এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  কূটকচালি

  • সুসমাচার -২০১০

    ঋতেন মিত্র লেখকের গ্রাহক হোন
    কূটকচালি | ২৬ ডিসেম্বর ২০১০ | ১০০৩ বার পঠিত
  • সুসমাচার ২০১০।

    তাই নামিলেন নীচে। অবশেষে। ফ্লাইট দু মিলেনিয়াম লেট , অথচ আপেক্ষিকতার সূত্র মেনে জৈবিক ক্লকে দেবানন্দীয় স্থবিরতা। বেথলেহেমে প্রথম স্টপ। গন্তব্য নেতাজি আন্তর্জাতিক। চেলা বোঝায় রকেট থেকে এইসা ধোঁয়া- মনে হল, খোদ গড, রজনীকান্ত নকল করে ধূম ছেড়েছেন। বাঙ্গালী ভক্তদের কলকাকলিতে অশান্ত ওয়েটিং এরিয়া দেখে ঘোর সন্দ, যার নামে বিমানবন্দর তিনিই মুখ তুললেন বুঝি? হল না, টি আর পি স্কেলে মেগাতর ভাবুন। তৃতীয় ভুবন পরিদর্শনে ত্রিভুবনেশের পুত্র স্বয়ং হাজির!! যুগ বদলেছে। আকাশপথের পুরানো রুটে আজ একটার বদলে পঁচাশটি তারা। ছবি মেলাতে গিয়ে পদে পদে ঠকবেন। কল্পনাপ্রবণ আঁকিয়েদের কাজ দেখে ভেবেছিলেন, চে গুয়েভারা, চন্দ্রিল ভাট, আর জন লেননের ককটেল , তাই না? দূর, এ তো পাতি কদমছাঁট। তবে হ্যাঁ, সেই মায়াভরা চোখ, সেই শান্ত স্থির চলাফেরা, সেইই হাত তোলার মোলায়েম কায়দা। (এক প্রখ্যাত র:: গায়িকা গলা ফসকে বিস্মবিষ্ট 'কা-লো?' থ্রো করেই ইনস্ট্যান্ট অপ্রস্তুত, মুদ্রাদোষের অজুহাতে শেষরক্ষে।)

    দু-দিনের ঝটিকা সফরে আর কতই বা বিলোবেন। ব্রিগ্রেডে সভায় এককালের সুপারহিট 'প্রতিবেশীকে ভালবাসিও' ছেড়েই আঁচ করলেন বিদ্বেষবিষ মাত্রা। সুকৌশলে ব্যর্থ নমস্কার ডজ করে ঝুঁকে গেলেন জ্ঞানতন্ত্রের মহিমায়। ত্রিভুবন কাঁপানো হাততালির ফাঁকে হেড চ্যালা পিটারের ফিসফিসানি -'কি দিলে গুরু, এবার তো মরা লোক হেসে গড়াগড়ি খাবে, খ্যাক খ্যাক।' সপ্রতিভ মসিহার উত্তর -'বৃহ্‌ৎ উদ্দেশ্য তো সেটাই কমরেড। মরা গড়গড়াবে, কানা ঝারি মারবে, ল্যাংড়া ট্যাঙ্গো নাচবে। এমনি তো হয়ে এয়েচে। আর, আর একদিন মীরেরও আক্কেল গজাবে, দেখে নিও । আমার কনসেপ্টের পেটেন্ট নিয়ে ছেলেখেলা?'

    বিধানসভা থেকে কফি হাউস, সর্বত্র এক গুঞ্জন-- 'লোকটা কিছু বলে, পিকের পর এত ইন্‌স্‌পায়ারিং বক্তিমে শুনি নাই।' - 'আরে যার স্পীচরাইটার গীতার অথোর, তার আবার কিসের চিন্তা বল তো 'একটি জনসভায় জনৈক এইচ ডি পাল তো বলেই ফেললেন ' আপনি না এমন করে বলেন ,বুকের ভেতরটা কিরম হয়ে যায়, উল্টোপাল্টা চিন্তা মাথায় আসে' - 'কিরকম?' - 'এই ধরুন , মনে হয় রানি মুখার্জির বাড়িতে গিয়ে সত্যনারাণ পুজোর নেমন্তন্ন করে আসি, অরুন্ধতী রায়ের সাথে নিকো পার্ক ঘুরতে যাই, চপ্পল পরে কাঞ্চনজঙ্ঘা চড়ি। মাঝে মাঝে একটা স্ট্রং হান্‌চ হয়- আজহারকে আবার ইডেনে দেখতে পাবো, আর সিপিএম ভাল হয়ে যাবে। ধুস, কীসব ফালতু বেরোচ্ছে, আপনার মত হচ্ছে না- মানে, বেসিকালি আবার জয়েন্ট দিতে ইচ্ছে করে, স্যার। একেই কি ?' লজ্জায় রক্তিম হয়ে এইচ ডি বাবু থামলেন। 'হ্যাঁ, একেই বলে হোপ, আশা। আমার না, আপনাদের , আম মানুষের আশা, সন্ধিযোগে যা দাড়ায় --যাক গিয়ে--- এর কথা ভেবেই নায়ক একদা বেদনাবিধুর গেয়েছিলেন 'হোপ ওয়াজ, লাভ ওয়াজ'।
    ‘আইওয়াশ, আইওয়াশ’ হল- সিনিকদের । সে খ্রীষ্টও নাই, আর সে স্বর্গও নাই। ঐ জন্যেই দেখ গে যা, কপালের উপর সেই দগদগে প্রবাসী ঘ্যাম ওয়ালা 'আই এন অর আই' টা পুছে দিয়েছে। যতই লোভ দেখাও, গরীবরাও যাবার আগে দশবার ভাববে।
    তবু- ঐ মসিহা আছেন তো, সব ঠিক হতেও পারে। ব্যবসায়ী সম্মেলন ঢুকলেন, হাতে একটা প্লাস্টিকের থলে, তাতে কিছু খুচরো পয়সা। 'কি দেখছেন?' জনতার মধ্যে প্রবল ঔৎসুক্য, প্রশ্ন, ধন্দ। এর মধ্যে কিছুটা চেলা দ্বারা প্লান্টেড। 'কি ওটা?' 'দেখতে পাচ্চি না ' 'ভাল করে দেখান ' 'পয়সা, খুচরা, চেঞ্জ।' এদিক ওদিক থেকে ভেসে আসা কন্ঠ।' এই-ইই। ঠিক ধরেছেন। চেঞ্জ । এতেই সমাধান । সিজার কে পয়সা দিতে বলেছিলাম, দেননি। আজ ইউরোপের অবস্থা দেখুন। ভগবান কে দিতে বলেছিলুম তাও দিলেন না। স্বর্গ থেকে তাই আজ শুধু খুচরো বেরুবে। আপনারও খুচরো ব্যবহার করুন। ভিড় থেকে আবার প্রশ্ন 'কিন্তু খুচরা না নিলে? সক্কাল সক্কাল দোকানদারদের ঢ্যামনামি তো আর দেখেননি।'
    'নিজেই খুচরা হয়ে যান। মানুষ নিজেকে মনে করে চলতা ফিরতা পাঁচ শ টকার নোট। সমস্যা সেখানেই। গা থেকে ব্যারেল ফাটা ওয়েল এর মত ঘ্যাম ঝরে ঝরে পড়ছে। নিজেকে হাল্কা, সামান্য ভাবুন। বি দ্য চেন্‌জ ইউ ওয়ান্ট টু সি'

    গোর্কি সদনে শয়তান ও সুরাসুর লড়াই নিয়ে দার্শনিকদের গূঢ় প্রশ্নের সম্মুখীন হলেন মসিহা। 'হে খ্রীষ্ট, লুসিফার কি একদা আপনার পিতার প্রিয় দেবদূত ছিলেন না? আজকের অনাচারের দায় কি তারো নয়? এর একটা জুৎসই উত্তর দেবার আগেই, জরুরি কাজে মসিহাকে দেবদূতাবাসে ফিরে আসতে হয়। গোপনসূত্রের খবর ওপরতলার এক টয়লেটলিক গুরুতর আকার
    ধারণ করায় এই হুড়োহুড়ি। সম্পাদক মহাশয়ের মতে যেহেতু- 'দেবতারা হাগেন এটা কোন খবর হতে পারে না, বা বড়জোর হলুদ সাংবাদিকতা, (আক্ষরিক অর্থে) তাই আমরা এখানে এই নিয়ে কোনোপ্রকার আলোচনা থেকে বিরত থাকলাম।‘ অনেকের মতে এ সবই শয়তানের কারসাজির অংশ।

    এই সফরে মসিহার সর্বসময়ের মেনু -- পাউরুটি ও ওয়াইন। এদের উপকারিতা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। বাইবেলেই বলা অছে, ওয়াইজ মেনদের উৎস হল yeast, আর পাউরুটি খেয়েই মসিহা বডি-বিল্ডিং করেন । তাই এদের নিয়েই মসিহা ভবিষ্যতের ওয়াইজ, অর্থাৎ ছাত্রদের মধ্যে ক-প্রহর কাটাবেন, স্থির করলেন। শিশু বলে কথা, স্ব্রগরাজ্যের মেরিট লিস্টে গরিবদের পাশেই যাদের র?য়াংক। তাই ঠিক হয়, কলামন্দির প্রেক্ষগৃহে কলকাতার কিছু স্কুলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মিলিত হবেন। এই সাক্ষাৎকারগুলি মোটামুটি নিরুপদ্রব হলেও, দুপুর থেকে কিছু সমস্যা শুরু হয়। মসিহা তার চিরাচরিত স্টাইলে পাউরুটি ভেঙে ছাত্রদের দিতে গেলে শোনা যায় তারা প্রথমে খেতে অস্বীকার করে , উল্টে 'মাল খাওয়াবি না' বলে উত্যক্ত করা শুরু করে দেয়। ক্লান্ত মসিহা পিচার থেকে ওয়াইন ঢেলে দেবার পরেও নাকি তাদের সন্তুষ্ট করা দুষ্কর হয়। এর মধ্যে কতিপয় অবাধ্য, ‘থু শব্দ করে ওয়াইন মুখ থেকে ফেলে দেয় এবং হোলি স্পিরিটের খাস নিকটাত্মীয়কে স্থানীয় মদ চেখে দেখার চ্যালঞ্জ জানায়।

    ছাত্রদের সাথে লড়াইয়ে পর্যুদস্ত ঈশ্বরপুত্রের জন্য ডিনারে অপেক্ষা করছিল আর এক হতাশা।
    'পাউরুটি নেই স্যার।'
    'মানে?'
    'রুটি ফুরিয়ে গেছে ।'
    'সে কী? তাহলে কি! আমি ? বাকিরা ?'
    'লজ্জা দিচ্ছেন স্যার। আজ একটা স্পেশাল জিনিস পাবেন - অজস্র, থরে থরে। আপনার আমার সকলের জন্য।'
    'কী?'
    'কেক! হ্যাপি এক্স মাস স্যার।'


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • কূটকচালি | ২৬ ডিসেম্বর ২০১০ | ১০০৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঝপাঝপ মতামত দিন