ে গেল। সেই যে,
    অনুতাপে দগ্ধ হবি,
    ড্যাও দুদু চেটে খাবি !
  • sosen | ১৪ নভেম্বর ২০১২ ০৬:৩৪89869
  • সত্যি কথা, গলায় কাঁটা ফুটলে কেন লোকে কলা খেতে বলে আমিও মোটে বুঝিনে। মৈত্রেয়র গল্প বেশ নিজের গল্প লাগলো, ছোটকালে আমিও রোগা ছিলাম, বললে হবে? অনসূয়া আমায় তোপসে করে নেয় তো বেশ হয়, শার্লকের ছবিটি জম্পেশ। উর্জার লেখা পড়ে চিন্তায় পড়ছি, এই যে যা তা আঁকছি, আমারও শিং না বেরয়।
    সাঁঝ, উজান, মধুরা, হৃদি- সবার আঁকাজোকা ভারী মিত্তিমতন।
  • raatri | ১৪ নভেম্বর ২০১২ ০৭:৩৩89870
  • কি ভালো!!কি ভালো!!সব কটা ছানাই খুব গুণী!!ছানাদের ধন্যবাদ!!
  • শ্রাবণী | ১৫ নভেম্বর ২০১২ ০৪:২৫89876
  • খুদেদের ছবি ও গল্প সবই খুব ভালো লেগেছে! ছবিগুলো খুব সুন্দর ভাবে সাজানো হয়েছে।
    অনসূয়ার লেখা গোয়েন্দা গল্প খুব মিষ্টি, ছোটোবেলার পড়া গল্পের মতন!
  • sosen | ১৫ নভেম্বর ২০১২ ০৪:৩০89877
  • ও এ-ও বলি-তিতির এক ঘন্টার মধ্যে মৈত্রেয়র গল্পের ইলাস্ট্রেশন করে দিয়েছে। ওকে হাততালি!
  • de | ১৫ নভেম্বর ২০১২ ০৬:০৯89871
  • সাঁঝ, মধুরা, উজান, হৃদি, উর্জা, মৈত্রেয় সব্বার লেখা আর আঁকা দারুণ লাগলো!! ভারী মিষ্টি -- কুচোদের সোসেনমাসীকেও অনেক ধন্যবাদ!

    তবে বাচ্চাদের লেখা একপাতায় অ্যাডজাস্ট করতে গিয়ে গল্পগুলো একটু কাটতে হয়েছে বোধহয়। অনসূয়ার ইচ্ছেতে ওর গল্পের প্রথমটা আর চিঠিটা দিয়ে দিলাম। তিনি একটু পারফেকশনিস্ট ঃ))

    =================================
    সেদিন ছিলো দূর্গাপুজোর ষষ্ঠী। সেই পুজোর মধ্যেই এমন একটা ঘটনা ঘটলো, যেটার কথা ভাবতে গেলে এখনো বেশ মজা লাগে। বেশী দেরী না করে ঘটনাটা শোনাই!
    ঐদিন সকালবেলা উঠে চানটান করে ঠাকুর দেখতে বেরোলাম। বেরিয়ে দেখি শুধু ভিড় আর নানা রকমের ঠাকুর। দেখতে তো মজা হলোই, কিন্তু ক্লান্তিও আমার মজার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছিল। একটুক্ষণ পরেই বোঝা গেল যে একটু কিছু খেয়ে না নিলে তো চলবে না। দুপুর হয় গেছিলো। গড়িয়াহাটে ছিলাম, তাই খাওয়া হলো ভজহরি মান্নাতে।
    এরপরে আইসক্রিমের কোণ চাটতে চাটতে ঠাকুর দেখছিলাম।
    ============================

    চিঠি --

    ইরা,
    একটু ঠাট্টা করতে গিয়ে বোধহয় তোমার অসুবিধারই সৃষ্টি করলাম। আমায় সেজন্য ক্ষমা কোরো। কয়েকদিন আগে তোমাদের পাড়ায় এসেছিলাম। রাস্তায় তোমাকে দেখে খুব চেনা চেনা লাগলো। এর পরে তোমার বাবা-মায়ের কাছ থেকে জানতে পারলাম যে তুমি কলকাতাতেই আছো। পরের দিন যখন তুমি পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্ট রিনিউ করাতে গেলে তখন তোমাকে ফলো করে আমিও গেলাম। তোমার ছোটোবেলর একটা ফটো তোমার পুরনো পাসপোর্টে ছিলো, যেটা তুমি কাউন্টারে দেখালে। সেটা দেখেই আমি একেবারে নিশ্চিত হলাম।
    তার পরের দিন সকাল বেলা তুমি ঠাকুর দেখতে গেছিলে। আমি তাড়াতাড়ি একট কোড লিখে তোমার কূর্তার পকেটে আস্তে করে ঢুকিয়ে দিয়েছিলাম। তোমার বাড়িতে তোমাকে দেখতেও এসেছিলাম। কিন্তু, তুমি তো আমাকে চিনতেই পারলে না! তার পরের মুহুর্তেই তোমার কাজের লোক তোমার বাড়িতে ঢুকলো। আমি ওর হাতে এই চিঠি আর ব্রেসলেটটা পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। তোমার বাড়িতে ছোটবেলাও অনেক বার এসেছি। তাকের নাম্বারের ব্যাপারে তাই আগে থেকেই জানতাম। তার পরের ব্যাপার তো তুমি জানোই!
    আমি তোমার পুরোনো স্কুলের বন্ধু, রিমা বসু। মনে পড়ে তোমার? আমার বাবার চেন্নাই তে বদলি হয়ে গেছিলো? পুজোর নাচের প্রোগ্রামে পরার জন্য তুমি আমাকে এই ব্রেসলেটটা ধার দিয়েছিলে। হঠৎ করে বাবার বদলি হওয়ায় সেটা তখন ফেরত দেওয়া হয়নি। সেটাই ফেরত দিতে এসেছিলাম। কিন্তু দেখলে তো? এতো দিন পরে আমি তোমাকে চিনতে পারলাম, তুমি আমাকে চিনতেই পারলে না! আমর সঙ্গে দেখা না করতে পারো, একবার ফোন অন্তত কোরো।

    =================================

    আশা করি কেউ কিছু মনে করবে না ঃ))
  • de | ১৫ নভেম্বর ২০১২ ০৬:১৫89872
  • সিকি, আমি জিজ্ঞেস করেছি ফোন নং সম্বন্ধে -- ওটা বানিয়ে লেখা!
  • de | ১৫ নভেম্বর ২০১২ ০৬:২২89873
  • মৈত্রেয় বকবধ পালা পড়েছে? -- খুব ভালো আইডিয়া গল্পটার! এটা আমি একবার বম্বের কুচোদের দিয়ে করিয়েছিলাম --

    তবে খেতে বোধহয় মৈত্রেয় এক্কেবারে ভালোবাসেনা ঃ))

    উর্জার গল্প পড়ে আমারও কেমন ভয় ভয় করছে -- আমারও খবরের কাগজের ছবিতে বড়ো বড়ো দাঁত, শিং, হিরৈনদের দাড়িগোঁপ আঁকার অভ্যেস -- কি জানি কখ্ন কি হয়!!
  • Blank | ১৫ নভেম্বর ২০১২ ০৭:৫৮89874
  • সবকটা গল্পই ভালো। অনসূয়ার পাজল টা খুব ভালো লাগলো।
    জনির মতন দুটো শিং পেলে বেশ হতো, আমি কত লোককএ গুঁতিয়ে দিতাম।
    আর মৈত্রেয়্কে বলি, মাছের মাথা খুব ভালো খাবার। কি যে ভাল্লাগে খেতে ঃ)
  • Blank | ১৫ নভেম্বর ২০১২ ০৭:৫৯89875
  • ছবি গুলো ও ভালো। উজান কেন হাতে আঁকলে না ছবি?
  • কান্তি | ১৬ নভেম্বর ২০১২ ০১:৪৭89880
  • আমি বুড়ো মানুষ। মানে হ য ব র ল আইনে খুব ছোট। একটা বেজায় খটকা লাগল। খোলসা কোরে বলি। এটা কি
    বড়দের জন্য ছোটদের তইরি করা আসর? তারাই তো সবাই বেজায় হাততালি দিচ্ছে। ছোটদের লেখা নিয়ে ছোটরা
    কেন কিছু বলছে না। এ কেমন তর আইন? এই ষড়োযন্ত্র মূলক আইনের পিছনে যাদের কালো হাত তাদের কালো হাত
    গুঁড়িয়ে দেবার আওয়াজ তুলে ছোটদের হোয়ে হাততালি দিলাম।
  • কুমুপিসী | ১৬ নভেম্বর ২০১২ ০৬:১৬89878
  • অনসূয়া, উর্জা, মৈত্রেয়, সাঁঝ, মধুরা, উজান, হৃদি,সোসেন,তিতির-সবাইকে কনগ্রা,এত সুন্দর ছবি ও লেখার জন্য।
    অনসূয়ার গল্পের বাকী অংশ পেয়ে ভালো লাগলো,গল্পটা বেশ পূর্ণ হল।
    দেখা হলে সবাইকে দেব-আচার,হজমীগুলি আর রংবাক্সো।
  • Suhasini | ১৬ নভেম্বর ২০১২ ১২:৪০89879
  • কুচোগুলোকে উত্তাল হাততালি।
  • গান্ধী | ১৮ নভেম্বর ২০১২ ০৯:৫৪89881
  • উফ।।।। ব্যাপক।।। এত দেরীতে পড়ার জন্য নিজের উপর রাগ হচ্ছে
  • aranya | ১৮ নভেম্বর ২০১২ ১১:৪৬89882
  • জাস্ট টু গুড। দারুণ সব লেখা আর ছবি। কুচোগুলোকে অভিনন্ন্দন, সোসেন-কেও।
  • terchara jewel | ২৮ নভেম্বর ২০১২ ০৮:২৬89883
  • valo
  • গুরুচন্ডালি | ০৯ নভেম্বর ২০১৩ ০৬:১৭89884
  • চলে এল এবারের শিশুদিবস। আসবে এবারের শিশুদিবস ইস্পেশালও। শিশু/কিশোর/কিশোরীদের লেখা, আঁকা পাঠিয়ে দিন চটপট, এই ঠিকানায় ঃ
    guruchandali অ্যাট gmail.com
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় মতামত দিন।